উদ্যোগ

শুভময় মণ্ডল

তারায় ভরা রাত। স্বর্গের আর সব দেবতা গভীর ঘুমে। শুধু সিংহাসনে একা জেগে বসে আছেন দেবরাজ ইন্দ্র।

তাঁর স্ত্রী শচী জিজ্ঞাসা করলেন, না শুয়ে ইন্দ্র একা জেগে আছেন কেন? কী ভাবছেন তিনি? কোনো বিপদ? স্বর্গের দুয়ারে এসে কি হানা দিল দৈত্যদল?

ইন্দ্র উত্তর দিলেন, তিনি ভাবছেন কী করে লক্ষ্মণ মেঘনাদকে হত্যা করবে? সে তো অপরাজেয়!

শচী বললেন, দেব-অস্ত্র তো পেয়েছ। মহাদেবও আমাদের পক্ষে। পার্বতীও তো বললেন, মায়া নিজেই মেঘনাদকে খুন করার উপায় বাতলে দেবেন। তাহলে ভাবছ কেন?

ইন্দ্র বললেন, সবই ঠিক। দেব-অস্ত্র পাঠিয়েও দিয়েছি রামচন্দ্রের কাছে। কিন্তু কী জানি, কী উপায়ে দেবী মায়া লক্ষ্মণকে রক্ষা করবে! আমি নিজেই ভয় পাই মহাধনুর্দ্ধর মেঘনাদ যখন ধনুকে আগুনের তির চাড়িয়ে হুঙ্কার ছাড়ে।

বিষাদে, দুর্ভাবনায় বসে আছেন ইন্দ্র। শচীর মুখেও সেই দুর্ভাবনার ছায়া। উর্বশী, মেনকা, রম্ভা সবাই এসে দাঁড়িয়েছে ইন্দ্রের চারদিকে। ঠিক এই সময়ে সেখানে হাজির হলেন দেবী মায়া। সোনার আসনে বসে দেবী মায়া ইন্দ্র ও ইন্দ্রের স্ত্রীকে আশীর্বাদ করলেন, তারপর ইন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন, লঙ্কাপুরে যাচ্ছি, তোমার আশা পূর্ণ হবে। রাত শেষ হয়ে আসছে। কিছুকাল পরেই দেখা দেবে উষা পূর্ব আকাশে। লঙ্কার তরুণ সূর্য নিবে যাবে। নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যাব লক্ষ্মণকে। মায়া-জালে ঘিরে ধরব মেঘনাদকে। দুর্বল, অসহায় মেঘনাদকে দেব-অস্ত্রে খুন করবে লক্ষ্মণ। কিন্তু তুমি ভাবো, এই সংবাদ যখন রাবণ পাবে, তখন তুমি কীভাবে লক্ষ্মণ, রাম ও বিভীষণকে রক্ষা করবে। পুত্রশোকে রাবণ যখন যুদ্ধে নামবে, তাঁকে রোখা যাবে কীভাবে?

ইন্দ্র বললেন, মেঘনাদ যদি লক্ষ্মণের তিরে মরে, তোমার আশীর্বাদে রাবণকে আমি ভয় পাই না। আমি নিজে কাল যাব দেবসৈন্য নিয়ে লক্ষ্মণকে রক্ষা করতে। রামচন্দ্র অমর, তিনিও রক্ষা করবেন লক্ষ্মণকে।

মায়া ইন্দ্রকে বললেন, তোমার কথায় ভরসা পেলাম। এখন আমি চললাম লঙ্কায়।

স্বর্গের উত্তর দ্বারে পৌঁছোলেন মায়া। স্বপ্নের দেবীকে ডেকে বললেন, তুমি লঙ্কায় রামচন্দ্রের শিবিরে যাও। যেখানে লক্ষ্মণ ঘুমিয়ে আছে, তার মাথার কাছে তার মা সুমিত্রার বেশ ধরে বসবে। তাকে বলবে, রাত শেষ হল, এবার ওঠো বাছা, লঙ্কার ভিতরে যাও। দেখবে একটি সরোবরের তীরে চন্ডীর মন্দির। সেই পুকুরে স্নান করে, নানা ফুল তুলে চন্ডীকে ভক্তিভরে পূজা করো। তাঁরই বরে তুমি ভয়ংকর রাক্ষসকে হত্যা করতে পারবে। কিন্তু বাছা, সেই বনে যেতে হবে একাকী।

মায়া দেবী স্বপ্নের দেবীকে বললেন, এখনই যাও, দেরি কোরো না। রাত শেষ হয়ে আসছে।

আকাশপথে যাত্রা করলেন স্বপ্ন দেবী। উজ্জ্বল হল নীল আকাশ। যেন খসে পড়ল একটি তারা। দেবী মায়ার নির্দেশমতো কাজ করলেন তিনি। সুমিত্রার রূপ ধারণ করে তিনি লক্ষ্মণকে স্বপ্নে বলে দিলেন সব, যেমন বলতে বলেছিলেন দেবী মায়া।

জেগে কেঁদে উঠলেন লক্ষ্মণ। বললেন, মা! মাগো, যদি দেখা দিলে ক্ষণেক দাঁড়াও। তোমার দু-পায়ে মাথা রাখি। যেদিন অযোধ্যা ছেড়ে চলে এলাম, কত কেঁদেছিলে তুমি। আর কোনোদিন কী তোমার সঙ্গে দেখা হবে!

লক্ষ্মণ গেলেন রামের কাছে। তাঁকে প্রণাম করে বললেন সব—স্বপ্নে যা দেখেছেন, যা শুনেছেন।

রামচন্দ্র তাকালেন বিভীষণের দিকে, তাঁর মতামতের জন্যে। লঙ্কায় তিনিই রামচন্দ্রের প্রধান ভরসা।

বিভীষণ বললেন, হ্যাঁ, লঙ্কায় একটি গোপন বাগানে সরোবরের ধারে এমন মন্দির আছে। সেখানে একা রাবণ পূজা করেন। আর কেউ সেখানে যেতে পারে না। ভয়ানক জায়গা। শুনেছি স্বয়ং মহাদেব নাকি সে জায়গা পাহারা দেন। সেখানে যে চণ্ডীকে পুজো করতে পারে সেই জয়ী হয় জগতে। যদি লক্ষ্মণ সেখানে সাহস করে যেতে পারেন, তাহলে তাঁরই জয়।

লক্ষ্মণ বললেন, আজ্ঞা যখন পেয়েছি, আমি পারব সেই বনে ঢুকতে।

রামচন্দ্র বললেন, আমার জন্যে তোমায় কত কষ্ট যে সহ্য করতে হচ্ছে। কী করব, ভাগ্যের লেখা! সাবধানে যাও। ধর্মই তোমার মহাবল, দেবতারা তোমায় রক্ষা করুন।

রামচন্দ্রকে প্রণাম করে, বিভীষণকে যথাযথ বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে একা যাত্রা করলেন লক্ষ্মণ। উত্তর দ্বার দিয়ে প্রবেশ করলেন লঙ্কায়। পৌঁছোলেন সেই ঘন বনে। দেখলেন, ঠিক তাই, ত্রিশূল হাতে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং মহাদেব।

খাপ থেকে তলোয়ার বার করে লক্ষ্মণ বললেন, রাজা দশরথের পুত্র আমি। তোমার পায়ে প্রণাম করে বলি, পথ ছেড়ে দাও মহাদেব, বাগান ঢুকে চন্ডীকে পূজা করব। নইলে আমার মতো ভক্তের সঙ্গে লড়াই করো। রাবণ পাপকাজে মত্ত। তুমি যদি তার পক্ষে অস্ত্র ধরতে চাও, তবে এসো লড়াই করি। দেরি সহ্য হয় না। ধর্ম সাক্ষী, এসো লড়াই করি। ধর্ম যদি সত্য হয়, নিশ্চয়ই তোমার সঙ্গে লড়াইয়েও জয় হবে আমার।

মহাদেব বললেন, সত্যিই সাহস আছে তোর লক্ষ্মণ। সাবাস! তোর সঙ্গে কী করে লড়াই করি, স্বয়ং পার্বতী তোর প্রতি প্রসন্ন।

মহাদেব দুয়ার ছেড়ে দিলেন। লক্ষ্মণ প্রবেশ করলেন সেই বাগানে। হঠাৎ দাঁত কড়মড় করে ছুটে এল এক ভয়ংকর সিংহ। খাপ থেকে তলোয়ার বার করে ‘জয় রাম’ বলে রুখে দাঁড়ালেন লক্ষ্মণ। সিংহ গেল অদৃশ্য হয়ে। আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে থাকলেন লক্ষ্মণ! হঠাৎ চাঁদ ঢেকে দিল কালো মেঘ। বাতাস উঠল গর্জন করে। দারুণ ঝড়ে আকাশে শুধু বিদ্যুতের রেখা। সেই আলো যেন অন্ধকারকে দ্বিগুণ করে দেয়। বাজ পড়ছে কড়কড় করে, ঝড়ে উপড়ে পড়ল গাছ। তারই মধ্যে ছুটে এল দাবানল। তবু সেই অন্ধকার, ঝড় আর দাবানলের মাঝে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন লক্ষ্মণ।

হঠাৎ থেমে গেল ঝড়, বজ্রপাত। নিবল দাবানল। মেঘ গেল সরে, আবার দেখা দিল তারায় ভরা আকাশ! বাতাস বইল শান্ত। হঠাৎ কোথা থেকে নূপুরের আওয়াজে ভরে উঠল সেই বন। নানাবিধ বাজনার সঙ্গে গান ভেসে এল। ফুলে ফুলে ভরে উঠল সামনের বন। একদল নারী এসে লক্ষ্মণকে ডেকে নিয়ে যেতে চাইল কোথায়! লক্ষ্মণ বললেন, তাঁর লক্ষ্যের কথা! সেই লক্ষ্য ছাড়া অন্য কিছু করবেন না তিনি!

সহসা তারা মিলিয়ে গেল কোথায়!

অনেকক্ষণ পর লক্ষ্মণ খুঁজে পেলেন সরোবরের ধারে সেই মন্দির। সরোবরে স্নান করে নীলোৎপল তুলে মন্দিরে ঢুকলেন লক্ষ্মণ, পূজা করলেন সিংহবাহিনী চন্ডীকে। বর প্রার্থনা করলেন, যেন রাক্ষসবীর মেঘনাদকে হত্যা করতে পারেন।

হঠাৎ মেঘ উঠল ডেকে, শোনা গেল বজ্রপাতের শব্দ। দুলে উঠল বনভূমি, উথলে উঠল সেই সরোবরের জল, থরথর করে কেঁপে উঠল বনভূমি।

লক্ষ্মণ দেখলেন সামনে তাঁর সোনার সিংহাসনে দেবী মহামায়া। বলে উঠলেন, সুমিত্রার ছেলে লক্ষ্মণ, দেব-দেবী সবাই আজ তোর পক্ষে। ইন্দ্র তোকে দিয়েছেন দেব-অস্ত্র। শিবের নির্দেশে আমি নিজে এসেছি তোর কাজ সমাধা করতে। দেব-অস্ত্র নিয়ে বিভীষণকে সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে যা লঙ্কার মাঝে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে। হঠাৎ বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে দেব-অস্ত্র দিয়ে হত্যা কর মেঘনাদকে। আমার আশীর্বাদে তোরা যখন যাবি অদৃশ্য হয়ে থাকবি, কেউ দেখতে পাবে না তোদের। যা, এখনই যাত্রা কর, কোনো ভয় নেই।

রামের কাছে চললেন লক্ষ্মণ। আকাশ থেকে কথা ভেসে এল, যা দেবতাদের অসাধ্য, তাই তুই করলি লক্ষ্মণ। শুভমুহূর্তে তোর জন্ম। তোর গুণগানে আজ জগৎ ভরে উঠবে।

সকাল হল। সোনার ঘরে ফুলের শয্যায় শুয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ-প্রমীলা। প্রমীলাকে মধুর স্বরে ডেকে ইন্দ্রজিৎ বললেন, শোনো পাখিরা তোমায় ডাকছে। উঠে দেখো। তোমার রূপ চুরি করে বাগানে ফুটেছে ফুল। প্রমীলাকে জাগাতে আবার বললেন, চলো, এবার বিদায় নেব মাকে প্রণাম করে। তারপর দেবতাকে পূজা করে যাব যুদ্ধে। যুদ্ধ করেই রামচন্দ্রের যুদ্ধের সাধ একেবারে মিটিয়ে দেব।

মেঘনাদ এবং প্রমীলা যথাবিধি সাজসজ্জা করে চললেন মা মন্দোদরীর কাছে। মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে মেঘনাদ যাবেন নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে। যজ্ঞ সাঙ্গ করে তিনি যাবেন রামকে হত্যা করতে।

মন্দোদরী তখন সারারাত জেগে শিবের মন্দিরে প্রার্থনা করছেন মেঘনাদের জন্যে। তিনি বার হয়ে এলেন। মেঘনাদ ও প্রমীলা—পুত্র ও পুত্রবধূর মাথায় চুমা দিয়ে কাঁদলেন মন্দোদরী।

ইন্দ্রজিৎ বললেন, মা আশীর্বাদ করো! নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে যুদ্ধে যাব। হত্যা করব রামচন্দ্রকে। সে আমার শিশুভাই বীরবাহুকে মেরে ফেলেছে। তোমার আশীর্বাদে আজ শত্রু শেষ করব। বিভীষণকে বেঁধে আনব।

মন্দোদরী বললেন, তোকে কেমন করে বিদায় দেব! আমার বুক যে আঁধার হয়ে যাবে, চাঁদ আমার! রাম-লক্ষ্মণ দুর্ধর্ষ বীর! কালসাপের মতো দয়াহীন বিভীষণ, লোভে মত্ত হয়ে সে নিজের লোকদের হত্যা করছে, খিদেকাতর বাঘ যেমন নিজের বাচ্চাদের খায়। শাশুড়ি কী কুক্ষণে জন্ম দিয়েছিল বিভীষণকে।

ইন্দ্রজিৎ বললেন, মা তুমি রামকে ভয় পাও কেন? দু-বার তাদের হারিয়েছি। বিভীষণও জানেন তোমার ছেলের ক্ষমতা। দেবতারাও ভয় পায় আমায়! তবে কোন ছার রামচন্দ্র! তুমি তাকে ভয় পাও!

মন্দোদরী বললেন, রামচন্দ্র সোজা লোক নয়। তুমি যখন নাগপাশে তাদের বেঁধেছিলে, কে খুলে দিল নাগপাশ। তিনি নির্দেশ দিলে পাথর ভাসে জলে, আগুন নিবে যায়। তাঁর সঙ্গে লড়তে তোকে পাঠাই কোন ভরসায়! হায় ভাগ্য, কেন শূর্পণখা মায়ের গর্ভেই মরে গেল না।

ইন্দ্রজিৎ বললেন, মাগো পুরানো কথা তুলে কেন কাঁদ অকারণে, শহরের দরজায় শত্রু, তাদের না শেষ করতে পারলে কিসের সুখ! ঘরে আগুন লাগলে কেউ ঘুমায় নাকি! শোনো, পাখি ডাকছে। সকাল হল। যজ্ঞ সাঙ্গ করে যুদ্ধে যাই! তুমি মন্দিরে যাও, শত্রু শেষ করে এখনই ফিরে আসব আমি। বাবার আদেশ পেয়েছি, এবার তুমি অনুমতি দাও। তুমি আশীর্বাদ করলে কে পারে আমার সঙ্গে!

মন্দোদরী কাঁদলেন, বললেন যদি যাবি, দেবতা তোকে আশীর্বাদ করুন। প্রমীলার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি মা আমার সঙ্গে থাকো! আমার জ্বালা যদি কিছু জুড়ায়।

পায়ে হেঁটে একা ইন্দ্রজিৎ চলেছেন যজ্ঞঘরের দিকে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ শুনলেন পিছনে নূপুরের ধ্বনি! এ পায়ের শব্দ খুব পরিচিত তাঁর কাছে। বুঝলেন ছুটে আসছেন প্রমীলা। কাছে এসে প্রমীলা বললেন, ভেবেছিলাম তোমার সঙ্গে যজ্ঞঘরে যাব, নিজে তোমায় সাজিয়ে দেব যুদ্ধের সাজে! কী করব শাশুড়ি-মা রেখে দিলেন কাছে।

ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন প্রমীলা। বললেন, একথা তুমি ভুলো না, তুমি ছাড়া আমার সকলই অন্ধকার।

ইন্দ্রজিৎ বললেন, তুমি ভাবছ কেন ? যুদ্ধে রামকে খুন করে এখনই ফিরে আসব। কেঁদো না, শুধু কান্নার জন্যে অমন চোখ পেয়েছিলে নাকি!

যজ্ঞঘরের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন মেঘনাদ। প্রমীলা থেকে ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছেন। চোখের জল মুছে টানা তাকিয়ে দেখছেন প্রমীলা! তারপর জোড়হাত করে আকাশের দিকে তাকালেন, প্রার্থনা করলেন, হে পার্বতী, আমি প্রমীলা তোমার দাসী, লঙ্কার দিকে দয়া করে তাকাও। লঙ্কার সেরা বীর মেঘনাদকে রক্ষা করো! দুর্ভেদ্য কবচের মতো তুমি তাকে ঘিরে রাখো মা! হে পার্বতী, যে লতা তোমার আশ্রিত তার জীবন নির্ভর করে ওই তরুরাজের উপর, ওই গাছের গায়ে যেন কুড়ুলের ঘা না পড়ে। মাগো! তুমি ছাড়া কে তাঁকে রক্ষা করবে!

সারা আকাশ প্রমীলার সেই প্রার্থনা পৌঁছে দিল কৈলাসে। ইন্দ্র ভয়ে কেঁপে উঠলেন। বায়ু তখন দূরে উড়িয়ে দিল সেই স্বর!

চোখ মুছে প্রমীলা ফিরে চললেন। রাজগৃহে যখন ঢুকছেন আবার তাঁর চোখে জল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%