দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

এক রাজা আর এক মন্ত্রী। একদিন রাজা, মন্ত্রীকে বলিলেন, ‘মন্ত্রী! রাজ্যের লোক সুখে আছে, কী, দুঃখে আছে, জানিলাম না!’
মন্ত্রী বলিলেন, ‘মহারাজ! ভয়ে বলি কী, নির্ভয়ে বলি?’
রাজা বলিলেন, ‘নির্ভয়ে বলো!’
তখন মন্ত্রী বলিলেন, ‘মহারাজ, আগে আগে রাজারা মৃগয়া করিতে যাইতেন, দিনের বেলায় মৃগয়া করিতেন, রাত্রি হইলে ছদ্মবেশ ধরিয়া প্রজার সুখ-দুঃখ দেখিতেন। সে-দিনও নাই, সে-কালও নাই, প্রজার নানা অবস্থা।’’
শুনিয়া রাজা বলিলেন, ‘এই কথা? কালই আমি মৃগয়ায় যাইব।’
রাজা মৃগয়া করিতে যাইবেন, রাজ্যে হুলুস্থুলু পড়িল। হাতি সাজিল, ঘোড়া সাজিল, সিপাই সাজিল, সান্ত্রি সাজিল; পঞ্চকটক নিয়া রাজা মৃগয়ায় গেলেন।
রাজার তো নামে মৃগয়া। দিনের বেলায় মৃগয়া করেন,—হাতিটা মারেন, বাঘটা মারেন। রাত হইলে রাজা ছদ্মবেশ ধরিয়া প্রজার সুখ-দুঃখ দেখেন।
একদিন রাজা এক গৃহস্থের বাড়ির পাশ দিয়া যাইতেছিলেন; শুনিতে পাইলেন, ঘরের মধ্যে গৃহস্থের তিন মেয়েতে কথাবার্তা বলিতেছে।
রাজা কান পাতিয়া রহিলেন।
বড়ো বোন বলিতেছে, ‘দ্যাখ লো, আমার যদি রাজবাড়ির ঘেসেড়ার সঙ্গে বিয়ে হয়, তো আমি মনের সুখে কলাই ভাজা খাই!’
তার ছোটো বোন বলিল, ‘আমার যদি রাজবাড়ির সূপকারের (রাঁধুনের) সঙ্গে বিয়ে হয়, তো আমি সকলের আগে রাজভোগ খাই।’
সকলের ছোটো বোন যে, সে আর কিছু কয় না; দুই বোনে ধরিয়া বসিল, ‘কেন লো ছোট্টি! তুই যে কিছু বলিস না?’
ছোট্টি ছোটো করিয়া বলিল, ‘নাঃ!’
দুই বোনে কি ছাড়ে? শেষে অনেকক্ষণ ভাবিয়া-টাবিয়া, ছোটোবোন বলিল, ‘আমার যদি রাজার সঙ্গে বিয়ে হইত, তো আমি রানি হইতাম।’
সে-কথা শুনিয়া দুই বোনে ‘হি! ‘হি!’ করিয়া উঠিল, ‘ও মা, মা, পুঁটির যে সাধ!!’
শুনিয়া রাজা চলিয়া গেলেন।
পরদিন রাজা দোলা-চৌদোলা দিয়া পাইক পাঠাইয়া দিলেন, পাইক গিয়া গৃহস্থের তিন মেয়েকে নিয়া আসিল।
তিন বোন তো কাঁপিয়া-কুঁপিয়া অস্থির। রাজা অভয় দিয়া বলিলেন, ‘কাল রাত্রে কে কী বলিয়াছিলে বলো তো?’
কেহ কিচ্ছু কয় না!
শেষে রাজা বলিলেন, ‘সত্য কথা যদি না বলো, তো, বড়োই সাজা হইবে।’
তখন বড়ো বোন বলিল, ‘আমি যে, এই বলিয়াছিলাম।’
মেজো বোন বলিল, ‘আমি যে, এই বলিয়াছিলাম।’ ছোটো বোন তবু কিছু বলে না।
তখন রাজা বলিলেন, ‘দেখো, আমি সব শুনিয়াছি। আচ্ছা তোমরা যে যা হইতে চাহিয়াছ, তাহাই করিব!’
তাহার পর দিনই রাজা তিন বোনের বড়ো বোনকে ঘেসেড়ার সঙ্গে বিবাহ দিলেন, মেজোটিকে সূপকারের সঙ্গে বিবাহ দিলেন, আর ছোটোটিকে রানি করিলেন।
তিন বোনের বড়ো বোন ঘেসেড়ার বাড়ি গিয়া মনের সাধে কলাইভাজা খায়; মেজো বোন রাজার পাকশালে সকলের আগে রাজভোগ খায়, আর ছোটোবোন রানি হইয়া সুখে রাজসংসার করেন।
কয়েক বছর যায়; রানির সন্তান হইবে। রাজা, রানির জন্য ‘হিরার ঝালর সোনার পাত, শ্বেত পাথরের নিগম ছাদ’ দিয়া আঁতুড়ঘর বানাইয়া দিলেন। রানি বলিলেন, ‘কতদিন বোনদিগকে দেখি না, ‘মায়ের পেটের রক্তের পোম, আপন বলতে তিনটি বোন’ সেই বোনদিগকে আনাইয়া দিলে যে, তারাই আঁতুড়ঘরে যাইত!’
রাজা আর কী করিয়া ‘না’ করেন? বলিলেন, ‘আচ্ছা।’ রাজপুরী হইতে ঘেসেড়ার বাড়ি কানাতের পথ পড়িল, রাজপুরী হইতে রাঁধুনের বাড়ি বাদ্য-ভান্ড বসিল; হাসিয়া-নাচিয়া দুই বোনে রানি-বোনের আঁতুড়ঘর আগলাইতে আসিল।
‘‘ওমা!’’ আসিয়া দুইজনে দেখে, রানি-বোনের যে ঐশ্বর্য!
হিরামোতি হেলে না, মাটিতে পা ফেলে না,
সকল পুরী গমগমা; সকল রাজ্য রমরমা।
সেই রাজপুরীতে রানি-বোন ইন্দ্রের ইন্দ্রাণী!! দেখিয়া, দুই বোনে হিংসায় জ্বলিয়া মরে।
রানি কী আর অত জানেন? দিন-দুপুরে, দুইবোন এঘর-ওঘর সাতঘর আঁদি সাঁদি ঘোরে। রানি জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন লো দিদি, কী চাস?’ দিদিরা বলে, ‘না, না; এই, আঁতুড়ে কত কী লাগে, তাই জিনিসপাতি খুঁজি।’ শেষে, বেলাবেলি দুই বোনে রানির আঁতুড়ঘরে গেল।
তিন প্রহর রাত্রে, আঁতুড়ঘরে, রানির ছেলে হইল।—ছেলে যেন চাঁদের পুতুল! দুই বোনে তাড়াতাড়ি হাতিয়া-পাতিয়া কাঁচা মাটির ভাঁড় আনিয়া ভাঁড়ে তুলিয়া, মুখে নুন তুলা দিয়া, সোনার চাঁদ ছেলে নদীর জলে ভাসাইয়া দিল!
রাজা খবর করিলেন, ‘কী হইয়াছে?’
‘ছাই! ছেলে না ছেলে—কুকুরের ছানা!’ দুই জনে আনিয়া এক কুকুরের ছানা দেখাইল। রাজা চুপ করিয়া রহিলেন।
তার পর-বছর রানির আবার ছেলে হইবে। আবার দুই বোনে আঁতুড়ঘরে গেল।
রানির আর এক ছেলে হইল। হিংসুকে দুই বোন আবার তেমনি করিয়া মাটির ভাঁড়ে করিয়া, নুন তুলা দিয়া, ছেলে ভাসাইয়া দিল।

কুকুরের ছানা
রাজা খবর নিলেন, ‘এবার কি ছেলে হইয়াছে?’
‘ছাই! ছেলে না ছেলে—বিড়ালের ছানা!’ দুই বোনে আনিয়া এক বিড়ালের ছানা দেখাইল!
রাজা কিছুই বুঝিতে পারিলেন না!
তার পরের বছর রানির এক মেয়ে হইল। টুকটুকে মেয়ে, টুলটুলে মুখ, হাত-পা যেন ফুল-তুকতুক! হিংসুকে দুই বোনে সে মেয়েকেও নদীর জলে ভাসাইয়া দিল।
রাজা আবার খবর করিলেন, ‘এবার কী?’
‘ছাই! কী না কী—এক কাঠের পুতুল।’ দুই বোনে রাজাকে আনিয়া এক কাঠের পুতুল দেখাইল। রাজা দুঃখে মাথা হেঁট করিয়া চলিয়া গেলেন।
রাজ্যের লোকে বলিতে লাগিল, ‘ও মা! এ আবার কী! অদিনে কুক্ষণে রাজা না-জানা না-শোনা কি আনিয়া বিয়ে করিলেন, এক নয়, দুই নয়, তিন তিন বার ছেলে হইল—কুকুরছানা, বিড়ালছানা আর কাঠের পুতুল! এ অলক্ষুণে রানি কক্ষনো মনিষ্যি নয় গো, মনিষ্যি নয়, নিশ্চয় পেতনি কি ডাকিনী।’
রাজাও ভাবিলেন, ‘তাই তো! রাজাপুরীতে কি অলক্ষ্মী আনিলাম। যাক, এ রানি আর ঘরে নিব না।’
হিংসুকে দুই বোনে মনের সুখে হাসিয়া গলিয়া, পানের পিক ফেলিয়া, আপনার আপনার বাড়ি গেল। রাজ্যের লোকেরা ডাকিনী রানিকে উলটো গাধায় উঠাইয়া, মাথা মুড়াইয়া, ঘোল ঢালিয়া, রাজ্যের বাহির করিয়া দিয়া আসিল।

বিড়ালের ছানা
এক ব্রাহ্মণ নদীর ঘাটে স্নান করিতে গিয়াছেন, স্নান-টান সারিয়া, ব্রাহ্মণ জলে দাঁড়াইয়া জপ-আহ্নিক করেন—দেখিলেন, এক মাটির ভাঁড় ভাসিয়া আসে। ভাঁড়ের মধ্যে সদ্য ছেলের কান্না শোনা যায়। আঁকুপাঁকু করিয়া ব্রাহ্মণ ভাঁড় ধরিয়া দেখেন—এক দেবশিশু!

কাঠের পুতুল
ব্রাহ্মণ তাড়াতাড়ি করিয়া মুখের নুন তুলা ধোয়াইয়া শিশুপুত্র নিয়া ঘরে গেলেন।
তার পরের বছর আর এক মাটির ভাঁড় ভাসিয়া ভাসিয়া সেই ব্রাহ্মণের ঘাটে আসিল। ব্রাহ্মণ দেখিলেন—আর-এক দেবপুত্র! ব্রাহ্মণ সে-ও দেবপুত্র নিয়া ঘরে তুলিলেন।
তিন বছরের বছর আবার এক মাটির ভাঁড় ব্রাহ্মণের ঘাটে গেল। ব্রাহ্মণ ভাঁড় ধরিয়া দেখেন—এবার দেবকন্যা! ব্রাহ্মণের বেটা নাই, পুত্র নাই, তার মধ্যে দুই দেবপুত্র, আবার দেবকন্যা! ব্রাহ্মণ আনন্দে কন্যা নিয়া ঘরে গেলেন!
হিংসুক মাসিরা ভাসাইয়া দিয়াছিল, ভাসানো রাজপুত্র রাজকন্যা গিয়া ব্রাহ্মণের ঘর আলো করিল। রাজার রাজপুরীতে আর বাতিটুকুও জ্বলে না।
ছেলে-মেয়ে নিয়া ব্রাহ্মণ পরম সুখে থাকেন। ব্রাহ্মণের চাটিমাটির দুঃখ নাই, গোলা-গঞ্জের অভাব নাই। খেতের ধান, গাছের ফল, কলস কলস গঙ্গাজল, ডোল-ভরা মুগ, কাজললতা, গাইয়ের দুধ, ব্রাহ্মণের টাকা পেঁটরায় ধরে না।
তা হইলে কী হয়? ‘কাহন কড়ি কে-বা পুছে, কে-বা বুড়ির চক্ষু মুছে’, ব্রাহ্মণের না ছিল ছেলে, না ছিল পুত্র। এত দিনে বুঝি পরমেশ্বর ফিরিয়া চাহিলেন, ব্রাহ্মণের ঘরে সোনার চাঁদের ভরা-বাজার! খাওয়া নাই, নাওয়া নাই, ব্রাহ্মণ দিন রাত ছেলে-মেয়ে নিয়া থাকেন। ছেলে দুইটির নাম রাখিলেন, অরুণ, বরুণ; আর মেয়ের নাম রাখিলেন,
কিরণমালা
দিন যায়, রাত যায়—অরুণ-বরুণ-কিরণমালা চাঁদের মতন বাড়ে, ফুলের মতন ফোটে। অরুণ-বরুণ-কিরণের হাসি শুনিলে বনের পাখি আসিয়া গান ধরে, কান্না শুনিলে বনের হরিণ ছুটিয়া আসে। হেলিয়া-দুলিয়া খেলে—তিন ভাই-বোনের নাচে ব্রাহ্মণের আঙিনায় চাঁদের হাট ভাঙিয়া পড়িল।
দেখিতে দেখিতে তিন ভাই-বোন বড়ো হইল। কিরণমালা বাড়িতে কুটাটুকু পড়িতে দেয় না, কাজললতা গাইয়ের গায়ে মাছিটি বসিতে দেয় না। অরুণ বরুণ দুই ভাইয়ে পড়ে, শোনে; ফল পাকিলে ফল পাড়ে; বনের হরিণ দৌড়ে ধরে। তার পর তিন ভাই-বোনে মিলিয়া ডালায় ডালায় ফুল তুলিয়া ঘরবাড়ি সাজাইয়া আচ্ছন্ন করিয়া দেয়।
ব্রাহ্মণের আর কী? কিরণমালা মায়ে ডালিভরা ফুল আনে, দীপ-চন্দন দেয়। ধূপ জ্বালাইয়া ঘণ্টা নাড়িয়া ব্রাহ্মণ ‘বম-বম’ করিয়া পূজা করেন। এমনি করিয়া দিন যায়। অরুণ বরুণ, ব্রাহ্মণের সকল বিদ্যা পড়িলেন; কিরণমালা ব্রাহ্মণের ঘর সংসার হাতে নিলেন।
তখন একদিন, তিন ছেলে-মেয়েকে ডাকিয়া, তিনজনের মাথায় হাত রাখিয়া, ব্রাহ্মণ বলিলেন ‘অরুণ, বরুণ, মা কিরণ, সব তোদের রহিল, আমার আর কোনো দুঃখ নাই, তোমাদিগকে রাখিয়া এখন আমি আর এক রাজ্যে যাই; সব দেখিয়া শুনিয়া খাইও।’ তিন ভাই-বোনে কাঁদিতে লাগিলেন, ব্রাহ্মণ স্বর্গে চলিয়া গেলেন।
মনের দুঃখে মনের দুঃখে দিন যায়, রাজার রাজপুরী অন্ধকার। রাজা বলিলেন,—‘না! আমার রাজত্ব পাপে ঘিরিয়াছে। চল, আবার মৃগয়ায় যাইব।’ আবার রাজপুরীতে মৃগয়ার ডঙ্কা বাজিল।
রাজা মৃগয়ায় গিয়াছেন আর সেই দিন আকাশের দেবতা ভাঙিয়া পড়িল। ঝড়ে, তুফানে, বৃষ্টি, বাদলে—সঙ্গী সাথি ছাড়াইয়া, পথ পাথার হারাইয়া ঘুরঘুট্টি অন্ধকার, ঝম ঝম বৃষ্টি—বৃক্ষের কোটরে রাজা রাত্রি কাটাইলেন।
পরদিন রাজা হাঁটেন হাঁটেন, পথের শেষ নাই। রৌদ্র ঝাঁ-ঝাঁ, দিক দিশা খাঁ-খাঁ; জনমনুষ্য কোথায়, জল জলাশয় কোথায়, হাঁপিয়া জাপিয়া ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় আকুল রাজা দেখেন, দূরে এক বাড়ি। রাজা সেই বাড়ির দিকে চলিলেন।
অরুণ-বরুণ-কিরণমালা তিন ভাই-বোন দেখে কী?—এক যে মানুষ, তাঁর হাতে-পায়ে গায়ে মাথায় চিকমিক! দেখিয়া, অরুণ বরুণ অবাক হইল; কিরণ গিয়া দাদার কাছে দাঁড়াইল।
রাজা ডাকিয়া বলিলেন, ‘কে আছ, একটুকু জল দিয়া বাঁচাও।’
ছুটিয়া গিয়া, ভাই-বোনে জল আনিল। জল খাইয়া, অবাক রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘দেবপুত্র, দেবকন্যা বিজন দেশে তোমরা কে?’
অরুণ বলিল, ‘আমরা ব্রাহ্মণের ছেলে-মেয়ে।’
রাজার বুক ধুকুধুকু, রাজার মন উসুখুসু—‘ব্রাহ্মণের ঘরে এমন ছেলে-মেয়ে হয়!’ কিন্তু রাজা কিছু বলিতে পারিলেন না, চাহিয়া, চাহিয়া, দেখিয়া, দেখিয়া, শেষে চক্ষের জল পড়ে-পড়ে! রাজা বলিলেন, ‘আমি জল খাইলাম না, দুধ খাইলাম!—দেখো বাছারা, আমি এই দেশের দুঃখী রাজা। কখনো তোমাদের কোনো কিছুর জন্য যদি কাজ পড়ে, আমাকে জানাইও, আমি তা করিব।’ বলিয়া, রাজা নিশ্বাস ছাড়িয়া, উঠিলেন।
তখন কিরণ বলিল, ‘দাদা! রাজার কী থাকে?’
অরুণ বরুণ বলিল ‘তা তো জানি না বোন—শুধু পুঁথিতে আছে, যে, রাজার হাতি থাকে, ঘোড়া থাকে, অট্টালিকা থাকে।’
কিরণ বলিল, ‘হাতি-ঘোড়া কোথায় পাই; অট্টালিকা বানাও।’
অরুণ বরুণ বলিল, ‘আচ্ছা।’
‘আচ্ছা,’ দিন কোথায় দিয়া যায়, রাত্রি কোথায় দিয়া যায়, কোন রাজ্য থেকে কী আনে, মাথার ঘাম মাটিতে পড়ে, ক্ষুধা নাই, তৃষ্ণা নাই, বারো মাস ছত্রিশ দিন চাঁদ সূর্য ঘুরে আসে, অরুণ বরুণ যে, অট্টালিকা বানায়। অরুণ বরুণ কাজ করে, কিরণমালা বোন, ভরা ঘাটের ধরা জল হাঁড়িতে হাঁড়িতে ভরিয়া আনিয়া দেয়। বারো মাস ছত্রিশ দিনে, সেই অট্টালিকা তৈয়ার হইল।
সে অট্টালিকা দেখিয়া ময়দানব উপোস করে, বিশ্বকর্মা ঘর ছাড়ে। অরুণ-বরুণ-কিরণের অট্টালিকা সূর্যের আসন ছোঁয়, চাঁদের আসন কাড়ে! শ্বেত পাথর ধব ধব, শ্বেত মানিক রব রব; দুয়ারে দুয়ারে রুপার কবাট, চূড়ায় চূড়ায় সোনার কলসি! অট্টালিকার চারিদিকে ফুলের গাছ, ফলের গাছ—পক্ষী-পাখালিতে আঁটে না। মধুর গন্ধে অট্টালিকা ভুরভুর, পাখির ডাকে অট্টালিকা মধুরপুর। অরুণ-বরুণ-কিরণের বাড়ি দেবে-দৈত্যে চাহিয়া দেখে!

তিন ভাই-বোন দেখে,—
গায়ে মাথায় চিকমিক—
একদিন এক সন্ন্যাসী নদীর ওপার দিয়া যান। যাইতে যাইতে সন্ন্যাসী বলেন,
‘বিজন দেশের বিজন বনে কে-গো বোন ভাই?
কে গড়েছ এমন পুরী, তুলনা তার নাই!’
পুরী হইতে অরুণ বলিলেন,
‘নিত্য নতুন চাঁদের আলো আপনি এসে পড়ে,
অরুণ-বরুণ-কিরণমালা ভাই-বোনটির ঘরে।’
সন্ন্যাসী বলিলেন,
‘অরুণ-বরুণ-কিরণমালার রাঙা রাজপুরী।
দেখতে সুখ শুনতে সুখ, ফুটত আরও ছিরি’।
এমন পুরী আরো কত হত মনোলোভা,
কী যেন চাই, কী যেন নাই, তাইতে না হয় শোভা।
এমন পুরী, রুপার গাছে ফলবে সোনার ফল।
ঝরঝরিয়ে পড়বে ঝরে মুক্তাঝরার জল।

‘উত্তর পুব, পুবের উত্তর মায়াপাহাড় আছে’
হিরা গাছে সোনার পাখির শুনব মধুস্বর—
মানিক-দানা ছড়িয়ে রবে পথের কাঁকর।
তবে এমন পুরী হবে তিন ভুবনের সার,
সোনার পাখির এক-এক ডাকে সুখের পাথার।’
শুনিয়া, অরুণ-বরুণ-কিরণ ডাকিয়া বলিলেন,
‘‘কোথায় এমন রুপার গাছ,
কোথায় এমন পাখি,
কেমন সে মুক্তো-ঝরা,
বললে এনে রাখি।’’
সন্ন্যাসী বলিলেন,
‘‘উত্তর পুব, পুবের উত্তর
মায়া-পাহাড় আছে,
নিত্য ফলে সোনার ফল
সত্যি হিরার গাছে।
ঝরঝরিয়ে মুক্তো-ঝরা
শীতল বয়ে যায়,
সোনার পাখি বসে আছে
বৃক্ষের শাখায়!
মায়ার পাহাড় মায়ায় ঢাকা
মায়ায় মারে তির—
এসব যে আনতে পারে
সে বড়ো বীর!’
বলিতে বলিতে সন্ন্যাসী চলিয়া গেলেন।
অরুণ-বরুণ বলিলেন, ‘বোন, আমরা এসব আনিব।’
অরুণ বলিলেন, ‘ভাই বরুণ, বোন কিরণ, তোরা থাক, আমি মায়া পাহাড়ে গিয়া সব নিয়া আসি।’’ বলিয়া অরুণ—বরুণ-কিরণের কাছে এক তরোয়াল দিলেন—‘যদি দেখ, যে, তরোয়ালে মরিচা ধরিয়াছে, তো জানিও আমি আর বাঁচিয়া নাই।’ তরোয়াল রাখিয়া অরুণ চলিয়া গেলেন।
দিন যায়, মাস যায়, বরুণ-কিরণ রোজ তরোয়াল খুলিয়া খুলিয়া দেখেন। একদিন, তরোয়াল খুলিয়া বরুণের মুখ শুকাইল; ডাক দিয়া বলিলেন, ‘বোন দাদা আর এ সংসারে নাই! এই তির-ধনুক রাখো, আমি চলিলাম। যদি তিরের আগা খসে, ধনুর ছিলা ছিঁড়ে, তো জানিও আমিও নাই।’
কিরণমালা অরুণের তরোয়ালে মরিচা দেখিয়া কাঁদিয়া অস্থির। বরুণের তির-ধনুক তুলিয়া নিয়া বলিল, ‘হে ঈশ্বর! বরুণদাদা যেন অরুণদাদাকে নিয়া আসে।’
যাইতে যাইতে বরুণ মায়া পাহাড়ের দেশে গেলেন। অমনি চারিদিকে বাজনা বাজে, অপ্সরা নাচে, পিছন হইতে ডাকের উপর ডাক—‘রাজপুত্র! রাজপুত্র! ফিরে চাও! ফিরে চাও! কথা শোনো!’
বরুণ ফিরিয়া চাহিতেই পাথর হইয়া গেলেন—‘হায়! দাদাও আমার পাথর হইয়াছেন!’
আর হইয়াছেন;—কে আসিয়া উদ্ধার করিবে? অরুণ বরুণ জন্মের মতো পাথর হইয়া রহিলেন।
ভোরে উঠিয়া কিরণমালা দেখেন, তিরের ফলা খসিয়া গিয়াছে, ধনুর ছিলা ছিঁড়িয়া গিয়াছে—অরুণদাদা গিয়াছে, বরুণদাদাও গেল! কিরণমালা কাঁদিল না, কাটিল না, চক্ষের জল মুছিল না; উঠিয়া কাজললতাকে খড় খৈল দিল, গাছগাছালির গোড়ায় জল দিল, দিয়া, রাজপুত্রের পোশাক পরিয়া, মাথে মুকুট, হাতে তরোয়াল—কাজললতার বাছুরকে, হরিণের ছানাকে চুমু খাইয়া, চক্ষের পলক ফেলিয়া কিরণমালা মায়াপাহাড়ের উদ্দেশ্যে বাহির হইল।
যায়,—যায়,—কিরণমালা আগুনের মতো উঠে, বাতাসের আগে ছুটে;—কে দেখে, কে না-দেখে! দিন রাত্রি, পাহাড় জঙ্গল, রোদ বান সকল লুটোপুটি গেল; ঝড় থমকাইয়া বিদ্যুৎ চমকাইয়া তেরো রাত্রি তেত্রিশ দিনে কিরণমালা পাহাড়ে গিয়া উঠিলেন।
অমনি চারিদিক দিয়া দৈত্য, দানা, বাঘ, ভালুক, সাপ, হাতি, সিংহ, মোষ, ভূত-পেতনি আসিয়া কিরণমালাকে ঘিরিয়া ধরিল।
এ ডাকে, ‘‘রাজপুত্র, তোকে গিলি!’’
ও ডাকে, ‘‘রাজপুত্র, তোকে খাই!’’

মায়া পাহাড়
পায়ের নীচে কত পাহাড় টলে গেল,
কত পাথর গলে গেল
‘হাম হুম! ...হাঁই!
‘হম হম হাঃ!’
‘হুম!... হাম...!’
‘ঘঁঃ!’...
পিঠের উপর বাজনা বাজে,—‘তা কাটা ধা কাটা
ভ্যাং ভ্যাং চ্যাং—
রাজপুত্রের কেটে নে
ঠ্যাং!’
করতাল ঝন ঝন—
খরতাল খনখন—
ঢাক-ঢোল মৃদঙ্গ কাড়া—
ঝকঝক তরোয়াল, তরতর খাঁড়া—
অপ্সরা নাচে, ‘রাজপুত্র, রাজপুত্র, এখনও শোন!’
মায়ার তির, ধনুকে ধনুকে টানে গুণ;
উপরে বৃষ্টি বজ্রের ধারা, মেঘের গর্জন লক্ষ কাড়া—শব্দে, রবে আকাশ ফাটিয়া পড়ে, পাহাড় পর্বত উলটে, পৃথিবী চৌচির যায়! সাত পৃথিবী থরথর কম্পমান, বাজ, বজ্র,—শিল,—চমক—!
* * *
নাঃ! কিছুতেই কিছু না! সব বৃথায়, সব মিছায়! কিরণমালা তো রাজপুত্র নন, কিরণমালা কোনোদিকে ফিরিয়া চাহিল না, পায়ের নীচে কত পাথর টলে গেল, কত পাথর গলে গেল, চক্ষের পাতা নামাইয়া, তরোয়াল শক্ত করিয়া ধরিয়া, সোঁ-সোঁ করিয়া কিরণমালা সরসর একেবারে সোনার ফল হিরার গাছের গোড়ায় গিয়া পৌঁছিল!
আর অমনি হিরার গাছে সোনার পাখি বলিয়া উঠিল, ‘আসিয়াছ? আসিয়াছ? ভালোই হইয়াছে। এই ঝরনার জল নাও, এই ফুল নাও, আমাকে নাও, ওই যে তির আছে নাও, ওই যে ধনুক আছে নাও, নাও, নাও, দেরি করিও না; সব নিয়া, ওই যে ডঙ্কা আছে, ডঙ্কায় ঘা দাও।’
পাখি এক-এক কথা বলে, কিরণমালা এক-এক জিনিস নেয়। নিয়া গিয়া, কিরণমালা ডঙ্কায় ঘা দিল।
সব চুপচাপ! মায়া-পাহাড় নিঝুম। খালি কোকিলের ডাক, দোয়েলের শিস, ময়ূরের নাচ!
তখন পাখি বলিল, ‘কিরণমালা, শীতল ঝরনার জল ছিটাও।’

সাত যুগের ধন্য বীর
কিরণমালা সোনার ঝারি ঢালিয়া জল ছিটাইলেন, চারিদিকে পাহাড় মড়মড় করিয়া উঠিল, সকল পাথর টকটক করিয়া উঠিল—যেখানে জলের ছিটেফোঁটা পড়ে, যত যুগের যত রাজপুত্র আসিয়া পাথর হইয়া ছিলেন, চক্ষের পলকে গা-মোড়া দিয়া উঠিয়া বসেন। দেখিতে দেখিতে সকল পাথর লক্ষ লক্ষ রাজপুত্র হইয়া গেল। রাজপুত্রেরা জোড়হাত করিয়া কিরণমালাকে প্রণাম করিল,—
‘সাত যুগের ধন্য বীর!’
অরুণ বরুণ চোখের জলে গলিয়া বলিলে, ‘মায়ের পেটের ধন্য বোন।’
মাথার উপর সোনার পাখি বলিল,
‘অরুণ-বরুণ-কিরণমালা,
তিনটি ভুবন করলি আলা!’
পুরীতে আসিয়া অরুণ-বরুণ-কিরণমালা কাজললতাকে ঘাস জল দিলেন, কাজললতার বাছুর খুলিয়া দিলেন, হরিণছানা নাওয়াইয়া দিলেন, আঙিনা পরিষ্কার করিলেন, গাছের গোড়ায় গোড়ায় জল দিলেন, জঞ্জাল নিলেন, দিয়া, নিয়া, বাগানে রুপার গাছের বীজ, হিরার গাছের ডাল পুঁতিলেন, মুক্তোঝরনা জলের ঝারির মুখ খুলিলেন, মুক্তোর ফুল ছড়াইয়া দিলেন; সোনার পাখিকে বলিলেন, ‘পাখি! এখন গাছে বসো!’
তরতর করিয়া হিরার গাছ বড়ো হইল, ফরফর করিয়া রুপার গাছ পাতা মেলিল, রুপার ডালে হিরার শাখে টুকটুকেটুক সোনার ফল থোপায় থোপায় দুলিতে লাগিল; হিরার ডালে সোনার পাখি বসিয়া হাজার সুরে গান ধরিল! চারিদিকে মুক্তার ফল থরে থরে চমচম—তারি মধ্যে শীতল ঝরনায় মুক্তোর জল ঝরঝর করিয়া ঝরিতে লাগিল।
পাখি বলিল, ‘আহা!’
অরুণ-বরুণ-কিরণ তিন ভাই-বোনে গলাগলি করিলেন।
বনের পাখি পারে না, বনের হরিণ পারে না, তা মানুষে কি থাকিতে পারে? ছুটিয়া আসিয়া দেখে ‘আঃ! পুরী যে পুরী। ইন্দ্রপুরী পৃথিবীতে নামিয়া আসিয়াছে।’
খবর রাজার কাছে গেল। শুনিয়া রাজা বলিলেন, ‘তাই না কী! সেই ব্রাহ্মণের ছেলেরা এমন সব করিল!’
সেই রাতে সোনার পাখি বলিল, ‘অরুণ-বরুণ-কিরণমালা! রাজাকে নিমন্ত্রণ করো।’
তিন ভাই-বোন বলিলেন, ‘সেকী! রাজাকে নিমন্ত্রণ করিয়া কী খাওয়াইব?’
পাখি বলিল, ‘সে আমি বলিব।’
অরুণ বরুণ ভোরে গিয়া রাজাকে নিমন্ত্রণ করিয়া আসিলেন।
সোনার পাখি বলিল—‘কিরণ! রাজা মহাশয় যেখানে খাইতে বসিবেন, সেই ঘরে আমাকে টাঙাইয়া দিও।’
কিরণ বলিল, ‘আচ্ছা।’
ঠাট কটক নিয়া, জাঁকজমক করিয়া রাজা নিমন্ত্রণ খাইতে আসিয়া দেখেন, কী!! রাজা আসিয়া দেখেন আর চমকান; দেখেন, দেখেন আর ‘থ’ খান। পুরীর কানাচে কোণে যা, রাজভান্ডার ভরিয়াও তা নাই! ‘এসব এরা কোথায় পাইল? এরা কি মানুষ! হায়!!’ একবার রাজা আনন্দে হাসেন, আবার রাজা দুঃখে ভাসেন—আহা, ইহারাই যদি তাঁহার ছেলে-মেয়ে হইত!
রাজা বাগান দেখিলেন, ঝরনা দেখিলেন; দেখিয়া, শুনিয়া, সুখে, দুঃখে, রাজার চোখ ফাটিয়া জল আসে, চোখে হাত দিয়া রাজা বলিলেন, ‘আর তো পারি না! ঘরে চলো।’
ঘরে এদিকে মণি, ওদিকে মুক্তো, এখানে পান্না, ওখানে হিরা। রাজা অবাক!
তারপর রাজা খাবার ঘরে।—রকমে রকমে খাবার জিনিস থালে থালে—রেকাবে রেকাবে—বাটিতে বাটিতে—ভারে-ভারে রাজার কাছে আসিল! সুবাসে সুগন্ধে ঘর ভরিয়া গেল।
আশ্চর্যে, বিস্ময়ে, রাজা আস্তে আস্তে, আসিয়া আসন নিলেন। আস্তে আস্তে অবাক রাজা থালে হাত দিয়াই—
রাজা হাত তুলিয়া বসিলেন!
‘একী! সব যে মোহরের!’
‘তাহাতে কী?’
রাজা ‘এ কি খাওয়া যায়?’
‘কেন যাইবে না? পায়েস, পিঠা, ক্ষীর, সর, মিঠাই, মোন্ডা, রস, নাডু, খাওয়া যাইবে না?’
রাজা বলিলেন, ‘কে এ কথা বলে? অরুণ-বরুণ-কিরণ, তোমরাও কি আমার সঙ্গে তামাসা করিতেছ? মোহরের পায়েস, মোতির পিঠা, মুক্তোর মিঠাই, মণির মোন্ডা, এসব মানুষে কেমন করিয়া খাইবে? এ কি খাওয়া যায়?’
মাথার উপর হইতে কে বলিল, ‘মানুষের কি কুকর-ছানা হয়?’

কে এ কথা বলে
—‘‘অ্যাঁ’’—
‘‘রাজা মহাশয়, মানুষের কি বিড়াল-ছানা হয়?’’
‘‘—অ্যাঁ!’’ রাজা চমকিয়া উঠিলেন। দেখিলেন, সোনার পাখিতে বলিতেছে,—
‘‘মহারাজ, এ সব যদি মানুষে খাইতে না পারে, তো, মানুষের পেটে কাঠের পুতুল কেমন করিয়া হয়?’’
রাজা বলিলেন, ‘‘তাই তো, তাই তো—আমি কি করিয়াছি!!’’ রাজা আসন ছাড়িয়া উঠিলেন।
সোনার পাখি বলিল,
‘মহারাজ, এখন বুঝিলেন? ইহারাই আপনার ছেলে-মেয়ে। দুষ্টু মাসিরা মিথ্যা করিয়া কুকুরছানা, বিড়ালছানা, কাঠের পুতুল দেখাইয়াছিল।’
রাজা থরথর কাঁপিয়া চোখের জলে ভাসিয়া, অরুণ-বরুণ-কিরণকে বুকে নিলেন ‘হায়! দুঃখিনী রানি যদি আজ থাকিত।’
সোনার পাখি চুপি চুপি বলিল, ‘অরুণ-বরুণ-কিরণ, নদীর ও-পারে যে কুঁড়ে, সেই কুঁড়েতে তোমাদের মা থাকেন। বড়ো দুঃখে মরো-মরো হইয়া তোমাদের মায়ের দিন যায়; গিয়া তাঁহাকে নিয়া আইস।’
তিন ভাই-বোন অবাক হইয়া চোখের জলে গলিয়া মাকে নিয়া আসিল। দুঃখিনী মা ভাবিল,—আহা, স্বর্গে আসিয়া বাছাদের পাইলাম!
সোনার পাখি গান করিল,
‘অরুণ-বরুণ-কিরণ,
তিন ভুবনের তিন ধন।
এমন রতন হারিয়ে—ছিল
মিছাই জীবন।
অরুণ-বরুণ-কিরণমালা
আজ ঘুচালি সকল জ্বালা।’
তাহার পর আর কী? আনন্দের হাট বসিল। রাজা রাজত্ব তুলিয়া আনিয়া, অরুণ-বরুণ-কিরণের পুরীতে রাজপাট বসাইয়া দিলেন। সকল প্রজা সাত দিন সাত রাত্রি ধরিয়া মণি-মুক্তো, হিরা-পান্না নিয়া হুড়োহুড়ি খেলিল।
তাহার পর আর একদিন, রাজ্যের কতকগুলা জল্লাদ হইহই করিয়া গিয়া ঘেসেড়ার বাড়ি, সূপকারের বাড়ি জ্বালাইয়া দিয়া রানির পোড়ারমুখী দুই বোনকে হেঁটে কাঁটা উপরে কাঁটা দিয়া পুঁতিয়া ফেলিয়া চলিয়া আসিল।
তাহার পর রাজা-রানি—অরুণ-বরুণ-কিরণমালা, নাতি-নাতকুড় লইয়া কোটি-কোটিশ্বর হইয়া যুগ যুগ সুখে রাজত্ব করিতে লাগিলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন