রালু, সালু আর গুপ্তধনের চাবি

প্রচেত গুপ্ত

আমি আর সালু চলেছি একটা ছবির মধ্যে দিয়ে।

তোমরা একথা শুনে নিশ্চয় ভাবছ, ছবির মধ্যে দিয়ে চলা আবার কী ব্যাপার রে বাবা! ছবি থাকে খাতার পাতায়, নয়তো দেওয়ালে টাঙানো। তার মধ্যে দিয়ে আবার চলা যায় নাকি?

অবশ্যই যায়। আমাদের দু-পাশে যতদূর চোখে যায় শুধু সর্ষের খেত। হলুদ হয়ে রয়েছে। সেই খেত শেষ হলে নীল আকাশ। আকাশে ঝলমল করছে শীতের রোদ। এত্ত সুন্দর লাগছে যে মনে হচ্ছে, সত্যি নয়, ঠিক যেন একটা ছবি। কেউ এঁকে মাটিতে বিছিয়ে রেখেছে। প্রকৃতির এটাই মজা। ছবি আঁকতে তার কাগজ, ক্যানভাস কিছুই লাগে না। সে মাটিতে আঁকতে পারে, আকাশে আঁকতে পারে, নদীর জলেও আঁকতে পারে। আমাদের এই ছবি কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। ডান-বাঁ দুটো খেতের মাঝখানে মাটির আঁকা-বাঁকা পথ চলে গিয়েছে। গেরুয়া রঙের সেই পথ এবড়ো-খেবড়ো হলে কী হবে, দেখাচ্ছে ভারি মনোরম। সেই পথ ধরে যেতেও মজা। আমি আর সালু পাঁই-পাঁই করে চলেছি। এবড়ো-খেবড়ো বলে, হাত একটু কাঁপছে বটে, তবে সালু চলেছে ব্যালান্স রেখে। মাঝেমধ্যে চেনের ঝনঝন আওয়াজ করে যেন আমাকে বলছে, 'অ্যাই, রালু আরও জোরে প্যাডেল কর। সাইকেল চালানোর নিয়ম জানিস না? যত জোরে প্যাডেল করবি, তত ভালো ব্যালান্স থাকে।'

আমি বললাম, 'তুই আর আমাকে সাইকেল চালানো শেখাস না। সাইকেলের হ্যান্ডেল কীভাবে বাগে রাখতে হয়, আমার ভালো করেই জানা আছে।'

সালু বেটা এমন পাজি অমনি পথের মধ্যে একটা ঢালু জায়গায় পড়ে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। আমি কম দুষ্টু নই। মিনিট তিনেক হ্যান্ডেল ধরে এদিক ওদিক করে দিলাম। সালু তো 'ক্যাঁচ কোঁচ, হ্যাঁচ হোঁচ' করতে শুরু করে দিল। এর মানে আমি জানি।

'আরে ছাড় ছাড়, কলকব্জা সব ভাঙবে যে। গেলাম গেলাম।'

আমি বললাম, 'আর কখনও আমাকে রাগাবি?'

চেনে ঝনঝনাৎ আওয়াজ করে বলল, 'না, না, আর কখনও করব না। এবার আমায় ক্ষেমা দে বাপু।'

সালু যাই বলুক, আমি জানি সুযোগ পেলেই সে আবার আমার পিছনে লাগবে। খুনসুটি না জমলে হয়? আমি আর সালু চলেছি দূরের বাঁশবনটার দিকে। বনটা খানিক আগে পর্যন্ত ঝাপসা দেখাচ্ছিল, যত এগোচ্ছি স্পষ্ট হচ্ছে।

এই সাত সকালে আমরা ওই বাঁশ বনে যাচ্ছি কেন? যাচ্ছি খুব গুরুতর একটা কাজে। গল্পের নাম দেখেই নিশ্চয় কাজটা খানিকটা আন্দাজ করতে পেরেছ। তাই তো? কিন্তু পুরোটা পারোনি। সেটা পরে বলছি।

আমাদের তো তোমরা চেনোই। আমরা হলাম দুই বন্ধু। রালু আর সালু। আমার নাম রাহুল, ডাকনাম রালু, আর আমার সাইকেলের নাম সালু। আমরা দুজনে খুব বন্ধু। আমি পড়ি ক্লাস এইটে। ক্লাস সিক্স থেকেই সালু আমার সঙ্গী। থাকি ছোট্ট একটা মফসসল শহরে। আধা গ্রাম, আধা শহর। খুব সুন্দর জায়গা। আমি যেখানেই যাই সালুকে সঙ্গে নিয়ে যাই। এখানে সবাই বলে, সালু সাইকেল হলে কী হবে, চলতে চলতে আমার সঙ্গে কথা বলে। চেনের ঝনঝন চাকার বনবন ব্রেকের ঘ্যাঁস আওয়াজ সবই আসলে ওর কথা। আমি বুঝতে পারি। কথাটা সত্যি। আমি সালুর সঙ্গে শুধু গল্প করি না, ঝগড়াও করি। রাগ করলে সালু আমাকে গর্তে নিয়ে গিয়ে ঝাঁকানি দেয়। আমিও ছাড়ি না। ওর ওপর রেগে গেলে আমি সাইকেল থেকে নেমে পড়ি। তারপর হ্যান্ডেল ধরে টানতে টানতে চলি। টগবগে একটা সাইকেলে না চড়ে, তাকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া একটা অবহেলার ব্যাপার। তবে সালুর সঙ্গে আমি বেশিক্ষণ ঝগড়া করে থাকতে পারি না। সালুও পারে না। আমাদের ভাব-ভালোবাসাও খুব, ঝগড়া, অভিমানও খুব। সালুর কথা শুধু আমিই বুঝতে পারি। তবে সকলেই জানে, আমি আর সালু হলাম গলায় গলায় বন্ধু। ব্যাপারটা অবশ্য যে খুব কিছু নতুন, এমন নয়। আমার মতো ছেলেমেয়েদের কাছে সাইকেল বন্ধুর মতোই। বিশেষ করে যারা মফসসল শহরে থাকে তাদের বেলায় তো কথাই নেই।

শীতের ছুটিতে আমরা দাদুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। গ্রামের নাম বাতাসিয়া। বর্ধমান ছাড়িয়ে আরও বেশ খানিকটা যেতে হয়। এসেছি, ছোটকার বড় জিপগাড়িটায়। দশজন মিলে এসেছি, বড় গাড়ি তো লাগবেই। বাবা, মা, ছোটকা, কাকিমা, বড় জেঠু-জেঠিমা, মানি পিসি, সৌমিদি আর আমি। আর একজনকে নেওয়া হয়েছে। কাকে বলো তো? ঠিক ধরেছো, সালুকে। সালুকে নিয়ে আসা একটা গল্পের মতো।

সালুও দেশেরবাড়ি যাবে শুনে মা তো খুব খেপে গেল।

'এ আবার কেমন কথা! সাইকেল ঘাড়ে করে বেড়াতে যাওয়ার মানে কী?'

আমি বললাম, 'সাইকেল তো আমরা ঘাড়ে করে নিয়ে যাব না, ছোটকার অতবড় জিপগাড়ি রয়েছে, তার মাথায় চাপাব।'

মানিপিসি বলল, 'সাইকেল নিয়ে কী করবি?'

আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, 'কী বলছ পিসি! সাইকেল ছাড়া গ্রামে ঘুরব কেমন করে।'

বাবা বলল, 'রালু, দেশে তো সাইকেলের অভাব নেই। ঘরে ঘরে সাইকেল। চাইলেই তোমাকে দেবে। তুমি সেই সাইকেল নিয়ে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে।'

আমি আরও অবাক হয়ে বললাম, 'সালু আর অন্য সাইকেল এক হল?'

সৌমিদি আমার মাসতুতো দিদি। কলেজে পড়ে। পড়াশোনায় খুব ভালো, কিন্তু সাইকেল চালাতে পারে না। দুবার শেখবার চেষ্টা করেছিল। দুবারই পড়ে নিয়ে হাত-পা ছড়েছে। সেই কারণে সাইকেলের ওপর রাগ। বলল, 'সাইকেল চেপে যাওয়ার কী আছে? পায়ে হেঁটে ঘুরবি। গ্রামে পায়ে হেঁটে ঘুরতে খুব মজা।'

আমি মুখ বেজার করে বললাম, 'তা হোক, সালু না গেলে আমি যাব না। সালু কতদিন বেড়াতে যায়নি।'

আমার কথা শুনে ছোটকা খুব জোরে হেসে উঠল। বলল, 'ঠিক আছে। সালুও বেড়াতে যাবে।'

সালুকে জিপগাড়ির মাথায় চড়িয়ে নেওয়া হল। গাড়ির মাথায় একটা মস্ত কেরিয়ার লাগানো রয়েছে। তাতে আমাদের সুটকেসের সঙ্গে সালুকেও শুইয়ে দেওয়া হল। যাতে পড়ে না যায়, সে ব্যবস্থাও হল। পথে যখন কেক, গরম চা খেতে নামা হচ্ছিল তখন আমি দেখেছিলাম সালু ঠিক রয়েছে কিনা। খুব মজা পাচ্ছিলাম। সালুকে নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছি বলে কথা।

বাতাসিয়া গ্রামে এসে আমি আর সালু একেবারে টই-টই করে বেড়াচ্ছি। কোথায় না গিয়েছি। দিঘিরপাড়, হাট, পুরোনো শিবমন্দির। এখন চলেছি গ্রামের শেষে যে বাঁশবন রয়েছে সেখানে। আসলে কাল রাতে দাদু আমাকে বলেছে, অনেককাল আগে ওই বনে ডাকাতদের আস্তানা ছিল। সেই সময় ওরা অনেক সময় ডাকাতি করা জিনিস ওখানে লুকিয়ে রাখত। আমি তো শুনে হাঁ।

'বলও কী দাদু! গুপ্তধন?'

আমার সাতাশি বছরের দাদু হেসে বললেন, 'তা এক রকম বলতে পারিস। অত দিন আগের ধন-দৌলত যদি গুপ্ত কোনও জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয়, তাহলে তো গুপ্তধনই হল।'

আমি চোখ বড় করে বললাম, 'বলো কী দাদু! হাতের এতো কাছে গুপ্তধন রয়েছে, কেউ খুঁজতে যায়নি?'

দাদু বললেন, 'যায়নি আবার? বহুবার বহুজনে গিয়েছে। না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে।'

দেশেরবাড়ি আসবার পর থেকে প্রতিদিনই আমি সালুকে নিয়ে চক্কর দিতে বেরোই। আজও বেরিয়েছি। বেরিয়ে সোজা রওনা হয়েছি, বাঁশ বনের দিকে। পথে সালুকে কাল রাতে দাদুর কাছ থেকে শোনা ডাকাতদের রেখে যাওয়া গুপ্তধনের কথা বলেছি।

'বুঝলি সালু, একটা হিরে-টিরে যদি পেয়ে যাই আমাদের খুব নামডাক হবে।'

সালু ঘণ্টায় 'টিংটিং' আওয়াজ তুলে এক চোট 'হিহি' করে হেসে নিয়েছে। আমি বুঝেছি সে বলছে. 'ওই আশায় থাক।'

বাঁশবনে ঢুকে পড়লাম। সরু একটা পায়ে হাঁটা পথ রয়েছে। সেখান দিয়েই সাইকেল চালালাম। খুব ধীরে। এই শীতের সকালে কত পাখি ডাকছে। তবে বাইরেটা যেমন রোদ ঝলমলে, ভেতরটা তেমনই গা ছমছমে 'অন্ধকার, অন্ধকার'। তবে একেবারে অন্ধকার নয়। পাতার ফাঁক দিয়ে রোদের আলো এসে পড়েছে। সবুজ হলুদ পাতার ওপর পড়ে চকচক করছে। ভোরের হিম মেখে সেই পাতারা যেন স্নান সেরে উঠেছে। ডাকাতরা কোথায় ধন-দৌলত লুকিয়ে রাখত? আলিবাবা চল্লিশ চোরের মতো কোনও গুহা রয়েছে নাকি? 'চিচিং ফাঁক' বললেই সেটা খুলে যাবে? তা কী করে হবে? সেরকম কিছু থাকলে এতদিনে কী আর লোক জানতে পারত না।

তবে এই বাঁশ বনটা বিশেষ বড় নয়। বাঁশবন এমনিতেই খুব বড় হয় না। খানিকটা সাইকেল চালানোর পর নেমে পড়তে হল।

গায়ের ওপর গাছের ডালপালা এসে পড়ছে। খোঁচা লাগছে। সালুকে হ্যান্ডেল ধরে নিয়ে এগোচ্ছি।

'প্রায় একটা চক্কর তো দেওয়া হয়েই গেল রে সালু। গুপ্তধনের তো টিকিও দেখতে পেলাম না।'

সালু পাতার ওপর চাকা গড়িয়ে মড়মড় আওয়াজ করল। যেন বলল, 'আরে গুপ্তধন পাওয়া অত সহজ নাকি রে রালু? গল্পের বইতে পড়িসনি? দিনের পর দিন, মাসের পর মাস লেগে যায়।'

আমি বললাম, 'ধ্যুস, অত কিছু এখানে নেই।'

সালু পাতার ওপর আরও আওয়াজ করে বলল, 'অত কিছু কেন বলছিস, আমার তো মনে হচ্ছে, কিছুই নেই। এই বনের মধ্যে কোন ডাকাত হীরে-জহরত লুকিয়ে রাখবে?'

আমি বললাম, 'হতেও পারে। অনেক গল্পে তো পড়েছি। যাক, আর একটু দেখেনি।'

ভিতরে ঢুকে পড়েছি। এবার কিন্তু 'গা ছমছম' ভাবটা বেড়েছে। বাইরের আলো কমে এসেছে। বাঁশ গাছগুলো ঘন হয়ে এর-ওর ঘাড়ের ওপর পড়েছে। বাঘ-টাঘ না থাকুক, বাঁশবনে শিয়াল তো থাকবেই।

আমি ফিসফিস করে বললাম, 'সালু, আর নয়, এবার চল ফিরে যাই।'

সালু দু-পাশে হ্যান্ডেল নেড়ে যেন 'না' বলল।

'টক টক টক...।'

আরে! ওটা কী ডাকছে?

আমি থমকে গেলাম। পাশ দিয়ে কে যেন সরসর করে চলে গেল। সালুকে ঘোরাতে গেলাম। সালুর একটা প্যাডেল গেল ঝোপের গায়ে আটকে। আমি জোরে টান দিলাম। খুলল না। আর ঠিক সেই সময় আমার বাঁদিকের দিয়ে সাৎ করে ছায়ার মতো কী যেন একটা চলে গেল! কী গেল? নাকি কে গেল? কে যাবে? আমার বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল। গলার কাছটা কেমন শুকনো শুকনো লাগছে। আমি আবার সালুকে টান দিলাম। সালু এবার একপাশে কাত হয়ে পড়ল। মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। দিনের আলোতে এতো ভয় আগে কখনও পাইনি। মাথায় সব ঘোট পাকিয়ে গেল। নিচু হয়ে যে ঝোপ থেকে সালুর প্যাডেলটা ছাড়াব সে বুদ্ধিটাও লোপ পেয়ে গেল। আমার পিছনে খটখট আওয়াজ হচ্ছে না? ঠিক যেন ঘোড়ার খুরের আওয়াজ। একশো বছর পর ডাকাত দল ফিরে এল নাকি? আমি কোনওরকমে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছন ফিরলাম। একটা বড় পাখি ঝটফটিয়ে উড়ে গেল। নিশ্চয় ওই পাখিটাই ডাকছিল। পাখির ডাক অমন ঘোড়ার খুরের মতো!

এবার জোরে টান দিলাম। আর তাতেই একটা বিশ্রী কাণ্ড হল।

সালুর একটা প্যাডেল খুলে গেল। ঝুলতে লাগল ঝোপে। আমি খুব ঘাবড়ে গেলাম। ইস খুব বোকামি করেছি। টানাটানি না করে যদি সালুকে ঝোপ থেকে ছাড়িয়ে নিতাম, এই বিপদটা হতো না। এবার কী হবে? কীভাবে বাড়ি ফিরব? এই গা ছমছমে বন থেকে বেরোবই বা কী করে? উবু হয়ে বসে খুলে যাওয়া প্যাডেলটা ঝোপ থেকে নিতে গিয়ে চমকে উঠলাম।

আরে! ওটা কী? ঝোপের মধ্যে চকচক করছে। আমি ঝুঁকে পড়লাম। ডাল, পাতা সরিয়ে যা দেখতে পেলাম তাতে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।

একটা চাবি। মস্ত বড়। কম করে ছ'ইঞ্চি হবে। শুকনো পাতার মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে পড়ে আছে ধুলো মেখে। আমি হাত বাড়িয়ে চাবিটা টেনে তুললাম। খানিকটা মাটির মধ্যে ঢুকেও ছিল। পিতলের চাবি হলে কী হবে, কিছু জায়গায় বহু বছরের জং লেগে রয়েছে। কীসের চাবি? এ তো কোনও সাধারণ তালা, আলমারির চাবি হবে না। বড় কোনও সিন্দুকের নয় তো? ডাকাতদের ফেলে যাওয়া সিন্দুক।

'খস খস খস...'

পাশ থেকে কে সরে গেল। শিয়াল? নাকি বনবিড়াল? ডাকাতদের বংশধররা নয়তো?

আর এক মুহূর্ত এখানে থাকা যাবে না। আমি সালুকে টেনে নিয়ে বনের মধ্যে দিয়েই হাঁচোড় পাঁচোড় করে ছুটতে লাগলাম। একসময় পথও পেয়ে গেলাম। ঘোড়ায় চড়বার মতো করে ঝাঁপিয়ে উঠলাম সালুর সিটের ওপর। কী আশ্চর্য ভাঙা প্যাডেলেই সালু একেবারে উড়ে যেতে লাগল।

দাদুকে লুকিয়ে চাবিটা দেখালাম।

দাদু চাবিটা হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে গম্ভীর গলায় বললেন, 'ঠিকই বলেছিস রালু। মনে হচ্ছে, এটা গুপ্তধনের চাবি। কোনও সিন্দুক খোলা যাবে। এটা কী করে পেলি?'

আমি বললাম, 'আমি পাইনি। সালু পেয়েছে। ও মনে হয় ইচ্ছে করে ঝোপে প্যাডেল আটকে দিয়েছিল।'

দাদু বললেন, 'ভেরি গুড। গুপ্তধন না পাওয়া যাক, গুপ্তধনের চাবি পাওয়াও তো কম কথা এ নয়। সেটাই বা কতজন পায়?'

আমি কাঁচুমাচু হয়ে বললাম, 'কিন্তু দাদু, কালই যে আমরা কলকাতা ফিরে যাচ্ছি।'

দাদু হেসে বললেন, 'তাতে কী হয়েছে? চাবিটা সঙ্গে নিয়ে যাও। পরেরবার এসে এই চাবির সিন্দুকটা খুঁজবে। সালুকেও আনবে।

দুজনে মিলে ঠিক পারবে। আর না পারলেও ক্ষতি কী? ওই যে বললাম, গুপ্তধনের চাবি পাওয়াও কম কথা নয়।'

আমরা ছোটকার জিপে চেপে কলকাতা ফিরছি। আমি গাড়ির ভিতর। সালু ওপরে। আমাদের সঙ্গে রয়েছে গুপ্তধনের চাবি।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%