সুদীপ দেব

মোহনপুর গ্রামে আজ বেজায় খুশির দিন। অনেকদিন পরে একটা ঘটনার মতো ঘটনা ঘটেছে। সরকারবাবুর আবিষ্কার করা ওষুধে অন্ধ কানাই চোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে।
ভাঙা বটতলায় বুড়োদের আড্ডাও তাই বেশ জমে উঠেছে। দামুখুড়ো কিংসাইজ বিড়িতে সুখটান দিয়ে বলছেন, “মোহনপুর গ্রামে এবার নোবেল প্রাইজ আসবে হে। এ কি যা তা আবিষ্কার! জন্মান্ধ লোক ড্যাবড্যাব করে দেখছে।”
“আরে কার ছাত্র সেটা তো দেখতে হবে!” করালিস্যারের বুকের ছাতি ফুলে চারগুণ হয়ে গেছে।
দু-দিন আগে মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়েছে বুবুলের। দারুণ রেজাল্ট করেছে বুবুল। সে আজ কলকাতা ফিরে যাবে। সেখানে বাবার কাছে থেকে এবার সে বড় স্কুলে ভর্তি হবে। বাঁশবাগানের ধার দিয়ে জীবনস্যারের সঙ্গে হাঁটছিল বুবুল।
“তোর মনে আছে তো কী বলেছিলাম?”
“হ্যাঁ স্যার, আমি পড়াশুনা শেষ করে এই মোহনপুর গ্রামেই আবার ফিরে আসব। দাদুর অসমাপ্ত কাজ আমাকে শেষ করতেই হবে।”
“হ্যাঁ বুবুল, সরকারবাবু যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে ঠিক সফল হতেন। কেন যে তিনি তাঁর গবেষণা মাঝপথে বন্ধ করে দিলেন কে জানে। পৃথিবীর অন্য কোনও বিজ্ঞানীরা তাঁর এই গবেষণার বিষয় জানলে তাঁকে পাগল বলবে। কিন্তু আমিও বিশ্বাস করি মৃত্যুর পরেও কিছু আছে। পৃথিবীর মানুষের বিজ্ঞান সেটা এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি। আমি জানি বুবুল, সেটা তুই পারবি।”
বুবুলের চোখ বেয়ে আনন্দাশ্রু নেমে এল। দূর থেকে শোনা গেল কানাইয়ের গান, রবিঠাকুরের গান, “আকাশভরা সূর্য তারা, বিশ্বভরা প্রাণ...”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন