ভ্যালেন্টাইন-লাভ

পিয়ালী ঘোষ

দেড় বছর হল রুশা প্রনীলকে ভালোবাসে। মানে পাগলের মতন ভালোবাসে। দিনে রাতে, উঠতে বসতে, জেগে শুয়ে প্রনীল ছাড়া ও কাউকে ভাবতেই পারেন। শুধু একটাই সমস্যা প্রনীল জানে না। আর রুশা জানে না কীভাবে জানাতে হবে। এই দেড় বছরে প্রনীলের মতন হ্যান্ডসাম ছেলে বসে থাকার পাত্র নয়। রুশা দেখেছে, খোঁজ নিয়ে জেনেছে, প্রনীল কোন-কোন ফিল্ডে কতগুলো টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু কোনো ম্যাচেই কেউ প্রনীলকে হারাতে পারেনি। রুশা বাদে। রুশা, পুরো ময়দান জুড়ে একাই ম্যাচের পর ম্যাচ খেলেছে আর প্রনীলকে কী করে জিতে নিতে হবে সবটাই বুঝেছে। প্রনীল কী পছন্দ করে, কীরকম তার চয়েস আর মেয়েদেরকেও সে কতটা শ্রদ্ধা করে, সবই রুশার নখদর্পণে।

কিন্তু এখনও বোঝেনি কীভাবে প্রনীলকে বললে প্রনীল আর ঠেলতে পারবে না, রুশার এই দুর্দান্ত ভালোবাসাকে দূরে রাখতে অক্ষম হবে। রুশা খুব সুন্দরীও নয়, ‘বড়লোকের বিটিলো’ নয়, পড়াশুনায় তেমন ভালো নয়, সাজগোজেও তেমন কিছু আহামরি ব্যাপার নেই। তাহলে কীভাবে কী করবে রুশা? রোজ এই চিন্তাতেই রুশা দিন থেকে রাত কাবার করে ফেলে।

সেদিন সন্ধেবেলা প্রনীল রোজকার মতন নতুন প্রেমিকার সাথে দুষ্টু-মিষ্টি প্রেমের খেলা সেরে নিয়ে ঘরে ফিরছে। পরের লক্ষ্য স্থির করছে মনে মনে। রুশা ওদিকে সাহসে ভর করে প্রনীলের সামনে দাঁড়াবেই ভেবে উল্টো দিক থেকে প্রনীলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আকাশ ভারী হয়ে আছে, কালো জল ভরা মেঘে ছেয়ে আছে, ঝোড়ো বাতাস বইছে। দুই গলির মুখ একটা মোড়ের মাথায় এসে মিলে যায়। ঠিক যেমনভাবে ওই গলির শেষেই মিলে যায় রুশা ও প্রনীলের চলার পথ।

আর ঠিক তখনই ঘটে ঘটনাটা— রুশার সঙ্গে প্রনীলের ধাক্কা, আকাশে বজ্রপাত আর হাতের বইগুলো পড়ে যাওয়া। দুজনের মুখেই ‘সরি’, প্রনীল এর রুশাকে বই তুলে দেওয়া আর রুশার ওড়না প্রনীলের ঘড়িতে আটকে যাওয়া। সলজ্জ হাসি, কিন্তু-কিন্তু ভাব আর তাড়াতাড়ি ছাড়াতে গিয়ে আরও জড়িয়ে পড়া। এই পর্যন্ত একদম দুজনের বুকেই ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর দৃশ্য চলছিল। দ্বিতীয় বজ্রপাতের সাথেই প্রনীলকে চমকে দিয়ে এক্স-রে দেখার মতন রুশার খাঁচাখানা এক ঝলকে প্রনীলের সামনে আর প্রনীলের দাঁত কপাটির আওয়াজে রুশার জ্ঞান হারানো, সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনাকে নতুন মোড় দিল।

জ্ঞান ফিরতেই রুশা শুনল প্রনীল বলছে—

“আজকের ওয়েদার রোমান্টিক বড়, হচ্ছে হালকা বৃষ্টি

আমার খুব প্রেম পাচ্ছে, পাঁজরায় যত হচ্ছে অনাসৃষ্টি।

এই আনন্দের দিনে এ মন মানছে না কোনো আইন

যাবে কি তুমি ডেটে সাথে, হবে কি আমার ভ্যালেন্টাইন?”

আর রুশা? তার আনন্দ দেখে কে? বিদ্যুতের আলোতে ঝলসে যাওয়া গোলাপের কাঁটাগুলো নিজের গালের হাড়ে বুলিয়ে নিয়ে উড়ে নীচে নেমে, এক পাক ঘুরে নিয়ে গেয়ে উঠল— “আই লাভ ইউ... কাটে নেহি কাটতে ইয়ে দিন ইয়ে রাত…”

এখন প্রতিটা ফিল্ড শুধু রুশার আর প্রনীলের। অন্য কারোর কাছে প্রনীলকে হারানো ভয় নেই আর। মনের কথা কিভাবে বলবে রুশা প্রনীলকে সেসব ভাবনাও শেষ। পাড়ার মোড়ের বটগাছে দুজনে বসে আনন্দে ভ্যালেন্টাইন সেলিব্রেট করতে করতে দেখল বজ্রাঘাতে ঝলসে যাওয়া ওদের দুটি দেহ ঘিরে ওই বৃষ্টিতেও প্রচুর লোকের ভীড়...

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%