রিয়া ভট্টাচার্য

|| শেষ থেকে যার শুরু ||
I wanna feel your touch
It’s burning me like an ember
Pretending is not enough
I wanna feel us together
So I’m given in
To the trouble I’m in
You are you are, my favorite medicine...
(Trouble I’m in ~ Twinbed)
“পিতা!”
অন্ধকারের দুর্গের প্রতিটি সত্ত্বা কেঁপে ওঠে অশনায়ার আর্তনাদে, হলঘরের প্রান্ত থেকে মুখ ফিরিয়ে তাকান অন্ধকারের প্রভু। এই প্রথম, তাঁর প্রাণহীন শীতল দৃষ্টিতে উদ্বিগ্নতা ধরা পড়ে। ধীর পদক্ষেপে অশনায়ার দিকে এগিয়ে যান তিনি৷
তাঁর পায়ের কাছে পিয়ালির নিথর শরীরটা নামিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় অশনায়া। তার মুখের দিকে তাকিয়ে সব বুঝতে পারেন অন্ধকারের প্রভু, দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসে পিয়ালির দেহ পরখ করেন তিনি৷ প্রাণের স্পন্দন বিন্দুমাত্র খুঁজে পাওয়া যায় না।
“এই মানবী মৃত।”
হতাশায় মাথা নেড়ে বলেন অন্ধকারের প্রভু।
“আমার পিয়ালকে বাঁচিয়ে তুলুন পিতা। আমি কখনও আপনার কাছে কিচ্ছু চাইনি৷ এই প্রথম চাইছি। পিয়াল আমার সঙ্গিনী, আমার ভালোবাসা। তাকে ছাড়া আমার অস্তিত্ব নেই পিতা, কিচ্ছু নেই!”
দৃঢ়স্বরে বলে অশনায়া।
“আছে, এই মেয়ের হৃদয় যদি...”
কথা শেষ করতে পারেন না অন্ধকারের প্রভু, অশনায়ার প্রকোপে ধ্বসে পড়ে দুর্গের অর্ধেক সিলিং, তীব্র আতঙ্কে আর্তনাদ করে ওঠে অন্যান্য অন্ধকারের জীবরা।
“আমার পিয়াল বিশ্বাসঘাতক নয় যে তার হৃদয় ভক্ষণ করে জীবনে ফিরতে হবে আমাকে৷ আমার সত্য জেনেই সে আপন করেছে আমায়। কিছুতেই তাকে যেতে দিতে পারি না আমি৷ আমায় সাহায্য করুন পিতা৷ নয়তো নিজের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারের অস্তিত্বও মুছে দেব আমি৷ আপনি জানেন, আমার দ্বারা এটা সম্ভব!”
অদ্ভুত শীতল স্বরে কথাগুলি বলে অশনায়া। এই প্রথম, তাকে চিনতে পারেন না অন্ধকারের প্রভু। তাঁর ভয় হয়৷ কারণ, ব্রহ্মাণ্ড নামক দাবাখেলায় আজও রানি রাজার থেকে অধিক শক্তিশালী। তার ওপরেই নির্ভর করে খেলার ভবিষ্যৎ।
“তুমি জানো এই মানবীকে যদি জীবনে ফিরিয়ে আনতে হয় তবে তাকে অন্ধকারের জীবে পরিণত করতে হবে তোমায়। কিন্তু একজন মানবী কি আমাদের মতো অভিশপ্ত সত্ত্বায় পরিণত হতে চাইবে! কখনও কি সে ক্ষমা করবে তোমায়! প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ করছ তুমি, এর ফল কিন্তু পেতে হবে তোমাকে!”
চিন্তিত স্বরে অশনায়াকে সতর্ক করেন অন্ধকারের প্রভু।
“আমি পরিণতির কথা ভাবি না পিতা। আমার পিয়ালকে ফিরিয়ে নিতে চাই আমি৷”
কথা কয়টি বলে হাঁটু ভাঁজ করে পিয়ালির দেহের সামনে বসে পড়ে অশনায়া। তার শরীর থেকে গুঁড়ো গুঁড়ো অন্ধকার নির্গত হয়ে মিশে যায় পিয়ালির শরীরে। তার শরীর ফ্যাকাশে থেকে ফ্যাকাশেতর হয়, ধীরে ধীরে চোখ খোলে সে।
“আমি জানতাম আবার বাঁচিয়ে নেবে তুমি আমাকে।”
থেমে থেমে কথাগুলি বলে পিয়ালি।
“তোমায় ছাড়া আমার অস্তিত্ব নেই পিয়াল, এটাই অন্ধকারের জীবদের দস্তুর। তুমি কি মেনে নেবে আমায়! এটা জানার পরেও যে তোমায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য আমার অন্ধকার সত্ত্বার খানিকটা তোমার অন্দরে চালনা করেছি আমি!”
মাথা নিচু করে কথাগুলি বলে অশনায়া। তার গলা বুজে আসে।
“তোমার সঙ্গে থাকার জন্য আমি সব করতে রাজি, আগেই বলেছি না!”
অশনায়ার গালে হাত দিয়ে তার দৃষ্টি নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে পিয়ালি৷ ওই দুই গভীর নীল চোখ তাকে শান্তি দেয়, নিরাপত্তা দেয়, তাদের না দেখে থাকতে পারে না সে।
মাথা নিচু করে তার কপালে চুম্বন করে অশনায়া। দু’জনের চোখ ভরে আসে আনন্দাশ্রুতে।
মাথা নেড়ে হাড়ের সিংহাসনে উপবেশন করেন অন্ধকারের প্রভু। ভবিষ্যৎ কী ভয়ংকর তথ্য বয়ে আনবে জানা নেই তাঁর, তবে বর্তমানে অন্ধকারের রানির ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে রইবে গোটা দুর্গ৷ এক অন্ধকারের জীব ও এক মানবীর প্রেম মুছে দিতে পারে জীবন মৃত্যুর সীমারেখা। ঠিক যেমন, অন্ধকার আর আলোর বিভেদ মুছে দিতে পারে ভোর ও সন্ধ্যা। এক সুন্দর প্রেমের গল্পের মতো।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন