সুকুমারবাবুর সাইকেল

গৌর বৈরাগী

Cov24

সুকুমারবাবু বাজার থেকে ফিরছিলেন৷ দু-হাতে দুটো ব্যাগ৷ একটা ছোটো একটা বড়ো৷ এই গরমে কষ্ট তো হচ্ছেই৷ একটা টোটো নিলে হয়৷ কিন্তু তাতে দশটা টাকা বেরিয়ে যাবে৷ দশ টাকা তার কাছে খুব একটা কম নয়৷ হাঁটছেন আর সাইকেলের কথা ভাবছেন৷ ওটা থাকলে এসব অসুবিধে কিছু নয়৷ কিন্তু গেল সপ্তায় সাইকেলটা চুরি হয়ে গেল৷

হাঁটতে হাঁটতে দরদর করে ঘামছিলেন৷ তখনই একজন সাইকেল থেকে নেমে তার পাশে পাশে হাঁটতে শুরু করল৷ হাঁটতে হাঁটতেই বলল, 'নিশ্চয়ই খুব কষ্ট হচ্ছে দাদার?'

এ কথায় পাশে তাকালেন সুকুমারবাবু৷ ছেলেটা অচেনা৷ বয়স মনে হয় পঁচিশ-টচিশ হবে৷ রোগা মর্কট চেহারা, পরনে একটা লতপতে পেন্টেলুন৷

সুকুমারবাবু বললেন, 'তা একটু কষ্ট হচ্ছে বই কী৷ ব্যাগ দুটো আনাজপাতিতে ভরতি৷ সাত-আট কেজি ওজন হবে৷'

একথায় ছেলেটা বলল, 'এত কষ্ট করার কী দরকার আপনার?'

সুকুমারবাবু হাসলেন, 'কষ্ট না করে উপায় কী? দিন দশেক আগে আমার সাইকেল চুরি হয়ে গেল যে৷'

ছেলেটা খুব অবাক হয়ে বলল, 'চুরি, আপনার সাইকেল?'

সুকুমারবাবু চিনতে পারলেন না৷ তবে তাকে নিশ্চয়ই চেনে ছেলেটা৷ রাস্তাঘাটে দেখে থাকবে সাইকেল সমেত৷ হয়তো এই মানকুণ্ডুরই ছেলে৷ তবে তার সাইকেলটা সাতরদ্দির এক রদ্দি৷ উনিশশো ষাট সালে কেনা হারকিউলিস৷ পার্টস বদলাতে বদলাতে ওটা একটা স্ক্র্যাপ৷ ইদানিং সাইকেল তাকে টানত না৷ বরং তিনিই সাইকেলটাকে টেনে নিয়ে যেতেন৷ এই যেমন এখন সাইকেলটা থাকলে ব্যাগ দুটো হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে সাইকেলখানা টানতে টানতে বাড়ি ফিরতেন৷ ভুলেও সিটে উঠতেন না৷ তো সেই জিনিসটাও বেমালুম চুরি হয়ে গেল৷

চুপচাপই হাঁটছিলেন সুকুমারবাবু৷ ছেলেটা আবার কথা বলল, 'যাকগে যা হবার হয়েছে৷ আর তো কিছু করার নেই৷ তা বলছি কী দাদা, এবার একটা সাইকেল কিনেই ফেলুন না৷'

চমকে তাকিয়েছেন সকুমারবাবু৷ তা দেখে ছেলেটা বলে উঠল, 'না না, নতুন কেনার কথা বলছি না৷ এই পুরোনো আর কি, মানে সেকেন্ড হ্যান্ড৷'

গায়ে পড়া কথাটা এবার কিন্তু খারাপ লাগল না৷ সাইকেল চড়িয়ে লোকেদের সাইকেল ছাড়া যে কী কষ্টের৷ বললেন, 'কোনো সন্ধান-টন্ধান আছে নাকি?'

'হ্যাঁ দাদা আছে, আপনার সামনেই তো রয়েছে৷'

'সামনে মানে?'

ছেলেটা হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া সাইকেলটার সিটে একটা চাপড় মেরে বলল, 'এটা পছন্দ হয়?'

এতক্ষণ দেখা হয়নি৷ এবার বেশ ভালোভাবেই তাকালেন সুকুমারবাবু৷ গাড়িটায় নতুন রং করা হয়েছে৷ স্প্রে নয়, হাতে ব্রাশ টেনে রং করা৷ তা হোক তবু ওর জন্যেই যেন একটু খোলতাই হয়েছে৷ বেশ চকচক করছে শরীর, জেল্লাও মারছে৷ তবে ওদিক থেকে তাড়াতাড়ি চোখটা সরিয়ে আনলেন৷ বেশি উৎসাহ দেখানো মানেই দুর্বলতা৷

ছেলেটা আবার প্রশ্নটা করল৷ 'কি দাদা পছন্দ হয়?'

'মোটামুটি৷' আস্তে করে বললেন সুকুমারবাবু, 'দাম কী রকম?'

'খুব বেশি নয়,' ছেলেটা হাসল৷ 'পাঁচ-শো দিলেই হয়ে যাবে৷'

'পাঁচ-শো!' গলায় অবাক উঠে এল সুকুমারবাবুর৷ 'এই পুরোনো রদ্দি সাইকেলটার দাম পাঁচ-শো৷' বলে দ্রুত পা চালাতে গেলেন তিনি৷ তাড়াতাড়ি সরে যেতে চান৷

দেখাদেখি ছেলেটাও জোরে পা চালাল৷ 'আহা আপনার দাম তো একটা আছে৷ কত দিতে পারবেন, বলবেন তো৷'

'কত?' সুকুমারবাবু হাসলেন৷ 'সামনের চাকায় গ্যাটিস, ফর্কে রাংঝাল, ব্রেক স্যু আর প্যাডেল স্যু না বদলালেই নয়৷ সিট ছিঁড়ে ফর্দাফাঁই৷ ওই নতুন রং বুলিয়ে দিলেই কি হয়ে গেল?' একটু থেমে সুকুমারবাবু বললেন, 'দেড়-শো টাকা হলে নিতে পারি৷'

'দেড়-শো৷ আপনার কি মাথা-ফাতা খারাপ হল নাকি দাদা৷ যতই পুরোনো হোক, দেড়-শো টাকায় একটা সাইকেল হয়৷'

'হয় না, তা জানি৷ তবে ওর চেয়ে বেশি দেবার ক্ষমতা আমার নেই৷ রং কারখানায় কাজ করে ক-টাকা পাই বলো৷'

'আচ্ছা একটা কাজ করুন৷' ছেলেটা আরও কাছাকাছি হল৷ 'আপনার একটা সাইকেল খুবই দরকার, ঠিক কি না?'

'তা ঠিক৷'

'তাহলে পাঁচ-শো নয়, চার-শো টাকা দিন৷' ছেলেটা হাত বাড়িয়ে সুকুমারের হাতটা ধরে ফেলল৷ 'বিশ্বাস করুন, হঠাৎ খুব বিপদে পড়েছি নইলে এমন হারকিউলিস কেউ চার-শো টাকায় হাতছাড়া করে৷'

'এটাও হারকিউলিস বুঝি?'

'হ্যাঁ দেখুন না,' ছেলেটা হাসল৷ 'আসলে নতুন রঙে সব ঢাকা পড়ে গেছে৷'

ভালো করে দেখার জন্যই এবার সাইকেলটার কাছাকাছি হলেন সুকুমারবাবু, 'হাতে ব্যাগ নিয়ে ঠিক দেখা যায় না জানেন৷'

ছেলেটা হাসল, 'পাশে সাইকেল থাকতে হাতে ব্যাগ রাখবেন কেন৷ হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে দিন৷'

কথাটা মন্দ নয়৷ ব্যাগ দুটো সুকুমারবাবু সাইকেলের হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে দিলেন৷ দিয়ে সাইকেলটাকে পরখ করতে চাইলেন৷ বললেন, 'হ্যান্ডেলটা বেশ তো নতুনই'৷

ছেলেটা হাসল, 'ঠিকই বলেছেন, প্রায় নতুনের মতো চকচকে৷'

'চাকাতেও কোনো ধুলোময়লা নেই৷ তবে মনে হচ্ছে খান তিনেক গ্যাটিস আছে৷'

ছেলেটা বলল, 'নতুন টায়ায় কিনব কিনব করে আর কেনা হচ্ছে না৷ তবে তিনটে নয়, গ্যাটিস আছে আপনার দুটো৷'

Cov25

সুকুমারবাবু বললেন, 'কই দেখি৷' বলে দেখতে যাচ্ছিলেন নীচু হয়ে৷

ছেলেটা বলল, 'থাক থাক, চাকায় আর হাত দিতে হবে না৷ ও দুটোও যা তিনটেও তাই৷ তবে পুরোনো জিনিস তো জম্পেশ বডি৷ চার-শো টাকায় আপনার লাভই হবে৷'

'আমাকে কেটে ফেললেও চার-শো টাকা বেরোবে না৷ খুব চাপাচাপি করলে দু-শো পর্যন্ত উঠতে পারি৷'

'দু-শোতে দাদা একদম পোষাবে না৷ অভাবে পড়েছি বলে এত ভালো সাইকেলখানা বিক্রি করে দিতে হচ্ছে৷' ছেলেটা একটু কাছে সরে এসে বলল, 'বিশ্বাস করুন দাদা৷'

কী বিশ্বাস করার কথা বলল সেটা বুঝতে পারলেন না সুকুমারবাবু৷ চারপাশে রোদ্দুর৷ ঝকঝক করছে আলো৷ গরমও হচ্ছে বেশ৷ হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলেন চুরি যাওয়া সাইকেলটার কথাই৷ তার সঙ্গেই অনেক ঝড়ঝাপটা সহ্য করেছে ওটা৷ ভেঙেচুরে পড়লে কখনো কখনো ভেবেছেন ওটাকে বাতিল করে একটা নতুন কিনবেন৷ টাকা যে তার অনেক আছে তা নয়, আবার এত কমও নেই যে একটা নতুন সাইকেল কিনতে পারবেন না৷ কিন্তু যখন পুরোনোটা বাতিল করার কথা ভেবেছেন তখনই মন খারাপ হয়ে গেছে তার৷ হ্যান্ডেলটা যেন তারই বাঁ-হাত আর ডান হাত কিংবা প্যাডেল হল হাঁটুর মালাইচাকি৷ সাইকেল চললে পুরোনো চেন থেকে রিংটিন শব্দ হয়-মনে হয় তার হার্ট বিট৷

ছেলেটা ফিসফিস করে বলল, 'কী ভাবছেন দাদা?'

সুকুমারবাবু আলগা গলায় বললেন, 'কই কিছু না তো৷'

কথাটা এমন যাতে ছেলেটা বুঝতে পারে ওটা কেনার ব্যাপারে তার কোনো ইন্টারেস্ট নেই৷

কিন্তু তার কথায় পাত্তা না দিয়ে ছেলেটা বলল, 'এক কাজ করুন, আপনার কথাও থাক আমার কথাও থাক৷ আপনি পুরোপুরি তিন-শো দিন৷'

সুকুমারবাবুর বেশ রাগ হয়ে গেল৷ এই দরাদরিটা তার মোটেই ভালো লাগছে না৷ প্রতিদিন তিনি দরাদরি করেই বাজার করেন৷ সে সময় বড্ড ছ্যাঁচড়া হয়ে যেতে হয়৷ যেমন আজও হয়েছে৷ দামি জিনিসের দিকে তিনি বড়ো একটা হাত বাড়ান না৷ বাসি শাকপাতা, কানা বেগুন, পাকা ঢ্যাঁড়স এ সবেই ব্যাগ দুটো বোঝাই৷ এসব কিনতে গিয়ে বড়ো মনখরচা হয়ে যায় তার৷ সেই খরচ হয়ে যাওয়া মনের ওপর আরও চাপ দিচ্ছে ছেলেটা৷ ওদিকে একটা সাইকেল হলে খুবই ভালো হয়৷ তাই একটু গম্ভীর হলেন সুকুমারবাবু৷ বললেন, 'দেখুন দরাদরি আমার ভালো লাগছে না৷ দু-শো বলছি, ওর ওপর আরও পঞ্চাশ টাকা ধরে দেব ব্যাস৷'

কী আশ্চর্য এতে ছেলেটা রাজি হয়ে গেল৷ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, 'বেশ দিন তাহলে৷'

'কী দেব?'

'ওই আড়াইশো-ই দিন, তারপর সাইকেল চেপে বাড়ি যান৷'

টাকা ছিল না পকেটে, তাই বাড়িতেই যেতে হল৷ সাইকেলখানা হস্তান্তর হচ্ছে৷ ছোটো একটা চিরকুট লিখে ফেললেন সুকুমারবাবু৷

"আজ ৮ এপ্রিল ২০১৬ একটি পুরোনো সাইকেল আড়াই-শো টাকায় খরিদ করিলাম৷ বিক্রেতা শ্রী অধরচন্দ্র পোদ্দার, সাং-সারেংপাড়া, কালীতলা৷"

দু-জনের সইসাবুদ হল৷ আড়াই-শো টাকা হাতবদল হল৷ যাবার সময় অধর পোদ্দার বলল, 'খুব জিতে গেলেন দাদা৷'

হ্যাঁ জিত তো বটেই৷ যতই পুরোনো হোক আড়াই-শো টাকায় কি একটা আস্ত সাইকেল পাওয়া যায় নাকি৷ সিটে বসে দুটো পাকও দিলেন৷ চেনে একটু শব্দ হচ্ছে৷ চাকায় মনে হচ্ছে টাল খাচ্ছে৷ তা বাদে চালাতে বেশ আরামই লাগল৷ মনে হল যেন তারই পুরোনো গাড়িটা৷

পুরোনোই, কিন্তু এখন তার মনে হল নতুনই৷ বারান্দার একপাশে আগের গাড়িটার জায়গাতেই রাখলেন সুকুমারবাবু৷ তারপর কী মনে হতে একটা ছেঁড়া কাপড় দিয়ে গাড়িটা মুছতে বসে গেলেন৷

টিউশানি ফেরত দেবু তাকে দেখে এগিয়ে এল৷ বলল, 'এটা কিনলে বুঝি বাবা?'

'হ্যাঁ রে, বেশ সস্তায় পাওয়া গেল৷'

দেবু হাসল, 'সস্তার তিন অবস্থা৷ সব পার্টস খুলে পড়ে যাবে মনে হচ্ছে৷'

'দেখে মনে হচ্ছে বটে৷ কিন্তু চাপলে দেখবি তত খারাপ নয়৷'

'আমি বাবা এ গাড়িতে চাপছি না৷'

'কেন?'

'ওই তো তোমার রডে রাংঝাল দিয়ে জোড়া৷ ফর্কেও ঝাল৷ হ্যান্ডেলটা মাঝখান থেকে বেঁকে আছে৷' বলতে বলতে সাইকেলটার কাছাকাছি হল দেবু৷ খুব নিরীক্ষণ করে দেখতে দেখতে চাপা গলায় ডাকল, 'বাবা৷'

'কী রে?'

'মনে হচ্ছে তোমার সাইকেলটাই রং করে বেচে দিয়ে গেল৷'

'ধ্যাৎ, কী যে বলিস৷' বললেন বটে, তবে তার গলায় তেমন জোর ছিল না৷ দেবুর কথা শুনে মনে হচ্ছে কোথাও একটা হয়তো গণ্ডগোল রয়েছে৷ ওই অচেনা ছেলেটাই বা তার সঙ্গে গায়ে পড়ে আলাপ করতে আসবে কেন৷ খুঁজে খুঁজে ঠিক তার কাছেই আসা যার কিছুদিন আগেই সাইকেলটা চুরি হয়ে গেছে৷ তবে কি দেবুর কথাই ঠিক৷ সেটা যাচাই করতেই সাইকেলটা তন্নতন্ন করে খুঁজছিলেন৷ সামনের চাকায় তিনটে গ্যাটিস তার দেখা হয়ে গেছে৷ দেখে ফেলেছেন পেছনের চাকার রিমে তিনটে স্পোক ভাঙা৷ ক্রিং ক্রিং করে বেলটাও দু-বার বাজিয়েছেন৷

যখন সব দেখে-টেখে মুখ তুললেন তখন দেখলেন একদিকে তিনি একা অন্যদিকে মা আর ছেলে-মেয়ে দু-জন৷ শুধু সংখ্যায় নয় গলার জোরেও মুখোমুখি হয় কার সাধ্যি৷ তার ভালোমানুষি, তার ভীমরতির মতো অভিযোগের তিরে তাকে ফালাফালা করল৷ যত ফালাফালা হলেন তত রাগ চড়ল তার ভেতরে৷ নাঃ, একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে৷

পরের দিন সকালে ডিউটি যাবার আগে সাইকেলটা নিয়ে সারেংপাড়া, কালীতলায় গিয়ে পৌঁছোলেন তিনি৷ ভাগ্যিস নাম ঠিকানাটা নেওয়া ছিল৷ কিন্তু ঠিকানা মিললেও নাম মিলছিল না৷ অধরচন্দ্র পোদ্দার বলে কেউ থাকে না ঠিকানায়৷

যাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনিই বললেন, 'কী ব্যাপার বলুন তো দাদা?'

ব্যাপারটা শুনে তিনি হাসলেন৷ বললেন, 'অধর-ফধর বলে কাউকে পাবেন না এখানে৷ তবে আপনি যাকে খুঁজছেন তার নাম তারক৷ ওই ছেলেটা চোরাই সাইকেল কম দামে কিনে রং করে বিক্রি করে৷'

কথামতো তারকের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালেন সুকুমারবাবু৷ একটা পচা ডোবার ধারে ছিটেবেড়ার ঘর৷ ডোবায় দুটো সাদা হাঁস চরছে৷ ওপারে একটা আম গাছ ঝুঁকে এসে জল ছুঁয়েছে৷ তারক তারক বলে, দু-বার ডাক দিতেই একটা ছেলে ছিটে বেড়ার দরজা ঠেলে বাইরে এসে দাঁড়াল৷ হ্যাঁ এই ছেলেটাই অধরচন্দ্র পোদ্দার ফেরেববাজ৷

সুকুমারবাবু কড়া গলায় বললেন, 'কাল আমার চুরি যাওয়া সাইকেলখানাই আমাকে বিক্রি করে এলে তুমি?'

'এ কী বলছেন দাদা, ওটা আপনার হবে কী করে?'

'আমার সাইকেল আমি চিনব না? সামনের চাকায় তিনটে গ্যাটিস, চারটে স্পোক ভাঙা, রডে রাংঝাল৷'

তারক যেন একটু হাসল৷ 'চোরাই মাল যা আসে, সব এইরকমই৷ নতুন সাইকেল চুরি করার খুব রিস্ক৷ আপনারটা কি এ তল্লাটে আছে নাকি দাদা৷ সে অন্য কোথাও চলে গেছে৷'

'কখনো না, এটা আমারই সাইকেল৷ আমার গাড়ি আমি চিনব না৷ আর তা ছাড়া...'

'তা ছাড়া কী?'

'আমার সাইকেলের বেলে ক্রিং ক্রিং শব্দ হয় না৷ যতবার বেল বাজাই ততবার সাইকেল বলে 'সুকুমার', 'সুকুমার'৷' কথা শেষ করে তিনি দু-বার বেল বাজিয়েও দিলেন৷ তারপর তারকের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'কী শুনলে, সুকুমার না?'

তারক অবাক গলায় বলল, 'তাই তো শুনলুম দাদা৷'

'তাহলে, এই সাইকেলের দাম কি আড়াই-শো টাকা হয়?' কথা বলতে বলতে পকেটে হাত দিলেন সুকুমারবাবু৷ দুটো কড়কড়ে এক-শো টাকার নোট তুলে এনে বাড়িয়ে দিলেন তারকের দিকে৷ 'নাও ধরো৷' বলে ধাঁ করে সাইকেলের সিটে উঠে বসলেন তিনি৷

তারক হাঁ করে দেখছিল৷ ওই তো সাইকেলটা ডোবার ধার দিয়ে, গাছতলার ছায়ার ভেতর দিয়ে চলে যাচ্ছে৷ দু-বার বেল বাজল৷ সে স্পষ্ট শুনল, সাইকেলটা 'সুকুমার', 'সুকুমার' বলতে বলতে চলে যাচ্ছে৷

Cov26
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%