।।পর্ব ১।।

ঐন্দ্রিলা মুখার্জি

রুচিরা 'জার্নাল অফ্ আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স'-এর জন্য একটা প্রচ্ছদ লিখছে। শিরোনাম দিয়েছে 'মিউজিক্যাল পিলার্স অফ্ বিজয় বিট্ঠল : এ্যান এ্যস্টাউন্ডিঙ ডিসকভারি বাই দ্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ্ ইন্ডিয়া'। প্রচ্ছদের মূল উদ্দেশ্য এই তথ্যটি পৃথিবীর সম্মুখে তুলে ধরা যে, ১৪০০ খৃষ্টাব্দে কর্নাটকের হাম্পি শহরে অবস্থিত বিজয় বিট্ঠল মন্দিরের সুরস্তম্ভগুলি তৈরি হয়েছিল নানা ধাতুর মিশ্রণে। রুচিরা ও তার দলের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার তো বটেই, উপরন্তু ভারতবর্ষের কাছে এটা কম গর্বের নয় যে, সেই যুগে ভারতীয়রা 'আ্যলয়' অর্থাৎ মিশ্রধাতু দিয়ে এমন এক অভিনব স্থাপত্যশৈলী রচনা করেছিল।

রুচিরা লেখা থামিয়ে একমনে চিন্তা করতে লাগল। পেশায় সে প্রত্নতত্ববিদ। তাই সময়ের আগ্রাসী প্রবৃত্তির কাছে পরাভূত না হয়ে ইতিহাসের যে টুকরোগুলো এখনও অক্ষয় রয়েছে, তাদের নিয়ে চর্চা করাই তার সাধনা...

তুঙ্গাভদ্রার তীরে অবস্থিত হাম্পি ছিল বিজয়নগরের রাজধানী। বিজয় বিট্ঠলের একটি বৈশিষ্ট্য আছে, যার জন্য সে বহু আগেই ইউনেস্কোর ওয়ার্লড হেরিটেজ সাইটগুলির মধ্যে তার জায়গা করে নিয়েছে।

মন্দিরের মহা মণ্ডপে রয়েছে ৬৪টি স্তম্ভ। ৮টি স্তম্ভ মোটা। এদের এক-একটিকে ঘিরে রয়েছে ৭টি করে সরু স্তম্ভ। প্রত্যেকটি স্তম্ভে মৃদু টোকা মারলেই সৃষ্টি হয় নানাবিধ শব্দ। কোনোটি ঘণ্টা ধ্বনি, আবার কোনোটি বাঁশির আওয়াজ। এই শব্দগুলি একত্রিত হয়ে সৃষ্টি করে নানাবিধ সুর, আর সেই সুরের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় সঙ্গীত। সে সঙ্গীত পার্থিব হয়েও পেরিয়ে যায় মর্তের সীমা। তার স্থান যে দেবলোকেরও ওপারে, অবিনশ্বর আত্মার দেশে― ব্রহ্মলোকে।

সব ধর্মেই সঙ্গীত প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমের স্থান পেয়েছে। আসলে সমস্ত বস্তুর'ই নিজস্ব ধ্বনি আছে। মানুষের শ্রবণশক্তি সবার ধ্বনি শুনতে সক্ষম নয় কেবল...

রুচিরার তো মনে হয়, নিস্তব্ধতারও একটি বিশেষ ধ্বনি আছে, তাল-লয়-ছন্দ আছে। তাই তো সে চিন্তা করতে করতে কোথাও বাধা পেলে চুপ করে নিস্তব্ধতার ভাষা শোনে, তার মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করে।

রুচিরার ধ্যানভঙ্গ ঘটিয়ে তার মুঠোফোনটা বেজে উঠলো। রুচিরা কলটা রিসিভ করলো, “হ্যালো...”

“হ্যালো ডঃ রুচিরা সেনগুপ্ত, ইউ হ্যাভ আ নিউ প্রজেক্ট...” এইটুকু সৌজন্য করেই ওপারের ভদ্রলোকটি বাংলায় বললেন, “গেস্ কর তো কোথায়!”

“কুকনুরের মহামায়া মন্দিরে?”

“কারেক্ট। চলে আয়, তবে কাল। আলোচনা করতে হবে। আচ্ছা, কী করে গেস্ করলি?”

“এবারের বার্ষিক জার্নালের জন্য আপনার লেখা 'কুকনুর্স মিস্টিরিয়াস মহামায়া টেম্পল' প্রচ্ছদটা পড়েছিলাম। তাই মনে হলো, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে রহস্য, সেখানেই হতে চলেছে আমাদের পরবর্তী অভিযান!”

এ. এস. আই-এর অধিকর্তা ডঃ সুধীরকুমার বসু হা হা করে হেসে বললেন, “প্রাউড অফ্ ইউ মাই চাইল্ড। আজকাল বড্ড প্রেডিক্টেবল হয়ে যাচ্ছি। বয়স হচ্ছে তো!”

পরের দিন সকালে রুচিরা অফিসে পৌঁছালে তাকে জানানো হলো যে, সুধীরবাবু শারীরিক অসুস্থতার কারণে অফিসে আসতে পারেননি। রুচিরাকে উনি কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ই-মেল পাঠাবেন, যাতে অভিযানের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম যতটা সম্ভব বিস্তৃতভাবে দেওয়া থাকবে।

যথাসময়ে মেইল এলো, এবং সেই সঙ্গে সুধীরবাবুর ফোন কল।

“ডিটেলস পাঠিয়ে দিয়েছি। টিম ব্রীফিঙ্ তুই করে দে। ফীল ফ্রী টু কন্সাল্ট ইন কেস অফ্ এনি প্রবলেম। অল দ্য বেস্ট!”

ফোনে সুধীরবাবুর গলাটা ধরা লাগলো। ক্লান্তও লাগলো বেশ। রুচিরা আন্দাজ করলো, ওনার ঠান্ডা লেগেছে। সুধীরবাবু কেবল যে রুচিরার পিতৃসম সিনিয়র তা নয়, তিনি রুচিরার মেন্টরও। এই গুরু-শিষ্যা জুটি বেশ কয়েকটি কঠিন ঐতিহাসিক রহস্যের সমাধান করেছে। সবাই বলে, রুচিরা সুধীরবাবুর ডানহাত। স্বভাবতই রুচিরা ভাবলো, তার একবার অন্ততঃ সুধীরবাবুর সঙ্গে দেখা করা উচিত।

রুচিরা দলের সদস্যদের কন্ফারেন্স হলে ডেকে ব্রীফিঙ্ আরম্ভ করলো।

রুচিরা তার সুতীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বরের সুস্পষ্ট উচ্চারণে বলে উঠল, “যেই স্থান নিয়ে আমরা গবেষণা করতে চলেছি, তার সম্বন্ধে আমরা প্রায় কিছুই জানি না। এই অভিযানটি পরিচালনা করছেন ডঃ সুধীরকুমার বসু। তাঁর অভিজ্ঞ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে এই স্থানের প্রতি, কারণ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ধরা পড়বে চালুক্য রাজাদের জীবনদর্শন এবং এক পৌরাণিক কাহিনীর প্রাসঙ্গিকতা। তাই আমাদের অভিযানের উদ্দেশ্য― কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা... যে স্থানের কথা আমি বলছি, তা আপনারা কেউ আন্দাজ করতে পারেন!”

সবাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল।

রুচিরা বললো “বেশ, তবে দেখা যাক...”

এই বলে রুচিরা কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ রাখলো। আর উপস্থিত সবাই দেখলো, হলঘরের বিরাট স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে এক সাদামাটা মন্দিরের ছবি। যারা ছবি দেখে স্থানটি শনাক্ত করতে পারলো, তারা অবিলম্বে বুঝতে পারলো, রুচিরার বলা কথাগুলো কতটা প্রাসঙ্গিক।

“এটা কুকনুরের মহামায়া মন্দির। কর্নাটক রাজ্যের কোপ্পাল জেলায় অবস্থিত কুকনুর গ্রাম, যার মাঝামাঝি অবস্থিত এই রহস্যময়ী মন্দির। এই মন্দিরটির কথা আমরা কোন পৌরাণিক গ্রন্থে পড়েছি!”

প্রশ্নটি ইন্টার্নদের উদ্দেশ্যে করা।

৩ জন ইন্টার্নদের মধ্যে থেকে সৌরসেনী উত্তর দিলো, “মহাভারত!”

“গুড। নাও প্লিজ ইল্যাবোরেট।”

সৌরসেনী বললো “মহাভারতের অশ্বমেধিকা পর্বে যুধিষ্ঠিরের অশ্বমেধের ঘোড়া পৌঁছায় দক্ষিণ ভারতের কুন্তল রাজ্যে। সেখানকার রাজা চন্দ্রহাস বিনা যুদ্ধে যুধিষ্ঠিরের আধিপত্য স্বীকার করেন। এই চন্দ্রহাসের জীবনকাহিনীতে আমরা দেখতে পাই যে, কুন্তল রাজ্যের প্রাক্তন মহামন্ত্রী, দুষ্টবুদ্ধি যৌবনকালে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন এই মন্দিরে।

তবে এই ঘটনার বেশি সুন্দর বিবরণ রয়েছে যামিনী ভারতে। ১৬ বা ১৭ শতাব্দীর বিখ্যাত কন্নড় কবি লক্ষ্মীসা-র লেখা...”

রুচিরা বললো, “বেশ! এবার অন্য কেউ বলো এই মন্দিরের ইতিহাস সম্বন্ধে কী জানো?”

নৈঋত বললো, “সম্ভবতঃ এই মন্দির স্থাপিত  হয়েছিল ৮ম শতাব্দীতে। আর ৮ম শতাব্দীর কর্নাটক যখন, তার মানে বাদামী চালুক্যদের স্থাপত্য।”

“বাদামী চালুক্যদের পর কোন রাজবংশের উত্থান হয়েছিল? তুমি বলো বসুমিত্র!”

বসুমিত্র অপেক্ষাকৃত চুপচাপ ও লাজুক। অনেক ছোটোবেলা থেকে আধ্যাত্মিকতা নিয়ে চর্চা করে। তার আধ্যাত্মিকতা'ই তাকে প্রত্নতত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল।

বসুমিত্র বসে বসে নোট নিচ্ছিল। মুখ তুলে চশমাটা ঠিক করে বললো, “রাষ্ট্রকূট...”

রুচিরা বললো “ঠিক। তাদের উত্থান কবে ঘটেছিল?”

“৮ম শতাব্দীতে।”

“তাহলে নৈঋত আমরা কি বলতে পারি যে এই মন্দির রাষ্ট্রকূটরাও স্থাপন করে থাকতে পারে?”

নৈঋত মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।

“২৫ বছর আগে মন্দিরে খননকার্যের বিরুদ্ধে বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেছিল। কেন জানো?” এবার প্রশ্ন তিনজনেরই উদ্দেশ্যে...

বসুমিত্র বললো, “শুনেছি মহামায়া মন্দিরের নিচে একটা কালী মন্দির আছে। সম্ভবতঃ এই কালী মন্দিরের কথাই মহাভারতে আছে। সেখানে তন্ত্রসাধনা হতো, নরবলি হতো। ওখানকার মানুষ বিশ্বাস করে যে, মন্দিরের দিগ্বন্ধন করে সেখানে দুরাত্মাদের আটকে রাখা হয়েছে...”

রুচিরা প্রসন্ন হয়ে বললো, “গুড। তোমরা বেশ সচেতন। কীপ আপ দ্য গুড ওয়ার্ক।”

এবার রুচিরা পরের স্লাইডে গেলো। তারপর বললো, এবার যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের খুঁজতে হবে:-

এক, মহামায়া মন্দিরের গর্ভগৃহে তিনটি মূর্তি। একদিকে দেবী লক্ষ্মী, অন্যদিকে দেবী মহামায়া এবং মাঝে হরিহর। হরি মানে বিষ্ণু আর হর মানে শিব। মানে মাঝের মূর্তিটি বিষ্ণু ও শিবের মিলিত রূপ। এর উদ্দেশ্য কী?

দুই, সাধারণত দেবমূর্তি উত্তরমুখী হয়, কিন্তু এখানে তিনটি মূর্তিই দক্ষিণমুখী। কেন?

তিন, মহামায়া মন্দিরের নিচে কি সত্যিই কালী মন্দির আছে?

চার, যদি থেকে থাকে তবে তা মাটির নিচে গেলো কী করে?

আর পঞ্চম, মন্দির ঘিরে যে পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে, তার তাৎপর্য কী!

একটু থেমে দম নিয়ে রুচিরা আবার শুরু করলো।

“রাজা চন্দ্রহাস জন্মেছিলেন মূলা নক্ষত্রের প্রভাবকালে। তাঁর বাঁ’পায়ে ছিল ছ'টি আঙুল। দু'টোই অশুভ সঙ্কেত এবং তাদের প্রভাবে তিনি অভাগী হয়েওছিলেন। কেরলের রাজপরিবারে তাঁর জন্ম হয়, কিন্তু বহিঃশত্রুর আক্রমণে বালক চন্দ্রহাস পিতৃমাতৃহীন ও রাজ্যহারা হন। এক দাসী তাঁকে রক্ষা করে কুন্তল রাজ্যে তাঁকে নিয়ে বসবাস করতে লাগলেন।

বালক চন্দ্রহাস একদিন একটি শীলা পান, যাকে একজন পুরোহিত নৃসিংহনারায়ণ শালগ্রাম শীলা বলে চিহ্নিত করেন। তিনি সেই শীলাটিকে তাঁর ইষ্টদেবতা বানিয়ে উপাসনা করতে লাগলেন।

একদিন সেই দাসী মারা গেলে একাকী বালক কুন্তলরাজের কাঙালি ভোজনে গিয়ে রাজপুরোহিতদের চোখে পড়ে যান। তাঁর মধ্যে রাজকীয় গুণ দেখে রাজপুরোহিতরা মহামন্ত্রী দুষ্টবুদ্ধিকে খবরটা দেয়। কুন্তলরাজের কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তাই তাদের মনে হয়েছিল, সেই বালক পরবর্তী রাজা হওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু দুষ্টবুদ্ধি চেয়েছিলেন, তাঁর পুত্র মদনকে রাজা করতে। তাই তিনি চণ্ডালদের দিয়ে চন্দ্রহাসকে হত্যা করানোর পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা মতো চণ্ডালরা তাঁকে অপহরণ করে বনে নিয়ে যায়। সেখানে চন্দ্রহাস তাঁর শেষ ইচ্ছাস্বরূপ নৃসিংহনারায়ণ শালগ্রামটির পূজা করেন। দেবতার দয়ায় চণ্ডালদের মন গলে যায় ও তারা তাঁকে ছেড়ে দেয়। তাঁর বাঁ পায়ের ষষ্ঠ অঙ্গুলিটি কেটে তারা তাঁকে হত্যার মিথ্যে প্রমাণ স্বরূপ দুষ্টবুদ্ধিকে দেখায়। চন্দ্রহাসকে এরপর বন্য আদিবাসীদের রাজা নিজের পুত্র রূপে বড়ো করেন।

বহুকাল পর একদিন দুষ্টবুদ্ধি আদিবাসী রাজার রাজ্যে গেলে চন্দ্রহাসকে দেখে চিনতে পারেন। তিনি পুনরায় ষড়যন্ত্র করেন তাঁকে হত্যা করার। আর এই পন্থা ছিল অত্যন্ত অভিনব। তিনি একটি চিঠি লেখেন যাতে তিনি তাঁর পুত্র মদনকে বলেন, “অবিলম্বে চন্দ্রহাসকে বিষ দিতে”...

আর সেই চিঠি তিনি মদনকে পাঠান স্বয়ং চন্দ্রহাসের হাত দিয়ে!

চন্দ্রহাস সেই চিঠি নিয়ে দুষ্টবুদ্ধির প্রাসাদের বাগানে পৌঁছে নিদ্রিত হন। তখন দুষ্টবুদ্ধির কন্যা বিষয়ী তাঁকে দেখতে পান। এবং পৌরাণিক কাহিনীর সবথেকে অভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। মানে বিষয়ীর চন্দ্রহাসকে পছন্দ হয়ে যায়! যুবক চন্দ্রহাসের পাশে পড়ে থাকা চিঠিটা তিনি পড়েন ও তাঁর মনে হয় যে পিতা ভুল করে 'বিষয়ী'-র জায়গায় 'বিষ' লিখে ফেলেছেন। তাই বিষয়ী পিতার ভুলটি শুধরে দেন।

মদন পিতার আদেশ পালন করেন। দুষ্টবুদ্ধি ফিরে এসে এই 'দুর্ঘটনা' দেখে চন্দ্রহাসকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আমাদের আজকের চর্চিত কালী মন্দির ওরফে মহামায়া মন্দিরে পাঠান। সেখানে অপেক্ষা করছিল দু'জন, যাদের দুষ্টবুদ্ধি নিযুক্ত করেছিলেন চন্দ্রহাসকে হত্যা করতে। কিন্তু যাওয়ার পথে মদন চন্দ্রহাসকে দেখতে পান।

কুন্তলরাজ তখন মৃত্যুশয্যায়। বিষয়ীর সঙ্গে বিবাহকালে চন্দ্রহাসকে দেখে তাঁর পছন্দ হয়েছিল। তাই তিনি তাঁকে রাজত্বসহ  রাজকন্যা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন মদনের কাছে। মদন রাজার আদেশ পালন করতে চন্দ্রহাসকে রাজভবনে পাঠান, ও নিজে মন্দিরে যান। দুর্বৃত্ত যুগল মদনকে চন্দ্রহাস ভেবে হত্যা করে! এই খবরটা জানতে পেরে দুষ্টবুদ্ধি আত্মহত্যা করেন সেই কালী মন্দিরেই।

বিবাহের পর দুষ্টবুদ্ধি ও মদনের শিরোশ্চ্ছেদের কথা জানতে পেরে চন্দ্রহাস নিজের শিরোশ্চ্ছেদ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করতে যান। কিন্তু স্বয়ং মহাকালী প্রকট হয়ে চন্দ্রহাসকে রক্ষা করেন ও চন্দ্রহাসের অনুরোধে দু'জনের প্রাণ ফিরিয়ে দেন...”

এত বড়ো বক্তৃতা দিয়ে রুচিরা একটা লম্বা শ্বাস নেয়। তারপর মৃদু হেসে বলে, “নেহাতই সাধারণ গল্প, কিন্তু প্রচুর ট্যুইস্ট আছে, ঠিক মহামায়া মন্দিরটার মতো...”

অধ্যায় ১ / ১১
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%