রামধনু – ৮

হুমায়ুন কবীর

একই সঙ্গে ভীষণ আনন্দ আর কেমন যেন একটা ভয় চেপে বসে সুমন্ত রায়কে। ওফ, কাল রাতেও ফোন করেছিল মৈনাক। তখন সবে মিনিটখানেক হবে বিছানায় শুয়েছে আর আরতি শেষ মুহূর্তে জল-টল খেয়ে, টর্চ বালিশের পাশে রেখে, নিজের মোবাইল ফোনটাকে মিউট মোডে এনে, ব্লাউজ়ের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে কী এক বিচিত্র কায়দায় অন্তর্বাস বের করে আনছে আর তখনই ফোনটা বেজে উঠল, ‘আমার একলা আকাশ থমকে গেছে…’

“হ্যালো,” ফোন রিসিভ করে আস্তে করে বলে সুমন্ত।

“কী রে শুয়ে প়ড়েছিস নাকি? তোর হ্যালো টোনটা চ্যাপটাভাবে বেরোল মনে হল। শালা এখন তো সবে সওয়া এগারোটা, এর মধ্যেই শুয়ে পড়লি নাকি, রতিক্রিয়ায় ব্যস্ত? তাহলে গুরু চালিয়ে যাও, আমি না হয় কাল সকালে কথা বলে নেব,” বেশ জোরে-জোরে রগুড়ে গলায় জিজ্ঞাসে করে মৈনাক।

“কে গো এমন সব অসভ্য কথা বলে?” ওদের ফোনের কথোপকথনের সময় নিঃশব্দে আরতি এসে দাঁড়িয়েছে সুমন্তের কাছে। মৈনাক যাতে শুনতে পায় জোরে-জোরে কথাগুলো বলে আরতি।

“না রে ওসব সৌভাগ্য কি তোর মতো সবার হয়? এই জাস্ট শুয়েছিলাম আর কী,” মৈনাকের রগু়ড়ে প্রশ্নের নেহাতই নিরীহ আর নিস্পৃহ উত্তর দেয় সুমন্ত।

“ঠিক আছে, বউয়ের পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে পড় ঠাকুরের নাম নিয়ে,” তারপর গলা নামিয়ে বলে, “আমার নয় থেকে বারোর কী হবে? সব ঠিক আছে তো? কাল ফোন করিস। বাই,” ফোন ছেড়ে দেয় মৈনাক।

“কোন বন্ধু এটা? কেন ফোন করেছিল এত রাতে?” আরতি বিরক্তভাবে একটা জলের বোতল সুমন্তের দিকে বেডসাইড টেবিলে রেখে জিজ্ঞাসা করে।

“তুমি তো চেনো, মৈনাক মুখার্জি, স্কুলের…” ছোট্ট উত্তর দিয়ে সুমন্ত প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পাশ ফিরে শোয়।

“ওহ্‌ ইনি সেই প্রজাপতি, ফুলে-ফুলে মধু খেয়ে ঘুরে বেড়ান। তা তোমাকে কি নেমন্তন্ন করেছেন নাকি মধু খেতে?” আরতি ব্যঙ্গাত্মক সুরে জিজ্ঞাসা করে।

সুমন্ত জানে এসব কথার উত্তর দিতে নেই। উত্তর দিলে আরতি ঝগড়া বাধিয়ে ঘুমের দফারফা করে দেবে, তাই চুপ করে থাকে।

সুমন্ত চুপ করে আছে দেখে আরতি আরও ঝাঁঝিয়ে উঠে জিজ্ঞাসা করে, “তুমি বললে না তো মৈনাক কেন ফোন করেছিল? কী সব একটা নয় থেকে বারো বলছিল মনে হল।”

“আরে ও কিছু নয়, ওদের অফিসের নীচে গাড়ি পার্কিং-এর কিছু সমস্যা হচ্ছে তাই ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টে চিঠি দিয়েছে ওখানে রাস্তায় একটা স্পেস অ্যালট করার জন্য,” সুমন্ত শান্তভাবে কথাগুলো বলে আর নিজেকে ধন্যবাদ দেয় চট করে সুন্দর একটা মিথ্যা মনে পড়ার জন্য।

“দেখো বাবা, ভুল জায়গায় গাড়ি পার্ক কোরো না, জীবনে কষ্ট পাবে,” আপাতত ঝগড়ায় বিরতি বলে মনে হয় সুমন্তের। পাশবালিশ জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে।

আজ তাই অফিসে এসেই মৈনাককে ফোন করে কনফার্ম করেছে, “আমি যাচ্ছি।”

“পরিষ্কার করো বেবি! আমি নাকি আমরা? যদি সিঙ্গল হও তোমাকে ডবল করার দায়িত্ব নিতে হবে আমাকে নাহলে আমাদের জিনিসের উপর নজর দেবে, ফোঁস-ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়বে আর অভিশাপ দেবে। সেটি হচ্ছে না গুরু।”

“না না, ওসব ঠিক আছে,” সুমন্ত প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

“ওফ্‌, ফাইন্যালি তুমি একটি মাল পটিয়েছ। যাক, বাবা বিবেকানন্দ তুমি আসারামের রাস্তায় আসছ,” মৈনাক ফোনের ভিতর দিয়ে স্পষ্টতই জোরে নিশ্বাস ছাড়ে।

“কী আজে-বাজে কথা। মাল-টাল বলছিস। ও আমার জুনিয়র কোলিগ,” সুমন্ত মৈনাকের কথার প্রতিবাদ করে।

“সরি বস, তুমি তোমার পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ডিকটেশন দেবে আর আমরা তখন অপ্রাকৃতিক জৈবিক কাজকর্মগুলো টুক-টাক সেরে নেব। ঠিক আছে বুঝেছি যুগ্ম সম্পাদক মহাশয়। এখন ছা়ড়ছি, মেলা অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে হবে!” ফোন কেটে দেয় মৈনাক।

সুমন্ত নিজেকে ঠাস করে একটা চড় মারে মনে-মনে। দিনকে দিন কী গাড়ল হয়ে যাচ্ছি! ফস করে জুনিয়র কোলিগ বলে মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছে। ও ভাল করেই জানে, এসব ছেলেমানুষি উচ্ছ্বাস দেখালেই বিপদ। মৈনাক ব্যাপারটা পাঁচ কান করবে না আশা করা যায়। তারপর ডুবে যায় নাজ়িয়ার ভাবনায়।

টিপিক্যাল পার্ক সার্কাসের মুসলিম মেয়ে এই নাজ়িয়া একই সঙ্গে সুন্দরী আর বুদ্ধিমতী। লোরেটো হাউজ়ে পড়াশুনোর ফলে আদবকায়দা ভারী সুন্দর। গলগল করে কথাও বলে না বা কারণে-অকারণে চটচটে ইমোশন প্রকাশ করে না। তার উপর একবার ঘর ভাঙার চাপা দুঃখ তো আছেই। বলিহারি ওর বাবা-মাকে! কী করে এরকম একটা মেয়ের বিয়ে দিল পাসকোর্সে গ্র্যাজুয়েট ব্যবসায়ী ছেলের সঙ্গে! কমপ্লিটলি মিসম্যাচ! যা হওয়ার তাই হল। ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাচ করেনি আদৌ। বিয়ের পরপরই ডব্লুবিসিএস-এ এগজ়িকিউটিভ পেয়ে গেল নাজ়িয়া। মাস তিনেকের ট্রেনিং করে পোস্টিং পেল বিডিও রামপুরহাট। ব্যাবসা ছেড়ে ওর হাজ়ব্যান্ড পারতপক্ষে রামপুরহাট যেত না আর কাজের চাপে নাজ়িয়াও সব শনি-রবিবার পার্ক সার্কাসে ফিরতে পারত না। এই নিয়েই গণ্ডগোলের সূত্রপাত, তা ছাড়া কালচারাল অমিল আর শিক্ষা-দীক্ষায় বিস্তর ফারাক তো ছিলই।

ওর হাজ়ব্যান্ড ওয়াজিদ সন্দেহ করত না‌জ়িয়ার নিশ্চয়ই গোপন প্রেমিক আছে। তাকে হাতেনাতে ধরতে গাড়ি করে রামপুরহাট রওনা দিল ওয়াজ়িদ। থানায় পৌঁছে নাজ়িয়া সুলতানার খোঁজ করল। ওখানকার ডিউটি অফিসার বলল, “নাজ়িয়া সুলতানা নামে কেউ এই থানায় নেই।”

ওয়াজ়িদও অনড়। তুমুল হট্টগোল বাধলে বড়বাবু নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠালেন ওয়াজ়িদকে। ওয়াজিদের ওই এক কথা, “আপনারা কিডন্যাপ করেছেন আমার ওয়াইফকে, লুকিয়ে রেখেছেন থানায়।”

বড়বাবু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আপনার ওয়াইফ কি পুলিশে চাকরি করেন? অফিসার নাকি কনস্টেবল?”

“থানার বিডিও আমার ওয়াইফ,” বলেছিল ওয়াজিদ।

মুচকি হেসে বড়বাবু বলেছিলেন, “ওরে বাব্বা, অনেক বড় অফিসার আপনার ওয়াইফ। তো তিনি তো বিডিও অফিসে আছেন।”

ওয়াজিদ এরপরও বিশ্বাস না করায় বড়বাবু ফোন করে বিডিও ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছিলেন ওয়াজিদকে। একজন কনস্টেবল সঙ্গে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বিডিও অফিসে।

ওয়াজিদকে দেখে নাজ়িয়া বলেছিল, “ছি, তুমি থানায় গিয়েছ আমার খোঁজ করতে! অথচ আমাকে একটা ফোন করলে না?”

ওয়াজিদ আর বলতে পারেনি সন্দেহের কথা। নাজ়িয়া বুঝেছিল, ঝানু ব্যবসায়ী ওয়াজিদ স্ত্রীর পদমর্যাদা আর প্রশাসন সম্বন্ধে কত অজ্ঞ। তাই তার এহেন স্বামীকে মন থেকে সম্মান করতে পারেনি কোনওদিন। আর অতি বড় মূর্খও বোঝে তার স্ত্রী তাকে সম্মান করে কিনা। ওয়াজিদের ব্যবসায়িক মাথাতেও ঢুকেছিল ব্যাপারটা, আর তা নিয়েই অশান্তির শুরু।

তারপর প্রচুর মারপিট আর অশান্তির মধ্য দিয়ে যবনিকা নেমেছিল ওদের দাম্পত্য জীবনে। তবে তালাক বা ডিভোর্স হয়েছে কিনা জানে না সুমন্ত। সুমন্তর প্রতি আগ্রহও নাজ়িয়াই দেখিয়েছে প্রথমে। প্রথমটায় সুমন্ত বিশ্বাসই করেনি নাজ়িয়ার সিগন্যালগুলোকে।

ইদের সেই নেমন্তন্নের পর থেকেই সম্পর্কের মধ্যে একটা গুমোট আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল যদিও মাঝে দু’বার ওরা মিলিত হয়েছে নাজ়িয়াদেরই ফ্ল্যাটে। দিন তিনেকের জন্য ওর বাবা-মা বাইরে গিয়েছিলেন। নাজ়িয়া খুব চাইছিল পুরো রাতটা সুমন্ত থাকুক ওর সঙ্গে। নানা যুক্তিতে সুমন্ত ঠিক বেরিয়ে এসেছিল প্রথম দিন অনেক রাতে।

সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে আরতিকে বলল, “অফিসের পার্টিতে যাচ্ছি আলিপুরের একটা ব্যাঙ্কোয়েট হলে।”

“কই আগে থেকে বলোনি তো পার্টিতে যাবে?” জিজ্ঞাসা করল আরতি।

“অনেক আগে থেকেই ঠিক হয়েছিল এই পার্টিটা। তাই ভুলে গিয়েছিলাম বলতে,” প্যান্ট-শার্ট পরতে পরতে উত্তর দেয় সুমন্ত।

“তা তোমাদের পার্টি তো উইথ ফ্যামিলি হয় না? আমি তো আগেও কতবার গিয়েছি।”

“না এইটা শুধু অফিসারদের,” সুমন্ত কোনওরকমে ড্রেস আপ করে বেরিয়ে গিয়েছিল ফ্ল্যাট থেকে। প্রায় সাড়ে ন’টা নাগাদ একবার ফোন করল আরতি, “খেয়ে নিয়েছ?”

“না, এবার খাব,” আর কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দিয়েছিল নাজ়িয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকা সুমন্ত। ফোনটা আসার পর থেকেই কেমন যেন নিভতে শুরু করল নাজ়িয়া। আধঘণ্টা পরে আবার ফোন করল আরতি, এবার আর ফোন ধরেনি সুমন্ত।

একটা মলের ফুড কোর্টে দু’জন খেতে যায় তারপর। আরতি আবার ফোন করল দশটা কুড়ি নাগাদ। এবার ফোন ধরতেই হত, নাহলে আরতি হয়তো ড্রাইভারকেই ফোন করবে। ড্রাইভার প্রদীপ প্রথম থেকেই গাড়ি মলের পার্কিং লটে পার্ক করে রেখেছে। গাড়ি থেকে নেমে মলের গেটের কাছে উঠে লক্ষ রাখছিল প্রদীপের দিকে, গাড়ি নিয়ে পার্কিং লটের দিকে যাচ্ছে কিনা। প্রদীপকে ও বলেই দিয়েছিল দেরি হবে। প্রদীপ হয়তো ভাববে সাহেব সিনেমা দেখবে, সে যা ভাবে ভাবুক, সুমন্ত ওকে খোলসা করে কিছু বলেনি। সুমন্ত জানে, গোপন অভিসারে যত কম কথা যত কম জনকে বলা যায় তত ভাল, বিপদে পড়লে ঘটনার ট্যুইস্ট দেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই মলের গেট থেকে নেমে পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে পৌঁছে গিয়েছিল নাজ়িয়ার ফ্ল্যাটে।

ফোন ধরে হ্যালো বলতেই আরতি ঝাঁঝিয়ে ওঠে, “এত দেরি হল কেন ফোন ধরতে? কী করছিলে?”

“পকেটে ফোন, খেতে-খেতে পকেট থেকে বের করা কি অত সহজ? বলো কী বলবে?”

“কী করছ? কত দেরি হবে? খেয়েই ফিরবে তো?” প্রশ্নগুলো ধেয়ে এল।

“নাহ্, দেরি হবে। কিছু পয়েন্টে ডিসকাশন আছে অফিস কোলিগদের সঙ্গে। তুমি-সৃজি ঘুমিয়ে পড়ো, আমি গেটের ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে এসেছি, রাতের বেলায় ফিরে তোমাদের আর ডিস্টার্ব করব না। সৃজি কী করছে?” সুমন্ত যতটা সম্ভব শান্ত গলায় কথাগুলো বলে। নিজেকে ধন্যবাদ দেয় নাজ়িয়ার মলে আসার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য। রেস্তরাঁর অ্যামবিয়েন্স আর অন্য টেবিলে খাওয়াদাওয়ার আওয়াজ ওকে বাঁচিয়ে দিল সে যাত্রায়। নাজ়িয়ার ফ্ল্যাটে থাকলে ওখানকার নিস্তব্ধতা আরতির সন্দেহ নিশ্চয়ই বাড়িয়ে দিত।

“তুমি বাড়ি না ফিরলে কি আমি ঘুমিয়ে পড়েছি কোনওদিন? তোমার মনে নেই, তুমি যখন বিডিও ছিলে, কিংবা কল্যাণীতে এসডিও থাকার সময়ও কোনও ল অ্যান্ড অর্ডার ডিউটিতে আটকে গেলে আমি ভোর পর্যন্ত জেগে বসে থেকেছি তোমার অপেক্ষায়,” হঠাৎ টোন পালটে ইমোশনাল হয়ে যায় আরতি। সুমন্তর মনে হয় ও আরতিকে চিট করছে, বিষাদে ভরে ওঠে মন।

নাজ়িয়ার ফ্ল্যাটে ফিরে আসতে সেই পৌনে এগারোটা, চাবি খুলে ভিতরে ঢুকে আসে দু’জনে। নাজ়িয়া ঢুকে যায় ওর বেডরুমের সঙ্গে অ্যাটাচড টয়লেটে, চে়ঞ্জ করে ফিরে আসে স্ল্যাক্স আর টপ পরে, আঙুল নিয়ে নিঃশব্দে খেলা করে কিছুক্ষণ, বলে, “আমি ভীষণভাবে চাইছি আজকের রাতটা তুমি আমার কাছে থাকো, কিন্তু আমি জানি তোমাকে তোমার বাড়ি পৌঁছতে হবে। ওখানে তোমার স্ত্রী এবং মেয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। যাও টয়লেট থেকে ফ্রেশ হয়ে এসো, আমার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ থাকো, তারপর না হয় চলে যাবে।”

আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে নাজ়িয়া। মায়ার এই বন্ধন কাটানো খুবই কষ্টদায়ক, তবুও সুমন্ত বুঝতে পারে দিনের আলোর বাস্তবতা অনেকসময় রূঢ় হলেও ভীষণ রকমের বাস্তব।

সেদিন ফিরতে প্রায় বারোটা হয়েছিল।

“সরি আরতি, আড্ডা দিতে গিয়ে রাত হয়ে গেল,” সুমন্ত সত্যি এত রাত করতে চায়নি।

“ইট্স ওকে, তোমার সঙ্গে সব সময় ঝগড়া করি আমি, তাই না? সরি, আমি নিজে কেমন জানি হয়ে যাচ্ছি দিনকে দিন, জানি না কেন, রোজ ভাবি এমনটা করব না কিন্তু সেই হয়ে যায়,” আরতি এগিয়ে এসে সুমন্তর গলা জড়িয়ে ধরে, নিজের নাইটি তুলে পায়ের গোছ দেখায়, “এই দেখো, তুমি বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি পার্লারে গিয়ে ওয়াক্সিং করিয়ে এসেছি।”

“বাঃ দারুণ, আজ ঘুম পাচ্ছে, কাল দেখব,” সুমন্ত এড়িয়ে যায় আরতিকে। সুমন্ত জামাকাপড় দ্রুত পালটে বিছানায় শুয়ে পড়ে, আরতি চেষ্টা করে সুমন্তকে জাগাতে, শেষটায় না পেরে বলে, “কাল তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব, তোমার ভায়াগ্রা না নায়াগ্রা কী লাগে দেখি!”

“তাই নিয়ে যেয়ো,” উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে সুমন্ত, মনে-মনে ভাবে, “বাপ রে! এক রাতে দুই নারী, আমি তো আর বাবা গুরমিত নয়!”

অফিসে কাজ আছে বলে সকাল দশটাতেই বেরিয়ে গেল সুমন্ত। নাজ়িয়া চায় নিজের হাতে রান্না করে সুমন্তকে খাওয়াবে, আজ শনিবার তাই অফিস নেই, ন’মাসে-ছ’মাসে সুমন্ত অফিস যায় শনিবারে। ইলেকশনের সময়ের কথা অবশ্য আলাদা। আজ আর গাড়ি নয়, ট্যাক্সি করে পৌঁছে যায় নাজ়িয়ার ফ্ল্যাটে।

নানা কথার পর সুন্দরবনের কথাটা পাড়ে সুমন্ত।

“ওয়াও, হোয়াট এ গ্রেট আইডিয়া! অফ কোর্স আই ওয়ান্ট টু গো। চার-চারটে দিন পুরো তুমি আমার! প্লিজ় এখনই কনফার্ম করে দাও।”

সুমন্ত ফোন লাগায় মৈনাককে, “আমি যাচ্ছি তোর নয় থেকে বারো।”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%