এক যে রাজা-খুব বড় রাজা। রাজার মস্ত বড় রাজ্য, প্রকাণ্ড রাজপুরী, ভাণ্ডার ভরা মণি মানিক সোনাদানা টাকাকড়ি। রাজার এক রানি আর চার রাজপুত্তুর-হীরালাল, মানিকলাল, মোতিলাল আর পান্নালাল।
হীরালাল আর মানিকলাল জোয়ান ছেলে, মোতিলাল তরুণ আর পান্নালাল বালক।
তা–রাজা, রানি আর চার পুত্তুর নিয়ে সুখে রাজত্ব করেন। করেন, করেন—হঠাৎ একদিন কোথাও কিছু না—রাজা স্বগে গেলেন। এত সুখের রাজপুরীতে কান্নার রোল, সারা রাজ্যে হায় হায়, রানি বুকে কপালে চড় মেরে ধুলোয় লুটিয়ে কাঁদেন! তা—কাঁদলে কী আর হবে, যে গেছে তাকে কি আর পাওয়া যাবে? চোখের জল মুছে মুখে হাতে জল দিয়ে রানি ছেলে কোলে নিয়ে বসেন।
ছোট ছেলে কোলের ছেলে, পান্নালাল যে—রানি তাকে বড্ড ভালোবাসেন। সবার চেয়ে ভালো খাবার খাওয়ান, ভালো পোশাক পরান, ভালো ঘোড়ায় চড়ান, ভালো বিছানায় শোয়ান।
পান্নালাল যখনি যা চান তখুনি তা পান। রানি সাত আদরে সাত সোহাগে পান্নালালকে মানুষ করেন।
বড় তিন রাজপুত্তুর ছোট ভাইকে হিংসে করেন, হিংসেয় পোড়েন। তিন জনে কানাকানি করেন—আমরা কি মার কোলে হয়েছি, না আকাশ থেকে ভুঁয়ে পড়েছি? আমরা কি মার কেউ নয়—পান্নালালই সর্বময়? দেখি মা আছেন কি আমরাই আছি!
তিন ভাই যুক্তি করে সারা রাজ্য দখল করে মা ভাইকে আলাদা বাড়িতে থাকতে দেন।
তা—শাসনে ছেলে মানুষ হয়; বেশি আদরে নষ্ট হয়। পান্নালাল যে আদরে আদরে সাত আদরে মানুষ, ভয় নেই ডর নেই, কারুর কথা শোনেন না, কাউকেই আর মানেন না, মাকেও না, যা খুশি তা করেন, যা মন তাই বলেন—খেয়াল মতো চলেন।
একদিন হয়েছে কী—পান্নালাল মার সঙ্গে গঙ্গা নাইতে যান। দেখেন কিনা—ঘাটে একটি নৌকো নোঙর করা, তা—নৌকোয় দাঁড়ি নেই, মাঝি নেই, জনমনিষ্যি কেউ নেই—খালি নৌকো দাঁড়িয়ে। তাড়াতাড়ি পা বাড়িয়ে নৌকোয় চড়ে পান্নালাল মাকে বলেন নৌকায় উঠতে।
রানি মা হতভম্ব, বলেন–না বাছা না, শিগগির করে নেমে এসো ও নৌকা তোমার নয়; ওতে কেন চড়ে বসো? তাকে শোনে কার কথা? পান্নালাল টেনেটুনে নোঙর তুলে বলেন—না মা, না, নামব না। শিগগির তুমি নৌকোয় ওঠো, নয়তো এখুনি নৌকা ছেড়ে দেবো, গঙ্গা ছেড়ে সাগর-বুকে পাড়ি দেবো।
রানি মা কী আর করেন, সাত তাড়াতাড়ি নৌকোয় চড়েন। আর অমনি তীর ছোটে কি তারা ছোটে, নৌকা ছোটে জল কেটে।
রানি মা চলেন—নৌকো চলে—দূর দূর অনেক দুর নদী পেরিয়ে সাগর জলে।
যেতে যেতে যেতে যেতে রাজপুত্তুর দেখেন কি না—এক জায়গায় সাগর-জল বোঁ বোঁ ঘোরে; আর ঘূর্ণিজলে লাল-টুকটুক বড় বড় চুনি ভাসে, ছিটকে পড়ে! সে কী যে সে চুনি, তেমন চুনি কেউ কখনো দেখে নি, তেমন চুনির কথা কেউ কখনো শোনে নি, যেমন বরণ তেমনি গড়ন, এক-একটা সাত রাজার ধন মণির সমান! পান্নালাল করেন কি—তাড়িতাড়ি নৌকায় তোলেন কতকগুলি চুনি।
মন ছনছন শুকনো মুখে ছেলের মাথায় বুকে হাত বুলিয়ে আদর করে রানি মা বলেন—ছি বাবা, ছি, পরের জিনিস নেয় কি? হয়ত ঐ ঘূর্ণিজলে রাজা-রাজড়ার নৌকো গেছে অতল তলে, তাদেরই ঐ লালগুলি সব ভাসে জলে। কোথায় কখন কেউ দেখতে পাবে, চুরির দায়ে ফাঁসি যাবে! নিয়ো না, নিয়ো না, ফেলে দাও-আর কেন দেরি কর! জলের জিনিস জলে দিয়ে বাড়ি ফেরো। মা বারবার শতবার বলেন, পরের জিনিস কেন নাও—জলের জিনিস জলে দাও। ছেলের মনে কি হয় তা কে জানে, মায়ের মুখপানে চেয়ে চুনিগুলি ফেলে দেন, শুধু সবচেয়ে বড় চুনিটি কাপড়ের খুঁটে বেঁধে নিয়ে তীরের পানে নৌকো চালান। নৌকো ভেসে ভেসে লাগে এসে এক পাটনে। তা পাটন যে-সে কি আর যা-তা পাটন? হাট হাটন গড় বাটন মস্ত শহর—দেশের রাজা রাজ-নগর। নগরের মাঝে মস্ত বড় রাজপুরী।
নৌকো হতে নেমে মায়ে পোয়ে নগরের মাঝে যান, একটি কুটির ভাড়া নিয়ে থাকেন দু-জন।
পান্নালাল যে বয়সে তরুণ, গুলি খেলতে ভালোবাসেন। বিকেলবেলা রাজবাড়ির একবয়সী ছেলেরা সব গুলি খেলতে মাঠে আসেন। পান্নালালও তাদের সঙ্গে মেশেন। রাজবাড়ির ছেলেরা সব পাথরের গুলি আনেন। তা পান্নালালের তো গুলি নেই, করেন কি চুনিটি ছুঁড়ে গুলি মারেন। চুনিটি কি আর যা-তা, পাকা পোক্ত, খুব শক্ত। যে গুলিতে লাগে সেই গুলিই ভাঙে।
রাজার রাজকন্যে যে সাত আদরের আদরিনী, আদরে সোহাগে খুকুরানি, রাজবাড়ির বারান্দা থেকে রোজ ছেলেদের খেলা দেখেন। দেখতে দেখতে দেখেন কিনা—
অচেনা অজানা ছেলের হাতে চকচকে ঝকঝকে লাল টুকটুকে পাথরখানা। রাজকন্যের চোখ ঝলে, মন ভোলে, মনে মনে ভাবেন—পাথরটি তাঁর চাই। তাই রাজার কাছে গিয়ে বলেন, বাবা, অচেনা অজানা ছেলের হাতে লাল টুকটুকে পাথরটি যে—ওটি আমার চাই। না পেলে কিছু খাব না, জলটুকুও ছোঁব না, না খেয়ে শুকিয়ে মরি!
রাজা বলেন—ছি মা ছি, তা কি হতে দিতে পারি?
রাজার সিপাই ছোটে খেলার মাঠে, পান্নালালকে আদর করে হাতে ধরে ডেকে আনে রাজার কাছে।
চুনির আলো ঠিকরে পড়ে, রাজার চোখে ঝিলিক মারে। এত বড় চুনি দেখে রাজা মশাই অবাক হন, বড় বড় চোখে অপলকে চেয়ে রন। রাজা ভাবেন—এত বড় এত সুন্দর আসল চুনি জন্মে চক্ষেও তো দেখি নি, কোনও রাজা-রাজড়ার রাজভাণ্ডারে এত বড় চুনি আছে তা কানেও কখনো শুনি নি। রাজা পান্নালালকে বলেন, বাহবা বা, সাবাস খোকা, এ পাথরটি কোথায় পেলে?
পান্নালাল বলেন, সাগর-জলে।
রাজা বলেন, হাজার টাকা গুণে নাও, পাথরটি আমায় বেচে দাও।
তা পান্নালাল যে—পাথর কি চুনি তা জানেন না, আসল চুনির দামও জানেন না। পান্নালাল খুব সহজেই রাজি হন। রাজার কথায় রাজভাণ্ডারী পান্নালালকে হাজার টাকা গুণে দেন। রাজা চুনি নিয়ে অন্দরে যান। পান্নালাল টাকা নিয়ে ঘরে ফেরেন।
গা থর-থর বুক ধড়-ফড়, ভয়ে ডরে বুকে কপালে চড় মেরে হাহাকার করে রানি মা বলেন—হায়, অদেষ্টে এ লেখন ছিল, পেটের পুত রাজার ছেলে যে—চোর হল! নগরে বাজারে হেথায় হোথায় ঘোরে ফেরে, ধনীর ধন যে চুরি করে! হাপুস নয়নে রানিমা কাঁদেন ডাক ছেড়ে।
তখন পান্নালাল বলেন –না মা না, চুরি করি নি। আমার লাল পাথরটি রাজা নিয়েছেন, তার বদলে এই টাকা দিয়েছেন। হয় কি না হয় পুরীতে যাও, রাজার কাছে শুধিয়ে নাও।
সব ঠিকঠাক জেনে শুনে রানি মা প্রবোধ মানেন মনে মনে।
.
ওদিকে রাজকন্যে যে—গা মাজেন, চুল বাঁধেন, পাটেশ্বরী শাড়ি পরেন, হীরের বালা, মোতির মালা, অষ্ট অলঙ্কারে সেজে গুজে বড় চুনিটি খোঁপায় গুঁজে সোনার দাঁড়ে পোষা শুকের কাছে গিয়ে বলেন—
সোনার শুক সোনার শুক ওরে জাদুধন,
বল দিকিনি রূপ এখন খুলেছে কেমন?
শুক অমনি বলে—
রাজকন্যে রাজকন্যে মিছেই গরব কর
একটি মোটে চুনির ফুল খোঁপায় পর।
রাজকন্যে থ’খান, বড় বড় চোখ তুলে চান শুকের পানে। শুক বলে-
চাঁপার বরণ কন্যে ওগো মেঘ-বরণ চুল
সাজত ভালো রাজকন্যে হলে দুটি ফুল।
শুনে কেঁদে-কেটে রাজকন্যে গয়নাগাঁটি ছুঁড়ে ফেলেন, পাটেশ্বরী ছাড়েন, ময়লা শাড়ি পরেন, গোসাঘরে গিয়ে খিল আঁটেন।
রাজা শুনে পড়ি-তো-উঠি-না সাত তাড়াতাড়ি গোসাঘরের দুয়োরে এসে বলেন—
মা গোঁ মা,
গোসাঘরে খিল কেন, মা!
খিল খুলে ঘরে চলো
কি চাই তা খুলে বলো।
ভেতর থেকে রাজকন্যে বলেন—
না, বাবা, না,
খিল কখনো খুলব না,
অমনি চুনি আরেকটি পাই
তবে তো আমি ঘরে যাই।
নইলে নাব না–খাব না—গোসাঘরের খিল খুলব না।
বিনি মেঘে বাজ পড়ে রাজার শিরে, রাজা মাথায় হাত দিয়ে ভাবেন—ঠিক অমনি চুনি আর-একটি কোথায় পাবেন? অত বড় ডাগর ডোগর আসল চুনি সারা পৃথিবীতে আর আছে কি? কী যে করেন, কী যে বলেন—রাজা ভেবে ভেবে ছেলেটিকে রাজসভায় ডেকে পাঠান।
পান্নালাল রাজসভায় আসেন।
রাজা বলেন, বাপু ঠিক অমনি আর একটি পাথর তোমার কাছে আছে কি?
পান্নালাল বলেন, না, মহারাজ, আর তো নাই! কেন? আপনার কি আরও চাই? চান যদি তো একটা কেন, অনেক এনে দিতে পারি। দূরে দূরে–বহু দূরে সাগরের বুকে ঘূর্ণি-জলে অমন পাথর অনেক মেলে।
রাজা শুনে অবাক হন, বলেন—তা বাপু, যখনই তুমি এনে দেবে, লক্ষ টাকা বখশিশ পাবে।
পান্নালাল বাড়ি গিয়ে মাকে বলেন সব কথা। মা বলেন—ওরে বাবারে, আর সেখানে যেয়ো না, আর পাথর নিয়ো না। একে সাগর তায় ঘূর্ণিজল—কত বিপদ আছে আপদ আছে, সেখানে কি যেতে আছে? হোক না কেন লক্ষ টাকা, ছেলেমানুষ, একা একা—যেয়ো না যেয়ো না কখনও যেয়ো না!
তাকে শোন কার কথা? কোনও কথা শোনেন না, কোনও মানা মানেন না, পান্নালাল সাগর-তীরে গিয়ে নৌকোয় ওঠেন। আর অমনি তীর ছোটে কি তারা ছোটে উল্কা বেগে নৌকা ছোটে সাগরের জল কেটে কেটে।
পান্নালাল দেখেন—ঠিক তেমনি ঘূর্ণিজলের পাকে পাকে পলকে পলকে ঝলকে ঝলকে লাল পাথর উঠতে থাকে।
কিছু পরেই নৌকো আসে ঘূর্ণিজলের ধারে। পান্নালাল যত পারেন বড় বড় লাল পাথর তুলে নৌকোর খোল বোঝাই করেন। পাথর তোলেন আর তোলেন, দামাল ছেলে পান্নালাল ভাবেন—কোত্থেকে এই পাথর আসে দেখতে হবে।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ, ঘূর্ণিজলের মাঝখানে নৌকো নিয়ে যান পান্নালাল। দেখেন কিনা—মাঝখানে যে—সাগরের তলা পর্যন্ত একদম ফাঁকা। নৌকো ছেড়ে পান্নালাল মাঝখানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নৌকা এদিকে ঘূর্ণিজলের পাকে পাকে বোঁ-বন-বন্ ঘুরতে থাকে!
সমুদ্রের তলায় গিয়ে পান্নালাল দেখেন, বিরাট বিশাল এক যে পুরী—দুধ-ধ-ধব্ দুধে ধোয়া দুধে মোছা রাজপুরী কি ইন্দ্রপুরী! পান্নালাল ভেতরে যান। দেখেন কি না-পুরীর ভেতর একখানি বড় ঘর যে-ধুনোগুগগুল ফুলের গন্ধে ম’ম’, ঘরের মাঝখানে স্ফটিকের বেদীতে নিনড় নিথর পাথরের মূর্তি যেন মহাযোগী মহেশ্বর তিন চোখ বুজে যোগাসনে ধ্যান করছেন! মহেশ্বরের মাথার তিন হাত ওপরে আর-এক স্ফটিকের মাচায় শুয়ে কন্যে যে—অপরূপ রূপ রূপসী রূপের রাশি রূপেশ্বরী; দেখলে চোখ ঠিকরে পড়ে, চোখের পাতা নড়ে না, চোখের পলক পড়ে না! পান্নালাল কন্যের মাচায় ওঠেন। উঠতেই—ওরে বাবাঃ, সারা গায়ে কাঁটা—দু-চোখ ভাঁটা, কন্যের যে শির গর্দান দু-খান কাটা! কন্যের কাটা মাথা থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরে পড়ে শিবঠাকুরের মাথায় জটায়, আর অমনি রক্তফোঁটা ঝকঝকে টকটকে লাল পাথর হয়ে ঘূর্ণিজলে ছুটে যায়।
তা—চোখ বোজেন আর খোলেন, খোলেন আর বোজেন, পান্নালাল বার বার দেখেন। দেখতে দেখতে পান্নালাল দেখেন কি না—কন্যের কাটা মাথার পাশে পড়ে যে দু’টি কাঠি—একটি সোনার, রূপোর একটি। কাঠি দু’টি হাতে নিয়ে পান্নালাল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখেন। দেখতে দেখতে সোনার কাঠিটি টুপ করে কন্যের কাটা মাথায় পড়ে। আর অমনি চোখের পলকে আপনা-আপনি
কাটা মাথা কাটা ধড়ে জোড়া লাগে, মরা কন্যে পরান পেয়ে মাচার উপর উঠে বসেন।
কন্যে চোখ মেলে দেখেন কি না—মানুষ! কেঁপে-কুঁপে ত্রস্তে ব্যস্তে আস্তে আস্তে বলেন–কে আপনি, কী করে এলেন, কেমন করেই বা পথ পেলেন?
পান্নালাল বলেন আসার কথা।
সব শুনে কপালে ঘা মেরে চোখের জলে ভেসে ভেসে কন্যে বলেন, হায় রে কপাল! পালান পালান, যুবক, শিগগিরি পালান, এখান থেকে চলে যান! ঐ যে দেখেন মহাযোগী মহেশ্বর—ওঁর ধ্যান ভাঙলে রক্ষে নাই, এক দৃষ্টিতে হবেন ছাই!
পান্নালাল বলেন—তা একা কি আর যাব, তোমাকেও সঙ্গিনী করে সঙ্গে নেব। দু-জনে দু-জনের হাত ধরে ছুটে ছুটে পুরী ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে চুনি-বোঝাই নৌকোয় ওঠেন।
পান্নালাল কূলের পানে নৌকো চালান। সোঁ-সোঁ জল কেটে নৌকো লাগে পাটনের ঘাটে। চুনির পুঁটলি কাঁধে নিয়ে চুনিকন্যের হাত ধরে পান্নালাল ঘরে গিয়ে দু-জনে একত্তরে রানিমাকে প্রণাম করেন।
চুনি কন্যের রূপ দেখে রানিমা তো অবাক হন। ধান দুর্বো মাথায় দিয়ে, চিবুক ছুঁয়ে চুমু খেয়ে বরণ করে ঘরে তোলেন।
পরদিন সকাল বেলা—মস্ত বড় থালায় বাছা বাছা বড় বড় চুনি সাজিয়ে পান্নালাল রাজবাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এত বড় বড় এত চুনি পেয়ে রাজা অবাক, রানি অবাক—রাজপুরীর সবাই অবাক!
রাজকন্যে গোসাঘরের খিল খোলেন। থালা-ভরা একই রকম বড় বড় চুনি দেখে বলেন—
এ চুনি যাঁর,
গলায় মালা তাঁর।
রাজা লক্ষ টাকা পান্নালালকে পাঠিয়ে দিয়ে মেয়ের বিয়ের খবর দেন। তা পান্নালালের যে চুনিকন্যে বৌ আছে! তা হলে কী হয় চুনি, পান্না, রানি মা–তিন জনেই–খুশি মনে মত দেন।
তারপরে শুভদিনে শুভলগ্নে জাঁকজমকে পান্নালালের সঙ্গে রাজকন্যের বিয়ে হয়।
দু বৌ নিয়ে পান্নালাল সুখে ঘরকন্যা করেন। কালে কালে দু বৌয়ের কোলে সোনার চাঁদ ছেলেমেয়ে হয়। বুড়ি রানিমা নাতি-নাতকুড় কোলে নিয়ে, ছেলে বৌদের সেবা পেয়ে হরিনাম গেয়ে গেয়ে স্বগে যান।
আমার কথাটি ফুরুলো
নটে গাছটি মুডুল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন