সাত

দেবব্রত সান্যাল

বিনীতকে খেতে ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে ওর মা বিরক্ত হয়ে বললো, ‘কী এতো খুটখুট করছিস ল্যাপটপে।’

‘বোসো বলছি।’

‘আমার কাজ আছে।’

‘কাজ পরে হবে। বোসো, খুব দরকারি কথা আছে।’

‘সিরিয়া না আফগানিস্তান?’

‘এবার তানজানিয়া।’

‘এক তোর বাবায় রক্ষা নেই, আবার তুই। তানজানিয়ার দেখছি খুব খারাপ অবস্থা।’

‘বাবা যেখানে প্ল্যান্ট বানাবে বলে গিয়েছে না, সেই জায়গাটার নাম মাগাঙ্গা মাটিটু।’

‘কী সুন্দর নাম। একদম জলতরঙ্গ বেজে উঠলো!’

‘শোনো না, পুরো হলিউড ছবির গল্প। মাগাঙ্গা মাটিটুর কাছে লুপালী নদীর ধারে একটা গ্রাম মতো ছিলো। সেখানে সাত আট বছর আগে কর্নেল নোয়াম বলে একজন আর্মি অফিসার, তার দলবল নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প বসাবে বলে ওখানকার লোকদের জায়গাটা খালি করতে বলে। গ্রাম খালি করে দাও বললেই হলো। তবে মিলিটারি বলে কথা। গ্রামের কিছু লোক ভয় পেয়ে পালায়। কিন্তু কিছু লোক বলে, গ্রাম ছাড়বো না। সেখান থেকে বাদানুবাদ শুরু হয়। কর্নেল নোয়াম মত্ত অবস্থায় গ্রামবাসীদের ওপর গুলি চালায়। তারপর সবাইকে নদীর ধারে কবর দিয়ে দেয়। দেশের প্রত্যন্ত জায়গায় নরসংহারের খবর, মিথ্যে রিপোর্টের নিচে চাপা পড়ে যায়। কর্নেলের সঙ্গীরাও কেউ মুখ খোলে না। অবস্থার ফেরে কর্নেল নোয়াম এখন দেশের রক্ষা বিভাগের চূড়ায়। নোয়াম নিজে সতর্ক থাকে যাতে ওই জমিতে আবার করে কোনো কিছু না হয়। যদি মেহেতা গ্রুপ প্রজেক্ট করার জন্য ওই জমিটা নেয়, তাহলে তো জমি খুঁড়লেই গণ কবর বেরিয়ে পড়বে। ও সেটা হতে দেবে না, যে করেই হোক সেটা আটকাবে। আর ওর হাতে অনেক ক্ষমতা।’

‘সে কিরে? তোর বাবা তো ওখানেই গেছে। ও যেন এসব ব্যাপারে একদম নাক না গলায়।’

‘আরে না, বাবা এমন লোকই না, নামের মতোই শান্ত।’

‘কিন্তু ওরা যদি পিছনে লাগে। যদি ক্ষতি করার চেষ্টা করে।’

‘হুম। সেটাই। তবে বাবা তো রওনা হয়ে যাচ্ছে।’

‘এত সব তুই জানলি কী করে?’

‘কিছুটা বাবার কাছে শুনে, কিছুটা নেট ঘেঁটে, কিছুটা কল্পনা। তবে ওই লুপালী নদীর ধারে একটা মাস গ্রেভ আছে তাতে সন্দেহ নেই।’

‘এখানে এই কলকাতায় বসে তুই কী করছিস?’

‘আমি তো একটা প্রেস রিলিজ বানালাম, পুরো গল্পটা লিখলাম। যা তথ্য প্রমাণ ছিলো সব দিলাম। ছবি টোবি দিয়ে। তারপর নেট থেকে তানজানিয়ার অনেক কটা টিভি আর খবরের কাগজের মেল আইডি জোগাড় করলাম। বাবার কাছ থেকে সিগন্যাল পেলে, তার পর মেলগুলো পাঠাবো। কাল দার এস সালামে একটা ফাটানো খবর হবে। যাকে চলতি ভাষায় বলে ব্রেকিং নিউজ।’

‘ওরা যদি পাত্তা না দেয়? ভাবে কে না কে মজা করছে।’

‘সবাই এক কথা ভাববে? আরে নোয়ামেরও তো প্রতিদ্বন্দ্বী আছে, তারা উঠে পড়ে লাগবে। তোমার ওই নোয়াম একেবারে কেঁপে যাবে।’

‘আপদ! নোয়াম টোয়াম আবার আমার হলো কবে থেকে।’

‘হা হা হা!’

‘এখন তোর বাবার কী খবর, সব ভালোয় ভালোয় মিটেছে। হোটেলে ঢুকেছে? আবার সুটকেস হারায়নি তো।’

‘তুমি তো অন্তর্যামী। তবে পেয়েছে।’

একটু ফিরে গিয়ে,

গতকাল বিকেলে শান্তনু আর উইলসনের দল রাস্তার ধারের একটা কফি শপের কোণের টেবিলে গিয়ে বসলো।

‘কফির সাথে স্যান্ডউইচ?’ শান্তনু সম্মতি সূচক ঘাড় নাড়লো।

‘আপনার প্রজেক্ট রিপোর্টটা সরকার দেখতে চায় মি.চ্যাটার্জী। তার সাথে আপনি কী কী ডকুমেন্ট জোগাড় করলেন তাও।’

অনেক দুঃখে শান্তনুর মুখে হাসি ফুটলো, ‘প্রজেক্ট কিসের প্রজেক্ট?’

‘কেন, মেহেতা গ্রুপের স্টিল প্ল্যান্ট।’

‘ওখানে কোনো স্টিল প্ল্যান্ট হবে না, ডঃ উইলসন। কোনোদিন না।’

‘তার মানে? আমরা যে শুনলাম।’

‘আমিও শুনেছিলাম। কিন্তু এসে যা দেখলাম তা থেকে বুঝতে পারলাম ওই ওরে টাইটেনিয়াম এমন ওতপ্রোত ভাবে মিশে আছে যে বেনিফিসিয়েশন করে তাকে আলাদা করা খুব কঠিন। এতে যা খরচ হবে, তাতে স্টিল বানিয়ে পোষাবে না। ওই ওর দিয়ে স্টিল বানালে কোনো লাভ নেই। তাই এমন পাগলামো ভবিষ্যতেও কেউ করবে না।’

‘আপনি নিশ্চিত জানেন? ওখানে স্টিল প্ল্যান্ট হবে না।’

‘এই জানাটাই তো আমার কাজ ডক্টর।’

‘ও ভগবান। তাহলে তো এতসবের দরকারই ছিলো না।’

‘ছিলো নাই তো। মাঝ থেকে কটা প্রাণ গেলো। একটা কথা জিজ্ঞেস করবো ডক্টর, ওখানে ইস্পাতের কারখানা হলে, রক্ষা মন্ত্রণালয়ের কী অসুবিধে?’

‘সে সব আমাদের নিজেদের ব্যাপার। আপনি না জানলেও চলবে।’ মোজেস বিশ্রী ভাবে বলে উঠলো।

ডঃ উইলসন তাকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললো, ‘ওখানে আমাদের একটা প্রজেক্ট আসছে। আমাদের ব্যাপার একান্ত গোপনীয়। তাই এসব নিয়ে কোনো রকম আলোচনায় থাকবেন না। আমাদের দেখা হয়নি ভেবে ভুলে যান।’ উইলসন কফি ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। সাথে সাথে মোজেসও।

‘আপনি আমাদের সাথে আসতে পারেন। আমরা আপনাকে আপনার হোটেলে ছেড়ে দেব। কাল রাতের ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন তো?’

এদের সঙ্গ একদমই স্বস্তিকর নয় জেনেও, শান্তনু অচেনা জায়গায় কী করবে ভেবে না পেয়ে, ওদের গাড়িতে যাওয়াই মনে মনে স্থির করলো। সাথে সাথে ওর ফোনে একটা মেসেজ এলো। নম্বর চেনা নয়। ‘ওদের সাথে যেও না- ম্যাক।’

‘কী, আসবেন মি.চ্যাটার্জী?’

শান্তনুর মুখটা যথেষ্টই বেজার ছিলো, তাই আর চেষ্টা করে কিছু করতে হলো না।

‘আপনারা রওনা হয়ে যান ডক্টর। আমি একটু বিশ্রাম নেবো। অনেক ধন্যবাদ।’

ওরা আর কথা না বাড়িয়ে রওনা হয়ে যাওয়া মাত্রই কোথা থেকে ম্যাক এসে হাজির।

‘মেসেজ তুমি পাঠিয়েছিলে?’

‘হ্যাঁ স্যার। ওরা খারাপ লোক। ওদের গাড়ির ব্রেকও খারাপ। যে কোনো সময় অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে।’

‘তার মানে?’

‘গাড়িতে উঠে আসুন। আমি সব বলছি।’

ম্যাকের গল্পটা বড়ো অদ্ভুত।

ম্যাকের বাড়ি ছিলো লুপালী নদীর ধারে। পুরো গ্রামেরই কাজ ছিলো পাশের পাহাড়ের গা থেকে পাথর নিয়ে এসে, ভেঙ্গে, ধুয়ে, গলিয়ে তামা তৈরি করা। অবশ্যই বেআইনি কাজ, কিন্তু আইনের শাসন ওদের জীবনে কোনো প্রভাব ফেলেনি। একজন মাঝে মাঝে এসে তামা নিয়ে যেত। দিয়ে যেত, ভুট্টা, মিষ্টি আলু, চাল, লবন, কাপড় আরও কত কী। বেশ চলে যাচ্ছিলো ওদের জীবন। বছর আটেক আগে একদিন, তখন ম্যাকের বয়েস বারো তেরো হবে। আর্মির লোক এসে বললো, জায়গা খালি কারো। সেই দলে এই মোজেসও ছিলো। বলে যুবতী মেয়েরা শুধু থাকুক। ক্যাম্পের কাজ করবে। বাকিরা চলে যাক। ম্যাকের বাবা সেই ক’জনের মধ্যে ছিলো যারা বাধা দেয়।

ওরা তখন কিছু বলে না চলে যায়। গ্রামের লোকেরা সন্ধ্যে বেলা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একমত হতে পারলো না। ম্যাক দূর থেকে শুনেছিলো। মিলিটারিকে এরা ভয় পায়, কিন্তু যাবার জায়গায় তো নেই। সিদ্ধান্ত হয় আর্মির কথা না শোনার। কেউ কেউ রাতের বেলাতেই পালিয়ে গেলো। ভোর রাতের দিকে, আর্মি ফিরে এসে ওদের ওপর গুলি চালায়। মোজেসকে ম্যাক ভুলবে না। বাবাকে গুলি খেয়ে মাটিতে পড়ে যেতে দেখেছে। বাবা বললেন, পালা। কিভাবে পালিয়ে কাছের গ্রামে পৌঁছেছিল, সেই জানে। আর্মি দলের প্রধান এখন খুব প্রভাবশালী লোক। মুখ খুললেই মাথা থাকবে না। ম্যাকের ধারণা স্যার তো বাইরের লোক। স্যার যদি কিছু করতে চায়, করতে পারে। মোজেসকে ও রিসোর্টে আসতে দেখেছে। ও চেহারা ভোলার নয়। তখনি ভেবেছে, প্রতিশোধ নিতে হবে আর এই ভারতীয় স্যারের মাধ্যমে কথাটা সবাইকে জানাতে হবে।

ফেরার পথে দেখলো ড.উইলসনের গাড়িটা উল্টে পড়ে আছে। একটা মালবাহী গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগেছে। ইতস্তত রক্তের দাগ। গাড়ির আরোহীদের নাকি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ড্রাইভার নাকি মারাই গেছে। পিছের সীটের জনেরও অবস্থা ভালো নয়। দেখে শান্তনুর হাত পা কাঁপছিলো, কিন্তু

ম্যাক বেশ নির্লিপ্ত ছিলো।

‘আমি যতটা পারলাম, করলাম স্যার। পরের কাজটা আপনার।’

রিসর্টে আসতেই রিসেপশন থেকে বললো, মি. মেহেতার অফিস থেকে শান্তনুর খোঁজ হচ্ছে।

‘মি. চ্যাটার্জী। ভগবানকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি ঠিক আছেন। স্যার আপনার সাথে কথা বলতে চান।’

‘হ্যালো! আমি চ্যাটার্জী।’

‘মি. চ্যাটার্জী, এসব কি হয়ে গেলো! সুশীলা খবর দিলো, প্যাটেল আর ড্রাইভার খুব মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছে। আর আপনাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

‘আমি ঠিক আছি। কাল আপনার অফিসে আপনার সাথে মিটিং করে সব বলবো। আজ খুব ক্লান্ত। তবে একটা কথা, আপনি ছাড়া মিটিঙে আর কেউ যেন না থাকে।’

‘ঠিক আছে আমার সেক্রেটারিকে বলে দিচ্ছি, সব ব্যবস্থা করে দেবে।’

ঘরে ঢুকেই শান্তনু বিনীতকে যোগাযোগ করলো। এলোমেলো করে হলেও সব কথাই বললো। বিনীত মন দিয়ে শুনলো। তারপর বললো, ‘উসিএ না ওয়াসিওয়াসী, বোয়ানা।’

‘বোয়ানা কথাটা জানি, ঘনাদার গল্পে পড়েছি।’

‘চিন্তা কোরো না। আমি একটা বুদ্ধি করছি শোনো।’

রাতে সুশীলার ফোন এলো। কাঁদো কাঁদো আওয়াজ।

‘স্যার, আপনি ভালো আছেন তো? ওরা আপনার কিছু করেনি তো?’

‘হতাশ করার জন্য দুঃখিত। ভালো আছি।’

‘এমন কথা বলবেন না স্যার, আমি কখনো আপনার খারাপ চাইনি।’

‘তোমার চাওয়া তুমিই জানো! তো, কেমন আছে তোমাদের প্যাটেল?’

‘ভালো না স্যার, বাঁচলেও কতটা ঠিক হবে বলা যায় না।’

‘একটা কথা বলি সুশীলা, তোমার বয়েস অল্প, এসবের মধ্যে আর এসো না।’

‘আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন স্যার। আমি যা করেছি, প্যাটেল স্যারের আদেশে। আমার নামটা কাউকে বলবেন না। আপনি যা বলবেন...’

‘নাহ! আবার ঘুষ দেবার চেষ্টা করছো!’

‘ভুল বুঝবেন না স্যার। চাকরিটা গেলে আমার চলবে না।’

‘বেশি চিন্তা করো না। তুমিই তো শিখিয়েছো, হাকুনা মাটাটা।’

বিনোদভাই মেহেতা জন্মসূত্রে তানজানিয়ায় আছেন। মেহেতা গ্রুপের প্রতিষ্ঠা তার বাবা হারসুখলাল মেহেতার হাতে। তাঞ্জানিয়াতে তখন প্রচুর ব্যবসার সুযোগ। ধীরে ধীরে ভারতীয়রা আরও সোজা করে বললে গুজরাতিরা জাঞ্জিবারের পুরো ব্যবসাটাই প্রায় দখল করে নেয়। এতে স্থানীয় লোকেদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পরে। মেহেতারা তখন তানজানিয়া আর তার আশেপাশের দেশে কারখানা বসাতে থাকে। সরকারি মহলে বন্ধু বাড়ে। মেহেতাদের কোম্পানিতে গুজরাতির সংখ্যা বাড়তে থাকে। দার এস সালামে হিন্দু মন্দির, হাসপাতাল তৈরি হয়। দোকানে ঢোকলা, খেপলা, খাকরা এসব পাওয়া যেতে থাকে।

বিনোদভাই মাতৃভাষার সাথে স্থানীয় ভাষা সমান দক্ষতায় বলতে পারেন। শিক্ষিত, বয়েস তেষট্টি হলেও বেশ কর্মঠ। ইংরেজি, হিন্দী দুটোই গুজরাতি টানে বলেন।

নিজের অফিস ঘরে বসে শান্তনুর সব কথা শুনলেন বিনোদভাই। শুনতে শুনতে সামনের প্যাডে কিছু কিছু লিখলেনও।

‘স্টিল প্ল্যান্ট করা যাবে না সেজন্য হতাশ হবার কিছু নেই। এর থেকে থেকে সোনা আর সাথে তামা বের করলে অনেক বেশি লাভ হবে। আপনি হয়তো জানেন এমনিতেই তানজানিয়ায় বছরে পঞ্চাশ টন সোনা তৈরি হয়, যার অনেকটাই রপ্তানি হয়। ভারতেও যায়। এক্ষুনি আপনার প্ল্যান্ট বানানোর দরকার নেই, আর সোনার জন্য আমার প্ল্যানটা বেশ কিছুটা পাল্টাবো। আমার সাথে অল্প পরিমাণ স্যাম্পল নিয়ে যাচ্ছি, এক্স রে ফ্লুরোসেন্স যন্ত্রে টেস্ট করার জন্য যথেষ্ট। আপনার তো উপর মহলে যথেষ্ট প্রতিপত্তি, আশাকরি অনুমতি পেতে বেশি সময় লাগবে না।’ শান্তনু রিসর্টের থেকেই পঞ্চাশ পাতার রিপোর্ট ছাপিয়ে এনেছিল, এক কপি বিনোদ ভাইয়ের হাতে তুলে দিলো। ‘একবার নমুনা পরীক্ষায় আমার কথা প্রমাণ হয়ে যাক, আর যদি কাজ কিছু শিখে থাকি তাহলে আমার অনুমান নির্ভুল, সবকিছু প্রমাণ যোগ করে রিপোর্টটা দেশে গিয়ে দু’সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে পাঠিয়ে দেব। ততদিন জায়গাটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা একদম কড়া করে দিন আর অসৎ লোকেদের সরিয়ে দেবেন, সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’

‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, চ্যাটার্জী সাব। আপনার সাথে যা যা হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিক দুঃখিত। আপনি ইন্ডিয়ায় ফিরে গিয়ে আপনার ইনভয়েসটা পাঠিয়ে দেবেন, পেমেন্ট হয়ে যাবে। বছর খানেক পর, আপনাকে আবার আসতে হবে। এর মধ্যে আমরা তো যোগাযোগ করেই চলবো। আর আপনার জন্য একটা সামান্য উপহার। অনুগ্রহ করে গ্রহণ করুন।’

এয়ারপোর্টে পৌঁছে সব কিছু সেরে শান্তনুর হাতে প্রায় ঘণ্টা খানেক সময়। দোকানে যাবার সময় হয়নি। তাই বেশি দাম হলেও এয়ারপোর্টের দোকান থেকে কিছু উপহার কিনলো। বিনোদ ভাইয়ের গিফটের ছবি তুলে বিনীতকে পাঠিয়েছিল শান্তনু। এয়ারপোর্টে ব’সে, হোয়াটসঅ্যাপে দেখলো বিনীত লিখেছে, ‘এই তাহলে তানজানাইট। বিনোদভাই মেহেতা তোমার ওপর দেখছি বেজায় খুশি। নাকি তোমার হয়রানির ক্ষতিপূরণ? প্যাটেল তো আলাদা করে কেউ না, মেহেতা গ্রুপের লোক। ওনার পিঠের পিছে গ্রুপের লোক কোথায় কী করছে হয়তো সব জানা মি. মেহেতার পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু এতো বড় ষড়যন্ত্র আর উনি কিছুই জানছেন না, সেটা কোনো কাজের কথা নয়। বলতে খারাপ লাগছে, তবে তোমাদের বিনোদ ভাই বিদেশে জন্মেও প্রাদেশিকতার উর্দ্ধে উঠতে পারেনি। যাক এখন থেকে ঠিক দেড় ঘন্টা পর মেলটা ছাড়ছি। ফ্লাইট দেরি হলে অবশ্যই জানাবে, মেল পাঠাবার সময়টা পিছিয়ে দেবো। আমার জন্য টি শার্ট নিয়েছো?’

‘ওই তাড়া হুড়ো করে নিলাম, তবে বুকের ওপর কিন্তু একটু আঁকা টাকা আছে। তুই পরবি তো আবার! আর লেখাও আছে, হাকুনা মাটাটা।’

অধ্যায় ৮ / ৮
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%