গৌর বৈরাগী

আকাইপুরের অবতার দাস লোকটা চোর, তবে উপকারী চোর৷ আজকাল চুরি জিনিসটা প্রায় উঠেই গেছে৷ চুরি করে সংসার চালানো দায়৷ কিন্তু চুরি ছাড়া অবতার বাঁচে কী করে? এদিকে বাড়িতে বাড়িতে চুরি করার মতো আর জিনিসই থাকছে না৷ জিনিস বলতে লোকে বোঝে টাকাপয়সা, সোনাদানা কিংবা দামি কিছু জিনিস-যেমন টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন৷ কিন্তু এসব জিনিস নেবার মতো ক্ষমতা তার নেই৷ এসব যারা চুরি করে, তারা ট্রাক ভাড়া করে বাড়ির সদরে দাঁড় করায়৷ তারপর একে একে দামি জিনিসপত্তর গাড়িতে ওঠায়৷ কাজটা সাধারণত দিনের বেলাতেই হয়, আর সল্টলেকের মতো শহরেই হয়৷ কেউ কাউকে চেনে না, কেউ কারও খোঁজও রাখে না৷
নিকষকালো সরকার সপরিবারে বেড়াতে গেলেন পুরী৷ পাঁচ দিনের ট্যুর, ঘর তালাবন্ধ৷ তাতে কী-তিন দিনের দিন তিনজন টিপটপ ড্রেস পরা ছোকরা একটা ট্রাক এনে দাঁড় করাল সরকার বাড়ির সামনে৷ তালা খুলে টিভি-ফ্রিজ-আলমারি-ড্রেসিং টেবিল সব ট্রাকে চাপিয়ে চলে গেল৷ সবাই জানল নিকষকালো সরকার বাড়ি শিফট করছেন৷ কেউই জানল না যে, সরকার বাড়িতে চোর পড়েছে৷
আমাদের অবতার দাসের সেই কেরামতি নেই, সেই ক্ষমতাও নেই৷ আবার আকাইপুরটা কলকাতা শহরও নয়৷ যদিও আজকাল পাকা রাস্তা হয়েছে, দু-দশখানা একতলা, দোতলা বাড়ি হয়েছে৷ তিনটে ছোটো ছোটো ব্যাঙ্ক বসেছে, আর বসেছে দুটো এটিএম৷ আর ওই এটিএম কলটিই তাদের যা সর্বনাশ করার করে দিল৷ লোকে এটিএম-এ গিয়ে চাইলেই টাকা পাচ্ছে৷ কেউ আর একশো-দু-শো টাকাও ঘরে রাখছে না৷ তাই এখন সে পুরো বেকার৷
বেকার বলে টোটো করে ঘোরা ছাড়া আর কোনো কাজ থাকে না৷ একমনে চোখ প্রায় বন্ধ করেই ঘুরছিল অবতার৷ কিন্তু কানকে তো আর বন্ধ করে রাখা যায় না৷ সাত রাজ্যির উলটোপালটা কথা খোলা কান দিয়ে ঢুকবেই৷ শুনব না, শুনব না করলেও উপায় নেই৷ এমনভাবে কাজহীন হয়ে ঘুরতে ঘুরতে অবতার বুঝল সময় কাটাবার একটা উপায় সে বার করে ফেলেছে৷ ঝগড়া শুনতে শুরু করলে সময় যে কোথা দিয়ে কেটে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না৷ আর ঝগড়ার কোনো শেষ নেই৷ বিশেষ করে কত্তা-গিন্নির ঝগড়া৷ আর সে ঝগড়া শুরুর কায়দাই-বা কত৷
তরকারিতে নুন বেশি হয়ে যাবার জন্যে ঝাড়া তিন ঘণ্টা ধরে ঝগড়া চলতে পারে৷ গ্লাসের জল চলকে ভাতের থালায় পড়েছে, ব্যস! লেগে গেল তুলকালাম৷ বেশি কথা বলার জন্যে ঝগড়া আবার কথা কম হচ্ছে এ নিয়েও ঝগড়া হতেই পারে৷ আর একবার শুরু হলে অন্তত দু-ঘণ্টার জন্য নিশ্চিন্তি৷ সময় নিয়ে আর ভাবতে হবে না অবতারকে৷ সে তখন একপায়ে খাড়া৷
এই তো গেল হপ্তায় নকুল মাইতির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল অবতার৷ ঝাড়া দু-ঘণ্টা৷ ভেতরে তখন তুমুল ঝগড়া চলছে৷ নকুল মাইতির গলা তখন সপ্তমে৷ হবেই৷ বাজার থেকে দেখনসই মাছ এনেছিলেন তিনি৷ রান্নাঘরে রেখেও ছিলেন৷ কিন্তু হুলোটা চোরাগোপ্তা ঢুকে একটা আস্ত মাছ মুখে তুলে চলে গেলে হয় না!
ঝগড়া শুরু হল মাছ নিয়ে৷ কিন্তু ঝগড়ার বয়স একটু বাড়তেই দেখা গেল ঝগড়ায় আর মাছ নেই৷ তুমুলভাবে সেখানে এসে গেছে 'প্রথম আলো'৷
'প্রথম আলো' হল একটি পত্রিকা৷ ছোটোদের পত্রিকা৷ এই পত্রিকায় ছড়া দিয়ে ছড়াকারের জীবন শুরু করেছেন নকুলকাকা৷ ইতিমধ্যে ছড়াকার হিসেবে বেশ নাম হয়েছে তাঁর৷ মোটামুটি সাত বছরের মধ্যে বিখ্যাত হয়েছেন, তা-ও বলা যায়৷
সাত বছর আগে শহরের অফিসে চাকরি করেছেন চুটিয়ে৷ অবসরের পর মনে হল, এবার লেখালেখিটা শুরু করলে হয়৷ সেই ভাবনা থেকেই কলম নিয়ে বসতেই হুড়হুড় করে বেরিয়ে এল একের পর এক ছড়া৷
শুধু বেরোলেই হবে না৷ ছড়া বারও করতে হবে৷ খোঁজ করতেই পেয়ে গেলেন সন্ধান৷ আকাইপুর থেকেই ছোটোদের একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়৷ নাম 'প্রথম আলো'৷ একটি কপি কিনে উলটেপালটে দেখলেন৷ গল্প ছড়া এসব ছাপা হয়েছে সেখানে৷ যথারীতি দুটো ছড়া ঠিকানায় পাঠিয়েও দিলেন তিনি৷ দু-মাস বাদে ফোন করে জানলেন, তাঁর ছড়া মনোনীত হয়েছে৷ কিন্তু একটা শর্ত আছে৷ কী শর্ত? না লেখা যে সংখ্যায় ছাপা হবে সেই সংখ্যার পাঁচটি কপি কিনে নিতে হবে ছড়াকারকে৷
এ আর বেশি কথা কী৷ মাস গেলে সরকারের ঘর থেকে মোটা পেনশন পান৷ ব্যাঙ্ক থেকে জমানো টাকার ওপর সুদ পান৷ এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন নকুলকাকা৷ পরের সংখ্যাতেই দুটি ছড়া ছাপা হয়ে গেল৷ শুধু 'প্রথম আলো'ই নয়, ফিল্ডে নেমে উনি দেখলেন, অগুনতি ছোটোদের পত্রিকা প্রকাশ হচ্ছে৷ নামগুলিও বড়ো মজাদার-'আগডুম বাগডুম', 'চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে', 'পাচ্ছে হাসি হাসছি তাই'৷ এমনকী 'হরিপাল বার্তা', 'হুগলীর ডাক' নামে বড়োদের কাগজেও ছড়া ছাপা হচ্ছে৷ কিন্তু শর্ত ওই একটাই-পাঁচ কপি পত্রিকা কিনতে হবে৷ শর্ত মেনে ছড়া ছাপা হতে লাগল হু-হু করে৷ এর ফলে হল কী, বছর সাতেকের মধ্যে এক-শো মতো ছড়া ছাপা হয়ে গেল৷ সেই সঙ্গে প্রায় তিন-শোর মতো পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যায় ঘরের বড়ো বড়ো ব্যাগ ভরতি হয়ে গেল৷ তারপর একদিন দেখা গেল পত্রিকা রাখার মতো আর জায়গাই নেই৷
এর ফলে হল কী, ঝগড়ায় ঘন ঘন আসতে লাগল 'প্রথম আলো'৷ কোনোদিন-বা নকুলকাকিমার রাগ গিয়ে পড়ল 'আগডুম বাগডুম'-এর ওপর, 'তোমার ওইসব ছাইপাঁশ আমি সব ঝেঁটিয়ে বিদেয় করছি৷'
'কী! এমন দামি দামি সব পত্রিকা-কীসব লেখা! এগুলোকে তুমি ছাইপাঁশ বল৷'
আসলে দোষটা নকুলকাকারই হয়েছে৷ পত্রিকায় পত্রিকায় ছয়লাপ, ঘরে আর জায়গা নেই৷ সেই জায়গা খুঁজতেই কাকার নজরে পড়ল সিঁড়ির নীচে দুটো বস্তার ওপর৷ তিনি জানতেন, ওই দুটো বস্তায় ভরতি পুরোনো জুতো৷ সব কাকিমার সঞ্চয়৷ কাকিমা মানুষটা এমন সঞ্চয়ী যে দীর্ঘ তিরিশ বছরের পুরোনো জুতো আগলে রেখেছেন৷ মেয়ের বেবি-স্যু, নকুলকাকার বুটজুতো, পাম্পস্যু, বিয়ের অ্যামবাসাডার, কাকিমার বিয়েতে জরির ফিতে বসানো জুতো৷ অন্তত কিছু না হলেও এক-শো জোড়া জুতোর কঙ্কাল৷ বস্তা দুটো টান মেরে ফেলে দিতে নকুলকাকা যতবার হাত বাড়িয়েছেন ততবারই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কাকিমা৷
ব্যস, এরপর ঝগড়া কি আর বাঁধ মানে! শুরু হয়েছিল ধীরে-সুস্থে৷ কিন্তু সেই ঝগড়াই বাড়তে বাড়তে বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে গেল৷ রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুনছিল অবতার৷ দেখতে দেখতে কখন যে দু-ঘণ্টা কেটে গেছে খেয়ালই নেই৷ খেয়াল হল, পঞ্চু মান্নার ডাকে৷
পঞ্চু মান্না বললেন, 'এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী করছিস রে অবতার?'
অবতার বলল, 'আজ্ঞে, ঝগড়া শুনছি৷'
'ছিঃ!' পঞ্চুমামা যেন বিরক্ত, 'ঝগড়া জিনিসটা মোটেই ভালো নয়৷ আসল কাজ হল ঝগড়া থামানো৷ সেটাই চেষ্টা করে দেখ৷ জীবনে একটা অন্তত ভালো কাজ কর৷'
কথাটা মনে ধরল অবতারের৷
সকালে নকুলকাকিমার ঘুম ভাঙে আগে৷ রোজই যেমন ভাঙে তেমন আজও ভেঙেছে৷ আজ সদর দরজা খুলতে গিয়ে অবাক৷ দরজা হাট করে খোলা৷ তখনই খারাপ কিছু চিন্তা করে হাউমাউ করে উঠেছেন কাকিমা৷

তড়বড় করে বিছানা ছেড়েছেন নকুলকাকা, 'কী হল, ব্যাপারটা কী?'
'চোর, চোর, বাড়িতে রাতে চোর ঢুকেছিল নির্ঘাত৷ না হলে সদর দরজা হাট করে খোলা থাকে?'
'চোর ঢুকেছিল৷ সর্বনাশ!' হায় হায় করে উঠলেন কাকা-কাকিমা দু-জনেই৷ যদিও হায় হায় করার মতো তেমন কোনো মূল্যবান জিনিসই নেই বাড়িতে৷ তবু খোঁজা হল৷ আলমারি, দেরাজ, ওয়ারড্রোব, আলনা, খাটের নীচে৷ নাঃ, এমনকী র্যাক থেকে একটা পত্রিকাও খোয়া যায়নি৷
আশ্চর্য কাণ্ড! এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করেও চুরি যাওয়া জিনিসের খোঁজ পাওয়া গেল না৷ এমন হলে হয় কী, কথাটা চাউর হয়৷ সকালে বাড়িতে খবরের কাগজের ছেলেটা এলে তাকে বললেন কাকা৷ বাড়িতে যে দুধ দেয় তাকে বললেন কাকিমা৷ ভ্যানে কাঁচা তরকারি নিয়ে মধু আসে বাড়িতে৷ তাকেও কথাটা বললেন নকুলকাকা৷ সেও এমন চুরির কোনো হদিশ করতে পারল না৷
আজ বাজার যাবার পথে দেখা হয়ে গেল অবতার দাসের সঙ্গে৷ তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগে সে উলটে এসে জিজ্ঞেস করল, 'সব ভালো তো কাকা?'
'না হে, ভালো নেই৷' খুব চিন্তার গলায় কথা বললেন নকুলকাকা৷ 'কাল বাড়িতে সদর দরজা খুলে চোর ঢুকেছিল৷ কিন্তু আশ্চর্যের কথা কী জান! চোর কিছুই চুরি করেনি৷'
'ঠিক বলছেন কাকা?'
'হ্যাঁ হে, একেবারে ঠিক কথা৷'
'তার মানে, আপনারা খেয়ালই করেননি৷' একগাল হাসল অবতার দাস৷ 'চুরি হয়েছে, অবশ্য এটাকে চুরি বলা যায় না৷ বরং এটাকে উপকারই বলতে পারেন৷'
'উপকার? চুরির বদলে উপকার?'
'তা নয়তো কী বলুন৷ দু-বস্তা মান্ধাতার আমলের পুরোনো জুতো চুরি যাওয়াটাকে কি চুরি বলবেন, না উপকার?'
নকুলকাকা আস্তে করে বললেন, 'উপকার তো বটেই৷ আমার বহুদিনের একটা সমস্যার সমাধান করে দিয়ে গেল৷' একটু থেমে আবার বললেন, 'আচ্ছা, কথাটা তুমি জানলে কী করে?'
একগাল হেসে অবতার বলল, 'কাজটা তো আমিই করেছি স্যার৷ এখন বলুন ঠিক করেছি কি না?'
'ঠিক তো বটেই৷ ওহ, বড়ো উপকার করলে হে৷ একেবারে যথার্থ কাজ করেছ৷' নকুলকাকা হাসলেন, 'তা পুরোনো জুতো বিক্রি করে কিছু পাওয়া-টাওয়া গেল?'
এ-কথায় হো-হো করে হাসল অবতার, 'আপনি বললেন ভালো, চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরের পুরোনো চিমসে জুতো তার কোনো দাম হয় নাকি৷ ও আমি বস্তা সমেত নদীতে ভাসিয়ে দিলুম৷'
'তাতে তোমার কী লাভ হল?'
'হল নিশ্চয়ই৷ উপকারের বদলে কিছু তো পাওনা হয়ই৷ এই ধরুন না আপনার অনেক দিনের সমস্যা রাতারাতি মিটে গেল৷ আপনাকে এর জন্যে কোনো হ্যাপাই পোয়াতে হল না৷ এই কাজের জন্যে কিছু তো আশা করাই যায়৷'
নকুলকাকা অল্প হাসলেন৷ বললেন, 'বুঝেছি৷ তা কত আশা কর তুমি?'
'ওটা আমি নিজে মুখে কী করে বলি স্যার৷ আপনি আমার চেয়ে জ্ঞানীগুণী, শিক্ষিতও বটে৷ যা ন্যায্য মনে করবেন...'
কথা শুনতে শুনতেই পকেটে হাত দিয়ে দুটো নোট বার করে এগিয়ে দিলেন নকুলকাকা, 'নাও ধরো, এতে হবে তো?'
'তা ধরছি৷ কিন্তু কাজটা বড়ো পরিশ্রমের৷ রাত জাগা আছে৷ বড়ো বড়ো মশার কামড় খাওয়া আছে, ধরা পড়ে উত্তম-মধ্যমের রিস্ক আছে৷ সেই তুলনায় দু-শো টাকা স্যার...৷'
হাসিমুখেই আরও দুটো নোট বার করলেন নকুলকাকা, 'নাও, ধরো এবার৷'
টাকাটা হাতে নিয়ে অবতার বলল, 'একটা কথা কাকা, ওটা আপনি পুরোপুরি করে দিন৷ তাতে জিনিসটা দেখায়ও ভালো৷'
ছেলেটার এলেম আছে বলতে হবে৷ চুরিকে চুরি, আবার উপকারকে উপকার৷ তখন প্রায় প্রতিটি রাতেই কাজ সারছে অবতার৷ আর কাজেরও তো শেষ নেই৷ বাড়িতে মান্ধাতা আমলের দুটো রেডিয়ো সেট চিলে কোঠায় পড়ে আছে তো পড়েই আছে৷ কোনো বাড়ির স্টোর রুমে চারটে ভাঙা দেওয়াল ঘড়ি সময় জানান দেয় না৷ গণ্ডায় গণ্ডায় আরশোলা তৈরি করছে৷ এক-শো বারোটা প্লাসটিকের জলের বোতল ফেলে না দিয়ে বুকে করে আগলে রেখেছেন সুধা মাসিমা৷ ইঁদুরের দাঁতে কাটার জন্যে দু-ট্রাঙ্ক ভরতি পুরোনো জামাকাপড় জমায়েত হয়ে আছে শোবার ঘরে৷ এসব জিনিস ফেলে দেবার৷ কিন্তু কেউ ফেলে না যখন, তখন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল অবতার৷ এর ফলে হল কী, আকাইপুরে ঝগড়াটাই গেল কমে৷
শরীর ঠান্ডা, মন ঠান্ডা, মাথাও ঠান্ডা নকুল মাইতির৷ বিশেষ করে ওই বস্তা দুটো যেন মাথার ওপর বোঝা হয়েছিল৷ অবতার সেটা সরিয়ে ফেলতেই দুম করে অনেকখানি জায়গা বেড়ে গেল৷ আরও নতুন ক-টা পত্রিকা নাহয় রইল৷ আসলে তো নাম, সেই নামটা ছড়াল৷ এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে৷ এমন দিনেই তো ঘুরে আসার ইচ্ছে হয়৷
দু-দিনের কড়ারে মেয়ের বাড়ি গেছলেন নকুল মাইতি৷ নাতিটা তার বড়ো ন্যাওটা, কিছুতেই ছাড়ল না৷ আরও দু-দিন থেকে যেতে হল৷ অবশ্য শুধু নাতির জন্যে নয়৷ চড়কডাঙায় একজনের সঙ্গে আলাপ হল৷ 'বউ কথা কও' পত্রিকার সম্পাদক অহেতুক দত্ত৷ তার কাছেই জানা গেল এখানে বিশ্ব ছড়া উৎসব হচ্ছে৷ শুধু জানা নয়, সম্পাদকমশাই তাকে ছড়া পড়ার আমন্ত্রণও জানালেন৷ এই ডাক কি ফেরাতে পারেন তিনি!
তাই দেরি৷ তাই মন ভরপুর৷ প্রায় উড়ে উড়েই ফিরছিলেন নকুল মাইতি৷ পথে দেখা হয়ে গেল অবতারের সঙ্গে৷ 'তুমি?'
'আজ্ঞে হ্যাঁ, কাকা৷'
'কোথায় যাচ্ছ অবতার?'
'আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্যেই এগিয়ে এসেছি৷ দু-দিন তো আপনার দেখাই নেই স্যার৷'
'কী করে পাবে, আমি তো বিশ্ব ছড়া উৎসবে গিয়ে ছড়া পাঠ করলাম৷ ওফ কী হাততালি! তা তোমার কী দরকার অবতার? তবে আছ কেমন?'
'ভালো৷ খুব ভালো স্যার৷ তবে ওই আপদগুলো বিদেয় করে দিয়েছি৷'
'আপদ৷'
'আজ্ঞে, হ্যাঁ৷ কাকিমা তো তা-ই বললেন, আমার জুতোর বস্তা যেমন সাফ করেছিস তেমনি কাকার ওই ছাইপাঁশগুলো নদীতে ফেলে দিয়ে আয়৷'
'তারপর?'
'তারপর আর কী৷ দু-দিন আগে কাজটা শেষ করে আপনাকে খুঁজেই যাচ্ছি৷ খুঁজেই যাচ্ছি৷'
বুক খালি করে ফস করে একটা নিশ্বাস ফেললেন নকুলকাকা, 'আমার সর্বনাশ যা করার করে আবার আমাকে খোঁজার কী দরকার৷'
'আজ্ঞে এবারের টাকাটা?'
'টাকা?'
'হ্যাঁ স্যার, টাকা৷ কাকিমার কাছেই প্রথম গেসলুম৷ উনি বললেন, টাকাটা আপনার কাছে চেয়ে নিতে৷'

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন