শাশ্বত কর

‘...পিছুটান রাখতে নেই বাবা, যে কাজে যাচ্ছ কেবল সেই কাজেই মন দাও৷ পিছুটান হল মোহ, মায়া৷ তোমার চলার পথে পাথর৷ চলতে চলতে বেখেয়ালে সেখানে ঠোক্কর খাবে৷ হাত ভাঙতে পারে, নাক ভাঙতে পারে—মোদ্দা কথা তোমার কাজ পণ্ড হবেই হবে৷ পিছুটান—নেই, তো এগোনোর বেগ পুরো জেট! কখন যে মুক্তি বেগ পেয়ে মহাকাশে স্বয়ং ঈশ্বর সমীপে ঠাহর করতে পারবে না! ঈশ্বরই তো সার, বাকি সব অসার৷ অসার আঁকড়ে ষাঁড়ের মতো হামলিয়ে হামলিয়ে ঢেউ ঢেউ করে মাঠে চরবে, না কি শান্ত সমাহিত চিত্তে পরম শান্তিতে মৃদুমন্দ বাতাসে শরীর জুড়োবে সে সিদ্ধান্ত একান্ত তোমাদের৷ আর যদি আমাকে মানো, পরম প্রেমময় ঈশ্বরের সন্তান হিসেবে আমি কেবল তোমাদের সমস্ত পিছুটান মুক্ত করে কেবল অগ্রগমনের কথা বলব৷ চরৈবেতি চরৈবেতি!’
বড়োপিসের মুখের কথা প্রায় ছিনিয়ে নিয়ে কথাগুলো একদমে বলে হাঁফ ছাড়লেন মুক্তকচ্ছবাবা৷ বড়োপিসেও কথাগুলো শুনে কাঁদো কাঁদো মুখে ‘বাবাআহাহা’ বলে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম সারলেন৷
‘জিতে রহো বাচ্চে!’ বলেই বাড়ির আর সবার দিকে ফিরে বললেন, ‘কেউ একটু জল খাওয়াতে পারো?’
ছোড়দি টেবিলের উপর থেকে বোতল হাতে নিতেই মুক্তকচ্ছবাবার বাণী শোনা গেল, ‘উঁহু! প্লাস্টিক নয়, যেকোনো ধাতুপাত্রে জল দিয়ো৷ খাবারও কিন্তু আমি ধাতুপাত্রেই সেবন করি৷’
মুক্তকচ্ছবাবার মুখে সবসময় হাসি৷ বড়োপিসের পেন্নাম পেয়ে সেই হাসি আরও চওড়া হয়েছে৷ কাঁসার চকচকে গেলাস থেকে বাবাজি একটু একটু করে জল পান করছেন আর সিক্ত হাসি বিলিয়ে দিচ্ছেন৷
বাড়ির একতলাজুড়ে লোকজন৷ মা-কাকিমারাই বেশি৷ অধিকাংশই আঁচলে চোখ মুছছেন৷ বাবা তুম্বো মুখে দাঁড়িয়ে গা চুলকোচ্ছেন৷ ছোটোকাকার বাঁ-হাতের লাল মাজন ইন্ট্যাক্ট, সদ্য সদ্য ঘুম থেকে উঠেছে বোধ হয়! উঠেই এত উপদেশের ঠেলায় গোল গোল চোখ করে ফাঁকা ব্রাশ দাঁতে চালাচ্ছেন৷ বড়োকাকা বারান্দার রেলিং-এ বসে কাগজ পড়তে পড়তে চোখ তুলে দেখছেন আর চোখে চোখে সেজকাকাকে কী ইশারা করছেন৷ সেজকাকা গ্লাস ভর্তি জলে মধু ভর্তি চামচ ঘুঁটতে ঘুঁটতে মাথা নেড়ে বড়োকাকাকে ইশারা করছেন৷ বাইরের উনুনঘর থেকে আবদুলমামা জ্বাল দেওয়ার শুকনো আমের ডাল হাতে নিয়ে বেরিয়ে এসে দাঁত বার করে কথা শুনছে৷ ঠাম্মা বারান্দার কোণে মটরশুঁটি ছাড়াতে ছাড়াতে আঁচলে মুছে বলছেন, ‘আশীর্বাদ করুন বাবা৷’ কেবল বড়োপিসি ঠাম্মার পাশে বসে শাক বাছতে বাছতে বলছেন, ‘ঢং!’
বাবা এবার পিঠ ছেড়ে দিয়ে কাঁধে কনসেনট্রেট করেছেন৷ চুলকে বোধ হয় খুব আরাম পাচ্ছেন৷ কারণ চোখ বুজে আসছে৷ চোখ বুজিয়েই বললেন, ‘তাছাড়া যুদ্ধে তো আর যাচ্ছ না রে বাবা! যাচ্ছ তো নিজের আপিস৷ তা সে হলই না হয় দিন দুয়েকের পথ৷’
বড়োকাকা পেপার থেকেই গলা খাঁকরে বললেন, ‘আর এই তো দু-মাস বাদেই পুজো৷ মাস দেড়েকের মধ্যেই তো আবার বাড়ি আসছ৷’
হাতের গেলাসে চুমুক দিয়ে সেজকাকা বললেন, ‘ঠিকই তো৷ চিন্তা কোরো না৷ বুলি বেশ থাকবে আমাদের এখানে৷’
বড়োপিসি কাটা শাকের মুঠিটা গামলায় ঢেলে দিয়ে ফের বললেন, ‘ঢং!’
কেবল ঠাম্মা বললেন, ‘তরা বুঝবি না রে! বিদেশ-বিভুঁইয়ে সংসার ছাইড়া যাইতে মনডা কেমন হু হু করে৷’ ঠাম্মার কথা শুনে মা, বড়ো আর সেজকাকিমণির চোখে আঁচল৷
বাবা ভুরু কুঁচকে বলে উঠলেন, ‘তবে আর কী! যাওয়া আজ বন্ধ থাক৷ মন সামলে কাল বেরিয়ো৷’
এটুকু বলারই অপেক্ষা ছিল৷ কথাটা শুনেই আমি, বঙ্কা, বুবু, ঢাসু সব্বাই মিলে ঝাঁপাঝাঁপি করে বড়ো সুটকেস আর ব্যাগ তিনটে উঠোন থেকে ঘরে নিয়ে তুললাম৷ পিসেমশাই এসে বসলেন মুক্তকচ্ছবাবার সামনের মোড়ায়৷
মুক্তকচ্ছবাবা সম্পর্কে ঠাম্মার গুরুভাই৷ ঠাম্মার গুরুদেব শ্রীল শ্রীযুক্ত মোক্ষানন্দ গিরি মহারাজের স্নেহধন্য প্রধান শিষ্য৷ স্নেহধন্য যে তা অবশ্য বপুতে স্নেহ পদার্থের আধিক্য দেখেই মালুম হয়৷ এমন আদুরে মাখনের মতো পেট সচরাচর চোখে আসে না৷ দেখলেই মনে হয় খোদার নামে ভুঁড়িটিকে ভবে ভাসিয়ে দিয়েছেন৷ আপন মনে সে ভুঁড়ি বাড়ছে, চলছে, ফিরছে, হাসির সময় ঢেউয়ের মতো দুলছে! আর বাবাজি তো কর্মসন্ন্যাসে আছেন, মানে খাওয়া আর বাহ্য ছাড়া প্রায় সকল কাজই শুনেছি ত্যাগ করেছেন৷ কাজেই মনে হয়, আর বছর খানেকের মধ্যে বাবাজির উদর ভার বহনের জন্য চেলা লাগবে৷ সে যে কেমন দৃশ্য চোখের সামনে ফুটে উঠতেই বেদম হাসি পেল!
ভাবো একবার, গুরু হাঁটছেন আর তাঁর নধর ভুঁড়িটিকে দু-হাতে ধরে হাঁটছে চেলা! হাত নুয়ে পড়েছে তার অভিকর্ষের টানে, মাথা ঝুঁকে এসেছে বাবাজির বুকের কাছে! বাবাজির গাত্রবাসে তার চোখ কুঁচকে, নাক ভেঁচকে! জয়গুরু! বইছে আর গুরুর কাছে আপিল করছে—‘গুরু হে! আপনার নোয়াপাতির এ গুরুভার বহন ক্ষমতা আমার একার নেই! দয়া করে আরও কাউকে ডেপুট করুন প্রভু! নইলে যে প্রাণ যায়! আপনার নাম নিয়ে দু-দিক থেকে দুই জনায় ধরি!’ ভাবতে ভাবতেই ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে ফেললাম৷
সে যাই হোক, ঠাম্মার কাছ থেকে শুনেছি আশ্রমের মূল দায় গুরুদেব ইনাকেই দিয়ে যান৷ ইনি মুক্ত মানুষ৷ নিজের কাছার বাঁধনটুকুই রাখতে চান না৷ আশ্রমের বাঁধন কী রাখবেন৷ তাই আশ্রমের জায়গা-টায়গা বেচে দিয়ে তার সব টাকাপয়সা ছেলেকে দিয়ে মুক্ত মানুষ শিষ্য-শিষ্যা যজমানদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ান৷
আমাদের বাড়িতে এসেছেন দিন দশেক৷ সে এক সকাল৷ বাবা তখন উঠোনে আমগাছের নীচে বসে মদনকাকুর কাছে দাড়ি কামাচ্ছিলেন৷ আরাম পেলে যা হয়, বাবার চোখ বন্ধ৷ ছোটোকাকা কলতলায় ডন দিতে দিতে তাই দেখছিল আর হাসছিল৷ হঠাৎ নাম ধরে কেউ ডাকল৷ ছোটোকাকা তাকিয়ে দেখেই অবাক হয়ে ধপ করে পড়ল৷ হাসি হাসি মুখ করে কে একজন বৈরাগীপানা দাঁড়িয়ে৷ উঠে ধুলোটুলো ঝেড়ে বলল, ‘বাবাজি আমার নাম জানলেন কী করে?’
‘ওই দেখ, বলছিস বাবাজি, আবার বলছিস নাম জানলেন কী করে? আরে বাবাই যদি হব তো নাম জানতে অসুবিধে কোথায়? শুধু নাম কেন এবাড়ির নাডি-নক্ষত্র সব আমি জানি৷ আগামীতে কী হবে তাও দেখতে পাই৷ এই তো দেখ না খানিক বাদে তোদের বড়োমেয়ে আর তার জামাই আসবে৷’
বলতে না বলতেই দূরে গ্রিল ঠেলে বড়োপিসি আর পিসেমসাই ঢুকলেন৷ সেই না দেখে ছোটোকাকা হাঁ, দরজায় দাঁড়ানো কাকাইমারা হাঁ৷ কেবল ঠাম্মা বেরিয়ে এসে বললেন, ‘ওমা মহারাজ! কখন এলেন? আমার কী সৌভাগ্য! ও বৌমারা ইনি কে জানো?’
সে জানতেই আধঘণ্টা পিসিমণি-পিসেমশাইকে লটবহর সহ বাইরে দাঁড়াতে হল৷ আগে বাবাজি ঢুকবেন, তারপর উনারা৷ আর বাবাজির ঢোকা তো ঢোকা নয়, প্রবেশ৷ বেশ ভারী ভরক্কম তার নিয়মকানুন৷ তাম্রপত্র বেরোল, গঙ্গাজল বেরোল, কাঁচা দুধ বেরোল, নতুন গামছা বেরোল৷ বাবাজির পদরেণু ধুইয়ে মুছিয়ে পালা করে গড় করে তবে বাবাজির প্রবেশ হল৷ পিছে পিছে অনুপ্রবেশকারীর মতো বড়োপিসেমশাই আর পিসিমণি ঢুকলেন৷ পিসিমণি তখনও মুখ ভেঙচে বলেছিলেন, ‘ঢং!’
যাই হোক, তারপর থেকে বাবাজি নিত্যদিন সাড়ে তিন বেলা মোক্ষ আর মুক্তি নিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন৷ সবাই গোল হয়ে তখন শুনছি৷ তারপর বাবাজির সেবা হচ্ছে৷ সেও পাহাড় প্রমাণ৷ আমাদের অবাক ভাব দেখে বাবাজি একদিন স্মিত হেসে বললেন, এদের পঞ্চভূতে বিলীনের দায় দিয়েছেন প্রভু৷ তাঁর এই দেহই নাকি পঞ্চভূতের রেপ্লিকা! ইয়ৎ পিণ্ডে তৎ ব্রহ্মাণ্ডে! তাই ঈশ্বরের আদেশক্রমে এই খাদ্যপ্রাণদের তিনি উদ্ধার করছেন৷
আমাদের অবশ্য ভালোই হয়েছে৷ মোহমুক্তির হাওয়ায় বাড়ির সবাই আমাদের দিকে নজর একটু কমিয়েছে৷ ইস্কুলেও ছুটি চলছে৷ কাজেই গরমের ছুটিতে বাবা-মায়ের সাথে দেশের বাড়িতে আসাটা যাকে বলে সদব্যবহার তা বেশ বেড়েই হচ্ছে৷ মাঝেমধ্যে গুরুসেবা করা ছাড়া তোমরা যাকে বল অকাজ সেই অকাজেই সময় উড়ে যাচ্ছে৷
ব্যতিক্রম কেবল বড়োপিসেমশাই৷ আসার পর থেকেই এবার কেমন গুম মেরে রয়েছেন৷ সাধারণত উনি এলেই আমাদের পোয়াবারো৷ অঢেল গল্পের ঝুলি৷ সকালে বিকালে সন্ধ্যায় রাতে সবসময় ওঁকে ঘিরেই আমরা থাকি৷ উনি খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের গল্প বলেন, স্নানের ঘাটে পিঠে সাবান ঘষে দিলে পিরানহা হাঙরের গল্প বলেন৷ আর সে গল্প এমনই যে যারা ঘাটে থাকে ধড়ফড়িয়ে উপরে উঠে আসে!
তো সেই পিসেমশাই চুপচাপ! মানে ব্যাপার বেশ ঘোরালো! গতকাল রাতে পিসেমশাই বসার ঘর থেকে আমাদের ডেকে নিয়ে ছাদে গেলেন৷ ছাদে গিয়ে আমাদের কী কথা হল বা কী শলাপরামর্শ হল সে-কথা বারণ থাকায় তোমাদেরও এই মুহূর্তে বলতে পারলাম না৷ তবু, তোমরা তো আমার একান্ত আপনজন, না বললেও পেট গুড়গুড় করে, কাজেই একটু হিন্ট দিই—শোনো, আজ যে পিসেমশাই চাকরিতে চলে যেতে বেরিয়েও স্টেশান থেকে ফিরে এলেন, এও কিন্তু প্ল্যানমাফিক৷
‘সে যাই হোক, পিসেমশাই আজ যখন বাড়িতেই, তখন একটা মহাভোজ হয়ে যাক’—দুম করে ঢাসু প্রস্তাবটা দিয়েই ফেলল৷
আর অমনি ছোটোকাকা হইহই করে বলে উঠল, ‘আমি সর্বান্তকরণে এই প্রস্তাব সমর্থন করছি৷’ অমনি বড়োকাকা আবদুলমামাকে হাঁক দিলেন৷ ব্যস! পুকুরে জাল, বাজার থেকে খাসি, রান্নাঘরে পায়েস! বাড়িতে সুগন্ধ ম-ম৷
দুপুরে নিয়মমাফিক গুরুসেবার পর সকলের পাত পড়ল৷ জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া৷ খাওয়ার শেষে মাঠে গিয়ে সব্বাই গপ্প শুরু করলাম৷ পিসেমশাই হাতের কাছের চোরকাঁটা ওপড়াতে ওপড়াতে এলডোরাডোর গল্প বললেন৷ তারপর সন্ধ্যে হয় হয় এমন সময় পাঞ্জাবির পকেট হাতড়ে আমাদের হাতে একটা ছোট্ট শিশি দিলেন৷ বললেন, ‘প্ল্যান নং টু : এখান থেকে চার চামচ রাতে কোল্ড ড্রিঙ্কসে মিশিয়ে গুরুসেবা করতে হবে৷’
‘ওক্কে!’
তো রাতে কথামতো গুরুদেবের গুরুভোজন শেষে তুফানি ঠান্ডায় শিশির তরল মিশিয়ে তাঁকে দেওয়া হল৷ আস্তে আস্তে সেবন করতে করতে ফের মোক্ষ মোহ মায়া নিয়ে উপদেশ দিয়ে পিসেমশাইকে আর একপ্রস্থ পিছুটান বর্জনের শলা দিয়ে বাবাজি লম্বা হলেন৷
ভোরবেলা হুলুস্থুলু! প্ল্যান থ্রি মাফিক বাড়ির চারটে বাথরুমে আমরা চারজন খিল আটকেছি৷ ওদিকে রাতের জোলাপের সুপার অ্যাকশান ইস্টার্ট! বাড়িময় ছুটে বেড়াচ্ছেন বাবাজি! শেষপর্যন্ত একহাত পেটে ও একহাত পিছনের কোমরে দিয়ে বেঁকে দাঁড়াচ্ছেন৷
পিসেমশাইয়ের গলা পেলাম : ‘প্রণাম বাবাজি! মুখ দেখে বোধ হচ্ছে পিছুটান বেশ প্রবল হয়ে পড়েছে!’
বাবাজির আর উত্তর দেবার অবস্থা নেই৷
‘তাহলে বুঝতে পারছেন বাবাজি অরিজিনাল পিছুটান আসলে কী? আর যাই ত্যাগ করুন এই পরম পিছুটান নিত্য মানুষকে টানবে৷ কেমন কি না? যতক্ষণ আহার, ততক্ষণ বাহার! সারই হল সারকথা, ঠিক কি না বাবা!’
গুরুদেব নিরুত্তর৷
বাবার গলা পেলাম, মজা পাচ্ছেন এমন গলায় পিসেমশাইকে বলছেন, ‘ছাড়ান দাও পুলক৷ উনি সারমুক্ত হয়ে আসুন৷ কোনো টানই যে সহজে মুক্ত হওয়া যায় না, সে উনি কেন, আমরাও বেশ বুঝেছি৷’
কাকিমাদের চাপা হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল৷
ফের গলা পেলাম পিসেমশাইয়ের, ‘টান মুক্ত হবার সুযোগ মুক্তকচ্ছ বাবাজিকে দেওয়া যায় যদি বাবাজি বলেন...’
‘বলব বাবা বলব, সব বলব, বলো কী জানতে চাও?’ বাবাজির করুণ সুর শোনা গেল৷
‘সেদিন ট্রেনে এই বাড়িতে আসবার সময় আমার সাথে যে পাঁশুটে লোকটা গপ্প করছিল, সে আপনার চ্যালা কি না বলুন তো!’
গুরুদেব চুপ৷
‘বেশ নাই বললেন৷’ বলেই আমাদের উদ্দেশ্যে গলা চড়িয়ে বললেন, ‘সেনাপতিরা! বাথরুম অবরোধ আরও একঘণ্টা বাড়ানো হল! রাজি তো?’
চারকোনার চার বাথরুম থেকে গমগমিয়ে সম্মতি জানালাম আমরা৷
আমাদের ইকো মিলিয়ে যেতে না যেতেই শুনলাম মুক্তকচ্ছবাবা গলায় গিয়ার টেনে টেনে বলছেন, ‘কখন বললুম বলব না, বলছি তো, হ্যাঁ বাবা ও আমারই চ্যালা৷ ট্রেনে তোমার স্ত্রীকে দেখেই চিনতে পেরে ওকে পাঠিয়েছিলুম কিছু কথা আদায়ের জন্যে৷ এবার তো ছাড়ো বাবা৷’
‘দাঁড়ান, আরও আছে...’
‘না বাবা! আর কিছু নেই... যদি থেকে থাকে, পরে জেনো৷ আগে বাবা বৃদ্ধ মানুষকে...’ —কথাগুলো কান্নার মতো শোনাচ্ছিল!
যাই হোক, পিসের আদেশে আমরা বাইরে আসতেই মুক্তকচ্ছ বাবাজি পিছুটানের তোড়ে সত্যি সত্যিই মুক্তকচ্ছ হয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন৷
মা-কাকিমাদের মুখে আঁচল৷ গোটা দেহ কাঁপছে৷ বড়োপিসি কেবল আবার বললেন, ‘ঢং!’
তারপর তিনি বেরোতে আর যা যা হল সে-কথা অন্যদিন৷ আজ কেবল এটুকু বলেই শেষ করি, বাবাজি তো আমাদের বাড়ি সম্পর্কে পিছুটান ছিন্ন হলেনই, সম্ভবত ঠাম্মাও গুরুভাইদের সম্পর্কে পিছুটান কাটালেন৷ কারণ তারপর থেকে অনেকদিন কেটে গেছে, কই ঠাম্মা তো একবারও গুরুভাই-বোনদের নামও করেন না!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন