শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ-অভিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গিয়াছে।
দিনের অনুষ্ঠান ও তাহার আনুষঙ্গিক সমারোহ শেষ হইয়া যাইবার পর রাত্রির আমোদ-প্রমোদের আয়োজন আরম্ভ হইয়াছে। কিস্তার জল হাজার হাজার সুসজ্জিত নৌকায় ভরিয়া গিয়াছে। প্রত্যেক নৌকাটি সারি সারি বেলোয়ারি ঝাড়ের রঙিন আলোয় ঝকমক করিতেছে। কোনও নৌকায় সারঙ্গী তবলা সহযোগে কলকণ্ঠী ললনার গান চলিতেছে। কোনও নৌকার ছাদ হইতে আতসবাজি আকাশে উঠিয়া নানা বর্ণের উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ডে ফাটিয়া পড়িতেছে। কোনও নৌকা হাঙ্গরমুখ, কোনও নৌকা ময়ূরপঙ্খি। কোনওটি পালের ভারে মন্থর মরাল-গতিতে চলিতেছে, কোনওটি মাল্লার দাঁড়ের আঘাতে জল মথিত করিয়া ঘুরিতেছে। প্রায় সকল নৌকাই দুই রাজপ্রাসাদের মধ্যবর্তী স্থানটুকুর মধ্যে ঘেঁষাঘেঁষি ঠাসাঠাসি হইয়া চক্রাকারে পরিভ্রমণ করিতেছে, যেন এই সম্মোহন বৃত্ত ছাড়িয়া বাহির হইতে পারিতেছে না। দুই তীরে দুই রাজসৌধ সর্বাঙ্গে আলোকমালা পরিধান করিয়া যেন ঔজ্জ্বল্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরস্পরকে সকৌতুকে আহ্বান করিতেছে।
একটি বজরাকে সকলেই সসম্ভ্রমে দূরে দূরে রাখিয়াছে; একটি করিয়া লাল ও একটি করিয়া সবুজ আলোর ঝালর দেখিয়া বুঝা যায় এটি রাজ-বজরা। নৌকাটি ফুলপাতা, জরি, মখমল ও জহরত দিয়া সুন্দরভাবে সাজানো। তাহার পশ্চাতে রূপার ডান্ডার মাথায় ঝিন্দের রাজপতাকা উড়িতেছে।
নৌকার ছাদের উপর মখমলের চাঁদোয়ার নীচে তাকিয়া ঠেস দিয়া নবাভিষিক্ত রাজা বসিয়া আছেন, সঙ্গে মন্ত্রী বজ্ৰপাণি, সর্দার ধনঞ্জয় এবং রুদ্ররূপ। বাহিরের লোক এখানে কেহই নাই— মাঝি-মাল্লারা সব নীচে। কিন্তু তবু সকলেই নীরব— কিছু অন্যমনস্ক। মাঝে মাঝে দুই-একটা কথা হইতেছে।
বজ্ৰপাণি বলিলেন— ‘আমি শুধু উদিতের মুখখানার কথা ভাবছি। যখন ইংলন্ডেশ্বরের অভিনন্দন পড়া হচ্ছে, তখন তার মুখ দেখেছিলে? আমার ভয় হচ্ছিল একটা বিশ্রী কাণ্ড বুঝি বাধিয়ে বসে।’
ধনঞ্জয় বলিলেন— ‘হুঁ, আর ওই ময়ূরবাহনটা। তিলকের সময় এমনভাবে চেঁচিয়ে হেসে উঠল, আমার ইচ্ছে হচ্ছিল সভা থেকে গলা টিপে বার করে দিই। শুধু একটা কেলেঙ্কারি হবে এই ভয়ে পারলাম না।’
ভার্গব বলিলেন— ‘ওরা এমনি ছাড়বে না, শীঘ্রই একটা কিছু করবে। আমাদের খুব সতর্ক থাকা দরকার।’
উদিত ও ময়ূরবাহন মিলিয়া যে একটা কিছু করিবেই, সে-সম্বন্ধে তিনজনের মনে কোনও সন্দেহই ছিল না; কিন্তু কী করিবে, কোন দিক হইতে আক্রমণ করিবে— সেইটাই কেহ ধারণা করিতে পারিতেছিলেন না।
গৌরী সেই প্রশ্নই করিল— ‘কী করতে পারে ওরা?’
বজ্ৰপাণি মাথা চুলকাইয়া বলিলেন— ‘সেটা জানা থাকলে আগে থাকতে তার প্রতিকার করা যেত। এখন সতর্কভাবে প্রতীক্ষা করা ছাড়া অন্য পথ নেই।’
কিছুক্ষণ সকলে নীরব হইয়া রহিলেন। রাজ-বজরার ত্রিশ গজের মধ্যে অন্য কোনও নৌকা ছিল না, কিন্তু মধুপাত্রের চারিপাশে মক্ষিকার মতো সকল নৌকাই রাজ-নৌকাকে কেন্দ্র করিয়া ঘুরিতেছিল। অলক্ষিতে ব্যবধান সংকীর্ণ হইয়া আসিতেছিল। একটা নৌকা হইতে সারঙ্গী সহযোগে নারীকণ্ঠের গীত স্পষ্ট কানে আসিতেছিল, এমনকী দাঁড়টানার ছপ ছপ শব্দের ফাঁকে ফাঁকে নর্তকীর পায়জানিয়ার নিক্কণও শুনা যাইতেছিল।
চতুঃপ্রহরব্যাপী উৎসবের পর নানাবিধ ভাবনা ও উত্তেজনার ফলে গৌরী ঈষৎ ক্লান্তি অনুভব করিতেছিল— সে তাকিয়ার উপর মাথা রাখিয়া লম্বা হইয়া শুইয়া পড়িল। ঝড়োয়ার আলোকদীপ্ত প্রাসাদের মাথায় নবমীর চাঁদ স্থির হইয়া আছে— সেইদিকে তাকাইয়া থাকিয়া গৌরী হঠাৎ জিজ্ঞাসা করিল— ‘আচ্ছা দেওয়ানজি, যাঁর সঙ্গে আজ আমার পাকা দেখা অর্থাৎ তিলক হল, তিনি দেখতে কেমন?’
ভার্গব গম্ভীরমুখে বলিলেন— ‘রানির মতো। এর বেশি আমাদের বলতে নেই, তিনি একদিন আমাদের মা হবেন।’
গৌরী হাসিয়া বলিল— ‘তা যেন বুঝলাম। কিন্তু একটা কথা জিজ্ঞাসা করি— এই যে তাঁর তিলক হল আমার সঙ্গে, অথচ বিয়ে হবে আর একজনের সঙ্গে— এতে আপনাদের শাস্ত্রমতে কোনও দোষ হবে না?’
বজ্ৰপাণি নিশ্চল হইয়া বসিয়া রহিলেন। ধনঞ্জয়ের মুখ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া উঠিল; এই চিন্তাটাই তাঁহাকে সবচেয়ে বেশি ক্লেশ দিতেছিল। ঝিন্দের পাটরানি যে ধর্মত একজনের বাগদত্তা হইয়া পরে রাজার মহিষী হইবেন, সমস্ত ষড়যন্ত্রের মধ্যে এই ব্যাপারটাই ধনঞ্জয়ের সবচেয়ে অরুচিকর ঠেকিতেছিল। কঠিনপ্রাণ যোদ্ধার মতো তিনি ভালর সঙ্গে মন্দটাও গ্রহণ করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু তাঁহার চিত্তে সুখ ছিল না।
তিনি সংক্ষেপে উত্তর দিলেন— ‘তিনি এসব কিছু জানতে পারবেন না।’
গৌরী বলিল— ‘তা ঠিক, মনের অগোচরে পাপ নেই। তা সে যাক, বিয়েটা কতদিন পরে হবে, কিছু ঠিক হয়েছে কি?’
বজ্ৰপাণি বলিলেন— ‘তার এখনও দু’মাস দেরি আছে।’
গৌরী প্রশ্ন করিল—- ‘কিন্তু এই দু’মাসে শঙ্কর সিংকে যদি উদ্ধার না করা যায়, তা হলে বিয়েটাও কি বকলমে আমাকে করতে হবে নাকি?’ বলিয়া সকৌতুকে গৌরী তিনজনের মুখের পানে চাহিল।
সহসা এ কথার কেহ উত্তর দিতে পারিল না। ধনঞ্জয় ভ্রূকুটি করিয়া কার্পেটের দিকে নিবদ্ধদৃষ্টি হইয়া রহিলেন। রুদ্ররূপ উদাসীনভাবে চাঁদের দিকে চাহিয়া রহিল। ভার্গব একটিপ নস্য লইয়া কী একটা বলিবার উপক্রম করিলেন, এমন সময় বজরার ভিতর হইতে একজন উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করিয়া উঠিল— ‘সামাল, হুঁশিয়ার!’
তারপর মুহূর্তমধ্যে একটা কাণ্ড হইয়া গেল। গৌরী সচকিতে উঠিয়া বসিয়া নীচের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেই দেখিল, একখানা সরু ছুঁচোলো নৌকা সমস্ত আলো নিভাইয়া দিয়া অন্ধকারে টর্পেডোর মতো তাহার বজরার মধ্যস্থল লক্ষ্য করিয়া ছুটিয়া আসিতেছে— ধাক্কা লাগিতে আর দেরি নাই, মধ্যে মাত্র বিশ হাতের তফাত। নৌকার ক্রূর অভিসন্ধি বুঝিয়া লইতে গৌরীর তিলার্ধ সময় লাগিল না; সে একলাফে উঠিয়া বজরার ধারে চাঁদির রেলিং ধরিয়া হাঁকিল— ‘খবরদার! তফাত যাও।’
উত্তরে অন্ধকার নৌকার ভিতর হইতে একটা উচ্চকণ্ঠের হাসির আওয়াজ আসিল। পরমুহূর্তেই বজরা ও নৌকার ভীষণ সংঘাতে সমস্ত লন্ডভন্ড হইয়া গেল। বজরার সমস্ত ঝাড়লণ্ঠনগুলা ঠোকাঠুকি হইয়া ঝনঝন শব্দে ভাঙিয়া নিভিয়া গেল এবং বজরাখানা ভয়ংকর একটা টাল খাইয়া প্রায় কাত হইয়া পড়িল। সেই অন্ধকারের মধ্যে গৌরী অনুভব করিল— জ্যা-মুক্ত তিরের মতো সে শূন্যে উড়িতে উড়িতে চলিয়াছে।
শুনা যায়, আকস্মিক বিপৎপাতে মানুষের উপস্থিত-বুদ্ধি লোপ পাইয়া কেবল প্রাণরক্ষার চেষ্টাই জাগ্রত থাকে। কিন্তু আশ্চর্য এই যে, এইরূপ উড্ডীয়মান অবস্থাতেও গৌরী যে-কথাটা ভাবিতেছিল, আসন্ন জীবন-মৃত্যু সংকটের সহিত তাহার কোনও যোগ নাই। সে ভাবিতেছিল ওই যে হাসিটা খট্টাসের ডাকের মতো এখনি তাহার কর্ণে প্রবেশ করিল ওই হাসি সে পূর্বে কোথায় শুনিয়াছে?
এই ভাবিতে ভাবিতে বজরা হইতে বিশ হাত দূরে ছিটকাইয়া পড়িয়াই গৌরী কিস্তার জলে তলাইয়া গেল। হঠাৎ কনকনে ঠান্ডা জলে এই অতর্কিতে অবগাহনের ফলে গৌরীর মন হইতে অন্য সমস্ত চিন্তা দূর হইয়া মনে হইল, এইবার তাহার দম বন্ধ হইয়া যাইবে। কিন্তু সে ভাল সাঁতার জানিত বলিয়া ব্যাকুলতা প্রকাশ করিল না, কোনও রকমে নিশ্বাস বন্ধ করিয়া ধীরে ধীরে জল কাটিয়া উপরে উঠিতে লাগিল। পতনের বেগে সে বহুদূর নীচে নামিয়া গিয়াছিল, তাই উঠিতে দেরি হইল। প্রায় আধ মিনিট পরে ভাসিয়া উঠিয়া দীর্ঘ এক নিশ্বাস টানিয়া চোখ মেলিল।
চোখ মেলিয়াই কিন্তু আবার তাহাকে ডুব মারিতে হইল। ইতিমধ্যে রাজ-বজরায় দুর্ঘটনা ঘটিতে দেখিয়া চারিদিক হইতে নৌকাসকল ভিড় করিয়া আসিয়াছিল— বজরা ঘিরিয়া ভীষণ চেঁচামেচি ও হুলস্থূল বাধিয়া গিয়াছিল। গৌরী মাথা তুলিয়াই দেখিল— একখানা প্রকাণ্ড নৌকা তাহার মাথার উপর দিয়া চলিয়া যাইবার উপক্রম করিতেছে। সে সজোরে নিশ্বাস টানিয়া আবার ডুব দিল।
ডুব-সাঁতার দিয়া খানিকটা দূর গিয়া আবার সে ভাসিয়া উঠিবার চেষ্টা করিল— কিন্তু মাথা তুলিতে পারিল না, একখানা নৌকার তলায় মাথা ঠুকিয়া গেল। গৌরীর মনে হইল, মৃত্যুর আর বিলম্ব নাই, বায়ুর অভাবে ফুসফুস এখনি ফাটিয়া যাইবে। পাগলের মতো হাত-পা ছুড়িয়া সে আরও কিছুদূর গিয়া মাথা তুলিবার চেষ্টা করিল, কিন্তু এবারও নৌকার তলায় মাথা লাগিয়া তাহাকে মাথা জাগাইতে দিল না।
গৌরী তখন নৌকার তলদেশ ধরিয়া চলিতে আরম্ভ করিল— কোথাও না কোথাও নৌকার তলা শেষ হইয়াছে নিশ্চয়, সেইখানে গিয়া মাথা জাগাইবে এই তাহার অভিপ্রায়। কিন্তু এদিকে ফুসফুসের অবস্থা সঙ্গিন হইয়া উঠিয়াছে— সংজ্ঞাও প্রায় লুপ্ত। সেই অর্ধচেতনার মধ্যে মনে হইতেছে, বুঝি নৌকার কিনারা আর মিলিবে না।
কতক্ষণ এইভাবে চলিবার পর হঠাৎ কিনারা মিলিল। দুইটা নৌকা ঠেকাঠেকি হইয়া দাঁড়াইয়া আছে; তাহাদের হালের দিকে সামান্য একটু ত্রিকোণ স্থান। সেই সংকীর্ণ স্থানটুকুতে গলা পর্যন্ত জাগাইয়া, প্রায় একমিনিট ধরিয়া দীর্ঘ কম্পমান কয়েকটা নিশ্বাস টানিবার পর গৌরীর মাথাটা কিছু পরিষ্কার হইল। কিন্তু বিপদ তখনও শেষ হয় নাই। গৌরী চারিদিকে তাকাইয়া দেখিল, যতদূর দেখা যায়, অগণ্য অসংখ্য নৌকা ঘেঁষাঘেঁষি ঠাসাঠাসি হইয়া দাঁড়াইয়া আছে এবং প্রত্যেক নৌকার আরোহী একযোগে অর্থহীন চিৎকার করিতেছে। গৌরীও চিৎকার করিয়া তাহাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করিল, কিন্তু সেই বিষম গণ্ডগোলের মধ্যে তাহার ক্ষীণকণ্ঠ কেহ শুনিতে পাইল না।
গৌরী একবার ভাবিল, নৌকার পার্শ্ব ধরিয়া ঝুলিয়া থাকি— কখনও না কখনও উদ্ধার পাইব। কিন্তু তাহাতেও ভয় আছে; নৌকাগুলা স্রোতের বেগে দুলিতেছে, পরস্পর ঘর্ষিত হইতেছে। যদি কোনওক্রমে মাথাটা দুই নৌকার জাঁতাকলে পড়িয়া যায়, তাহা হইলে গুঁড়াইয়া একেবারে ছাতু হইয়া যাইবে। সুতরাং ঝুলিয়া থাকাও দীর্ঘকালের জন্য নিরাপদ নয়।
মিনিট পাঁচেক পরে অনেকটা সুস্থ হইয়া গৌরী স্থির করিল— এই নৌকার ভিড়ের বাহিরে যাইতে হইবে। নৌকার ভিড় রাজ-বজরার নিকটেই বেশি, অতএব বজরা হইতে যতদূর যাওয়া যায়, ততই নিরাপদ। গৌরী তখন ভাল করিয়া একবার দিক-নির্ণয় করিয়া লইয়া আবার ডুব মারিল। নৌকাগুলার হাল যেদিকে সেইদিকেই মুক্তির পথ, এই বুঝিয়া সে প্রাণপণে ডুব-সাঁতার কাটিয়া চলিল।
প্রায় বিশ গজ সাঁতার দিয়া সে আবার ভাসিয়া উঠিল। হাঁ, অনেকটা ফাঁকা আছে। নৌকার ভিড় আছে বটে, কিন্তু অতটা ঘনীভূত নয়। আপাতত ডুব-সাঁতার দিবার আর কোনও প্রয়োজন নাই।
সকল নৌকাতেই আলো আছে— কিন্তু সে আলো শোভার জন্য, মজ্জমানকে পথ দেখাইবার জন্য নয়। কিস্তার জল অন্ধকার। গৌরী দুই-একটা নৌকার আরোহীদের ডাকিবার চেষ্টা করিয়া ক্লান্তিবশত বিরত হইল। কেহ তাহার ডাক শুনিতে পায় না, সকলেরই বাহ্যেন্দ্রিয় দূরে বজরাটার উপর নিবদ্ধ।
গৌরী তখন তীরের দিকে চক্ষু ফিরাইল। দূরে— কত দূরে তাহা ঠিক আন্দাজ হয় না— নদীর কূল হইতে উচ্চ প্রাসাদের মূল পর্যন্ত সারি সারি শুভ্র সোপান উঠিয়া গিয়াছে— যেন কোন স্বপ্নদৃষ্ট দৈত্যপুরী। ঠান্ডা জলে এতক্ষণ থাকিয়া গৌরীর সমস্ত অঙ্গ অবশ হইয়া আসিতেছিল, সে ওই দৈত্যপুরী লক্ষ্য করিয়া ক্লান্তভাবে সাঁতার কাটিতে লাগিল।
ঘাটের আরও কাছে যখন পৌঁছিল তখন চাঁদের ফিকা আলোয় তাহার মনে হইল, যেন ঘাটের শেষ পৈঠার উপর সারি সারি কাহারা দাঁড়াইয়া আছে। গৌরীর হাত-পা তখন শিথিল হইয়া আসিতেছে, চক্ষুর দৃষ্টি ধোঁয়া ধোঁয়া হইয়া গিয়াছে। ঘাটে পৌঁছিতে আর কত দেরি!
না, আর চলে না, দেহ অসাড় হইয়া গিয়াছে। ঘাটের উপর হইতে কে যেন চিৎকার করিয়া কী বলিল। কী বলিল?— ‘একটু— আর একটু বাকি। এইটুকু সাঁতার কেটে এসো!’ কাহার গলা? অচলবউদির না? তবে এটুকু যেমন করিয়া হউক যাইতেই হইবে।
প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গৌরী জল হইতে সোপানের উপর উঠিল। তারপর একজনের কুঙ্কুম-চর্চিত পায়ের নিকট মাথা রাখিয়া মূৰ্ছিত হইয়া পড়িল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন