আকাশ থেকে পড়া

বরুণ চন্দ

গরীনভিউ অ্যাপার্টমেন্টস মোটামুটি সার্থক নাম বলা যায়৷ গল্ফগ্রীনের একেবারে শেষ প্রান্ত দশতলা বাড়ি৷ সামনে সরু পিচের রাস্তা৷ সেটা পার হলেই আর শিজিসি, অর্থাৎ রয়াল ক্যালকাটা গল্ফ ক্লাব-এর পাঁচিল৷

গ্রীনভিউ অ্যাপার্টমেন্টস-এর সাউথ ফিসিং ফ্ল্যাটগুলোর প্রত্যেকটাতেই বসার ঘর পার হয়ে সুন্দর রেলিং দেওয়া বারান্দা৷ সেখানে এসে দাড়ালে সামনে চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মত দৃশ্য৷ আর শিজিসি’র সবুজ কার্পেটে মোড়া লন...মনে হবে যেন পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চলে গেছে৷

এই ‘ভিউ’টার জন্যই বোধহয় সিক্স৮ ফ্লোর এফ ফ্ল্যাটের অনুতোষ ঘটক রোজ সকালে বেত-এর চেয়ারে বসে সকালবেলার চা খাওয়াটা সমাপন করে৷

সকালবেলায় শুধু চায়ের নয়, অনুতোষবাবুর আরেকটা ঘোরতর নেশা রয়েছে৷ খবরের কাগজের ক্রস ওয়ার্ড ৮ সলভ করা৷ অন্যান্য দিনের মত আজকেও অনুতোষবাবু ডান হাতের মধ্যম আঙুল আর তর্জনির মধ্যে পেনসিল্‌ নাচাতে নাচাতে ‘পি’ দিয়ে শুরু চার অক্ষরের একটা ইংরেজি শব্দ খুঁজছিল, যা ‘পেজ’ ও নয় ’পোস্ট’ও নয়৷ শব্দটা কী হতে পারে এই নিয়ে সে ভুরু কুঁচকে ভাবছে এমন সময় ওর মনে হল খবরের কাগজের ওপর দিয়ে যেন এক অতিকায় ছায়া চলে গেল৷

চট্‌ করে মুখ তুলে তাকাতেই সে দেখতে পেল একজন মানুষ হাত পা ছড়িয়ে ওর বারান্দা পার হয়ে নীচের দিকে চলে গেল৷ হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে৷ ওটা ওর চোখের ভ্রম, না বাস্তবিকই কেউ ওরকম ভাবে ওপর থেকে পড়ে গেল সেই নিয়ে অনুতোষ ভাবছে, এমন সময় নীচে, কার পার্কিং-এর জায়গা থেকে একটা প্রচণ্ড জোরে আওয়াজ এল৷

চেয়ার ছেড়ে তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে হাতের কাপ থেকে কিছুটা চা ছল্‌কে ওর পাঞ্জাবিতে গড়াতনে নিজের অজান্তেও ওর মুখ থেকে ‘পিন্ট’ কথাটা বেরিয়ে আসে৷ বারান্দার রেলিং দিয়ে মুখ বার করে নীচের দিকে তাকাতেই সে বুঝতে পারে ঘটনাটা ওর চোখের ভ্রম নয়, বাস্তবিকই ঘটেছে, নীচে বড় কালো গাড়িটার ওপর একজন সার্ট প্যান্ট পরা লোক হাত-পা ছেতরে পড়ে আছে৷

এক মুহূর্ত নীচের দিকে তাকিয়ে অনুতোষ আবার নিজের চেয়ারে ফিরে আসে৷ ৮ পেয়ে গেছি৷ শব্দটা মনে হচ্ছে...

পেনসিল দিয়ে খবরের কাগজে শব্দটা লেখার আগে ওর কী যেন মনে হয়৷ গলা তুলে ভেতরের ঘরে গিন্নির উদ্দেশ্যে বলে—

—ওগো শুনছো? এখখুনি মনে হয় ওপরের তলার থেকে লাফ দিয়ে কেউ সুইসাইড করল৷

পরপর ভদ্রলোকের মুখে একটা স্বগতোগুি৷

—বাঁচ গেল৷ দেশের আরেকটা লোক কমলো৷

অনুতোষবাবুর রসিকতা জ্ঞান কিঞ্চিত উদ্ভট ধরনের৷ ইংরেজিতে যাকে ‘গ্যালোজ হিউমার’ বলা হয়৷ ফাঁসি কাঠে কাউকে চড়ানোর আগে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করা৷

গ্রীনভিউ অ্যাপার্টমেন্টের গেটের কাছে বিরাট সোরগোল৷ গেটের বাইরে দুটো পুলিশের জিপ৷ একটা ব্ল্যাক মারিয়া ভ্যান৷ বেশ কিছু পুলিশের লোক শুধু গেট নয়, বাড়ির পুরো কমপাউন্ড ঘিরে ফেলেছে৷ পাঁচিল টপ্‌কে যাতে কেউ বেরিয়ে যেতে না পারে৷

বাড়ির গেটে এক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে অবিনাশ ও প্রদ্যোৎকে রিসিভ করে৷

—আমি সুপ্রিয় দে...এই কমপ্লেকস্‌-এর সেক্রেটারি৷

—নমস্কার৷ অবিনাশ রায়..সি আইডি৷ কলকাতা পুলিশ৷ আর ইনি...অবিনাশ পাশের ইয়ং অফিসারটিকে দেখিয়ে বলে৷

—প্রদ্যোৎ মিত্র৷ আমার কলিগ৷

কথাটা শুনে প্রদ্যোৎ-এর ভালো লাগে৷ ‘আমার কলিগ’৷ রায় স্যর কখনও ওকে নিজের অ্যাসিসটেন্ট বা জুনিয়ার বলে পরিচয় দেন না৷

—ঘটনাটা কতক্ষণ আগে হয়েছে?

—তা আধঘণ্টা মতো হবে৷ সুপ্রিয় একবার হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বলে৷

—অ্যাকসিডেন্ট হওয়ার পরেই আমি লালবাজারে ফোন করি৷ আপনারা খুব তাড়াতাড়ি এসেছেন বলতে হবে৷

রায় একবার আড়চোখে সুপ্রিয়র দিকে তাকিয়ে নেয় কথাটা কলকাতা পুলিশকে কটাক্ষ করে বলা হল কিনা দেখার জন্য৷

সুপ্রিয় রায় আর প্রদ্যোৎকে নিয়ে গাড়িটার ওপর বডিটা পড়ে আছে, সেখানে নিয়ে আসে৷

—একটা টুল পাওয়া যাবে?

—টুল? এক মুহূর্ত্তের জন্য সুপ্রিয়’র মুখ ব্ল্যাংক হয়ে যায়৷ -ও বুঝতে পেরেছে৷ টুলটার ওপর উঠে দাড়ালে বডিটা ভাল করে দেখা যাবে৷ উত্তরে রায় শুধু একবার সুপ্রিয়’র দিকে তাকায়৷

সুপ্রিয় তাড়াতাড়ি সেনট্রির ঘরের দিকে চলে যায় এবং অল্পক্ষণের মধ্যে একজন সেনট্রিকে নিয়ে ফিরে আসে৷ সেনট্রিজি গাড়ির পাশে টুলটা রাখতে রায় তাতে উঠে দাড়ায়৷

প্রদ্যোৎ ওকে ধরতে যাচ্ছিল, রায় মাথা নেড়ে বারণ করে৷ বডিটা পড়ার ইমপ্যাক্ট্‌ বেশ ভালোরকমই হয়েছে৷ কেননা গাড়ির ছাত অনেকটাই তুবড়ে গেছে৷ বাঁ হাতের আঙুল জড় করে রায় বডিটার গলার একটা বিশেষ জায়গায় আলতো করে চেপে ধরে৷

—ডেড? প্রদ্যোৎ জিগ্যেস করে৷

—হুঁ৷

বডিটার দিকে রায় একদৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে৷ মানুষ যখন আত্মহত্যার জন্য ঝাঁপ মারে তখন নিজের হাত-পা কী বডির কাছে গুটিয়ে রাখে? নাকি শেষ মুহূর্তে ইমপ্যাক্ট কমানের জন্য সামনের দিকে হাত-পা এগিয়ে দেয়৷

গুড গ্রীফ! হাউ গুড আই নো? নিজের মনেই রায় শোল্ডার ৮ করে৷ লোকটির বয়েস বেশি নয়৷ অ৮ টোয়েন্টিজ হবে৷ গায়ের রং ফর্সা৷ পরনে দামি লিনেন—এর সার্ট, খাকি ট্রাউজারস৷ ইদানিং চুলে টিস্ট করা হয়েছে৷ মোটামুটি এক্সপেনসিভ হ্যাবিটস্‌ বলা যায়৷

রায় নিজের মুখ বডিটার কাছে নিয়ে যায়৷ হুঁ...ও যা৷ ভেবেছিল তাই৷ বডিটায় ফেন্ট অ্যালকোহলের গন্ধ৷ সাত সকাল মদ্যপান? ও আরেকবার ছেলেটির মুখের কাছে মুখ নিয়ে যায়৷ অবশ্য গন্ধটা সেরকম প্রকট নয়৷ খুব সম্ভবত গতকাল রাত্রের ফুর্তি হয়েছিল৷

টুল থেকে নেবে রায় একবার ওপরের ফ্ল্যাটগুলোর দিকে তাকায়৷

—কোন ফ্লোর থেকে পড়েছে ভাবছেন?

রায় এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেয় না?

—সুপ্রিয়বাবু...সামনের এই ফ্ল্যাটটা কত নম্বর?

—ওটা...সিকসটিন এফ৷

—তার মানে...এর ওপরের ফ্ল্যাটটা হবে টোয়েন্টি সিক্স্‌ এফ তাই তো?

—হ্যাঁ স্যর৷

—এই সারির সব ক’টা ‘ফ্ল্যাট আমরা ওপর থেকে দেখতে দেখতে আসব৷ অসুবিধে নেই তো

—না৷ কিন্তু...যাস্ট এই ক’টা ফ্ল্যাট?

—হ্যাঁ৷ বডিটাতো ওপর থেকে সোজাসুজি পড়েছে, ত্যারছা করে নয়৷ অর্থাৎ ওপরেরই কোন ফ্ল্যাট এফ থেকে পড়েছে৷ তাই বাকিগুলো দেখার কোন দরকার দেখছি না৷

—হ্যাঁ হ্যাঁ...ঠিক বলেছেন৷

—আচ্ছা...ছাতের দরজা কী খোলা থাকে, না তালা মারা?

—না না...ছাতের দরজা সবসময় আনডার লক অ্যান্ড কি থাকে৷ আমাদের কমপ্লেক্সে অনেক বাচ্চাকাচ্চা তো৷ কখন কে ওপরে চলে যাবে বলা যায় না৷

—তাহলে ছাতের দরজার চাবিটাও সঙ্গে নিয়ে নেবেন৷

—নট এ প্রবলেব৷ চাবি আনার জন্য সুপ্রিয় অফিসঘরের দিকে চলে যায়৷

—প্রদ্যোৎ, বডিটা তুমি আরেকবার ভালো করে চেক করে নাও৷ পড়ে থাকার ব্যাপারটা আমার কখন যেন আনন্যাচারাল লাগছে৷

—কেন? আপনার কী কোন ফাউল প্লে বলে মনে হচ্ছে?

স্যারের সঙ্গে থেকে থেকে, ইদানিং প্রদ্যোৎ-এর মধ্যেও ইংরেজি বলার প্রবণতাটা বেড়েছে৷

—টু আরলি টু সে৷ তবে বডিটা পড়েছে বেশ অনেকটা হাইট থেকে৷

পড়ার ইমপ্যাক্টে গাড়ির ছাত অনেকটাই তুবড়েছে৷

—আজকালকার গাড়ি...প্রদ্যোৎ হেসে বলে৷ একটু টোকা মারলেই ড্যামেজ হয়ে যায়৷

—এটা সে গাড়ি নয়৷ সামনের গ্রিলে চারটে চাক্‌তি লাগানো রয়েছে, দেখেছো?

—হ্যাঁ, তো?

—আউডি..জার্মান গাড়ি৷ স্টিলের বডি৷ অত সহজে তুবড়ে যাওয়ার কথা নয়৷

ইতিমধ্যে চাবি হাতে সুপ্রিয় ফিরে আসে৷

—প্রদ্যোৎ...আমি ওনার সঙ্গে ফ্ল্যাটগুলো একবার দেখে আসছি৷ দেখো, বডিটা যেন কেউ টাচ না করে৷ আর, ফোটোগ্রাফার এলে ওকে বোলো ফার্স্ট ফ্লোরের ওই বারান্দাটার তেকে যেন টেলিফোটো লেন্স লাগিয়ে কিছু ছবি তুলে নেয়৷ তাহলে ৮ অ্যাঙ্গলটা ঠিক মতো পাওয়া যাবে৷

—ইয়েজ স্যর৷ প্রদ্যোৎকে ডিস্যাপয়েনটেড দেখায়৷ —আমি আপনার সঙ্গে ওপরে আসব না?

প্রদ্যোৎ ডেসপারেটলি চাইছিল স্যরের সঙ্গে ওপরে যেতে৷ স্যর কী করেন না করেন, কী প্রশ্ন করেন, কী পর্যবেক্ষণ করেন—সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে৷ উত্তরে স্যর গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ে৷

—এখানে তোমার যথেষ্ট কাজ রয়েছে৷ লেটস স্পিড আপ অ্যান্ড ডিভাইড আওয়ার ওয়ার্ক৷ ফোটোগ্রাফার এবং ফরেনসিক-এর লোকের সঙ্গে কোর্ডিনেট করার জন্য তোমার এখানে থাকা বিশেষ ভাবে দরকার৷

স্যর সুপ্রিয়র সঙ্গে লিফটের দিকে এগিয়ে যেতে টুলটার ওপরে উঠে খুব মনোযোগ দিয়ে ডেড বডিটাকে দেখতে থাকে৷ আচ্ছা, বডিটার প্যান্টের ডানদিকের পকেটের ভেতর থেকে কী একটা জিনিস উঁকি ঝুঁকি মারছে যেন! অতি সাবধানে, প্রায় পকেটমাদের মতো তর্জনি আর মধ্যম আঙুলে সাঁড়াশির মতো ব্যবহার করে ও পকেটটা একটু ফাঁক করে দেখে৷ প্যাকেটের ওপর লেখা প্রথম দুটো অক্ষর ওর নজর পড়তেই ও ফিক্‌ করে হেসে ফেলে৷ ওর ভীষণ ইচ্ছে হয় বডিটার অন্য পকেটগুলোও একবার ভালোভাবে সার্চ করার৷ কিন্তু স্যর বডিটা ছুঁতে বারণ করে গেছেন৷ ফরেনসিকের লোক না আসা পর্যন্ত কিছু টাচ করা যাবে না৷ অন্য পকেট সার্চ করতে গেলে বডিটাকে আংশিক ভাবে হলেও সরাতে হবে৷ আর, সেটা করতে গিয়ে যদি কোন ভাইটাল এভিডেন্ট নষ্ট হয়ে যায়!

লিফটে উঠতে উঠতে রায় সুপ্রিয়কে প্রশ্ন করে৷

—আচ্ছা...নীচে তো কাউকে কান্না কাটি করতে দেখলাম না৷ ছেলেটি কোন ফ্ল্যাটের?

—এটাই তো সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার৷ সুপ্রিয় আইড ওয়াইজ মাথা নাড়ে৷

—ছেলেটি এখানকার নয়৷

—মানে? রায় সুপ্রিয়’র দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকায়৷ —ওই ছেলেটি গ্রীনভিউ অ্যাপারটমেন্টস-এর কেউ নয়?

—নাঃ৷

—অন্তত এখানে থাকেন এমন কারও আত্মীয় বা গেস্ট?

—তাও মনে হয় না৷ সে রকম হলে এতক্ষণে কেউ না কেউ বডিটা সনাগু করতে এগিয়ে আসত৷

—আর ইউ শিয়োর?

—কোয়াইট শিয়োর স্যর৷

—ইন্টারেস্টিং৷ অন্যমনস্ক ভাবে অবিনাশ থুতঁনিতে হাত বোলায়৷

—চলুন আমরা সোজা রুফটপে চলে যাই৷

লিফটে সুপ্রিয় টেনথ ফ্লোরের বোতাম টেপে৷

—ওপরে গিয়ে আমাদের একটা ফ্লোর হেঁটে উঠতে হবে কিন্তু৷ লিফট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির কাছে সুপ্রিয়কে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়৷

—দেখুন তো কী কাণ্ড! যেহেতু ছাতে কেউ থাকে না, তাই এই সিঁড়িটা কেউ ঝাঁড় দেবার প্রয়োজনও বোধ করে না৷

প্লাস্টিকের জলের বোতল, ভাঙা শিশি, আবর্জনা এসব পাশ কাটিয়ে ওদের ওপরে উঠতে হয়৷ পকেট থকে এক গোছা চাবি বার করে সুপ্রিয় ছাদের দরজার তালা খোলার চেষ্টা করে৷ বেশ কয়েক বার চেষ্টা করার পর একটা চাবি দিয়ে শেষ পর্যন্ত দরজাটা খোলা যায়৷

—এই দরজা চাবি কার কাছে থাকে?

—একটা চাবি গেটে সেনট্রির কাছে৷ আরেকটা...অফিসে৷

দরজা খুললে বেশ বড় খোলা ছাদ৷ না ব্যবহার করার জন্য সারাটা ছাদেই সবুজ শ্যাওলা পড়েছে৷ ছাদের প্রায় মাঝখান দিয়ে জলের ট্যাঙ্কে যাবার বেশ কয়েকটা মোটা মোটা পাইপ চলে গেছে৷ সেগুলো ডিঙ্গিয়ে রায় ছাদের কোনায় এসে দাড়ায়৷ কার্নিশটা বেশ নিচু৷ যে কেউ টপ্‌কে ওপর থেকে লাফ দিতে পারে৷ কার্নিশে ভর দিয়ে রায় নীচের দিকে তাকায়৷ একতলার লোকজন, গাড়ি, গাড়ির ওপর ডেড বডি-সবই ছোট ছোট, খেলনার মতো দেখায়৷

—সুপ্রিয়বাবু...আমরা যেখানটায় দাড়িয়ে আছি তার ঠিক নীচের ফ্ল্যাটটা উড বি হ্যান্ড্রেড অ্যান্ড ফোর এফ?

কার্নিশ ধরে একবার নীচে তাকিয়েই সুপ্রিয় তাড়াতাড়ি পিছিয়ে যায়৷

—কী হল? অবিনাশ একটু অবাক হয়ে সুপ্রিয়র দিকে তাকায়৷

—আমার আবার ওই...হাইটে উঠলেই মাথাটা কীরকম...

—ভারটিগো?

—হ্যাঁ...হ্যাঁ৷ এক হাত দিয়ে সুপ্রিয় কপাল চেপে ধরে৷

—ঠিক আছে৷ আপনি পিছিয়েই দাড়ান নয়৷ আমি যাষ্ট আমার কাজটা সেরে নিই৷

কার্নিশ থেকে ছাদের দরজা অবধি গিয়ে আবার ফিরে আসে৷ তারপর কার্নিশের শ্যাওলার কী যেন লক্ষ্য করে৷

—আমার এখানকার কাজ শেষ৷ রায় উঠে দাড়ায়৷

চিল ছাদের দরজায় তালা লাগিয়ে সুপ্রিয় রায়কে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেবে আসে৷

—আচ্ছা...সিঁড়ির ঠিক পাশে আরেকটা দরজা দেখলাম৷ ওখানে কী চিলকোঠার কোন ঘর আছে?

—হ্যাঁ...ওখানে আমাদের কমপ্লেক্স-এর মালি থাকে৷ অনেকদিন ধরে কাজ করছে৷ খুব বিশ্বস্ত৷

টেনথ্‌ ফ্লোরে এসে সুপ্রিয় ফ্ল্যাট নাম্বার হান্ড্রেড অ্যান্ড সিক্‌স এফ-এতে বেল টেপে৷ একটু পরে এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক এল দরজা খুলে দেয়৷

—আচ্ছা, আমাদের বারান্দা থেকে দেখছিলাম...কী হয়েছে বলুন তো? নীচে কেউ পড়ে টড়ে গেছে? সুইসাইড নয় তো?

—বিকাশবাবু, উনি পুলিশ থেকে এই ব্যাপারেই অনুসন্ধান করতে এসেছেন৷ একবার আপনার ফ্ল্যাটটা দেখতে চান৷ সুপ্রিয় উত্তরে বলে৷

—তা আসুন না৷ বিকাশ ওদের ভেতরে নিয়ে আসে৷—ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম৷

বসার ঘরে এসে বিকাশবাবু আর কৌতূহল চাপতে পারে না৷

—অ্যাকচুয়ালি কী হয়েছে আমাদের একটু বলবেন?

—ওপর থেকে যা দেখছেন তাই৷ একজন মানুষ ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে নীচে গড়িটার ওপর গিয়ে পড়েছে৷ স্পট ডেড৷ এর বেশি এখখুনি কিছু বলা যাচ্ছে না৷

বিকাশ ওদের বসতে বললে রায় মাথা নাড়ে৷

—এখন আর বসব না৷ যাষ্ট আপনাদের বারান্দাটায় একবার যেতে চাই৷

আপত্তি নেই তো?

—আপত্তি কেন থাকবে...আসুন৷

রায় আর সুপ্রিয়কে বিকাশ বারান্দায় নিয়ে আসে৷ বারান্দার রেলিংটা রায় মনোযোগ দিয়ে দেখে৷

—আমাদের বারান্দা থেকে লোকটি ঝাঁপ দিয়েছে, এরকম ভাবছেন না তো?

উত্তরে রায় শুধু মৃদু হাসে৷ একটুক্ষণ পরেই রায় সুপ্রিয়’র দিকে তাকায়৷

—আপাতত এখানে আমার কাজ শেষ৷ এবার নেকষ্ট ফ্লোরটায় যাওয়া যাক৷

নাইনথ ফ্লোরের ফ্ল্যাটটা ওদের দেখার প্রয়োজন হয় না৷

—এই ফ্ল্যাটে যারা থাকেন, এক বয়স্ক কাপল, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস শিকদার...ওঁরা ছেলের কাছে আমেরিকায় গেছেন৷ আসবেন আরও তিন মাস পরে৷

—গুড৷ তাহলে এবার এইথ ফ্লোর৷

—এরকম ভাবে আপনি প্রত্যেকটা ফ্লোর খুঁজে দেখবেন? বিকাশবাবু আর জিগ্যেস না করে পারে না৷

—এ ছাড়া কোন উপায় দেখছি না৷ লোকটি তো আর আকাশ পড়ে...এইথ ফ্লোরে একজন-বেঙ্গলি কাপল থাকে৷ মোহন আর নীতা শর্মা৷ এবারে তাদের একমাত্র ছেলে রোহন৷ ওদের ফ্ল্যাটে বেল টিপ্‌তে ভেতর থেকে এক মহিলা কণ্ঠ শোনা যায়৷

—আজ সব্‌জি নাই লগে গা৷ কল আনা৷

ডোর বেল আবার বাজতে বেশ রাগতভাবে মহিলা দরজা খোলে৷

—বোলা না আজ...

দরজায় সুপ্রিয় আর একজন অপরিচিত লোককে দেখে নীতা বেশ লজ্জিত হয়৷

—সরি...ময়নে সোচা থা কি সব্‌জিওয়ালা৷

সুপ্রিয়’র দিকে তাকিয়ে মহিলা জিগ্যেস করে৷

—সুপ্রিয়জি...কোই জরুরি বাত হয় কেয়া? কঁও কি মেরু বেটাকা সুকল যানে কা টাইম হো গয়া৷

সুপ্রিয় অবাক হয়ে মহিলার দিকে তাকায়—৷

—আপ নহি জানতে? উপ্পরকে কোই আদমি জাম্প করকে নীচে গিরগিয়া৷

—সরি টু হিয়ার দ্যাট৷ লেকিন ইস্‌মে হম কেয়া কর শক্‌তি হুঁ?

সুপ্রিয় জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে রায়ের দিকে তাকায়৷

—এক মিনিট আপকা ভেরান্দাপে জা চাহ্‌তা হুঁ৷ আই নো ইউ ফর বিজি৷ বাট...আই অ্যাম ফ্রম দ্য পুলিশ৷

—ওহ! প্লিজ ওয়েট হিয়ার ফর এ মিনিট৷

মহিলা গট্‌গট্‌ করে শোয়ার ঘরে চলে যায়৷ এরপর বাথরুমের দরজায় ধাক্কা দেওয়ার আওয়াজ শোনা যায়৷

শুনতে হো...প্লিজ কাম আউট কুইকলি৷ কোই আয়ে হেঁ মূলাকাত করণে কো৷

পাঁচ মিনিটের মধ্যে সার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে মোহন শর্মা বসার ঘরে ঢোকে৷

—সুপ্রিয়জি...কেয়া বাত কহিয়ে? নীচে কুছ গোলমাল শোনাই দে রহাথা৷

সুপ্রিয় খুব ছোট করে মোহনকে ঘটনাটা বলে৷ জানতে চায় একবার ডিটেকটিভ অফিসার রায় ওদের বারান্দাটায় যেতে পারে কি না৷

—অফ কোর্স! মোহন ওদের বারান্দায় নিয়ে আসে৷

—প্লিজ টেক ইয়োর টাইম৷ কাম হো জানেসে বাহার যাতে ওয়গু দরওয়াজা বন্দ কর দি জিয়েগা৷ নাও এক্সকিউজমি, দপ্তর যানে কেলিয়ে মুঝে ৮ হোনা হয়৷

মোহন বারান্দা ছেড়ে চলে যেতে রায় সুপ্রিয়র দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ে৷

—আর যেখান থেকেই ছেলেটি লাফ দিয়ে থাকুক৷ এই ফ্ল্যাট থেকে অন্ততঃ নয়৷

আমারও তাই মনে হয়৷ সুপ্রিয় রায়ের কথায় সায় দিয়ে বলে৷

তবু রায় বারান্দার রেলিংটা একবার ভালো করে দেখে নেয়৷

—নাঃ চুন, এখানে আর কিছু দেখার নেই৷

ফ্ল্যাট নাম্বার ৭৬ এফ-এ এক বয়স্ক পরিবার থাকে৷ মিস্টার অ্যান্ড মিসেস শীল৷

দরজায় বেল টেপার আগে সুপ্রিয় গলা খাটো করে রায়কে জানায়৷ —মিস্টার পরিতোষ শীল গত একবছর ধরে বেড ৮৷ ম্যাসিভ করোনারি অ্যাটাক৷ তারপর থেকে বাঁদিকের পুরো শরীরটাই পারফ৮ ড্যামেজ৷ নড়াচড়াও করতে পারেন না৷

বেল টিপতে একজন নার্স দরজা খুলে দেয়৷

—মিসেস শীল আছেন? ওনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই৷

—ওঁর শরীরও তো তেমন ভাল নয়৷ গতকাল থেকে জ্বর৷

—তাহলে...কী করা যায়? রায়ের দিকে সুপ্রিয় ডিরেকশনের জন্য তাকায়৷

—আমরা কাউকে ডিসটারব করবো না! যাস্ট একবার পেছনের দিকের বারান্দাটায় যাওয়া যায়? রায় অনুরনরোধ জানায়৷

—আসুন...দেখছি কী করা যায়৷

নার্স ওদের ড্রয়িংরুমে বসিয়ে ভেতরে চলে যায়৷

একটুক্ষণ পর এক বৃদ্ধা মহিলা পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রবেশ করে৷

—ও সুপ্রিয়...কাছে আসতে মহিলা সুপ্রিয়কে চিনতে পারেন৷

—কী ব্যাপার বলুন?

—আমরা একটু ভেতরে আসতে পারি? আপনাদের কোনভাবেই ডিসটারব করতে চাই না, রায় বলে৷

—ওহ...মিসেস শীল ইতস্তত করেন৷ —আসুন৷

বসার ঘরে সব জানলা বন্ধ৷ এ.সি. চলছে৷ বসার ঘর থেকে শোবার ঘরের একাংশ দেখা যাচ্ছে৷ মোটামুটি একটা হসপিটালের বেড-এর মতো৷ ফাউলার বেড-এ কেউ একজন শুয়ে আছে, তার নাকে অক্সিজেন-এর মাস্ক৷ মাথার পেছনে একটা মনিটার হার্ট-এর গ্রাফ, ওঠা-নামা করছে৷

মিসেস শীল নিশ্চয়ই ওদের দৃষ্টি অনুসরণ করেছিলেন৷ এগিয়ে গিয়ে শোবার ঘরের দরজাটা ভিজিয়ে দেন৷

—একবার পেছনের বারান্দাটায় যাওয়া যায়? যাস্ট এ ফিউ মিনিটস৷

—আমার না গেলে চলবে তো?

—অবশ্যই?

শোবার ঘরে গিয়ে মিসেস শীল নার্সটিকে পাঠিয়ে দেন৷ দরজা খুলে নার্স ওদের পেছনের বারান্দায় নিয়ে আসে৷ এখানেও রায় উল্লেখযোগ্য কিছু পায় না৷ বারন্দায় রেগুলারলি কেউ আসে বলে ওর মনে হয় না৷ ওপরের দিকে নাইলনের দড়ি টাঙানো৷ তাতে সারি সারি জামা কাপড় ঝুলছে৷

রায় আর সুপ্রিয় শীলদের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এসে সিঁড়ি দিয়ে একটা ফ্লোর হেঁটে আসে, আর এখানেই রায় প্রথম পজিটিভ ফিডব্যাক পায়৷ ওই ফ্ল্যাটের অনুতোষ ঘটক জানায় যে সে অ্যাকচুয়ালি লোকটিকে ওপর থেকে পড়ে যেতে দেখেছে৷ সুপ্রিয় আর রায় পেছনের বারান্দায় এলে সে একটা গ্র্যাফিক বর্ণনা দেয়৷

—সকালবেলায় চায়ের সঙ্গে আমি ক্রসওয়ার্ড পাজল সলভ করছি, এই...এই চেয়ারটায় বসে...এমন সময় এত অতিকায় ছায়া আমার খবরের কাগজের ওপরদিয়ে পাস করে গেল৷ তাড়াতাড়ি মুখ তুলতেই দেখি একটা উড়ন্ত মানুস সাঁ করে আমার বারান্দা পার হয়ে নীচে চলে গেল৷ ওই আজকালকার বিলিতি সায়েন্স ফিকশনে দেখায় না... সুপারম্যান বা ব্যাটম্যান...ওরকম৷ প্রথমে ভাবলাম কোন স্টাস্টম্যান-ট্যান হবে৷ হয়তো আমাদের কমপ্লেকস-এ হিন্দি ছবির শুটিং হচ্ছে৷ কিন্তু না৷...রেলিং থেকে ঝুঁকে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি সত্যি সত্যি একটা লোক গাড়ির ছাদের ওপর ছেত্‌রে পড়ে আছে৷

—আচ্ছা...পড়ার মুহূর্তে লোকটির মুখ থেকে কোন আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন? যেমন...আমরে বাঁচান বা এরকম কিছু?

—না না...নিজের বর্ণনায় ব্যাঘাত পড়াতে অনুতোষবাবু একটু বিরক্তই হয়৷

—কেন আর্তনাদ-ফার্তনাদ অতে পাইনি৷ আর, তাছাড়া পুরো ব্যাপারটা এত সাডনলি হয়ে গেল যে...

—বুঝতে পারছি৷ এনিওয়ে থ্যাঙ্ক ইউ৷ রায় উঠে দাড়ায়৷ —আপনার দেওয়া ইনফরমেশন আমার খুব কাজে লাগল৷

—কীভাবে? অনুতোষবাবুর গলায় অবিশ্বাসের রেশ৷ —অন্তত এটা তো জানতে পারলাম যে লোকটি আপনাদেরই ওপরের কোন একটা ফ্ল্যাট থেকে ঝাঁপ দিয়েছে৷ আপনার ফ্ল্যাট থেকে নয় এবং তার নীচের কোন ফ্ল্যাট থেকেও নয়৷

—কী বুঝছেন মিস্টার রায়? লিফটে চড়ে নাবার সময় সুপ্রিয় জিগ্যেস করে৷

—টু আরলি টু সে৷

নীচে আসা মাত্র প্রদ্যোৎ উৎসুক হয়ে ওদের দিকে এগিয়ে আসে৷

—স্যর...কিছু জানতে পারলেন?

—হুঁ৷ রায়ের সংক্ষিপ্ত উত্তর৷ অন্তত এটুকু জানা গেছে যে বডিটা সাততলার নিচ থেকে পড়েনি৷

—আর কিছু?

—এখনও পর্যন্ত নয়৷

প্রদ্যোৎ বুঝতে পারে যে রায় স্যর এই মুহূর্তে এর থেকে বেশি কিছু বলতে চায় না৷

—স্যর...রায়কে এই কথাটা বলার জন্য প্রদ্যোৎ অনেকক্ষণ ধরে উসখুশ করছে৷

—বডিটার সম্বন্ধে আমি একটা ইনটারেস্টিং তথ্য জানতে পেরেছি৷

—কী তথ্য?

—ডেড বডিটার প্যান্টের সাইড পকেটে আমি একটা...একটা...প্রদ্যোৎ কথাটা আর বলতে পারে না৷

—আরে, বলেই ফেল না৷ রায় একটু অসহিষশু হয়ে বলে৷

—আমি একটা কনডোমের প্যাকেট? কথাটা যেন বিশ্বাস হয় না রায়ের৷

—ঠিক দেখেছ তুমি?

—আমি কোয়াইট সারটেন স্যর৷

—হুঁ...৷ এক মুহূর্তের জন্য স্যরের মুখে কৌতুকের হাসি ফুটে ওঠে৷

—কেসটা অন্যদিকে টান নিচ্ছে দেখছি৷

গ্রীনভিউ-এর একতলায় কমিউনিটি হলঘর৷ আধ ঘন্টার মধ্যে সুপ্রিয় এবং ওর অফিসের কেয়ারটেকার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ইনটারকমে যোগাযোগ করে কমপ্লেক্সের মোটামুটি সবাইকে একত্রিত করেছে৷ রায়ই বিশেষ করে সবার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে৷

হলঘরের একদিকে পাকা সিমেন্টের ডায়েল৷ সেখানে রায়, সুপ্রিয় আর প্রদ্যোৎ বসে৷ ডায়েসের সামনেই একটা মাইক দাড় করানো৷ পেছনের দেয়ালে প্রোজেক্টারের স্ক্রিন৷ আর অন্যদিকে সারি সারি প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা রয়েছে৷ সেখানে কমপ্লেক্সের মেমবাররা উপবিষ্ট৷

—আজ গ্রীনভিউ কমপ্লেক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে ডার্ক বা ‘কার্ল’ দিন৷ এরকম যে একটা ঘটনা ঘটতে পারে এটা আমাদের কল্পনার বাইরে৷ আমি ভীষণভাবে আশা করবো যে এর পুনরাবৃত্তি আর কখনও হবে না৷ এটাই প্রথম এবং এটাই শেষ৷ এই কেসটা সলভ করার জন্য আমাদের মধ্যে রয়েছেন স্বনামধন্য পুলিশ অফিসার৷ অবিনাশ রায় এবং তাঁর সহকর্মী, প্রদ্যোৎ মিত্র৷ উনি আপনাদের সঙ্গে জরুরি কিছু কথা বলতে চান৷ আমি চাই আপনারা সবাই ওঁর সঙ্গে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করুন৷ মিস্টার রায়...

এই বলে সুপ্রিয় নিজের চেয়ারে ফিরে আসে৷ অবিনাশ রায় মাইকের সামনে এসে দাড়ায়৷

—আজকের দুর্ঘটনা সম্বন্ধে আশা করি আপনারা সবাই জানেন৷ যদিও ডিটেলটা সবার কাছে সেরকম পরিষ্কার নয়৷ আপনাদেরই কমপ্লেক্স-এর ওপরের কোন তলা থেকে একজন অপরিচিত যুবক নীচে পড়ে গিয়ে মারা যায়৷ যুবকের আনুমানিক বয়েস ২৩ কিম্বা ২৪৷ অপরিচিত বলছি এই কারণে, কেননা এখানকার কেউই ওকে চেনেন না৷

চশমা মোছার জন্য রায় একটু পজ নেয়৷

—যুবকটির ওপর থেকে পড়ে মারা গেছে সেটা আমরা জানি৷ কিন্তু, সেটা সুইসাইড, না দুর্ঘটনা, নাকি তাকে উইনফুলি ওপর থেকে কেউ বা কারা ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে, সেটা আমরা এখনও জানি না৷ যুবকটিকে হয়তো অনেকেই কাছ থেকে দেখতে পান নি৷ ওনাকে এরকম দেখতে৷

একটা ল্যাপটপ৷ যেটা এখান থেকেই জোগাড় করা হয়েছে তাতে ওর মোবাইলটা কানেক্ট করে প্রদ্যোৎ যুবকটির পর পর কয়েকটা ছবি পেছনের স্ক্রিনে ক্রোজেক্ট করে৷ এর মধ্যে কোনটা মুখের ক্লোজ মাপ, কোনটা বা পুরো শরীরের ছবি৷

—পেছনের সারির আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন তো? রায় হলের পেছনের দিকের লোকদের উদ্দেশ্য করে বলে৷

—হ্যাঁ...পাচ্ছি৷ পেছন থেকে দুয়েকজনের গলা শোনা যায়৷

—আপনারা কেউ যদি এই ফেসটা রেক৮ করতে পারেন, তাহলে প্লিজ এগিয়ে আসুন৷

কেউ এগিয়ে আসবে এই আশায় রায় অডিয়েন্স-এর দিকে তাকিয়ে থাকে৷ কিন্তু, দুভার্গ্যবশতঃ কেউই এগিয়ে আসে না৷

ডানদিকের দ্বিতীয় সারি থেকে অনুতোষ বাবু উঠে দাড়িয়ে বলে, ‘চিনতে পারছেন ঠিকই, কিন্তু এগিয়ে আসার মতো সৎ সাহস নেই৷

—সে লোকটি আপনি নন তো? পেছন থেকে কে একজন টিট্‌কারি মেরে ওঠে৷

—গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল৷ এটা আরেকজনের গলা৷

—সারা জীবনটাইতো একটা ক্রসওয়ার্ড পাজল৷ আর উনি সেটা সলভ করে ফেলছেন৷

অনুতোষবাবু যে এই কমপ্লেক্সে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যগুি নন৷ সেটা রায়ের বুঝতে অসুবিধে হয় না৷

—অবশ্য আপনাদের যদি পাব্লিকলি কিছু জানাতে অসুবিধে থাকে, তাহলে এই নাম্বারে অবশ্যই ফোন করতে পারেন৷ রায় নিজের নাম্বারটা দু’বার জানায়৷

—বলাবাহুল্য, আমাকে যা কিছু জানান সেটা কনফিডেনসিয়ালি স্ট্রিট করা হবে৷

এর একটু পরেই সভা ভেঙে যায়৷ রায় আর প্রদ্যোৎ লোকদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে৷ সুপ্রিয় রায়কে এসে জিগ্যেস করে, এবার আমরা কী করছি?

—আমরা একটু আপনাদের গেটের সেনট্রিদের সঙ্গে দেখা করতে চাই৷

—সেনট্রিদের সঙ্গে?

—হ্যাঁ, আপনারা তো কেউ ডেড বডিটাকে চিনতে পারলেন না৷ এবার দেখি গেটের সেনট্রিদের মধ্যে কেউ ওকে চিনতে পারে কিনা৷ এই হোপফুলি এই লোকটি আপনাদের গেট দিয়েই ঢুকেছে৷

‘হারু’ বলে একজন লোক এখানকার সেনট্রিদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সিনিয়র৷ তাকে প্রথম ডাকা হল৷

—আচ্ছা হারু...তুমিতো গেটে পাহারা দাও৷ এখানে যাঁরা গেস্ট আসেন তাদের খবর রাখো তুমি?

—হ্যাঁ স্যর৷ হারু স্মার্টলি উত্তর দেয়৷ আমাদের কাছে ভিজিটারস খাতা আছে৷ সেখানে৷ সববাইকে সময় দিয়ে এনট্রি করতে হয়, তারপর বেরিয়ে যাওয়ার সময় আবার সময়টা লিখে তারপর বেরোতে হয়৷

পকেট থেকে রায় ওর মোবাইলটা বার করে দেখায়৷

—দেখতো এই লোকটিকে চিনতে পার কিনা৷ ধরে নাও, গত দু’তিন দিনের মধ্যেই এখানে এসেছিল৷

মোবাইলে ছবিটার দিকে হারু কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে৷

—নাঃ, মনে পড়ছে না একে এখানে আসতে দেখেছি বলে৷ তবে আরও সেনট্রি এখানে ডিউটি করে, যেমন আমার সঙ্গে একজন৷ এছাড়া, রাতের সেনট্রি আলাদা৷

—তাহলে তাদের সববাইকে ডেকে পাঠাও৷ এখুনি৷ উই কাস্ট লুজ এনি টাইফ৷

সেনট্রিদের অফিসে ফোন করে গতকাল রাতের যারা ডিউটি করেছিল৷ তাদের বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়৷ এদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়েও পড়েছিল৷ কিন্তু, কেউই ডেডবডির লোকটিকে আইডেনটিফাই করতে পারলো না৷

—তোমরা কেউই একে দেখতে পেলে না, তাহলে লোকটা এই কমপ্লেক্সে ঢুকলো কী করে? রায় ওদের জিগ্যেস করে৷

সেনট্রিরা সবাই এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করে, কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারে না৷ শেষ পর্যন্ত হারুই প্রবলেমটার সমাধান বাত্‌লে দেয়৷

—স্যর...একটা কথা বলবো, যদি কিছু না মনে করেন?

—হ্যাঁ বলো না৷ রায় জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে হারুর দিকে তাকায়৷

—স্যর, অমনও তো হতে পারে... যে এই লোকটি এখানকারই কারও গাড়ি করে এ কমপ্লেক্সে ঢুকলো৷ আমরা সে সময় গাড়ির ওনার বা ড্রাইভারকে চিনে গেট দিয়ে ঢুকতে দিই৷ এখন, ইনি যদি গাড়ির মালিকের সঙ্গে ঢোকেন তখনতো আমরা আর গেস্টদের নাম এনট্রি করছি না৷

—এবং তখন তোমরা জানতেও পারছো না লোকটি আদৌ এখান থেকে বেরুলো কিনা৷

—ঠিক তাই স্যর৷ রায়ের কথায় হারু খুব খুশি হয়৷ —সরি স্যর...আপনাদের মাঝে মুখ খুললাম৷

—না না হারু...রায় সেনট্রির পিঠ চাপড়ে বলে৷ —তুমি একবারে সঠিক কথা বলেছো৷ তোমাকেই থ্যাঙ্ক ইউ জানানো উচিত৷ আমাদের৷

ব্যস...এরপর আর হারুকে পায় কে!

মিটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনুতোষ ঘটক নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে আসতে ওর স্ত্রী অবাক হয়ে ওর দিকে তাকায়৷

—বেরুবার সময় তো একেবারে টগ্‌বগ্‌ করছিলে, আর ফিরে এলে পাঁচন খাওয়া মুখ করে...

—এখন ঠাট্টা কোরো না তো৷ ...আমার ভাল লাগছে না৷

বাইরের চটি খুলে অনুতোষ সোজা পেছনের বারান্দায় গিয়ে আশ্রয় নেয়৷

এখানে অনুতোষ সম্বন্ধে দু’একটা কথা জানিয়ে রাখা ভাল৷ কম বয়েস থেকেই অনুতোষ একা একা থাকতে ভালবাসতো৷ সুকল-কলেজে ক্লাসের ছেলে মেয়েদের সঙ্গে বনিবনা হোত না৷ হবেই বা কী করে? ওর বন্ধুবান্ধবরা যখন ক্লাস কেটে রাজেশ খান্না কিম্বা ধর্মেন্দ্র’র ছবি দেখতে ব্যস্ত৷ ও তখন ঙ্গ ব্রাদার্স কারামাজভ-এর ডুবে আছে৷ ওদের আলাপ-আলোচনা, ঠাট্টা-তামাশা, সব কিছুই বড় জোলো লাগতো৷ তেলে-জলে মিশ না খাওয়ার মত৷ মেয়েদের সংসর্গ যে এমনিতে ওর খারাপ লাগতো তা না৷ কিন্তু, দু‘একদিন ওদের সঙ্গে ঘুরেই ও বুঝতে পেরে গিয়েছিল যে ওদের সঙ্গে বড়জোর শোয়া যায়৷ কিন্তু, বেশিক্ষণ কথা বলা যায় না৷

ইউনিভারসিটি থেকে ডিসটিংশন নিয়ে পাশ করে এক মালটিন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কাজ পেয়ে যায়৷ কনফারমড হওয়ার দু’বছর পর ওর বাবা-মা সম্বন্ধ করে ওর বিয়ে দিয়ে দেন৷ নইলে ওর আদৌ বিয়ে হোত কি না সন্দেহ৷ কর্মজীবনেও কিন্তু অনুতোষ ব্যাঙ্কের কলিগজদের সঙ্গে কখনও অন্তরঙ্গ হতে পারেনি৷ অফিস শেষ হলে চৌরঙ্গী কিম্বা পার্কস্ট্রিটের বারে বসে মদ খাওয়ার মধ্যে ও কোনদিন সার্থকতা পায়নি৷ ৷ মাল খাওয়ার জন্য ওদের যুগুিটা কী? নাকি সারাদিন কাজের পর টেনশন রিলিজ করার প্রয়োজন তাই মদ্য পান৷ টেনশন রিলিজ মাই লেফট ফুট৷ ওরা কী সারজেওন যে সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ওপন হার্ট সারজারি করেছে বলে টেনশন হবে?

কলেজ থেকে শুরু করেকর্মজীবনে পর্যন্ত নিজেকে ‘একঘরে’ করে রাখা—এটাতে কিন্তু ও কখনও মনে কষ্ট পায় নি৷ এই এ ফাকিত্বর মধ্যে যে একটা ইনটেলেকচুয়াল অ্যারোগেনস—সেটা সে বরং বিশেষভাবে উপভোগ করেছে৷

কিন্তু আজ কমিউনিটি হলে ওই বিনয় হাজরা আর সুদীপ মন্ডল ওকে যেরকমভাবে পাবলিকলি হিউমিলিয়েট করলো সেটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না৷

ঠিক এমন সময় ওর স্ত্রী প্রতিমা এক কাপ চা নিয়ে ওর পাশে এসে দাড়ায়৷

—নাও, এটা খেয়ে নাও...মন খারাপ কোরো না৷

আচ্ছা...ওর যে মন খারাপ সেটা প্রতিমা বুঝলো কী করে? টেলিপ্যাথিতে অনুতোষ বিশ্বাস করে না৷ তবে, এই যে সামান্য এক কাপ চা দেওয়া, তাতেই কিন্তু অনুতোষের মনের অন্ধকার কেটে গিয়ে স্বচ্ছ নীল আকাশ দেখা দেয়৷ চায়ের কাপে এক চুমুক দিয়েই ওর মন চাঙ্গা হয়ে ওঠে৷

মনে নতুন সংকল্প নিয়ে সে চিন্তা করতে বসে৷ আমাকে এখানকার কীট-পতঙ্গগুলো হেঁটা করার চেষ্টা করছে, ওদের দেখিয়ে দেব৷ ইনটেলেকচুয়ালি আমি কতটা সুপিরিয়ার৷ ওই চোখে চশমা পরা, পেটমোটা ডিটেকটিভটা যে ক্রাইম সলফ করতে পারে নি, সেটা সলভ করে আমি সববাইকে দেখিয়ে দেব হোয়াট আই অ্যাম কেপেবল অফ৷

কাগজ কলম হাতে নিয়ে সে একটার পর একটা নাম লিখতে থাকে, আর তাকে ৯ করতে থাকে৷ ডিটেকটিভ রায় ঠিকই বলেছে, এফ ফ্ল্যাটের বাইরে চিন্তা করার কোন দরকার নেই৷ এবং এই এফ ফ্ল্যাটের মধ্যেও ওর ফ্ল্যাটের নীচে যাওয়ার ও কোন দরকার নেই৷ তাহলে, বাকি রইলো কারা? ওপরের চারখানা ফ্ল্যাট মাত্র৷ এবং ছাদটা৷

প্রতিমা যখন ওকে খেতে ডাকবে ভাবছে ঠিক সে সময় অনুতোষ পায়ে চটি গলিয়ে আমি একটু আসছি বলে বেরিয়ে যায়৷ ও যেরকম এক রোখা মানুষ, ওকে খেয়ে বেরোতে যাওয়ার অনুরোধ করে লাভ নেই৷ ঠিক এক ঘন্টা পরে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে অনুতোষ ফিরে আসে৷ মুখ অপেক্ষাকৃত প্রসন্ন৷ এসেই সে বলে, ‘প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে, দাও খেতে দাও৷’

টেরিটি বাজার, বা আগেকার চায়না টাউন’ বলে যে জায়গাটা আগে বিখ্যাত বা কুখ্যাত ছিল সেখানে একটা সরু গলির মধ্যে ৮ বলে একটা চায়নিজ রেটুরেন্ট আছে৷ দুপুরে বাইরে খেতে গেলে রায় অনেক সময় প্রদ্যোৎকে নিয়ে এই রেটুরেন্টে খেতে আসতো৷ আজ সেটা ও করে না৷ গ্রীনভিউ কমপ্লেক্স থেকে বেরোতে বেরোতে ওদের এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল৷

— ও কুংগায় যেতে গেলে এ সময় জ্যাম-এ পড়ে যাবো৷ রায় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে৷ আর তাছাড়া, ওরা খাবার দিতে বড্ড সময় নেয়৷ তারচেয়ে বলো আজ পিটার ক্যাট-এ যাওয়া যাক৷

আড়াইটের পর পিটার ক্যাট-এ ভিড় একটু কম৷ দোতলার একটা কর্ণার সীটে ওরা বসার জায়গা পায়৷

—কী খাবে বলো? ওয়েটার আসতে রায় প্রদ্যোৎকে জিজ্ঞেস করে৷

প্রদ্যোৎ অনেকক্ষণ মেনু-র দিকে তাকিয়েও ঠিক করতে পারে না৷ ও পিটার ক্যাট-এ এর আগে কখনও আসে নি৷

—আমি তাহলে একটা তোমার হয়ে সাজেস্ট করি? ছায়লা কাবাব অ্যান্ড রাইস৷ রায় দু’জনের জন্যই ছায়লা কাবাব অ্যান্ড রাইস অর্ডার দেয়৷ আর সঙ্গে ক্যানড বিয়ার৷

প্রথম প্রথম বিয়ার খেতে প্রদ্যোৎ-এর বিষ তেতো লাগতো৷ মনে হোত ওঠা খেলে অন্নপ্রাশনের ভাতও বেরিয়ে আসবে৷ কিন্তু, পরে খেয়ে খেয়ে ওর অভ্যেস হয়ে গেল৷ এখন বিয়ার খেতে মন্দ লাগে না, বিশেষ করে বিলড যদি হয়৷

—এই ছায়লা কাবাব রাইস খুব সম্ভবতঃ ইরানের খাবার৷ আমার শ্বশুরমশায় বহু বছর আগে এটার কথা আমায় ইরান ঘুরে এসে বলেছিলেন৷ ওদের দেশে অবশ্য ওটা ছিল একটা সিমপল পপুলার ডিশ৷ একদম গরম বা সুগন্ধি ভাতের ওপর একদলা মাখন ফেলে দেওয়া হত৷ আর তার সঙ্গে কাবাব৷ এখানে অবশ্য অনেক ড্রেসিং আপ হয়৷ যেমন রাইসের ওপর একটা ডিমের পোচ থাকে, আরও আনুসঙ্গি...

বলতে বলতেই ওদের টেবিলে খাবার চলে আসে৷ প্লেটে দু’রকম কাবাব, তার সঙ্গে সুগন্ধি রাইসের ওপর ডিমের পোচ...এসব দেখে প্রদ্যোৎ-এর চোখ চিক্‌ চিক্‌ করে ওঠে৷ প্রদ্যোৎ খেতে ভালবাসে এবং রায় সেটা জানে৷

স্যর...ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, প্রদ্যোৎ একটুক্ষণ কাঁটা চামচ দিয়ে খাবার চেষ্টাকরে ছেড়ে দেয়৷ আমি হাত দিয়ে খাই?

—না না, মাইন্ড করবো কেন? খাওয়ার পর ফিংগার বোলতো দেবেই৷

টয়লেট থেকে পরিষ্কার হয়ে এসে রায়ও হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করে৷ ওয়েটার ওর কথা মত বিয়ারের ক্যান দুটো খুলে দেয়৷ বাঁ হাত দিয়ে বিয়ারের ক্যানটা তুলে রায় বলে, চিয়ারস৷

প্রদ্যোৎও ওর দেখাদেখি ‘বিয়ারস’ বলে, পরের পনেরো মিনিট আর কেউ কথা বলে না৷ খাওয়া শেষ হলে রায় প্রদ্যোৎ-এর জন্য একটা আইসক্রিম অর্ডার দেয় আর নিজের জন্য ব্ল্যাক কফি৷

ঠিক এই সময় রায়ের মোবাইলে একটা মেসেজ আসে৷ স্ক্রীনের ওপর লেখাটা ‘মার্কট অ্যাজ সীন’ বলে টিপতে গিয়েও রায় থেমে যায়৷

কেননা, মেসেজটা বেশ রহস্যজনক৷ ‘আর্ল স্ট্যানলি গার্ডনারের একটা উগুি আছে—‘দ্য কী টু আনলক দ্য মিস্টরি ইজ টু ৮ দ্য অবডিয়াস৷’

রায় লেখাটা প্রদ্যোৎকে পড়তে দেয়৷

—স্যর...৷আর্ল স্ট্যানলি গার্ডানার কে?

—একজন ইংরেজ লেখক৷ ক্রাইম থ্রিলার লিখতেন৷

—ওহ...মেসেজটা কিন্তু হাইলি মিস্টিরিয়াস!

—হুঁ, তবে তার থেকেও বেশি মিস্টিরিয়াস, যে এটা আমাকে পাঠিয়েছে সে নিজের নাম দেয়নি৷

রায় নাম্বারটা ডায়েল করে৷ একবার না, দুবার৷ দু’বারই ফোনটা বেজে যায়, ওদিক থেকে কেউ রিসিভ করে না৷

—আমার ধারণা গ্রীনভিউ কমপ্লেক্স থেকেই এটা কেউ পাঠিয়েছে৷

—মেসেজটা বলছেন মার্ডারেরই কোন একটা ক্লু?

—হতে পারে৷ রায় আবার মোবাইলের লেখাটা পড়ে৷ ‘দ্য কী টু আনলক দ্য মিস্টরি ইজ টু নোটিশ দ্য অবভিয়াস৷’ এখন গার্ডনার সাহেব এরকম উগুি করে থাকতেও পারেন, আবার নাও ...

হঠাৎ রায় বেয়ারাকে বিল-এর জন্য ডাকে৷

—আইসক্রিমটা চট্‌ পট্‌ শেষ করে৷ স্যারের গলায় একটা চাপা উত্তেজনা৷

—আমাদের এখনই একবার ফিরে যেতে হবে৷

গ্রীনভিউ কমপ্লেক্সের গেটে ওদের দেখা মাত্র ওখানকার সেনট্রি হারু স্মার্টলি সেলাম জানায়৷

—স্যর...সুপ্রিয় স্যরকে ফোন করে জানাবো যে আপনারা এসেছেন? রায়ের মুখে স্মিত হাসি৷

—না না...জানাবার কোন দরকার নেই৷ প্রয়োজন হলে আমিই যোগাযোগ করে নেব৷

দুপুর সাড়ে তিনটের সময় গ্রীনভিউয়ের একতলায় লোকজন বিশেষ নেই৷ রায় ার প্রদ্যোৎ সোজা লিফটে করে টেনথ ফ্লোরে চলে যায়৷

—বুঝলে প্রদ্যোৎ...যেই আমার মোবাইলে মেসেজটা পাঠিয়ে থাক, সে কথার ওপর ৮ খুব ভাল ৮৷ আর্ল স্ট্যানলি গার্ডনার বোধহয় আর কেউ নয়, এখানকার বাগানের মালি৷

টেনথ ফ্লোরে বেরিয়ে ওরা সিঁড়ি দিয়ে উঠে ছাদে বলে আসে৷ রায়ের খুব ভয় ছিল ও চিলকোঠার ঘরটা তালা মারা অবস্থায় দেখতে পাবে৷ দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে৷ যাক, মালিটা তাহলে এখানেই আছে৷

দরজার কড়ায় নাড়ার একটু পরেই একজন লোক ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে৷

—আপনারদের তো ঠিক চিনতে পারলাম না...৷ লোকটি অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকায়৷

—চিনবার কথাও নয়৷ রায় পকেট থেকে ওর পুলিশ আই ডি বার করে দেখায়৷

—তোমার নাম কী?

—দিবাকর...দিবাকর রাউথ৷

—তুমিই এখানকার বমালি?

—হ্যাঁ স্যর৷

—আজ সকাল বেলায় কোথায় ছিলে?

—আমি...আমি একটা বাগানে গিয়েছলেম৷ শীত আসছে তো, নার্সারিতে ফুলের চারা গাছ কিনতে৷ আর সারেরও দরকার ছিল৷

রায় এদিক ওদিক একটু তাকায়৷

—এখানে তো কোথাও টয়লেট দেখছি না৷ তুমি চান-টান কী একেবারে একতলায় গিয়ে করো?

—না স্যর৷ দশ তলা তলা আর ন’তলার মাঝখানে একটা সারডেন্টস টয়লেট আছে৷ আমি সেখানেই যাই৷

—আচ্ছা৷ ঠোঁটে আঙুল দিয়ে রায় কী যেন একটা চিন্তা করে৷ —গত তিন বার দিনের মধ্যে তুমি বাথরুমে যেতে গিয়ে কখনও স্বাভাবিক কিছু দেখতে পেয়েছো?

—অস্বাভাবিকের মানে?

—যেমন...একটা কিছু হওয়ার কথা নয়... কিন্তু, তুমি সেটা হতে দেখলে৷

—না স্যর, সেরকম কিছুতো মনে পড়ছে না৷ ওহ হ্যাঁ! দিবাকরের মুখে কোথায় একটা আশঙ্কার ছাপ৷ —এখন মনে পড়েছে৷ গতকাল নয়—পরশুই হবে...মাঝরাতে আমার হঠাৎ বাথরুম পায়৷ আমি সিঁড়ি দিয়ে নীচে যাচ্ছি, এমন সময় দেখি ন’তলায় লিফট উঠি এল৷ আর দু’জন লোক একজনকে ধরাধারী করে লিফট থেকে বার করি নিয়ে আসতিছে৷

—তুমি তাদের মুখ দেখতে চেয়েছিলে?

—না স্যর, বারান্দাটা অন্ধকার মত ছিল৷ আর...আমার না কেমন ভয়ভয় করতেছিল...আমি চুপি চুপি একেবারে আমার ঘরে চলি এলাম৷

রায় কিছুক্ষণ দিবাকরের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর কী যেন ভাবে৷ তারপর হঠাৎ ওর মুখে হাসি ফুটে ওঠে৷

—অনেক ধন্যবাদ দিবাকর৷ রয় মালিক পিঠ চাপড়ে বলে৷

—আমার সঙ্গে এখন যা কথা হয়েছে সেটা কাউকে বলার দরকার নেই, বুঝলে’?

দিবাকর ঘাড় নেড়ে জানায়, ও বুঝেছে৷

টেনথ ফ্লোরে নেবে প্রদ্যোৎ লিফটের জন্য অপেক্ষা করছিল৷ রায় মাথা নেড়ে বলে৷ ওরা সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নাববে৷

—নোটিশ দ্য এবভিয়াস’...রায় আপন মনে বিড়বিড় করতে থাকে৷ অবভিয়াসলি আমরা কিছু একটা মিস করে যাচ্ছি৷ সেটা কী? আমরা ছাদটা কভার করেছি, সেখান থেকে ছেলেটিকে ফেলা হয় নি৷ বাকি রইলো টেনথ ফ্লোর ফ্ল্যাট নাম্বার হান্ড্রেড অ্যান্ড সিকস এফ... এর সামনে এসে রায় দাড়ায়৷

—বিকাশবাবু...নট সাসপেক্ট৷ নাঃ... চলো প্রদ্যোৎ আমরা এর পরের তলায় যাই৷

নাইনথ ফ্লোরের সামনে এসে রায় সুপ্রিয় কী বলেছিল মনে করার চেষ্টা করে৷

—মিস্টার অ্যান্ড মিসেস শিকদার৷ বয়স্ক কাপল৷ আমেরিকায় ছেলের কাছে গেছে৷ ফিরবে তিন মাস পরে৷

রায় প্রদ্যোৎ-এর দিকে তাকিয়ে অল্প হাসে৷ —চলো নেকসট ফ্লোর৷

কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে নাবতে গিয়ে রায় আবার ফিরে আসে৷ নাইনথ ফ্লোরের ফ্ল্যাটায় তালা ঝোলানো৷ রায় বন্ধ দরজার দিকে এগিয়ে যায়৷ তালাটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে৷

—সামথিং ইজ রং হিয়ার৷

রায় নিজের মনেই মাথা নাড়ে৷

—দেখ প্রদ্যোৎ....গত তিন মাস যদি এই তালাটা ব্যবহার না হয়ে থাকে তাহলে তার ওপর নোংরার পরত পরে যাওয়ার কথা৷ কিন্তু, এটাতে সেটা নেই৷ ছাদের তালাটা ব্যবহার হয় না বলে জং ধরে গিয়েছিল৷ খোলা যাচ্ছিল না৷ কী মনে হতে রায় হাঁটু গেড়ে তালাটার কাছে নাক দিয়ে গন্ধ শোঁকে৷

—কেরোসিন তেল কেউ এই তালাটা ইদানিং লুব্রিকেট করেছে, যাতে সহজেই খোলা এবং লক্‌ করা যায়৷ রায়ের মুখ হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷

—শিকদারদের অনুস্থিতিতে ওদের ফ্ল্যাট কেউ বা কারা ব্যবহার করছে৷ প্রদ্যোৎ...তুমি বলছিলে যুবকটির প্যান্টের পকেটে কনডোমের প্যাকেট দেখতে পেয়েছো?

—হ্যাঁ স্যর৷

—এতো দেখছি সেক্স র‌্যাকেট! রায় স্বগতোগুি করে৷ তারপর প্রদ্যোৎ-এর দিকে তাকিয়ে বলে, চলো নীচে যাওয়া যাক৷

কমপ্লেক্স-এর অফিস ঘরে এখানকার কেয়ারটেকার ধ্রুব ব্যানার্জি বেেস, আর দু’জন কর্মচারি৷ ওদের দুজনকে দেখে ধ্রুব বাবু তৎপর হয়ে ওঠে৷

—বসুন বসুন...আপনারা আবার ফিরে এসেছেন, কিছু ব্যাপার ঘটেছে নাকি?

—ঘটেনি, তবে ঘটতেও পারে৷ আচ্ছা ধ্রুব বাবু ফ্ল্যাট নাম্বার নাইনটি সিক্স এফ-এর ফ্ল্যাটটা তো এখন বন্ধ রয়েছে৷

—হ্যাঁ হ্যাঁ...৷ ধ্রুব ব্যানার্জির ৮প্রাংশু চেহারা৷ শ্যামল রং৷ লম্বা লম্বা কাঁচা পাকা চুল৷ নিরেন চক্রবর্তীর কথা মনে করিয়ে দেয়৷

—মিস্টার অ্যান্ড৷ মিসেস শিকদার তো এখন স্টেটস-এ৷

—জানি৷ ওঁদের ফ্ল্যাটের চাবি কার কাছে?

ধ্রুব একটু অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকায়৷

—একটা সেটতো ওঁদের সঙ্গেই রয়েছে...আরেকটা সেট বোধহয় আমাদের অফিসেই রাখা...আমি ঠিক বলতে পারবে না৷ সুপ্রিয়বাবু এ ব্যাপারে ভাল জানবেন৷

খবর পেয়ে সুপ্রিয় দে সাত তাড়াতাড়ি নীচে নেবে আসে৷

—কী ব্যাপার বলুনতো? কোন নতুন ইনফরমেশন দরকার?

—মিস্টার শিকদারের ফ্ল্যাটের চাবি কার কাছে?

—একটা তো...

—জানি৷ দ্বিতীয় সেটটা কার কাছে?

—ওটা উনি আমার জিম্মায় দিয়ে গেছেন৷ একবার একটা ফ্ল্যাটে শর্ট সারকিট হয়ে গিয়েছিল৷ তারপর থেকে এই নিয়ম চালু৷ অনেক দিন ফ্ল্যাটে কেউ না থাকলে এক সেট চাবি অফিসে রাখা থাকে৷

—তাহলে শিকদারদের দ্বিতীয় সেট চাবি এখন এখানেই, মানে অফিসেই আছে?

—না...ওটা উনি বিশ্বাস করে আমার জিম্মায় রেখে গেছেন৷ চাবিটা আমার ফ্ল্যাট আছে৷ ওখানে রাখাটাই বেশী সেফ বলে মনে হয়েছে৷

—হুঁ...৷ অন্যমনস্কভাবে রায় মাথা নাড়ে৷ তারপর স্থির দৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ সুপ্রিয়র দিকে তাকিয়ে থাকে৷

—তাহলে তো আপনাকে একবার আমাদের সঙ্গে থানায় আসতে হয়৷

—থানায়? সুপ্রিয় একদম আকাশ থেকে পড়ে৷ —থানায় কেন যেতে হবে বলুন তো?

—আপাততঃ খুনের দায়ে৷ রায়ের গলা হিম শীতল শোনায়৷

টানা পাঁচ ঘণ্টা ইনটারোগেশনের পর সুপ্রিয় স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে এটা বিরাট ওর কাজ৷ মৃত যুবকটি একটি ধনী পরিবারের ছেলে৷ পার্ক স্ট্রিটের কোন একটা বার-এ ওর সঙ্গে সুপ্রিয়’র আলাপ হয়৷ সুপ্রিয় এর মধ্যে একা নয়৷ ওর সঙ্গে আরও দু’জন ব্যগুি ইনভলভড্‌৷ দুজনেই গ্রীনভিউ কমপ্লেক্সের বাসিন্দা৷ যুবকটির সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর সুপ্রিয়’র মাথায়ই প্রথম প্ল্যানটা খেলে যায়৷ যুবকটিকে যদি কোন মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে রত অবস্থায় ছবি তুলে তার বাড়িতে পাঠানো যায়৷ তাহলে একটা বেশ মোটা টাকার অঙ্ক পাওয়া যেতে পারে৷

যা বলা, তাই কাজ৷ কলেজের একটি মেয়েকে স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রীনভিউ কমপ্লেক্সে আনা হয়৷ শিকদারের ফ্ল্যাটটা খালি থাকার ফলে ওদের বিরাট সুবিধে হয়ে যায়৷ বিশেষ করে ফ্ল্যাটটা যখন সুপ্রিয়’র জিম্মাতেই আছে৷ শিকদারদের মাস্টার বেডরুমে দু’টো লুকোনো ক্যামেরা বসিয়ে কলেজের মেয়েটির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি তোলা হয়৷ এবং পরে সেটা যুবকটির বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ সঙ্গে ছোট একটা চিরকুট৷ এত অঙ্কের একটা টাকা না পাওয়া গেলে ছবিগুলো সোশাল নেটওয়ার্ক-এ রিলিজ করা হবে৷

এখানেই সুপ্রিয় এবং তার বন্ধুরা প্রথম মট্‌কা খায়৷ দু’দিন পর ছেলেটির বাড়ি থেকে উত্তর আসে যে সুপ্রিয়রা ছবি নিয়ে যা খুশি করতে চায় করুক৷ ওদের কিছু এসে যায় না৷ যুবকটির তারা অনেক দিন আগেই ত্যাজ্যপুত্র করে দিয়েছে৷ পুরো ব্যাপারটা এরকম হীতে বিপরীত হবে সেটা সুপ্রিয়রা কল্পনাও করতে পারেনি৷ এখন কী করা যায়? ছেলেটাকে ছেড়ে দিলে সে বলতেই পারে যে সুপ্রিয় এবং তার বন্ধুরা তাকে কিডন্যাপ করে এনে, তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে, মদ খাইয়ে, এ সব ছবিগুলো তুলেছে তখন...তখন তারা কোথায় যাবে? এর থেকে ভাল হয় যদি যুবকটিকে এলিমিনেট করে দেওয়া যায়৷ তাহলেই সব ঝামেলার নিষ্পত্তি৷

—প্ল্যানটা কিন্তু খুব আঁটো সাঁটো ভাবে করা হয়৷ প্রদ্যোৎ বলে৷

—হুঁ, কেই বা ভাববে..৷একটা অ্যাবানডনড ফ্ল্যাট, আনডার লক অ্যান্ডকে...সেখান থেকে কাউকে ফেলে দেওয়া যেতে পারে?

—সবই জানা গেল...খালি একটা রহস্যের এখনও সমাধান হয়নি৷

—কোনটা? রায় বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করে৷

—আপনার মোবাইলে অ নামা টেকসট্‌ মেসেটা৷ সেটা কে পাঠিয়েছিল আমরা এখনও জানি না৷

—নাঃ! আমি জানি মেসেজটা কার পাঠানো৷

রায়ের মুখে স্মিত হািস৷

—একটু চিন্তা করে দেখনা কার হতে পারে৷ এমন কোন ব্যগুি যার শব্দের ব্যবহারে যথেষ্ট বাহাদুরি আছে৷ যে কুইন, ধাঁধা, ক্রস ওয়ার্ড পাজল সমাধানে সিদ্ধহস্ত৷ এমন একটি ব্যগুকেই আমরা জানি...অনুতোষ ঘটক৷

—স্যর...উইথ অল ডিউ রেসপেক্ট...জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় কিন্তু আপনি আমাকে ওপরে নিয়ে যান নি৷

—ওহ! রায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়৷—মাই মিসটেক৷ অ্যাজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট উই ও হিম অ্যা ভিজিট৷

অনুতোষ ঘটকের ফ্ল্যাটে উপস্থিত হতে ভদ্রলোক একটু অবাকই হয়৷

—আপনারা...এখানে কী ব্যাপারে?

—মোবাইলে মেজেটা পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানাতে৷

—ওহ্‌! অনুতোষ ঘটকের মুখে একটা তৃপ্তির হাসি৷ —আপনি বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন ওটা আমার পাঠানো?

—হ্যাঁ...ওরকম ওয়ার্ড প্লে আর কে করতে পারে৷ আর্ল স্ট্যানলি ‘গার্ডনার’...

হা হা! অনুতোষ হেসে ফেলে৷

—পরেরটা আরও ভাল৷ দ্য কি টু আনলক দ্য মিস্টরি...তালা, চাবি৷ আনন্দে অনুতোষ রায়কে প্রায় জড়িয়ে ধরে আর কি৷

—এটা সেলিব্রেট করার জন্য আমরা কী একটু বিশুদ্ধ দার্জিলিং চা পান করতে পারি? আমাদের পেছনের বারান্দায়...বেতের চেয়ারে বসে৷

অধ্যায় ১ / ১০
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%