আমিও তো মশাল ধরেছি

জীবনানন্দ দাশ

আমিও তো মশাল ধরেছি
 কোনো সৈনিকের নয়
 সূক্ষ্ম শীর্ণকায় মঠের মতন
নব নব জন্মের দুর্যোগ—মরণের জন্ম বিম্ব
 ভৈরবীর কপালে টিপের মতো
 আধেক তা অন্তিম চাঁদের—মেধাবী সূর্যের তবু।

তোমরা ভগ্নাংশ নাও—জ্যোৎস্না গোধূলির
 স্নিগ্ধ হও—মৃত্যু ভালোবাসো
 আমাকে দেখিতে দাও সেই রূপ—
 ফুটপাতে কুয়াশার রমণীরা ঘুমাতেছে
 শেলফের অন্ধকারে বক্র, ভগ্ন হেঁয়ালির রাশি
 নগরীর দিবালোকে—দিকে দিকে গম্ভীর গিজের মূর্তি
এরা সব ভালোবেসেছিল। তাই গিয়েছে পাথর হয়ে—মৃত্যু হয়ে।

গর্ভিনীর স্মৃতি বিস্মৃতির সাধ
 শোণিতের গূঢ়তর সংস্কার তবু—
 নব নব আভা পায় অপ্রেমের কথা ভেবে
 কুয়াশার অই পারে অমোঘ সেতুকে ভালোবাসে
 তাই হেমন্তের দেশে বসে শোণিতের শব্দ শোনা যায়
 পাঁজরের সিঁড়ি বেয়ে হৃদয়ের দিকে অবার সে নিষ্কাশিত সমুদ্রের মতো
লক্ষ লক্ষ মাইল তরঙ্গের পথ দিয়ে অনেক সুঘ্রাণ পাখি উড়ে আসে
আমাদের এই নিচু, ধূম্র মধ্যপথে
 তাহাদের কামনার শ্রম—মুহূর্তের ক্ষান্তি চায়
 তির্যক ডানা তুলে ভূমধ্য সিন্ধুর দিকে উড়িবার আগে
 এইসব ছবি; আশ্চর্য অন্যায় আলো;
 জন্মের দুর্যোগ থেকে ঢের দূরে—
 পাঁকের হেঁয়ালি, বিপ্লবের মুহূর্তের থেকে—প্রেম থেকে।

সকল অধ্যায়
১.
কোথাও নতুন বুদ্ধের যেন জন্ম হয়
২.
জীবনের সাথে আমাদের রূঢ় পরিচয় হয়েছিল
৩.
না জানি কী সব মঙ্গলের দিকে চেয়ে
৪.
কোথাও অনেক দূর যেতে হবে
৫.
হয়তো বা কোনো দূর পিরামিড দেখা যাবে
৬.
আবার নতুন করে পৃথিবীরে বানাবার অধিকার আমাদের নেই
৭.
আমাদের সাহস হারায়ে গেছে বহুদিন
৮.
যদিও রয়েছি বেঁচে
৯.
এই এত পুরোনো নগরী
১০.
যেন কোনো যাদুঘরে ঘুমায়েছে
১১.
ঢের দূর থেকে বন্ধুজনারে চেনা যায়
১২.
মনে হয় যেন মূল চাহুনিতে দিনরাতগুলো ছেঁকে
১৩.
সময়কে ধরে রাখা মহা দায়
১৪.
সূর্যের আলো মেটায় খোরাক কার
১৫.
রজনীর অন্ধকার এইরকম
১৬.
অমোঘ আঁধার রাতে
১৭.
কৃষ্ণ যজুর্বেদ যারা রচেছিল একদিন
১৮.
আমার হৃদয়ে প্রেম কার্তিকের বটের মতন
১৯.
কালো মখমল দস্তানার মতো ধীরে ধীরে আসে
২০.
আমাদের প্রভু বীক্ষণ দাও
২১.
অন্ধকারে আমাদের ইন্দ্রনীল খুঁড়িতেই পাওয়া গেল
২২.
আমাদের অশ্রু শিশিরিত হলুদ পাতার থেকে নয়
২৩.
আমার হৃদয়ে নব নব প্রত্যাশার দূত
২৪.
আমার হৃদয়ে রক্ত থেকে কোনো এক প্রদীপকে জ্বালি আমি
২৫.
হিমের কুয়াশা নাকে
২৬.
আমিও তো মশাল ধরেছি
২৭.
তখন সকল প্রেম মরে যাবে
২৮.
ওইখানে বনানীর তৃণ
২৯.
ঢের কবি মরে গেছে সচকিত হয়ে যেন নিশীথের ভূতের মতন
৩০.
সেদিন—সারাটা দিন—অনেক শ্মশানে
৩১.
কবে চণ্ডীদাস মরে গেছে
৩২.
স্ট্রেচারের ‘পরে শুয়ে কুয়াশা ঘিরিছে বুঝি
৩৩.
সান্ত্বনার কথা ঢের ভাবা গেছে আঁধার রভসে
৩৪.
এইখানে কাকজ্যোৎস্না
৩৫.
প্রথম যৌক্তিক জন্ম নিল
৩৬.
যারা মরে গেছে তাহাদের কথা ভেবে
৩৭.
প্রেম কি জাগায় সূর্যকে আজ ভোরে
৩৮.
অনেক বেসেছি ভালো
৩৯.
মনে হয় হেমন্তের জ্যোৎস্নায়
৪০.
এই নগরীর সেই সব শতাব্দীর ধূসর পরিখা কই

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%