ঐন্দ্রিলা মুখার্জি
বসুমিত্র শুয়ে শুয়ে ভাবছিল, কীভাবে রুচিরাকে রাজি করানো যায় আর কিছুদিন এখানে থাকার জন্য। এমনসময় তাকে চমকে দিয়ে তার ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনের বাঁদিকের উপরের কোণায় সময় দেখাচ্ছে ২টো বেজে বত্রিশ মিনিট, আর মাঝখানে বড়ো বড়ো হরফে লেখা ‘ডঃ রুচিরা সেনগুপ্ত’। বসুমিত্র তড়াক করে খাট থেকে লাফ মেরে নেমে পড়লো। উত্তেজনায় কম্পমান হাতে ফোনটা ধরতেই ওপার থেকে রুচিরার চাপা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, “কোনো প্রশ্ন করবে না। কলটা রেকর্ড করো। যা বলছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। সাইটে আক্রমণ হয়েছে। ডঃ রঞ্জন সেনকে খবর দাও। পুলিশ নিয়ে এক্ষুণি সাইটে এসো। কারুর উপর ভরসা করবে না। সুধাকরবাবুকেও না। সব ব্যবস্থা নিজেরা করবে। যতটা পারবে নিঃশব্দে আসবে।”
বসুমিত্র রুচিরার কথা মতো কলটা রেকর্ড করেছে। তার পাশে শুয়ে থাকা ঘুমন্ত নৈঋতকে বিরক্ত না করে সে সঙ্গে সঙ্গে পাশের ঘরে গিয়ে সৌরসেনীকে ডাকলো। সৌরসেনী জেগেই ছিল। বসুমিত্র রেকর্ড করা কলটা তাকে শোনালো। তারা বিন্দুমাত্র কালবিলম্ব না করে রঞ্জনবাবুকে ডেকে তুললো। রঞ্জনবাবু সব শুনে একেবারে থ!
“এ্যাঁ! বলছ কী? রুচিরা এখন কোথায়?” রঞ্জনবাবু বিস্ময় ও চিন্তা মিশ্রিত কণ্ঠস্বরে জিজ্ঞেস করলেন।
“জানি না স্যার। শোওয়ার আগে যখন কথা বলতে গিয়েছিলাম তখন দেখেছিলাম ম্যামের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। এখনও একই জিনিস দেখলাম। কিন্তু একটা জিনিস সম্বন্ধে নিশ্চিত। ম্যাম ভেতরে নেই। এই দরজাগুলোতে নব দেওয়া। ম্যাম ভেতরের লকটা আটকে বাইরে থেকে দরজাটা টেনে দিয়েছেন, যাতে মনে হয় উনি দরজা লক করে ভেতরেই আছেন।” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে ফেলে থামলো সৌরসেনী।
“আমার মনে হয় স্যার, বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে আমাদের সাইটে যাওয়া দরকার। থানায় খবর দিতে হবে, কিন্তু সুধাকরবাবুকে জানানো যাবে না। আমাদের শত্রুপক্ষের সাথে ওনার গোপন আঁতাত থাকতে পারে।” বসুমিত্র বললো।
রঞ্জনবাবু বললেন, “তাহলে উপায় একটাই। সোজা থানায় চলো। সেখান থেকে পুলিশকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে সাইটে যেতে হবে। কিন্তু বাড়ির সদর দরজা তো বন্ধ! সুধাকরকে না জানিয়ে বেরবো কী করে!”
সৌরসেনী বললো, “সপাট আক্রমণ!”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন