দেবব্রত সান্যাল
আড়াই ঘন্টার ফারাক খুব কিছু বেশি নয়, তবু মানিয়ে নিতে শান্তনুর দু তিন দিন লাগবে। তারপর সক্কাল সক্কাল স্থানীয় ফোনটায়, সেই রহস্যময় বাবার আওয়াজ। ‘বলেছিলাম না আসতে, বাবার কথা শুনলি না। এখনো বলছি, যদি বাঁচতে চাস তো এখান থেকে ফিরে যা।’
শান্তনুর রাতে ভালো ঘুম হয়নি, তারপর বাসি মুখে দৈববাণী, তাও তুই তুই করে। একটা যুৎসই জবাব খুঁজে পাবার আগেই, লোকটা ফোনটা কেটে দিলো। তাতে শান্তনুর মেজাজটা পুরো গরম হয়ে গেলো। সকালের আলোয় সমুদ্র, জেটি, সাদা বালি খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। কিন্তু স্নান ক’রে আবার নোংরা জামা পড়তে হলো বলে শান্তনুর তেতো মুখ তেতোই রয়ে গেলো।
সকালে প্রাতরাশ করতে যেতে হয় কিফারু বলে একটা রেস্তোরাঁয়। সেখানে ছবি দেখে মনে হয় কিফারু মানে গন্ডার। বিশাল কিছু না হলেও, আয়োজন মন্দ নয়। চেনা খাবার জিনিস খানিকটা অন্য চেহারায় বুফের টেবিলে হাজির। শান্তনু নিজের অভ্যেস মতো একবার পরিস্থিতিটা দেখে নিয়ে, একটা সম্ভাব্য খাদ্যতালিকা তৈরি করে ফেললো। ডাক্তার ছেলের অভিভাবকত্বে, শান্তনু ডিমের কুসুম খায় না।এখানে ডিমের সাদা দিয়ে ওমলেট পেতে শান্তনুকে বেশ বেগ পেতে হ’লো। এসব মামুলি ব্যাপার নিয়ে শান্তনু কখনো মাথা গরম করে না। কিন্তু আজ একটু বেশি হৈ চৈ করে ফেললো। তারপর খাবার শেষে কফির কাপ হাতে নিয়ে, রুপালি তবকে মোড়া মহাসাগরের দিকে তাকিয়ে মাথাটা ঠান্ডা করার চেষ্টা ক’রলো। এখন তো ওই বাবার ব্যাপারটা আর ঠাট্টা ইয়ার্কির মধ্যে রইলো না। পরিকল্পনাটা আর যাই হোক না কেনো কোন এফ এম চ্যানেলের মোরগ বানানোর রোগ নয়। সবচেয়ে অবাক কথা, যে স্থানীয় নম্বর তার নিজেরই ঠিক করে মনে নেই, সেটা ওই বাবা জানলো কী করে! কে তাকে কাজটা করতে বাধা দিচ্ছে, কী উদ্দেশ্য? কথায় বলে বাবারও বাবা থাকে। এরও নিশ্চয়ই আছে।
সকাল নটার মধ্যেই সব সেরে, শান্তনু রিসোর্টের বিজনেস সেন্টারের একটা কোণ দখল করে ল্যাপটপ খুলে বসলো। এখানে বসে কাজ করার খুব ভালো ব্যবস্থা। শান্তনুর মনে মনে আশা ছিলো যে, আজ সকালে ওর বাক্সটা পৌঁছে যাবে। ও যখন সুইস পোর্টে ফোন করেছিল, তারাও তাই বলেছিলো। কাতারে কী রোজ কাতারে কাতারে বাক্স হারায়? আর সে অর্থে ওর বাক্সটা মোটেই হারায়নি। পরের ফ্লাইটে উঠিয়ে দিলে আর কত দেরি হয়। কিন্তু সকালে সুশীলাকে হাতে করে শুধু একটা প্যাকেট নিয়ে আসতে দেখে হতাশ হ’লো। প্যাকেটে এক সেট অবশ্য প্রয়োজনীয় কাপড় আর একটা স্লিপিং স্যুট। এর মানে কী শান্তনুর ব্যাগ পেতে আরও দেরি হবে? নাকি ব্যাগটা আর পাওয়াই যাবে না। ব্যাগটা না নিয়ে সাইটে গেলে খুব অসুবিধে হবে। শান্তনু সুশীলাকে জামা কাপড়ের জন্য ধন্যবাদ দিয়েও বললো, ‘সুইস পোর্টটা কেমন মিথ্যে বললো! আবার সন্ধ্যের দিকে ফোন করতে হবে।’
আপনি ব্যস্ত হবেন না স্যার। আমি তো মাঝে মাঝেই খোঁজ নিচ্ছি। আমার তো টেনশন, আপনার কাপড়গুলোর মাপ ঠিক হলো কী না।
‘একটা কথা বলতো, আমার এই ফোনের নম্বরটা কত জনের জানা?’
সুশীলা একটু থতো মতো খেয়ে বললো, ‘কেন স্যার? কোনো অসুবিধে হয়েছে।’
প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্ন শুনলে শান্তনুর বাজে লাগে। কোনো উষ্মা না দেখিয়ে আবার বললো, ‘কত জন জানে?’
‘অনেকেই জানতে পারে স্যার। এই ফোনটা আপনার মতো ভিজিটরদের দেওয়া হয়। তাই বুঝতেই পারছেন।’
শান্তনু ভেবে রেখেছিলো, অনেকটা জমি তৈরিই করা আছে, তাই প্রথমে সাইট দেখে পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে তারপর প্ল্যানটা শেষ করা যাবে। সেটাই উচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্হিতিতে বসে বসে সময় নষ্ট করলে তো চলবে না। ফেরার টিকিট কাটা আছে। মেহেতা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সাথে শেষের দিন দেখা করে প্রেসেন্টেশন দেওয়ার কথা। পাইলট প্ল্যান্টে যদি দেরি হয় তবে আসল কাজ হাতে আসবে কী করে? মিস্টার মেহেতা তো সব জানবেন না, মাঝ থেকে শান্তনুকে অকর্মণ্য ভাববেন। এই বাজারে এমন একটা কাজের সুযোগ হারানো খুব দুর্ভাগ্যজনক হবে। শান্তনু সময় নষ্ট না করে, সুশীলাকে নিয়ে বসে গেলো। সুশীলা বেশ কিছু ডাটা নিয়ে এসেছিলো। কিছু ওরা আগেই মেলে পাঠিয়েছিল। শান্তনু সেসব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মিলিয়ে দেখতে শুরু করলো।
মেহেতারা যে পাইলট প্ল্যান্ট বানাতে চাইছে, তাকে ঠিক পাইলট প্ল্যান্ট বলা যায় না। যেন ছোট মাপের একটা কারখানা। এই নিয়ে শান্তনু আগেও প্যাটেলকে বলেছিল’। খরচের দিকটাও তো দেখতে হবে। প্যাটেল জানিয়েছিল, ওদের বস নাকি এমনটাই চান। মুশকিলটা হচ্ছে আগে একবার মি. মেহেতার সাথে কথা হলে, শান্তনু তাকে বুঝিয়ে বলতে পারতো, যে অযথা পুঁচকি প্ল্যান্টের পিছনে পয়সা খরচ করার দরকার নেই। তবে এখানে এসে মেহেতাদের সম্পত্তির নমুনা দেখে বুঝেছে, আর যাই হোক টাকা পয়সা মেহেতাদের যথেষ্টই আছে। আছে তো বেশ, তা বলে জলে ফেলতে হবে। ধীরে ধীরে কাজের মধ্যে ডুবে গেলো শান্তনু। মেহেতারা তো বৈজ্ঞানিক নয়, ব্যবসায়ী। এদের কথায় বোঝা গেলো এরা পাইলট প্ল্যান্ট, একেবারে নিখুঁত করে বানাতে চায়। যেন সব অটোমেশন নিয়ে একটা ছোট্টো কিন্তু পুরো দস্তুর প্ল্যান্ট। যেখানে বাকি ওরের থেকে আয়রন ওর কে আলাদা করা যাবে। শুধু তাই নয়। আয়রন ওর আলাদা করার পর, যেসব ধাতু চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না তাদের প্রত্যেকটাকে আলাদা করে দিতে হবে। এই কাজটা গতানুগতিক কাজের বাইরে, সাধারণত, লোহা বের করে নিয়ে বাকি সামান্য যা থাকে সেটা ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু এরা তো কিছুই ফেলতে চায় না। আর এই বিশেষ প্রযুক্তিই শান্তনুর বিশেষত্ব। কলকাতায় বসে শান্তনু ওদের টেস্ট রিপোর্ট দেখে টেখে মোটামুটি কী ভাবে কী করবে ছকে রেখেছিলো, কাজ হাতে পেলে এগিয়ে রাখা শান্তনুর স্বভাব, খোঁজ খবর, যোগাযোগ করে প্রাথমিক কাজটা করে রেখেছে। এখন সুশীলার কাছে নতুন পাওয়া তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখে নিয়ে শান্তনু ঝড়ের বেগে কাজ করে চললো। সুশীলা যদিও কোনো সাহায্য করতে পারছিলো না। আরও ঠিক করে বললে, শান্তনু তার কাজে অন্য কারো নাক গলানো সহ্য করে না। কাজের মাঝখানে উঠে গেলে কম্পিউটার বন্ধ করে যায়। আগে এতটা সাবধান ছিলো না। এক দুবার ঠেকে এবং ঠকে তবেই শিখেছে। ফোন আর ল্যাপটপ একই গোত্রের ব’লে একটা গাঁটছড়া বাঁধা আছে। তাছাড়া আঙুলের ছাপ, পাসওয়ার্ড তো আছেই। সুশীলা চুপচাপ ব’সে রইলো, কখনো উঠে গেলো, ফোনে কথা বললো। দুপুরের দিকে সুশীলা উসখুস করছিল।
‘স্যার লাঞ্চ করবেন না?’
শান্তনু কাজে এতটাই মশগুল হয়ে গিয়েছিলো যে ভেবেছিলো, পিৎজা টিজা আনিয়ে কাজ চালাবে।
সুশীলার ওসব খেতে ঘোর আপত্তি। শেষে স্থানীয় খাবার খাওয়া ঠিক হলো।
একটা থালিতে অনেক কিছু, পিলাউ মানে প্রায় পোলাও - প্রচুর গরম মসলা দেওয়া হলুদ রঙের ভাত। অচিচা মানে পালং শাকের তরকারি, বিনসের তরকারি, মোটা সাদা ভাত, একখানা পুরো মাছ কায়দা করে কাটা আর মাংস। শান্তনুর তো দিব্যি লাগলো। খেয়াল করে দেখলো সুশীলা দিব্যি মুরগির ঠ্যাং চিবোচ্ছে।
শান্তনু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো, ‘তোমার নন ভেজ চলে?’
‘আমাকে সব কিছু চালাতে হয় স্যার।’
শান্তনু কথাটার মর্মোদ্ধার করতে না পারলেও চেপে গেলো। যদিও দুদিন ধরে সুশীলাকে দেখছে, তবু ওর বিয়ে হয়েছে কিনা জানে না। একটু মন দিলে হয়তো সেটা অনুমান করা যেত, কিন্তু শান্তনু ঠিক পরনারীতে মনোনিবেশ করার মানসিকতা রাখে না। ও প্যাটেলের সহকারিণী, সে তো ঠিক আছে, কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি বোঝার উপায় নেই।
বিকেলে চা খাবার সময়, সুশীলা একবার বললো, ‘স্যার সারাদিন তো অনেক কাজ হলো, আজ সন্ধ্যেবেলা বাইরে যাবেন, ডিনারে? এখানে আকেমি বলে একটা রিভলভিং রেস্তোরাঁ আছে। গোল্ডেন জুবলি টাওয়ারের একুশ তলায়। সারা শহরটা খুব সুন্দর দেখায়। ভালো লাগবে স্যার।’ শান্তনু ভাবলো এই মেয়েটার মাথায় খাওয়া ছাড়া কী আর কিছু নেই। এই তো দুপুরেই এতগুলো খাওয়া হলো।
শান্তনু বিরক্ত হয়ে বললো, ‘বাইরে ডিনারে যাবো এই নোংরা জামা কাপড়ে? রেস্তোরাঁর দারোয়ান দরজা থেকে ভাগিয়ে দেবে। আমি বরং আজ রাতে ঘরে খাবার নিয়ে নেবো আর প্রসেস ডিজাইনটা শেষ করে ফেলবো।’
সুশীলা আর পীড়াপীড়ির মধ্যে গেলো না। বাইরে যাবার পরিকল্পনা যখন ভেস্তে গেলো, তখন সন্ধ্যের দিকে সুশীলা উঠবো উঠবো করছিল, তখনই হঠাৎ করে এক গাল হাসি নিয়ে সুরেশ প্যাটেল এসে হাজির। প্রথমত কাল থেকে একটা ফোন ছাড়া আর কোনো পাত্তাই নেই, তার উপর ধপধপে জামাকাপড় পরে এসেছে। শান্তনুর পিত্তি জ্বলে গেলেও মুখে হাসি মেখে হাত বাড়িয়ে দিলো। তারপর প্যাটেলের ন্যাকা ন্যাকা করে, ‘কোনো কিছুর অসুবিধে নেই তো?’ শুনেও মাথা ঠিক রাখলো।
সুশীলা মুখ উজ্জ্বল করে বললো, ‘কাজ খুব ভালো হচ্ছে স্যার। চ্যাটার্জী সাবের পাইলট প্ল্যান্টের ডিজাইন তো প্রায় হয়েই এসেছে।’
প্যাটেল বোদ্ধার মতো মুখ করে বললো, ‘তাহলে তো ভালো হবে। ডিজাইনটা টেকনিক্যাল টিমের হাতে দিয়ে দাও, ওরা ফ্লো চার্ট বানাতে শুরু করুক। কাজ এগিয়ে যাবে।’
এদের এক কথা কতবার বলতে হয়? আজকের দিনে ঘরে ব’সে কাজ করতে চাইলে কলকাতা আর দার এস সালামে বিশেষ তফাৎ নেই। এই রিসোর্টে ব’সে শান্তনু যা করেছে, সেটা অঙ্ক। সেটা ঠিক না ভুল তা সাইটে গিয়ে জানতে পারবে। শান্তনুর মনে হলো একটু চাঁচাছোলা কথা বলার সময় এসেছে, ‘এতো তাড়াহুড়ো ভালো নয়, মিঃ প্যাটেল। জানেন তো, ঘোড়ার নালের জন্য রাজ্য চলে যায়। শুধু পাইলট প্ল্যান্ট করলেই তো কাজ শেষ নয়। আপনি কী জানেন না, আপনাদের বস, আমাকে জমি নির্বাচনেও মতামত দিতে বলেছেন। সেটাতো এখানে বসে হবে না। তাই সাইট না দেখে আমি প্ল্যান কাউকে দেবো না।’
প্রায় তিরিশ সেকেন্ডের মতো নীরবতা।
সুশীলা ক্যাবলা ক্যাবলা মুখ করে থাকলো। আর প্যাটেল নিরুত্তাপ মুখ করে বললো, ‘কাল সকাল সাড়ে আটটায় গাড়ি আসবে, আমরা সাইট দেখতে যাবো। চেক আউট করে তৈরি থাকবেন। পেমেন্ট আমরা করবো।’
শান্তনু অবাক, ওর জামা কাপড় ছাড়া যাবে কী করে? যেন ওর মনের কথা বুঝতে পেরে প্যাটেল বললো, ‘ভালো খবর, আপনার লাগেজ এসে গিয়েছে। রিসেপশন থেকে আপনার ঘরে পাঠিয়ে দেবে। শুভরাত্রি।’
ঘরে ঢুকে টেবিলের ওপর নিজের ছেড়ে আসা সুটকেসটা পেয়ে পুরোনো বন্ধুর সাথে পুনর্মিলনের আনন্দ হ’লো শান্তনুর। সুটকেসটার গায়ে বেশ কিছু অতিরিক্ত কাগজ ও সাঁটা আছে। কম্বিনেশন ঠিক করে তাড়াহুড়ো করে সুটকেসটা খুলে ফেললো শান্তনু। দেখে তো মনে হলো সবই ঠিক ঠাক আছে। কিছু খোয়া যায়নি, যাবার কথাও নয়। কিন্তু কী যেন একটা অসুবিধে লাগছে। মনে হচ্ছে, ভিতরের জিনিস ঘাঁটাঘাঁটি হয়েছে, তারপর একদম সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। তালা তো বন্ধ ছিলো আর ভিতরে দামি কিছু তো ছিলো না। তাহলে এসব কী হচ্ছে!
ঘন্টা দুয়েক কাজ করে প্রাথমিক কাজটা শেষ করলো শান্তনু। এরপর যা সংগ্রহ হবে, তারপর পুরো রিপোর্টের চেহারা নির্ভর করছে। কিছু কিছু কাজ কলকাতায় তার সহকারীকে দিয়ে এসেছিলো শান্তনু। সেই মেলটাও এসে গিয়েছে। প্যাটেলের সাধের পাইলট প্ল্যান্ট মোটের ওপর তৈরি। আর আধ ঘন্টা খানেক সময় দিয়ে শেষ ছোঁয়াটা দিতে হবে।
রাতে ছেলেকে হোয়াটস্যাপে ডাকলো শান্তনু।
‘বাবা, ছবিগুলো দারুণ এসেছে।’
‘হ্যাঁ, ওই ছবি তুলতেই তো এখানে এসেছি।’
‘কী ব্যাপার? অসন্তুষ্ট হলে কেন, সুটকেস পৌঁছায়নি। আর কী? খাওয়া ঠিক হয়নি?’
‘তুই ও সুশীলার মতো খালি খাওয়া।’
‘সেটা আবার কে?’
‘আছে, প্যাটেলের চর, আমার ঘাড়ের ওপর বসে থাকে।’
‘আর?’
‘এদের হাবভাব, ঠিক লাগছে না।’
‘এদের মানে কাদের? কোম্পানি না তোমার প্যাটেলদের?’
‘প্যাটেল আর কোম্পানি কী আলাদা?’
‘হতেও তো পারে।’
‘তাহলে তো আরো গোলমাল! সব কিছুই কেমন কেমন জানি।
‘আরেকটু খুলে বোলো। কী কেমন কেমন?’
শান্তনু বিনীতকে সব শঙ্কার কথা খুলে ব’ললো।
‘তোমার ওই মেয়েটা খাওয়া ছাড়াও কিছু কিছু জানে বাবা। ধরে নিলাম, ওই মেয়েটার দেওয়া ফোনের নম্বরটা অনেকেরই জানা। কিন্তু সেই বাবা তো দুবার ফোন করেছিল। এমন মানুষ তো বেশি নেই যারা তোমার দুটো নম্বরই জানে?’
‘প্যাটেলটা তো তাহলে পাজি আছে। কিন্তু কেন?’
‘আচ্ছা, তোমাকে যে ফোনটা দিয়েছে, সেটা কেমন ফোন। মানে স্মার্ট ফোন কি?’
‘না, না নোকিয়ার সেই পাতি আনস্মার্ট ফোন।’
‘ভালো তার মানে কোনো স্পাই অ্যাপ ট্যাপ লাগাতে পারবে না। তাও একবার ফোনটা খুলে পুরো চেক করো। ভিতরে বাড়তি কিছু দেখলেই খুলে রেখে দেবে।’
‘মনে হচ্ছে এদের পাইলট প্ল্যান্টের ডিজাইনটা নিয়ে সব মাথা ব্যথা। ঠিক বলে বোঝাতে পারবো না।’
‘তাতে দোষের কী?’
‘যেটা আসল কাজ, মানে স্টিল প্ল্যান্ট। যেন এলেবেলে। যেন না করলেও চলবে।’
‘হয়তো তাড়াতাড়ি করে কিছু করবে না। কয়েক মাস শুধু পাইলট প্ল্যান্টই চালাবে।’
‘তেমন আবার কেউ করে নাকি? আর যদি করে, তবে কেন?’
‘বুঝলাম। একটা কাজ করো। ওখানে নেট কেমন।’
‘ভালো।’
‘বেশ, যা বলছি, কোনোটা বাদ না দিয়ে এক এক ক’রে ক’রে যাও।’
ছেলে যেমনটা বলেছিলো, ঠিক তাই করে খুশি হয়ে গেলো শান্তনু।
‘ডিজাইন চাই? দেখ কেমন লাগে।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন