জয়ন্ত দে
স্বাতী শেষ দেখেই ছাড়বে।
ওর মুখোমুখি বসেছিল আক্কেল। ভালো নাম আক্কেল বসু। পুলিশের লোক নয়, কিন্তু লালবাজারের ওপর মহলের বড় বড় অফিসাররা ওকে পছন্দ করে। অনেকে বলে, এটা ওর বাবার জন্য। ওর বাবা দিব্যসুন্দর বাসু খুবই বড়মাপের একজন আইএএস। প্রশাসনে যথেষ্ট প্রভাব আছে তাঁর। কিন্তু আক্কেল যদি কাজের ছেলে না হত তবে বিপদে পড়লে ওকে সবাই ডাকে কেন? অনেকে তো আবার বলে বাপ ছেলেতে খুব একটা মিলমিশ নেই, নইলে একজন আইএএস দিব্যসুন্দর বাসুর ছেলের নাম কী করে আক্কেল বসু হয়! নামের কী অভাব পড়িয়াছে!
আজ আক্কেলকে আইপিএস সুতপন রায়চৌধুরী ডেকে খুবই ব্যক্তিগত একটা কেস দিয়েছে। বলেছে, 'খুব সামান্য একটা চুরির ঘটনা। খুবই সামান্য। কিন্তু ব্যাপারটা একটা জেদাজেদির পর্যায়ে চলে গেছে। যার চুরি গেছে, মানে অভিযোগকারিণী স্বাতী, সে আমার মাসতুতো বোন। আমি ওকে বুঝিয়েছি, কিন্তু সামলাতে পারছি না। তুমি ভাই কেসটা একটু দেখে দাও। আর একটা কথা শোনো চুরির ঘটনাটা লোকাল থানায় জানানো হয়নি। কোনও এফআইআর করা হয়নি। আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে সবটাই করতে হবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে।'
আইপিএস সুতপন রায়চৌধুরীর সামনে বসে কফিতে চুমুক দিয়ে আক্কেল ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিল। চুরির ঘটনা পুলিশে কোনও ইনফর্ম করা হয়নি। অথচ ইনকোয়ারি করতে হবে পুলিশের তরফ থেকেই। আশ্চর্য!

সুতপন রায়চৌধুরী বলল, 'আসলে আমি পারতাম লোকাল পুলিশকে দিয়ে থানায় তুলিয়ে এনে, মেয়েটার স্বীকারোক্তি আদায় করতে। কিন্তু তাতে আমার বোনের আপত্তি। আমার এই বোনটি একটু অন্যধরনের। ও চুরির ঘটনা পুলিশে অভিযোগ করেনি বেশ কয়েকটা কারণে। সন্দেহ তালিকায় একজনই। ওদের বাড়ির কাজের বউ। কিন্তু বউটির নামে অভিযোগ করলেই পুলিশ ওকে তুলে নিয়ে যাবে। হয়তো লকআপে রেখে দেবে। বা কনফেস করানোর জন্য কোনওরকম অত্যাচার চালাবে। এটা স্বাতী চায় না। যদি কোনওভাবে বউটি দোষী না-হয় তাহলে ওর পাপ হবে। নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না। তাই ও চায় পুলিশ আসুক। কিন্তু বউটিকে থানায় না-ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। কিন্তু কোনও টর্চার করা যাবে না। পুলিশ তার বুদ্ধি খাটিয়ে ওই বউটির একটা স্বীকারোক্তি আদায় করিয়ে দেবে। জিনিস উদ্ধার না হলেও ওর কিছু এসে যায় না। ও চায় মানসিক শান্তি। যে শান্তির একটাই কথা বউটি চুরি করেছে তার স্বীকারোক্তি।'
'তাহলে আমাকে শুধু স্বীকারোক্তি আদায় করে দিতে হবে! জিনিসটি উদ্ধার না করলেও চলবে?'
'জিনিসটি উদ্ধার হলে সেটা হবে বোনাস। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে স্বাতী নিশ্চিত ওই বউটিই নিয়েছে। ও নরমে গরমে অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছুতেই বউটি স্বীকার করছে না। বরং উলটে তাকে চোরের বদনাম করা হচ্ছে বলে যা তা কথা বলে চলে গেছে। এটা স্বাতীর ঠিক হজম হচ্ছে না। ও একটা বিহিত চায়। তুমি একটু দেখো।'
আক্কেল ঘাড় নাড়াল। বলল, 'সুতপনকাকু উনি তো পুলিশ চাইছেন আমি গেলে হবে? আমি যে পুলিশ নই।'
সুতপন হালকা হাসল, বলল, 'এফআইআর ছাড়া পুলিশ কী করে ইনভেস্টিগেশন করবে? সেটা ঠিক আইনত হবে না। আমি লোকাল থানায় বলে দেব, প্রয়োজনে তুমি সমস্ত পুলিশি সাপোর্ট পাবে। তুমি একটু দেখো।'
আক্কেল এখন এসেছে স্বাতীদের বাড়িতে। মানে ফ্ল্যাটে। ঠান্ডা জল খেয়েছে। গরম চা খেয়েছে। ঠান্ডা গরম খেতে খেতে পুরো ঘটনাটা এদিক ওদিক থেকে উলটে পালটে শুনছে। একটা কানের দুল চুরি হয়েছে। দুলটা বিখ্যাত এক সোনার দোকান থেকে কেনা। অসাধারণ ডিজাইন। যারাই দেখেছে তারাই জানতে চেয়েছে কোথাকার। স্বাতী বলেনি। এখনও বলল না। সোনা আছে কুড়ি গ্রামের মতো। এখন দশ গ্রাম সোনার দাম প্রায় তিরিশ হাজার। মানে কেসটা মোটে ষাট হাজার টাকার। কেসটাও সরল। চোর চেনা, শুধু স্বীকারোক্তি করাতে হবে। দুলটা চুরি করেছে কাজের বউ কমলা দাস। থাকে ঠাকুরপুকুর থানার নেপালগঞ্জে। এ-বাড়িতে কাজ করছে দেড়বছর। ঘরমোছা, বাসনমাজা, আসবাবপত্র ঝাড়া, আরও টুকটাক হাতে হাতে ঠিকে কাজ করে। স্বাতীর কথামতো একদম ঘরোয়া বউ। এর আগে কখনো কোনও বাড়িতে কাজ করেনি। এটিই কমলার প্রথম কাজ। আট মাসে বউটি স্বাতীর খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিল। ওকে দেখলে কেউ বলবে না কাজের বউ। আর মেয়েটা দেখতে শুনতেও বেশ ভালো। স্বাতী ওর এক বন্ধুর বাড়িতে ওকে রান্নার কাজে লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বউটি ওর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেনি। সুযোগ পেয়েই দুলটা চুরি করেছে। প্রথমে ও চুরি করতে পারে এটা স্বাতী ভাবতে পারেনি। ভেবেছে, ব্যাগ থেকে বের করে অন্য কোথাও রেখেছে। কিন্তু সমস্ত খোঁজাখুঁজির শেষে ওর বদ্ধমূল ধারণা ব্যাগ থেকে দুলটা কমলাই হাতসাফাই করেছে। স্বাতী ওকে বুঝিয়েছিল, অনেক সময় মানুষ লোভে পড়ে ভুল কাজ করে ফেলে। কিন্তু আবার মানুষই তা শুধরে নেয়। তুমি জিনিসটা নিয়েছ, তা আমার হাতে ফেরত দিতে হবে না। তুমি বরং নিয়ে এসে আমার ঘরের কোথাও রেখে দাও। আমি পেয়ে যাব। তুমি নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারবে।
আর যদি কোনও দোকানে বিক্রি করে দিয়ে থাকো, সেটাও আমাকে জানাও। আমি টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনব। ওরা চোরাই মাল বেশি দামে কেনেনি নির্ঘাত। পুলিশের গুঁতো খেলে সুড়সুড় করে দিয়ে দেবে। আমি ওদের টাকাও দিয়ে দেব।
কিন্তু কমলা কিছুতেই স্বীকার করেনি। তার এক কথা আমি দুল দেখিনি, আমি দুল নিইনি, আমি কিছু জানি না।
স্বাতী বলেছিল, কমলা এত মিথ্যে কথা বোলো না। আমি পুলিশ ডাকতে পারি। আমার গলুদা পুলিশের কত বড় অফিসার তুমি জানো!
কমলা ঠোঁট ফুলিয়ে বলেছে, আমি যখন চুরি করিনি, আমি কেন গলু মলুকে ভয় করব?
'গলু মলু' বলাটা স্বাতীর কাছে খুব ইনসালটিং লেগেছে। সে তাই গলুদা মানে সুতপন রায়চৌধুরীকেই বলেছে একটা বিহিত করে দিতে হবে। চুরিও করবে চোখও রাঙাবে, এত বড় স্পর্ধা!
কমলা দাসের নাম ঠিকানা সব নোট করে নিল আক্কেল। নোট করতে করতে বলল, 'আপনি যদি একটা ডায়েরি করতেন। ওকে থানায় তুলে নিয়ে এলে জিজ্ঞাসাবাদটা সহজ হয়ে যেত।'
স্বাতী গম্ভীর মুখে বলল, 'ওর একটা বছর চারেকের ছোট ছেলে আছে। সে মাঝেমাঝেই এ বাড়িতে আসে, ঘোরে ফেরে, খেলে। আমি চাই না, ওর মনে কোনও কালো দাগ পড়ুক ওর মাকে নিয়ে। আর...'
'আর?' আক্কেল না তাকিয়ে প্রশ্ন করল।
একটু চুপ করে থেকে স্বাতী বলল, 'কিছু মনে কোরো না ভাই, আমি পুলিশদের ঠিক বিশ্বাস করি না। একে অল্পবয়সি একটা বউ, তার ওপর দেখতে শুনতে বেশ ভালো। থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে যদি খারাপ কিছু হয়, সেটা আমার দুল চুরির থেকে অনেক অনেক বেশি বেদনাদায়ক হবে। তাই আমি ওকে থানায় তুলে নিয়ে যেতে বারণ করেছি।'
আক্কেলের মনে করার কিছু নেই, সে পুলিশের লোক নয়। তবু সে শান্ত গলায় বলল, 'থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে রেজাল্ট ভালো পাওয়া যায়। পাশের ঘরে অন্য কোনও ক্রিমিনালকে দু এক ঘা দিলে, আপনার কমলার পেট থেকেও দেখতেন হুড়হুড় করে সব কথা বেরিয়ে যেত। মন্দিরে গেলে ধূপ ধুনোর গন্ধে যেমন ভক্তি বেড়ে যায়, থানায় গেলে তেমন রক্তচাপ বেড়ে যায়। তখন পেটের কথা আর পেটে থাকে না। সব বেরিয়ে আসে। যাক, আপনার যখন আপত্তি, দেখি কী করতে পারি।'
এবার আক্কেলের ইনভেস্টিগেশন।
ইনভেস্টিগেশন: এক
আক্কেল পরের দিন আবার স্বাতীর কাছে এল। বলল, 'ম্যাডাম আপনি দু-একটা কথা আমাকে বলেননি। কমলা যেটা আমাকে বলল, তা হল দুল হারানোর দিনে আপনি সিনেমায় গিয়েছিলেন, আপনার সঙ্গে একজন বন্ধু ছিল।'
'হ্যাঁ গিয়েছিলাম, তো? অনামিকা ছিল আমার সঙ্গে।'
'যাবার আগের মুহূর্তে আপনার সাজের সঙ্গে কানের দুলটা একবার পরেওছিলেন। কিন্তু সেটা সাজের সঙ্গে যাচ্ছে না বলে আপনি আপনার হ্যান্ডব্যাগেই ঢুকিয়ে রাখেন। আচ্ছা মনে করে দেখুন তো, সিনেমা হলে গিয়ে, আগে বা পরে আপনার ব্যাগটা বন্ধুর হাতে দিয়ে আপনি কয়েক মুহূর্তের জন্য অন্য কোথাও যাননি তো?'
স্বাতী অন্যদিকে তাকায়, ভাবে একঝলক, 'হ্যাঁ, আমি অনামিকাকে ব্যাগটা দিয়ে টয়লেটে গিয়েছিলাম। কিন্তু অনামিকা এ-কাজ করতে পারে না। ও আমার বন্ধু।'
আক্কেল শান্ত গলায় বলল, 'ওঁর নাকি আপনার ওই কানের দুলটার ওপর খুব লোভ ছিল। মানে দুলের ডিজাইনের ওপর। যখন আপনাকে ওই দুলটা পরতে দেখত খুব প্রশংসা করত। আপনার নয় দুলের। উনি অনেকবার আপনার কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন কোন দোকান থেকে কিনেছেন, আপনি বলেননি, এড়িয়ে গেছেন। উনি নাকি আপনাকে না-জানিয়ে বেশ কয়েকবার গড়িয়াহাটে গিয়ে বড় বড় সোনার দোকানে এই ডিজাইনটা খুঁজে বেড়িয়েছিলেন। আপনি পরে আপনার আর এক বন্ধু গৌরীর থেকে সে সব কথা জানতে পেরেছেন। এই নিয়ে আপনাদের মধ্যে কিছুদিন কথাও বন্ধ ছিল। পরে তা মিটে যায়।'
'এ তথ্য আপনাকে কে দিল? কমলা? এ-সব কথা আমিই কমলাকে বলেছি। কিন্তু তাতে কী অনামিকা আমার দুল চুরি করবে? না, না, এটা আমি ভাবতেও পারি না। ওর টাকার অভাব? ও কোটিপতি ঘরের বউ। হেলায় টাকা খরচ করে। ছিঃ ছিঃ ওর কথা মনে আনাও পাপ।'
'আপনি যদি পারমিশন দেন, আমি অনামিকা ম্যাডামের সঙ্গে একটু কথা বলতাম। যেমন ভাবে কমলার সঙ্গে বলছি, ঠিক তেমনভাবেই। ওনার বাড়ি যাব। কটা প্রশ্ন, জাস্ট।'
'না, কক্ষনো না। ও নিতেই পারে না। ও আমার ছোটবেলার বন্ধু। না, না, কমলাকেই ধরুন। ওই নিয়েছে। আমি জানি কমলাই চুরি করেছে।'
'কিন্তু আপনার বন্ধু যে সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। একবার কথা বলা যেত না?'
'না, না, ওকে এই ব্যাপারে জিগ্যেস করাই যাবে না। ছিঃ ছিঃ! সামান্য একটা দুল।'
আক্কেল মাথা চুলকায়, 'কিন্তু ব্যাগটা ওর কাছে ছিল, আপনি টয়লেটে গেলেন এবং এলেন। মিনিট পাঁচেক তো হবেই। দুল নয়, সোনা নয়, দাম নয়, ডিজাইন! আপনার বন্ধুর সঙ্গে একটুও কথা বলা যাবে না?'
'না। চোর আপনাকে আমি বলে দিচ্ছি। আপনি শুধু ঠান্ডা মাথায় ওকে দিয়ে স্বীকারোক্তি করান। আমার আর কিছু চাই না।'
'ঠিক আছে, আমি কাল আবার যাব। তবু আপনার বন্ধুকে একবার জিগ্যেস করতে পারতেন, একটা প্রশ্ন?'
'কী জিগ্যেস করবেন আমার কানের দুলটা চুরি যাওয়ার কথা শুনে ও একটা কমেন্ট পর্যন্ত করল না। মানুষে তো একটু দুঃখ জানায়। কী জানি কার পেটে কী আছে?'
'প্লিজ আমাকে একবার কথা বলতে দিন।'
'না, এটা হয় না। ও আমার বন্ধু। চুরি কমলাই করেছে। আপনি ওকেই ধরুন।'
ইনভেস্টিগেশন: দুই
কমলার বাড়ি থেকে আক্কেল সোজা চলে এসেছিল স্বাতীদের বাড়িতে। কফি নিয়ে সে আবার বসেছে স্বাতীর মুখোমুখি।
স্বাতী বেশ বিরক্তের সঙ্গে বলল, 'কেন আপনি উৎকর্ষের সঙ্গে কথা বলবেন আমি বুঝে পাচ্ছি না।'
আক্কেল হাসল, বলল, 'খুব সামান্য কথা, ওকে আমি জিগ্যেস করব। ও আপনার কানের দুল চুরি যাওয়ার বিষয়ে কতটা জানে? ব্যস আর কিছু না।'
'ও বেশি কী জানবে? আমাদের ফ্যামিলির চারজন যেটুকু জানে ও সেটুকুই জানে।'
আক্কেল কফির কাপে দীর্ঘ চুমুক দেয়। দিয়ে বলে, 'আসলে কিছু কথা জানলাম, তারপর সেই জানা থেকে একটু খুঁজলাম, তাতে বেশ কয়েকটা প্রশ্ন উঠে আসছে। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে বলি। তারপর নয় আপনি বলবেন উৎকর্ষকে আমি জেরা করব নাকি?'
গম্ভীর মুখে স্বাতী বলল, 'বলুন।'
'মাস তিনেক আগে আপনার ছেলে ওর বাবার লকার থেকে হাজার পাঁচেক টাকা চুরি করে। ব্যাপারটা জানাজানি হলে আপনাদের পরিবারে খুব অশান্তি হয়। আপনারা ওর কাছ থেকে পুরো টাকা ফেরত পাননি। দিন তিনেকের মধ্যে ও সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ করে ফেলে। কীভাবে খরচ করেছে সে কথাও বলে না। তারপর থেকে সিদ্ধার্থবাবুর আলমারির লকারের চাবি আপনার কাছে জমা। আপনি লুকিয়ে রাখেন, তাই তো?'
স্বাতী বিড়বিড় করে বলে, 'আমি শুধু কমলার স্পর্ধাটা দেখছি। ও কাজ করতে এসে কান খাড়া করে এ বাড়ির সব কথা শোনে! ওকে যতটা ভালোমানুষ ভেবেছিলাম ও ততটা নয়। আমার ছেলে ওর বাবার টাকা চুরি করতে পারে কিন্তু তার মায়ের গয়না চুরি করতে পারে না। টাকাটা টাকা, একটু সাহস করলে একটু আধটু সরানো যায়। কিন্তু গয়না চুরি করা খুব কঠিন ব্যাপার। না, না, ও কক্ষনও এটা করতে পারে না।'
আক্কেল মাথা চুলকাল। বলল, 'তাহলে আর কয়েকটা ইনফরমেশন আপনাকে দিই। এটা কমলার নয়। আমিও জোগাড় করেছি। এক নম্বর, আপনারা জানতে পারেননি, তিনদিনে উৎকর্ষের মতো একটা ভালো ছেলে টাকাটা কোথায় খরচ করেছে? আপনারা অনেক জানতে চেষ্টা করেছেন, পারেননি। আমি কিন্তু জেনেছি, ওই টাকাটা নাইটক্লাবে খরচ হয়েছে। ও টাকাটা পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে নাইটক্লাবে গিয়েছিল।'
স্বাতী চোয়াল শক্ত করে। মাথা ঝাঁকায়, 'তাই! ও বলেছিল একটা বন্ধু ধার নিয়ে ফেরত দেয়নি।'
'মিথ্যে কথা। তার সঙ্গে আর একটা কথাও আপনাকে জানাচ্ছি, সম্প্রতি উৎকর্ষ অন্তত বেশ কয়েকদিন নাইটক্লাবে গেছে। সঙ্গে বন্ধুরা ছিল। আমার প্রশ্ন উৎকর্ষ এবার টাকা কোথা থেকে পেল?'
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে স্বাতী। তারপর খুব ঠান্ডা গলায় বলে, 'আপনি যা বলছেন তা হয়তো ঠিক। এটা উৎকর্ষকে নিয়ে আমাদের আলাদা চিন্তা হল। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার, এর সঙ্গে কানের দুলের কোনও সম্পর্ক নেই। কমলাই কানের দুলটি নিয়েছে। আপনি উৎকর্ষ থেকে চোখ সরিয়ে বিষয়টাকে দেখুন।'
'আপনি তাহলে উৎকর্ষের সঙ্গে কথা বলার পারমিশন দেবেন না?'
'না। উৎকর্ষ আমার ছেলে, ও কখনো এ কাজ করতে পারে না। চোর কমলাই।'
'সামান্য কটা প্রশ্ন।'
'প্লিজ, ওকে ছেড়ে দিন। ও এ কাজ করতেই পারে না।'
'তাহলে আপনার কথামতো ও সন্দেহের ঊর্ধ্বে! ঠিক আছে আমি আবার কমলার কাছে যাব।' আক্কেল উঠে পড়ে।
ইনভেস্টিগেশন: তিন
কাগজটা হাতে নিয়ে হাঁ করে বসেছিল স্বাতী। রাজু বাইক কিনেছে। কিনতেই পারে। কিন্তু এই কাগজটা দিয়ে আক্কেল কী প্রমাণ করতে চাইছে। স্বাতী বলল, 'আমি এই ব্যাপারটার মাথা-মুণ্ডু কিছু বুঝতে পারছি না। পাড়ার একটা লাফেঙ্গা বাইক কিনেছে তাতে আমি কী করব?'
আক্কেল হাসল। বলল, 'রাজু আপনার মেয়ের বয়ফ্রেন্ড!'
'বয়ফ্রেন্ড না ছাই! পাড়ার একটা লোফার। সারাদিন সেজেগুজে ওই ক্লাবের জিমে আড্ডা দেয়। কিন্তু কানের দুলের সঙ্গে ওর বাইক কেনার কী সম্পর্ক?'
'আমি আপনাকে বুঝিয়ে বলছি। মনে করে দেখুন খুব বেশিদিন আগের কথা না। গত বছর পুজোর আগে আপনার মেয়ে ময়ূরী জামা কাপড় কেনার পরেও ওর বাবার থেকে দশ হাজার টাকা আদায় করেছিল লেহেঙ্গা কিনবে বলে। আজ কিনবে কাল কিনবে বলে লেহেঙ্গাটা সে কেনে না। সিদ্ধার্থবাবু ওই লেহেঙ্গা নিয়ে আর কিছু জানেন না। স্বাভাবিকভাবে তাঁর জানার কথাও না। আপনি কিন্তু বিষয়টা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন। মেয়ের কাছে বার বার জানতে চেয়েছিলেন, লেহেঙ্গার কী হল? টাকাটা কোথায় গেল? শেষে আপনার চাপে বাধ্য হয়ে ময়ূরী একটা লেহেঙ্গা আপনাকে দেখায়। বলে সে কিনেছে। একদিন পরেও ড্রেসটা। কিন্তু কিছুদিন পরেই আপনি দেখেন ঘরে লেহেঙ্গাটি নেই। ও বলে ওর এক বন্ধুকে পরতে দিয়েছে। লেহেঙ্গাটা কিন্তু আর বাড়ি ফিরে আসে না। আপনিও ব্যাপারটা ছেড়ে দেবেন না। যতজন বন্ধু ছিল খোঁজ করতে শুরু করেন। কেউ ওর লেহেঙ্গার কথা বলতে পারে না। কিন্তু একজন অবাক হয়ে আপনাকে বলে ময়ূরী তার কাছে থেকে একবার তার লেহেঙ্গা নিয়েছিল পরার জন্য। সে হোয়াটস অ্যাপে তার লেহেঙ্গার ছবি পাঠায়। দেখে আপনি চিনতে পারেন। আপনাদের মা আর মেয়ের তুমুল গোলমাল হয়। তখন ময়ূরী বলে টাকাটা সে খরচ করে ফেলেছে, তাই সে মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছিল।'
স্বাতী ম্লান গলায় বলল, 'হ্যাঁ এ ব্যাপারটা মিটে গেছে। ঠিকই ও টাকাটা খরচ করে ফেলেছিল। তারপর আমার ভয়ে ও মিথ্যে একটা সাজানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। আমি ধরে ফেলি। কিন্তু এর সঙ্গে গয়না চুরি বা ওই লোফারটা কী করে আসছে?'
আক্কেল গলা নিচু করল, বলল, 'খোঁজ পেয়েছিলেন দশ হাজার টাকা কীভাবে খরচ হয়েছিল?'
'না, পাইনি। খরচ করেছিল কিছু একটা ভাবে।'
'ও রাজুকে মোবাইল কিনে দিয়েছিল, পুজোর গিফট। সতেরো হাজার টাকা দিয়ে।'
'মানে? ওই টাকায় ও রাজুকে মোবাইল কিনে দিয়েছে? আপনি শিওর!'
'হ্যাঁ এটা একদম সঠিক খবর। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।'
'এ কথা কে আপনাকে বলল কমলা? আমি জানি না এসব এত কথা কমলা জানল কী করে? আমার অবাক লাগছে!'
'না, কমলা এসব কথা জানবে কী করে? ও লেহেঙ্গার টাকা নিয়ে গোলমালের কথা জানত। সেটাই বলেছিল, বাদবাকিটা আমিই খোঁজ করে পেয়েছি। এই যেমন এখন রাজু একটা বাইক কিনেছে। অবশ্যই ইনস্টলমেন্টে। কিন্তু ও পঞ্চাশ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট করেছে। একসঙ্গে এতগুলো টাকা রাজু কোথা থেকে পেল ওর বন্ধুরা বলতে পারছে না। হতে পারে ওকে ময়ূরী দিয়েছে। দিতেই পারে? কিন্তু ময়ূরী টাকা কোথা থেকে পেল? দুয়ে দুয়ে চার হয়ে যেতে পারে!'
'শুনুন, আপনাকে একটা কথা বলি? আপনি কার হয়ে কাজ করছেন? আমার হয়ে না, কমলার হয়ে? আমার মেয়ে কখনো তার মায়ের গয়না চুরি করে কাউকে টাকা দেবে না। হ্যাঁ মোবাইল কেনার টাকা সে রাজুকে দিয়েছে বলছেন। আপনার কথা আমি মেনে নিলাম। সেটা কিন্তু ও চুরি করেনি। নিজের টাকা স্যাক্রিফাইস করেছে।'
'টাকাটা কিন্তু এক্ষেত্রেও ও নিজের জন্য খরচ করেনি। স্যাক্রিফাইস করেছে। প্রেম মানুষকে অন্ধ করে দেয়।'
'না, এটা হতে পারে না।'
'আমি শুধু একবার ওর সঙ্গে কথা বলব। প্লিজ পারমিশন দিন।'
'না, আমি অহেতুক পারমিশন দিতে পারি না। যেখানে আমি জানি চোর কে, সেখানে কেন আমি আমার সংসারকে ডিসটার্ব করব?'
'তাহলে আপনার মেয়ে ময়ূরীও সন্দেহের ঊর্ধ্বে?'
'হ্যাঁ তাই। মনে করুন, আমি আপনার কথা শুনে বললাম, নিন আপনি আমার মেয়েকে গয়না চুরির অভিযোগে সন্দেহ করে জেরা করুন। আপনি করলেন। করে শেষ পর্যন্ত দেখলেন সন্দেহটা ভুল। তখন আপনি তো চলে যাবেন, কিন্তু আমার মেয়ের কাছে আমি কোন মুখে দাঁড়াব? সে কি সারাজীবন আমার দিকে আঙুল তুলবে না?'
আক্কেল মাথা নাড়ে। 'একদম ঠিক।'
স্বাতী বলল, 'আমার সন্দেহ কমলার প্রতি আরও দৃঢ় হচ্ছে। আপনি বুঝতে পারছেন না। ও কীভাবে আপনাকে ডাইভার্ট করছে। আপনার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ও কত ধুরন্ধর বুঝতে পারছেন? ও আটঘাট বেঁধেই চুরি করেছে। আমি বলছি কমলাই চোর। ওকে ধরুন। ওর শাস্তি পাওয়া দরকার। নইলে ও ভবিষ্যতে আরও বড় চুরি করবে। আপনি ওকে ভালো করে জেরা করুন। থানায় তুলে নিয়ে যাবার ভয় দেখান। বলুন এই শেষবার। স্বীকার না করলে থানায় নিয়ে যাব। ও জানে আমার দাদা কত বড় পুলিশ অফিসার। আপনি ওকে ভয় দেখাচ্ছেন না কেন?'
'ঠিক বলেছেন আমি এবার ওকে আপনার দাদা-পুলিশের ভয় দেখাব। আপনার মনে হচ্ছে, ও আমাকে ডাইভার্ট করে দিচ্ছে, তাই তো? আপনি আমাকে বলেছিলেন, ও একটা আটপৌরে ঘরোয়া বউ। কিন্তু দেখতে শুনতে ভালো। ঘরে প্রচণ্ড অভাব। কিন্তু মন্দ পথে যায়নি। অভাবে কুঁকড়ে থেকে ঘর-সংসারের বাইরে প্রথম বেরিয়েছে কাজ করতে। আমি হয়তো আপনার কথা শুনে ওকে আন্ডার এস্টিমেট করে ফেলেছিলাম। না, না, আমাকে এবার ওকে চেপে ধরতে হবে।'
ইনভেস্টিগেশন: চার
আক্কেলের ঠিক উলটো দিকে ভীষণ চিন্তান্বিত মুখে বসেছিল স্বাতী।
আক্কেল বলল, 'আপনি আপনার বন্ধু অনামিকা ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলতে দেননি। আপনার ছেলে উৎকর্ষ, মেয়ে ময়ূরীকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখেছেন। এবার আশা করি সিদ্ধার্থবাবুকে নিয়ে নিশ্চয়ই আপত্তি করবেন না?'
'না, আপত্তি করব। আপনি কেন বার বার কমলাকে ছেড়ে আমার সংসারের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন?'
'কারণ সন্দেহটা যে এখানেও লুকিয়ে আছে!'
'সিদ্ধার্থকে নিয়ে কীসের সন্দেহ, ও আমার কানের দুল চুরি করে সে টাকায় ফুর্তি করেছে?'
'না, হয়তো দুলটা গিফট করেছে?'
'আমাকে না জানিয়ে সিদ্ধার্থ কাউকে কিছু গিফট করতে পারে না।'
'করেছে ম্যাডাম আপনি জানতে পারেননি?'
'কী বলছেন আপনি? আমাকে প্রমাণ দিতে পারেন?'
'তাহলে যে সিদ্ধার্থবাবুর সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দিতে হয়। আমি ওঁকে জিগ্যেস করব কেন তিনি আপনাকে লুকিয়ে পঁচিশে ডিসেম্বর কমলা দাসকে দামি একটা কেক দিয়েছিলেন? আপনি কি কেক গিফট করার কথা কোনওদিন শুনেছেন?'
'কেক ক্রিসমাসে কমলাকে! না তো।'
আক্কেল হাসে, 'দিতেই পারেন বড়দিনে আপনারা কেক খাচ্ছেন। সিদ্ধার্থবাবুর মনে হয়েছে কমলা ওঁর বাচ্চাদের জন্যেও কেক নিয়ে যাক। যেমনভাবে কালীপুজোর আগে বাজি দিয়েছেন। বা এই দেড়বছরে সব পুজো, সব উৎসব, সব অকেশনের আগে উনি কমলাকে দুশো পাঁচশো করে টাকা দিয়েছেন!'
'সিদ্ধার্থ টাকাও দিত?'
'এক্ষেত্রে আমি খারাপ কোনও সন্দেহ করছি না। উনি হয়তো আপনার জন্যই দিয়েছেন। বাড়ির মেয়েরা কাজের লোকেদের এক্সট্রা টাকা দেয় না। দিতে চায় না। কেননা বকশিশ দেওয়া মেয়েদের অভ্যাসে থাকে না। ছেলেরা এসব দুশো পাঁচশো নিয়ে ভাবে না। তারা ভাবে উৎসব আনন্দের দিনে কাজের মেয়েটি যেন কামাই না করে। কামাই করে আনন্দকে নিরানন্দ না করে দেয়। তার স্ত্রীর যেন কষ্ট না হয়। আমি প্রশ্ন করব, সিদ্ধার্থবাবু হয়তো এগুলোই বলবেন।'
'আপনি যদি জানেন কী বলবে, তাহলে ওর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন কেন?'
'আসলে ওগুলো নয়, আমি জানতে চাই, উনি আর কী কী কমলাকে গিফট করেছেন, যা কমলা দাস আমাকে বলেনি?'
স্বাতী খুব ঠান্ডা গলায় বলল, 'টাকা ছাড়া সিদ্ধার্থর গিফট করা জিনিস কী কী আপনি জানেন?'
'কেকের কথা আগেই বলেছি, বাজি দিয়েছিলেন কালীপুজোর আগে। পুজোর আগে টাকা দিয়ে বলেছিলেন শাড়ি কিনতে।'
'আর?'
'লেডিস রিস্ট ওয়াচ!'
'উফ!'
'লেডিস ডিওডোরান্ট সেট।'
'প্লিজ স্টপ!'
'আমি কি একবার সিদ্ধার্থবাবু সঙ্গে কথা বলতে পারি?'
'না!'
'উনিও কি তাহলে সন্দেহের ঊর্ধ্বে?'
'হ্যাঁ, কেননা, ওনার যদি কানের দুল কিনে দেওয়ার ইচ্ছে হত, উনি দোকান থেকেই কিনে দিতে পারতেন, স্ত্রীর গয়না সরাতেন না।'
'ঠিক বলেছেন, একদম ঠিক! আমি এটা ভেবে দেখিনি। কিন্তু ওটাই যদি কমলার পছন্দ হয়ে থাকে। বা কমলা নয় যদি অন্য কারও খুব পছন্দ হল, ওনার কোনও বান্ধবীর, তখন?'
স্বাতী দেওয়ালের দিকে তাকাল। ফিসফিস করে বলল, 'চুরি কমলাই করেছে, আমি জানি।'
'আমারও তাই মনে হয়। কিন্তু?'
'আর কোনও কিন্তু নেই, আপনি কেসটা বন্ধ করে দিন আক্কেলবাবু।'
'কেসটা বন্ধ করে দেবেন? না, না, কমলা দাসকে ছাড়া উচিত হবে না। চুরি ও-ই করেছে, আপনার মতো আমারও মন তাই বলছে। ও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে জাস্ট কচু গাছ কেটে প্র্যাকটিস করল, ও একদিন মানুষ কাটবে দেখবেন। আপনি কেসটা বন্ধ করবেন না, প্লিজ।'
'না, আপনি কেসটা বন্ধ করে দিন।'
'কেন কমলা দাসও কি আপনার সন্দেহের ঊর্ধ্বে?'
স্বাতী হাসল। 'আপনার নাম আক্কেল কিন্তু আপনি বড্ড বেআক্কেলে!'
'ঠিক বলেছেন, আমি খুব বেআক্কেলে। আমি উলটো হয়ে জন্মেছিলাম। এই পৃথিবীতে এসেছিলাম। আমার সেই বেআক্কেলে কাণ্ডে জন্ম দিতে গিয়ে আমার মা-ই মারা যান। আর আমার মতো বেআক্কেলেকে আক্কেল দিতেই আমার বাবা আমার এই নামকরণ করেন।'
'তাই!' ম্লান মুখে হাসতে চাইল স্বাতী। পারল না। বলল, 'আর আজ বেআক্কেলের মতো আমার চোখে খোঁচা দিয়ে গেলেন তো!'
আক্কেল হাসল, বলল, 'আসলে আমার মতে আপনিই নিশ্চিত নন। তাই দুল চাননি, চেয়েছিলেন যেভাবেই হোক কমলার একটা স্বীকারোক্তি। তাতে আপনি শান্তি পেতেন। সরি, আপনাকে শান্তি দিতে আমি পারলাম না।'
শান্ত গলায় স্বাতী বলল, 'তুমি আমার ভাইয়ের মতো। গলুদাকে কিছু বোলো না। হয়তো এমন কিছু ভেবেই আমি পুলিশে যাইনি। পুলিশের কাছে গেলে আমার শুধু দুল নয়, কানদুটোও যেত।' কথাটা শেষ করতে পারল না স্বাতী, খোঁচা খাওয়া চোখটা হঠাৎ যেন কড়কড় করে উঠল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন