অনেক বেসেছি ভালো

জীবনানন্দ দাশ

অনেক বেসেছি ভালো—এইবার প্রতিলোক চাই
 (অনেক রেশমি শব্দ করেছি সেলাই)
 ঢের বজ্রমণি—চিন্তা এইখানে শ্লথ, ক্কাথ হয়
 সে সাদা কাঠের থেকে পেয়ে গেছি ঢের দেশলাই
 তবুও তোমার অগ্নি নেই জন্মেজয়—

এইবার ছেড়ে দেব কনুয়ের ভর
 বাতাসের পরে
 আকাশের তরে
 অগ্নির তরে।

সাতটি রঙের জালে বেঁধে
 বহুদিন আত্মা ছিল মেধে
 চারিদিকে সমুদ্রের গান
 মাছরাঙাদের করতালি
 এর মাঝে দরজির প্রাণ
 লাল নীল ববিন—সূতালি
 চাঁদনীর চকটাকে গেছে
 ইন্দ্রধনুকের রঙে জ্বালি।

এইবার দেহ থেকে খসে
 স্বর্ণচালানির এক জাহাজের সাথে
 চলে যাব লুব্ধকের রাতে
 কম্বোজের পানে
 সেইখানে গোমেদের শিখা
 কবেকার মৃত কুরুবর্ষের গণিকা
 ঢের অবলুপ্ত রাজ্য—নব নব অভ্যুত্থান ভ’রে
 লালিত হয়েছে সাদা মিনারের ভূতদের ক্রোড়ে।

আলিসায় হয়তো বা দু—একটা মৃত্যুহীন আছে চামচিকা
 নির্জন বিচির মতো মরকতপাথরের—লুফে নিয়ে দেখেছে গণিকা
(আমার এ শরীরের) চালুনির ছিদ্রকে—হাতুড়ির টানে
 গাঢ়—সোনা করে দেবে—(জানে)

পৃথিবীর উয়ে—কাটা ইতিহাসময়
 যত রাজ্ঞী সম্রাজ্ঞীর জন্মসার ক্ষয়
 তবু মৃত্যু নয়
 সবচেয়ে অরুন্তুদ স্বর্ণের মুদ্রার মতন
 কেড়ে লব তাহাদের মেধাবিনী মন।

সকল অধ্যায়
১.
কোথাও নতুন বুদ্ধের যেন জন্ম হয়
২.
জীবনের সাথে আমাদের রূঢ় পরিচয় হয়েছিল
৩.
না জানি কী সব মঙ্গলের দিকে চেয়ে
৪.
কোথাও অনেক দূর যেতে হবে
৫.
হয়তো বা কোনো দূর পিরামিড দেখা যাবে
৬.
আবার নতুন করে পৃথিবীরে বানাবার অধিকার আমাদের নেই
৭.
আমাদের সাহস হারায়ে গেছে বহুদিন
৮.
যদিও রয়েছি বেঁচে
৯.
এই এত পুরোনো নগরী
১০.
যেন কোনো যাদুঘরে ঘুমায়েছে
১১.
ঢের দূর থেকে বন্ধুজনারে চেনা যায়
১২.
মনে হয় যেন মূল চাহুনিতে দিনরাতগুলো ছেঁকে
১৩.
সময়কে ধরে রাখা মহা দায়
১৪.
সূর্যের আলো মেটায় খোরাক কার
১৫.
রজনীর অন্ধকার এইরকম
১৬.
অমোঘ আঁধার রাতে
১৭.
কৃষ্ণ যজুর্বেদ যারা রচেছিল একদিন
১৮.
আমার হৃদয়ে প্রেম কার্তিকের বটের মতন
১৯.
কালো মখমল দস্তানার মতো ধীরে ধীরে আসে
২০.
আমাদের প্রভু বীক্ষণ দাও
২১.
অন্ধকারে আমাদের ইন্দ্রনীল খুঁড়িতেই পাওয়া গেল
২২.
আমাদের অশ্রু শিশিরিত হলুদ পাতার থেকে নয়
২৩.
আমার হৃদয়ে নব নব প্রত্যাশার দূত
২৪.
আমার হৃদয়ে রক্ত থেকে কোনো এক প্রদীপকে জ্বালি আমি
২৫.
হিমের কুয়াশা নাকে
২৬.
আমিও তো মশাল ধরেছি
২৭.
তখন সকল প্রেম মরে যাবে
২৮.
ওইখানে বনানীর তৃণ
২৯.
ঢের কবি মরে গেছে সচকিত হয়ে যেন নিশীথের ভূতের মতন
৩০.
সেদিন—সারাটা দিন—অনেক শ্মশানে
৩১.
কবে চণ্ডীদাস মরে গেছে
৩২.
স্ট্রেচারের ‘পরে শুয়ে কুয়াশা ঘিরিছে বুঝি
৩৩.
সান্ত্বনার কথা ঢের ভাবা গেছে আঁধার রভসে
৩৪.
এইখানে কাকজ্যোৎস্না
৩৫.
প্রথম যৌক্তিক জন্ম নিল
৩৬.
যারা মরে গেছে তাহাদের কথা ভেবে
৩৭.
প্রেম কি জাগায় সূর্যকে আজ ভোরে
৩৮.
অনেক বেসেছি ভালো
৩৯.
মনে হয় হেমন্তের জ্যোৎস্নায়
৪০.
এই নগরীর সেই সব শতাব্দীর ধূসর পরিখা কই

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%