সপ্তম অধ্যায়

শৈলেন ঘোষ

শচীনের বাবার এই ভূতে-ধরার গল্পটা ভাবতে-ভাবতে সমুদ্দুরের ধারে সেই বেঞ্চটার ওপর আর বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারেনি রোশন। ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাকে দোষ দিতে পারো না। ওইটুকু একটা বাচ্চা ছেলে অতখানি রাস্তা হাঁটাহাঁটি করে কতক্ষণ আর জেগে বসে থাকতে পারে! সমুদ্দুরের বুক থেকে উঠে আসা বাতাস রোশনকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে। নিঃসাড়ে ঘুমোচ্ছিল ছেলেটা বেঞ্চির ওপর একা।

কখন যে ভোর হয়েছে, সে তার খেয়াল ছিল না। কখন যে সমুদ্রতীরের এই রাস্তা ধরে জোয়ান-বৃদ্ধ মানুষের দল হাওয়া খেতে বেরিয়ে পড়েছে, সে-ও তার জানা নেই। অনেক না-হলেও গাড়ির ছুটোছুটির শব্দ শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে সমুদ্দুরের জলকল্লোল। এরই মধ্যে কোথায় কোন ফাঁকে কে পড়ে-পড়ে ঘুমোচ্ছ, তার খোঁজ কে রাখে!

হঠাৎ রোশনের ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম তার আপনা-আপনি ভাঙল না। ভাঙল একজন মানুষের তাড়া খেয়ে। এই মানুষটিও ভোরে সমুদ্দুরের তীরে হাঁটতে এসেছিলেন। রোজই আসেন তিনি। অনেকটা পথ হেঁটে তিনি হয়তো একটু পা-দুটোকে বিশ্রাম দিতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন বেঞ্চে একটু বসতে। আর বসতে গিয়েই তিনি রোশনকে বেঞ্চের ওপর হুমড়ি খেয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছিলেন। ভেবেছিলেন, হয়তো রাস্তারই ছেলে। তিনি তাড়া দিলেন, “এই ওঁছা, ওঠ। বসবার জায়গায় কেমন পড়ে-পড়ে ঘুমোচ্ছে দ্যাখো!”

তাঁর এক তাড়াতেই রোশনের ঘুম ছুটে গেছে। ধড়ফড় করে উঠে পড়ে রোশন দেখল, আকাশে আলো ফুটে গেছে। তাড়া দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক ভদ্রলোক। হয়তো তার বাবার মতোই বয়েস হবে লোকটির। পরনে তাঁর একটা খাকি রঙের প্যান্ট, আর একটা হাতকাটা জামা। পায়ে মোজা আর কেড্‌স। মাথায় একটা টুপি। রোশন তাঁর দিকে কাঁচুমাচু হয়ে তাকিয়ে ছিল।

তিনি আবার ধমকালেন, “এটা কি তোর ঘুমোবার জায়গা? ভাগ!”

বেঞ্চ ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রোশন। তারপর হঠাৎই জিজ্ঞেস করল, “আমার বাবাকে তুমি কি দেখেছ?”

“কে তোর বাবা? আমি কি দুনিয়ার যার যেখানে বাবা আছে, চিনে রেখেছি?”

এ-কথার কোনও উত্তর দিতে পারেনি রোশন। হতভম্বের মতো তাকিয়ে দেখতে লাগল এদিক-ওদিক। কাল রাতের দেখা শহর ছিল একরকম। আর আজ এই সকালের শহর একেবারে অন্যরকম। রাতের শহরে ছিল আলোর ঝলমলানি। আর আজ এই সকালের শহরটা কেমন যেন ফ্যাকাসে। তবু সমুদ্দুরটা এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় শুধু রাশি-রাশি জল। আর ঢেউয়ের ওপর ঢেউ। কাল দেখা গেছে জলের ওপর আলোর দোলন। আজ সকালে সমুদ্দুরের জলের ওপর আকাশের ছায়া।

রোশনের চোখে জল এসে গেল। এই সমুদ্দুর দেখতে-দেখতেই সে কেঁদে ফেলল। ভারি মন কেমন করে উঠল রোশনের। মন কেমন করে উঠল বাবার জন্য যতটা, মায়ের জন্যও ঠিক ততটা। এমন কি, ফুলতিদিদির মুখখানিও তার বারেবারে মনে পড়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল চোখের জল। তারপর ক্লান্ত দুটো পা এলোমলো ফেলল সেখান থেকে সে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোথায় যাবে সে? সে তো তার জানা নেই!

এতক্ষণ সেই লোকটি একনজরে দেখছিলেন রোশনকে। মনে-মনে কী ভাবছিলেন কে জানে! কিন্তু রোশনের মুখখানা দেখে তাঁর নিজের মুখের চেহারাটাও যে পালটাচ্ছিল, এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। একটু আগে যে ছেলেটাকে তাঁর ওঁছা বলে মনে হয়েছিল, মনে হয়েছিল রাস্তার ছেলে, এখন যেন সেই ছেলেটার চোখের জল দেখে তাঁর মন টলে গেল। তিনি আচমকা তাকে ডাকলেন, “এই খোকা, কোথা যাচ্ছিস?”

রোশন উত্তর দিল না। সে হেঁটেই চলল।

লোকটি বেঞ্চে বসেও উঠে এলেন। রোশনের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “তোর বাবাকে খুঁজে পাচ্ছিস না?”

এবারও রোশন কোনও উত্তর দিল না।

লোকটি বললেন, “ঠিক আছে। দাঁড়া। আমি খুঁজে দেব।”

এবার রোশন উত্তর দিল। তার চোখে যদিও কান্নার জল। যদিও গলা তার কান্নায় ভার, তবুও সে রেগেমেগেই উত্তর দিল, “তুমি আমাকে ওঁছা বললে কেন?”

“ওহ! তাই বুঝি রাগ করেছিস?” বলে লোকটি রোশনকে আদর করার জন্য হাত বাড়ালেন।

রোশন সরে গেল। তেমনই রাগে ভরা গলায় বলল, “আমি তো তোমায় অন্য কোনও কথা বলিনি। আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করেছি, তুমি আমার বাবাকে দেখেছ কি না। এই কথাতেই তুমি আমায় ধমকে উঠলে। আমায় তোমার মতো কেউ বকে না, মাস্টারজি পর্যন্ত আমায় ভালবাসেন। ফুলতিদিদির সামনে যদি তুমি আমায় এমন করে বকতে, তবে দেখতে ফুলতিদিদিও তোমায় ছেড়ে কথা বলত না।”

লোকটি হেসে উঠলেন।

“ভাবছ, ফুলতিদিদি তোমার অমন হাসি শুনেও তোমাকে ছেড়ে দিত? কক্ষনো না। জানো, ফুলতিদিদি আমাকে কত ভালবাসে?” বলে এবার হাউহাউ করে কেঁদে ফেলল রোশন।

লোকটি এবার নিশ্চিত বুঝলেন, তিনি ভুল করেছেন। তিনি ছেলেটিকে আদর করে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর বললেন, “তুই কী বোকা রে! আমি প্রথমে তোকে চিনতে পারিনি, তাই ভেবেছিলুম তুই বুঝি দুষ্টু ছেলে। জানিস না তো, রাস্তায় কত দুষ্টু ছেলে সারাদিন টো-টো করে ঘুরে বেড়ায়। এখন বুঝতে পারছি তুই ভাল ছেলে। কাঁদিস না। বল কী হয়েছে তোর? বাবাকে খুঁজে পাচ্ছিস না?”

“হ্যাঁ, আমি হারিয়ে গেছি।” উত্তর দিল রোশন তেমনই অভিমানের সুরে।

“কী করে হারালি? কাল বুঝি ঠাকুর বিসর্জন দেখতে এসে হারিয়ে গেছিস?” জিজ্ঞেস করলেন সেই লোকটি।

“হ্যাঁ, খুব জোরে বোমার আওয়াজ হল। সবাই ভয়ে ছোটাছুটি করতে লাগল। লোকের ধাক্কাধাক্কিতে আমি বাবার হাত ফসকে ছিটকে গেলুম। তারপরে আর বাবাকে খুঁজে পেলুম না।”

“কিছু খেয়েছিস?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন।

“আমার খিদে পায়নি।” রোশন উত্তর দিল।

“আমার সঙ্গে চ’।”

“কোথায়?”

“আমার বাড়িতে।”

“আমি তোমার বাড়িতে যাব না।”

“কেন?”

“শহরের লোকেরা ভাল না। ছোট-ছোট ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে ভিক্ষে করতে শেখায়।”

লোকটি হাসলেন। হাসতে-হাসতে জিজ্ঞেস করলেন, “কে বলল?”

“সবাই বলে।”

“আমাকে দেখে তোর তাই মনে হচ্ছে?”

“তুমি তো আর শুধুমুধু আমাকে তোমার বাড়িতে যেতে বলছ না। তোমার নিশ্চয়ই কিছু মতলব আছে।”

তিনি হাসতে-হাসতেই উত্তর দিলেন, “বিশ্বাস কর, আমার কিছু মতলব নেই। তোর কাল সারারাত খুব কষ্টে গেছে। এখন আমার বাড়িতে চ’। তারপর আমি নিজে তোর বাবাকে খুঁজে দেব।”

“ঠিক বলছ তো?”

লোকটি রোশনের চিবুক ছুঁয়ে বললেন, “হ্যাঁ রে বাবা, আমি মিথ্যে বলি না।”

রোশন হঠাৎ আবার কেঁদে উঠল, “আমার বাবাকে যদি খুঁজে না পাও?”

“পাব। না পেলে তোকে আমি নিজে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসব।”

“তুমি তো আমাদের বাড়ি চেনো না?”

“তুই তো চিনিস।”

“রাস্তা জানি না।”

“জায়গাটা জানিস তো?”

“রেলে চেপে যেতে হয়। এরকম শহর নয়। গ্রাম।

“গ্রামটার নাম জানিস তো?”

“রাজেগাঁও।”

“ঠিক আছে। আমি সব ব্যবস্থা করে দেব। এখন চ’ আমার বাড়ি। দ্যাখ না, একটু পরেই আমার বাড়িতেই তোর বাবা এসে হাজির হবে।”

“তুমি আমার বাবাকে চেনো?”

“চিনি না। এলেই চিনতে পারব।”

“তুমি বুঝি ম্যাজিক জানো?”

লোকটি আবার হো-হো করে হেসে উঠলেন। হাসতে-হাসতে জিজ্ঞেস করলেন, “এ-কথা মনে হচ্ছে কেন তোর?”

“ম্যাজিক না জানলে, তুমি কেমন করে বলছ, আমি গেলেই তোমার বাড়িতে বাবা এসে পড়বেন!”

“হ্যাঁ ম্যাজিকই। দেখলেই বুঝতে পারবি। তোর ম্যাজিক দেখতে ভাল লাগে না!”

“খুব ভাল লাগে।” বলে রোশন এবার সেই লোকটির সঙ্গে হাঁটতে-হাঁটতে গল্প করতে লাগল। বলল, “আমার এক বন্ধু বিজু। বিজুর দাদা খুব ভাল তাসের ম্যাজিক জানে। এই দেখছি একটা সাহেব। ফুস করে এমন মন্তর পড়বে, চোখের নিমেষে সাহেবটা বিবি হয়ে যাবে।” তারপর জিজ্ঞেস করল, “তুমি মন্তরে বিশ্বাস করো?”

“ম্যাজিকের মন্তরে বিশ্বাস করি।” লোকটি হাসিমুখে উত্তর দিলেন।

রোশন জিজ্ঞেস করল, “গণেশ ঠাকুরের পুজোর এক রকম মন্তর আর ম্যাজিকের বুঝি আর-এক রকম মন্তর?”

লোকটি হাঁটতে-হাঁটতে আর হাসতে-হাসতে বললেন, “হ্যাঁ।”

“কোন মন্তরটা শক্ত?”

“দুটো দু’ রকমের মন্তর। দুটোই শক্ত। বলতে-বলতে ভদ্রলোকটি একটি মোটরগাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালেন।

রোশন তাঁর মুখের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাবার সঙ্গে-সঙ্গে তিনি বললেন, “এই গাড়ি করে আমরা যাব।”

রোশন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এটা কার গাড়ি?”

“যারই হোক, আয়!” বলে তিনি নিজে ড্রাইভারের সিটে বসে পাশের দরজাটা খুলে দিয়ে রোশনকে বললেন, “আমার পাশে এসে বোস!”

রোশন কেমন হাঁদারামের মতো গাড়ির ভেতরটা দেখতে-দেখতে ধপাস করে লোকটির পাশের সিটে বসে পড়ল। তারপর লোকটি যখন গাড়ির এঞ্জিন চালু করার জন্য চাবি ঘোরালেন, তখন রোশন জিজ্ঞেস করল, “তুমি গাড়ি চালাতে জানো?”

গাড়ি চলতে শুরু করল।

হঠাৎ এমন যে একটা ব্যাপার ঘটবে, রোশনের তা তো জানার কথা নয়। তাই সে একবার লোকটির মুখের দিকে চায়, আবার একবার গাড়ির ভেতরের ঝকঝকে কলকব্জার দিকে লক্ষ করে। নয়তো বাইরে হুশ-হুশ করে পেরিয়ে যাচ্ছে যে মস্ত বাড়িগুলো, সেইদিকে তাকিয়ে হকচকিয়ে যায়। হয়তো সেই মুহূর্তে তার আর অন্য কোনও কথা মনে পড়ছে না। মনে হচ্ছিল, আহা! এমন সুন্দর রঙচঙে একটা গাড়ি যদি তার থাকত!

আচমকা সে জিজ্ঞেস করল, “গাড়িটা বুঝি তোমার?”

লোকটি হাসলেন।

সে আবার জিজ্ঞেস করল, “চালাতে শিখলে কী করে?”

তিনি উত্তর দিলেন, “শেখার ইচ্ছে যার থাকে, সে সবকিছু শিখতে পারে।”

রোশন চোখের পাতা দুটো খুলে চোখ দুটো এত বড়-বড় করে বলল, “যাই বলো, উড়োজাহাজ চালানোর চেয়ে মোটরগাড়ি চালানো অনেক শক্ত।”

লোকটি রোশনের মুখের দিকে না-তাকিয়ে রাস্তার ওপর দৃষ্টি রেখে হো-হো করে হেসে উঠলেন। হাসতে-হাসতেই জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?”

রোশন উত্তর দিল, “উড়োজাহাজ তো নিশ্চিন্তে খোলা আকাশের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। আকাশের পথে তো আর এত মানুষ নেই, এত গাড়িও নেই। ধাক্কা লাগার ভয়ও নেই।”

লোকটি হাসিমুখে বললেন, “তা ঠিক। কিন্তু আকাশে যে এত তারা আছে। এত বড় একটা সূর্য আছে।”

রোশনই এবার খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসতে-হাসতে বলল, “ওমা তুমি জানো না, তারারা সব থাকে লক্ষ-লক্ষ মাইল দূরে। সেখানে উড়োজাহাজ যেতেই পারে না।”

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোকে কে বলল?”

“মাস্টারজি।”

“তুই মাস্টারজির কাছে পড়িস?”

“আমি ইস্কুলে পড়ি।”

“কোন ক্লাসে?”

“টু-তে।”

গাড়িটা এবার একটা মোড় পেরোবে বলে লাল আলো দেখে থামল। যতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল গাড়িটা, ততক্ষণ রোশন উদ্‌গ্রীব হয়ে তাকিয়ে রইল রাস্তার দিকে। তারপর আবার যেই গাড়িটা চলতে শুরু করল তখন হঠাৎ বলে বসল, “তুমি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে না তো?”

তিনি একটু থতমত খেয়ে রোশনের মুখের দিকে তাকালেন। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, “তুইও তো জিজ্ঞেস করলি না আমি কে?”

রোশন চটপট উত্তর দিল, “এ আবার জিজ্ঞেস করার কী আছে! তুমি তো ড্রাইভার।”

তিনি আবার হেসে উঠলেন। মজা পাওয়ার এ এক মজাদার হাসি! হাসির রেশটাকে মুখে টিপে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আমি না-হয় ড্রাইভার, তুই তা হলে কে?”

“আমার নাম রোশন।”

এরপরেই ঠিক এই রাস্তাটার তিনখানা বাড়ির পর গাড়িটা এসে থামল। কী বিরাট বাড়ি! গেটে দরোয়ান। দরোয়ানই গেট খুলে দিল। গাড়ি গেটের ভেতরে ঢুকে গেল। দেখেশুনে রোশন একেবারে থ’। গাড়ির দরজা খুলে লোকটি বললেন, “আয়!”

রোশন গাড়ি থেকে নেমে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “এইটা তোমার বাড়ি?”

তিনি অন্য কোনও উত্তর না দিয়ে বললেন, “আয়, ভেতরে আয়!”

সত্যি কথা বলতে কী, রোশনের এখন যা চেহারা, কিংবা তার সাজপোশাকের যা হাল, তাতে সে যদি বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দোনোমনো করে, তবে তাকে তুমি দোষ দিতে পারো না। বারান্দার ওপর বিছানো কার্পেটের ওপর পা দিতেই তার বাধো-বাধো ঠেকছে। এতক্ষণ যে ছেলের মুখে খই ফুটছিল, এখন সে একদম বোবা। ধীর পায়ে সে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। দুটো-তিনটে ঘর পেরিয়ে যে-ঘরটায় এসে রোশন বসল, সেখানে কাঠের কতরকমের আসবাব সাজানো। ঝকঝক করছে। জানলা আর দরজায় ঝলমল করছে পরদা। সামনে গদি-আঁটা সোফাসেট।

তিনি সোফাটা দেখিয়ে বললেন, “বোস!”

রোশন ভয়ে-ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “আমার বাবা কখন আসবেন?”

তিনি উত্তর দিলেন, “বাবা না এলে কী হয়েছে? আমি তো আছি। আমি তো বলেছি, তোকে পৌঁছে দিয়ে আসব।”

রোশন উত্তর দিল, “আমাকে পৌঁছে দিলে আমি না-হয় ঘরে গেলুম, কিন্তু বাবা তো হারিয়ে যাবেন!”

তিনি হাসলেন। বললেন, “দুর বোকা!”

রোশন আর কথা বাড়াল না। চুপচাপ সোফার ওপর বসে পড়ল। শুধু একবার তার মনে হল ম্যাজিকের কথাটা। ভাবল, বলেই ফেলে। কিন্তু বলা হল না। লোকটি রোশনকে বসতে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%