বিশু অতি দুষ্টু ছেলে

প্রচেত গুপ্ত

আমাদের ক্লাসের বিশু অতি দুষ্টু ছেলে।

তার একটা নাম হল বিচ্ছু বিশু। কোথাও যদি বিচ্ছু ছেলেদের কম্পিটিশন হয় বিশু নির্ঘাত ফার্স্ট হবে। ট্রফি নিয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরবে। সেই ট্রফিকে বলা হবে 'বিচ্ছু ট্রফি'। তবে একটা কথা ঠিক, বিশু আর পাঁচজনের মতো নয়। সে মাথা খাটিয়ে এমন সব অদ্ভুত অদ্ভুত দুষ্টুমি করে যেগুলো কেউ ভাবতেই পারবে না। আমরা চেষ্টা করলে অবধারিত ফেল মেরে যাব। বুদ্ধি না থাকলে বিশুর মতো দুষ্টু হওয়া অসম্ভব। সেদিক থেকে বিচার করলে, বিশু আমাদের ক্লাসের একজন প্রতিভাও বটে। দুষ্টুমি তো অনেকেই করতে পারে, মাথা খাটিয়ে দুষ্টুমি সহজ ব্যাপার নয়। আমাদের মাস্টারমশাই, দিদিমণিরা সামনে বকাঝকা করে ঠিকই, আড়ালে কিন্ত বিশুর বুদ্ধির তারিফই করে। আমরা গোপনে এই খবর জানতে পেরেছি।

এবছর বর্ষাকালে বিশু একটা কাণ্ড করেছিল। আমাদের স্কুলে এই দুষ্টুমির নাম হয়ে গেল ব্যাঙ দুষ্টুমি।

আষাঢ় মাস। সকাল থেকে কখনও ঝমঝম, কখনও টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। স্কুলও চলছে। আমাদের ক্লাস সেভেনে ভূগোল পড়াচ্ছিলেন ভুপতিস্যার। বাংলার ঋতু। বেশি দূর পড়াতে হল না। গ্রীষ্মকাল শেষ করে যেই বর্যায় ঢুকেছেন, পিছনের বেঞ্চ থেকে বিশু চিৎকার করে উঠল।

'স্যার ব্যাঙ...স্যার, মনে হয় ক্লাসে ব্যাঙ ঢুকেছে।'

ভূপতিস্যার নিজের টেবিলের সামনে পায়চরি করেন আর পড়ান। বিশুর কথা শুনে থমকে দাঁড়ালেন।

'কী হয়েছে?'

বিশু টং করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'স্যার, ব্যাঙের মতো কী যেন একটা দেখলাম।'

বিশু যে মহাবিচ্ছু একথা আমরা যেমন জানি, স্কুলের মাস্টারমশাইরাও জানেন। ভূপতিস্যার সন্দেহের চোখে ভুরু কুঁচকে বললেন, 'কী দেখলে?'

বিশু চোখ বড় করে উৎসাহ নিয়ে বলল, 'ঠিক কী দেখলাম বলতে পারব না স্যার, তবে ব্যাঙের মতোই মনে হল। থপ-থপ করে দুটো লাফ দিল বেঞ্চের তলায়।'

আমাদের এই রতনপুর একটা ছোট মফসসল শহর। শহর নামেই। বেশ গ্রামের মতো। গাছপালা, দিঘি আছে। আমাদের স্কুলের বাইরে বড় মাঠ রয়েছে। বৃষ্টিতে সেখানে জলও জমেছে। সেখানে ব্যাঙ থাকে না এমন নয়। নিশ্চয় থাকে। কিন্তু সেই ব্যাঙ ক্লাসে ঢুকবে কী করে?

বিশু গল্প বলার মতো করে বলল, 'স্যার, ব্যাঙটা মনে হয় গলার শিরা ফুলিয়ে একটু ডেকেওছে। খোনা গলার ডাক। মনে হল। ঠান্ডা লেগেছে।'

ভূপতিস্যার চোখ কটমট করে বললেন, 'তুই ভুল দেখেছিস। ক্লাসরুমে ব্যাঙ কোথা থেকে আসবে? এই বিষয়ে আর একটা কথাও নয়। ছেলেরা, তোমরা পড়ায় মন দাও। শোনো, বর্ষাকাল অতি প্রয়োজনীয় একটি ঋতু। বর্ষার জল পেলে খেতে ফসল ফলে। নদীনালা, পুকুর, দিঘি ভরে ওঠে। জল পেয়ে মাছ আনন্দে খেলা করে, ব্যাঙ ডাকে...।'

বিশু এবার পা তুলে লাফিয়ে উঠল। বিস্ফারিত চোখে চিৎকার করে বলল, 'স্যার ওই তো ব্যাঙ, ওই যে লাফ মারল।'

আমরাও অত কিছু না ভেবে চেঁচাতে শুরু করে দিলাম।

'ওরে বাবা, ব্যাঙ। ব্যাঙ ঢুকেছে...ব্যাঙ ঢুকেছে...।'

এমন একটা ভাব করলাম, ব্যাঙ নয়, ক্লাসে বাঘ ঢুকেছে। ভূপতিস্যার এবার যেন একটু ঘাবড়ে গেলেন। নিজেকে সামলে কড়া গলায় বললেন, 'ব্যাঙ! কোথায় ব্যাঙ?'

বিশু ততক্ষণে বেঞ্চের ওপর পা গুটিয়ে বসে পড়েছে। বলল, 'স্যার, আমি এই মাত্র দেখলাম, বেঞ্চের তলায় ছিল। সবুজ রং। গলার শিরা ফুলিয়ে লাফ মারল। তারপর ওদিকে কোথায় যেন চলে গেল। মনে হয় সোমনাথের বেঞ্চের দিকে গেছে।'

ভূপতিস্যার এবার কড়া গলায় বললেন, 'ব্যাঙ কোথা থেকে আসবে? আমার সঙ্গে ফাজলামি করিস? বিশু তুই কত বড় বিচ্ছু আমার জানা আছে? একটা দুষ্টুমি পাকিয়ে তুই ক্লাস ভণ্ডুল করে দিতে চাইছিস। ফের যদি করেছিস, তোর কপালে দুঃখ আছে। ক্লাসে ব্যাঙ কোথা থেকে আসবে? ক্লাস কি ডোবা?'

বিশু কেবলা ধরনের মুখ করে বলল, 'কোথা থেকে আসবে তা তো জানি না স্যার। মনে হয়, আপনি বর্ষা ঋতু নিয়ে পড়াচ্ছেন তাই ব্যাঙ এসেছে।'

ভূপতিস্যার গলায় গর্গর করে রাগের আওয়াজ করে বললেন, 'গরমকাল নিয়ে পড়ালে ক্লাসে কে ঢুকত? মরুভূমির উট? আর শীতের চ্যাপ্টারে যখন ঢুকব? তখন তোদের পাশে এসে বসবেটা কে? শ্বেতভল্লুক?'

বিশু মাথা চুলকে বলল, 'তা তো জানি না, তবে স্যার ব্যাঙটাকে আমি যেন স্পষ্ট দেখেছি।'

ভূপতিস্যার এবার জোর ধমক গিয়ে বললেন, 'চোপ, একদম চোপ। নো বাঁদড়ামি। দাঁড়িয়ে থাক। গোটা ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকবি।'

বিশু কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে পড়ল। স্যারও ফের পড়াতে শুরু করলেন। আমরাও পড়ায় মন দিলাম। মিনিট পাঁচেক যাওয়ার পর এবার সোমনাথ চিৎকার করে উঠল। সে বসে মাঝের দিকে বেঞ্চে।

'ওরে বাবা, ব্যাঙ, ব্যাঙ।'

এবার আমরা আর একটুও দেরি না করে ঝটাপট বেঞ্চে পা তুলে ফেললাম। বিশু তড়াক করে বেঞ্চের ওপর উঠে দাঁড়াল। ভূপতি স্যারও সরে দাঁড়ালেন। বলতে বলতে ফার্স্ট বেঞ্চ থেকে সুমন বলে উঠল, 'ব্যাঙ, ব্যাঙ...ব্যাঙ ঢুকেছে। ওই তো চলে গেল।' সুমনের কথা শেষ হতে না হতেই শুভাশিস হাউমাউ করে উঠে বলল, 'স্যার ব্যাঙটা মনে হয়, আমার পায়ের ওপর দিয়ে লাফ মারল।' প্রতীক বসে জানলার পাশে। সে আমাদের ক্লাসের 'গুড বয়'। সে তো নিজের বেঞ্চ ছেড়ে লাফ দিয়ে সামনে চলে গেল। বলল, 'ব্যাঙটার সাইজ খুব বড়। মনে হচ্ছে কোলা ব্যাঙ। মনে হল, আমার এখানে বসে আছে।' আমরা সবাই প্রতীকের বেঞ্চের দিকে ঝুঁকে পড়লাম। কোথায় কোলা ব্যাঙ? পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলে উঠল তাপস। বেঞ্চ থেকে বেরিয়ে তিড়িংবিড়িং করে লাফাতে শুরু করল। মস্ত ব্যাঙ নাকি তাকে লাথি কষিয়েছে।

সব মিলিয়ে গোটা ক্লাস জুড়ে একটা হুলুস্থুলু কাণ্ড শুরু হয়ে গেল। হইচই, লাফালাফি। ক্লাস শেষের ঘণ্টাও পড়ে গেল।

ভূপতিস্যার চিন্তিত মুখে চক ডাস্টার, বইখাতা নিয়ে ক্লাস, থেকে বেরিয়ে গেলেন। যাবার সময় নিচে তাকাতে তাকাতে গেলেন। টিফিনের সময় গোটা স্কুলে রটে গেল, ক্লাস সেভেনে ব্যাঙ ঢুকেছে। মস্ত কোলা ব্যাঙ। সেই ব্যাঙ নাকি 'গ্যাঙর গ্যাঙর' করে ডাকছে। ছেলেরা আমাদের ক্লাসে ব্যাঙ দেখতে এল ভিড় করে। বিশু দরজার মুখ আটকে বলল, 'ব্যাঙ দেখতে চার আনা করে দিতে হবে।'

যারা এসেছিল তারা বলল, 'কেন দেব? ব্যাঙ তো মাঠে, ডোবায় দেখা যায়।'

বিশু গম্ভীর মুখে বলল, 'ক্লাস আর মাঠ ঘাট তো এক নয়। ক্লাসঘরে ব্যাঙ দেখা একটা ঘটনা। ইতিহাসে লেখা থাকবে।'

'কম করে হবে? চার আনা নেই।'

বিশু আরও গম্ভীর হয়ে বলল, 'দুঃখিত ব্যাঙ নিয়ে দরদাম চলে না।'

'যদি ভিতরে ঢুকে দেখতে না পাই?'

বিশু বলল, 'আমি কী জানি। ব্যাঙ তো ক্লাস সেভেনের পোষা নয় যে তু তু বলে ডাকলেই বেঞ্চের তলা থেকে বেরিয়ে এসে হ্যান্ডসেক করবে।'

এরপরেও কেউ কেউ চার আনা দিয়ে ঢুকল। কিন্তু ব্যাঙ আর দেখা গেল না। টিফিনের সময়ে আমরাও সবাই মিলে তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগলাম। কোথায় ব্যাঙ! ব্যাঙের টিকি হয় না, নইলে বলা যেত, ব্যাঙ তো কোন ছার ব্যাঙের টিকিও দেখা গেল না। তবে কী সবাই ভুল দেখল? সবথেকে অদ্ভুত কথা হল, আমাদের মধ্যে যারা ব্যাঙটাকে দেখেছে বলে এতক্ষণ লাফালাফি করল, তারা কেমন যেন ভেবাচেকা খেয়ে গেল। সোমনাথ, সুমন, প্রতীক, তাপসদের ক্লাসের বাকিরা চেপে ধরলাম। তারা বলল, 'আমরা কী জানি? বিশু বলল, তাই তো আমাদের মনে হল ক্লাসে ব্যাঙ ঢুকেছে।'

আমরা বললাম, 'সেকী! তোরা নিজের চোখে দেখিসনি!'

তারা বলল, 'তোরাও তো ব্যাঙ ব্যাঙ বলে চেঁচাচ্ছিলি। তোরা কি নিজের চোখে ব্যাঙ দেখেছিস?'

বিশুকে এবার সবাই চেপে ধরলাম। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, 'আমি দেখেছি কি না দেখেছি তোদের কেন কৈফিয়ৎ দেব? তোরা কি ব্যাঙের গার্জেন।'

টিফিন পিরিয়ডের পর ক্লাসে এলেন অঙ্কের পার্থ স্যার। তিনি এসেই কড়া গলায় বললেন, 'তোমাদের ক্লাসে নাকি ব্যাঙ দেখা গেছে? বিশু, তুমি নাকি দেখেছ?'

বিশু উঠে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকে বললেন, 'স্যার এখন মনে হচ্ছে দেখিনি, নানা দেখেছি স্যার। এত বড়...নানা স্যার মনে হয় ভুলই হয়েছে...আবার ঠিকও হতে পারে...।'

পার্থস্যার এবার জোর ধমক দিয়ে বললেন, 'চোপ একদম চোপ। একবার দেখেছি, একবার দেখিনি এর মানে কি? আমাকে একদম মিথ্যে বলবে না। চুপ করে বসে অঙ্ক করো।'

বাইরে মেঘের ডাক হতেই পার্থস্যারের ক্লাসে আবার 'ব্যাঙ' ফিরে এল। তবে এবার আর মেঝেতে লাফাতে ফিরল না, ফিরল পরিমলের ব্যাগের মধ্যে। পাটিগণিতের মাঝখানে পরিমল লাফিয়ে উঠল।

'স্যার, ব্যাঙ, আবার ব্যাঙ।'

পার্থস্যার বোর্ডে অঙ্ক কষা থামিয়ে বললনে, 'কোথায় ব্যাঙ?'

পরিমল হাউমাউ করে বলল, 'আমার ব্যাগের মধ্যে। ব্যাগটা নড়ে উঠল।'

স্যার বলল, 'খোলো ব্যাগ।'

পরিমল কাঁচুমাচু ভাবে বলল, 'স্যার, আমি পারব না। ভয় করছে।'

পার্থস্যার বললেন, 'ঠিক আছে আমি খুলছি। দাও তোমার ব্যাগটা।'

বিশু উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'স্যার ব্যাগে আপনার হাত না দেওয়াই ভালো, শুনেছি কোলা ব্যাঙ রেগে গেলে কামড় দেয়।'

পার্থস্যার হুংকার দিলেন, 'আবার আমার সঙ্গে ঠাট্টা? ব্যাঙে কামড় দেয়? কানটেনে ছিঁড়ে ফেলব।'

বিশু বলল, 'স্যার, আমার কান টানুন, ব্যাঙের কান টানতে যাবেন না। আমার ছোটমামাকে একবার ব্যাঙে কামড় দিয়ে আর ছাড়ছিল না। কচ্ছপের মতো। তিনদিন হাতে ব্যাঙ নিয়ে ঘুরতে হয়েছে।'

পার্থস্যার আর পারলেন না। তিনি বিশুর দিকে এগিয়ে গেলেন। নিশ্চয় কান মুলবেন এরকম কোনো ইচ্ছে ছিল, তার আগেই প্রণব খাউমাউ করে চেঁচিয়ে উঠল, 'স্যার আমার ব্যাগও নড়ছে। ব্যাঙ আমার ব্যাগেও ঢুকেছে।'

পার্থস্যার হতভম্ব হয়ে থমকে গেলেন। একটা ব্যাঙ কজনের ব্যাগে ঢুকবে! ক্লাসে ফের হইচই শুরু হয়ে গেল। তিনি একটু দাঁড়িয়ে চক ডাস্টার নিয়ে গটমট করে ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। যাওয়ার আগে দাঁত কিড়মিড় করে বলে গেলেন, 'দাঁড়া তো মজা দেখাচ্ছি। স্যারেদের সঙ্গে বদমাইশি বের করছি।'

বিশু না হয় বিচ্ছু ছেলে পরিমল, প্রণব তো গুডবয়। ওরা তো ব্যাগ নড়বার কথা মিথ্যে বলবে না। স্যার বেরিয়ে যেতে আমরা ওদের ব্যাগের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। বিশু হাই হেসে বলল, 'ব্যাগে কিছু পাওয়া যাবে না।'

আমরা বললাম, 'পাওয়া যাবে না মানে! ওদের ব্যাগ নড়েনি।'

বিশু বলল, 'নড়েছে, তবে ব্যাঙের জন্য নয়। নিজেদের হাতে লেগে বা পাশের ছেলে নড়িয়েছে। ওরা ব্যাঙ ভেবেছে। একে বলে...'

বিশু কথার মাঝখানে হেডস্যার ঢুকলেন ক্লাসে। পাশে ভূগোলস্যার আর অঙ্কস্যার। ঢুকেই বললেন, 'অ্যাই বিশু উঠে দাঁড়া। দাঁড়া বলছি। কী হয়েছে বল। ব্যাঙ নিয়ে কী গোল পাকিয়েছিস খুলে বল। সত্যি কথা বলবি। এই ব্যাঙের বিচ্ছুপনাটা তোর কী ব্যাপার? সত্যি না বলে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে দেব। টিসি কী জানিস তো? ট্রান্সফার সার্টিফিকেট। এরকম পাজি ছেলেকে আমরা রাখতে পারব না।'

বিশু আমতা আমতা করে বলল, 'স্যার, সবার মধ্যে একটা ভুল তৈরি করতে চেষ্টা করেছি। একে বলে গণভুল। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছি যাতে সবার মাথায় ভুল গেঁথে যায়। সবাই যেন ভুল দেখতে পায়। ম্যাজিকের বইতে পরেছি। আজ ব্যাঙের কথা বলে প্র্যাকটিশ করছিলাম।'

হেডস্যার হাঁ হয়ে বললেন, 'বলিস কী রে! তোর এত ক্ষমতা!'

এবার হেডস্যারের গলায় মুগ্ধভাব ছিল স্পষ্ট। আমরাও কম অবাক হলাম না। বাপরে বিশু ম্যাজিকও জানে!

বিশু সাহস পেয়ে মাথা চুলকে বলল, 'আসলে অনেকে এই বর্ষায় ব্যাঙ দেখতে চাইছিল। মনের ওই ইচ্ছেটাকে উসকে দিলাম। ভূত যেমন সত্যি নয়, কিন্তু রাতের অন্ধকারে ভূত ভূত বললে সবাই ভাববে সত্যি বুঝি ভূত এসেছে। ওই বুঝি সাঁৎ করে অন্ধকারে সরে গেল, এই ব্যাঙটাও তাই স্যার। মনের ব্যাঙ। আমি একটা মজা তৈরি করতে গিয়েছিলাম।'

ভূগোলস্যার বললেন, 'সবাইকে ভুল দেখিয়ে দিলি!'

বিশু বলল, 'সবাইকে তো পারিনি স্যার? ক্লাসের সবাই দেখেনি। কয়েকজন দেখেছে। সবাই ভুল করে না। আপনাদেরও পারিনি।'

হেডস্যার শান্ত গলায় বললেন, 'এত দুষ্টু হয়েও তুমি যে এমন সুন্দর করে ভুল বিষয়টা বোঝো এবং তাই নিয়ে মজা করতে পারো এটা একবারে মন্দ নয়। তবে ভুল নিয়ে দুষ্টুমি যেন মজার মধ্যেই থাকে, তার বাইরে না যায়। মনে থাকবে?'

বিশু বলল, 'মনে থাকবে স্যার।'

অঙ্কস্যার হাসি হাসি মুখে বললেন, 'ক্লাস কি তোর ম্যাজিক প্র্যাকটিশের জায়গা?'

বিশু বলল, 'আর স্যার করব না।'

ভূগোলস্যার বললেন, 'অবশ্যই ম্যাজিক করবি। তবে ক্লাসের পরে।'

বিশুর ব্যাঙ দুষ্টুমির গল্প এখানেই শেষ নয়। আর একটু আছে। সেদিন ছুটির পর সত্যি সত্যি আমাদের ক্লাসে একটা বড়সড় ব্যাঙ দেখা গেল। দরজার কোনায় বসেছিল। গলার শিরা ফুলিয়ে ডাকছিল। আমরা ভাবলাম, মনের ভুল।

গল্পটি 'ব্যাঙ দুষ্টুমি' নামে প্রকাশিত হয়েছিল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%