ষষ্ঠ অধ্যায়

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

টুপুর বাংলা খবরের কাগজটা ওলটাচ্ছিল। পার্থমেসো যতক্ষণ থাকে, কাগজ তো হাতে পাওয়ার উপায় নেই। বাথরুমেও নিয়ে যায় আজকাল, কমোডে বসে খবর মুখস্থ করে। এ ছাড়া শব্দজব্দ তো আছেই। চায়ে চুমুক দিতে-দিতে শব্দজব্দ, ভাতের গরাস মুখে তুলতে-তুলতে শব্দজব্দ, এমনকী বেরনোর আগে জুতো পরতে- পরতেও শব্দ মাথায় এলে টুক করে বসিয়ে দিচ্ছে ছকে। ভাগ্যিস আজ তাড়াতাড়ি প্রেসে ছুটল, নইলে থোড়াই এই সাড়ে ন’টায় কাগজ হাতে পেত টুপুর।

কিন্তু খবরের কী ছিরি! হাওড়ায় গুমখুন! পেরুতে ভূমিকম্প! ইরাকে বোমা বিস্ফোরণ! শ্যামনগরে রেল অবরোধ! উফ, একটাও কি সুসংবাদ থাকতে নেই? বেজার মুখে খেলার পাতায় গেল টুপুর। আছে, আছে! সানিয়া মির্জা জিতেছে কাল। সিনসিনাটি ওপেনে সানিয়া থার্ড রাউন্ডে উঠল। এক চেক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে।

টুপুর ঝুঁকে পড়তে শুরু করল খবরটা। তিন সেটের লড়াই হয়েছে। প্রথম সেটে হেরে গিয়েছেন সানিয়া, পরের দু’টো সেটে…।

আচমকাই মনঃসংযোগে ব্যাঘাত। মিতিনমাসি কথা বলছে মোবাইলে, “অ্যাম আই টকিং টু মিস্টার অ্যালবার্ট ডিসুজা?”

ব্যস, সানিয়া মির্জা মাথায়। টুপুর প্রায় চেঁচিয়ে বলতে যাচ্ছিল, তুমি অ্যালবার্টকে ফোন করছ… তার আগেই মিতিনমাসির আঙুল উঠে এসেছে ঠোঁটে। চুপ। এবং সঙ্গে-সঙ্গে অন করে দিয়েছে লাউড স্পিকার। টুপুর শুনতে পেল একটা তড়বড়ে গলা ইংরেজিতে বলছে, “ও আপনিই তা হলে কাল আমাদের ফ্ল্যাটে এসেছিলেন?”

“হ্যাঁ স্যার।” মিতিনের গলায় মধু ঝরছে, “আপনার বাবার সঙ্গে আলাপ হল। কী চমৎকার মানুষ…।”

“তো? আমাকে ফোন করছেন কেন?”

“একটা খবর দেওয়ার ছিল।” মিতিন ঝটিতি বলল, “হিরের সন্ধান পেয়ে গিয়েছি।”

এক সেকেন্ড বুঝি থমকে রইল গলাটা। তারপরই উচ্ছ্বাস উড়ছে, “পেয়ে গেলেন? এত তাড়াতাড়ি? কে নিয়েছিল?”

“নামটা বলা এখনই ঠিক হবে না। হিরে এখনও হাতে আসেনি। জাস্ট একটা স্টেপ বাকি।”

“ওহ!”

“আপনার কাছ থেকে শুধু একটা ইনফরমেশন চাই। তা হলেই হিরেটা লোকেট করে ফেলব।”

“কী বলুন তো?”

“ফোনে বলা যাবে না। আপনার সঙ্গে যদি একবার দেখা করা যায়…।”

“কখন?”

“যদি আজ দুপুরে সময় দেন…।”

“কিন্তু আমি যে আজ হোল-ডে বিজি।”

“মাঝে কি একটু টাইম বের করা যায় না?”

“এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কেন বলুন তো? খুব ফিশি মনে হচ্ছে!”

“গোটা ব্যাপারটাই তো ফিশি মিস্টার ডিসুজা। আমার মনে হয়, আপনিও চান হিরেটা এখনই উদ্ধার হোক। আফটার অল আপনাকেও তো কম হ্যারাসড হতে হয়নি।”

“তা ঠিক। জেসমিনকেও একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার। মহারানির স্পর্ধা কত, অ্যালবার্ট ডিসুজাকে কিনা চোর ভাবে!” গলাটা একটু থেমে আবার বেজে উঠেছে, “একটা কথা বলুন তো। জেসমিনই কি হিরেটা হাতিয়েছে?”

“দেখা হলে সব জানতে পারবেন। তা হলে কখন আমরা মিট করছি?”

“এক কাজ করুন। দেড়টা… না না, দু’টো নাগাদ চলে আসুন।”

“কোথায়?”

“ভিক্টোরিয়ার সাউথ গেটে।”

“ফাইন। আমি পৌঁছে যাব।”

মোবাইল অফ করে মিতিন বলল, “ তা হলে আমরা দেড়টায় রওনা দিই, কী বল?”

টুপুর ভুরু কুঁচকে বলল, “সে নয় যাওয়া যাবে। কিন্তু তুমি এত কায়দা করে ডাকলে কেন?”

“জাস্ট একটু ভাঁজ মেরে নিলাম। নইলে থোড়াই রাজি হত।”

“তাও… তোমাকে গিয়ে তো হিরের ব্যাপারে কিছু একটা বলতে হবে।”

“তখনকার কথা তখন ভাবব’খন। যা, সকাল-সকাল স্নানটা সেরে নে।”

তক্ষুনি-তক্ষুনি অবশ্য উঠল না টুপুর। হাতে এখনও অনেক সময়, খেলার পাতাটা পড়ল খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে। তারপর গিয়ে উঁকি দিয়েছে রান্নাঘরে। আজ চিতল মাছের গাদা এনেছে পার্থমেসো। সাবধানে কাঁটা ছাড়াচ্ছে আরতিদিদি, মুইঠা বানাবে। ওয়াও! তাক থেকে বয়াম পেড়ে টুপুর কুলের আচার বের করল খানিকটা। চাখতে-চাখতে বুমবুমের সঙ্গে খুনসুটি চালাল কিছুক্ষণ। খুব টিনটিন পড়ার নেশা হয়েছে বুমবুমের, ছোঁ মেরে বইটা কেড়ে নিতেই সে কী চিলচিৎকার! ইতিমধ্যে হাতিবাগান থেকে মা’র ফোন এসে গেল। মিতিনমাসির কাছে টুপুরের সারাদিনের রুটিন জানতে চাইছেন মা। এর পরই তার ডাক পড়বে টের পেয়ে টুপুর সটান বাথরুমে।

স্নান করতে-করতে হঠাৎই মাথায় ফিরে এল হিরে চুরির ঘটনাটা। কুরিয়েনকেই যদি সন্দেহ মিতিনমাসির, তা হলে আবার অ্যালবার্টকে ডাকাডাকি কেন? মিস্টার আরাকিয়েলের কাছে একা থাকাই যদি বিচার্য হয়, নির্মলা মেরি বিশ্বাস তবে ছাড় পায় কোন হিসেবে? হিরে সরিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে রাখা নির্মলার পক্ষে কী এমন কঠিন কাজ! হিরের তো লয়ক্ষয় নেই, কম্পাউন্ডেই কোথাও মাটিতে পুঁতে রাখলে কে খোঁজ পাবে? রান্নাঘরের কৌটোবাটায় থাকলেই বা দেখছে কে? আটা-ময়দার লেচিতেও তো হিরেটা পুরে রাখা যায়। তারপর কোনও একদিন মওকা বুঝে কেটে পড়লেই ব্যস, দু’ কোটি টাকার মালকিন। উঁহু, নির্মলাকেই ভাল করে চেপে ধরা উচিত।… বাহাদুরকেই বা ধর্তব্যের মধ্যে আনছে না কেন মিতিনমাসি? সেদিন রাত দু’টোর পর বাহাদুর কি একবারও দোতলায় ওঠেনি? সারারাত দরজা খোলা… কেউ এ ঘরে নিদ্রায়, কেউ ও ঘরে… তখন যদি বাহাদুর…? নাহ, মাথা খারাপ করে লাভ নেই। দেখাই যাক না, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

পাক্কা দুপুর দু’টোয় টুপুররা পৌঁছে গেল ভিক্টোরিয়ায়। চড়া রোদে পুড়ছে পৃথিবী। ট্যাক্সি থেকে নেমেই মাসি-বোনঝি দেখতে পেল, ভিতরের নুড়ি ছড়ানো পথ ধরে বাইরে আসছে এক বিচিত্ৰদৰ্শন মানুষ। চেহারায় নয়, সাজপোশাকে। টাইট জিনসে অজস্র তাপ্পি, ঢোল্লা টি-শার্টে রামধনু রং ঝিকমিক। বয়স তিরিশ- পঁয়ত্রিশ। থুতনিতে ছাগলদাড়ি। চোখে সবজেটে সানগ্লাস। চুল সজারু-কাঁটার মতো খাড়া-খাড়া।

টুপুর অস্ফুটে বলল, “অ্যালবার্ট নাকি?”

“মনে হচ্ছে।” মিতিন মোবাইলের বোতাম টিপল, “দাঁড়া, ভেরিফাই করে নিই।”

মোক্ষম কৌশল। বিচিত্ৰদৰ্শন এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল, হঠাৎই পকেট থেকে সেলফোন বের করে নম্বর দেখতে লাগল।

সঙ্গে-সঙ্গে মিতিন হাত তুলল, “হাই। আমি এখানে।”

কাঁধ দোলাতে-দোলাতে এগিয়ে এল অ্যালবার্ট। সানগ্লাস খুলে টুপুরকে একবার দেখে নিয়ে মিতিনকে বলল, “আপনিই মিসেস ডিটেকটিভ?”

“ইয়েস। …চলুন না, ছায়ায় গিয়ে কথা বলি।”

আপত্তি করল না অ্যালবার্ট। তবে শিরীষগাছের নীচে সরে এসে বলল, “আমার কিন্তু হাতে সময় নেই। ভিতরে টুরিস্ট আছে।”

“জাস্ট দু’-চার মিনিট।” মিতিন অল্প হাসল, “একটা-দু’টো পয়েন্ট মিলিয়ে নিয়েই আপনাকে ছেড়ে দেব।”

“কী পয়েন্ট?”

“জেসমিন সেদিন সারারাত কী করছিল?”

“আগেই ধরেছিলাম, সরষের মধ্যে ভূত!” অ্যালবার্ট খসকুটে- মার্কা দাড়িতে হাত বোলাল, “নইলে আমার পিছনে ও পুলিশ লেলায়!”

“বলুন,বলুন। মনে করে-করে বলুন। আপনার উপরেই কিন্তু সব নির্ভর করছে। কিছু মিস করবেন না।”

“আমার নিখুঁত স্মরণে আছে। নির্মলা এসে ডেথ-নিউজটা দিতেই বাবা হাউমাউ করে উঠলেন। তাঁকে নিয়ে গেলাম দোতলায়। জেসমিন তখন…” অ্যালবার্ট নাক-চোখ-মুখ একসঙ্গে কুঁচকোল, “ইয়েস, জেসমিন তখন জোসেফ আঙ্কলের মাথার পাশে। ফোঁচ-ফোঁচ করে ন্যাকাকান্না কাঁদছে। দৃশ্যটা সহ্য হচ্ছিল না, বাবাকে নীচে পৌঁছে দিয়ে ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসেছিলাম। হ্যারি আসার পর আবার ঢুকলাম আঙ্কলের ঘরে।”

“মিস্টার হ্যারি এলেন কখন?”

“অ্যারাউন্ড টুয়েল্‌ভ। জেসমিন তখন আন্টিকে সান্ত্বনাবাক্য শোনাচ্ছে।”

“তারপর জেসমিন কী করল?”

“অনেকক্ষণ তো বসেই ছিল ওখানে। তারপর তো আন্টিকে নিজের রুমে নিয়ে গেল।”

“তখন ক’টা বাজে?”

“রাত পৌনে দু’টো… দু’টো…।”

“আর তো রাতে জেসমিনকে দেখেননি?”

“উঁহু, একবার যেন দেখেছিলাম। কখন যেন… কখন যেন…?”

“ভাল করে মনে করুন। স্টেপ বাই স্টেপ।”

“ওয়েট, ওয়েট। ওরা যাওয়ার পর তো আমি আর হ্যারি এলাম লাইব্রেরিরুমে। আঙ্কলের সৎকার নিয়ে হ্যারির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। হ্যারির মাথা ধরেছিল খুব, নির্মলাকে কফি বানাতে বলল। নির্মলাও গেল কিচেনে।”

“তখন নিশ্চয়ই মিস্টার আরাকিয়েলের বডির পাশে কেউ নেই?”

“নো, নো। কুরিয়েন আঙ্কল ছিলেন তো। উনি তো কফি খেয়ে নীচে গেলেন।”

“আর আপনারা? লাইব্রেরিরুমে রইলেন?”

“উঁহু, আমরা তো তখন ড্রয়িংরুমে। ইনফ্যাক্ট, কফিটাও তো খেলাম ড্রয়িংরুমে বসে। হ্যারি ল্যান্ডলাইন থেকে পরপর ফোন করছিল যে। রিলেটিভদের।”

“অত রাতে আত্মীয়দের ফোন?”

“নট ইন দিস কান্ট্রি ম্যাম। অস্ট্রেলিয়ায়, স্টেট্‌সে, আর্মেনিয়ায়…। গোটা বিশ্বেই তো ওদের আত্মীয় ছড়ানো।” অ্যালবার্ট ডিঙি মেরে ভিক্টোরিয়ার গেটের ওপাশটা দেখে নিল। ফের ডুব দিয়েছে স্মরণে। দু’দিকে মাথা নেড়ে বলল, “নাহ, ওই সময় জেসমিন আসেনি।”

“তা হলে?”

“ফোনটোন সেরে কিছুক্ষণ পর আবার আমরা জোসেফ আঙ্কলের কাছে গেলাম। হ্যারি ছেলেবেলার গল্প বলছিল। রিগার্ডিং জোসেফ আঙ্কল। শুনছিলাম। রেসের মাঠে যাওয়ার আগে জোসেফ আঙ্কল নাকি একবার হ্যারিদের বাড়ি যেতেনই। হ্যারি নাকি আঙ্কলের গুডলাক ছিল…।”

“হ্যারিরা বরাবরই আলাদা থাকতেন নাকি?”

“শুনেছি বিয়ের পরই হ্যারির বাবা কারনানি ম্যানশনে চলে যান।”

“কেন?”

“দ্যাট আই কান্ট সে। আমার অন্যের ব্যাপারে জানার অত কিউরিওসিটি নেই।”

“বেশ। তারপর কী হল?”

“নির্মলাও শুনছিল গল্প। আমরা ওকে নিজের রুমে গিয়ে রেস্ট নিতে বলেছিলাম…। যায়নি। দেন… হ্যারি আবার একবার কফি চাইল। সেকেন্ড টাইম কফি দিয়ে নির্মলা অবশ্য আর বসেনি, রুমে চলে যায়।”

“তখন বুঝি জেসমিনকে দেখলেন?”

“ইয়েস, ইয়েস। তখনই তো…। আমরা ড্রয়িংরুমে গেলাম সিগারেট খেতে। সেই সময়েই জেসমিন ড্রয়িংরুমে একবার উঁকি দিয়েছিল। আমি আছি দেখেই বোধ হয় আর ভিড়ল না, চলে গেল।”

“তখন টাইম কত?”

“জোসেফ আঙ্কলের রুমে বসে কফি খেলাম অ্যারাউন্ড পৌনে চারটে। কফি শেষ করে হ্যারি আমার কাছে সিগারেট চাইল। আমি প্যাকেট নিয়ে যাইনি… নীচে গেলাম আনতে। ফিরেছিলাম বোধ হয় মিনিট পনেরো পর।”

“অতক্ষণ লাগল কেন?”

“পেটটা একটু আপসেট লাগছিল। টয়লেটে গিয়েছিলাম।” লজ্জা-লজ্জা মুখে হাসল অ্যালবার্ট, “ফিরে ড্রয়িংরুমে বসি। উইথ হ্যারি। অর্থাৎ ধরুন… তখন চারটে বেজেছে। তারপর তো হ্যারি সোফায় হেলান দিল, আমিও নীচে এসে শুয়ে পড়লাম।”

“আবার কখন গেলেন দোতলায়?”

“বেশ লেটেই। তখন উপরে বাড়িভর্তি লোক। আঙ্কলকে পিস হ্যাভেনে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে।” বলেই অ্যালবার্টের চটজলদি প্রশ্ন, “কী বুঝলেন? জেসমিনই হিরেটা সরিয়েছে তো?”

“পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেল না।” মিতিনের স্বর সহসা বদলে গিয়েছে। ঈষৎ রুক্ষভাবে বলল, “আপনি কিন্তু কিছু একটা বাদ দিয়ে গেলেন অ্যালবার্ট।”

“কখনও না। নেভার।” অ্যালবার্ট জোরে-জোরে ঘাড় নাড়ছে, “সব তো বললাম, ইন ডিটেল।”

“উঁহু। একটা খিঁচ রয়েই যাচ্ছে।” মিতিনের চোখ সরু, “ওয়ান অফ ইওর অ্যাকশনস ইজ মিসিং।”

“বিলিভ মি, দ্যাট নাইট যা যা করেছি, সব বলেছি। আপ অন গড। মিথ্যে বললে আমার জিভ খসে পড়বে।”

মিতিন একটুও গলল না। একই সুরে বলল, “কী খসবে দেখতেই পাবেন। একটা কথা ভুলবেন না, সাসপেক্ট লিস্টে আপনার নামটা কিন্তু একেবারে উপরের দিকে।”

“কী অন্যায় কথা! কেন?”

“কারণ, হিরে হাতানোর সুযোগ আপনি পেয়েছিলেন। এবং সেটি পাচার করা আপনার পক্ষেই সবচেয়ে সহজ।”

“ও গড, কেস যে পুরো উলটে গেল!” অ্যালবার্ট কটমট তাকাল, “আমাকে ফাঁসানোর জন্যই ডেকেছেন নাকি?”

“ফাঁসার মতো কাজ করে থাকলে তো ফাঁসবেনই।” মিতিনের স্বর আরও কঠিন, “শেষরাত্তিরে সিন্দুকটা খুলেছিলেন কেন, অ্যাঁ?”

“আ-আ-আ-আ-আমি?”

“হ্যাঁ। আপনিই। অবাক হওয়ার ভান করবেন না।” মিতিন চাপা গলায় ধমক দিল, “শুনুন, যেসব বিদেশিকে নিয়ে আপনি ঘোরেন, তাদের কাউকে হিরেটা পাচার করেছেন কিনা সেটা কিন্তু আপনাকেই প্রমাণ করতে হবে। অবশ্য এক্ষুনি নয়। পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করার পর।”

“পুলিশ আমায় অ্যারেস্ট করবে?”

“জবাব না দিয়ে টুপুরকে টানল মিতিন, “চল।”

অ্যালবার্ট কাতর স্বরে বলল, “বিশ্বাস করুন, হিরে আমি নিইনি। আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভবই ছিল না।”

মিতিন ঘুরে তাকাল, “কেন?”

অ্যালবার্টের মুখে আর বাক্য নেই। মাথা ঝাঁকাচ্ছে, দু’ হাত নাড়ছে, কিন্তু আর স্বর ফুটছে না। ছিলেছেঁড়া ধনুকের মতো ছিটকে দূরে চলে গেল, পরক্ষণে ভিক্টোরিয়ার গেট পেরিয়ে অন্দরে। হনহনিয়ে হাঁটছে, আর তাকাচ্ছে ঘুরে-ঘুরে।

টুপুর ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখে মিতিনকে দেখছিল। বিড়বিড় করে বলল, “তুমি তা হলে মিষ্ট্রি সল্‌ভ করে ফেলেছ? কুরিয়েন নয়, এই অ্যালবার্টই…?”

“ধীরে বালিকা, ধীরে।” মিতিনের দৃষ্টিতে রহস্যের ঝিলিক, “কলি সবে সন্ধে পেরিয়ে রাত্তিরে পা রাখল। ভোর হতে এখনও ঢের বাকি।”

“সত্যি করে বলো তো, তুমি কাকে সন্দেহ করছ?”

“প্রায় সবাইকেই।” মিতিন হাসল, “আমিও এখন মইসাহেবের দলে।”

“ও বলবে না?” টুপুর ঈষৎ আহত, “এখন তবে কী কৰ্তব্য? গৃহে প্রত্যাবর্তন?”

“উঁহু। এবার হোটেল শিলটন। মিশন হ্যারি।”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%