রামধনু – ১৪

হুমায়ুন কবীর

“ইফ দে হ্যাভ ফিনিশড” কথাটা কানে বাজছে রিনরিন করে, “নূরজাহান অ্যান্ড শাজাহান হ্যাভ বিন লেফট আউট,” বুকে লাগল কথাটা ছ্যাঁত করে, মেঘনাদের ছোড়া শক্তিশেলের মতো।

বন্ধ কেবিনে নিধি আর ওর পার্টনার একঘণ্টা ধরে কী করছিল, তা বারো বছরের বোকা বাচ্চারাও বোঝে, চারদিনের ট্রিপে সুন্দরবন এসেছে মেল পার্টনারের সঙ্গে শুধু সুন্দরী গাছের ঠেসমূল আর শ্বাসমূল দেখার জন্য, তা তো নয়, তবুও মৈনাকের মুখের কথাটা রাতভর ওকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে, কানের ভিতরে কথাটা গেল গরম গালা ঢেলে দেওয়ার মতো করে।

মাথাটা বালিশ থেকে তুলতে গিয়ে কেমন যেন ভার-ভার লাগে আফরোজ়ের, সাতসকালে মাথা ধরে আছে সাংঘাতিক ভাবে, ওরই মধ্যে জড়ানো স্বরে অস্ফুটে অভ্যাসবশত বলে, “বিসমিল্লাহির রহমানে রহিম, লা ইল্লাহইল্লাহ মোহাম্মদুর রসুল্লাহ।” কোনও খারাপ কাজ করতে যাওয়ার আগে নিজের অজান্তে আল্লাহকে বেশি করে ডাকে আফরোজ়, বুকটা কেমন যেন তির-তির করে কাঁপে। ঘরটা অন্ধকার, জানলায় ভারী পরদা, তাই আফরোজ় ঠিক বুঝতে পারে না সকাল হয়েছে কি না, কিংবা ও কোথায় আছে, লঞ্চের ডেকে নাকি রিসর্টে। পাশ ফিরতে গিয়ে ঠেকা লাগে অনুশ্রীর সঙ্গে, সুতোটুকু নেই শরীরে, আদুড় গায়ে সামান্য গুটিয়ে একই চাদরের তলায় শুয়ে আছে অনুশ্রী অথচ আফরোজ় জামাকাপড় পরে। মাথার দিকে সামান্য পিছলে খাটের হেড-বোর্ডের উপর দিয়ে অনেক কসরত করে পর্দা সামান্য সরায় আফরোজ়, বাইরেটা ঝাপসা অন্ধকার আর সেই অন্ধকারেই ঠাওর করে আবছা একটা গাছ, তার মানে ওরা রিসর্টেই এসেছে।

চোখ বন্ধ রেখেই আফরোজ় কাল রাতের ঘটনাগুলোকে মনে মনে রিওয়াইন্ড করার চেষ্টা করে। সবাই পালা করে গাইছিল গান আর সঙ্গে নাচ, আফরোজ়কে সবাই মিলে চেপে ধরলে ও সুরবিহীন গলায় গেয়েছিল, “দহেলিজ় পে মেরে দিল কি/ যো রখখে হ্যায় তুনে কদম…/ হাঁ শিখা ম্যায়নে জিনা জিনা ক্যায়সে জিনা…”

ওই গান কয়েক লাইন গাওয়ার পর ওকে গান গাইতে আর কেউ অনুরোধ করেনি, অন্য কেউ ওর গান শেষে হাততালি দিয়েছিল কি না ও দেখেনি, তবে নিধি হাতদুটো জড়ো করে আস্তে-আস্তে আওয়াজবিহীন তালি বাজিয়েছিল দু’তিনবার।

নিধি অবশ্য সুরেলা গলাতেই বেশ কয়েকটা এখনকার হিট গান গেয়েছিল। আফরোজ় তালি বাজায়নি, সবার সামনেই ওর পার্টনার ওর কোমর জড়িয়ে ধরে নাচছিল। নাচছিল প্রায় সবাই, পরের দিকে যখন রেকর্ডারে গান বাজিয়ে দেয় অনুপমা। নাচেনি শুধু আফরোজ়, ও প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল ও ড্রিংক করে না, তবুও ফলের রসে সম্ভবত মৈনাক কিছু একটা মিশিয়ে দিয়েছিল, তাতে বেসামাল হয়ে পড়েছিল। খুব জেদ করছিল লঞ্চের কেবিনে থাকবে বলে কিন্তু ভুলিয়ে ভালিয়ে অনুশ্রীই ওকে নিয়ে এল রিসর্টে। আসলে আফরোজ় চাইছিল নিধির কাছাকাছি থাকতে, অন্তত একই বাতাসে নিশ্বাস নিতে, অনুশ্রী জানে আফরোজ় কেন লঞ্চের কেবিনে থাকতে চায়, তাই ওখানে থাকতে দিতে রাজি হয়নি ঝামেলার ভয়ে। আফরোজ়ের কানে একটাই কথা বারবার করে বাজতে থাকে, “ইফ দে হ্যাভ ফিনিশড”… ইস, নিধিকে অপবিত্র করে দিল ওই বাগার। রাগ হয় নিধির উপর, কেন এভাবে ও নিজেকে শেষ করছে, এর হদিশ যদি পেত!

মাথাটা ভালই ধরেছে, তার উপর তলপেটে চাপ অনুভব করছে, তাই চাদর সরিয়ে বিছানা ছেড়ে ওঠে আফরোজ়, পায়ের কাছে ওর চপ্পল, নিশ্চয়ই অনুশ্রীই ওটা ওর সুটকেস থেকে বের করে ওখানে রেখেছে। ওয়াশরুমে ঢুকে জানালা খোলে, সামনেই নদী, আবছা কুয়াশায় ঢাকা নদীর জলের উপরের স্তর, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে আফরোজ়, একটু দূরেই এম ভি অপ্সরা ভাসছে জলের উপরে, ওখানেই নিধি রাত কাটাচ্ছে ওর পার্টনারের সঙ্গে। প্রায় একবছর পর দেখল নিধিকে, এই একবছর কনশাস-সাবকনশাস মনে সারাদিনই ওর মন জুড়ে থেকেছে নিধি, এতদিন একবারও দেখা হয়নি, হয়নি ফোনে কোনও কথা। আচমকাই দেখতে পেল গতকাল, তবে এই দেখার চেয়ে না দেখতে পেলেই ভাল হত।

এমনিতে চা খায় না আফরোজ়, তবে এখন একটু চা খেলে হয়তো মাথাটা ছাড়ত, রুমের ভিতরেই ইলেকট্রিক কেটলি আর চায়ের সরঞ্জাম রয়েছে, তবে চা বানাতে ইচ্ছে করছে না, তাই নিঃশব্দে আফরোজ় ফিরে যায় বিছানায়, একটু শীত করছে তাই এসি রিমোট হাতে নিয়ে টেম্পারেচার চব্বিশ থেকে বাড়িয়ে পঁচিশ করে চাদরের ভিতর ঢুকে পড়ে। পাশেই ঘুমিয়ে অনুশ্রী, ওর অনাবৃত শরীর দেখে নিধির থেকে মনটাকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করে, হাত বাড়িয়ে দেয় ওর শরীরের উপর দিয়ে। কুঁকড়ে ঘুমিয়ে থাকা অনুশ্রী সরে আসে আফরোজ়ের বুকের কাছে, অনুশ্রীর মুখ আফরোজ়ের গলার কাছে, ওর নিশ্বাস টের পায় গলায়, ওর শরীর চেপে বসেছে আফরোজ়ের শরীরের সঙ্গে। নিধির মতো সুন্দরী না হলেও বেশ একটা আলগা চটক আছে ওর চোখে-মুখে। তা ছাড়া যৌবনে কোনও ঘাটতি নেই। ওর স্পর্শ আফরোজ়ের খারাপ না লাগলেও শরীরে কোনও উত্তেজনা টের পায় না, বাঁ দিকে পাশ ফিরে একইভাবে শুয়ে থাকে। অনুশ্রী এবার ওকে আরও চেপে ধরে শরীরের সঙ্গে, একটা পা তুলে দেয় ওর পায়ের উপর আর আফরোজ় মনে মনে ভাবতে থাকে কীভাবে নিধিকে ফিরিয়ে আনবে নিজের কাছে।

অনুশ্রীর ঠেলায় যখন আফরোজ়ের ঘুম ভাঙল তখন প্রায় সাড়ে সাতটা, “এই তাড়াতাড়ি ওঠো, লঞ্চ ঘাটে এসেছে সেই সাড়ে ছ’টায়, ব্রেকফাস্ট পৌনে আটটায় ডাইনিং হলে। আটটার মধ্যে লঞ্চে চাপতে বলছে অনুপমা। মৈনাকবাবু সকালে এসে তোমার খোঁজ নিয়ে গেছেন একবার। আজ নাকি বিশাল জার্নি, সুন্দরবনের কোর এরিয়ায় যাওয়া হবে। দূরের টুর আগে করে নিয়ে সামনেরগুলো পরে হবে, এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

আফরোজ় বিছানায় উঠে বসে। অনুশ্রী স্নান করে জিনস-টপ পরে তৈরি।

“গুড মর্নিং, সরি, দেরি হয়ে গেল,” আফরোজ় বিছানা থেকে নেমে আসে।

“গুড মর্নিং। ইটস ওকে, তাড়াতাড়ি করো, হয়ে যাবে সময়ের মধ্যেই। তুমি এখন চা খাবে? আমি বানাব?” অনুশ্রীর গলায় তাড়ার সুর।

“আমি তো চা খাই না, তুমি খেয়েছ?” আফরোজ় টয়লেটে ঢোকে। অনুশ্রী বেরিয়ে আসে কটেজ থেকে, অনুপমার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় লনে, “আর ইউ গাইজ় অলরাইট?” ঘাড় নাড়ে অনুশ্রী, তারপরে হেঁটে যায় ডাইনিং হলের দিকে।

“এবার নামো, আমাকে স্নান-টান করতে হবে তো,” তনুশ্রী দু’হাত দিয়ে ঠেলা দিয়ে ওর উপর থেকে নামিয়ে দেয় অরূপকে। দু’হাত দিয়ে তনুশ্রীকে জড়িয়ে থাকা অরূপ ওর শরীরের উপর থেকে নেমে চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকে।

“আমার টয়লেটের পার্ট কমপ্লিট, জামাকাপড় পরছি, তুমি একেবারে স্নান করে বেরিয়ে এসো। আটটার মধ্যে লঞ্চে উঠতে হবে। আজ লম্বা জার্নি, সুন্দরবনের কোর এরিয়ায় আজ যাওয়া হবে।”

বিছানার চাদর জড়িয়ে তনুশ্রী টয়লেটে ঢুকতে গিয়ে বলে, “আমার তো রাতে একদম ঘুম হয়নি, তুমি যা জ্বালিয়েছ। লঞ্চে কেবিনে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়তে হবে।”

“কেন তোমার ভাল লাগেনি জ্বালানোটা? এরকম পরিবেশ রোজ-রোজ পাওয়া যায় না তো। কেন তোমার ভাল লাগেনি?” আবার জিজ্ঞাসা করে অরূপ।

“হুম, ভাল লেগেছে, তবে খুব টায়ারিং,” তনুশ্রী বিছানার চাদর ছুড়ে ফেলে বিছানায়, বাথরুমের দরজায় ছিটকিনি লাগায়।

“একটু বেশি গরম জলে স্নান করো, শরীর ঝরঝরে হয়ে যাবে,” চেঁচিয়ে বলে অরূপ। উঠে যায় টয়লেটের কাছে, দরজায় নক করে।

“কী হল? আই অ্যাম আন্ডার শাওয়ার, ব্রেকফাস্ট টেবিলে যাও, আমি আসছি,” ভিতর থেকে চেঁচিয়ে বলে তনুশ্রী।

“প্লিজ় ওপেন দ্য ডোর ফর আ মিনিট, আই নিড টু ওয়াশ, বাট ইউ মে ক্যারি অন।”

খুট করে ল্যাচ খোলার আওয়াজ হতেই টয়লেটে ঢুকে পড়ে অরূপ। তনুশ্রীর শরীর বেয়ে মুক্তোর দানার মতো গড়িয়ে পড়ছে জল। “ধুস, চুলোয় যাক ব্রেকফাস্ট, আমি আবার স্নান করব,” শাওয়ারের তলায় জলের ধারার মধ্যে ঢুকে পড়ে তনুশ্রীকে জড়িয়ে ধরে অরূপ। ওর ঠোঁট দুটো ঘুরতে থাকে তনুশ্রীর শরীরে। “বাঁদিকেরটা টাটিয়ে আছে আর কত জায়গায় ব্লাড ক্লট করেছে তা দেখেছ? এই যে গলারটা, এটা কী করে লুকবো?” আদুরে গলায় জিজ্ঞাসা করে তনুশ্রী।

“লুকোবে কেন?” অরূপ জানতে চায়, “সবাইকে দেখাবে, সবাই দেখুক,” লাভবাইটের উপর আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ায় অরূপ।

ব্রেকফাস্ট মোটামুটিভাবে সার্ভ করা হয়েছে, যদিও ওদের গ্রুপের কেউ নেই, হয়তো এক্ষুনি সবাই এসে পড়বে, শর্মিষ্ঠা খাবারগুলোর উপর একবার চোখ বুলিয়ে বেরিয়ে আসে ডাইনিং হল থেকে। মৈনাককে তাড়া লাগিয়ে ডেকে আনতে হবে, দেরি করাটা ওর স্বভাব, বড্ড অগোছালো ধরনের, সব কাজ ঢিমেতালে করে। ছোট-ছোট কটেজে নদীর পূর্ব-দক্ষিণ কোণ ঘেঁষে ওদের গ্রুপের থাকার ব্যবস্থা, বাইরে কাউকেই দেখছে না শর্মিষ্ঠা। নদীর দিকে এগোতেই দেখতে পায় সুমন্তবাবুকে, ওর সঙ্গিনীসহ এগিয়ে আসছে ডাইনিং হলের দিকে।

“গুড মর্নিং ম্যাম,” সুমন্তবাবু বলে।

“গুড মর্নিং, আপনারা কি ব্রেকফাস্টের জন্য যাচ্ছেন?” শর্মিষ্ঠা জানতে চায়।

“ইয়েস, আচ্ছা ম্যাডাম কাল রাতে কি আপনারা লঞ্চে ছিলেন? সামথিং হ্যাজ় হ্যাপেনড দেয়ার।”

“নাহ্‌, উই ওয়্যার ইন রিসর্ট, হোয়াট হ্যাপেনড দেয়ার?” শর্মিষ্ঠা জানতে চায়।

“ম্যাডাম, পার্টির পর আমরা রিসর্টে চলে আসি। তারপর একজন মাঝরাতে জানলা দিয়ে গোস্ট বা এরকম কিছু একটা দেখেছে, পরে অবশ্য লঞ্চের লোকেরা খোঁজাখুঁজি করেছিল কিন্তু কিছু পায়নি, বাট যে দেখেছে শি ওয়জ় ভেরি কনফিডেন্ট অ্যান্ড মোর ইম্পর্ট্যান্টলি শি ওয়জ় নট ড্রাঙ্ক। দ্য কাপ্‌ল ওয়জ় ভেরি আপসেট অ্যান্ড ওয়ান্টেড টু কাম ব্যাক টু রিসর্ট, বাট ড্রাইভার ওয়জ় নট দেয়ার। ড্রাইভার লঞ্চটা মাঝ নদীতে রেখে ছোট নৌকাতে করে রাতে বাড়ি চলে যায়।”

“ওকে, উই উইল ফাইন্ড আউট হোয়াট অ্যাকচুয়ালি হ্যাপেনড।”

শর্মিষ্ঠা ওদের কটেজে ফিরতে গিয়ে দূর থেকে দেখতে পায় মৈনাক সুড়ুত করে ঢুকে যায় পাশের কটেজটায়, শর্মিষ্ঠা জানে ওই কটেজটায় অনুপমা একা রয়েছে। শর্মিষ্ঠা আগেই শুনেছে মৈনাক একজন উয়োম্যানাইজ়ার এবং ওর সঙ্গে রিলেশনশিপের আগেও অনেকের সঙ্গেই ওর রিলেশনশিপ ছিল, তবে বাইরে বেড়াতে এসে ওরই অফিসের কর্মচারীর সঙ্গে কোনও রিলেশনশিপে জড়িয়ে পড়তে পারে, ও কল্পনাও করতে পারে না। গত দেড় বছরে মৈনাকের কোনও বেচাল দেখেনি, কোনওদিন সন্দেহ করার মতো কোনও কাজও করেনি, তা হলে আজ? শর্মিষ্ঠার মেরুদণ্ড দিয়ে মুহূর্তে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মিনিট দুয়েক দাঁড়িয়ে থাকে লনের উপর। ফিরে যায় নিজেদের কটেজে, মৈনাক নেই। বাথরুমে গিয়ে চোখে জলের ঝাপটা দেয়। মনে-মনে ঠিক করে, ও হারবে না, এর প্রতিবাদ করবে। সিন ক্রিয়েট করবে না, কিন্তু মৈনাকের রূপটা সবাই জানুক। পৌঁছে যায় অনুপমার কটেজে। দরজা বন্ধ, ভিতর থেকে ল্যাচ লাগানো কি না বোঝার উপায় নেই। হাতল ধরে মোচড় দিয়ে দরজা ঠেলতেই খুলে যায় দরজা।

বড় একটা ম্যাপ টেবিলের উপর মেলে ধরা, মুখোমুখি ঝুঁকে মৈনাক আর অনুপমা কিছু দেখছে।

“আরে তুমি কোথায় গিয়েছিলে? রুমে গিয়ে দেখে এলাম তুমি নেই, তোমাকে ফোনেও পাচ্ছিলাম না, অনুপমা তোমাকে খুঁজছে, আজকের লঞ্চ রুট নিয়ে ওর কনফিউশন আছে, তুমি তো জিয়োগ্রাফিতে এমএ পাশ করেছ, তুমিই জিপিএস দেখে রুটটা ঠিক করে দাও।”

“আমরা কোথায় যেতে চাইছি?” শান্ত হয়ে শর্মিষ্ঠা জিজ্ঞাসা করে।

“চিফ ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেনের কাছ থেকে স্পেশাল পারমিশন বের করেছে অনুপমা, নারায়ণতলা ফরেস্টে আমরা যেতে পারব, ওখানে ছোট একটা বনবিবির মন্দির আছে, যদিও বাঘের জন্য ওই মন্দিরে সন্ধ্যার পর থাকা মানা, তবে ওখানে গেলে বাঘের সঙ্গে মোলাকাত হওয়ার দারুণ একটা সুযোগ রয়েছে, তা ছাড়া আরও ওয়াইল্ডলাইফ ওখানে দেখা যাবে। সজনেখালির বিট অফিসারকে চিফ ওয়ার্ডেন সাহেব খবর পাঠিয়ে দিয়েছেন আজ দুপুরের পর থেকে ওখানে থেকে আমাদের হেলপ করার জন্য,” মৈনাক তাকায় শর্মিষ্ঠার দিকে।

“যদি ওই বিট অফিসারের ফোন নম্বর থাকে তা হলে ওঁকেই ফোন করে জানতে হবে আমরা কোন রুটে যাব। জিপিএস রুট দেখাতে পারে, তবে ইন্টারনেটে প্রবলেম ওদিকে থাকবেই, মোস্ট প্রোব্যাবলি অত ডিপ ফরেস্টে ইন্টারনেট না থাকারই কথা, কারণ ওখানে তো ইউজ়ার নেই, এ ছাড়া কোন খালে জল আছে বা নেই; কোথাও চড়ায় লঞ্চ আটকে গেলে দফারফা হয়ে যাবে আমাদের, ভয়ংকরতম ফরেস্টগুলোর একটা হল এই সুন্দরবন, আর আমরা লঞ্চের সারেঙের কিছুটা হেলপ নিতে পারি। মনে রেখো, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই ডেল্টা।”

“ডান, চলো তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট করে নিই, আর এর মধ্যেই আমি বিট অফিসারকে ফোন করে নিই।”

ব্রেকফাস্ট করে সবাই যখন লঞ্চে ফিরল, তখন ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে আটটা। অনুপমা আর মৈনাক সারেঙের সঙ্গে ছোট্ট আলোচনা সেরে নেয়, সারেঙ জানিয়ে দেয় কয়েক বছর আগে ‘মউলি’ মানে মৌমাছির চাক ভেঙে মধু কালেকশন টিমের সঙ্গে নারায়ণতলা জঙ্গলে একবার গিয়েছিল এবং তিনদিনের মধ্যে প্রায় বার সাতেক বাঘের দেখা পেয়েছিল, সেটা অবশ্য এপ্রিলের শেষের দিকে। তবে এখান থেকে লঞ্চে সাত-আট ঘণ্টা লাগবেই, তার মানে লাগাতার ভাল স্পিডে গেলে বিকেল তিনটে-সাড়ে তিনটেয় পৌঁছনো যায়।

বার চারেকের চেষ্টায় বিট অফিসারকে ফোনে ধরল মৈনাক। “হ্যালো, বিদ্যুৎবাবু বলছেন?”

“হ্যাঁ, আমরা রওনা হয়েছি ম্যানগ্রোভ রিসর্ট থেকে মিনিট পাঁচেক হল, ও আচ্ছা, ভেরি গুড, আপনি রয়েছেন সজনেখালি অফিসে? ওকে, আমরা আসছি এখনই, আপনাকে তুলে নিয়ে যাব।” মৈনাক আশ্বস্ত হয়ে ফোন ছাড়ে, ডেকের উপরে চৌকির পাশে দাঁড়িয়ে বলে, “ফ্রেন্ডস, আজ আমরা নারায়ণতলা ফরেস্টে যাচ্ছি, গোসাবা টু সজনেখালির বিট অফিসার বিদ্যুৎ ব্যানার্জি সজনেখালি থেকে আমাদের লঞ্চে উঠবেন, আমাদের সঙ্গেই ওই ফরেস্ট পর্যন্ত যাবেন, ওখানে আমাদের বাঘ দেখিয়ে ফরেস্টের ভুটভুটি ধরে ছোট মোল্লাখালি চলে যাবেন সন্ধ্যার আগেই। অ্যান্ড ইউ অল নো, সন্ধ্যার সময় আমরা কী করব?”

“কাল যা করেছিলাম তাই করব,” ওপি চেঁচিয়ে ওঠে, “লেট নাইট পর্যন্ত পার্টি করব এবং আজ আর ভূত দেখতে চাই না, হুররে… ওই ভূত খুঁজে বের করব।”

সবাই হাততালি দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে।

অনুপমা চেঁচিয়ে ওঠে, “অল অফ ইউ প্লিজ় লুক অ্যাট নাইন এএম, আ হিউজ ক্রোকোডাইল ইজ় জাস্ট ফ্লোটিং।”

“ওয়াও, সো ক্লিয়ার,” মেয়েরা ভাসমান কুমিরকে ক্যামেরাবন্দি করতে লেগে পড়ে।

“যত নীচের দিকে, মানে দক্ষিণে যাবে তত বেশি মোহনা কুমির দেখতে পাবে, এখন শীত পড়েনি তাই জলে ভাসছে, শীতের সময় হলে দেখতে শীতল রক্তের প্রাণী গুচ্ছের কুমির নদীর পাড়ে কাদার উপর শুয়ে আছে, একে বাসকিং বা রোদ পোয়ানো বলে,” এর আগে সুন্দরবন আসার অভিজ্ঞতা আছে মৈনাকের।

“তা হলে সজনেখালি জেটিতে লঞ্চ লাগাচ্ছি,” জেটিতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বিট অফিসার বিদ্যুৎবাবু, লঞ্চ জেটি টাচ করার আগেই লাফ মেরে চেপে যান লঞ্চে, একসঙ্গে এতজন সুন্দরী দেখে ভড়কে গিয়ে সকলকে হাতজোড় করে নমস্কার করেন, বলেন, “আরও আগে বেরোতে পারলে ভাল হত, তবে এখন ভাটার টান শুরু হয়েছে, আমরা নারায়ণতলা পৌঁছবার মুখে গোসাবা নদীতে হয়তো সামান্য জোয়ার পাব।”

“আচ্ছা মি. ব্যানার্জি, এই যে নদীর ধারে মহিলা আর বাচ্চারা ছোট-ছোট জাল বা কাপড় দিয়ে মাছ ধরছে, ওরা এত বিশাল নদীতে কতটুকু মাছ ধরতে পারছে?” অনুপমা তাকিয়ে থাকে বিদ্যুৎবাবুর মুখের দিকে।

“ম্যাডাম, ওরা হয়তো কুচো চিংড়ি বা চুনো মাছ কিছু পায় যেটা ওরা বাড়িতেই খেয়ে নেয়, কিন্তু ওই জাল বা কাপড় দিয়ে যেটা ছাঁকছে ওটাকে মিন বলে, বাগদার বাচ্চা, ছোট-ছোট সুতোর মতো রোগা পাতলা, ওগুলোর দাম সিজ়ন অনুসারে পঞ্চাশ-ষাট পয়সা থেকে শুরু করে দেড় টাকা পর্যন্ত প্রতি পিসে। তবে ঝুঁকিও কম নয়, এই নদীগুলোর জলে আছে অজস্র কামোট বা শার্ক, অনেক সময়ই পায়ের মাংস খুবলে নেয়। মানুষকে ভাল মতনই ইনজিওরড করার ক্ষমতা রাখে বড় কামোট।”

“ওহ্‌ মাই গড, তাই নাকি?” অনুপমা বিস্ময় প্রকাশ করে।

বিদ্যুৎবাবু এবার সারেঙের সঙ্গে ওদের রুট নিয়ে কথা বলেন, “আগে দোবাঁকি চলুন, ওখান থেকে নেতিধোপানি হয়ে গোসাবা নদী ধরে হলদিবাড়ি, ওখান থেকে গঁতমারা খালের ভিতর দিয়ে আবার গোসাবা নদী পার করে নারায়ণতলা খাল দিয়ে ওখানকার মন্দিরে পৌঁছব।”

“বিদ্যুৎবাবু, ওখানে ওয়াইল্ডলাইফ কী দেখতে পাওয়া যেতে পারে?” সুমন্ত জিজ্ঞাসা করে।

“স্যার, এই বিশাল জঙ্গলে পশুপাখির অভাব নেই, তবে এত ঘন জঙ্গলের জন্য খুব বেশি কিছু দেখা যায় না। স্পটেড ডিয়ার যেটাকে চিতল বলে, ওগুলো ঝাঁকে-ঝাঁকে দেখতে পাবেন, বনশুয়োর, মনিটর লিজ়ার্ড বা গোসাপ, ক্যামেলিয়ন আর আট-দশটার গ্রুপে ভোঁদড় বা ওটার বলে যেগুলোকে, তা দেখতে পাবেন। লেপার্ড, বিড়াল আর বনবিড়ালও কখনও-সখনও দেখা যায়, যদি কনটিনিউয়াসলি কেওড়া আর গর্জন গাছের ঠেসমূলের ভিতর দিকে লক্ষ রেখে যান তা হলে হয়তো দেখতে পেতে পারেন এদের,” একটু দম নেন বিদ্যুৎবাবু, বলেন, “এই পাড়ে এখন কাদা দেখছেন ওখানে নামলেই কোমর পর্যন্ত হুস করে যে কেউ ডুবে যাবে, আবার জোয়ার এলে ওই যে ক’ফুট কাদা তা আর দেখা যাবে না, জলে ভরে যাবে, আর এই যে গাছগুলো দেখছেন, বানী, হারকোচ, হেতাল, বারেন, খলসি, কেওড়া, গর্জন আরও সব ম্যানগ্রোভ গাছ, দেখলে মনে হবে এরা জলেই জন্মায়, ইয়া বড়-বড় এদের নিউম্যাটোফোরের জন্য জঙ্গলে হাঁটা দায়। তার সঙ্গে আবার রয়েছে কেওড়া আর গর্জনের সাপোর্টিং রুট, তাই ফাঁক-ফোকর দিয়ে জন্তু-জানোয়ার দেখা খুব টাফ। কিন্তু ওরা আমাদের দেখছে, স্পেশ্যালি বাঘ। ওই যে বেতের মতো কাণ্ডওয়ালা বড় বড় পাতার ঝাড় দেখছেন, ওই গাছের নাম গোলপাতা, ওর ঝাড়েই লুকিয়ে থেকে কিংবা ধানি ঘাসের ভিতরে বসে হয়তো আমাদের গতিবিধি মাপছে।”

আফরোজ় একমনে বনের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে, বেশ কয়েকটা পাখি ওর নজরে এসেছে, যদিও মাছরাঙা, বক, মদনটাক আর বালিহাঁস ছাড়া আর কারও নাম জানে না। অবাক হয়ে দেখে জেলেরা ছোট-ছোট ডিঙি বেয়ে মাছ বা কেউ-কেউ কাঁকড়া ধরছে সরু-সরু খাঁড়ির ভিতর। লঞ্চ ভেসে চলে নদীর ধার ঘেঁষে, ডেকের উপরে সবাই চোখ মেলে থাকে জঙ্গলের দিকে। কেউ বা বুনো শুয়োর, কেউ বা হরিণ দেখে চেঁচিয়ে উঠছে আর সবাই মিলে ওগুলো দেখার জন্য হামলে পড়ছে। বিদ্যুৎবাবুও নিরলসভাবে একের পর এক গাছ, তাদের বিশেষত্ব, বন্য পশুপাখির পরিচয়, তাদের স্বভাব বর্ণনা করে চলেছেন।

ছাড়া-ছাড়া ভাবে আফরোজ়ের কানেও আসছে বিদ্যুৎবাবুর কথা। “আমাদের প্রতিটি ক্যাম্পেই আছে বনবিবির মন্দির, ওখানে পুজো দিয়ে তবেই জঙ্গলে ঢুকতে হয়। কথিত আছে, বনবিবি আদতে একজন মুসলমান মহিলা। ধনা নামের এক মউলি মানে মধু কালেক্টরের সঙ্গী দুখে নামক এক গরিব ছেলেকে জমিদার দক্ষিণরায় বাঘের ছদ্মবেশে আক্রমণ করলে দক্ষিণরায়ের পথ আগলে দাঁড়ান ভাই শা জংলিকে সঙ্গী করে আর দুখেকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তাকে মধু আর মোম দিয়ে কুমিরকে বলেন বাড়ি পৌঁছে দিতে, এই নিয়ে নানান কথা লোকমুখে প্রচলিত। তাই জঙ্গলে ঢোকার আগে বনবিবির পুজো করে হিন্দু-মুসলমান সবাই। আমরাও যারা বনবিভাগের অফিসার-কর্মচারী, সবাই জঙ্গলে ঢোকার আগে বনবিবি আর দক্ষিণরায়ের পুজো করেই জঙ্গলে ঢুকি, আজ আমার ব্যাগে পুজোর সব সামগ্রীও নিয়েছি। তা ছাড়া আমাদের নারায়ণতলা-হলদিবাড়ি ক্যাম্পে রয়েছে প্লাস্টিকের মাস্ক, মানুষের মুখ। ওগুলো পরতে হয় মাথার পিছনে যাতে মনে হয় পিছনেও মুখ রয়েছে। বাঘ আক্রমণ করে মানুষের পিছন দিক থেকে তাই মাস্ক পরে নিলে বাঘ অ্যাটাকের ব্যাপারে কনফিউজ়ড থাকে।

ঘড়িতে তখন তিনটে পনেরো। লঞ্চ পৌঁছে যায় নারায়ণতলা বনবিবির মন্দিরে। ছোট্ট একটা কামরার ঘর, ওটাই বনবিবির মন্দির, মন্দিরের পিছন থেকে ঘন জঙ্গল, সুন্দরী, গরাণ, গেঁওয়া, ওঁরা-তরা আরও এমন অজস্র গাছের জঙ্গল। বিদ্যুৎবাবু তড়িঘড়ি পুজোর আয়োজন করে পুজো শেষ করে বলেন, “এবার স্যার আমাকে যেতে হবে ছোট মোল্লাখালি দ্বীপে। ওখানে বাঘের কামড়ে একজন জেলে মারা গেছে, তাই অ্যাজিটেশন হচ্ছে। ওটা অ্যাটেন্ড করতে হবে। তবে এখানে জনাচারেক ফরেস্ট গার্ড রেখে যাচ্ছি, ওরা আপনাদের জঙ্গলটা একটু দেখিয়ে দেবে। ফেরার সময় আপনাদের লঞ্চে একটু তুলে নেবেন, ওরা হলদিবাড়িতে নেমে যাবে,” নমস্কার করে বিদ্যুৎবাবু চলে যান ভুটভুটি চড়ে।

দু’জন গার্ড সঙ্গে করে মন্দিরের পিছনের জঙ্গলে বাঘ দেখতে যাওয়ায় আপত্তি অনেকেরই। নাজ়িয়া আর তনুশ্রী ছাড়া কোনও মেয়েই রাজি নয় অহেতুক এই অ্যাডভেঞ্চারে। মেয়েদের দেখাদেখি মৈনাকও থেকে যায় মন্দিরের চত্বরেই। হালকা হেসে বলে, এতজন সুন্দরীর সঙ্গ বাঘের সঙ্গর চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি আনন্দের।

বাকিরা দুই ফরেস্ট গার্ডের সঙ্গে মন্দিরের পিছনে ঘন জঙ্গলে মিলিয়ে যায়, “ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ফিরব,” আশ্বস্ত করে বন্দুকধারী দুই গার্ড।

আধ ঘণ্টার মধ্যে ছুটতে-ছুটতে ফেরত আসে আফরোজ় আর ওপি সিনহা বাদে সকলেই। মৈনাক এগিয়ে এসে দুই গার্ডকে জিজ্ঞাসা করে, “কী হয়েছে?”

“স্যার, আমরা সবাই একসঙ্গেই হাঁটছিলাম। আধ কিলোমিটারের মতো এগিয়েছি, এমন সময় একটা বাঘ ডানদিক থেকে লাফ মেরে বাঁদিকে জঙ্গলে মিলিয়ে গেল। আর একবার হালকা গর্জন করল কোথাও লুকিয়ে, সম্ভবত দুটো বাঘ ছিল। ওই লাফ মেরে পালানো আর চাপা গর্জনের মধ্যে স্পষ্টতই ওদের ভয় পাওয়ার লক্ষণ ছিল। আমরা মানা করলাম, কিন্তু সবাই ছুটতে লাগলেন ভয় পেয়ে। এর মধ্যে দু’জনকে দেখছি না। দৌড়তে গিয়ে দিক ভুল করে থাকতে পারেন জঙ্গলের দিকে। মনে হয় স্যার ডাইনে খালের দিকে থাকতে পারে, একবার যেন দেখলাম ওদিকে দু’জন দৌড়চ্ছেন।”

সবাইকে লঞ্চে তুলে, লঞ্চের সারেঙ বাদে বাকি চারজনকে সঙ্গে নিয়ে ছুরি, বর্শা, বঁটি, গাঁইতি, দুটো মুড়ির টিন ইত্যাদি নিয়ে মৈনাক ফিরে আসে বনবিবির মন্দিরে। ওখানে চার ফরেস্ট গার্ডের সঙ্গে সারা শরীরে কাদা মেখে দাঁড়িয়ে আফরোজ়।

মৈনাক ওকে দেখে জড়িয়ে ধরে, জিজ্ঞাসা করে, “ওপি সিন্হা সাহেব কোথায়?”

“আমি দেখিনি, বাঘ দেখে আমি সামান্য দৌড়েছি, হঠাৎ দেখি সামনে একটা কিং কোবরা, আমার দিকেই তেড়ে আসছে। দৌড়তে গিয়ে নয়ানজুলির মতো একটা খালে পড়ে গেলাম। কত আর পালাব? হাতের কাছে একটা গাছের ডাল ভেঙে দাঁড়িয়ে পড়লাম। সাপকে আর দেখতে না পেয়ে সাবধানে হেঁটে এখানে ফিরে এলাম।”

“ঠিক আছে, তুই লঞ্চে গিয়ে গায়ের কাদা ধুয়ে ফেল। আমরা খুঁজে দেখি ওপি সাহেব কোথায়,” সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মুড়ির টিনে লাঠি পিটোতে-পিটোতে আওয়াজ তুলে মৈনাক মিলিয়ে যায় মন্দিরের পিছনে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%