—ন তস্থৌ

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পুল পার হইয়া ঝড়োয়ায় পদার্পণ করিবামাত্র পুলের একটা গম্বুজের পাশ হইতে একজন লোক বাহির হইয়া আসিল; চাপা গলায় জিজ্ঞাসা করিল— ‘কে যায়?’

পথে তখন অন্য জনমানব নাই।

সিপাহী-বেশী লোকটাকে ভাল ঠাহর করা গেল না; গৌরী প্রশ্ন করিল— ‘তুমি কে! বিজয়লাল?’

বিজয়লাল বলিল— ‘হুজুর হাঁ। আপনার সঙ্গে কে?’

‘রুদ্ররূপ।’

‘ভাল। আমার সঙ্গে আসুন।’

বিজয়লাল আগে আগে চলিল, গৌরী ও রুদ্ররূপ তাহার অনুসরণ করিল। পুলের এলাকা পার হইয়া বড় সড়ক ছাড়িয়া বিজয়লাল বাঁদিকের একটা সরু রাস্তা ধরিল। রাস্তায় আলো নাই, পাশের বাড়িগুলিও অন্ধকার। সুতরাং কোথায় যাইতেছে গৌরী তাহা বুঝিতে পারিল না; কিন্তু কিস্তার জল যে বেশি দূরে নয়, তাহা মাঝে মাঝে ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে অনুভব করিতে লাগিল।

এইভাবে প্রায় দশ মিনিট চলিবার পর বিজয়লাল একটি ছোট ফটকের সম্মুখে থামিল, ফটক খুলিয়া বলিল— ‘আসুন!’

ফটকের মাথার স্তম্ভের উপর স্বল্পালোক বাতি জ্বলিতেছিল; গৌরী দেখিল, স্থানটা কোনও বড় বাড়ির খিড়কির বাগান। বাগান নেহাত ছোট নয়, বড় বড় ফলের গাছ দিয়া ঢাকা, স্থানে স্থানে বসিবার জন্য তরুমূলে গোলাকৃতি চাতাল তৈরি করা আছে।

গৌরীর মনে ঈষৎ বিস্ময়জড়িত প্রশ্ন জাগিল— কার বাড়ি? এ তো ঝড়োয়ার রাজবাড়ি নয়।

প্রশ্নটা মনে উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গৌরীর চমক ভাঙিল— মনের প্রচ্ছন্ন আকাঙ্ক্ষা এতক্ষণে তাহার সজাগ মনের কাছে মুখোমুখি ধরা পড়িয়া গেল। কৃষ্ণার নিমন্ত্রণের গূঢ়ার্থও বেশ সুস্পষ্ট হইয়া উঠিল, এইজন্য কৃষ্ণা ডাকিয়াছে। কিন্তু সে তো বহুপূর্বে তাহা মনে মনে বুঝিয়াছিল। তবু সে আসিল কেন? কী প্রতিজ্ঞা সে করিয়াছিল?

এখনও ফিরিবার সময় আছে; কাহাকেও কোনও কৈফিয়ত না দিয়া সটান ফিরিয়া যাইতে পারে। বিজয়লাল রুদ্ররূপ বিস্মিত হইবে, কিন্তু তাহাতে কী? সে তো নিজের কাছে খাঁটি থাকিবে! তবে কি ফিরিয়াই যাইবে? কিন্তু—

কিন্তু এ তো ঝড়োয়ার রাজপ্রাসাদ নয়। তবে কেন বিজয়লাল এখানে আসিয়া থামিল? কৃষ্ণা কি তবে অন্য কোনও প্রয়োজনে তাহাকে ডাকিয়াছে?

মনে মনে এইরূপ দড়ি টানাটানি চলিতেছে, এমন সময় কৃষ্ণার মৃদু কণ্ঠস্বর শুনা গেল— ‘আসুন মহারাজ।’

আর দ্বিধা করিবার পথ রহিল না। সংকুচিত পদে গৌরী ফটকের ভিতর প্রবেশ করিল।

কৃষ্ণা বদ্ধাঞ্জলি হইয়া প্রণাম করিল, বলিল— ‘মহারাজের জয় হোক। বিধি আজ অনুকূল। তাই গরিবের ঘরে মহারাজের পদার্পণ হল।’

গৌরী গলাটা একবার পরিষ্কার করিয়া লইয়া বলিল— ‘কৃষ্ণা, আমায় ডেকে পাঠিয়েছ কেন?’

কৃষ্ণা হাসিয়া বলিল— ‘তা তো চিঠিতেই জানিয়েছিলাম মহারাজ— প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই।’

গৌরী মাথা নাড়িয়া বলিল— ‘না, সত্যি কী দরকার বলো।’

কৃষ্ণা আবার হাসিল, বলিল— ‘বুঝতে পারেননি? আচ্ছা, বুঝিয়ে দিচ্ছি।’ তারপর বিজয়লালের দিকে ফিরিয়া কহিল— ‘আপনারা দু’জনে ততক্ষণ আমার বাগানে বসে আলাপ করুন, আমি মহারাজকে নিয়ে এক জায়গায় যাব।’ রুদ্ররূপের মুখে ঈষৎ উৎকণ্ঠার চিহ্ন দেখিয়া কহিল— ‘ভয় নেই, একঘণ্টার মধ্যেই আমি মহারাজকে ফিরিয়ে এনে আপনার হেপাজাত করে দেব।— মহারাজ, আমার সঙ্গে চলুন।’ কৃষ্ণা ফটকের বাহির হইল।

প্রবল চুম্বকের আকর্ষণে লোহা যেমন সকল বন্ধন ছিঁড়িয়া তাহার অভিগামী হয়, গৌরীও তেমনি তাহার অনুবর্তী হইল। ফটক হইতে বাহির হইয়া কৃষ্ণা সম্মুখ দিকে চলিল। অল্পক্ষণ একটা সংকীর্ণ গলি দিয়া যাইবার পর গৌরী দেখিল, তাহারা কিস্তার তীরে পৌঁছিয়াছে। সম্মুখেই ছোট একটি পাথর বাঁধানো ঘাট, ঘাটে একটি ডিঙি বাঁধা। মাঝি মাল্লা কেহ কোথাও নাই।

কৃষ্ণা সন্তর্পণে ক্ষুদ্র ডিঙিতে উঠিয়া গলুইয়ে বসিল, পাতলা লঘু দুইখানি দাঁড় হাতে তুলিয়া লইয়া বলিল— ‘এবার আপনি আসুন, ওইদিকে বসুন।’

গৌরী ডিঙিতে উঠিয়া বলিল— ‘দাঁড় আমায় দাও।’

কৃষ্ণা মুখ টিপিয়া হাসিল— ‘কোথায় যেতে হবে আপনি তো জানেন না। আপনি দাঁড় নিয়ে কী করবেন?’ বলিয়া দাঁড় জলে ডুবাইল।

গৌরী নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। কৃষ্ণার দাঁড়ের আঘাতে ডিঙি পূর্বমুখে চলিতে আরম্ভ করিল।

কিয়ৎকাল নীরবে কাটিবার পর কৃষ্ণা জিজ্ঞাসা করিল— ‘চুপ করে বসে কী ভাবছেন?’

কিস্তার জলের দিকে তাকাইয়া গৌরী বলিল— ‘কিছু না।’

দাঁড় টানিতে টানিতে কৃষ্ণা বলিল— ‘সেদিন আপনি আমাকে যেরকম শাসিয়েছিলেন, তাতে বুঝেছিলাম যে সখীকে দেখে আপনার আশা মেটেনি। তাই আজ সেদিনের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবার ব্যবস্থা করেছি। খুশি হয়েছেন তো?’

গৌরী চুপ করিয়া রহিল, তারপর ভারী গলায় জিজ্ঞাসা করিল— ‘তিনি জানেন?’

কৃষ্ণা মনে মনে হাসিল, বলিল— ‘জানেন।’ ও-পক্ষেই যে আগ্রহ ও অধীরতা বেশি তাহা আর প্রকাশ করিল না।

গৌরীর বুকের ভিতরটা টলমল নৌকার মতোই একবার দুলিয়া উঠিল; দুইহাতে নৌকার দুইদিকের কানা চাপিয়া ধরিয়া সে বসিয়া রহিল।

রাজবাটির প্রশস্ত ঘাটের পাশ দিয়া একশ্রেণী সংকীর্ণ সোপান উঠিয়া গিয়াছে, কৃষ্ণা সেইখানে নৌকা ভিড়াইল। গৌরী উর্ধ্বে চাহিয়া দেখিল, রাজপুরী অন্ধকার নিঃঝুম— কেবল দ্বিতলের একটি জানালা হইতে দীপালোক নির্গত হইতেছে।

সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিতে উঠিতে কৃষ্ণা নিম্নস্বরে বলিল— ‘এটি আমার নিজস্ব সিঁড়ি, একেবারে সখীর খাস-মহলে গিয়ে উঠেছে।’

সোপানশীর্ষে একটি মজবুত কাঠের দরজা; কৃষ্ণা আঁচল হইতে চাবি লইয়া দ্বার খুলিল। কবাট উন্মুক্ত করিয়া একপাশে দাঁড়াইয়া অঞ্জলিবদ্ধ হস্তে বলিল— ‘স্বাগত!’

ভিতরে একটি অলিন্দ— অন্ধকার। কৃষ্ণা গৌরীর দিকে হাত বাড়াইয়া দিল— ‘আমার হাত ধরে আসুন।’

অলিন্দ পার হইয়া একটি নাতিবৃহৎ ঘর। মেঝেয় গালিচা পাতা, গালিচার উপর একস্থানে পুরু গদির উপর মখমলের জাজিম, তাহার উপর মোটা মোটা মখমলের জরিদার তাকিয়া। আতরদান, গোলাপপাশ ইত্যাদি ইতস্তত ছড়ানো— একটি সোনার আলবোলার শীর্ষে সুগন্ধ তামাকুর ধূম ধীরে ধীরে পাকাইয়া পাকাইয়া উঠিতেছে। মাথার উপর দুইটি মোমবাতির ঝাড় স্নিগ্ধ আলো বিকীর্ণ করিতেছে। এই ঘরের আলোই গৌরী ঘাট হইতে দেখিতে পাইয়াছিল।

আলোকিত ঘরে প্রবেশ করিয়াই গৌরীর হৃৎপিণ্ড একবার ধক ধক করিয়া উঠিল, গলার পেশিগুলা কণ্ঠ আঁটিয়া ধরিল। সে ক্ষিপ্রদৃষ্টিতে ঘরের চারিদিকে চাহিল— ঘরে কেহ নাই।

‘আপনি ততক্ষণ বসে তামাকু খান, আমি এখনই আসছি।’ বলিয়া গৌরীকে বসাইয়া হাসিমুখে কৃষ্ণা প্রস্থান করিল।

দুইখানা ঘরের পরেই কস্তুরীর শয়নকক্ষ। ঘর প্রায় অন্ধকার, কেবল এককোণে একটি বাতি জ্বলিতেছে। কৃষ্ণা ঘরে প্রবেশ করিয়া চারিদিকে চাহিল, তারপর শয্যার দিকে নজর পড়িতেই দ্রুতপদে পালঙ্কের পাশে গিয়া বলিল— ‘একী কস্তুরী! শুয়ে যে!’

লাল চেলির পট্টবস্ত্রে আপাদমস্তক আবৃত করিয়া বালিশে মুখ গুঁজিয়া কস্তুরী শুইয়া আছে, শুভ্র বালিশের উপর তাহার মুক্তাখচিত কবরীর কিয়দংশ দেখা যাইতেছে। কৃষ্ণার সাড়া পাইয়া সে আরও গুটাইয়া শুইল, বালিশের ভিতর হইতে মৃদু রুদ্ধ স্বরে বলিল— ‘না, কৃষ্ণা, আমি পারব না, তুই যা।’

কৃষ্ণা শয্যার পাশে বসিয়া বলিল— ‘সে কি হয় সখি! অতিথিকে ডেকে এনে এখন ‘না’ বললে কি চলে? ওঠো।’

কস্তুরী মাথা নাড়িয়া বলিল— ‘না না, কৃষ্ণা, আমার ভারী লজ্জা করছে।’

কৃষ্ণা বলিল— ‘তা করুক। প্রথম প্রথম অমন একটু করে। চোখোচোখি হলেই সেরে যাবে।’

‘না, আমি পারব না কৃষ্ণা। ছি, যদি বেহায়া মনে করেন।’

কৃষ্ণা এবার রাগিল, বলিল— ‘তবে দেখবার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিলে কেন? আর আমাকেই বা পাগল করে তুলেছিলে কেন? মহামান্য অতিথিকে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে এসে দেখা না করে ফিরিয়ে দেবে? তাতে তিনি কিছু মনে করবেন না?’

কস্তুরী কাতরস্বরে বলিল— ‘তুই রাগ করিসনি কৃষ্ণা! আমি যে পারছি না— দ্যাখ, আমার হাত-পা কাঁপছে।’ বলিয়া কৃষ্ণার হাত লইয়া নিজের বুকের উপর রাখিল।

কৃষ্ণা তাহার কানের কাছে মুখ লইয়া গিয়া চুপিচুপি বলিল— ‘সখি, বুক কাঁপছে বলে ভয় করলে চলবে কেন? আজ প্রিয়তম তোমার ঘরে এসেছেন, আজ তো ‘রোমে রোমে হরখিলা’ লাগবেই। আজ কি লজ্জা করে বিছানায় শুয়ে থাকতে আছে! ওঠো ওঠো সখি, ‘ন যুক্তং অকৃতসৎকারং অতিথিবিশেষং উজ্‌ঝিত্বা স্বচ্ছন্দতো গমনম্‌— থুড়ি— শয়নম্‌।’ বলিয়া হাসিতে হাসিতে তাহার হাত ধরিয়া টানিয়া তুলিল।

কস্তুরী কৃষ্ণার কাঁধে মাথা রাখিয়া চুপি চুপি বলিল— ‘সেদিন আচমকা দেখা হয়েছিল— কিন্তু আজ এমনভাবে সেজেগুজে তাঁর কাছে যেতে বড্ড লজ্জা করবে যে কৃষ্ণা।’

কৃষ্ণা বলিল— ‘বেশ, আজ তোমার লজ্জাই দেবতাকে ভোগ দিয়ো— তাতেও ঠাকুর খুশি হবেন। আর দেরি কোরো না, তিনি কতক্ষণ একলাটি বসে আছেন।’

কস্তুরী উঠিয়া দাঁড়াইল— ‘আচ্ছা— কিন্তু তুই থাকবি তো?’

‘থাকব। যতক্ষণ তোমাদের বিয়ে না হচ্ছে, ততক্ষণ তোমার সঙ্গ ছাড়ছি না।’

‘আচ্ছা, তুই তবে এগিয়ে যা— আমি যাচ্ছি।’

‘দেখো, আবার শুয়ে পোড়ো না কিন্তু। আর বরের জন্য নিজে হাতে করে পান নিয়ে এসো!’ বলিয়া কৃষ্ণা প্রস্থান করিল।

তাকিয়ায় ঠেস দিয়া গৌরী ভ্রূকুঞ্চিত করিয়া বসিয়াছিল, কৃষ্ণা ফিরিয়া আসিতেই সে উঠিয়া দাঁড়াইল। ঈষৎ রুক্ষস্বরে বলিল— ‘কৃষ্ণা, আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে চলো।’

অবাক হইয়া কৃষ্ণা তাহার মুখের পানে তাকাইল— ‘সে কী মহারাজ! আপনি কি রাগ করলেন?’

‘না না, কৃষ্ণা, তুমি আমার কথা বুঝবে না, শিগগির আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো।’

‘কিন্তু সখী যে এই এলেন বলে!’

‘তিনি আসবার আগেই আমি যেতে চাই। চলো।’ বলিয়া সে কৃষ্ণার হাত ধরিল।

‘কিন্তু আমি যে কিছুই—’

‘বুঝবে না। তোমরা কেউ বুঝবে না। হয়তো কোনওদিন— কিন্তু এখন সে থাক। চলো।’ কৃষ্ণাকে সে একরকম জোর করিয়াই দ্বারের দিকে টানিয়া লইয়া চলিল।

অলিন্দের সম্মুখে পৌঁছিয়া সে একবার ফিরিয়া চাহিল। তাহার গতি শিথিল হইয়া গেল, বুকের ভিতর রক্ত তোলপাড় করিয়া উঠিল। ঘরের অপর প্রান্তে দ্বারের সম্মুখে কস্তুরী আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। তাহার হাতে পানের করঙ্ক, পরিধানে রক্তের মতো রাঙা চেলি। চোখে ঈষৎ বিস্ময়ের স্থির দৃষ্টি।

গলার মধ্যে একটা অস্ফুট শব্দ করিয়া গৌরী মুখ ফিরাইয়া লইল। তারপর অন্ধের মতো সেই অলিন্দের ভিতর দিয়া কৃষ্ণাকে টানিয়া লইয়া চলিল।

কৃষ্ণার হাত যে তাহার বজ্রমুষ্টিতে বাঁধা আছে, তাহা সে ভুলিয়া গিয়াছিল।

ধনঞ্জয়ের একটু ঢুল আসিয়াছিল, গৌরী ও রুদ্ররূপ প্রবেশ করিতেই তিনি ঘড়ির দিকে একবার তাকাইয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন।

গৌরী কোনও কথা না বলিয়া আয়নার সম্মুখে গিয়া দাঁড়াইল। মাথা হইতে পাগড়িটা খুলিয়া ফেলিয়া দিয়া গলার বোতাম খুলিতে লাগিল।

ধনঞ্জয় তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাহার দিকে তাকাইয়া রহিলেন,— তারপর শুধু বলিলেন— ‘হুঁ।’

গৌরী কষায়িত চক্ষে একবার তাঁহার পানে চাহিল; যেন আর একটি কথা বলিলেই সে বাঘের মতো তাঁহার ঘাড়ে লাফাইয়া পড়িবে।

ধনঞ্জয় কিন্তু তাহাকে কিছু বলিলেন না, রুদ্ররূপের দিকে ফিরিয়া তন্দ্রালস ভারী গলায় বলিলেন— ‘রুদ্ররূপ, আজ তুমি পাহারায় থাকো। আমি চললাম।’ বলিয়া রাজাকে অভিবাদন করিয়া প্রস্থান করিলেন।

ধনঞ্জয় চলিয়া গেলে গৌরী সহসা রুদ্ররূপের দিকে ফিরিয়া বলিল— ‘রুদ্ররূপ, আজ আমাকে পাহারা দেবার দরকার নেই। তুমি যাও— শুধু আজকের রাত্রিটা আমাকে একলা থাকতে দাও। দোহাই তোমার।’

গৌরীর কণ্ঠস্বরে এমন একটা উগ্র বেদনা ছিল যে ক্ষণকালের জন্য রুদ্ররূপকে বিমূঢ় করিয়া দিল; কিন্তু পরক্ষণেই সে সসম্ভ্রমে স্যালুট করিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%