বৈজয়ন্তী ওড়াও বিশ্ববাংলায়

দাউদ হায়দার

যে বিশ্বাস নিয়ে একদিন
বৈজয়ন্তী উড়িয়েছে, সেই
একাগ্রতায়
এখনো আমি প্রতীক্ষমান।

আমাদের অবয়বে এখন, আপাতত
কোন দৃশ্য নেই; ভিতরে
বহ্নিমান শিখা, আর
রক্তফেন আক্রোশ
জেগে আছে।

তোমার দেখার চোখ দু’টোয়
আরো একটি চোখ
বসিয়ে দিতে চাই;

শিবনেত্র নয়, তৃতীয় চক্ষু দিয়ে
দেখে নাও, তোমার স্বদেশে
সহস্র রাবণ ও দুর্যোধন; এখনো
ছদ্মবেশে,
স্থির।

তোমার পায়ের তলা থেকে, মাটি
ধীরে ধীরে
সরে যাচ্ছে; তুমি
দিগন্তে তাকিয়ে
তারা-ছাওয়া সৌর-আকাশ
দেখছ।

যে অরিত্র নিয়ে, ঝঞ্চসাগর
পাড়ি দেবে, বলেছিলে; দ্যাখো
মাস্তুল ভেঙে আছে ডাঙায়।

দ্যাখো, দিকচত্রে আজ
ঊর্মির জোয়ার; অথচ তুমি
ক্ষিপ্ত ঈগলের মতো
আকাশ, শুন্যতা ঠোকরাও।

তবে কি সব আহুতি
বৃথা গেল, তোমাদের?

তোমার ভিতরে এক
শুদ্ধির সন্তান জেগে আছে, শুধু
একবার প্রজ্বলনে
উন্মোচিত হও।

আমি, মাটির মানুষ; তাই
আশাবাদী;–
স্ফুলিঙ্গ ও ভস্মে
অনাদি প্রেমিক্ল আমার স্বদেশের।

এসো, আমাদের বৈজয়ন্তী ওড়াও
ত্রিলোকে, আসমুদ্রহিমাচলে, আর
বিশ্ববাংলায়।

১৮/১০/৮৩

সকল অধ্যায়
১.
আমার এই দেশ
২.
আমরা সবাই নেতা
৩.
তোমার কথা
৪.
যে দেশে সবাই অন্ধ
৫.
আমাদের বাংলা কবিতা
৬.
অনুজ জাহিদকে খোলা চিঠি
৭.
বৈজয়ন্তী ওড়াও বিশ্ববাংলায়
৮.
উত্তর চাই, জাহিদ
৯.
স্বাধীনতা মৃত্যুর চেয়ে বড়ো
১০.
তোমারই অস্থি ও চামড়ায়
১১.
অক্ষয় গাণ্ডীব
১২.
এখনো প্রতীক্ষমান
১৩.
স্বহস্তে বিচার
১৪.
অপেক্ষা করো
১৫.
হিংস্রতা, পরতে পরতে
১৬.
দীর্ঘায়ু, কপিল গুহায়
১৭.
দ্রোণাচার্যও অক্ষম
১৮.
প্রাণের পললে
১৯.
আমার চরাচরে
২০.
কে শত্রু, কে মিত্র
২১.
আমার কথা
২২.
আমার কবিতা
২৩.
আমার সঞ্চয়ে
২৪.
শালা ও বাঞ্চোতদের জন্যে
২৫.
বধিরের ভাষা
২৬.
ইচ্ছে
২৭.
নিরন্ন মানুষের দেশে
২৮.
ষড় যন্ত্রের ঐকতানে
২৯.
আমাদের গোপন আস্তানা
৩০.
ভাতের গন্ধে
৩১.
জল দাও
৩২.
কোরাস
৩৩.
তোমার কবিতায়
৩৪.
কবিতার এলোমেলো ভেলা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%