কবে চণ্ডীদাস মরে গেছে

জীবনানন্দ দাশ

কবে চণ্ডীদাস মরে গেছে—বিদ্যাপতি—কৃত্তিবাস ওঝা
 শেক্ষসীর—ক্র্যাশ—ব্যাস
 রায়গুণাকর—ডান—বোদলেয়ার—ভিলোঁ—ভার্লেন—কীটস
 তাহাদের মৃত মুদ্রা যেন ভৌতিক কলমের পরে
 আমার রক্তের ছবি।

মাইকেল—হৃষ্ট শঙ্খ যেন—মানবিক নয় আর
 কোনো এক বয়ঃসন্ধি চমকিত অবলুপ্ত ভূমধ্যসিন্ধুর কামনার
কুয়াশা পায়নি কিছু—চায় নাই
 বাদকের ব্যাপ্ত হাত দিবালোকে
 ডিণ্ডিমের হর্ষে মুগ্ধ হয়ে।

অনেক গভীর মোম জমাট হতেছে আজও নীল জলে
 ভিন্নতর সমুদ্রের—ইয়েটসের—রবীন্দ্রের—
 গভীর দুরূহ নাভি ছিঁড়ে মধু
 অবিরল মক্ষিকারা তবু মশালের অগ্নি দেখে
 নীড় ছেড়ে উড়ে যায়
 এখন আসন্ন রাতে রৌদ্রঘড়ি মরে গেছে ব’লে।

সকল অধ্যায়
১.
কোথাও নতুন বুদ্ধের যেন জন্ম হয়
২.
জীবনের সাথে আমাদের রূঢ় পরিচয় হয়েছিল
৩.
না জানি কী সব মঙ্গলের দিকে চেয়ে
৪.
কোথাও অনেক দূর যেতে হবে
৫.
হয়তো বা কোনো দূর পিরামিড দেখা যাবে
৬.
আবার নতুন করে পৃথিবীরে বানাবার অধিকার আমাদের নেই
৭.
আমাদের সাহস হারায়ে গেছে বহুদিন
৮.
যদিও রয়েছি বেঁচে
৯.
এই এত পুরোনো নগরী
১০.
যেন কোনো যাদুঘরে ঘুমায়েছে
১১.
ঢের দূর থেকে বন্ধুজনারে চেনা যায়
১২.
মনে হয় যেন মূল চাহুনিতে দিনরাতগুলো ছেঁকে
১৩.
সময়কে ধরে রাখা মহা দায়
১৪.
সূর্যের আলো মেটায় খোরাক কার
১৫.
রজনীর অন্ধকার এইরকম
১৬.
অমোঘ আঁধার রাতে
১৭.
কৃষ্ণ যজুর্বেদ যারা রচেছিল একদিন
১৮.
আমার হৃদয়ে প্রেম কার্তিকের বটের মতন
১৯.
কালো মখমল দস্তানার মতো ধীরে ধীরে আসে
২০.
আমাদের প্রভু বীক্ষণ দাও
২১.
অন্ধকারে আমাদের ইন্দ্রনীল খুঁড়িতেই পাওয়া গেল
২২.
আমাদের অশ্রু শিশিরিত হলুদ পাতার থেকে নয়
২৩.
আমার হৃদয়ে নব নব প্রত্যাশার দূত
২৪.
আমার হৃদয়ে রক্ত থেকে কোনো এক প্রদীপকে জ্বালি আমি
২৫.
হিমের কুয়াশা নাকে
২৬.
আমিও তো মশাল ধরেছি
২৭.
তখন সকল প্রেম মরে যাবে
২৮.
ওইখানে বনানীর তৃণ
২৯.
ঢের কবি মরে গেছে সচকিত হয়ে যেন নিশীথের ভূতের মতন
৩০.
সেদিন—সারাটা দিন—অনেক শ্মশানে
৩১.
কবে চণ্ডীদাস মরে গেছে
৩২.
স্ট্রেচারের ‘পরে শুয়ে কুয়াশা ঘিরিছে বুঝি
৩৩.
সান্ত্বনার কথা ঢের ভাবা গেছে আঁধার রভসে
৩৪.
এইখানে কাকজ্যোৎস্না
৩৫.
প্রথম যৌক্তিক জন্ম নিল
৩৬.
যারা মরে গেছে তাহাদের কথা ভেবে
৩৭.
প্রেম কি জাগায় সূর্যকে আজ ভোরে
৩৮.
অনেক বেসেছি ভালো
৩৯.
মনে হয় হেমন্তের জ্যোৎস্নায়
৪০.
এই নগরীর সেই সব শতাব্দীর ধূসর পরিখা কই

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%