ক্লিওপেট্রার ক্লোনিং

সৈকত মুখোপাধ্যায়

হাওড়ার জগাছা-রোডে-র ধারে, কাশিরাম মাইতির ঝুপড়ি চায়ের দোকানটাকে সেখানকার নিত্য চা-সেবী-রা ভালোবেসে 'কাশিকাফে' বলে ডাকে। সন্ধের দিকে প্রায় দিন-ই সেখানে অভ্র, অরুণ আর সুদীপ নামে তিন আধাবেকার যুবক তাদের লিটল-ম্যাগাজিন শব্দবাণ প্রস্তুতির কাজে মশগুল থাকে। মাঝে-মাঝে তাদের আড্ডায় মানিকলাল গুপ্ত নামে এক বৃদ্ধেরও আবির্ভাব হয়। ভদ্রলোক মালগাড়ির গার্ডের চাকরি থেকে কয়েক বছর আগে অবসর নিয়েছেন, ভালো মাল টানেন, আর গল্প ফাঁদেন। অভ্র অরুণরা মানিকদার সেইসব আজগুবি গল্পের অশ্রীল অংশটুকু এডিট করে কখনও-কখনও শব্দবাণে ছাপিয়েও দেয়।

পৃথিবীর এমন কোনও বিষয় নেই যে ব্যাপারে মানিকলাল গুপ্ত কিছু জানেন না। অবশ্য তার সেই জ্ঞান সবসময় বিজ্ঞান মেনে চলে না। এই সেদিনই যেমন কাশিকাফের আড্ডায় অরুণ সুদীপরা কথা বলছিল জেনেটিক-ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। ব্রয়লার মুরগি-ই নাকি পুরোপুরি মুরগি নয়; ওতে এমু পাখির জিন ঢোকানো আছে। আমেরিকাতে না কি টমেটোর মধ্যে গোমাংসের জিন ঢুকিয়ে হাই-প্রাোটিন আমিষ টমেটো বানিয়ে ফেলেছে।

তার থেকে আবার আলোচনার মোড় ঘুরে গেল ক্লোনিং-এর দিকে। এক মানুষের কোষের জিন থেকে অবিকল তার মতন আরেকটা মানুষ বানানো যায় কি না।

মানিকদা খদ্দরের পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা পাঁইট বার করে, ঢুক করে একটু মেরে দিয়ে, ঠোঁট মুছে বলল, 'যাবে না কেন? তবে সমস্যা আছে। আমার সেজদা, মোহিতলাল, সেই চেষ্টা করতে গিয়েই মাফিয়াদের হাতে মরতে বসেছিল।'

—আপনার আবার সেজদা আছে জানতাম না তো।

—তোর যে রাঙামামা আছে তা কি আমি জানি? সুদীপের যে ফুলপিসে আছে তা কি অরুণ জানে। নিজেকে সর্বজ্ঞ ভাবিস নাকি রে অভ্র?

—ওরে বাবা, না, না। অপরাধ হয়ে গেছে। আপনি বলে যান মানিকদা। আপনার সেজদা কী ক্লোন করতে গিয়েছিলেন—ভেড়া? ওই ডলি-র মতন?

—জগাছার দত্ত-বাড়ির ছেলে ভেড়া-টেড়া নিয়ে কী কাজ করবে রে? ছ্যা-ছ্যা-ছ্যা। সেজদা ক্লোন করতে গিয়েছিল মিশরের রানী, সুন্দরীশ্রেষ্ঠা ক্লিওপেট্রাকে।

সেজদা তখন ওপিয়াম-ভ্যালি-ইউনিভার্সিটির জেনেটিক-ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চিফ-রিসার্চার। এক এক পিস ক্লোনড ক্লিওপেট্রার জন্যে গোপন অফার পেয়েছিল আড়াই বিলিয়ান ডলার। ক্লিওপেট্রার পুনর্জন্ম হলে তিনি যে কাশিরাম মাইতির ঘর আলো করতেন না তা নিশ্চয় বুঝতে পারছিস।

তবে টাকার টোপ যত বড়ই হোক, কাজটা দেখা গেল ততোধিক কঠিন। ক্লিওপেট্রা মারা গেছে দু হাজার বছর আগে। তার দেহকোষ এখন কোথায় পাওয়া যাবে বল তো।

সেজদা ঘাঁটি গেঁড়ে বসল আলেকজান্দ্রিয়ায়। ক্লিওপেট্রা আদতে ম্যাসিডোনিয়ার মেয়ে হলেও, তার জন্ম-মৃত্যু সব ওই শহরেই, জানিস তো।

পেশাদার কবরচোর-দের কাজে লাগিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ার সমস্ত পুরোনো কবরখানা এমন তোলপাড় করাল সেজদা, যে শহরে ভূতের উপদ্রব বেড়ে গেল। মিশরের সবক'টা যাদুঘরের তালা ভেঙে ভেঙে হাতে কড়া পড়ে গেল। তবু কোথাও ক্লিওপেট্রার একটা পায়ের নখ অবধি খুঁজে পেল না। হতাশ সেজদা স্পনসরদের কাছে এস.এম.এস পাঠাল—'প্রাোজেক্ট ক্লিওপেট্রা ক্যানসেলড।' স্পনসররা উত্তর পাঠাল...যাগগে, যা উত্তর পাঠাল সে আর তোদের শুনে কাজ নেই। পেকে যাবি।

আলেকজান্দ্রিয়ায় সেজদার চাকর ছিল পাশা বলে একটা স্থানীয় ছেলে। তুখোড় বুদ্ধি তার। বুঝে গিয়েছিল যে মনিব একটা কিছু খুঁজছে, কিন্তু পাচ্ছে না। তো, সেই পাশা-ই একদিন সেজদাকে নিয়ে গেল ফ্যারাওয়ের পুরোহিতদের বংশধর বারোহাজার আটশো সাঁইত্রিশতম আসিরিসের কাছে। ফ্যারাওদের আমলে পুরোহিতদের যে প্রতাপ আর সম্পদ ছিল তা এখন আর কিছুই নেই ঠিকই, কিন্তু পাশার কথা যদি বিশ্বাস করতে হয় তাহলে তাদের অলৌকিক ক্ষমতাটুকু পুরোমাত্রায় রয়ে গেছে। সম্মানজনক দক্ষিণা পেলে তারা নাকি এখনও যে কোনও মানুষের যে কোনও ইচ্ছা পূরণ করতে পারে।

সেজদা তো শেষ চেষ্টা হিসেবে গেল আসিরিসের বাড়ি। পাথরের ইঁটের তৈরি কম করে পাঁচশো বছরের পুরোনো একটা স্যাঁৎস্যাঁতে অন্ধকার একতলা বাড়ি। সামনের বারান্দায় বারমুডা আর টি-শার্ট পরা একটা বছর পঁচিশের ছেলে পোষা কেউটে সাপ আর প্যাঁচাকে ইঁদুর খাওয়াচ্ছিল। পোষ্যগুলিকে না দেখলে বিশ্বাস করা-ই কঠিন হত যে উনিই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বারোহাজার আটশো সাঁইত্রিশতম আসিরিস। যুগের প্রভাব যাবে কোথায়? অবশ্য এর পরে ফ্যারাওয়ের পুরোহিত যে ভেল্কি দেখাতে শুরু করল তাতেই সেজদার জীবনের মোড় ঘুরে গেল।

ভেতরের ঘরে পাশা আর সেজদা-কে বসিয়ে পুরোহিত জিগ্যেস করল, 'হ্যাঁ, তা কী চাই বলে ফেলুন।'

অনেকটা পথ হেঁটে এসে সেজদার জলতেষ্টা পেয়ে গেছিল। বলল, 'একটু জল খাওয়ান তো আগে।'

পুরোহিত খপ করে হাওয়ার ভেতর থেকে এক গেলাস জল এনে সেজদার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, 'এই নিন, একটা ইচ্ছা পূরণ হল। একশো স্বর্ণমুদ্রা দিন।'

সেজদার বুকের ভেতর কী যে হল তা তো বুঝতেই পারছিস। তবু আমারই দাদা-তো। চোখের একটা পাতাও ফেলল না। একশো মোহর আসিরিসের হাতে গুনে দিয়ে বলল, 'আরেকটা জিনিস চাই যে।'

—বলে ফেলুন।

—ক্লিওপেট্রার জিন।

—ক্লিওপেট্রার জিন? দাঁড়ান। হুঁ! বেশ! আচ্ছা, এই তো। কায়রোর উজবুক-ডিসটিলারি উনিশশো পঞ্চান্ন সালে 'ক্লিওপেট্রা' ব্র্যান্ড নেম দিয়ে জিনিসটা বাজারে ছেড়েছিল। একেবারেই ভালো চলেনি। ছারপোকা মারা ওষুধের মতন গন্ধ ছাড়ত। এ নিয়ে কী করবেন? একান্তই যদি খেতে হয় তাহলে ভালো করে লাইম মিশিয়ে নেবেন।—

এইসব বলতে বলতে পুরোহিতমশাই এক বোতল মদ সেজদা-র হাতে তুলে দিল। বলা বাহুল্য, সেই জিনের বোতলটাও শূন্য থেকেই এসেছিল।

সেজদা বিরসমুখে বোতলটা পাশার পকেটে গুঁজে দিয়ে পুরোহিতকে ডি.এন.এর 'ডবল-হেলিক্স' বোঝাবার চেষ্টা করল। 'আরে মশাই, জিন মানে ওই যে দুটো সিঁড়ির মতন প্যাঁচানো প্যাঁচানো...'

'বুঝেছি, বুঝেছি।' দুদিকে রেকাব সমেত একটা চমৎকার ঘোড়ার জিন হাওয়া থেকে ধরে সেজদার হাতে তুলে দিল আসিরিস। একগাল হেসে বলল, 'ক্লিওপেট্রা নামে ঘোড়াটা গতবছর ডার্বি রেসে ফার্স্ট হয়েছিল। এইটা তারই পিঠ থেকে খুলে আনলাম। এই জিনিসই চাইছিলেন তো?'

সেজদার মুখ দেখেই ছোকরা বুঝে নিল এবারও মিস হয়েছে। অত:পর সে গম্ভীর মুখে পাশার টুপির তলা থেকে একটা ব্লু-জিনস-এর লেডিজ-ট্রাউজার বার করে আনল। একেবারে রদ্দি মাল, আমাদের হাওড়া-হাটেরই জিনিস। পেছনের তাপ্পি-তে বাহার করে কোম্পানির নাম লেখা—'ক্লিওপেট্রা'। পুরোহিত প্যান্টটা একটা প্যাপিরাসে মুড়ে দিয়ে বলল, 'এই নিন ক্লিওপেট্রার জিনস। তবে ক্যুরিয়ারে আনিয়ে নিলে আপনার খরচা কম পড়ত।'

সেজদা ততক্ষণে বুঝে নিয়েছে আলেকজান্দ্রিয়ার স্কুলে বায়োলজি পড়ানো হয় না। কিন্তু সেইসঙ্গে এটাও বুঝে নিয়েছে যে এইখানে যদি ক্লিওপেট্রার জিন না পায় তাহলে তার চেয়ে বড় বেয়াকুবি-ও আর কিছু হবে না। তাই মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা চালাল, সেজদা,—

'আরে, আমি যে জিন-এর কথা বলছি তাকে চোখেই দেখা যায় না, অথচ তার ক্ষমতা অসীম...।'

সেজদার বক্তৃতা শুরুতেই থামিয়ে দিল পুরোহিত। বলল, 'এই কথাটা এতক্ষণ বলেননি কেন? খামোকা আমার প্যাঁচাকে নিয়ে মিডনাইট-ওয়াকে যাবার দেরি করে দিলেন। এই নিন অরিজিনাল ক্লিওপেট্রার জিন।' একটা ছোট টেস্ট-টিউব সেজদার হাতে তুলে দিল বারোহাজার আটশো সাঁইত্রিশতম আসিরিস। সেটার বাইরেটা ভিজে ভিজে। ভেতরটা ধোঁয়া-ধোঁয়া। দেখেই সেজদা বুঝে ফেলল, এর ভেতরেই আছে হিমায়িত দেহকোষ, সাত ফ্যারাওয়ের ধন এক মানিক। পুরোহিতকে আরও একশো স্বর্ণমুদ্রা গুণে দিয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরল সেজদা, পাশাকে ইচ্ছে করেই দুদিনের ছুটি দিয়ে দিল।

রাত তখন নিঝুম। পাশা-কে বিদায় দিয়ে, দরজা জানলা বন্ধ করে সেজদা টেস্ট-টিউবের ছিপি খুললেন। অমনি হুশ-হুশ করে প্রবল ধোঁয়া বেরোতে লাগল। ওইটুকু টেস্ট-টিউব থেকে যে অমন নন্দরাম মার্কেটের মতন ধোঁয়া বেরোতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তারপর সেজদার রসগোল্লার মতন বিস্ফারিত চোখের সামনেই সেই ধোঁয়া জমে একটা বিশাল দৈত্যের আকার ধরল। খালি গা, ঢোলা পায়জামা, কামানো মাথা, কানে দুল—ওই দৈত্যের চেহারা সেজদা ছোটবেলায় আরব্য রজনীর গল্পের বইয়ে অনেক দেখেছে। জেলে আর জিনের গল্প, আলাদীনের গল্প—সেসব ছবি আর গল্প তো ভোলবার নয়। এ হল আসল জিন। কিন্তু সেজদা অবাক হল এই ভেবে যে ফ্যারাওদের যে একটি করে ব্যক্তিগত জিন থাকত সেকথা তো কোনও ঐতিহাসিক লেখেননি।

এই জিন-টি দেখা গেল জেলে আর জিনের গল্পের জিন-টার মতন বদমেজাজি নয়। বেরিয়েই বলল না 'এই, কেন রে তুই আমার ঘুম ভাঙালি? আয় তোর গর্দান নিই।' বরং বেশ বিনীত ভাবেই হাতটাত কচলে সেজদাকে বলল 'ও আপনি বুঝি নতুন ফ্যারাও। তা গয়নাগাটি, মুকুটটুকুট পরেননি যে!'

সেজদা তাড়াতাড়ি জিনকে বাস্তব ঘটনা বুঝিয়ে বলল। জিন সব শুনেও বিশেষ বিচলিত হল না। বরং বলল, 'তা হোক, আপনি যখন আমাকে মুক্ত করেছেন তখন আপনিই আমার প্রভু। কী আদেশ হয় বলুন।'

সেজদা আসিরিসের বাড়ি গিয়ে ঠেকে শিখেছে। আর জিন, ডি এন এ, ডবল হেলিক্স, ক্রোমোজোম এসবের ধারই মাড়াল না। সরাসরি বলল, 'তোমার আগের মনিবানি, মানে ক্লিওপেট্রার চুল আর দাঁত এনে দিতে পারবে?'

ওই দুটি জিনিস অবিনশ্বর, জানিস তো?

জিন বলল, 'দাঁত এনে দিতে পারব। কিন্তু চুল-টা পারব না।'

—কেন?

—দু-হাজার বছর আগে মিশরে অভিজাত মহিলারা মাথা কামিয়ে রাখত, তা-ও জানেন না! ওটাই ছিল ফ্যাশান। চোখের পাতা একটা এনে দিলে হবে?

—খুব হবে, খুব হবে। এত ঘুরপথে লক্ষ্যভেদ করতে পেরে সেজদার তো তখন আত্মহারা অবস্থা।

—তারপর? তারপর? সুদীপ, অভ্র, অরুণ তো কোন ছার, কাশীরাম অবধি উনুনে বসানো দুধের কড়াইয়ের কথা ভুলে মানিকদার গা ঘেঁষে বসল। পাঁইট থেকে আরেক ঢোক মেরে দিয়ে মানিকদা বললেন, 'তারপর আর কী। একটা বেশ বড়সড় ঝলমলে দাঁত আর দীর্ঘ আঁখিপল্লব—যেমনটা কোনও সুন্দরীর চোখে সেজদা কখনও দেখেনি—এনে সেজদার হাতে দিয়ে জিন বলল, 'এবার আমাকে বিদায় দিন। প্রবীর ঘোষ আমার কথা জানতে পারলে খুবই আঘাত পাবেন।' এই বলে, জিন আবার ধোঁয়া-শরীর ধারণ করে টেস্ট-টিউবে ঢুকে গেল। সেজদা তাকে সমুদ্রে ফেলে দিয়ে এল।

—তারপর?

—তারপর সেই দাঁত আর চোখের পাতা থেকে ডি.এন.এ. সংগ্রহ করে দুটো আলাদা আলাদা কোষে, ক্লোনিং-এর ব্যবস্থা করল সেজদা! কোষ-বিভাজনের কাজটা সহকারীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সেজদা গেল হলিউডে, একজোড়া ক্লিওপেট্রার কস্টিউম কিনতে। যারা আসছে, ক্লোনড হলেও, তারা মেয়ে তো বটে। যাকে বলে 'রমনীরতন'। ল্যাবরেটারির পোষাকে তো তাদের জনসমক্ষে আনা যায় না।

মাসখানেক বাদে ওপিয়াম-ভ্যালিতে ফিরে সেজদা সহকারীকে জিগ্যেস করল, 'কী? ফুল ফর্মে এসে গেছে তো?'

—ইয়েস স্যার।

—যাও দুজনকে এই দুটো কস্টিউম পরিয়ে দাও। ক্লায়েন্টদের নিয়ে এসেছি। আজকেই ডেমনস্ট্রেশন দিয়ে দেব।

সেজদার দুপাশে দুটো চর্বির পাহাড়, ইতালিয়ান মাফিয়া অধৈর্য্য হয়ে নখ কাটছিল। একটু পরেই ল্যাবরেটরির দরজা খুলে গেল। সেজদা আভূমি 'বাও' করে সেদিকে হাত বাড়িয়ে বলল, 'নিন স্যার, আপনার ক্লিওপেট্রা।'

কিন্তু ল্যাবরেটরির দরজা দিয়ে ভেতরে উঁকি মেরেই গডফাদারদের চোয়ালদুটো তৎক্ষণাৎ ঝুলে গেল। তাদের ঘাড়ের মাঝখান দিয়ে মুখ বাড়িয়ে সেজদা দেখল...

—রমনীরতন? কাশীরামের আর তর সইছিল না।

—তোমার মুণ্ডু। দেখল কী একটা হরিণ আর একটা খরগোশ ক্লিওপেট্রার কস্টিউম পরে খেলা করছে।

—হো...হো...হরিণ!!!

—খ...খ...খরগোশ!!!

—তোদের ব্যাচেলরদের নিয়ে এই এক মুশকিল। মেয়েমানুষদের রূপ-কে সবসময় খাঁটি ভাবিস। আমার সেজদাও তখন ব্যাচেলার ছিল তো; তাই সে-ও ওরকম-ই ভাবত।

নাহলে একবার তো ভেবে দেখত, চার সন্তানের জননী, পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই ক্লিওপেট্রা কোন জাদুতে মার্ক অ্যান্টনিকে ভোলাল। নকল দাঁত, নকল চোখের পাতা এসব কি এ যুগের মেয়েদের একচেটিয়া? ক্লিওপেট্রা কি খরগোশের দাঁত, হরিণের চোখের পাতা ব্যবহার করতে পারে না?

এই কাশি, তোর দুধের কড়াই যে পুড়ে ঝামা হয়ে গেল রে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%