বিপরীত বিহার

হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

‘ওয়াও!’

বিস্ময়সূচক শব্দটা কানে যেতেই পিছনে ফিরে তাকাল অগ্ণিভ৷

সাদা চামড়ার এক বিদেশী পর্যটক বিমুগ্দ-বিস্মিতভাবে তাকিয়ে আছে মন্দিরগাত্রের একটা প্যানেলের দিকে৷ তার পরনে ঘামে ভেজা টি-শার্ট, খাঁকি হাফ-প্যান্ট, পায়ে সাদা স্নিকার৷ তার পেটের কাছে ঝুলছে একটা ছোট পাউচ ব্যাগ, আর হাতে ধরা লম্বা একটা ক্যামেরা৷

এখানের চারপাশের ছোট-বড় সব মন্দিরগুলোতে, মিথুন ভাস্কর্য্যের ছড়াছড়ি৷ এ মন্দিরটাও তার ব্যতিক্রম নয়৷ যে কারণে বহু বিদেশী পর্যটক ভারতবর্ষের এই প্রাচীন নগরী দেখতে আসে৷

লোকটার দৃষ্টি অনুসরণ করে অগ্ণিভ তাকাল হাজার বছরের প্রাচীন মন্দিরের দেওয়ালের গায়ে সেই প্যানেলটার দিকে৷ মিথুন ভাস্কর্য্য খোদিত আছে সেখানেও৷ পুরুষের ওপর সঙ্গম ভঙ্গীমায় নারী—‘উওমেন অন দ্য টপ’৷—বিপরীত বিহার৷

প্যানেলটার দিকে তাকিয়েই মুহূর্তের মধ্যেই সে ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল অগ্ণিভর৷ সুদেষ্ণার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের সূত্রপাত তো সে ঘটনা থেকেই৷ ব্যাপারটা মনে পড়ে যেতেই চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল৷ প্যানেলটার দিকে তাকিয়ে অগ্ণিভর চোখে ভেসে উঠল সেদিনের সেই দৃশ্য—তার দেহের ওপর উদ্যত সুদেষ্ণা...

‘হাই? আপনাদের দেশটা বড় অদ্ভুত তাই না?’

প্রশ্ণটা শুনে চিন্তাজাল ছিন্ন হল অগ্ণিভর৷ সেই বিদেশী লোকটা নীল চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে৷

অগ্ণিভকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে লোকটা এরপর বলল, ‘আমার নাম রবার্ট৷ ফ্রান্স থেকে এসেছি৷ বলছি যে তোমাদের দেশটা বড় অদ্ভুত তাই না?’

অগ্ণিভ এবার হেসে বলল, ‘তোমার এমন মনে হচ্ছে কেন? এই মিথুন ভাস্কর্যগুলো দেখে?’

রবার্ট নামের পর্যটক বলল, ‘হ্যাঁ, এ ভাবনার পিছনে অবশ্যই এটা একটা কারণ৷ আমি বেশ কিছুদিন ধরে আমার দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছি তোমাদের দেশে৷ তাতে যতটুকু দেখেছি, বুঝেছি, যৌনতার ব্যাপারে তোমরা অনেক সংরক্ষণশীল৷ বিশেষত আমাদের ইউরোপীয়নদের তুলনায় তো বটেই৷ তোমাদের গ্রামের মহিলাদের তো এখনও কাপড়ে মাথা-মুখ ঢাকতে দেখা যায়৷ আর সেদেশের মন্দিরের গায়ে এমন যৌনদৃশ্য! তা-ও আবার হাজার বছরের প্রাচীন!’

অগ্ণিভ হেসে বলল, ‘তা বটে৷’

রবার্ট এরপর জানতে চাইল, ‘তুমি কি টুরিস্ট? নাকি এখানেই থাকো? মন্দিরের ভিতরে ঢুকেছ? ওখানে কি যৌন ভাস্কর্য্য আছে?’ অগ্ণিভ বলল, ‘হ্যাঁ, ট্যুরিস্টই বলতে পারো৷ কলকাতা থেকে এসেছি৷ মন্দিরের ভিতরে ঢুকিনি৷ ঢুকতে যাচ্ছিলাম৷ তোমাকে দেখে দাঁড়ালাম?’

রবার্ট বলল, ‘তবে একসঙ্গেই চলো৷ তুমি এদেশের লোক৷ যদি আমার কিছু জানার থাকে তবে হয়তো বা তুমি তা বুঝিয়ে দিতে পারবে৷’ এ-মন্দির বা এসব জায়গা সম্বন্ধে তেমন কিছু জ্ঞান নেই অগ্ণিভর৷ এখানে আসার পর সে একটা কয়েক পাতার চটি বই কিনেছিল৷ সে বইতে জায়গাটা সম্বন্ধে যতটুকু লেখা আছে সেটাই তার এ জায়গা সম্বন্ধে জ্ঞান৷ তবে লোকটার সঙ্গে থাকলে কথাবার্তা তো বলা যাবে৷ তার একাকীত্ব তো কিছুটা কাটবে৷ সে জন্য সে বলল, ‘হ্যাঁ, চলো, যাওয়া যাক৷’

লোকটা সেই প্যানেলটার বেশ কয়েকটা ছবি তুলল, তারপর প্রবেশ করল মন্দিরের ভিতর৷

এ মন্দিরের ভেতরও চারপাশের দেওয়ালে, স্তম্ভে শুধু যৌন-ভাস্কর্যই খোদিত আছে৷ তবে এখানে মিথুন-ভাস্কর্যর মধ্যে যেন প্রাধান্য পেয়েছে ‘উওমেন অন দ্য টপ৷’ একটার পর একটা ঘর, অলিন্দ সর্বত্রই খালি বিভিন্ন ভঙ্গিমার বিপরীত বিহারের দৃশ্য৷ একের পর এক বিপরীত বিহারে মূর্তিগুলো দেখতে দেখতে আর ছবি তুলতে তুলতে অনেকটা স্বগোতক্তির স্বরেই তাদের নামগুলো বলে যেতে লাগল রবার্ট— ‘জয়স্টিক-জয়রাইভ, বাকিং ব্রঙ্ক, লাভ সিট, প্যাশন পাইথন, অক্টোপাস...

অগ্ণিভ বলল, ‘তোমার এ নিয়ে বেশ জানা আছে দেখছি!’

রবার্ট একটা ভাস্কর্যর দিকে লেন্স তাক করে শাটার টিপে বলল, ‘হ্যাঁ, এসব ভাস্কর্যর ছবি তুলতে আমার ভালো লাগে৷ সেজন্য একটু-আধটু পড়াশোনাও করতে হয়৷ তবে এখানে না এলে আমার একটা ভুল ধারণা ভাঙত না৷’

‘কী ধারণা?’ প্রশ্ণ করল অগ্ণিভ৷

অলিন্দ বেয়ে ক্যামেরা কাঁধের ওপর তুলে ধরে এগোতে-এগোতে রবার্ট জবাব দিল, ‘এই ‘‘উওমেন অন দ্য টপ’’ পশ্চারটা সম্বন্ধে ইউরোপীয়নরা দাবি করে যে, এটা নাকি তাদেরই উদ্ভাবন৷ ইউরোপ থেকেই সঙ্গমের এই পদ্ধতি নাকি পৃথিবীর অন্য মহাদেশে ছড়িয়েছে৷ এখানে এসে বুঝলাম, সে ধারণা ভুল৷ এই মিথুন-ভঙ্গিমাও তোমাদের হাজার বছরের প্রাচীন যৌন ক্রীড়ার অঙ্গ৷’

এ কথা বলার পর রবার্ট বলল, ‘এই যৌন ভঙ্গিমাকে অনেকে নারীর স্বাধীনতার চূড়ান্ত রূপ হিসাবেও দেখে৷ মনের ইচ্ছার স্বাধীনতা, বিশেষত যৌন স্বাধীনতাই তো তার চূড়ান্ত স্বাধীনতা৷ এ-ভঙ্গিমাতে কিন্তু নারী সুপিরিওর হিসাবে ডমিনেট করে পুরুষকে৷ অর্থাৎ হাজার বছর আগে প্রাচীন ভারতবর্ষে যে নারীর যৌন স্বাধীনতা ছিল তার প্রমাণ এই মূর্তিগুলো৷ তবে তোমাদের পবিত্র মন্দিরের গায়ে এই মিথুন-ভাস্কর্য কেন, এ ব্যাপারে কিছু জানো? আমাদের দেশের ধর্মস্থানগুলোর চত্বরে রেনেসাঁ আমলের শ্বেত পাথরের নারী-পুরুষ বা প্রাচীন কিছু দেব-দেবীর নগ্ণ ভাস্কর্য থাকলেও সেসব মিথুন ভাস্কর্য নয়৷’

এতক্ষণ পর অগ্ণিভর সেই হ্যান্ডবুকটা পড়া কাজে লাগল৷ সে বলল, ‘দেবস্থানে এ মিথুন-ভাস্কর্য রচনার পিছনে তিনটে কারণ অনুমান করা হয়৷ প্রথমত, সে-সময়ের লোকদের নাকি বিশ্বাস ছিল যে, মন্দিরগাত্রে মিথুন-মূর্তি থাকলে নাকি মন্দিরে বজ্রপাত হবে না৷

দ্বিতীয় মত হল, আসলে মানবজীবনের আকাঙ্ক্ষাগুলোর মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষাই সবচেয়ে সত্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে৷ যা সত্য তাই সুন্দর৷ একটা কথা আছে—‘সত্যম শিবম সুন্দরম৷’ যা সত্যি, তাই সুন্দর, তা-ই শিব৷ এ-মন্দিরগুলো কিন্তু সেসময় শিবমন্দির-ই ছিল৷

আর তৃতীয় অনুমানটা একটু দুর্বল, যুক্তির দিক থেকে৷ নারীসঙ্গহীন ক্রীতদাস ভাস্কররা নাকি এই মূর্তিগুলো নির্মাণ করে তাদের অতৃপ্ত যৌন বাসনা চরিতার্থ করত৷ কিন্তু রাজনির্দেশ ছাড়া কি ক্রীতদাস ভাস্করদের পক্ষে স্বাধীন ভাবনা নির্বাচন সম্ভব ছিল? এসব ভাস্কর্য নির্মাণের সময় জীবন্ত মডেল সামনে রাখা হত বলে অনুমান৷ রাজ-অনুগ্রতেই যা সরবরাহ হত৷ কাজেই রাজার ইচ্ছাই ছিল শেষ কথা৷ তাদের ইচ্ছাতেই নির্মিত হয়েছিল এসব যৌন ভাস্কর্য৷’

কথা বলতে বলতে তারা দুজন প্রবেশ করল মন্দিরের পিছনদিকের একটা ঘরে৷

লম্বাটে একটা ঘর৷ তার ঠিক মাঝখানে এক অংশের দেওয়ালের কিছুটা তফাতে পাথুরে মেঝের ওপর রয়েছে প্রাচীন পাথরের তৈরি লম্বা বেঞ্চের মতো সরু একটা বসার জায়গা৷ দৈর্ঘ্যে ছ’ফিট হবে৷ আর তার মাথার কাছে হাত-দুই ওপরে ভাতের থালার মতো আকৃতির একটা ছিদ্র বা জানলা৷ সেখান দিয়ে আলো ঢুকছে ভিতরে৷ মাথার ওপরের ছাদেও একটা চওড়া ফাটল৷ আলো আসছে সেখান দিয়েও৷

তবে ছাদের ফাটলটা দেওয়ালের নিটোল গোলাকার ছিদ্রর মতো সে সময়ের মানুষের হাতে তৈরি করা নয়৷ হাজার বছর ধরে অসংখ্য ঝড়-ঝঞ্ঝায় মহাকালের নখের আঁচড়ে সৃষ্ট হয়েছে সে ফাটল৷ কপাটহীন সেই প্রাচীন কক্ষে প্রবেশ করে ঘরের মাঝখানে বেঞ্চের মতো লম্বাটে বেদিটার দিকে তাকানোর পর ঠিক উল্টোদিকের দেওয়ালে তাকিয়ে রবার্ট আবার বিস্মিতভাবে বলে উঠল, ‘ওয়াও!’

অগ্ণিভও তাকাল সেই দেওয়ালটার দিকে৷ তারপর সেই দেওয়ালের সামনে গিয়ে দাঁড়াল৷ সেখানে দেওয়ালের গায়ে খোদিত আছে সঙ্গমরত নারীপুরুষের মূর্তি৷ মানুষের মতোই পূর্ণ অবয়ব তাদের৷ বিপরীত বিহার যৌন সঙ্গম৷ একটা লম্বাটে বেদির ওপর শুয়ে আছে পুরুষ৷ তার ওপর নারী৷

দুটো মূর্তিই যেন জীবন্ত৷ উদ্দাম উচ্ছাসে যৌন ক্রীড়ার মুহূর্তে যেন হঠাৎ-ই পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়েছে তারা দুজন৷ গভীর নাভি, তানপুরা নিতম্ব সেই নারীর শঙ্খের মতো উদ্ভিন্ন স্তনদুটো ছলকে উঠছে আকাশের দিকে৷ নারীর যোনীর মধ্যে প্রোথিত পুরুষের উন্মুখ লিঙ্গটার অন্ডকোষ সংলগ্ণ কিছুটা অংশ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে৷ অগ্ণিভরা মুহূর্তের জন্য চোখ বুজলেই যেন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই মূর্তিদুটো৷ ছন্দবদ্ধরমন শুরু হবে৷ নাচতে থাকবে নারীর স্থূল নিতম্ব, পিনন্বত স্তনযুগল৷ ছন্দবদ্ধভাবে কখনও লিঙ্গমূল দৃশ্যমান হবে৷ পরক্ষণেই আবার হারিয়ে যাবে৷

বেশ কিছুক্ষণ সঙ্গমমূর্তির দিকে বিস্মিতভাবে তাকিয়ে রইল তারা দুজন৷ এত জীবন্ত এই পুরুষ ও নারীমূর্তি! তাদের জীবন্ত মনে হবার কারণ অবশ্য এরপর কিছুটা বুঝতে পারল অগ্ণিভ৷ দেওয়ালগাত্র থেকে বেড়িয়ে আসা নারীমূর্তিটার স্তন আর নিতম্বে হাত পড়ে পড়ে মসৃণ হয়ে গেছে৷ চক্চক্ করছে সেগুলো৷ যেন রমন ক্রিয়া চলার সময় অঙ্গগুলো যেমন ঘেমে উঠে চক্চক্ করে তেমনই ঘেমে উঠেছে শরীরেই ওই অংশগুলো৷

যারা এঘরে আসে তারা নিশ্চয়ই হাত বোলায় নারীমূর্তির ও জায়গা গুলোতে৷ এমনকী তার নাভিতেও৷ তাই পাথর এত মসৃণ হয়ে গেছে যে, মনে হচ্ছে দেহটা রক্ত-মাংসের-ই তৈরি৷ এখানেই মন্দিরগুলোতে অনেক পর্যটককেই নারীমূর্তিগুলোর স্তন নিতম্বে হাত বোলাতে দেখেছে অগ্ণিভ৷ একটা মন্দিরে তো এক বিদেশিনীকে পুরুষ মূর্তির লিঙ্গ ধরে ছবিও তুলতে দেখেছিল অগ্ণিভ৷

আজ সারা দিন ধরে নানা মন্দিরে অসংখ্য মিথুনমূর্তি, নগ্ণ নারীমূর্তি দেখেছে অগ্ণিভ৷ কিন্তু এই প্রথম যেন এই সঙ্গমমূর্তির দিকে তাকিয়ে যৌন উত্তেজনা অনুভব করল অগ্ণিভ৷ কিন্তু পরক্ষণেই তার চোয়াল আবার ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে উঠল৷ ঠিক এভাবেই তো অগ্ণিভ শেষ বারের জন্য মিলিত হয়েছিল সুদেষ্ণার সঙ্গে৷ হুবহু একইভাবে! আর তারপর...

‘উওম্যান অন দ্য টপ’-এর এই ভঙ্গির নাম জানো তুমি? এর নাম ‘সুপারনোভা’৷

নামটা জানা ছিল না অগ্ণিভর৷ রবার্টের কাছেই শুনল যে৷

রবার্ট এরপর বলল, ‘হানা এই পশ্চারটা খুব পছন্দ করে৷ তোমার পার্টনার করে?’—এই বলে সে তার ক্যামেরায় ছবি নিতে শুরু করল সেই সঙ্গম-মূর্তির৷

প্রশ্ণটা একান্ত ব্যক্তিগত৷ সাধারণত সদ্য পরিচিত কেউ কাউকে এ-প্রশ্ণ করে না৷ তবে রবার্টরা মনে হয় এসব খোলাখুলি আলোচনা করতেই অভ্যস্ত৷ যৌনতা নিয়ে আলোচনা করতে খুব একটা ট্যাবু নেই ওসব দেশে৷ খুব স্বাভাবিকভাবেই কথাটা জানতে চাইল রবার্ট৷ অগ্ণিভর মুখ দিয়ে প্রায় বেরিয়েই যাচ্ছিল, ‘হ্যাঁ, একজন ছিল যে খুব পছন্দ করত এটা৷ কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে নিজেকে সংযত করে বলল, ‘আমার কোনও বেড পার্টনার নেই৷ হানা কে?’

ছবি তোলার পর জবাবটা শুনে যেন বেশ বিস্মিত হল রবার্ট৷ সে প্রথমে বলল, ‘পার্টনার নেই! যোগাড় করো৷ জীবন আজ আছে কাল নেই৷ তার আগে জীবনটা উপভোগ করো৷ জীবনের সব চেয়ে উপভোগ হল এ জিনিসটা৷ এর পর রবার্ট বলল, ‘হানা হল আমার গার্লফ্রেন্ড৷ সাতজনের দলের সঙ্গে আমরা দুজনও এসেছি এখানে আজ দুপুরে৷ এখানে এত গরম জানা ছিল না৷ ক্লান্ত হয়ে হোটেলের এসিতে বসে আছে সবাই৷ হানাও আছে৷ কৌতূহল চাপতে না পেরে আমি শুধু ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি৷’

সে দেওয়াল ছেড়ে, এরপর তারা দুজন গিয়ে দাঁড়াল সেই থালার মতো জানলা বা ছিদ্রলা দেওয়ালটার সামনে৷ প্রথমে রবার্ট, তারপর অগ্ণিভ বাইরে তাকাল সেই ছিদ্র দিয়ে৷ প্রায় ছ’টা বাজতে চলেছে কিন্তু তখনও বাইরে বেশ রোদ আছে৷ এটা মন্দির চত্বরের একেবারে পেছনের অংশ৷ বাইরে অনেকটা দূরে বেশ খানিকটা জায়গা নিয়ে একটা বেদিমতো জায়গা দেখা যাচ্ছে৷ হয়তো কোনও সময় ওটা কোনও মন্দির-বেদি ছিল৷ মন্দিরটা এখন নিশ্চিহ্ণ হয়ে গেছে, বেদিটাই শুধু রয়েছে৷ এরকম আরও কয়েকটা বেদি এর আগে দেখেছে অগ্ণিভ৷ হয়তো বা তার ওপরের পুরো মন্দিরটাই নিশ্চিহ্ণ হয়ে গেছে বা একটা স্তম্ভ বা দেওয়াল তার ওপর কোথাও দাঁড়িয়ে আছে৷

বাইরেটা দেখার পর রবার্ট বলল, ‘চলো, এবার তবে ফেরা যাক?’

অগ্ণিভর হোটেলে ফেরার কোনও তাড়া নেই৷ আর ঘরে ফিরলেই তো বিষণ্ণ্তা ঘিরে ধরবে তাকে৷ সূর্য ডুবতে আরও কিছুটা দেরি৷ এ-ঘরটা বেশ ঠান্ডা৷ সারাটা দিন এ-মন্দির, সে-মন্দির ঘুরে বেড়াচ্ছে অগ্ণিভ৷ এখানে ধীরে-সুস্থে একটু জিরিয়ে নিয়ে তারপর ফিরবে ভেবে সে বলল, ‘তুমি যাও৷ এখানে বসে আমি একটু ধূমপান করব৷ তারপর ফিরব৷’

রবার্ট বলল, ‘কিন্তু আমাকে যেতে হবে৷ এখানে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের’ যে শো হয় তার টিকিট কাটতে হবে সবার জন্য৷’

অগ্ণিভ বলল, ‘হ্যাঁ, আমি গতকাল সন্ধ্যায় শো-টা দেখেছি৷ ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ আর নর্তকীদের নাচে পুরোনো দিন ফুটিয়ে তোলা হয়৷’

রবার্ট এবার তার পাউচ খুলে একটা বিদেশী সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে অগ্ণিভর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘এটা খাও৷ সম্ভবত এর স্বাদ আগে পাওনি৷ খেয়ে দেখো, বেশ লাগবে৷’

অগ্ণিভ নিল সেটা৷ রবার্ট লাইটারও দিতে যাচ্ছিল৷ কিন্তু অগ্ণিভ বলল, ‘দরকার নেই৷ আমার কাছে লাইটার আছে৷’

রবার্ট হেসে বলল, ‘আচ্ছা৷ আমাকে সঙ্গ দেবার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ৷ তবে যাবার আগে বলে যাই যে জীবনটা উপভোগ করো৷ আর তার জন্য নারীর প্রয়োজন৷ ঠিক দেওয়ালের গায়ের ওই নারীর মতো৷’

অগ্ণিভ হেসে বলল, ‘ধন্যবাদ৷ তোমার কথা মনে রাখব৷’

রবার্ট নামের সেই ফরাসি পর্যটক এরপর বেরিয়ে গেল সে-জায়গা ছেড়ে৷

রবার্ট চলে যাবার পর সিগারেটার ধরানোর জন্য লাইটার বার করে আবারও তাকাল সেই মূর্তিযুগলের দিকে৷ কী জীবন্ত তারা! বিশেষত নারী মূর্তিটা!

সিগারেট জ্বালিয়ে সে এগিয়ে গেল আবার সেই দেওয়ালটার দিকে৷ সিগারেটের ধোঁয়াটা কেন জানি তার যৌন অনুভূতিকে বাড়িয়ে দিল মনে হয়৷ সে হাত রাখল সেই নারী মূর্তির স্তনে, নিতম্বে৷ কী সুন্দর, কামোদ্দীপক দেহ! আর তারপর সে আরও একটা জিনিস খেয়াল করল৷ পুরুষমূর্তি যে বেদিটার ওপর শুয়ে নারীকে ধারণ করেছে তা হুবহু ঘরের মধ্যে থাকা সেই পাথুরে বেঞ্চ বা বেদির মতো! হ্যাঁ, ওই তো দুটো বেদির পায়াতেই শঙ্খলাগা জোড়া সাপের ছবি খোদাই করা!

অগ্ণিভ বুঝতে পারল, তার মানে ঘরের মধ্যে থাকা লম্বা বেঞ্চের মতো বেদিটা নিছক বসার জন্য তৈরি করা হয়নি৷ আসলে ওটা রমনবেদি৷ বিপরীত বিহারের জন্য ব্যবহার করা হত৷ তবে কি এটা রমনকক্ষ ছিল? সেই পুরুষ বা নারীরা কারা ছিল? পুরোহিত-দেবদাসী? সৈনিক-নর্তকী?

সিগারেটে আবার একটা লম্বা টান দিল অগ্ণিভ৷ মাথাটা যেন মৃদু ভার ভার লাগতে শুরু করল এবার৷ সে একবার তাকাতে লাগল সেই বেদির দিকে৷ আর একবার সেই নারীমূর্তির দিকে৷ আর এরপরই হঠাৎ যেন তার মনে হতে লাগল সেই নারীমূর্তির মুখের সঙ্গে মিল আছে সুদেষ্ণার৷

সঙ্গে সঙ্গে ঘৃণায় কুঁকড়ে উঠল সে৷ তার মনে পড়ে গেল সেই ঘটনার কথা৷ সেদিন ক্লাবের পার্টিতে একটু বেশি মদ্যপান করেই ঘরে ফিরে পোশাক খুলে ফেলেছিল তারা দুজন৷ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই খাটে-শোয়া অগ্ণিভর শরীরের ওপর উঠে বসেছিল সুদেষ্ণা৷ মেতে উঠেছিল বিপরীত বিহারে৷ আধো-অন্ধকার ঘর৷ সুদেষ্ণার শরীরটা খেলছিল অগ্ণিভর দেহর ওপর৷

এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল৷ কিন্তু তার শরীরটা নাচাতে নাচাতে সম্ভবত মদের ঘোরেই সুদেষ্ণা বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে চিৎকার করে বলে উঠেছিল, ‘আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি৷ পাগল হয়ে যাচ্ছি! কী আরাম রক্তিম!

হয়তো সুদেষ্ণা চোখ বন্ধ করে তার শরীরটাকে খেলাতে খেলাতে কল্পনা করছিল যে, সে খেলছে রক্তিমের শরীরের ওপরই৷

রক্তিম-সুদেষ্ণা-অগ্ণিভ-নির্বাণ একই কোম্পানিতে চাকরি করত তখন৷ কিছুদিন ধরেই রক্তিম আর সুদেষ্ণার ব্যাপারে একটা সন্দেহ দানা বাধছিল অগ্ণিভর মনে৷ অগ্ণিভর বুকের ওপর খেলতে-থাকা সুদেষ্ণার অসতর্ক উচ্ছাসে সেই মুহূর্তে অগ্ণিভর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছিল সব কিছু৷

এক ঝটকায় সুদেষ্ণাকে তার দেহর ওপর থেকে ফেলে দিয়ে উঠে বসেছিল অগ্ণিভ৷ আর সুদেষ্ণাও সম্বিত ফিরে পেয়ে বুঝতে পেরেছিল যে, তার আর কিছু করার নেই৷ ব্যাপারটা ধরে ফেলেছে অগ্ণিভ৷ সে-রাতেই ঘর ছেড়েছিল সুদেষ্ণা৷

তেমন কোনও অসুবিধা তার ছিল না৷ কারণ অগ্ণিভ আর সুদেষ্ণার মধ্যে আইনগত কোনও সম্পর্ক ছিল না৷ সুদেষ্ণা এখন রক্তিমের সঙ্গে লিভ টুগেদার করে, যেমন করত অগ্ণিভর সঙ্গে৷ সে-কোম্পানির চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে অগ্ণিভ৷ তবে তাদের আর এক কোলিগ নির্বাণ মাঝে মাঝে ফোন করে অগ্ণিভকে৷ আর তার মাধ্যমেই সুদেষ্ণা আর রক্তিমের ব্যাপারে টুকটাক খবর কানে আসে অগ্ণিভর৷ খুব আনন্দেই নাকি আছে তারা দুজন৷ বিশেষত সুদেষ্ণা৷ সে নাকি আফিসের এক কোলিগকে বলেছে যে, অগ্ণিভকে সে নাকি ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছে অগ্ণিভর যৌন অক্ষমতার কারণে!

সুদেষ্ণার এ বক্তব্যের সত্য-মিথ্যা যা-ই থাকুক, নির্বাণের মুখে শোনা- কথাটা মন্দিরের ওই অপরিচিত কক্ষে সুদেষ্ণার ঘটনাটা ভাবতে গিয়ে মনে পড়ে গেল অগ্ণিভর৷ দেওয়াল থেকে ছিটকে সরে এসে সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে বাইরে বেরোতে যাচ্ছিল সে৷ কিন্তু পরমুহূর্তেই মাথাটা ঘুরে গেল তার৷ আর এক পা এগোতে পারছে না সে৷ অগ্ণিভ টলতে টলতে বসে পড়ল সেই রমনবেদির ওপর৷

গাঢ় অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা আবছা আলো ধীরে ধীরে যেন ভেসে উঠতে লাগল অগ্ণিভর চোখের সামনে৷ চোখ মেলল অগ্ণিভ৷ প্রথমে সে বুঝতে পারল না সে কোথায় আছে! ঘোরটা পুরোপুরি না কাটলেও আস্তে আস্তে সে চিনতে পারল সেই ঘর৷ মাথার ওপর ফাটল বেয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে সে যেখানে বসে আছে ঠিক সে জায়গাতে৷ অর্থাৎ বেদিটার ওপর৷ চারপাশের দেওয়ালগুলোও আবছা দেখা যাচ্ছে৷ ওই তো দেওয়ালের গায়ে বিপরীত বিহাররত সেই নারীমূর্তি৷ জায়গাটা চিনতে পেরে বেশ অবাক হল অগ্ণিভ৷ তাহলে সে মন্দিরের ভেতর সেই ঘরেই রয়েছে এখনও!

কতক্ষণ সে রয়েছে এখানে?

বেদি ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ঘড়ি দেখতে যাচ্ছিল৷ ঠিক সেই মুহূর্তে একটা অস্পষ্ট খসখস শব্দ শুনে সে দেখতে পেল দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একটা ছায়া! সে প্রবেশ করল ঘরে৷ তারপর এসে দাঁড়াল বেদির কাছাকাছি৷ অগ্ণিভ তাকে দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল৷ এক তন্বী যুবতী! চাঁদের আলো এসে পড়েছে তার গায়ে৷ তার গায়ে জরির কাজ করা বক্ষবন্ধনী, কোমর থেকে হাঁটুর কিছুটা নীচে পর্যন্ত ঘাগরার মতো পোশাক৷ বাজুবন্ধনী, চুড়িসহ বেশ কিছু গহনাও আছে শরীরে, নাকছাবিটা মৃদু ঝিলিক দিচ্ছে চাঁদের আলোতে৷ তার দিকে ভালো করে তাকিয়ে একটু অস্বস্তিবোধও হল অগ্ণিভর৷ ফিতে দিয়ে বাঁধা তার বক্ষবন্ধনী ঘন সন্নিবিষ্টভাবে ধরে রেখেছে তার স্তনদুটোকে৷ ফলে প্রকট হয়ে উঠেছে তার বক্ষ বিভাজিকা৷ বক্ষ আবরণী আর রেশমের কোমরবন্ধনীর মাঝে উন্মুক্ত স্থান থেকে অগ্ণিভর দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটার গভীর নাভি৷

মেয়েটা মৃদু হাসল অগ্ণিভর দিকে তাকিয়ে, তারপর পরিষ্কার বাংলায় প্রশ্ণ করল, ‘এ ঘরে কী করছেন?’

অগ্ণিভ বলল, ‘আমি টুরিস্ট৷ মন্দির দেখতে এসেছিলাম৷ এখানে ঢোকার পর মাথাটা সম্ভবত ঘুরে গেছিল৷ হুস ছিল না৷ এখন চোখ মেলে দেখি এঘরেই রয়ে গেছি৷’

মেয়েটা তার জবাব শুনে একটু হেসে দেওয়ালের রমণ-ভাস্কর্যটা দেখিয়ে বলল, ‘মাথা ঘুরে গেছিল কি ওই মূর্তিটা দেখে?’

স্পষ্ট কৌতুকের ছাপ ফুটে উঠল মেয়েটার মুখে৷

তার প্রশ্ণ শুনে অপ্রস্তুত বোধ করল অগ্ণিভ৷ সে বলল, ‘না, তেমন কোনও ব্যাপার নয়৷ আমাকে এবার হোটেলে ফিরতে হবে৷ বেশ রাত হয়ে গেছে!’

মেয়েটা বলল, ‘হ্যাঁ, বেশ রাত৷ বারোটা বেজে গেছে৷’

কথাটা শুনে চমকে উঠল অগ্ণিভ, তার রিস্টওয়াচেও বারোটা বাজে৷ তার মানে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সে এঘরে কাটিয়েছে!

এরপর মেয়েটা বলল, ‘কিন্তু যাবেন কীভাবে? মন্দিরচত্বরের বাইরে বেরোবার গেটে আছে তাতে তো সন্ধ্যা নামার পরই তালা বন্ধ করে চলে গেছে সিকিওরিটির লোকরা৷ তাছাড়া অন্য বিপদও হতে পারে৷ এত রাতে আপনাকে এখানে দেখে কেউ মূর্তিচোর বা পাচারকারী বলে সন্দেহ করতে পারে৷ তাতে বিপদ বাড়তে পারে আপনার৷’

কথাটা শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল অগ্ণিভ৷ তারপর বলল, ‘তবে কী করা যায়?’

সে বলল, ‘আর তো পাঁচ-ছ-ঘণ্টা পর সূর্য উঠবে৷ ট্যুরিস্টদের জন্য গেট খোলা হবে৷ তখন সে-ভিড়ে মিশে আপনি বেরিয়ে যেতে পারবেন৷ কেউ জানবেই না, আপনি এখানে রাত কাটিয়েছেন৷ থেকে যান এখানে৷ রাতটুকু আমি আপনাকে সঙ্গ দেব৷’

মেয়েটার কথা খুব একটা অযৌক্তিক নয়৷ তবে মেয়েটা কে? এত রাতে কোথা থেকে এখানে এল তার পোশাক দেখে অগ্ণিভর মনে হল, ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’-এর সঙ্গে যে মেয়েদের দল নর্তকীদের অভিনয় করে, হয়তো বা তাদের কেউ হতে পারে মেয়েটা৷ অগ্ণিভ তাকে বলল, ‘আপনি তো বাংলায় বেশ কথা বলেন! আপনি বাঙালি? এখানে থাকেন?’

সে জবাব দিল, ‘এখানে অনেক বাঙালি আসেন৷ আমার নাম-ধাম-পরিচয়ের চেয়ে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমি একজন নারী! একজন যুবতী৷ সেটাই একজন পুরষের কাছে আমার বড় পরিচয় নয় কি?’

কথাটা বলে সে বেদিটার একদম সামনে এসে দাঁড়াল৷ তারপর আবারও তাকাল দেওয়ালে খোদিত সেই সঙ্গমরত নারীমূর্তির দিকে৷

অগ্ণিভ হেসে বলল, ‘তবুও তো পরিচয় জানার ইচ্ছা একটা হয়ই৷’

সেই যুবতী দেওয়ালের দিকে চোখ রেখে ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ফুটিয়ে বলল, ‘ওই যে দেওয়ালের গায়ের মেয়েটাকে আপনি যখন প্রথম দেখেছিলেন তখন ওকে দেখে কি আপনার ওর নাম-পরিচয় জানার ইচ্ছা হয়েছিল? জানার ইচ্ছা হয়েছিল যে কার মূর্তি রচনা করেছিলেন প্রাচীন শিল্পী? নাকি ওর সৌন্দর্যই আকর্ষণ করেছিল আপনাকে?’

কথাটা ঠিক৷ মূর্তির নারীদেহই আকৃষ্ট করেছিল বা করছে অগ্ণিভকে৷ তার পরিচয় নয়৷’

এ কথা বলার পর মেয়েটা অদ্ভুতভাবে বলল, ‘আচ্ছা, আমি যদি আমার নাম-পরিচয় বলি তাহলে কি আপনি আমাকে জীবনসঙ্গী করবেন?’

অগ্ণিভ এবার হেসে ফেলে বলল, ‘এভাবে কি কাউকে জীবনসঙ্গী করা যায়? তার জন্য সময় লাগে৷ বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়৷’

মেয়েটা স্পষ্টই হাসল এবার৷ তারপর বলল, ‘কীভাবে আপনার বিশ্বাস পেতে পারি?’

কথাটা বলতে বলতে মেয়েটা তার ডান-পা-টা তুলে দিল বেদির ওপর৷ ঘাগড়াটা উঠে গেছে তার হাঁটুর ওপর৷ চাঁদের আলোতে দেখা যাচ্ছে তার উন্মুক্ত ফর্সা-পা-টা৷ কী সুন্দর, কী আকর্ষক সেই পা! সেদিকে তাকিয়ে থমকে গেল অগ্ণিভর চোখ৷ শিহরন খেলে গেল তার শরীরে৷ পায়ের পাতা ছুঁয়ে তার দৃষ্টি হাঁটু পর্যন্ত উঠে ঘাগড়ার আরও গভীরে যেন প্রবেশ করতে চাইল৷

মেয়েটা অগ্ণিভর মনের ভাব পড়তে পেরেই সম্ভবত বলে উঠল, ‘খুব সুন্দর তাই না? আমি আরও অনেক বেশি সুন্দর৷’

এই উদ্ভীন্ন যুবতী কে? সে কি প্রলুব্ধ করতে চাইছে অগ্ণিভকে? মেয়েটা কি তবে দেহোপজীবিনী? টুরিস্টদের মনোরঞ্জন করে? অগ্ণিভর মনে হল, হয়তো তাই৷ সে হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, সুন্দর৷’

মেয়েটা এরপর বলল, ‘এ জায়গাটাতে বেশ গরম লাগছে আমার৷ বললে না তো কীভাবে বিশ্বাস জাগাতে পারি তোমার মনে?’

বিশ্বাস! অগ্ণিভ তো বিশ্বাস করেছিল সুদেষ্ণাকে৷ আর তারপর? সে আর কোনও মেয়েকে বিশ্বাস করবে না৷—মনে মনে হাসল অগ্ণিভ৷

গরমের আছিলাতে এরপর সেই মেয়েটা হঠাৎ-ই তার বক্ষবন্ধীনর ফাঁসটা হালকা করে দিল৷ শিথিল হয়ে গেল বন্ধনী৷ আর এবার তার ভিতর থেকে শুধু বিভাজিকা নয়, আত্মপ্রকাশ করল তার শঙ্খের মতো বুকদুটোও৷ মাত্র একটা সুতোর ব্যবধান৷ সেটা সরে গেলে আর স্তনবৃন্তটাও এরপর উন্মোচিত হয়ে যাবে৷

পুরুষের রক্ত ছলকে উঠতে শুরু করল অগ্ণিভর শরীরে৷ মেয়েটা যে-ই হোক, হ্যাঁ, সে প্রলুব্ধ করছে অগ্ণিভকে৷ সে শরীর দেবার ইঙ্গিত করছে তাকে৷ কী দরকার তার পরিচয় জেনে! আচ্ছা যদি অগ্ণিভ তার সঙ্গে এখন শরীরের ডাকে মেতে ওঠে তবে কেউ কি জানবে সে-কথা? না, জানবে না৷ হয়তো মেয়েটা কিছু টাকা নেবে৷ তা নিক৷ বিয়ের ব্যাপারটা নিছক কথার কথা৷ হয় মেয়েটার শরীর তার-ই মতো অভুক্ত অথবা তার টাকা চাই৷ নইলে সে ওভাবে বুকটা খুলে দিত না৷

অগ্ণিভ আর পারছে না৷ মেয়েটার উন্মুক্ত ঊরু, বুক-নাভি উত্তেজিত করে তুলছে অগ্ণিভকে৷ চপল হাসি হাসছে মেয়েটা৷ অগ্ণিভ আর নিজেকে সংযত করতে পারল না৷ সে এবার বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, বিশ্বাস করব যদি তোমাকে দেওয়ালের ওই মেয়েটার মতো পাই৷’

মুহূর্তখানেক স্থির দৃষ্টিতে অগ্ণিভর দিকে তাকিয়ে মেয়েটা বলল, ‘আচ্ছা তাই হবে৷’

একটানে মেয়েটা খসিয়ে ফেলল বুকের কাঁচুলি৷ সমুদ্রর ঢেউয়ের মতো আকাশের দিকে উছলে উঠল তার শঙ্খের মতো বুকদুটো, গাঢ় বাদামি রঙের চেরিফলের মতো বৃন্তদুটো৷ ঘাগরাটাও এরপর খসিয়ে ফেলল সে৷ চাঁদের আলো চুঁইয়ে পড়ছে গলা থেকে স্তন ছুঁয়ে গভীর নাভীর দু-পাশ বেয়ে৷ তারপর সে এসে থামছে ঠিক সে জায়গায়, যেখানে তলপেটের নীচে বকফুলের পাপড়ির মতো বিকশিত হয়ে আছে যৌন-কেশগুচ্ছ৷ চাঁদের আলো যেন শুষে নিচ্ছে তলপেটের নীচের সে জায়গাটা৷

ট্রাউজার খুলে বেদিটার ওপরে দেওয়ালে খোদিত পুরুষমূর্তিটার মতোই শুয়ে পড়ল অগ্ণিভ৷ আর এগিয়ে এসে অগ্ণিভর শরীরটাকে তার দু-পায়ের মাঝখানে রেখে তার ওপর চড়ে বসল মেয়েটা৷ বিপরীত বিহার৷

চাঁদের আলোতে দোল খাচ্ছে মেয়েটার শরীর৷ উঠছে, নামছে৷ তার স্তনদুটো যেন সে-দুলুনিতে আকাশের দিকে উঠে যেতে চাচ্ছে৷ ঘামের বিন্দু তার বুকের মাঝখান দিয়ে নেমে জমা হচ্ছে আধুলির মতো তার গভীর নাভিতে৷ মাঝে মাঝে দু-হাত মাথার ওপর তুলে চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে নিচ্ছে মেয়েটা৷ উন্মোচিত হচ্ছে তার বাহুসন্ধির কুঞ্চিত রোম৷ মাঝে মাঝে পরম তৃপ্তিতে শীৎকার করে উঠছে মেয়েটা৷

অগ্ণিভ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছেনা৷ যে কোন মুহূর্তে সে এবার গরম লাভার মতো দেহরস উদগীরণ করবে মেয়টার শরীরে৷ ঠিক সেই সময় হঠাৎ মেয়েটা প্রবল শীৎকার করে বলে উঠল, ‘আমি পাগোল হয়ে যাচ্ছি! পাগোল হয়ে যাচ্ছি! আঃ কী আরাম রক্তিম!’

কোমড়ের ওপর মেয়েটাকে খেলাতে খেলাতে মুহূর্তের জন্য দেওয়ালের সেই বিপরীত বিহার ভাস্কর্যর দিকে তাকিয়ে ছিল অগ্ণিভ৷ কথাটা কানে যেতেই সে তাকাল মেয়টার মুখের দিকে৷ চমকে উঠল অগ্ণিভ৷ আরে, তার দেহের ওপর চড়ে বসে আছে সুদেষ্ণা! হ্যাঁ, হ্যাঁ, সুদেষ্ণাই৷ হ্যাঁ, এই তো চাঁদের আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার দুলতে থাকা বাঁ-বুকে পরিচিত লম্বা জরুলের দাগটা!

সে আবারও শীৎকার করে উঠল, ‘আঃ, কী আরাম! আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি রক্তিম!

এ তো সুদেষ্ণার-ই গলা! কিন্তু এ কীভাবে সম্ভব হল!

কিন্তু যাই হোক না কেন, এ সুদেষ্ণাই৷ অগ্ণিভ প্রচণ্ড ঘৃণায় ধাক্কা মেরে তার দেহ থেকে সুদেষ্ণাকে সরিয়ে উঠে বসতে যাচ্ছিল৷ কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে সুদেষ্ণা তার গলাটা দু-হাত দিয়ে চেপে ধরল৷ মুহূর্তের মধ্যে হিংস্র হয়ে উঠল তার মুখ৷ অগ্ণিভর গলাটা চেপে ধরে নিজের দেহটা তার শরীরের ওপর খেলাতে খেলাতে সুদেষ্ণা সাপের মতো হিসহিস করে বলে উঠল, ‘উঠতে দেব না, উঠতে দেব না৷ যতক্ষণ না আমার আশ মিটছে ততক্ষণ আমি উঠতে দেব না তোকে৷’ কী কামোদ্দীপক হিংস্র মুখ তার!

অগ্ণিভ কিছুতেই সরাতে পারছে না সুদেষ্ণাকে তার শরীর থেকে৷ সুদেষ্ণার নখগুলো ক্রমশ আরও গভীরভাবে চেপে বসছে তার গলায়৷ যেন মৃত্যু আলিঙ্গন! দম বন্ধ হয়ে আসছে অগ্ণিভর, ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে তার চোখের মণি৷ তাকে চেপে ধরে তার ওপর শরীরটা খেলাচ্ছে সুদেষ্ণা৷ আর শ্বাস নিতে পারছে না অগ্ণিভ৷ এবার সত্যি হয়তো দমবন্ধ হয়ে মারা যাবে অগ্ণিভ৷ কী কঠিন সেই নিষ্পেশন৷

ঠিক সেই মুহূর্তে একটা তীব্র শিস্-এর মতো শব্দ হল৷ আর তারপরই যেন একটা ঝটকা খেয়ে অগ্ণিভর শরীরের ওপর স্থির হয়ে গেল সুদেষ্ণার দেহ৷ তার হাতদুটো আলগা হয়ে গেল অগ্ণিভর গলা থেকে৷

চাঁদের আলো এসে পড়েছে সুদেষ্ণার শরীরে, সুদেষ্ণা পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে অগ্ণিভর শরীরের ওপর৷ সেই চাঁদের আলোতে অগ্ণিভ স্পষ্ট দেখতে পেল সুদেষ্ণার দুই বুকের মাঝখানে আমূল বিঁধে আছে একটা তির! তার পিছনের পালক লাগানো অংশটা এখনও মৃদু মৃদু কাঁপছে৷ কামের স্বেদবিন্দু নয়, সুদেষ্ণার বুকের মাঝখান থেকে একটা গাঢ় রক্তধারা নেমে যাচ্ছে নাভির দিকে! গাঢ় লাল রক্ত!

আর এরপরই সুদেষ্ণার নিথর দেহটা অগ্ণিভর দেহ থেকে ধপ করে শব্দ তুলে খসে পড়ল মাটিতে, আর সেই মুহূর্তে জ্ঞান হারাল অগ্ণিভও৷

অগ্ণিভর যখন জ্ঞান ফিরল তার অনেক আগেই বাইরে সূর্য উঠে গেছে৷ চোখ খুলতেই তার মনে পড়ে গেল ঘটনাটা৷ সেই বেদির ওপরেই শুয়েছিল সে৷ ঘটনাটা মনে পড়তেই ধরমর করে উঠে বসল৷ মেঝের দিকে প্রথমে তাকাল৷ না, মেঝেতে কেউ পড়ে নেই! একটু আশ্বস্ত হল সে৷ তবে কি ব্যাপারটা দুঃস্বপ্ণ ছিল? ঘুমের ঘোরে স্বপ্ণ দেখছিল৷ যদিও তার প্যান্টটা নীচে নামানো, তবে সে সেটা ঘুমের ঘোরেই খুলে থাকতে পারে৷ চটপট তুলে নিল সেটা৷ তাকে এখনই বেরোতে হবে এই ঘর ছেড়ে৷

অগ্ণিভ বাইরে বেরোতে যাচ্ছিল৷ ঠিক সেই সময় হুড়মুড় করে সে ঘরে ঢুকল একদল বিদেশী ট্যুরিস্ট৷ সঙ্গে একজন গাইড৷ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল অগ্ণিভ৷ তারপর এমন ভাব দেখাল যে সে যেন একটু আগেই ঘরে ঢুকেছে৷ সে তাকিয়ে রইল ঘরের দেওয়ালের সেই বিপরীত বিহাররত মূর্তি যুগলের দিকে৷

সেই মূর্তির দিকে ট্যুরিস্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাইড বত্তৃণতা শুরু করল বিদেশী ট্যুরিস্টদের উদ্দেশ্যে—‘মূর্তিটা দেখুন৷ ‘‘উত্তমেন অন দ্য টপ’’৷ ইউরোপীয়রা অনেক সময় দাবি করেন যে, এই যৌনমিলন পদ্ধতি তাদেরই সৃষ্টি৷ কিন্তু এই মূর্তি প্রমাণ করছে যে এটা হাজার বছরের প্রাচীন ভারতীয় যৌনমিলন পদ্ধতির-ই ম্যাপ৷ লক্ষ করে দেখুন, ঘরের মাঝখানে যে-বেদিটা রাখা আছে তার সঙ্গে হুবহু মিল আছে পাথরের গায়ে খোদিত ছবিটার বেদির৷

হ্যাঁ, ঘরের এই বেদিটাই ব্যবহার করা হত বিপরীত বিহারের জন্য৷ তবে এক বিশেষ কারণে৷ অনেক সময় সেযুগে দেবদাসীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ত পুরোহিত বা মন্দিরের রক্ষীরা৷ ব্যাপারটা প্রধান পুরোহিত বা রাজার কানে গেলে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হত সেই দেবদাসী বা নর্তকীয়র জন্য৷ তবে খুব কৌশলে কার্যকর করা হত সেই দণ্ড৷ সেই নারী-পুরুষকে বলা হত যে, একরাত তাদের এ-ঘরে কাটিয়ে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হতে হবে৷ তবে তাদের বিয়ে দেওয়া হবে৷ রাজি হত তারা৷ সেসময় বিপরীত বিহার খুব প্রচলিত ছিল৷ বলা হত যে সেভাবেই মিলিত হতে হবে তাদের৷ এই বেদিটার মাথার কাছে একটা জানলা দেখছেন আপনারা৷ তা দিয়ে বাইরে তাকালে আপনারা বেশ দূরে একটা বেদি দেখতে পাবেন৷ সেই যুগল যখন মুক্তির আশায় বিপরীত বিহারে মিলিত হত তখন দূরের ওই বেদি থেকে দক্ষ তিরন্দাজ তির ছুড়ত এই জানলা লক্ষ করে৷ আর তিরটা এস সোজা বিদ্ধ হত বিপরীত বিহারে সঙ্গমরত নারীর বুকে৷ এমনই কৌশলে বানানো হয়েছিল এই বেদি আর জানলা...’

কথাটা কানে যেতেই চমকে উঠল অগ্ণিভ৷ তবে কি ওই জানলা দিয়েই তির ছুটে এসে লেগেছিল সুদেষ্ণার বুকে? কিন্তু সে তো স্বপ্ণ ছিল৷ তবে কি সে সারাদিন মন্দিরচত্বরে ঘুরতে ঘুরতে কোনও ভাবে শুনেছিল গল্পটা? সেটাই ধরা দিয়েছিল তার স্বপ্ণে?

তাই হবে হয়তো৷ মনে মনে ভাবল অগ্ণিভ৷ ট্যুরিস্টরা বেশ কিছু ছবি তুলল সেই বিপরীত বিহার মূর্তির৷ তারপর তাদেরই সঙ্গে পায়ে পায়ে সে-ঘর ছাড়ল অগ্ণিভ৷ বাইরে বেরিয়ে হঠাৎ সে খেয়াল করল, সেই দলের মধ্যে রবার্টও আছে! রবার্টও দেখতে পেল তাকে, তারপর তার কাছে এগিয়ে এসে হেসে চাপা সুরে বলল, ‘কাল সিগারেটটা কেমন খেলে? ওর মধ্যে মারিজুয়ানা মেশানো ছিল৷ খেলে হ্যালুসিনেশন হয়৷’

তবে কি ওই সিগারেটের প্রভাবেই হ্যালুসিনেশন হয়েছিল অগ্ণিভর?

কিন্তু এরপরই রবার্ট বলল, ‘তোমার গলাটা অমন ফুলে আছে কেন? নখের দাগও দেখতে পাচ্ছি!’

চমকে উঠল অগ্ণিভ৷ সত্যিই যেন গলায় একটা জ্বালা অনুভব করল সে৷ রবার্টকে কী বলবে বুঝতে না পেরে অগ্ণিভ শুধু বলল, ‘ওর মধ্যে যে ড্রাগ মেশানো ছিল তা তোমার বলা উচিত ছিল৷’

রবার্ট হেসে বলল, ‘ও, আই অ্যাম সরি৷ তবে জীবনটাকে উপভোগ করো৷ ড্রাগ না নাও অন্ততো একটা বেড পার্টনার যোগাড় করো! ‘‘উত্তমেন অন দ্য টপ’’ পশ্চারের দেশের লোক তুমি৷ গুড লাক৷’

কথাগুলো বলে তার দলের সঙ্গে রবার্ট এগোল অন্যদিকে৷ গলায় হাত বোলাল অগ্ণিভ৷ একটা চেরা দাগ যেন হাতের স্পর্শে অনুভব করল সে৷ জায়গাটা মৃদু জ্বলছে৷ নখের চিহ্ণ?

ঠিক সেই মুহূর্তে তার মোবাইল বেজে উঠল, কলটা রিসিভ করল সে৷ ফোনের ওপাশে তার প্রাক্তন কোলিগ নির্বাণ৷ ফোন কলটা রিসিভ করতেই নির্বাণ বলল, ‘তোমাকে একটা খবর দিচ্ছি৷ জানি না তোমার খারাপ লাগবে কিনা৷ অফিসে খবর এসেছে গত রাতে একটা দুর্ঘটনায় মারা গেছে সুদেষ্ণা৷’

স্তম্ভিত অগ্ণিভ জানতে চাইল, ‘কীভাবে?’

নির্বাণ জবাব দিল, ‘রক্তিমের সঙ্গে নর্থ ইস্টে বেড়াতে গেছিল সুদেষ্ণা৷ ওখানে গতরাতে আদিবাসীদের একটা অনুষ্ঠানে তিরখেলা দেখতে গেছিল তারা দুজন৷ খেলা চলার সময় একটা তির কীভাবে যেন এসে লাগে সুদেষ্ণার ঠিক বুকের মাঝে৷ সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ...’

মোবাইলটা খসে পড়ল অগ্ণিভর হাত থেকে৷ তার চোখে ভেসে উঠল সেই দৃশ্য—সুদেষ্ণার বুকের মাঝখানে বিঁধে আছে একটা তির!

গতকাল রাতে দেখা ঘটনাটা না হয় মারিজুয়ানা ড্রাগের প্রভাবে হতে পারে৷ কিন্তু অগ্ণিভর গলায় আঁচড়ের দাগটা তবে কীভাবে হল? এখনও যে জ্বালা করছে তার গলায়! সুদেষ্ণার সঙ্গে গতরাতে তার বিপরীত বিহার-এর চিহ্ণ৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%