চতুর্থ অধ্যায়

শৈলেন ঘোষ

এখন স্পষ্ট দেখা গেল রোশনের চোখে জল। অশ্রু তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে।

দরবেশদাদু দেখতে পেয়েছেন। নিজের জীবনের গল্প বলতে-বলতে রোশনের কান্নার জলের দিকে তাঁর চোখ পড়ে গেল। তিনি রোশনকে কাছে টেনে নিলেন। আদর করে বললেন, “তুই কাঁদছিস রোশন। তবে থাক, আর শুনতে হবে না।”

রোশন লজ্জা পেল বোধ হয়। তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে ফেলে বলল, “না, না, তুমি বলো, আমি কাঁদছি না। বলল, তারপর কী হল?”

দরবেশদাদু আলতোভাবে হাসলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “চোখ যদি জলে টসটস করে, তবে তাকে কান্না ছাড়া আর কী বলে মানুষে?”

রোশন দরবেশদাদুর গলাটি জড়িয়ে ধরে আবদার করে বলল, “আর আমি কাঁদব না, সত্যি বলছি, কাঁদব না।”

দরবেশদাদু আদর করে বললেন, “কান্না পেলে?”

রোশন উত্তর দিল, “তবুও কাঁদব না।”

“ঠিক?”

“বলছি তো, কাঁদব না। তুমি বলো, তারপর কী হল?”

দরবেশদাদু আবার শুরু করলেন, “আমি কোথায় পড়েছিলুম, কতক্ষণ পড়েছিলুম, আমি কিছুই জানতুম না। হঠাৎ আমার যখন জ্ঞান ফিরল, চোখ মেলে চাইলুম বটে, কিন্তু চোখে সব ঝাপসা দেখছি। মনে হচ্ছে, আমার সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কে, তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি না। বুঝতে পারছি কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু মুখ দিয়ে কথা সরছে না। আমার গলা শুকিয়ে গেছে। ভীষণ তেষ্টা পাচ্ছিল। শেষমেশ আর সহ্য করতে না পেরে শুকনো গলায় অনেক কষ্টে ‘একটু জল’ বলে ককিয়ে উঠেছিলুম। বুঝতে পারলুম আমার মুখে কেউ একটু জল দিল। আঃ, সেই জল গলায় পড়তে মনে হল, যেন জীবন ফিরে পেয়েছি। তারপর ধীরে-ধীরে আমার আবছা চোখে রাশি-রাশি আলোর ফুলকি ভেসে উঠল। আমি দেখতে পেলুম, আমার সামনে অনেক মানুষ। অনেক মানুষের কণ্ঠস্বর আমার কানে ভেসে এল। তারপর বাবার মুখখানি দেখার জন্য আঁতিপাতি করে এদিক-ওদিক দেখতে লাগলুম। দেখতে না পেয়ে ধড়ফড় করে উঠতে গেলুম। ওরা আমায় উঠতে দিল না। আমি শুয়ে পড়লুম। শুয়ে ‘বাবা’ বলে আঁতকে উঠলাম। বাবার সাড়া পেলুম না। আমি বুঝতে পারলুম, হয়তো বাবার অবস্থাও আমার মতো হয়েছে। কাজেই ‘বাবা কোথায়’ বলে আর-একবার আমি ক্ষীণ গলায় ডুকরে উঠলুম। এবারও বাবা দেখা দিলেন না। সাড়াও না।

“এতক্ষণে আমার খেয়াল হল, আমার মাথার ওপর ছাদ। আমার চোখের সামনে জানালা। কাছেই দরজা। বুঝতে পারলুম, আমি আর পাথরের ওপর পড়ে নেই। আমি একটা ঘরের ভেতর। বিছানায় শুয়ে আছি। এখানে কেমন করে এলুম,—এই কথাটা ভাবতে গিয়ে আমার একে-একে মনে পড়ে গেল সেই ভয়াবহ ঘটনার ছবিগুলো। তখনই আমার মনে হল, এঁরা বোধ হয় আমাদের পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। এখানে। তা হলে নিশ্চয়ই বাবাও এখানে আছেন। আমি তাই আবার বাবাকে দেখার চেষ্টা করলুম। এবারও দেখতে পেলুম না। এমনই সময়ে একজন মানুষ আমার জন্য নিয়ে এলেন একবাটি দুধ আর কটা মিঠাই। আমায় বললেন, ‘খেয়ে নে!’

“আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘আমার বাবা কোথায়?’

“তাঁরা সকলেই প্রায় একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘বাছা দুধটুকু আগে খেয়ে নে। আগে নিজেকে বাঁচতে হবে, তারপর বাবার কথা।’

“আমার বুকটা ধড়াস করে উঠল। ওই একটা কথাতেই আমার যেন সন্দেহ হল, বাবা বোধ হয় নেই। বাবা বোধ হয় চিরদিনের মতো আমায় ছেড়ে চলে গেছেন। তখন আমার মুখে দুধ-মিঠাই রোচে কেমন করে! আমার চোখে জমা হয় জল। আমি কেঁদে ফেলি।

“একজন মাঝবয়সী মানুষ আমার মাথায় হাত রেখে আদর করলেন। তারপর বললেন, ‘ভয় কিসের! আমারও তো বয়েস তোর বাবার মতো। আমি আছি, এঁরা সবাই আছেন। সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তোকে ঘরে পৌছে দেব। তার আগে দুধ আর মিঠাই খেয়ে নে! খা!’

“মাঝবয়সী এই মানুষটি আমায় যতই ভরসা দিন, আমি যে এখন একা, পৃথিবীতে যে আমার আপন বলতে আর কেউ নেই, এই দুঃখের যন্ত্রণা থেকে কেমন করে মনকে রেহাই দিই। আমি কাঁদছি। কাঁদছি আর কাঁদছি। আমি যতই কাঁদছি সেই মানুষটি ততই সান্ত্বনা দিয়ে আমাকে আদর করছেন। আমার চোখে তখন চারদিক শূন্য। আমার কিছু নেই, কেউ নেই, সব ফাঁকা। ভাবতে-ভাবতে ভয়ে আমি দলা পাকিয়ে যাচ্ছিলুম। কোনও সান্ত্বনাই আমাকে বলভরসা জোগাতে পারছিল না। বারবার মনে হচ্ছিল, এখন আমার কী হবে! আমি একা-একা কী করব! মনে হচ্ছিল, এখনই চিৎকার করে ছুটি। আর ছুটতে-ছুটতে এখনই পৃথিবীটা ঢুঁড়ে ফেলি। ঢুঁড়ে আপনজনদের খুঁজে আনি। কিন্তু তখন আমার নড়াচড়া করার ক্ষমতাই ছিল না।

“সেই মাঝবয়সী মানুষটি এবার নিজেই আমার মুখে মিঠাই তুলে দিলেন। আমার ইচ্ছে না থাকলেও, আমি কান্নায় ছটফট করতে-করতে তাঁর দেওয়া মিঠাই প্রায় গিলে খেয়ে ফেললুম। তারপর দুধের বাটিতে চুমুক দিয়ে দুধটুকুও অনেক কষ্টে শেষ করলুম।

“তারপর থেকে আমি যতবার ভাবছি আমার কেউ নেই, ততবারই মনটা আমার ভয়ঙ্কর ভাবনায় আনচান করে উঠছে। আমি কিছুতেই থাকতে পারছি না। কখনও আমি ধড়ফড় করে উঠে পড়ছি। কখনও আমি কান্নায় ভেঙে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ছি। আবার কখনও মানুষগুলির মুখের দিকে অসহায়ের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থিতিয়ে পড়ছি।

“সেই মাঝবয়সী মানুষটি এবার হঠাৎ আমায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোরা কি পর্বতে উঠেছিলি?’

“আমি বললুম, ‘আমরা উঠিনি। যুদ্ধবাজ সেনারা আমাদের সবাইকে একসঙ্গে মেরে ফেলার জন্য পর্বতে নিবার্সন দিয়েছিল।’

“তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘সবাই বলতে? আর কে ছিল তোর?’

“আমার মা, আমার দাদা আর দিদি।’

“তারপর কী হল?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন।

“তারপর আমি একে-একে সমস্ত ঘটনা বললুম। এমন কি,—এও বললুম, আমরা দারবিশ।

“তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোরা গান গেয়ে ভিক্ষা করিস?’

“আমি বললুম, ‘না, আমরা শুধু গানই গাই না, আমার বাবা কতরকমের খেলাও দেখাতেন। আমরা গানও গাই, খেলাও দেখাই।’

‘তুই খেলা জানিস?’

“‘ভাল জানি না। একটু-একটু।’

“‘কী খেলা জানিস?’ তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন।

“‘আমি উত্তর দিলুম, ‘দুটো ছোট কাঠের লাঠি নিয়ে শূন্যে ছুঁড়ে ছুঁড়ে লোফালুফি খেলা।’

“‘কে শেখাল?’

“‘বাবা।’

“‘গান গাইতে পারিস?’

“আমি উত্তর দিলুম, ‘গানও আমি একটু-একটু গাইতে পারি। বাবা গান গাইলে, সেই গান শুনে-শুনে যেটুকু পেরেছি শিখেছি।’ বলতে-বলতে আমি আবার কেঁদে ফেললুম। কাঁদতে-কাঁদতে বললুম, ‘এখন আমি কোথায় যাব?’

“সেই মানুষটি তখন বললেন, ‘পাহাড়টা তোলপাড় করে তুই এখন কোথায় এসেছিস তা কি জানিস?’

“আমি জানালার দিকে চোখ ফিরিয়ে বাইরেটা দেখার চেষ্টা করলুম। কিছুই ঠাওর করতে পারলুম না। তারপর সেই মাঝবয়সী মানুষটির মুখের দিকে মুখ ফিরিয়ে বিষণ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলুম।

“তিনি বললেন, ‘এ-দেশটার নাম ইরান। এক সময়ে এর নাম ছিল পারস্য। তুই আর তোর বাবা পড়ে ছিলি পর্বতের নিচে সমতলভূমিতে। তোর বাবার প্রাণহীন দেহটা পড়ে ছিল এক পাশে। আর তুই অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলি আর-এক পাশে।’ বলে তিনি একটু থেমে একজন মেষপালকের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘এই ভদ্রলোকটি ভেড়া চরাতে গিয়ে তোদের দেখতে পান। উনি এই পাহাড়তলি গ্রামেরই মানুষ। তিনদিন তোর জ্ঞান ছিল না। তিন দিন ধরে আমরা সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করে তোর জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। আমি একজন হাকিম। তিনদিন ধরে তোর বাবার দেহটা আমরা রক্ষা করেছি। আর ফেলে রাখা ঠিক নয় ভেবে আজ সকালে গ্রামের মানুষেরা সবাই মিলে তাঁর শেষ কাজ করেছেন।’

“এবার আর আমার চোখ দিয়ে জল গড়াল না। আমি একটুও কাঁদলুম না। কাঁদতে পারলুম না। বোবার মতো সবার মুখের দিকে তাকিয়ে-তাকিয়ে দেখতে লাগলুম।

“আমাকে হঠাৎ অমন নির্বাক হয়ে যেতে দেখে, কি জানি, কী ভাবলেন সেই হাকিম মানুষটি। তিনি আবার আমায় আদর করলেন। বললেন, ‘তোর কোনও ভয় নেই। আমরা সবাই আছি। তুই আমাদের কাছে থাকবি।’

“আমি তবুও কথা বলতে পারলুম না। যেন আমি ভয়ে পাথর হয়ে গেছি।

“হাকিম মানুষটি হয়তো আমার অমন শোকজীর্ণ মুখখানা দেখে মনে মনে কষ্ট পেলেন। তাই ভারি দরদী গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর আপন বলতে কি আর কেউ নেই?’

“তাঁর এই দরদভরা গলার স্বর আমার মুখে কথা ফোটাল। আমি বুঝতে পারলুম আমার মনের কষ্ট তাঁর মনেও যেন কষ্ট দিচ্ছে। তাই আমি কথা না-বলে পারলুম না। আমি বললুম, ‘হ্যাঁ আছেন। আমার এক দাদু।’

“হাকিম জিজ্ঞেস করলেন, ‘তিনি কোথায় থাকেন?’

“‘অনেক দূরে। হিন্দুস্থানে।’

“তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘হিন্দুস্থানের কোন জায়গায়, তোর জানা আছে?’

“শুনেছি বোম্বাইয়ের কাছে রাজেগাঁও নামে একটি গ্রামে তিনি থাকেন।’

“হাকিম আমায় সাহস দিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে। তুই কিছু ভাবিস না। আমরা তোকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেব। যাবি তো?’

“আমি কী উত্তর দেব! আমার তখন এত কষ্ট হচ্ছিল যে, আমি দমই ফেলতে পারছিলুম না। মনে হচ্ছিল, আমি বোধ হয় আবার অজ্ঞান হয়ে যাব। এত ভার লাগছে কেন আমার বুকের ভেতরে!

“কিন্তু না, আমি আর জ্ঞান হারালুম না। আমি ধীরে-ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলুম। বলে রাখি, আমি ছিলুম সেই পাহাড়তলি গ্রামের একটি মসজিদের পান্থশালায়। ক’দিন সেখানে থাকার পর আমাকে নিয়ে যাওয়া হল ইসফাহান বলে ইরানের খুব পুরনো এক বিখ্যাত শহরে। ইসফাহান সত্যিই চমৎকার। তখন ইরানের নাম ছিল পারস্য। প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন এই শহরটি এমনই দৃষ্টিশোভন ছিল যে, সে-সময়ে সকলে বলাবলি করত, ইসফাহান যে দেখেনি, তার অর্ধেক পৃথিবীই দেখা হয়নি। ইসফাহান শহরের সবচেয়ে সুদৃশ্য দেখার জিনিস এর একটি আশ্চর্য মসজিদ। নাম: মসজিদ-ই-জামি। মসজিদের দুটি মস্ত গম্বুজ অমূল্য সব মণিমুক্তো দিয়ে সাজানো। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। সুফি কবি ওমর খৈয়াম নিজেই নাকি একটি গম্বুজের নকশা তৈরি করে দিয়েছিলেন। কবি হলেও ওমর খৈয়াম অঙ্ক জানতেন, অনেকের চেয়ে অনেক ভাল। যাকে বলে। পণ্ডিত।

“অনেকটা পথ পেরিয়ে আমাকে ইসফাহানে নিয়ে আসা হল। হাকিম নিজেই আমাকে সঙ্গে করে এখানে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর এক বন্ধু থাকেন ইসফাহানে। তিনি প্রায়ই হিন্দুস্থানে যাতায়াত করতেন। তাঁর দামি-দামি পাথরের ব্যবসা। আর হিন্দুস্থানে তখন এই পাথর পাওয়া যেত প্রচুর পরিমাণে।

“এখন আমি আমার মা-বাবা, দাদা-দিদি সবাইকে হারিয়ে, সেই দয়ালু হকিমের সঙ্গে ইসফাহানে তাঁর সেই বন্ধুর বাড়িতে উঠলুম। ঠিক হল হাকিমের বন্ধু আমায় হিন্দুস্থানে নিয়ে যাবেন। পৌঁছে দেবেন আমার দাদুর কাছে বোম্বাইয়ের রাজেগাঁও-এ।

“এই সুযোগে বলে নিই, এই দাদু আমার আপন দাদু নন। বাবার দূরসম্পর্কের এক কাকা। তিনি আমার কথা শুনেছেন ঠিকই, কিন্তু আমাকে চোখে দেখেননি কোনওদিন। কাজেই মনের ভেতর একটা ভয়ঙ্কর ভাবনা আমাকে অস্থির করে তুলেছিল। তিনি যদি আমাকে অবিশ্বাস করেন! আমাকে আশ্রয় না দেন! কিন্তু মানুষ যখন বিপদে পড়ে দিশেহারা হয়ে যায়, তখন সে বিপদ থেকে বাঁচার জন্য জানা বা অজানা যে-কোনও মানুষের কাছেই ছুটে যায়। এই আশায় যে, সে যদি বিপদ থেকে বাঁচতে পারে। তার ওপর তখন আমি নেহাতই ছোট। আমার আর কতটুকু সামর্থ্য যে, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াব!

“হাকিম আমার সঙ্গে দু’দিন তাঁর বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন। তারপর আমাকে বন্ধুর কাছে রেখে তিনি ফিরে গেলেন। আশ্চর্য মানুষ এই হাকিম। যেমন মহৎ, তেমনই দরাজ তাঁর মন। তিনি ফিরে যাওয়ার সময় আমার জন্য একজোড়া চুস্ত আর চোগা, আর একটা পশমের জোব্বা কিনে দিয়ে গেলেন। এমন কি, আমার হাতে কিছু অর্থ দিয়ে বলে গেলেন, ‘পথে লাগতে পারে। কাছে রেখে দে!’

“তিনি যখন আমাকে এখানে একা রেখে চলে যাচ্ছেন, তখন আমি চোখের জল সামলাতে পারিনি। আমার মনে হল, আহা রে, এই হাকিমের জন্য আমিও যদি কিছু করতে পারতুম!

“কিন্তু যা হওয়ার নয়, তা ভেবে তো কোনও লাভ নেই। সুতরাং আমি হাকিমের বন্ধুর বাড়িতে ক’দিন থেকে তাঁর সঙ্গে হিন্দুস্থানের পথে যাত্রা শুরু করলুম।”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%