শৈলেন ঘোষ
রাজবাড়ি। রাজবাড়ির সোনার চূড়া আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। রাজবাড়ির মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলো সোনার চূড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। চূড়ায় চূড়ায় আলোয় আলোয় ঝিকিমিকি। সোনার পাখি অরুণ, বরুণ, কিরণমালাকে সঙ্গে নিয়ে রাজবাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। অরুণ, বরুণ, কিরণমালার রাজবাড়ি দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। অবাক হয়ে চেয়ে রইল সেই দিকে।
সোনার পাখি
ঐ দেখ রাজবাড়ি।
কিরণমালা
চোখে তার অবাক চাউনি
কী করব এবার?
সোনার পাখি
আমি এখানে লুকিয়ে থাকি, তোমরা রাজবাড়ির ভেতরে যাও।
অরুণ
আমরা? একা একা? কেমন করে যাব?
সোনার পাখি
সিধে ঐ সিংদরজা দিয়ে চলে যাবে।
কিরণমালা
গিয়ে কী করব?
সোনার পাখি
সোজা রাজার কাছে যাবে।
তিনজনে
রাজার কাছে গিয়ে?
সোনার পাখি
রাজাকে নেমন্তন্ন করে আসবে। বলবে কাল তোমাদের বাড়িতে তাঁর নেমন্তন্ন।
অরুণ
রাজা কখনও আমাদের বাড়িতে আসেন?
বরুণ
ছোট্ট কুঁড়ে ঘর আমাদের!
কিরণমালা
বসতে দেব কোথায়? লজ্জা করবে না?
সোনার পাখি
লজ্জা কিসের? মনে আছে একদিন তিনি তোমাদের ফুলের বনে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন? তোমরা সেবা করে ভাল করেছিলে?
বরুণ
অবাক হয়ে গেল
তুমি কেমন করে জানলে?
সোনার পাখি
আমি জানি। আমি যে মায়াপুরীর পাখি!
তিনজনে
হাত ধরাধরি করে রাজবাড়ির সিংদরজায় ঢুকতে ঢুকতে বলতে লাগল।
তাই ভাল, এই ভাল
সেই ভাল ভাই,
রাজাকে নিমন্ত্রণ
করে আসি তাই!
পাখি লুকিয়ে রইল সিংদরজার বাইরে। ওরা হারিয়ে গেল রাজবাড়ির ভেতরে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন