জয়দীপ চক্রবর্তী

সুচরিতার সঙ্গে এ জীবনে আবার যে কখনও আমার দেখা হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। এতদিন, এতগুলো বছর ওর সঙ্গে দেখা নেই, কথা নেই আমার! ওকে ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক ছিল।
শেষ যেদিন দেখা হয়েছিল, সেদিন আমি রেগে চলে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম ও আমার রাগ ভাঙাবার চেষ্টা করবে। দেখা করতে চাইবে আমার সঙ্গে। অথবা কাউকে দিয়ে অবশ্যই চিঠি পাঠাবে আমায়। কিন্তু সে কিছুই করেনি। অত্যন্ত নিরাসক্তভাবে, কয়েক মাস পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল সুচরিতা। বিয়ের পরের দিন শ্বশুরবাড়ি যাবার সময় খুব কান্নাকাটি করেছিল বলে শুনেছি আমার দু-একজন বন্ধুর কাছে। সে তো সব মেয়েই করে। সুচরিতার সেই কান্নাকাটির মধ্যে আমার কোনও স্থান আমি খুঁজে পাইনি।
তখন তো মোবাইল ফোন আমাদের হাতে এসে পৌঁছয়নি, ল্যান্ড ফোনও হাতে গোনা কিছু রহিস পরিবারেই সীমাবদ্ধ। আমাদের মতন নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোর বয়েসের প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যে তখনও হাত চিঠিই ভরসা। ডাকে পাঠানোর সাহস নেই, কি জানি যদি বড়দের হাতে গিয়ে পড়ে!
রোজ মফসসল থেকে কলকাতার কলেজে যাবার সময় ট্রেনে দেখা হওয়া, আর বিশেষ কিছু দরকারে বন্ধু বান্ধব মারফত চিঠি। ব্যস। এভাবেই আমার আর সুচরিতার সম্পর্ক চলেছিল বছর পাঁচেক। দৈবাৎ দু-চারদিন ট্রেনে কলেজ যাবার পথেই আচমকা প্ল্যান করে কলেজ কেটে সিনেমা দেখতে যাওয়াওইটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল আমাদের প্রেম।
সুচরিতা বরাবরই রক্ষণশীল। কিছুতেই আমাকে বাড়াবাড়ি করতে দিত না। আমার কলেজ ছিল শিয়ালদহের কাছে। ট্রেন থেকে নেমে বেশি হাঁটতে হত না। ওকে কলেজ পৌঁছনোর জন্যে কিছুটা পথ হাঁটতে হত রোজ।
যেসব দিনে আমরা সিনেমা দেখতাম, কলেজ স্ট্রিট থেকে সোজা হাঁটতে হাঁটতে হাতিবাগানে চলে যেতাম মিত্রা সিনেমা হলে। ওইপথটুকু আমরা ট্রামে চেপেও যেতে পারতাম, কিন্তু কক্ষনও যেতাম না। পাশাপাশি হাঁটার সময় সুচরিতার গায়ের গন্ধ, চুলের গন্ধ এসে আমার নাকে লাগত। আমি ওকে কিচ্ছু না জানিয়ে চুপিচুপি প্রশ্বাসে সেই গন্ধ টেনে নিতাম। আর তখনই আমি, ইচ্ছে করে তার হাতে আমার হাত লাগাতাম। একেক দিন ও আমার হাত ধরে পথ হাঁটত। আমি ধন্য হয়ে যেতাম সেদিন মনে মনে। ওইটুকুনিই। তার বেশি সুচরিতা কোনও সুযোগ আমাকে কোনওদিন দেয়নি। আমিও জোর করে কিছু কেড়ে নিতে চাইনি তার কাছ থেকে। আসলে জোর করে কিছু কেড়ে নেবার ইচ্ছে বা সামর্থ্য কোনওটাই আমার ছিল না...।
আমার দু-একজন বন্ধু আমাকে ভীতু বলত। আর বিদিশা আমাকে বলত হয় আমি ন্যাকা, নয়তো নিশ্চিত আমার কোনও যৌন অক্ষমতা আছে। এই নিয়ে বিদিশা আর মৈনাক হাসাহাসি করত আমাকে নিয়ে।
বিদিশা তার ব্যাগে কন্ট্রাসেপটিভ পিল রেখে দিত সবসময়। অখিল মিস্ত্রী লেনে আমাদের বন্ধু মতিউর, মৃণাল, আর দেবপ্রসাদ মিলে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে মেস বানিয়ে থাকত। মৈনাক বিদিশাকে নিয়ে প্রায়ই সেই মেসে চলে যেত নির্জন দুপুরবেলাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্যে। ওরা মেসের চাবি অবলীলায় দিয়ে দিত ওদের। বিদিশাই আমাকে দিয়ে প্রায় জোর করেই সেদিন ওই কাজ করিয়েছিল...।
অনার্স পাশ করে তখন আমরা মাস্টার্সের ছাত্র। সুচরিতা এম এ না পড়ে অন্য কী একটা কোর্সে ভর্তি হয়েছে মাস ছয়েক হয়েছে। মতিউররা দিন তিনেকের জন্যে শান্তিনিকেতন বেড়াতে যাবে। বিদিশা আমায় বলল, 'সুচরিতাকে নিয়ে একদিন অখিল মিস্ত্রির বাড়িতে চলে যা।'
'গিয়ে?' বোকার মতন জিগ্যেস করলাম আমি।
'ন্যাকার হদ্দ!' বিদিশা একটা নোংরা খিস্তি মারল আমাকে, 'গিয়ে কী করবি সেটাও আমাকে বলে দিতে হবে? তোর কি শালা ধ্বজভঙ্গ না কি অন্য কোনও যৌন সমস্যা, বল দেখি সত্যি করে?'
আমি লজ্জা পেয়ে মাথা নামিয়ে নিয়ে বলেছিলাম, 'মতিরাও তো নেই। চাবি পাব কোথায়?'
'চাবি আমার কাছে।' বিদিশা চোখ নাচিয়ে বলেছিল, 'তুই যেতে চাস কিনা বল।'
'চাই।' আমার মধ্যে থেকে অন্য কে যেন বলে উঠেছিল সেদিন ফস করে।
বিদিশা তার ব্যাগ থেকে চাবি বের করে আমার হাতে দিয়ে বলল, 'এই নে। যত্ন করে রাখিস। চলে আসার সময় দরজা জানলা ঠিক করে বন্ধ করে আসিস। আর হ্যাঁ, শোন। তুই যা ট্যালা, সব কিছুই তো বলে দিতে হয় তোকে, প্রোটেকশন নিয়ে যা করার করিস। ফালতু ঝামেলা বাঁধিয়ে বসিস না যেন আবার...'
শিয়ালদহে নেমে প্ল্যাটফর্ম পেরোতে-পেরোতেই সুচরিতার হাতে আলতো চাপ দিয়ে আমি বললাম, 'এক জায়গায় যাবি?'
'সিনেমায়?' আমার দিকে চোখ তুলে চেয়ে বলল সুচরিতা।
'উঁহু।'
'তাহলে?' অবাক হয়ে জিগ্যেস করল সুচরিতা।
'একটা বাড়িতে যাব।'
'কার বাড়ি?' ভ্রু কুঁচকে গেল সুচরিতার।
'মতিউরদের।'
'মানে ওদের মেসে?'
'হ্যাঁ।'
'ওরা তো নেই এখানে। ওরা শান্তিনিকেতনে যাবে বলেছিল, তুইই তো বলেছিলি।'
'হ্যাঁ।'
'তাহলে?'
'ওইজন্যেই তো যাব। কত কথা বলতে ইচ্ছে করে তোর সঙ্গে। সুযোগই পাই না। সিনেমা হলে কি কথা বলা যায় বল?'
'আমারও তোর সঙ্গে অনেক কথা আছে জয়ন্ত।'
'তাহলে যাবি ওখানে? নিরিবিলিতে কথা বলা যাবে বসে।'
'বাড়ির চাবি?'
'আমার সঙ্গে আছে।'
একটুখানি কী ভাবল সুচরিতা। আমার মুখের দিকে চেয়ে রইল একদৃষ্টে। তারপর বলল, 'যাব। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকব না। কথা দে জোর করে আটকে রাখার চেষ্টা করবি না আমায়...'
'জোর করে কি কাউকে আটকে রাখা যায় নাকি?' আমি দার্শনিকের মতন মুখ করে বলি।
সুচরিতা কেমন যেন চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো। তারপর বিড়বিড় করে বলল, 'এ কথা তুই বিশ্বাস করিস?'
'করি।' কিছু না-ভেবেই সম্মতি জানাই আমি।
'থ্যাঙ্ক ইউ জয়ন্ত।' বলে আমার পাশে পাশে নিঃশব্দে হাঁটতে লাগল সুচরিতা।
চাবি খুলে সুচরিতাকে নিয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকার সময় একটা অদ্ভুত উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম। হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার হাত কাঁপছে। প্রাণপণে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছিলাম আমি।
সুচরিতাকে দেখে মনেই হচ্ছিল না ওর মধ্যে কোনও তাপ উত্তাপ আছে। খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ঘরের মধ্যে রাখা তিনটে খাটের একটায় বসে পড়ল ও। আমি ওর পাশে বসে ওর পিঠেহাত রাখলাম।
সুচরিতা আমাকে একবার দেখল আড়চোখে। আপত্তি করল না। বরং আমার আর একটা হাত টেনে নিল ওর কোলের ওপরে। আমি অবাকই হলাম খানিক।
সুচরিতা বলল, 'নে এইবার বল।'
'কী বলব?' থতমত খেয়ে গিয়ে বলে উঠলাম আমি।
'এই তো বললি কত কথা আমাকে বলার আছে তোর।'
'এত তাড়া দিচ্ছিস কেন?' আমি সময় নেবার জন্যে বলি।
'আমার হাতে সত্যিই বেশি সময় নেই রে জয়ন্ত...' সুচরিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে।
'এত তাড়া কীসের তোর?'
'আসার সময়েই তো বলেছিলাম তোকে।'
'তাই বলে ঘরে ঢুকেই যাই যাই করতে শুরু করবি?' বলে সুচরিতার পিঠে রাখা হাত ঘাড়ের কাছ থেকে নামিয়ে ওর জামার মধ্যে দিয়ে পিঠের কাছে নিয়ে চলে আসি আমি। মুখ নামিয়ে আনি ওর ঠোঁটের কাছে।
সুচরিতা ছটফট করে উঠে সরে যায়। এক ঝটকায় ওর খোলা পিঠ থেকে আমার হাত সরিয়ে দেয়।
আমি বিরক্ত হয়ে বলি, 'কী হল তোর?'
'তুই তো এমন ছিলি না!' সুচরিতা ফোঁস করে ওঠে, 'এসব অসভ্যতা আমি পছন্দ করি না তুই তো জানিস...'
'কী এমন করেছি আমি?' বলে আবার সুচরিতাকে জড়িয়ে ধরতে যেতেই সটান উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে ও।
'শোন, তুই যা ভাবছিস তা হবার নয়। ওসব ভুলে যা। আর যদি এইসবই চাই মনে হয় তোর তাহলে অন্য মেয়েকে খুঁজে নে তুই। আমাকে আর বিরক্ত করিস না!'
'আমি তো খুব বেশি কিছু চাইনি তোর কাছে?' আহত গলায় আমি বলি, 'তুই তো জানিস, আমি তোকে ভালোবাসি। এতদিন ধরে তুইও তো সে ভালোবাসাকে প্রশ্রয় দিয়েছিস।'
'ভুল করেছিলাম। বুঝতে পারিনি তুই আমাকে বিদিশার সঙ্গে এক করে ভেবেছিলি। তুই আমাকে ছেড়ে দে জয়ন্ত। তুই যা ভেবেছিলি তেমন করে তোকে আমি কোনওদিনই চাইনি। কিছু দিন পরে আমার বিয়ে। তোকে নেমন্তন্ন করতাম হয়তো, এখন ঠিক করলাম সেটাও করব না। তুই বিদিশার মতনই শরীর সর্বস্ব কোনও মেয়েকে বেছে নিস নিজের জন্যে। আমার শুভেচ্ছা রইল...'
সুচরিতা একবারও আমার দিকে না তাকিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। একা একাই। সেই শেষ। আর ওর সঙ্গে দেখা হয়নি তেমন করে। আমার সঙ্গে যোগাযোগও রাখল না আর। আমি নিজেও তীব্র অভিমান আর অপমানবোধে আগ বাড়িয়ে দেখা করার চেষ্টা করিনি ওর সঙ্গে। প্রতিবাদে ফেটে পড়তেও পারিনি। তেমন সাহসী মানুষ আমি তো নই।
সব শুনে বিদিশার মুখ থমথমে উঠল। দু-এক মুহূর্তের জন্যে অবশ্য। পরক্ষণেই ওর ফিচলে হাসিটা ফিরে এল ঠোঁটের কোণে। আমার কাঁধে হাত রেখে ও বলল, 'এতদিন ভুল ভাবতাম মনে হয় জয়ন্ত। তোর সব ঠিকঠাকই আছে, ওই বোধহয় লেসবিয়ান...'
বিদিশার কথা আমার শুনতে ভালো লাগছিল না সেদিন। আমি সরে এসেছিলাম।
কয়েক মাস পরে সত্যি-সত্যিই সুচরিতার বিয়ে হয়ে গেল দুম করে। ও একেবারেই হারিয়ে গেল।
সেই সুচরিতার সঙ্গে প্রায় একুশ বছর পরে এই যে যোগাযোগ তা একেবারেই আকস্মিক এবং তার কৃতিত্ব পুরোপুরিই পৃথার।
সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আমার তেমন একটা যাতায়াত ছিল না। আমি ছা-পোষা মধ্যবিত্ত বাঙালি বলতে যা বোঝায় তা-ই। সকালে পৃথার রান্না করা খাবার খেয়ে, ওর গুছিয়ে দেওয়া টিফিন ব্যাগে ভরে অফিসে যাই। অফিসের পরে আড্ডা-টাড্ডা মারার অভ্যাস আমার নেই। বন্ধুবান্ধবও নেই তেমন। কাজেই অফিসের ছুটির পরে সোজা বাড়ি চলে আসি। আমাদের একমাত্র ছেলেকে খানিক পড়াই। পৃথার সঙ্গে গল্প করি। রাতে খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়ি সকাল সকাল।
পৃথা ভারি ভালো মেয়ে। ওকে নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। অভিযোগ করার কোনও সুযোগই ও আমাকে কোনওদিন দেয়নি। সব মিলিয়ে আমাদের সুখী দম্পতিই বলা চলে। পৃথার কাছে আমি কোনওদিন আমার কোনও কথা গোপন করিনি। সুচরিতার কথা আমি ওকে সবই জানিয়েছি। বিদিশার কথাও। বিদিশা মৈনাক আমার এই ফ্ল্যাটে এসেছেও কয়েকবার। পৃথার সঙ্গে তার দিব্বি ভাব। মাঝে-মাঝেই বিদিশা ওকে ফোন করে। আমার সামনে যে কয়েকবার ফোন করেছে দেখেছি কথা বলতে বলতে পৃথা একবার করে আমার দিকে তাকিয়েছে আর হেসে গড়িয়ে পড়েছে। আমি ঠিক বুঝেছি, আমার সম্পর্কে নিশ্চিত বিদিশাটা কুচ্ছো গাইতে শুরু করেছে। ও মেয়েটা একটুও বদলায়নি। বদলাবেও না আর এ জন্মে।
পৃথাই একদিন রাত্তিরে হঠাৎ জিগ্যেস করল, 'আচ্ছা তোমার সুচরিতাদির কথা এখনও মনে পড়ে?'
'হঠাৎ?' আমি অবাক হয়ে বলি। মনে মনে প্রমাদ গুনতে থাকি। আজই পৃথার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে বিদিশার। কী না কী বলেছে কে জানে! বিদিশার তো মুখে কিছুই আটকায় না।
'এমনিই' পৃথা আমার বুকের ওপরে মুখ ঘষতে ঘষতে বলে, 'প্রথম জীবনের ভালোবাসা কি মন থেকে একেবারে মুছে যায় কখনও?'
আমি সতর্ক হলাম। ওকে একটু জড়িয়ে নিয়ে বললাম, 'ভালোবাসার সুযোগ আর তাকে পেলাম কোথায়? তুমি তো সবই জানো...'
'বলো না মনে পড়ে না তার কথা?'
'পড়ে, কিন্তু ওর জন্যে আমার মন কেমন করে না।'
'ও যে বিচ্ছিরি রকমের অপমান করেছিল তোমাকে অকারণে, সে কথা মনে করে রাগ হয় না তোমার সুচরিতাদির ওপরে?'
'হয়।'
'সে অপমানের প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে করে না?'
'উঁহু।'
'কেন?'
'সে সুযোগ কোথায়?'
'ধরো যদি আবার তোমার সঙ্গে সুচরিতাদির যোগাযোগ হয়?'
'ধ্যাত।'
'সত্যি করে বলো না গো, যোগাযোগ করতে ইচ্ছে হয় না আবার একবার?'
'কী লাভ?'
'লাভ ক্ষতির কথা এই বয়েসে উঠছে কেন? আর লাভের চেষ্টা করলে আমিই কি তোমাকে ছেড়ে দেব নাকি?' বলেই আমাকে অনেকদিন পরে খুব গাঢ় করে চুমু খেল পৃথা। তারপর ফিসফিস করে বলল, 'আমি আর বিদিশাদি ফেসবুকে তোমার সুচরিতাকে খুঁজে বের করেছি। চাইলে তোমার একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিচ্ছি। সুচরিতাদির সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করতে পারো। দেখবে বহু বছর পরে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ হওয়াটা কেমন থ্রিলিং...'
'আমার সঙ্গে সুচরিতার আবার একটা সম্পর্ক তৈরি হলে তোমার ভয় করবে না?'
'কেন? ভয় করবে কেন?' বলেই খিলখিল করে হেসে ওঠে পৃথা।
'হাসির কী হল?'
'বিদিশাদির বলা একটা কথা মনে পড়ে গেল।'
'কী কথা?'
'বলব না।' বলেই আমার কানের লতিতে আলতো কামড় বসালো পৃথা। তারপর আমার শরীরের দখল নিতে নিতে বলল, 'তুমি বড্ড ভালোমানুষ।'
আমার সারা শরীর শিরশির করে উঠল। চাপা গলায় বললাম, 'উজান ঘুমিয়েছে কিনা একবার দেখে এসো ওর ঘরের দরজায় উঁকি মেরে। আর আসার সময় দরজাটা এদিক থেকে বন্ধ করে দিও।'
রা বাংলায় দুদিনের এই রিইউনিওনের প্ল্যানটা ছিল বিদিশারই। এন জে পি থেকে রা বাংলা যাবার গাড়ি এবং ওখানে হোটেলের রুম বুকিং-এর দায়িত্ব সুচরিতা আর ওর বর নিজে থেকেই কাঁধে তুলে নিয়েছিল যেহেতু শিলিগুড়ি থেকে ব্যাপারটা অ্যারেঞ্জ করা কলকাতার থেকে সুবিধেজনক হবে।
এই ছোট্ট টুরটা নিয়ে পৃথা, বিদিশার মধ্যে বিস্তর আলাপ-আলোচনা আর উত্তেজনা চোখে পড়ছিল আমার শুরু থেকেই। আমার অবশ্য ছুটোদৌড়ি কস্মিনকালেই ভালো লাগে না তেমন। তাছাড়া মনে মনে কেমন একটা সন্দেহও উঁকি দিচ্ছিল বার বার। বিদিশা আর পৃথা মিলে কিছু একটা ষড়যন্ত্র করছে না তো তার বিরুদ্ধে? বিদিশাটা তো চিরকাল তাকে বোকা প্রতিপন্ন করতেই পরিশ্রম করে গেল দিন রাত্তির...।
তবু এতদিন পরে সুচরিতার সঙ্গে দেখা হবার লোভও আমার পক্ষে সামলানো সম্ভব ছিল না। তাই বিনা বাক্যব্যয়ে এই পুনর্মিলনের অংশীদার হয়ে গেলাম।
এন জে পি স্টেশনে নেমে মস্ত ব্রিজটা পেরিয়ে গাড়ির স্ট্যান্ডের দিকে এগোতেই সুচরিতাকে চোখে পড়ল। আগের থেকে কিছুটা মুটিয়েছে। আগের কোমর ছাপানো চুল এখন থাকে থাকে ঘাড়ের নীচে এসে থেমে গেছে। তবুও ওকে সুন্দর লাগছিল। আমি তাড়াতাড়ি ওর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। আড়চোখে দেখলাম, পৃথা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে মিটিমিটি হাসি।
পৃথা খুবই ভালো মেয়ে। আগে এমন ফিচলেমি বুদ্ধি ওর ছিল না। বিদিশাই ওকে কেমন যেন পাকিয়ে দিয়েছে গত কয়েক বছরে।
আমরা পাঁচজন। আমি উজান আর পৃথা। বিদিশার সঙ্গে শুধুই মৈনাক। ওদের ছেলে রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে পড়ে। আমাদের সঙ্গে বেড়াতে আসার সুযোগ নেই বেচারার।
সুচরিতা এগিয়ে এল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 'কী রে হাঁদারাম, তোর বউ তো ডাকসাইটে সুন্দরী। আর ভারি মিষ্টি মেয়েও পৃথা। আমি তো ফেসবুকে আলাপ হবার পরে ওর রূপে আর গুণে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেছি!'
'আমি মন্দার।' সুচরিতার বর এগিয়ে এসে আলাপ করলেন আমাদের সঙ্গে, 'আপনাদের সকলের কথাই শুনেছি ওর মুখে। খুব ভালো লাগছে আজ সকলকে একসঙ্গে দেখে।' বলেই তিনি সুচরিতার দিকে চাইলেন, 'কী গো, আমরা এখানে ব্রেকফাস্টটা সেরে নিয়েই রওনা দিই, না কি?'
'অবশ্যই।' মাথা ঝাঁকায় সুচরিতা। ওদের দুজনকে দেখলেই বোঝা যায় একে অপরকে নিয়ে ওরা বড় সুখী। আমার ভালো লাগছিল ওদের দেখে।
'একটা বড় গাড়ি নিয়েছি কিন্তু।' মন্দার আবার বললেন, 'ভাবলাম এতদিন পরে দেখা, সকলে গল্প করতে করতে যাওয়া যাবে একসঙ্গে।'
'খুব ভালো করেছেন।' বিদিশা মন্দারের দিকে প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশিই সরে গিয়ে বলে উঠল।
গাড়িতে সুচরিতা, পৃথা আর বিদিশা মাঝখানের সিটে বসেছে। সঙ্গে উজান। আমি আর মৈনাক একেবারে পিছনের সিটে আর মন্দার সামনে। ড্রাইভারের পাশে।
পৃথা এবং বিদিশা দুজনেই খলবল করে কথা বলছে সুচরিতার সঙ্গে। একটু বেশিই কথা বলছে কি? আমি সামনের মিররে মন্দারকে দেখার চেষ্টা করছিলাম। তার চোখ পিছনের সারিতে কাউকে সন্তর্পণে খুঁজছে। সুচরিতা? উঁহু। আমি নিজের মন অন্য দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলাম। বোঝাচ্ছিলাম নিজেকে, সেই কতকাল আগের একটা ঘটনার কথা ভেবে আজ মন্দারের ওপরে জেলাস হয়ে পড়ে তাকে মিসইন্টারপ্রিট করা অন্যায় হবে।
মৈনাক কনুই দিয়ে খোঁচা মারল আমাকে, 'কি রে হাঁ করে কী এত ভাবছিস?'
'কিছু না।' আমি হাসার চেষ্টা করি।
'পুরোনো প্রেমের কথা মনে পড়ে মন খারাপ লাগছে?' কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে আবার জিগ্যেস করে মৈনাক।
'ধুস, ওসব আমি কবেই ভুলে গেছি।'
'ভুলে গেলেই ভালো।' মৈনাক মাথা নেড়ে বলে, 'পৃথা ইজ আ গুড গার্ল আন্ড সি লাভস ইউ উইথ হার হার্ট কনটেন্ট...'
'হুঁ।'
'আমি জোক করছি না জয়ন্ত...'
'জানি...'
'সি ইজ মাচ কেয়ারিং, তোর প্রতিটি হর্ষ বেদনাও খেয়াল রাখে। বিদিশা আমাকে বলেছে।'
'হুঁ।' আবার বলি আমি। আমার কান মৈনাকের দিকে ছিল না। বিদিশা তখন হাসতে হাসতে বলছিল, 'যাই বলিস সুচরিতা, মন্দারদা কিন্তু দারুণ রোম্যান্টিক। তোর মতন দিদিমণি গোছের সিরিয়াস লোকের পক্ষে মন্দারদার কদর বোঝা বেশ মুশকিল।'
'আমি তো বুঝি না বাপু', সুচরিতা ঘাড় হেলিয়ে বলে, 'তোরা কী দেখে যে ওকে এই ক'মিনিটে বুঝে ফেললি কে জানে!'
'ও মা সে কী!' বিদিশা চোখ বড় বড় করে বলে, 'মন্দারদার সঙ্গে তো আমার ফেসবুকে প্রচুর আড্ডা হয়। মন্দারদা কিছু বলেনি তোকে?'
মন্দার সামনের সিট থেকে একটু অপ্রস্তুত গলায় বলে ওঠে, 'বলেছি মনে হচ্ছে তো। কী গো বলিনি?'
সুচরিতা দাঁত দিয়ে নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে, 'মনে পড়ছে না...'
'মন্দারদা এত ভয় পান সুচরিতাদিকে?' পৃথা হেসে ওঠে, 'সব কিছুই আপনি সুচিদিকে জানিয়ে করেন বুঝি? আমি এ সব ব্যাপারে অবশ্য খুব লাকি। জয়ন্ত এইসব ট্রিভিয়াল ব্যাপারে একটুও মাথা ঘামায় না কোনওদিন, আমিও না। আমাদের বন্ডিংটা এমনই...'
'তোমরা তো রাজজোটক বাবু, ম্যাড ফর ইচ আদার!' বলেই পৃথার গালে চকাস করে একটা চুমু খেয়ে দেয় বিদিশা।
সুচরিতা চুপ করে গেল। মন্দারও। আমার অস্বস্তি হচ্ছিল। বিদিশাটা একটা যা তা। এসব কথা এইভাবে বলার মানে হয় কোনও!'
আজ খুব জ্যোৎস্না উঠেছিল। পুরো পাহাড়ি উপত্যকা সেই জ্যোৎস্নায় চুপচাপ ভিজছিল। কাল আমরা ফিরে যাব। সকালে। এখানে ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়ে। রাতের ট্রেন। সুচরিতা এবং মন্দার দুজনেই খুব রাগ করছিল। এন জে পি থেকে আসবার পথেই গাড়িতে বার বার বলছিল মন্দার, 'এ কিন্তু খুব অন্যায়। এত দিন পরে বন্ধুরা এক জায়গায় হচ্ছেন, একবার বন্ধুর বাড়িটা ঘুরে যাবেন না! দেখে যাবেন না কার হাতে কোথায় রেখে যাচ্ছেন বন্ধুকে!'
'সে বিষয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা নেই মন্দারদা।' পৃথা বলেছিল, 'সুচিদি তো সবসময়েই আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যখনই চ্যাট করি বলে তোমার মন্দারদার মতন অনেস্ট এবং কেয়ারিং হাসব্যান্ড নাকি যে-কোনও মেয়ের কাছেই স্বপ্ন।'
'তাই নাকি?' বলে হা-হা করে হেসে ওঠে মন্দার, 'সত্যিই বলে? বিশ্বাস হচ্ছে না।'
'সত্যিই বলে মশাই।' বিদিশাও পৃথার সঙ্গে যোগ দেয়, 'তবে আমার কিন্তু আপনাকে দেখে অত ভালোমানুষ গোছের মনে হয় না।'
'কেন?' মন্দার মুখে হাসিটা ধরে রেখে বলে।
'উঁহু তা বলা যাবে না।' বলে খিলখিল করে হেসে ওঠে বিদিশা।
'মন্দারদা ছুপা রুস্তম বলো বিদিশাদি?' পৃথাও হেসে গড়িয়ে পড়ে।
সেই সম্মিলিত হাসির সামনে মন্দারকে খানিক অপ্রস্তুত লাগে। প্রসঙ্গ পাল্টাতে আবার সে বলে, 'সুচরিতা, বন্ধুদের বলো ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করে ফেরার পথে আমাদের বাড়িতে দু-চার দিন থেকে যেতে।'
'না, না এবারে থাক।' মৈনাক বলে, 'সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে পরে আবার কখনও আসা যাবে'খন।'
'ঠিকঠাক না থাকার কী আছে?' মন্দার বলে অপ্রতিভ স্বরে।
'আরে ইয়ার ওটা তো কথার কথা।' মৈনাক হালকা গলায় বলে।
আমার বারবার কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল মনের মধ্যে। কেবলই মনে হচ্ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে কিছু একটা ঘটে যাচ্ছিল নিঃশব্দে। আমি যেন সে ঘটনা বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
জানলার পরদা সরানো। কাচের জানলার ওপারে পাহাড়ের মাথায় বুদ্ধ পার্কের বিরাট উঁচু বুদ্ধমূর্তি চোখে পড়ছে। তিনিও নিঃশব্দে ধ্যানগম্ভীর পৃথিবীর সঙ্গেই চাঁদের আলো মাখছেন।
পৃথা ওর মোবাইলে খুটখাট করছে বালিশে হেলান দিয়ে বসে। উজান ঘুমিয়ে পড়েছে অনেকক্ষণ। আমি উঠে বসলাম বিছানার ওপরে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। পৃথা আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস করল, 'শরীর খারাপ লাগছে?'
'না তো।' বলি আমি।
'ও সব খাওয়ার তো অভ্যাস নেই তোমার। আমার ভয় লাগছিল।'
'আমি তো অল্পই খেয়েছি। একেবারেই খেতাম না। নেহাত মৈনাকটা জোরাজুরি করল...কিন্তু মন্দারকে নিয়ে ও বড্ড বাড়াবাড়ি করল আজ।'
'হুঁ।'
'মন্দারকে অতটা হুইস্কি খাইয়ে দেওয়াটা ওর ঠিক হয়নি। বেচারা। নেশাগ্রস্ত হয়ে না পড়লে অমন বিচ্ছিরি কাণ্ডটা কিছুতেই ঘটাতো না ও...'
'মন্দারদা কি কচি ছেলে?' পৃথার চোখে আগুন জ্বলে উঠল, 'মনে পাপ না থাকলে মদ্যপ অবস্থাতেও অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে কেউ টানাটানি করতে পারে না।'
আমার চোখের সামনে সেই অস্বস্তিকর দৃশ্যটা ভেসে উঠল আবার। মন্দার প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে বিদিশার কাছে গিয়ে দুহাতে জড়িয়ে ধরে তার বুকের কাছে মুখ ঘষছে আর বলছে, 'সুচরিতা ইজ টু কোল্ড...সুচরিতা আমার মধ্যে আর উত্তেজনা জাগাতে পারে না ডার্লিং...ইউ আর নট লাইক হার। ইউ টু পৃথা...বোথ অফ ইউ আর ভেরি স্পোর্টিং...।' তারপরেই মৈনাকের দিকে ফিরে স্খলিত গলায় বলে উঠল মন্দার, 'লেট আস এক্সচেঞ্জ আওয়ার ওয়াইফ অনলি ফর আ নাইট ডিয়ার...টেক ইট অ্যাজ আ গেম প্লিজ...'
সুচরিতা চিৎকার করে উঠে দাঁড়িয়ে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিল মন্দারের গালে। হিড়হিড় করে তাকে টেনে নিয়ে চলল নিজের ঘরে। সুচরিতার ফর্সা মুখটা টকটকে লাল হয়ে উঠেছিল। মন্দার তীব্র চিৎকার করে যাচ্ছিল সুচরিতার ওপরে।
আমি ধীরে ধীরে বললাম, 'আজ যা ঘটল তাতে বিদিশার প্রত্যক্ষ প্রোভোকেশন ছিল। এমনকী তোমারও পৃথা। তোমরা দুজনে ক্রমাগত নানাভাবে উত্যক্ত করেছ মন্দারকে...।
'সেদিন তুমি যে সুচরিতাদিকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে অপমানিত হয়েছিলে সে ঘটনায় সুচরিতাদির প্রশ্রয় ছিল না? এতদিন ধরে একটা রিলেশন ক্যারি করে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনও প্রোভোকেশন ছিল না?' পৃথা সাপের মতন হিসহিস করে উঠল রাগে।
আমি বিস্মিত হয়ে পৃথার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম, 'আজ যা ঘটল তার সবটাই তোমাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী? তুমি আর বিদিশা...'
মৈনাকদাও। সেদিন তোমাকে কী বলেছিল সুচরিতাদি মনে আছে নিশ্চয়ই? ও বলেনি, ও বিদিশা নয়? বিদিশাদি খারাপ মেয়ে? মৈনাকদা সে অপমান হজম করবে কেন?'
'তাই বলে তুমিও এমন একটা পরিকল্পিত অপমানে...'
'দুম করে চুপিচুপি বিয়ে ঠিক করে ফেলে তোমার সামনে সতী সেজে তোমাকে অপমান করার পিছনে সুচরিতাদির পূর্বপরিকল্পনা ছিল না সেদিন? তোমার মতন সরল মানুষকে সে অপমান করেছিল ইচ্ছে করে। আমি ছেড়ে দেব কেন?'
আমার হালকা হালকা মাথা ঘুরছিল। তবু আমি ধীর পায়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়ালাম। বুদ্ধ একা বসে আছেন আকাশের নীচে। উঁচু বেদীর ওপরে। ধ্যানমগ্ন। এ পৃথিবীতে কত ছোট-বড় গোপন হিংসার স্রোত বয়ে চলেছে, তিনি এখন হয়ত তার খেয়ালও রাখেন না।
আমার কান্না পাচ্ছিল। মন্দার সুচরিতার ঘর বন্ধ। আমি জানি সুচরিতা আজ রাতে ঘুমোবে না। ও এখনও কাঁদছে। কেঁদেই চলেছে। মেয়েটা ওইরকমই।
হঠাৎ আমার কাঁধে একটা আলতো স্পর্শ অনুভব করলাম। পিছন ফিরে দেখলাম পৃথা। ওর ওপরে জমে থাকা রাগটা প্রকাশ করতে গিয়েও থমকে গেলাম। পৃথার চোখে জল! পৃথা কাঁদছে? বিদিশাও কি কাঁদছে এখন? তার ঘরে?
মনে মনে বললাম, 'বিদিশা, মৈনাক, সুচরিতা, পৃথা সকলেই আজ কাঁদুক কিছুক্ষণ। একমাত্র কান্নাই মনের সব জমে থাকা অপরাধ, সব পাপ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিতে পারে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।