।।পর্ব ৬।।

ঐন্দ্রিলা মুখার্জি

যারা খননকার্য করছিল, তারা ভয়ে আর ও'মুখো হতে চাইছে না। তাই পরেরদিন সকালে রুচিরা ও তিনজন ইন্টার্ন নিজেরাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।

বসুমিত্র বললো, “ম্যাডাম, আমি হাতে ধরা যন্ত্রপাতিগুলো এই ব্যাগে নিয়ে নিয়েছি। ড্রিলিং না করা যাক, কিছুটা ক্লিয়ারিং করে তো আমরা আরও কিছু তথ্য পেতে পারি!”

রুচিরা খুশি হয়ে বললো, “একা যাওয়া ঠিক হবে না বলে আমার সাথে অম্বরীশবাবু ও সুধাকরবাবুও যাচ্ছেন। আক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে তাঁরা কোনো ব্যাবস্থা নিতে পারবেন। আফ্টার অল, তাঁরা এখানকার গন্যমান্য ব্যক্তি।”

ইতিমধ্যে অম্বরীশ ও সুধাকর তৈরি হয়ে চলে এসেছেন। ছ'জনে মিলে যাত্রা শুরু করলো।

সাইটে পৌঁছে তারা পরিকল্পনা মতো কাজ শুরু করলো। চারজনে চারটে জায়গা ধরে ঠিক সকাল ৮টা থেকে ক্লিয়ারিং আরম্ভ করলো। রুচিরা কাজ শুরুর আগে সাবধান করে দিলো, “প্রয়োজনে শভেল ব্যাবহার করবে, কিন্তু পাথর থেকে কিছুটা দুরে খুঁড়বে। পাথরের গায়ে কোনো ধারালো যন্ত্র লাগাবে না, ইউজ ওনলি ব্রাশ।”

প্রায় চারঘণ্টা পর হঠাৎ সৌরসেনী চিৎকার করে উঠলো, “ম্যাডাম, দেখুন কী পেলাম! পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এটা কোনো গুহাচিত্রের উপরের অংশ। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা আছে...”

রুচিরা উৎসাহিত হয়ে বললো, “সাবধানে সবাই মিলে শভেল দিয়ে খোঁড়ো। আর খবরদার পাথরের গা ঘেঁষে শভেল চালাবে না। পাহাড়ের গায়ে শুধু ব্রাশ দিয়ে ক্লীন করবে।”

আরও তিন ঘণ্টা লাগল রুচিরাদের কাজটা শেষ করতে। ইতিহাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। তাই সিংহভাগ কাজ সে নিজেই করলো।

গ্র্যানাইট পাথরের গায়ে উৎকীর্ণ এই প্রাচীন চিত্র মহাভারতের সময়কার এক মন্দিরের স্মারক। তার গায়ে ব্রাশ চালাতে গিয়ে তিনজন ইন্টার্নের তো বটেই রুচিরারও গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।

কাজ সম্পূর্ণ হতেই তারা দেখলো, সেটা পাথরে উৎকীর্ণ চিত্রই বটে। একদিকে এক পুরুষ দাঁড়িয়ে, তার ধড়ে মাথা নেই! অন্যদিকে আর এক পুরুষ দাঁড়িয়ে, কাঁধে একজনের দেহ নিয়ে। তার মাথায় জটা, হাতে ত্রিশূল। দু'জনের মাঝে এক জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড। অগ্নির লেলিহান শিখায় উড়ে এসে পড়ছে এক ছাগমুণ্ড― এ যে দক্ষযজ্ঞ!

সৌরসেনী তার ডি. এস. এল. আর ক্যামেরায় ছবি তুললো। রুচিরা আর তিনজন ইন্টার্ন তো বটেই, অম্বরীশ এবং সুধাকরও অবাক হয়ে প্রাচীন এই ভাস্কর্য দেখছিল।

তারা আরো কিছুক্ষণ খননকার্য চালালো।এবং তা করতেই বেরিয়ে পড়লো পাষাণখোদিত দক্ষযজ্ঞের সম্পূর্ণ কাহিনী। এখানে যে মন্দির ছিল, তার আজকে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলো। পাথরের গায়ে দক্ষ শিল্পীর হাতে উৎকীর্ণ পৌরাণিক কাহিনী রুচিরা, নৈঋত, সৌরসেনী ও বসুমিত্রর অসামান্য অধ্যাবসায়ের কাছে মন্দিরের আত্মপরিচয় ব্যক্ত করে দিলো।

অম্বরীশ ও সুধাকরও মুগ্ধ হয়ে এই অসামান্য আবিষ্কার প্রত্যক্ষ করছিল। যে মন্দিরের কথা তারা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে, সে মন্দিরের বাস্তবতার উপর তাদেরও সন্দেহ ছিল।

কিন্তু আজ এই অনুসন্ধিৎসু তরুণ প্রত্নতত্ববিদের দল ভারতের হৃত ঐতিহ্য পুনরোদ্ধার করলো। অম্বরীশ ও সুধাকরবাবুর মন এক অজানা আনন্দে ভরে উঠল― এ যেন এক শিশুমনে স্বপ্নের দেশ আবিষ্কারের আনন্দ।

সবাই একে একে গহ্বর থেকে উঠে এলো উপরে। সূর্য তখন বিকেলের শেষ আলোটুকু ছড়িয়ে অস্তাচলে চলেছে। এমনসময় একটা সমস্যা দেখা দিলো। কয়েকজন লোক এসে রুচিরাদের লক্ষ্য করে চিৎকার-চেঁচামেচি আরম্ভ করলো। অম্বরীশ আর সুধাকর বিপদ বুঝে তাদের চারজনকে আড়াল করে দাঁড়ালো।

এবার একজন এগিয়ে এসে আক্রমণাত্মক ভাবে কন্নড় ভাষায় তাদের অপমানজনক কথা বলতে লাগলো। সুধাকর তাকে ঠান্ডা করার জন্য এগিয়ে এলে, সে সুধাকরকেও দু'চার কথা শুনিয়ে দিলো। অম্বরীশ রুচিরাকে বললো, “ম্যাডাম, ইনিই প্রধান পুরোহিতের ছেলে। বাপের শোকে মাথাটা একেবারে গিয়েছে।”

রুচিরা বললো, “অম্বরীশবাবু ওনাকে শান্ত করুন। কড়া ভাষা প্রয়োগ করবেন না। স্বাভাবিকভাবেই পিতৃবিয়োগের ফলে আমাদের প্রতি ওনার মন বিরূপ হয়ে উঠেছে। আপাতত আমাদের এখান থেকে বেরোতে হবে।”

ইতিমধ্যে যে তিনজন গার্ড সাইটে মোতায়েন ছিল, তারাও ব্যস্ত হয়ে চলে এসেছে।

বসুমিত্র বুকের সামনে কাঁধে নেওয়ার ঢাউস ব্যাগটার আড়ালে ফোনটা রেখে স্থানীয় থানার দারোগার নম্বরটা ডায়াল করছিল। দু'তিনবার চেষ্টা করতে নম্বরটা লেগে গেলো। বসুমিত্র কানে ফোনটা লাগাতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হলো। একজন বয়স্ক লোক রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে চিৎকার করে হিন্দিতে বললো, “মারকে নিকালো ইন লোগোকো! জবসে আয়ে হ্যায় গাঁও কি শান্তি খতম হো গই হ্যায়। অঘোরী বাবা নে পঁচ্চীস সাল পহিলে ইনকো যো 'ছাগ' কাহা থা উসকা মতলব সমঝ রহে হো?”

নৈঋত অনেক্ষণ থেকেই অধৈর্য হয়ে পড়েছিল। এবার তার মাথাটা চড়াক্ করে জলে উঠলো। সে চিৎকার করে বলে উঠলো, “হম নেহি! তুম ঔর তুমহারা অঘোরী বাবা ছাগল হ্যায়। ও ভণ্ড হি পুরোহিতমশাই কো খুন করকে কহিঁ ছুপকে  বৈঠা হ্যায়।”

আর এটা বলাতেই মোক্ষম বিপদটা ঘটে গেলো। একটা লোক পায়ের কাছে একটা পাথর কুড়িয়ে নৈঋতের মাথা লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারলো। একেবারে অব্যর্থ লক্ষ্য। নৈঋতের মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত ঝরতে লাগলো।

নৈঋত মাথাটা চেপে ধরে ধপ করে বসে পড়লো। এটা দেখে 'রে রে' করে সেই ছ'জন লোক, যাদের মধ্যে পাঁচজনই বয়স্ক, রুচিরাদের দিকে তেড়ে এলো। অম্বরীশ, সুধাকর ও দু'জন গার্ড তাদের গায়ের জোরে আটকানোর চেষ্টা করলো। একজন তাদেরকে এড়িয়ে বসুমিত্রর জামা ধরে টান মেরে মুষ্টি উঁচু করলো। বসুমিত্র হাত দিয়ে নিজের মুখটা বাঁচানোর বৃথা চেষ্টা করলো। কিন্তু সৌরসেনী এবার পাল্টা উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি ছিল।

সৌরসেনী বসুমিত্রকে আঘাত করতে আসা লোকটার হাতটা ধরে বুকে ও থুতনির নিচে পরপর দু'বার দ্রুত আঘাত করলো। লোকটা আহত হয়ে বুক আর গলা ধরে বসে পড়লো। সৌরসেনীর এই রূপ দেখে পুরোহিতের ছেলে রাগে দিগ্বিকজ্ঞানশূন্য হয়ে সৌরসেনীকে আঘাত করতে এলে সৌরসেনী তার বুকে ব্যাককিক বসিয়ে দিলো। সে যথারীতি পড়ে গিয়ে বুক ধরে কাতরাতে লাগলো।

সৌরসেনীকে সবাই অবাক হয়ে দেখছে। আততায়ীরা পিছিয়ে গেছে। সৌরসেনী বললো, “সরি, আমি আপনাদের আঘাত করতে চাইনি। আপনারা আমার বন্ধুদের আঘাত করলেন, তাই প্রতিঘাত করতে বাধ্য হলাম। তবে চিন্তা করবেন না। আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না। এর চেয়ে অনেক বেশি আঘাত আমি করতে পারি।”

এমন সময় পুলিশ এলো। প্রত্যেকটি আক্রমণকারীকে গ্রেপ্তার করে তারা থানায় নিয়ে গেলো।

রুচিরারা সুধাকরবাবুর বাড়িতে ফিরে এসেছে। নৈঋতকে গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার কপালে চারটে সেলাই পড়েছে। মাথাটা ড্রেসিং করতে করতে ডাক্তারবাবু বলেছেন, “সম্ভবতঃ কোনো বড়ো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু শহর থেকে ব্রেনের একটা সি. টি স্ক্যান করিয়ে নেবেন।”

বাড়ি ফিরে বসুমিত্র সব খুলে বললো। তার কথা শুনে রঞ্জনবাবু বললেন, “দেখো নৈঋত, এত ইম্পাল্সিভ হলে কিন্তু ইন্টিরিয়র গ্রামে কাজ করতে পারবে না। এরা আমাদের এমনিতেই সন্দেহের চোখে দেখে। আমরা যে ঐতিহ্য পুনরাবিষ্কার করে তা রিজুনিভেট করি, তা এরা কিছুতেই মানবে না।”

―স্যার, ওরা আমাদের ছাগল বললো! আর আমদের না হয় বললো, তা বলে ম্যাডামকে!

নৈঋত উত্তেজিত হয়ে বললো।

রুচিরা এতক্ষণ গম্ভীর হয়ে বসেছিল। সে বুঝেছে এবার আর এখানে থাকা যাবে না। তাই সে ভাবছিল সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে একাই থেকে যাবে কিনা! নৈঋতের কথায় সে হেসে বললো, “বললে আর কী করবো নৈঋত? আর তুমিই বা তাদের ছাগল বললে কী লাভ হবে? আচ্ছা তোমার মন হাল্কা করতে চলো আমরা কিছু প্রশ্নোত্তর দেখি! বটপি ও ইল্বালু রাক্ষস ভ্রাতৃদ্বয়কে কে বধ করেছিল?”

সৌরসেনী বললো, “অগস্ত্য মুনি।”

রুচিরা বললো, “এই দুই ভাইয়ের মধ্যে বটপি একটা জন্তুতে রূপান্তরিত হতো। তাকে রান্না করতো ইল্বালু, এবং যে ব্রাহ্মণ বটপিকে ভক্ষণ করতো কিছুক্ষণ পরে তার পেট চিরে বেরিয়ে আসতো সে। এভাবে তারা ব্রাহ্মণ হত্যা করতো। কোন জন্তুতে রূপান্তরিত হতো বটপি বলতে পারো!”

নৈঋত বললো, “ছাগল...”

সৌরসেনী ও বসুমিত্র ফিক্ করে হেসে ফেললো।

রুচিরা হেসে বললো, “ছাগ কার প্রতীক?”

বসুমিত্র বললো, “ষড়রিপু।”

“ষড়রিপু মানে কী?” রুচিরা জিজ্ঞাসা করলো।

“অভ্যন্তরীণ শত্রু। যথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাতসর্য্য।” বসুমিত্র উত্তর দিলো।

“স্তব্ধতার মরূদ্যানের ইংরেজি অনুবাদ কী হবে?” প্রশ্নটা রুচিরা যেন নিজেকেই করলো।

তিনজনে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো। তারপর সৌরসেনী বললো, “ওয়েসিস অফ স্টিলনেস?”

রুচিরা আনমনে সৌরসেনীর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসল। তারপর সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে বললো, “রঞ্জনদা, দ্রুত ফেরার ব্যাবস্থা করুন। টিকিট বুক করতে হবে। সম্ভব হলে কালই।”

ঘরে ফিরে রুচিরা সুধীরবাবুকে ফোন করলো। প্রথমবার ফোনটা বেজে গেলো, উনি ধরলেন না। কিছুক্ষণ পরে উনি নিজেই ফোন করলেন। রুচিরা পুরো ঘটনাটাই ওনাকে সংক্ষেপে বললো। সঙ্গে সে এও জানালো যে, তারা হয় কাল বা পরশু সকালে ফিরছে।

সুধীরবাবু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, “বাঁচা গেছে।”

রুচিরা তার চেয়ারে বসে পা'দুটোকে সমতলে রেখে শিরদাঁড়া টানটান করে থুতনিতে দুই হাত জড়ো করে ঠেকিয়ে ভাবতে লাগলো। আজ কয়েকটা ব্যাপারে তার খটকা লেগেছে।

সুধীরবাবুর সাথে কথা শেষ করে রুচিরা নিজের ডায়রিতে আজকের চমকপ্রদ আবিষ্কার ছাড়াও আরও কয়েকটা নোট নিলো:

“- পুরোহিতমশাই কেন?

- নরবলি দেওয়া হলো কেন?

- অস্ত্রটি কোথায়?

- অঘোরী তান্ত্রিক দেখা দিচ্ছে না কেন?

- খুনি এত নিঃশব্দে আসে যায় কী করে?

- নাকি খুনি বাকিদের নিঃসাড় করে দেয়?

- একটা প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযান বন্ধ করতে নরখাদক তৈরি হতে হলো কেন?

- আমরা আসার আগের দিনই অঘোরী এলো কী করে?

- আবার খুন হবে কেন?

- যদি খুন আবার হয়েই থাকে, পরের শিকার কে?

- অকস্মাৎ আক্রমণের অনুপ্রেরণা কে?

- স্তব্ধতার মরূদ্যান!”

তারপর কয়েকটা আরও অদ্ভুত কথা লিখলো পরপর:

“ব্রাহ্মণ বিরোধী দুই রাক্ষস ভাই। একজন নিজেকে ছাগলে পরিণত করে, আর একজন তাকে রান্না করে। তারপর সেই রান্না করা মাংস খেলে তা হজম হয়ে যাওয়ার আগেই পুনরায় রাক্ষস সঞ্জীবনী মন্ত্র দ্বারা স্বরূপ ধারণ করে ও পেট চিরে বেরিয়ে আসে। এভাবে তারা 'ব্রাহ্মণ' হত্যা করে।”

এমন সময় অসীমের ফোন এলো। অসীম প্রথমেই বললো, “মন্দির পেলে?”

রুচিরা বললো, “মন্দির পেয়েছি কিনা জানি না, কিন্তু মন্দির থাকার প্রমাণ কিছু পেয়েছি।”

অসীম বললো, “অ! তা নতুন কিছু গল্প পেলে?”

রুচিরা বললো, “ইতিহাস ছাড়াও আরও অনেক বিষয়ে গল্প হয়। তুমি তো তোমার কাজ সংক্রান্ত কিছু গল্প দূরদর্শীকে শোনাতে পারো!”

“আরে আমি তোমার মতো অত ইন্টারেস্টিং করে গল্প বলতে পারি না। তোমার কাছ থেকে গল্প শুনে আমি হুবহু তাই আউড়ে দিই। গল্প শোনাতে পারছি না বলে দূরদর্শী রাগ করে তোমার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য জেদ করছিল। তাই আমি ওকে দিয়ে এসেছি।” অসীমকে একটু বিমর্ষ শোনালো।

রুচিরা বললো, “ও এই ব্যাপার! দাঁড়াও কনফারেন্স কল করছি।”

কিন্তু কনফারেন্স কল কারুর ফোন থেকেই কিছুতেই করা গেলো না। আবশেষে অসীম বললো, “দাঁড়াও। তুমি লাইনে থাকো। আমি আমার দ্বিতীয় ফোনটা থেকে দূরদর্শীকে করছি।”

এই বলে সে রুচিরার মায়ের ফোনে কল করতেই তিনি ধরলেন। অসীমের দু’টো ফোন'ই লাউডস্পীকারে দেওয়া ছিল, তাই রুচিরা দূরদর্শী এবং নিজের মায়ের কথা সহজেই শুনতে পাচ্ছিল। তার কথাও যে তার মা ও মেয়ে ভালোই শুনতে পাচ্ছে, এটা তাদের উৎফুল্ল কণ্ঠস্বর থেকে বোঝা যাচ্ছিল। বাড়ি থেকে এত দূরে প্রিয়জনদের গলার আওয়াজ রুচিরার বড় ভালো লাগলো।

রুচিরার মা, অসীম ও দূরদর্শী অনর্গল কথা বলছিল। কিন্তু রুচিরার শ্রবণশক্তি ততক্ষণে অন্য কিছুর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। সে মন দিয়ে তাই শুনতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

রুচিরা সারারাত আর ঘর ছেড়ে বেরোয়নি। সে সন্ধ্যাবেলাই বলে দিয়েছিল যে সে রাত্রে খাবে না। তাই তাকে আর কেউ বিরক্তও করেনি। সৌরসেনী আর বসুমিত্র শুধু একবার শুতে যাওয়ার আগে রুচিরার ঘরের দরজায় মৃদু টোকা মেরেছিল। কিন্তু রুচিরা দরজা খোলেনি। তারা হালকা ঠেলা মেরে বুঝেছিল, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরশুদিন ফিরে যেতে হবে ভেবে মর্মাহত হয়ে তারা শুতে চলে গেলো।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%