সুচিত্রা ভট্টাচার্য
হোটেল শিলটনের বহিরঙ্গে তেমন একটা দেখনদারি নেই। তিনতলা ব্রিটিশ স্থাপত্যের বিল্ডিংটায় বয়সের ছাপ পড়েছে। তবে ছোট্ট সবুজ লনখানি যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। মিনি লাউঞ্জ আর রিসেপশন কাউন্টারটিও মোটামুটি ছিমছাম। মোটা-মোটা গথিক থামে, দীর্ঘকায় দরজা-জানলায়, কারুকাজ করা কাঠের সানশেডে একটা বনেদিয়ানার গন্ধও পাওয়া যায় যেন।
রিসেপশনের বাঁ দিকে মালিকের ঘর। ভিতরে ভিজিটিং কার্ড পাঠিয়ে অপেক্ষা করছিল মিতিন। দরজার পিতলের নেমপ্লেটখানা পড়তে-পড়তে টুপুর ফিসফিস করে বলল, “ভদ্রলোকের ভাল নামটা কী খটোমটো গো!”
মিতিন নিচু গলায় বলল, “এ আর কঠিন কী! হ্যারোতিউন থেকে হ্যারি। আর্মেনিয়ানদের নাম এরকমই হয়।”
ইউনিফর্ম পরা কর্মচারীটি ঘর থেকে বেরিয়েছে। হাত দেখিয়ে বলল, “আপনারা যেতে পারেন।”
ভিতরে চড়া ঠান্ডা। কম্পিউটার শোভিত প্রকাণ্ড টেবিলের ওপারে মাঝবয়সি হ্যারি। ঘুরনচেয়ারে আসীন। গোলগাল মুখ, ভালমানুষ-ভালমানুষ চেহারা। গায়ের রং ফরসা হলেও মোটেই সাহেবদের মতো নয়। মাথায় কাঁচাপাকা চুল। চকচকে কামানো গাল। পরনে ঝকঝকে সুট-টাই।
ঠোঁটে হাসি টেনে মিতিন বলল, “গুড আফটারনুন মিস্টার আরাকিয়েল।”
হ্যারির মুখমণ্ডলে তেমন কোনও অভিব্যক্তি ফুটল না। বিনা সৌজন্যেই বললেন, “বসুন। জানতাম আজ-কালের মধ্যেই আসবেন।”
গদিমোড়া চেয়ারে বসে মিতিন বলল, “তদন্তের খবর কে দিল আপনাকে? জেসমিন? নির্মলা? না ইসাবেল আন্টি?”
“সেটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট নয় ম্যাডাম।” হ্যারির স্বর অসম্ভব শান্ত, “শুধু ভাবছি, আর কত মানসিক অত্যাচার আমার কপালে আছে! এখন তো মনে হচ্ছে আঙ্কলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সঙ্গে-সঙ্গে ছুটে যাওয়াটা সেদিন উচিত হয়নি।”
“ওভাবে ধরছেন কেন মিস্টার আরাকিয়েল? আপনি তো কর্তব্য পালন করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত সেই রাত্তিরে একটা বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এবং ইচ্ছেয় হোক, অনিচ্ছেয় হোক, আপনি তাতে জড়িয়ে পড়েছেন।”
“হুম। সেই অ্যাঙ্গেলেই তো দেখার চেষ্টা করছি।” টেবিলের কাচে পেপারওয়েট ঘোরাচ্ছেন হ্যারি। থেমে বললেন, “ও কে। কী কী জানতে চান বলুন? বাইশে ডিসেম্বরের রাতের ডিটেলটা আর একবার বলতে হবে নিশ্চয়ই? যাতে আমার বক্তব্যের অসঙ্গতি থেকে ধরতে পারেন হিরেটা আমি কখন সরিয়েছি?”
হ্যারির বাচনভঙ্গিতে টুপুর থ। মহা ঝানু লোক তো! বিকার নেই, উত্তেজনা নেই, দিব্যি কেমন চিবিয়ে-চিবিয়ে ইংরেজিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন মিতিনমাসিকে!
টুপুরকে আরও অবাক করে দিয়ে মিতিনও হাসছে মিটিমিটি। কোনও রকম পাঞ্জা কষাকষিতে না গিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, “তার আর প্রয়োজন নেই মিস্টার আরাকিয়েল। মোটামুটি সকলের স্টেটমেন্ট তো নিলাম, ওগুলো ঘেঁটেঘুঁটেই যা পাওয়ার পেয়ে গিয়েছি।”
“এবং নিশ্চিত হয়েছেন হিরে আমিই নিয়েছি, তাই তো?” হ্যারির স্বরে ব্যঙ্গ, “কিন্তু ম্যাডাম, জিনিসটা খুঁজে না বের করলে তো অপরাধ প্রমাণ হবে না। তা কোথা থেকে সার্চ শুরু করবেন? আমার বাড়ি? অফিস? ব্যাঙ্কের লকার? আপনি একাই খুঁজবেন, নাকি পুলিশ সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে আসছে?”
“দেখা যাক কী হয়।” মিতিন হ্যারির চোখে চোখ রাখল, “আগে তো বোঝার চেষ্টা করি, হিরে আপনি নেবেন কেন!”
“আমি আপনাকে লিড দিতে পারি ম্যাডাম ডিটেকটিভ। হোটেল শিলটন এখন ভাল চলছে না। তাই হয়তো হোটেল আর হিরে বেচে বাকি জীবনটা আমি বসে-বসে খাব। কিংবা সপরিবার কেটে পড়ব অস্ট্রেলিয়ায়।”
“উঁহু, কারণটা তেমন জোরালো লাগছে না।”
“কেন নয়? ওই হিরের দাম আপনি জানেন?”
“আন্দাজ করতে পারি। টাকার হিসেবে অন্তত দু’ কোটি।” মিতিনের চোখে স্নিগ্ধ হাসি, “কিন্তু এও জানি, হিরেটা আপনার কাছে টাকার চেয়ে অনেক-অনেক বেশি মূল্যবান।”
একক্ষণে হ্যারির মুখে যেন সামান্য ভাঙচুর। ঘুরনচেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন, “আপনাকে তো যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট মনে হচ্ছে।”
“উঁহু, বুদ্ধিমতী নই, যুক্তিবাদী। আমি কার্যকারণে বিশ্বাস করি।”
হ্যারির চোখের মণি পলকের জন্য স্থির। তারপর থেমে-থেমে বললেন, “দেখুন ম্যাডাম, হিরে আমি নিয়েছি কি নিইনি, সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। তবে পুলিশের লোক নন বলেই আপনাকে বলছি, ওই হিরেতে আমার কাকার যতটা অধিকার ছিল, আমারও ঠিক ততটাই আছে। ওটা কখনওই কাকা বা তাঁর পরিবারের একার প্রাপ্য নয়। আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল।”
“অন্যায়ভাবে বলছেন কেন? আপনার ঠাকুরদা যদি তাঁর ছোট ছেলেকেই দিয়ে যান, কার কী বলার আছে?”
“না ম্যাডাম, তা তিনি পারেন না। হিরেটা ঠাকুরদা অর্জন করেননি। ওটা আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি। একজন ভারতীয় হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করার জন্য বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন ঠাকুরদা।”
“আপনার মা…?”
“মরাঠি। শোভা দেশপান্ডে। হিন্দু বলেই ঠাকুরদা তাঁকে মানতে পারেননি।” চেয়ারের ঘূর্ণন থামিয়ে হঠাৎই ঝুঁকেছেন হ্যারি। ব্যথিত মুখে বললেন, “দুঃখের কথা কী জানেন, আমার ঠাকুরদা ছিলেন অত্যন্ত পণ্ডিত মানুষ, অথচ উনি একবারও ভেবে দেখেননি আমাদের আর্মেনিয়ানদেরই অনেকের পূর্বপুরুষ ছিলেন হিন্দু।”
টুপুরের গলা দিয়ে বিস্ময়ে ঠিকরে এল, “ওমা, আর্মেনিয়ানরা কী করে হিন্দু হবেন?”
“ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি ভারী অদ্ভুত ম্যাডাম।” হ্যারির ঠোঁটে বিষন্ন হাসি, “আপনারা হয়তো খবর রাখেন না, এক সময় ভারতের সঙ্গে আর্মেনিয়ার নিয়মিত ব্যবসাবাণিজ্য চলত। শুধু তাই নয়, যিশু খ্রিস্টের জন্মের দেড়শো বছর আগে দু’জন হিন্দু রাজকুমার পাকাপাকিভাবে আর্মেনিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। আর্মেনিয়ান ভাষায় তাঁদের একজনের নাম জেসান্নি, অন্যজনের নাম ডেমেটার। ভারতীয় ভাষায় নাম দু’টো শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। কৃষ্ণ আর জগন্নাথ। কনৌজের রাজা দীনাক্ষীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তাঁরা। প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নেন। আর্মেনিয়ার রাজা তাঁদের থাকতে দিয়েছিলেন তারোনে। পরে আরও অনেক হিন্দু সেখানে গিয়ে একটা বড়সড় শহর গড়ে তুলেছিল। তার প্রায় পাঁচশো বছর পর আর্মেনিয়ার এক খ্রিস্টান রাজার সঙ্গে হিন্দুদের যুদ্ধ হয়। হেরে গিয়ে হিন্দুরা সদলবলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে।”
মিতিন বলল, “ইন্টারেস্টিং!”
“আরও ইন্টারেস্টিং কী জানেন? আর্মেনিয়ায় এখনও এক হিন্দু বীরের মূর্তি আছে। স্থানীয় ভাষায় সেই যোদ্ধার নাম আর্টজান। অর্থাৎ আপনাদের অর্জুন। এবার বলুন, এই সব হিন্দুর কেউ যে আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন না তা কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়?”
“তা বটে।” মিতিন চেয়ারে টানটান হল, “আপনার ঠাকুরদা সত্যিই কাজটা ঠিক করেননি। কিন্তু একেবারেই কি কিছু দেননি আপনাদের?”
“অতি সামান্য, অতি সামান্য। শুধু প্রিটোরিয়া স্ট্রিটের এই বাড়িটা, যেখানে বাবা কষ্টেসৃষ্টে এই হোটেলটা বানিয়েছিলেন। আর নগদ মাত্র এক লাখ টাকা।”
“হুম, আপনার ক্ষোভের কারণটা বোঝা গেল।”
“ক্ষুব্ধ হওয়াটা কি খুব অস্বাভাবিক, ম্যাডাম?” হ্যারি ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেললেন, “এখনও যে কত রকম বঞ্চনা আমাকে সহ্য করতে হচ্ছে।”
“যেমন?”
“আমার কাকার কাণ্ডটাই দেখুন না। ঠাকুরদা নয় অবুঝ ছিলেন, কিন্তু কাকা? তিনি তো আমায় খুব ভালবাসতেন বলেই জানতাম। আমিও কখনও কর্তব্যে গাফিলতি করিনি। সময় পেলেই কাকা- কাকিমাকে দেখে আসতাম, নিয়মিত খোঁজখবর রাখতাম…। নিজের যখন ছেলেমেয়ে নেই, কাকার কি উচিত ছিল না সম্পত্তির খানিকটা অন্তত আমায় দিয়ে যাওয়া? কিন্তু একটা উইল করে গোটা সম্পত্তিটা উনি কাকিমাকে দিয়ে গেলেন।”
“মিস্টার আরাকিয়েলের উইল ছিল?”
“তবে আর বলছি কী! উইল যদি আদৌ না থাকত, অন্তত সম্পত্তির একটা ভাগ তো আমি পেতাম। খ্রিস্টানদের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী। অথচ সেটুকুও উনি করলেন না। ...আর কাকিমা যা করলেন…।”
“ইসাবেল আন্টি? তিনি আবার কী করলেন?”
“ভাবতেও পারবেন না ম্যাডাম। আত্মীয়স্বজনের ব্যাপার বলতেও লজ্জা করে। হিরে নিয়ে আমার পিছনে পুলিশ তো লাগিয়েছেনই, আমি আর আমার স্ত্রী জেরায় জেরবার হয়ে গিয়েছি। তার মাঝেই খবর পেলাম তড়িঘড়ি করে কাকিমা উইলের প্রোবেটও নাকি নিয়ে ফেলেছেন।”
“তাই নাকি? কবে? কদ্দিন আগে?”
“কাকা গত হওয়ার মাসখানেকের মধ্যেই। জানুয়ারি মাসে।”
“আপনি জানলেন কোথা থেকে? অ্যালবার্ট…?”
হ্যারি ঈষৎ থতমত, “না… মানে… বোধ হয় অ্যালবার্টই…।”
“অ্যালবার্টের সঙ্গে আপনার খুব ভাব, তাই না?”
“ভাব বলতে আপনি কী বলতে চাইছেন বুঝলাম না।” হ্যারি ফের সপ্রতিভ, “অ্যাল মাঝে-মাঝে প্রোফেশনাল কারণে আমার কাছে আসে, দেখা-সাক্ষাৎ হলে কথাবার্তা বলি।”
“প্রোফেশনাল কারণটা কী?”
“অ্যাল এখন গাইডের কাজ করে। অফিশিয়াল লাইসেন্স ওর নেই, তবে চালাকচতুর ছেলে তো, যোগাযোগ ঠিক তৈরি করে ফেলে। আর ওই সব ফরেন টুরিস্টদের আমাদের হোটেলে এনে তুললে কিছু কমিশনও পায়।”
“ব্যস, এইটুকুই ব্যবসায়িক সম্পর্ক?” মিতিনের চোখ সরু, “নাকি হোটেল শিলটনের বেআইনি জুয়ার বোর্ডেও নিয়মিত আসে অ্যালবার্ট?”
হ্যারির শান্ত চোখ দু’টো আচমকাই জ্বলে উঠল। পরমুহূর্তে আবার হিমশীতল। কেটে-কেটে বলল, “আপনি কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন ম্যাডাম ডিটেকটিভ। ভদ্রতা করে কথা বলছি বলে যদি ভেবে থাকেন আপনি যা খুশি প্রশ্ন করবেন, তা হলে কিন্তু ভুল করছেন। আপনার একটি প্রশ্নেরও জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।”
“দেবেন না।” মিতিন কাঁধ ঝাঁকাল, “তবে বাইশে ডিসেম্বর রাতে অ্যালবার্ট চলে যাওয়ার পর আপনি সত্যি-সত্যি ঘুমোচ্ছিলেন, নাকি কাকার ঘরে গিয়ে সিন্দুকটা পরখ করছিলেন, এ ব্যাপারে পুলিশের কিন্তু যথেষ্ট সন্দেহ আছে।”
হ্যারি দু’-এক সেকেন্ড নিশ্চুপ। তারপর মুখে একটা ধূর্ত হাসি ফুটে উঠেছে, “গোড়াতেই একটা গলদ করে ফেললেন ম্যাডাম। অ্যাল চলে যাওয়ার পর আমি ঘুমোইনি, আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর অ্যাল গিয়েছে। সত্যি বলতে কী, অ্যাল কখন চলে গিয়েছিল, আমি জানিও না।”
“সরি। মানতে পারলাম না। আপনি ইচ্ছে করে আমাকে মিসগাইড করছেন।”
“যা খুশি ভাবতে পারেন। আমার কিছু যায়-আসে না।” হ্যারির স্বরে ওঠাপড়া নেই, “আগেই তো বললাম, ওই হিরেতে আমার যথেষ্ট অধিকার আছে। যদি নিয়ে থাকি, বেশ করেছি। পারলে খুঁজে বের করুন।”
“বেশ। দেখি চেষ্টা করে।” মিতিন উঠে পড়ল, “আজ তা হলে চলি মিস্টার আরাকিয়েল। আশা করছি শিগগিরই আমাদের আবার দেখা হবে।”
শিলটন হোটেল থেকে বেরিয়ে টুপুর বলল, “মিস্টার হ্যারি কিন্তু বেশ পিকিউলিয়ার, তাই না?”
মিতিন কী যেন ভাবছিল। অন্যমনস্কভাবে বলল, “কেন?”
“বা রে, যাকেই হিরে নিয়ে ক্রস করা হচ্ছে, সে-ই হাউমাউ করে উঠছে। একমাত্র মিস্টার হ্যারিরই কোনও হেলদোল নেই! কেমন বুক বাজিয়ে বলে দিলেন, নিয়ে থাকলে বেশ করেছি!”
“হুম।”
“তোমার কী ধারণা? মিস্টার হ্যারিই কালপ্রিট?”
“তোর কী মনে হচ্ছে?”
“আমার মনে হয়…” টুপুর মাথা চুলকোল, “হ্যারির সঙ্গে অ্যালবার্টের যোগসাজশ আছে। এই দুই মক্কেলের উপর রাউন্ড দ্য ক্লক নজর রাখলে হিরের হদিশ মিলতেও পারে। অবশ্য থ্রু অ্যালবার্ট যদি কোনও বিদেশির কাছে পাচার হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে আর কিছু করার নেই।”
“বলছিস?”
“হ্যাঁ গো। আমার মন বলছে সেরকমই কিছু ঘটেছে। এবং সেই কারণেই মিস্টার হ্যারি এত বেশি কনফিডেন্ট।”
“আর হিরের বদলে যে টাকাটা এল, সেটা মিস্টার হ্যারি কোথায় রাখতে পারেন?”
“জায়গার অভাব? হোটেলের লনেই তো পুঁতে রাখা যায়।”
“হুম।… নে, এবার একটা ট্যাক্সি ধর। বাড়ি গিয়ে আরতিকে ছাড়তে হবে।”
বিকেলবেলা থিয়েটার রোড থেকে ট্যাক্সি পেতে খুব অসুবিধে নেই। সিটে বসে টুপুর বলল, “মাটিতে টাকা পুঁতে রাখার থিয়োরিটা কি তোমার পছন্দ হল না?”
“অপছন্দ হল তো বলিনি।” মিতিন হাসল, “আমি কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। আবার একটা লাইন ধরে একবগ্গা ভাবতেও রাজি নই। তবে হ্যারির কাছে এসে একটা মস্ত লাভ হল।”
টুপুর চোখ কুঁচকোল, “কী লাভ?”
“প্রথমত, মানুষটাকে খানিকটা চেনা গেল। সেকেন্ডলি, অনেক ইনফরমেশনও মিলল।”
“কী ইনফরমেশন? আর্মেনিয়ানদের গল্প ?”
জবাব দেওয়ার আগেই মিতিনের মোবাইল বেজে উঠেছে। নম্বরটা দেখেই মিতিনের ভুরু জড়ো, “ইয়েস?”
ব্যস, আর কথা নেই মিতিনের মুখে, কানে যন্ত্র চেপে একটানা শুধু শুনে যাচ্ছে, মোবাইল অফ করার আগে একবারই মাত্র স্বর ফুটল, “ও কে।”
টুপুর আলগাভাবে জিজ্ঞেস করল, “কে গো?”
“মিস্টার কুরিয়েন।”
“আঁ? মিস্টার কুরিয়েন হঠাৎ? কী বলছেন?”
“বললেন, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডই আদতে একটি মহাশূন্য। কী বুঝলি?”
টুপুর ফ্যালফ্যাল করে তাকাল। কী যে হেঁয়ালি করে না মিতিনমাসি!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন