মরিস্কো জাতি
(১৪৯২-১৬১৩ খ্রীঃ)
সপ্তদশ অধ্যায়
অন্য ধর্মের প্রতি স্পেনের ক্যাথলিক সম্প্রদায় সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে নাই। সপ্তম এবং পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইহুদী এবং পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে মুসলমানগণ তাহাদের কোপানলে পতিত হয়। দেশের দক্ষিণাংশে মুসলিম সাম্রাজ্যের পতনের পূর্বে খ্রীস্টান শাসনাধীন ক্যাস্টিল, লিওন ও আরাগোনে বসবাসরত মুসলমানদিগকে মুদেজারেস (আঃ মুদাজ্জানিন) বলা হইত। ষষ্ঠদশ শতাব্দী হইতে ইহারা মরিস্কো নামে পরিচয় লাভ করে। ১৪৯২ খ্রীস্টাব্দে গ্রানাডা পতনের পর গ্রানাডার মুসলমানদিগকে সর্বপ্রথম মরিস্কো বলিয়া সম্বোধন করা হয়। তাহারা রোমান্স ও আরবী ভাষায় কথা বলিত। তাহারা রোমান্স ভাষাকে আরবী অক্ষরে লেখিত আলজামিয়াদো (আরবী : আল আজামিয়াহ) অর্থ বিদেশী ভাষা হইতে উদ্ভূত। এই ভাষা আলজামিয়াদো বলিয়া পরিচিত। মুদেজারগণ চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে মরেরিয়াসের বা আল জামাজ (মসজিদ) সেনাস রিয়ালেস নামে ট্যাক্স প্রদান করিতেন।
১৩১২ খ্রীস্টাব্দে দ্বিতীয় জাইমে তাহাদের প্রকাশ্যে নামাজ আদায় নিসিদ্ধ ঘোষণা করেন। চার্লস লী বলেন, “খ্রস্টানদের মত জীবনযাপন ও মূরদের ন্যায় কর দানে মুসলমানগণ পরবর্তীকালে বাধ্য হয়।”
মরিস্কোগণ কঠিন পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতার জন্য বিখ্যাত ছিল। হুরতাদো দে মোজা কৃষি কার্যে তাহাদের দক্ষতা সম্পর্কে প্রশংসা করিয়া বলেন যে, আল-পূজাররার অনুর্বর ও কৃষিকর্মের অযোগ্য ভূমিকে তাহারা কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা কৃষি উৎপাদন যোগ্য করিয়া তোলে। ভিক্ষা বৃত্তিতে অনভ্যস্ত মরিস্কো জাতি সর্বদা জীবিকা অর্জনে ব্যস্ত থাকিত। খ্রীস্টানগণ কর্তৃক ঘৃণিত কায়িক পরিশ্রম করিতেও তাহারা অপমান বোধ করিত না। তাহারা ছিল কঠোর পরিশ্রমী কৃষিজীবী। কায়িক পরিশ্রমের ব্যবসায়ও দক্ষ, যেমন পিতলের বাসন-কোসন প্রস্তুতকারক ও সাবান, দড়ি, স্যান্ডাল, জুতা এবং লেপ-তোষক প্রস্তুক কারক। তন্তুবায়, দর্জি, কুম্ভকার, মালী, জলপাইয়ের তৈল বিক্রেতা, খচ্চর পালক ও কর্মকার। শহরের জনসমাগম স্থলে তাহারা খাবার বিক্রয় করিত। বহু সংখ্যক লোক ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিল। তাহারা স্বেচ্ছায় কর প্রদান করিত। খাওয়া পড়ায় তাহারা খুবই সাদাসিধা ছিল। মরিস্কোগণ কঠোর পরিশ্রমের পর অবসর মুহুর্ত আনন্দ উৎসবের মধ্যে কাটাইত। তাহারা গল্প, বিদ্রুপাত্মক কবিতা, নাচ ও গানের প্রতি আসক্ত ছিল। তাহারা শানাই (tamorine), খঞ্জনি (Bagpipe) ও টিমব্রেলস (timbrels) বাজাইত। মরিস্কোদের
ন্যায়পরায়ণতা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করিয়া ১৬৩৮ খ্রীঃ ঐতিহাসিক বারমুদেজ দেলা পেদরাজা লেখেন : আচার ব্যবহার, ওয়াদা পালন ও গরীব দুঃখীদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্যে তাহারা খুবই উদারতা ও সততার পরিচয় দিয়াছে। তাহারা অলসতার প্রশ্রয় দিত না। তাহারা ছিল কঠোর পরিশ্রমী।৬ সততা এবং পরিশ্রমের দ্বারা যে সম্পদ উপার্জিত হইত তাহা দেশ ও কওমের ধর্মীয় সংহতির জন্য ব্যয় করিত। স্পেনের শাসকগণও এই পথে অর্থ ব্যয় পছন্দ করিতেন।
১৪৯২ খ্রীস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে গ্রানাডা সন্ধিশর্তে আত্মসমর্পণ করিবার পর প্রায় সাত বৎসরকাল ক্যাথলিক শাসক ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলার সহিত মুসলমানদের সুসম্পর্ক বজায় থাকে। কিন্তু ক্যাস্টিলীয় রাজা ফার্ডিনান্ড চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করিয়া তাহার মুসলিম প্রজাদিগকে জোরপূর্বক খ্রীস্টান ধর্মে দীক্ষিত করিতে শুরু করে। ফ্রান্সিসকো জিমেনেজ দে সিসনের ১৪৯৮ খ্রীস্টাব্দে গ্রানাডার মুসলিমদিগকে ধর্মান্তরিত করিবার জন্য মিশনারী পদে নিয়োজিত হন। গ্রানাডার প্রধান আর্চবিশপ হেরনাভো দে তালাভেরা মরিস্কোদের কতিপয় গুণ ও নৈতিকতায় আকৃষ্ট হইয়া কর্মবিমুখ খ্রীস্টানদের সহিত, ধর্মে অবিশ্বাসী মরিস্কোদের বিনিময় করিবার জন্য প্রস্তাব পেশ করেন, যাহার ফলে পূর্বোক্ত মরিস্কোগণ কিছু ভাল কাজ করিবে এবং শেষোক্তগণ খ্রীস্টান ধর্মে কিছু বিশ্বাস স্থাপন করিবে, খ্রীস্টান সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করিবার উদ্দেশ্যে এবং ক্রমশঃ মরিঙ্কোদের স্বকীয়তা বিলীন করিবার জন্য হেরনান্ডো তাঁহার কূটনীতির মাধ্যমে “বিশ্বাসহীন কর্মে” ও “কর্মহীন বিশ্বাসের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়িয়া তুলিয়া জীবন ও যুক্তির মধ্যে সাযুজ্য ঘটাইতে চাহিয়াছিলেন। হেরনাভো মুসলমানদিগকে খ্রীস্টান ধর্মে দীক্ষিত করিতে চাহিয়াছিলেন যুক্তি তর্কের মাধ্যমে। অপরদিগকে সিসনেরস মুসলমানদিগকে ধর্মান্তরিত করিয়াছিলেন ঘুষ দিয়া এবং ইহাতে ব্যর্থ হইলে বল প্রয়োগ করিয়া মুসলমানদিগকে ধর্মান্তরিত করা হয়।
মুসলমানদিগকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত না করিয়া যদি তাহাদের সহিত অন্যান্য প্রজাদের ন্যায় সমব্যবহার করা হইত এবং খ্রীস্টানদের সহিত মিশ্রণের কার্যকে যদি কালের প্রবাহের উপর ছাড়িয়া দেওয়া হইত, তবে উহা হইত বিজ্ঞের কাজ। খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণে মরিস্কোগণ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কোন লাভ দেখিতে পায় নাই। এমনকি ধর্মান্তরিত হইবার পরও খ্রীস্টান সমাজে তাহাদের কোন রকম প্রভাব ছিল না। তাহাদিগকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা করা হইত। তাহাদের সহিত রাস্তার কুকুরের ন্যায় ব্যবহার করিত এবং তাহাদিগকে পেররোস মরোস (মূর কুকুর) বলিয়া ডাকা হইত। সিসনেরস এতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয় যে, ১৪০৯ খ্রীস্টাব্দে পালাজা দে বিবারাম (গ্রানাডা) কিছু আরবী গ্রন্থ জ্বালাইয়া দেয়। এবং কিছু বিজ্ঞানের গ্রন্থ আলকালার কোলোজিও দে সান ইলদেফগোতে লইয়া যায়।১০
জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করায় আল বাইসিনের পুরাতন গ্রানাডায় মরিস্কোগণ অসন্তুষ্ট হইয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করে। দুই বৎসর পর একটি আইন পাশ করা হয়। আইন অনুযায়ী তাহাদিগকে খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করিতে হইবে অথবা ৫,০০০ স্বর্ণ ডুকাত অর্থদন্ড দিতে হইবে।১২ সন্ধি শর্তের খেলাফে—এই আইন পাশ করিতে গিয়া খোড়া যুক্তি দেখান হয় যে, মরিস্কোগণ রাজ অনুগত নহে। তাহারা ঘোষিত ডুকাত দিতে অসমর্থ হইলে তাহাদিগকে জোরপূর্বক এক জায়গায় একত্রিত করা হয় এবং তাহাদের উপরে খ্রীস্টানদের পবিত্র পানি ছিটাইয়া দেওয়া হয়। জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করিবার পরও যদি তাহারা গীর্জায় গমন করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করিত তাহা হইলে ধর্মবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোেগ আনিয়া তাহাদিগকে মৃত্যু দন্ডে দন্ডিত করা হইত। ১৫০১ খ্রীঃ পরবর্তী সময়ে গ্রানাডা ও ক্যাস্টিলের মুসলমানদিগকে তত্ত্বগত দিক হইতে খ্রীস্টান বলিয়া বিবেচনা করা হইত। কিছু সংখ্যক মুসলমান বাহ্যিকভাবে খ্রীস্টধর্ম গ্রহণ করিলেও গোপনে ইসলাম ধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালন করিত। তথাপিও কিছু সংখক মুসলমান তাহাদের ধর্ম বিশ্বাসকে আকড়াইয়া ধরিয়া থাকে। এবং আলপোজাররাসের পর্বতসমূহে আত্মগোপন করে। পাহাড়ে আত্মগোপনকারী বহু নারী পুরুষ ও শিশু খ্রীস্টানদের শিকারে পরিণত হইয়া মৃত্যু বরণ করে। আমীর আলী বলেন, “পুরুষদের হত্যা করিয়া ক্যাস্টিলীয়গণ শান্ত হয় না।১৩ তাহারা বিস্ফোরকের দ্বারা একটি মসজিদের ধ্বংস সাধন করে—যেখানে দূরদূরান্ত হইতে নারী পুরুষ আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল।” যাহারা জীবনে বাঁচিয়া গিয়াছিল, তাহারা প্রতিজনের জন্য দশ স্বর্ণমুদ্রা (doublas) কর প্রদান অথবা খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করে। বহু মুসলমান কর প্রদানে ব্যর্থ হইয়া খ্রীস্টধর্ম গ্রহণ করিতে বাধ্য হয়। তাহাদিগকে তাকিয়া (সংরক্ষিত)১৭ বলা হইত কারণ তাহারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে নাই। ডানভিল এই সমস্ত ধর্মান্তরিত খ্রীস্টানদের খ্রীস্টান হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে।
ভ্যালেন্সিয়া ও আরাগোনের মরিস্কোগণ তত্ত্বগত ও আইনগত ভাবে ধর্ম পালনের অনুমতি পাইয়াছিল।১৬ প্রথম চার্লস যুবরাজ হিসাবে ভ্যালেন্সিয়া আরাগোন পরিদর্শন কালে মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। ১৫০৮ খ্রীঃ ক্যাথলিক ফার্ডিনান্ড ক্যাটিলোনিয়ায় মূরদিগকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সেই মুহূর্তে কারডোনার ডিউক ও অন্যান্য জমিদারগণ জোরপূর্বক ধর্মান্তর আইনের বিরোধিতা করেন। তাহারা ইহার প্রতিবাদ করিয়াছিলেন নিজের স্বার্থে। কারণ মরিস্কোগণ তাহাদের জমি কর্ষণ করিত১৭১৫১০ ও ১৫১৮ খ্রীঃ বহুবার অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় যে, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হইবে না। কিন্তু কার্যতঃ এই অঙ্গীকারের প্রতি মোটেই শ্রদ্ধা দেখান হয় না। জারমানিয়া ও কমিউনেরস খ্রস্টানগণ যখন যথাক্রমে ভ্যালেন্সিয়া এবং ক্যাস্টিলে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, সে সময়
সম্রাট স্পেনের বাইরে ছিলেন। আমেরিকা হইতে প্রচুর পমািণে স্বর্ণ আমদানীর ফলে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির দরুন অর্থনৈতিক দুর্দশায় পতিত দরিদ্র খ্রীস্টানগণ সামন্ত প্রভুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। মরিস্কোগণ খ্রীস্টান জমিদারদের সহিত জড়িত থাকায় বিদ্রোহে যোগদান সম্ভব না হওয়ায় বিদ্রোহীরা মরিস্কো কৃষকদের বিরুদ্ধে ছিল। তাহারা জোরপূর্বক বহু মরিস্কোকে ধর্মান্তরিত ও হত্যা করে। খ্রীস্টান জমিদারগণ অর্থনেতিক দৃষ্টিকোণ হইতে তাহাদের মুসলমান প্রজাদের সমর্থন করিতেন। মুসলমান প্রজারা ধর্মকর্ম পালনের সুযোগ পাইবে এই আশায় মুসলমানরা খ্রীস্টান জমিদারদের বাধ্যানুগত থাকে। জোরপূর্বক ধর্মান্তর সিদ্ধ নহে বলিয়া জমিদারগণ মত প্রকাশ করিয়া ছিল।১৮
স্পেন পুনর্দখল ও মুসলমানদের স্পেন হইতে বিতাড়নে মন্থর গতির কারণ সম্পর্কে বার্ট্রান্ড এইরূপ বর্ণনা করেন, “বিজিত অঞ্চলকে জনমানব শূন্য অবস্থা হইতে রক্ষা করাই ছিল খ্রীস্টান শাসকদের প্রধান কাজ। নব বিজিত দেশের অর্থনীতি ও কৃষিকে ধ্বংস করিতে চাহে নাই।”
ইহা ব্যতীত খ্রীস্টান যুবরাজগণ দীর্ঘদিন হইতে প্রচলিত কর দান নীতিতে আস্থাবান থাকিয়া সম্পূর্ণ বিজয় অথবা ধ্বংস না করিয়া কর আদায় করিতে ভালবাসিত। মূরগণ কর্তৃক দেয় কর দ্বারা তাহারা শতাব্দীর পর শতাব্দী জীবন যাপন করে। অনুরূপভাবে মুসলমানগণও শতাব্দীর পর শতাব্দী খ্রীস্টানদিগকে শোষণ করে। খ্রীস্টানগণ শক্তিসঞ্চয় করিয়া একই পথে তাহাদের শত্রুকে অনুরূপ ব্যবহার করিতে শুরু করে।১৯
কৃষি ক্ষেত্রে শ্রম ও অভিজ্ঞতার জন্য মুসলমানগণ দেশের মধ্যে খ্যাতি অর্জন করে। প্রবাদ বাক্যের প্রচলন হয়, যে একজন মুসলিম (ভৃত্য) পাইয়াছে সে সোনার অধিকারী (কিয়েন তিয়েন মরতিয়েন অরো)। পরবর্তীকালে ভ্যালেন্সিয়া ও আরাগোনে বসবাসকারী সবচেয়ে দরিদ্র মরিস্কো কৃষক ও খ্রীস্টান রাখালদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়। খ্রীস্টান রাখালগণ তাহাদের নেতা লুপেয়াসিও লাটরেস চোসের নেতৃত্বে সামন্ত প্রভুদের আক্রমণ না করিয়া নিঃসহায় মরিঙ্কোদের কর্ষিত চাষের ভূমি আক্রমণ করে। সামান্য প্রভুগণ খ্রীস্টান রাখালদের বিতাড়িত করিবার উদ্দেশ্যে মরিস্কো কৃষকদিগকে জনবল ও অস্ত্রদ্বারা সাহায্য করেন।২০ গীর্জার কোন লোকবল না থাকায় সাহায্য করিতে পারে না। গীর্জার সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হওয়ায় পাদ্রিগণ প্রতিবাদ জানান। খ্রীস্টান রাখালদের সমর্থক সরকার শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করিতে বাধ্য হন। এবং খ্রীস্টান রাখালদের নেতা লুপেয়াসিওকে ইংলন্ডে নির্বাসিত করেন। ভ্যালেন্সিয়া ও আরাগোনের মুসলিম কৃষকগণ অর্থনৈতিক ধ্বংসের কবল হইতে রক্ষা পায়।
পুনরায় জোরপূৰ্ব্বক খ্রীস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করিবার প্রচেষ্টা চলে এবং ইহা বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়। সরকারী আদেশ জারী করিয়া বলা হয় যে, যাহারা খ্রীস্টধর্মে দীক্ষিত হইয়াছে তাহারা যদি ধর্মের অনুশাসনসমূহ পালন না করে, তবে তাহাদিগকে যথাযোগ্য শাস্তি দেওয়া হইবে। অবশিষ্ট মরিস্কোদেরও খ্রীস্টধর্মে দীক্ষিত করিবার পদক্ষেপ গৃহীত হয়। ১৫২৫ খ্রীঃ পঞ্চম চার্লস তাহার পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়া ভ্যালেন্সিয়া ও আরাগোনের মরিস্কোদের পোষাক, রীতিনীতি, ভাষা ও ধর্মের বিরুদ্ধে আদেশ জারী করেন। এতদসত্ত্বেও সামন্ত প্রভুগণ তাহাদের নিজেদের। অর্থনৈতিক স্বার্থে মরিস্কোদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং সদ্য জারিকৃত আদেশ বাতিলের জন্য সম্রাটকে প্রভাবিত করিতে চেষ্টা করেন। ১৫২৮ খ্রীস্টাব্দের মে মাসে ভ্যালেন্সিয়া আলজামাস সমূহের (মসজিদ) বারোজন আলফাকিস সম্রাটের এই আদেশকে বাতিল করিবার অনুরোধ করেন। সম্রাট আদেশ বাতিল করিতে অসম্মতি জানান। কিন্তু চল্লিশ বৎসরের জন্য তিনি মরিস্কোদের খ্রীস্টানদের আইন, রীতিনীতি, ভাষা, শিক্ষা হইতে অব্যাহতি দান করেন। তাত্ত্বিক অর্থে তাহারা খ্রীস্টান ছিল কিন্তু ধর্মান্তর আইনে প্রচলিত ধর্মমতের বিরুদ্ধ মতবাদে আস্থা থাকার দরুন তাহাদিগকে শাস্তি দেওয়া হইত না।২২ ১৫২৬ খ্রীস্টাব্দে আরবী ভাষা, পোশাক ও রীতিনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। কিন্তু পঞ্চম চার্লস ৮০,০০০ ডুকাত উৎকোচ প্রদান করায় তাঁহার সময় এই আইন কার্যকারী হয় না। আরবী ভাষা ও পোশাক ব্যবহারের জন্য তাহাদিগকে ফারদা নামক কর দিতে হইত। ১৫৬৩ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত এই করের পরিমাণ ছিল ২০,০০০ ডুকাত।২৩
অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছায়। শুকুরের মাংশ ভক্ষণ ও মদ পান না করায় মরিস্কোদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চলে এবং তাহাদিগকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। চার্লস লী বলেন, “শুকুরের মাংস ভক্ষণ ও মদ্যপান না করার জন্য অত্যাচারের পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি ছিল। শোনা যায় মেহেন্দী দ্বারা নখ রঞ্জিত করা, মৃত পশুর মাংস ভক্ষণ করিতে অস্বীকৃতি, গৃহ পালিত পশু-পক্ষী জবাই (Decollation), বিবাহ ও আনন্দ উৎসবে জাব্রাস লেইলাস, নাচগান এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা পর্যন্ত ধর্মবিরোধী মারাত্মক অপরাধ বলিয়া বিবেচিত হইত।”২৪ ১৫৫৩ খ্রীস্টাব্দে ধর্ম বিরোধী কার্যকলাপের জন্য সারাগোসাতে ধর্মের আইন অনুযায়ী মুসলিম প্রজাদের শাস্তি প্রদান করা হইলে আরাগোনের জমিদারগণ বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হইয়া ওঠে। কারণ মরিস্কোগণ ছিল আরাগোনের প্রধান কৃষিজীবী সম্প্রদায়। আরাগোনের এডমিরাল কারডনার ডন সাঞ্চো ভ্যালেন্সিয়ায় মরিস্কোদের একটি মসজিদ পুনঃনির্মাণ করাইলে ধর্মান্তর আইনে (Inqusition)২৫ তিনি অভিযুক্ত হন। বাস্তব জীবন ও যুক্তির বিরোধ এবং বিশ্বাসহীন কর্ম ও কর্মহীন বিশ্বাসীর মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত আরাগোনের জমিদারদের পরাজয় হয়। মরিস্কোগণ বিতাড়িত হন। আরাগোনের শস্যক্ষেত্র পরিণত হয় শ্রীহীন অনুর্বর ভূমিতে। এই দুঃখজনক ঘটনার মূলে ছিল স্পেনীয় অসহিষ্ণুতা যাহা কর্মহীন বিশ্বাসের নমুনা।
১৫৬৬ খ্রীস্টাব্দে দ্বিতীয় ফিলিপ পাদ্রীদের রাষ্ট্রীয় সভা আহবান করে। এই সভায় ১৫২৫ খ্রীঃ ও ১৫২৬ খ্রীঃ মরিস্কোগণের পোশাক, রীতিনীতি, ভাষা ও ধর্ম সম্বন্ধে যে আইন পাশ হইয়াছিল উহা বাস্তবায়িত করিবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তাহাদের নিরস্ত্র করিবার পদক্ষেপ লওয়া হয়। ১৫৬৮ খ্রীস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি মাসে গ্রানাডার মরিস্কোদের আদেশ দেওয়া হয় যে তিন বছরের মধ্যে আরবী ভাষা, পোশাক ও রীতিনীতি ত্যাগ করিতে হইবে এবং শুক্রবারে ও মুসলমানদের উৎসবের দিনে তাহাদের ঘরের দরজা খুলিয়া রাখিতে হইবে। তাহাদের জন্য গৃহের বাহিরে অথবা গৃহের পার্শ্বে গোসল করা এবং ভূত্য রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।২৬ চার্লস লী বলেন, “খ্রীস্টানদিগের দ্বারা গোসল নিষিদ্ধের এই ঘোষণা ঐ সময়ের এক কৌতূহলোদ্দীপক সংযোজন। ১১৭৬ খ্রীস্টাব্দে ফুয়েরো দে টানেল প্রবর্তিত গোসলখানা ব্যবহারের পদ্ধতিতে আরাগোনের দ্বিতীয় আলফন্সে মঙ্গলবার বৃহস্পতিবার ও শনিবার পুরুষের, সোমবার এবং বুধবার মেয়েদের, এবং ইহুদী ও মূরদের জন্য শুক্রবার সরকারি হাম্মাম ব্যবহার নির্দিষ্ট করিয়া দেন। রবিবার হাম্মাম বন্ধ থাকিত ও পানি গরম করা হইত না।২৭ এই আদেশের সময় হইতেই সভ্যতার অবমুক্তি শুরু হয়। হাম্মাম ধ্বংস মরিস্কোদের বিদ্রোহের ইন্ধন যোগায়।২৮।
এডউইন হোল বলেন, “ত্রয়োদশ শতাব্দীতে জরিতা (গোয়াদাল জারার একটি গ্রাম) ফুয়েরো অর্থাৎ সংবিধানে পুরুষদের জন্য মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার; মেয়েদের জন্য সোমবার ও বুধবার এবং ইহুদীদের জন্য শুক্রবার ও রবিবার সরকারি হাম্মাম ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়।”২৯ জরিতার পল্লীতে বোধহয় মুদেজার ছিল না। সেই কারণে হোল মুসলমানদের কথা উল্লেখ করেন নাই। স্পেনের মুসলমানগণ প্রত্যহ গোসল করিতে অভ্যস্ত ছিল। সেইভাবে সরকারি হাম্মাম সকালবেলা পুরুষ এবং বিকাল বেলায় মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। হোল আরো বলেন যে, ষষ্ঠদশ শতাব্দীর খ্রীস্টানগণও মুসলমানদিগকে গোসল করিতে দেয় নাই। ১৫৬৭ খ্রীঃ এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের পর খ্রীস্টান গীর্জা গ্রানাডার সমস্ত সরকারি হাম্মাম বন্ধ করিয়া দেন।৩০ মরিস্কোগণ পুনরায় জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও গ্রানাডা হইতে তাহাদের উৎখাতের জন্য গৃহীত রাজকীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত হইতে শুরু করে। একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সর্বত্র চাঁদা সংগ্রহের রাজকীয় অনুমতি তাহারা লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠান কোফরাডিও দে লা রিজারেকশন নামে পরিচিত ছিল। এই সুযোগে তাহারা অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে এবং সর্বাত্মক বিদ্রোহ ঘোষণার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খ্রীস্টধর্ম শিক্ষা দেওয়ার জন্য ৩ হইতে ১৫ বৎসর বয়স্ক মরিস্কো শিশুদের নাম তালিকা ভুক্তির জন্য ১৫৬৮ খ্রীঃ ১লা জানুয়ারি একটা ঘোষণা করা হয়।৩১ ষষ্ঠদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে মরিস্কোদের খ্রীস্টানধর্মে দীক্ষার জন্য আইন কানুন পাশ হয়। কিন্তু মরিস্কোগণ
শিশুদিগকে খ্রীস্টান পদ্ধতির শিক্ষায় শিক্ষিত করিবার কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ করে নাই। এইবারেও তাহারা শুধু তাহাদের শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হইবে বলিয়া নাম তালিকাভুক্ত করিতে বলে কিন্তু এ ব্যাপারে তেমন কিছু করা হয় না। গ্রানাডায় বিশেষ করিয়া আল পুজাররার পর্বত মালায় ফার্নান্ডো দে ভ্যালর (আবু হুমেয়া নামে পরিচিত মৌলভী আব্দুল্লাহ মুহম্মদ বিন উমাইয়া) এর নেতৃত্বে ১৫৬৮ খ্রীঃ ডিসেম্বর মাসে মরিস্কোগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। রাজকীয় বাহিনী সম্রাট পঞ্চম চার্লসের অবৈধ সন্তান ডন জুয়ান দে অস্ট্রিয়া জনৈক সামরিক বিশেষজ্ঞের অধীনে বিদ্রোহ দমন করিতে অগ্রসর হন। ১৫৬৯ খ্রীঃ জুন মাসে ৩,৫০০ মরিস্কো গ্রানাডা হইতে সেভিলে বিতাড়িত হন। অতীত ঐতিহ্যের গভীরে তাহাদের জাতীয়তাবাদের মূল শিকড় প্রোথিত হওয়ায় মরিস্কোগণ গর্ব অনুভব করিত। খ্রীস্টানদের ন্যায় তাহারাও নিজদিগকে স্পেনের পুরাতন অধিবাসী বলিয়া দাবী করিত। আবেন হুমেয়া অস্ত্র ধারণের পূর্বে গ্রানাডাতে বলেন, “তোমরা কি জাননা আমরা স্পেনের অধিবাসী এবং ৯০০ (৮০০) বৎসর ইহা আমাদের অধিকারে ছিল। আরও বলেন, আমরা ডাকাত দল নই, আমরা একটা সাম্রাজ্যে রাজত্ব করিয়াছি।”৩২ অন্যায়ের জন্য নিজ দেশ হইতে বিতাড়িত হইবার পরও মরিস্কোগণ ভাবিত যে, তাহারা স্পেনীয়। আমরা যেখানেই থাকি স্পেনের জন্য কাঁদিব, আর যাহাই হউক আমরা যেখানে জন্মিয়াছিলাম উহা আমাদের প্রাকৃতিক পিতৃভূমি। আমরা এখন বুঝিতে এবং অনুভব করিতে পারি যে, পিতৃভূমির স্মৃতি কত মধুর”৩৩।
মরিস্কোগণ গ্রানাডা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় খ্রীস্টান শাসকদের পরাজিত করিবার কল্পনা করিতে পারিত যদি তাহাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব না থাকিত। ১৫৬৯ খ্রীঃ অক্টোবর মাসে তাহাদের নেতা ফার্নান্ডো দে ভ্যালোর নিজের ভক্তদের হস্তে নিহত হন। তাহাদের পরবর্তী নেতা আবেন আবুর নেতৃত্বে তাহারা এতদোঞ্চলে অশান্তির সৃষ্টি করে। ১৫৭১ খ্রীঃ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত রাজকীয় বাহিনী তাহাদিগকে একস্থান হইতে অপর স্থানে পশ্চাদ্ধাবন করে, নৃশংসরূপে তাহারা গ্রানাডা প্রদেশের সমস্ত এলাকা হইতে ক্যাস্টিলের পার্বত্য অঞ্চলে ও উত্তর স্পেনে বিতাড়িত হয়। পরবর্তীকালে কিছু মরিস্কো গ্রানাডাতে অলক্ষ্যে প্রবেশ করে। ১৬০৯ খ্রীস্টাব্দে যখন স্পেন হইতে তাহাদিগকে শেষ বারের মতন বিতাড়িত করা হয় তন্মধ্যে গ্রানাডার কিছু মরিস্কোও ছিল।
কশাইয়ের ব্যবসা অথবা একটি মুরগী হত্যা পর্যন্তও মরিস্কোদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। এই আইন ১৫৯৫ খ্রীঃ পর্যন্ত স্পেনে বলবৎ থাকে।৩৪ মরিস্কোদের বিরুদ্ধে দমন মূলক ব্যবস্থা গৃহীত হইলে৫ ১৫৮১ খ্রীঃ ভ্যালেন্সিয়াতে বিদ্রোহ দেখা দেয়। অতি কষ্টে তাহাদিগকে দমন করা হয়। দ্বিতীয় ফিলিপ ১৫৮২ খ্রীঃ তাহাদিগকে দেশান্তর করিতে মনস্থ করিয়াও শেষ পর্যন্ত তাহা করেন না।
বার্ট্রান্ড বলেন, “প্রথম ফ্রাঙ্কোইশ পঞ্চম চার্লসের কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় গ্রানাডা পতনের সংবাদ পাইয়া বিস্ময়ের সহিত প্রশ্ন করেন, এই সমস্ত মুসলমানদের কি
অবস্থা হইবে? তাহাদিগকে কি দেশ হইতে বিতাড়িত করিতে হইবে? তাহাদের সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ হইতে ফ্রান্সের রাজা ইহাকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন। কিন্তু লেখক বলেন যে, “মরিস্কগণ তাহাদের শাসক ও প্রতিবেশীদিগকে অত্যন্ত ঘৃণা করিত। তাহারা স্পেন ও খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে বার্বার, মরোক্কান, মিশরীয় ও তুর্কীদের সহিত একত্রিত হইয়া ষড়যন্ত্র করিত।”৩৬
স্পেনীয় সূত্র মোতাবেক জানা যায় যে, বার্বার ও তুর্কীদের সহযোগিতায় ফ্রান্সের চতুর্থ হেনরীর ছত্রছায়ায় মরিস্কোগণ পুনরায় মাথা তুলিতে চেষ্টা করে। বার্ট্রান্ড বলেন, দ্বিতীয় ফিলিপের শাসনের শেষ পর্যায়ে আরাগোনের মরিস্কোগণ আশি হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী ফ্রান্সের চতুর্থ হেনরীর অধীনে ন্যস্ত করিবার প্রস্তাব করে।৩৭ এই অজুহাতে তাহাদের উপর নির্মম অত্যাচার চলে এবং ১৬০৫ খ্রীঃ এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইবার অভিযোগে বেশ কিছু সংখ্যক মরিস্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ফ্রান্সের ঐতিহাসিকগণ সম্পূর্ণ নীরব। বার্বার ও তুর্কীদের নিকট হইতে সাহায্য পাইলেও মরিস্কোগণ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল ইহা নিশ্চয় করিয়া বলা কঠিন। এই ষড়যন্ত্রের অজুহাতে তাহাদিগকে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে বসবাস করিতে দেওয়া হয় না। এমনকি ভূমধ্যসাগরের উপকূলে তাহাদের ঘুড়িয়া বেড়াইবার অনুমতিও ছিলনা। তাহাদিগকে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে দেখামাত্র প্রহরীদল গুলি করিয়া হত্যা করিত। সেই যুগে তাহারা পঞ্চম বাহিনী বলিয়া পরিচিত ছিল। মুসলমান হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে তাহাদের অবস্থান সরকারের জন্য এক বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করে। ধর্মবিরোধী কার্যকলাপের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ না করায় ১৬০৫ খ্রীঃ আলমাগরোর দিয়াগো পায়েজ লিম্পটিকে আগুনে ফেলিয়া হত্যা করা হয়।৩৮ মরিস্কোদের সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে ঐ বৎসরই রাষ্ট্রীয় মহাসভা গঠিত হয়।
১৬০৭ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসে জুন্তা রাষ্ট্রীয় মহাসভার এক রিপোর্টে বলা হয়, মরিস্কোগণ নতুন করিয়া খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করিবে নতুবা সম্পূর্ণরূপে তাহাদিগকে বহিষ্কার করা হইবে। মরিস্কোগণের বহিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী লেরমা ১৬০৯ খ্রঃ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারেন না। সম্ভবত তিনি শুধু ধর্মীয় কারণেই মরিস্কোদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে ইতস্ততঃ করেন। মরিস্কোদের বহিষ্কার উপলক্ষে তিনি উৎকোচ হিসেবে প্রচুর টাকা উর্পাজন করেন।
বার্ট্রান্ড বলেন, “আফসোস! স্পেনীয়রা ধর্মের নামে মূরদিগকে স্পেন হইতে বিতাড়িত ও নির্বাসিত করেন, কিন্তু ইহার পিছনে বৈষয়িক কারণও কাজ করে।” মুসলমানদের চরম উন্নতির দিনে ইহা ছিল অমানুষিক উৎপীড়ন। তাহার মতে স্পেনীয়দের উৎপীড়নে মরিস্কোদের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা জাগরিত হয়। তাহারা
ধর্মোন্মাদ ও নির্দয় হইয়া ওঠে।৩৯ চূড়ান্তভাবে তাহাদিগকে নির্বাসিত করার উদ্দেশ্যে ১৬০৯ খ্রীঃ ৪ঠা আগাস্ট একটি আইন পাশ করা হয়। ইহা ঐ বৎসরই সেপ্টেম্বর মাসে কার্যকারী হয়। নব খ্রীস্টানসহ প্রায় ৪,৬৭,৫০০ মরিস্কো দেশ ত্যাগ করে একাধারে দুই বৎসর খ্রীস্টধর্ম পালন এবং আত্মীয়স্বজনের সহিত কোন সম্পর্ক নাই বলিয়া প্রমাণপত্র পেশ করিতে সমর্থ মরিস্কোগণ স্পেনে বসবাসের অনুমতি লাভ করে। সাত বৎসরের শিশুদের প্রতি এই আইন প্রযোজ্য ছিলনা। প্রমাণপত্র পেশে অপারগতায় বহু নব খ্রীস্টানও নির্বাসন লাভ করে। প্রচুর আখ উৎপাদক গাভিয়ার ডিউক তাহার মিলে দক্ষ শ্রমিকের অভাব হেতু মরিস্কোদিগকে যে কোন শর্তে রাখিতে চেষ্টা করেন। তাহারা ধর্মপালনের স্বাধীনতার শর্ত দাবী করে, ডিউক ভাইস রয়ের নিকট আবেদন করেন। রিবেরা ঘোষণা করে খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ ব্যতীত রাজা অথবা পোপের এই সুবিধা দানের কোন ক্ষমতা নাই ডানভিলা ও অন্যান্য খ্রীস্টান লেখক যুক্তি প্রদর্শন করিয়া বলেন যে, মরিস্কোদের দেশ হইতে বিতাড়ন ও নির্বাসনের ব্যপারে জনগণের মতামত গৃহীত হইয়াছিল।
কৃষি কার্যের ভবিষ্যৎ কল্যাণ চিন্তা করিয়া শতকরা ছয়জন কৃষক পরিবারকে স্পেনে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়।২ অত্যাচারের কথা চিন্তা করিয়া তাহারাও অন্যদের সহিত দেশ ত্যাগ করে। নির্বাসিত মরিস্কোদের পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি তাহাদের জমিদারগণ লাভ করেন। ইহার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ মরিঙ্কোদের শক্তিশালী দুর্গ ভ্যালেন্সিয়াতে বিদ্রোহ দেখা দেয়। তাহারা তাহাদের নেতা জেরেনিমো মিলিনির অধীনে প্রতিরোধ ব্যুহ গড়িয়া তোলে কিন্তু শশাচনীয়ভাবে পরাজিত হইয়া খাদ্য বস্ত্রের ব্যবস্থা ব্যতীতই দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। ১৬১৩ খ্রীঃ অনুষ্ঠিত আলাপ আলোচনার পূর্ব পর্যন্ত ভাল্পে ডেল রিকোট নামে পরিচিত ভ্যালেন্সিয়ার পর্বতসমূহে প্রায় ২৫০০ মরিস্কো বাস করিতে ছিল। দেশ ত্যাগ করিয়া আলজিরিয়া যাইবার জন্য তাহাদিগকে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। ১৬১০ খ্রীস্টাব্দ হইতে ১৬১২ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে আন্দালুসিয়া ও স্পেনের বিভিন্ন এলাকা হইতে মরিস্কোগণ বিতাড়িত ও নির্বাসিত হয়। ১৬১০ খ্রীঃ প্রায় ৯০০ হইতে ১০০০ শিশুকে তাহাদের মাতাপিতা স্পেনে রাখিয়া দেশ ত্যাগ করে। মরিস্কোগণ স্পেন ত্যাগ না করা পর্যন্ত খ্রীস্টধর্ম বিরোধী হওয়ার অভিযোগে তাহাদিগকে অত্যাচার নির্যাতন ও অগ্নিদগ্ধ করিয়া হত্যা করা হইত।
মরিস্কোদের নির্বাসনের দুঃখ কষ্ট সম্পর্কে হেনরী চার্লস লী বলেন, “সরকারি কর্মচারীগণ নির্দয়ভাবে নদীর পানি ব্যবহার ও দীর্ঘ যাত্রা পথে বৃক্ষ ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণের জন্য তাহাদের নিকট হইতে অতিরিক্ত কর জোরপূর্বক আদায় করিত। দরিদ্রদের তরফ হইতে ধনীদেরকে কর দিতে হইত। বাস্তু ত্যাগীরা ফ্রান্সে আসিয়া ভিড় করে। পীরেনীজের অপর পার্শ্বে পাহাড়িয়া পথে স্পেনের সীমান্ত শহর সানফ্রান্সে
১৪০০০ হাজার মরিস্কো পৌছাইলে তাহাদের মধ্য হইতে একজনকেও গ্রহণ করিতে ফ্রান্স অস্বীকৃতি জানায়। তাহাদের সহিত গৃহীত মালের রফতানী শুল্ক ও ফ্রান্সে যাইবার অনুমতি লাভের জন্য চল্লিশ হাজার ডুকাত কর প্রদান করিতে হয়। দীর্ঘ পথে তাহারা আলফাকিসে প্রত্যাবর্তন করিতে বাধ্য হয়। গ্রীষ্মের খরতাপে তাহাদের অনেকে অসুস্থ হইয়া পড়ে এবং বহু লোক মারা যায়। জাহাজে মহামারী দেখা দেওয়ায় ভীতির সঞ্চার হয়। সংক্ষেপে বলা যায় আরাগোন হইতে নির্বাসনের ঘটনা ছিল নির্মম ও আমানুষিক।” জানের বলেন, “ভ্যালেন্সিয়া হইতে নির্বাসনের ঘটনার চাইতেও আরাগোনের মরিস্কোদের বিতাড়িত করিবার ইতিহাস আরও হৃদয় বিদারক ও করুণ। মুরসিয়া আরাগোন এবং ভ্যালেন্সিয়ার বাগিচাসমূহে আজও তাহাদের পদচিহ্ন দেখিতে পাওয়া যায়। কিছু সংখ্যক নির্বাসিত মরিস্কো গিরিপথে ও বন্দরে নিযুক্ত প্রহরীদের ঘুষ প্রদান করিয়া স্পেনে পুনরায় প্রবেশ করে এবং নিজদিগের পরিচয় গোপন রাখিয়া নিম্ন শ্রেণীর স্পেনীয়দের সহিত মিশিয়া যায়। গন্তব্যস্থলে পৌঁছিবার পূর্বেই বহু মরিস্কো মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তিন ভাগের দুই ভাগ হইতে চার ভাগের তিন ভাগ লোক মারা যায় বলিয়া ধারণা করা হয়। নিরস্ত্র ও নিঃসম্বল মরিস্কোগণ স্পেনের বিভিন্ন বন্দর ও গিরিপথে ফ্রান্সে, ভূমধ্যসাগরের দ্বীপসমূহে ও উত্তর আফ্রিকায় গমন করে। অধিকাংশ নির্বাসিত মরিস্কো তিউনিসিয়া ও রাবাতে এবং সামান্য সংখ্যক তুরস্কে আশ্রয় লইয়া প্রাণ বাঁচাইতে সক্ষম হয়। তাহাদের দুঃখ কষ্টের ইতিহাস সত্যই হৃদয়বিদারক।৪৫ মধ্যযুগের ইতিহাসে এমন নিষ্ঠুরতার ঘটনা বিরল।৪৬
স্পেনীয় শাসকদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মরিস্কোদের হত্যা করা। সেই জন্যই দেশ হইতে বিতাড়িত ও বহিষ্কার করিবার সময় তাহাদের জান-মালের নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা গৃহীত হয়না। তাহারা বিশ্বাসঘাতকতার শিকারে পতিত হয়। উত্তর আফ্রিকা ও মুসলিম দেশসমূহে যাইতে না দিয়া লুণ্ঠনকারীদের শিকারে পরিণত করিবার উদ্দেশ্যে তাহাদিগকে ক্যাটালোনিয়ার মধ্য দিয়া বিস্ক-উপসাগরের দিকে যাইতে বাধ্য করা হয়। লুই বার্ট্রান্ড যিনি দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ঐক্যের যুক্তিতে মরিস্কোদের নির্বাসিত করাকে সমর্থন করিয়া বলেন, “ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, এই কঠোর ব্যবস্থা স্পেনীয়দের জন্য আত্মঘাতি বলিয়া প্রমাণিত হয়। কিছু সংখ্যক লোক ইহাতে লাভবান হয়। সর্বোপরি বহুস্থান জনমানবশূন্য প্রেতপুরিতে পরিণত হয়। অত্যাচার মূলক আইনগুলি মরিস্কোদের উপর প্রয়োগ করিয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অফিসার ও পুলিশগণ জরিমানার টাকায় নিজেদের পকেট ভর্তি করে। নির্বাসিত জনগণের ঘর বাড়ি ও জমিজমা খ্রীস্টান বণিক এবং জমিদারগণ নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করিয়াছিল। অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা যাহারা মূর অথবা মরিকোদের নিজেদের ভূমিতে কৃষিকার্যে নিয়োগ করিয়াছিল তাহারা ছিল এই নির্বাসনের ঘোর বিরোধী। কিন্তু তাহাদের বিরোধীতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়”।৪৮
রিচেলিউ-এর মতে, “মানব ইতিহাসের নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরতম ঘটনা ছিল স্পেন হইতে৪৯ মরিস্কোদের বিতাড়ন। এই অমানুষিক কাজের পিছনে অনেক কারণ ছিল। তন্মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাবেই স্পেনীয় জনগণের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রদায় মরিস্কোগণকে দেশ ত্যাগ করিতে হয়। সংক্ষেপে গঞ্জালেজ প্যালেন্সিয়া বলেন, “মরিস্কোদের নির্বাসনের ফলে স্পেনের কৃষিক্ষেত্র ও শিল্প কারখানা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জনপদ প্রেতপুরিতে পরিণত হয়।”৫০
১১ই মে (১৬১০ খ্রীঃ) ভ্যালেন্সিয়ার রিয়াল অডিয়েন্সিয়া প্রায় ৭০০ মরিস্কোর দেশের মধ্যে অবস্থান সম্পর্কে রাজার নিকট রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্টে বলা হয় যে, ইহারা কৃষি উৎপাদনে চিনি, চাউল, সিল্কের কাপড় ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী প্রস্তুতে অভিজ্ঞ ছিল। চার্লস লী বলেন, খ্রীস্টানগণ এ সমস্ত কাজে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ ছিল। খ্রীস্টানগণ তাহাদের কৃষি জ্ঞানকে ব্যবহার করে। মরিস্কোদের পরিত্যক্ত ভূমিতে খ্রীস্টানদের সহিত ক্রীতদাস হিসাবে কাজ করিবার শর্তে তাহারা স্পেনে থাকিবার অনুমতি লাভ করে।৫২ ফ্রান্সিসকো বলেন যে, মরিস্কো পদ্ধতির জলসেচ ও কৃষি ব্যবস্থা এখনও চালু আছে।৫৩ ভ্যালেন্সিয়াতে এখনও আরব পদ্ধতির জলসেচ ব্যবস্থা অনুসৃত হয়। জনের মতে, তৃতীয় ফিলিপের সময়ে খ্রীস্টান কৃষকদের তুলনায় কম উর্বরা জমি চাষবাস করিয়া মরিস্কোগণ খ্রীস্টানদের চেয়ে অধিক শষ্য ফলাইত৫৪। মরিস্কো সম্প্রদায়ের প্রশংসায় চার্লস লী বলেন, তাহারা ভিক্ষা করিত না। ঝগড়া ফ্যাসাদ জানিত না। কোন বিষয়ে মত বিরোধ হইলে৫৫ বিচারালয়ের স্মরণাপন্ন না হইয়া আপোষ মীমাংসা করিয়া লইত। এই বর্ণনা অনেকাংশে সত্য। কারণ দীর্ঘ দিনের দুঃখ ভোগের পর তাহারা এই মানবীয় গুণলাভ করিতে সক্ষম হয়।
তথ্য নির্দেশ
১। কোম্পানি, মেমোরিস সুবার লা মেরিনা কুমারকিও ডি বার্সিলোনা, তৃতীয় খণ্ড, পৃঃ ১২৪-৫।
এম, ডানভিলা ওয়াই কোল্পাডো, লা এক্সপালশন ডি লস মরিসকোস এক্সপানোলিস, মাদ্রিদ, ১৮৮৯, পৃঃ ৩০।
এ হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন অব স্পেন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৭৭। ৪। জানার ফ্লোরেনসিও, কন্ডিশন সোশ্যাল ডি লস মরিসকোস, ১৮৫৭, পৃঃ ১৫৯, ১৬২। ৫। জানার, ঐ, পৃঃ ১৫৯।
ফ্লাইয়ার এলোনদে ফারনান্দেজ, হিস্ট্রোরিয়া ডি প্লাসেনকিয়া হইতে ক্যাস্ট্রো কর্তৃক উদ্ধৃত, পৃঃ ৯০;
লংগাস, রেলিজিওসা ডি লস মোরিসকোস, মাদ্রিদ, ১৯১৫, পৃঃ ৫২। ৭। ক্যাস্ট্রো, পৃঃ ৯৩।
৮। পি বোরানেট বাররাসিনা, লস মরিসকোস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৬৮; জোয়ান রেগলা, লা একসপালশন,
ত্রয়োদশ খণ্ড, মাদ্রিদ, ১৮৫৩, পৃঃ ২২৪। ৯। মারমল, রিবিলিওন ডি লস মরিসকোস, ১ম খণ্ড, ফোলিও ২৮ ‘এ’ ৩০ ‘বি’। ১০। প্যালেসিয়া, হিস্টোরিয়া পৃঃ ১১৮। ১১। লুইস বার্ট্রান্ড, দ্যা হিস্ট্রি অব স্পেন, পৃঃ ১৫৩। ১২। ম্যানুয়াল ডানভিলা, পৃঃ ৭১-৭২। ১৩। আমীর আলী, প্রাগুক্ত পৃঃ ৫৬০-৬১। ১৪। প্যালেসিয়া, হিস্টোরিয়া, পৃঃ ১১৮। ১৫। ডানাভিলা, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৭২-৭৩; আমীর আলী, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৫৬১। ১৬। ডানাভিলা, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৭৬। ১৭। চার্লস লী, হ্যানরী, পৃঃ ৪০৭। ১৮। চার্লস লী, এ হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৪৭, ৩৭৫। ১৯। দ্যা হিস্ট্রি অব দ্যা স্পেন, ১ম খণ্ড, লন্ডন, ১৯৫৬, পৃঃ ১৪৭-৪৮। ২০। হিনা ১৩শ খণ্ড, পৃঃ ২৫৮। ২১। ডানাভিলা, পৃঃ ৯১-৯২; প্যালেনসিয়া, হিস্টোরিয়া পৃঃ ১৯৯-২০। ২২। ডানাভিলা, প্রাগুক্ত, পৃঃ ১০১-১০২; পেড্রো লংগাস, ভিডা রিলিজিওসা ডিলস মরিসকোস, মাদ্রিদ,
১৯১৫, পৃঃ ৩০। ২৩। এ হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩২৯ ও টীকা-১। ইহা ছিল স্বাভাবিক বাৎসরিক
২৪। ঐ, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩৩ ও টীকা-১। ২৫। লংগাস, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৫৭। ২৬। অরোলীনা ফারনান্দেজ, রিফ্লেকশনস, গ্রানাডা, ১৮৪০, পৃঃ ১৪-১৫, টীকা-১; পেড্রো লংগাস, পৃঃ
৪৬-৪৭; প্যালেনসিয়া, হিস্টোরিয়া, পৃঃ ৪৬-৪৭। ২৭। হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩৬, টীকা-১। ২৮। ঐ, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩৬। ২৯। আন্দালুস, পৃঃ ৬০। ৩০। আন্দালুস, পৃঃ ৬১। ৩১। হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩৬। ৩২। ডন প্রটেনিও ডি, ফুয়েনমেয়র, ৫ম খণ্ড, ১৫৯৫; জানার কর্তৃক উদ্ধৃত। ফ্লোরেনসিও, ইন কন্ডিশন
সোশিয়্যাল ডিলস মরিসকোস, ১৮৫৭, পৃঃ ১৪৪। ৩৩। দ্যা কুইজুট, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৫৪, ক্যাস্ট্রো কর্তৃক উদ্ধৃত, পৃঃ ৯৩। ৩৪। হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন। ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩৬-৪০। ৩৫। ঐ, পৃঃ ৩৮২ ও টীকা-২। ৩৬। দ্যা হিস্ট্রি অব স্পেন, পৃঃ ১৪৭-৪৯। ৩৭। ঐ, পৃঃ ১৫৫। ৩৮। চার্লস লী, ইনকোইজিশন, আমীর আলী, স্যারাসিস, পৃঃ ৫৫৯, টীকা-১। ৩৯। দ্যা হিস্ট্রি অব স্পেন, পৃঃ ১৪৯। মরিস্কোৰ্জাতি ৪০। স্পেনীয় মূল সূত্রের উপর নির্ভর করিয়া ডানভিলা বহিষ্কৃত মরিস্কোসদের নিম্নোক্ত বিবরণ পেশ করেন ? ভ্যালেন্সিয়া ১৫,০০০ (অতিরিক্ত) ভেল ডিল রিষ্ট ২,৫০০ আন্দালুসিয়া ৮০,০০০ ক্যাস্টাইল ৬৪,০০০ আরাগোন ৬৪,০০০ ক্যাটালোনিয়া ৫০,০০০ ক্যাম্পো ডে কেলাট্রাভা ৬,০০০ মুরসিয়া ১৫,০০০ ৪১। চার্লস লী, দ্যা ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৯৬ এবং টীকা-১। ৪২। ঐ, পৃঃ ৩৯৫; প্যাছুয়াল ব্রোনাট ওয়াই বাররাসিনা, লস মরিসকোস, ২য় খণ্ড, ভ্যালেন্সিয়া, ১৯০১,
পৃঃ ২০৮ এবং টীকা-৩১। ৪৩। প্যাছুয়াল ব্রোনাট, লস মরিসকো, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৫। ৪৪। চার্লস লী, ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪০১-৪২১। ৪৫। জানার ডন ফ্লোরোন্সিও, মরিসকোস ডি ইস্পনা, পৃঃ ৯০। ৪৬। এফ ফারনান্দেজ, ওয়াই গঞ্জালেজ, ডি, লস মরিসকোস, ফিলিপ ৩য় : রাভিস্তা ডি ইস্পনা,
১৮৭১, পৃঃ ১৯-২০; ভি, কাস্তেনেদা কর্তৃক প্রকাশিত, লা হিস্ট্রোরিয়া, ১৯২৩, পৃঃ ৪২১-২৭। ৪৭। চার্লস লী, ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪০৮, টীকা-৩। ৪৮। দ্যা হিস্ট্রি অব স্পেন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৫৫। ৪৯। চার্লস লী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৮৬ এবং ইনকোইজিশন, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪১০, টীকা-৩। ৫০। চার্লস লী, ঐ, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪১০। ৫১। হিস্ট্রি-ডি লা ইস্পানা মুসলমানা, পৃঃ ১২১; আমীর আলী, প্রাগুক্ত পৃঃ ৫৬৩-৬৪; লেন পুল, দ্যা
মুরস্ ইন স্পেন, D৮৮৮, পৃঃ ২৭৯-২৮০। ৫২। হিনা, ১৩শ খণ্ড, পৃঃ ২৩৫-৫৬৫। ৫৩। ফ্রান্সিসকো ফারান্দাজ ওয়াই গঞ্জালেজ, ক্যাসৃটিলা, মাদ্রিদ ১৮৬৬, পৃঃ ১৩৬। ৫৪। জানার ফ্লোরেন্সিও, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৬৭। ৫৫। হিস্ট্রি অব দ্যা ইনকোইজিশন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৬৫। ইহা হায়দ্রাবাদের (দাক্ষিণাত্যে) ইসলামিক কালচারে প্রকাশিত দ্যা মরিসকোস্ প্রবন্ধের পুনর্গঠিত ও পরিবর্ধিত সংকলন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন