সপ্তম অধ্যায় : প্রথম মুহাম্মদ

প্রথম মুহাম্মদ
(৮৫২-৮৮৬ খ্রীঃ)
সপ্তম অধ্যায়

সিংহাসনে আরোহণ

প্রথম মুহাম্মদ ছিলেন কর্ডোভার (২৩৮ হিঃ/ ৮৫২ খ্রীঃ) পূর্ব ঘোষিত আমীর। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রাসাদের অধিকাংশ খোজা প্রথমে তারুবের পুত্র আবদুল্লাহর দাবী সমর্থন করে। কিন্তু ক্রীতদাস আবুল মুফাররাহ ইহার বিরোধিতা করে এবং অপর ক্রীতদাস সাদুন মুহাম্মদকে আমীরের মৃত্যু সংবাদ দেয় ও তাহার সিংহাসন আরোহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানায়। তাহার শাসনকাল একাধিক অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দরুন উল্লেখযোগ্য। কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করা সত্ত্বেও গোলযোগ আরও বৃদ্ধি পায়।

টলেডোতে বিদ্রোহীগণ

জেল হইতে মুক্তি পাওয়ার পর ধর্ম-বিরোধী আন্দোলনের গোঁড়া নেতা ইউলোজিয়াস নাভাররে গমন করে। এবং সেখান হইতে টলেডোতে আসিয়া গোঁড়া খ্রীস্টানদিগকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করিতে শুরু করে। মুহাম্মদের ক্ষমতা লাভের পরপরই সিন্দুলার নেতৃত্বে টলেডোর খ্রীস্টানগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং সিয়েররা মরেনা পর্যন্ত দেশকে ধ্বংস স্তুপে পরিণত করে। বিদ্রোহী খ্রীস্টানদের সহিত নব মুসলিমগণও যোগদান করে। প্রথম মুহম্মদ ৮৫৪ খ্রীস্টাব্দের জুন মাসে টলেডো অভিমুখে অগ্রসর হন। আমীরের আগমন সংবাদ শুনিয়া বিদ্রোহীদের প্রধান নেতা সিন্দুলার লিওনের রাজা প্রথম ওরডোনোর সাহায্য প্রার্থনা করে। বিয়েরজোর কাউন্ট গ্যাটোনের নেতৃত্বে ওরডোনো একদল সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন তাহার সাহায্যার্থে। ইবনে খালদুনের মতে, গ্যালেসিয়ার রাজাও সাহায্য করতে আগাইয়া আসেন। যুদ্ধে বিজয় সম্বন্ধে আমীরের সন্দেহ থাকায় তিনি সৈন্যের একাংশকে আপদকালীন সময়ে অগ্রগামী সেনাবাহিনীকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে পশ্চাদভাগে সংরক্ষিত রাখেন। যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে আমীর এই সংরক্ষিত সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেন। এই সেনাবাহিনী গোয়াদাসেলেট (Ar. Wadi Salit) (স্পেঃ গোয়াজালেট) বিদ্রোহীদের চতুর্দিক হইতে ঘিরিয়া ফেলিয়া সম্পূর্ণ রূপে নির্মূল করে। কমপক্ষে ৮,০০০ হাজার খ্রীস্টান নিহত হয়। কালাতারাভা ও তালাভেরার গভর্নরের সাহায্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আমীরের কনিষ্ঠ পুত্র আলমুনজির টলেডোতে থাকিয়া যান। টলেডোর গভর্নর ও উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী যাহারা বিদ্রোহে অংশ গ্রহণ করিয়াছিল তাহাদের শাস্তি দেওয়া হয়। আলমুনজির কর্তব্যপরায়ণ ও যযাগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ করিয়া টলেডোর সরকারী প্রশাসন যন্ত্রকে পুনর্গঠিত করেন। টলেডোবাসীদের অভ্যন্তরীণ শাসন কার্যে স্বাধীনতা প্রদান করা হয়।

কর্ডোভার গোঁড়া খ্রীষ্টানগণ

টলেডো হইতে প্রত্যাবর্তনের পর আমীর কর্ডোভার গোঁড়া খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাহাদের জমিজমা জনসাধারণের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেন এবং উত্তেজনার সূতিকাগৃহ তাহাদের তাবানিওসের গীর্জা ধূলিস্মাৎ করিয়া দেওয়া হয়। আরবীয় খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত গোঁড়া খ্রীস্টান আন্দোলন শুরু করিয়াছিল তাহাদের শাস্তি দেওয়া হয় সত্য কিন্তু কোমল হৃদয় দ্বিতীয় আবদুর রহমান তাহাদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করেন না। ফ্লোরার মৃত্যুদণ্ডের পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাহাদের শত্রুতা আরও বৃদ্ধি পায়। কারাগার হইতে মুক্তিপ্রাপ্ত ইউলোজিয়াসকে তাহার সমর্থক গোঁড়া খ্রীস্টানগণ প্রধান ধর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে। এই সমস্ত খ্রীস্টানগণ ফ্রান্সের রাজা কেশহীন চার্লসের নিকট গোপন চিঠি পাঠায় এবং তাহাকে মুসলমানদিগকে বিতাড়িত করিবার উদ্দেশ্যে স্পেন আক্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। খ্রীস্টানদের পুরাকীর্তির অবস্থান ও নকশা প্রস্তুত করিবার ভান করিয়া উসুয়ার্দ ও আদিলাদ নামে ফ্রান্সের দুইজন খ্রীস্টান সন্ন্যাসী ৮৫৮ খ্রীঃ কর্ডোভায় আসেন। কর্ডোভা হইতে প্রত্যাবর্তনের পর তাহারা ফ্রান্সের রাজার নিকট সেখানকার খ্রীস্টানদের অসন্তুষ্টির রিপোর্ট প্রদান করে। খ্রীস্টান গোঁড়া সম্প্রদায় রাজধানীর নাগরিকদের বিদ্রোহ করিবার জন্য উত্তেজিত করে। প্রথম মুহম্মদকে তাহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে হয়। ফলে তাহাদের শক্তি সম্পূর্ণরূপে খর্ব হয়। গোড়া ইউলোজিয়াস, আলভেরো ও লিওক্রিটিয়াকে (ইসলাম ধর্মত্যাগী অত্যুৎসাহী রমণী) ৮৫৯ খ্রীঃ ফাসী দেওয়া হয়।

নাভাররে ও গ্যালেসিয়ার যুদ্ধ

ইতিমধ্যে ফ্রাঙ্কগণ যাহারা ৮৪৭ খ্রীস্টাব্দে দ্বিতীয় আবদুর রহমানের সহিত শান্তিচুক্তি করিয়াছিল তাহারা স্পেনের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের সুযোগ লইয়া যুদ্ধাভিযান শুরু করে এবং দেশের প্রভূত ক্ষতি সাধন করে। গ্যালেসিয়ান এবং নাভাররেগণ একই পথ অনুসরণ করিয়া এই সুযোগ গ্রহণ করে। মেরিদা এবং সারাগোসার গভর্নরদ্বয়কে মুহাম্মদ সৈন্য সংগ্রহ করিয়া সীমান্তের দিকে অগ্রসর হইতে নির্দেশ দেন। এই সময় হাম্বলী ও মালেকী দুই সুন্নী সম্প্রদায় স্পেনে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মুহাম্মদ নিজে এই সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করেন এবং দুই বিরোধী সম্প্রদায়কে একত্রিত করিয়া খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করিতে সক্ষম হন। গ্যালেসিয়া, লিওন ও নাভাররের খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই অভিযান পরিচালিত হয়। গথিক মার্চ পুনর্বার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাস্কদের বাসভূমি নাভাররে ৮৬১ খ্রীস্টাব্দে আক্রান্ত হয় এবং রাজধানী পাম্পলোনাসহ ইহার পার্শ্ববর্তী এলাকা পুনরায় মুসলমানদের দখলে আসে। খ্রীস্টানরা তাহাদের দুর্গে আত্মগোপন করে কিন্তু মুনজিরের প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথে তাহারা পুনরায় বাহিরে আসে এবং উত্তর স্পেনের মুসলমানদের মধ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাহারা বহু শহর লুণ্ঠন করিবার পর অগ্নি সংযোেগ করে। লুসিতানিয়া ও লিওট্রা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমীরের নেতৃত্বে কর্ডোভার অশ্বারোহী সৈন্যদল গ্যালেসিয়া অভিমুখে অগ্রসর হয়। মেরিদাতে অবস্থানরত সেনাবাহিনী তাহার সহিত

যোগদান করে। ৮৬৫ খ্রীস্টাব্দে লিওনের খ্রীস্টান শাসক বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাহার সহিত এক শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন। পরবর্তী বৎসর প্রথম মুহাম্মদ ও কেশহীন চার্লসের মধ্যে অন্য একটি চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং বিদ্রোহীদের কোন প্রকার সাহায্য করিবে না এই শর্তে তাহাকে ক্যাটালোনিয়া প্রত্যার্পণ করা হয়।

বানু কাসিদের স্বাধীনতা ঘোষণা

নবম শতাব্দীর শেষ প্রান্তে কিছু সংখ্যক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। নবমুসলিম বার্বার ও খ্রীস্টানদের অসন্তুষ্টির সুযোেগ লইয়া তাহারা স্বাধীন ও আধা-স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েমের চেষ্টা করে। ক্যাটালোনিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত থাকে এবং পূর্ববর্তী বৎসরের যুদ্ধবিজয়ী সীমান্তের গভর্নর দ্বিতীয় মুসা এবার আরিয়ানদের কঠিন চাপের সম্মুখীন হন। মুসা আমীরের ক্রোধে পতিত হন। তিনি আরিয়ান রাজার পক্ষ অবলম্বন করেন এবং নাভাররের কাউন্ট গার্সিয়ার সহিত তাহার কন্যার বিবাহ দেন। দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা খ্রীস্টানদের আক্রমণ হইতে রক্ষার জন্য মার্চগুলি উপকারে আসে, সীমান্ত প্রদেশের গভর্নরদের হস্তে সীমাহীন ক্ষমতা প্রদত্ত হয়। এই সমস্ত ক্ষমতা তাহারা স্বীয় স্বার্থে ব্যবহার করে। পুরাতন ভিজিগথিক পরিবারের বনু কাসি উত্তরে মার্চের আরাগোনে এক স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করে। ইহার রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয় সারাগোসায়। এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জনৈক জাইয়াদ, ভিজিগথিক অভিজাত সম্প্রদায়ের পরবর্তী বংশধর। তিনি পূর্বে সারাগোসার গভর্নর ছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া তিনি বিদ্রোহীদের সহিত যোগদান করেন এবং ৮৪২ খ্রীঃ সারাগোসা অধিকার করেন। তিনি বহুবার রাজকীয় বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেন। তুলো,হুয়েস্কা এবং টলেডোর নেতাগণ দ্বিতীয় মুসা নামে পরিচিত বনু কাসির শাসক মুসা ইবনে মুসা ইবনে আল কাসীর নিকট আত্মসমর্পণ করে। মুসা যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন আমীরকে প্রতিহত করেন। তিনি সারাগোসা, তুলো এবং হুয়েস্কাকে প্রধান নগর রূপে আপার মার্চে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। উত্তর সীমান্তের অসন্তুষ্ট জনগণ দলে দলে তাহার সহিত যোগদান করে। গাসকোন ও নাভাররেগণও তাহাকে সমর্থন জানায়। নাভাররে ও পামপ্লেনার সহিত ইবনে কাসির রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। নাভাররে ও পাম্পোেনা এলাকায় খ্রীস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠায় দ্বিতীয় মুসা সাহায্য করে।

পরে তিনি ক্যাস্টাইল এবং বার্সিলোনার কাউন্টসদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং পীরেনীজ অতিক্রম করিয়া কেশহীন চার্লসকে শান্তিচুক্তি সম্পাদন ও কর প্রদানে বাধ্য করেন। ফ্রান্সের খ্রীস্টান ও স্পেনের মুসলমানগণ তাহার স্বাধীনতাকে স্বীকার করিয়া নেয়। তিনি নিজেকে স্পেনের তৃতীয় রাজা বলিয়া ঘোষণা করেন। মুসার মৃত্যুর পর তাহার পুত্র লোপ টলেডোতে একজন সেনানায়ক রূপে নিযুক্ত হয়। ৮৬২ খ্রীস্টাব্দে প্রথম মুহাম্মদ সারাগোসা ও তুলো অধিকার করেন। দশ বৎসর পর মুসার তিন পুত্র পিতার হৃত গৌরবকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে এবং রাজকীয় সেনাকে পুনরায় বিতাড়িত করিয়া

স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আলফন্সের সাহায্যে তাহারা ৮৮৪ খ্রীস্টাব্দে আমীরের সারাগোসা দখলের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করিয়া দেয় এবং স্বাধীন সত্তা বজায় রাখে। এই এলাকায় আরব বংশোদ্ভূত লোকেরা গোলযোগের সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতা দাবী করে।

ইবনে মারোয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা

মেরিদার অধিবাসিগণ সারাগোসার পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া ৮৬৮ খ্রীঃ নাগাদ আবদুর রহমান ইবনে মারোয়ান বিন ইউনুস আল জিলিকী নামে জনৈক নব মুসলিমের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। দ্বিতীয় আবদুর রহমানের শাসন আমলে তাহার পিতা মারোয়ান বিন ইউনুস লোয়ার মার্চে মেরিষ্কার গভর্নর ছিলেন। রাজকীয় বাহিনীর আক্রমণের মুখে মেরিদাবাসিগণ অবশ্য আত্মসমর্পণ করে এবং তাহাদের নেতাকে আমীরের দেহরক্ষীদের ক্যাপ্টেন নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ৮৭৫ খ্রীঃ প্রধানমন্ত্রী হাশিম বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক অপমানিত হইয়া সে মেরিদার দক্ষিণ পূর্বে ২০ কিলোমিটার ১২ মাইল) দূরে অবস্থিত আলাঞ্জেতে এবং তৎপর গোয়াদিয়ানার উপত্যকা বাদাজোজে পলাইয়া যায়। ইহা সে দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত করিয়াছিল। সে অপর বিদ্রোহী আদুন আল সুরুনবাকীর সহিত যোগ দিয়া মেরিদা ও অন্যান্য জায়গার নব মুসলিমদের মধ্য হইতে বহুসংখ্যক সেনা সংগ্রহ করে এবং সারা এলাকা ব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সে তৃতীয় আল ফন্সের সহযোগিতায় হাশিমের নেতৃত্বে তাহার বিরুদ্ধে প্রেরিত সেনা বাহিনীকে পরাজিত করে। উমাইয়া সেনাপতি পরাজিত হইয়া বন্দী অবস্থায় লিওনের শাসকের নিকট প্রেরিত হন। একলক্ষ দিনার মুক্তিপণের বিনিময়ে তিনি দুই বৎসর পর মুক্তি লাভ করেন। ইতিমধ্যে ইবনে মারোয়ান সেভিল ও নিয়েবলার জেলাসমূহের ধ্বংস সাধন করে। বার বার তাহার বিরুদ্ধে রাজকীয় বাহিনী প্রেরণ করিয়া তাহাকে দমন করা সম্ভব হয় না। এই এলাকায় শান্তি স্থাপনের জন্য আমীর বাদাজোজ ও মেরিদাতে তাহার শাসন স্বীকার করিয়া নেন। তৃতীয় আবদুর রহমানের শাসনকাল ৯৩০ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত ইহা সম্পূর্ণভাবে পুনর্দখল করিতে পারেন নাই। এইরূপে মুয়াল্লাদ নবমুসলিম বংশোদ্ভূত ইবনে জিল্লিকী ও তাহার পুত্র মেরিদাকে রাজধানী করিয়া প্রায় পঞ্চান্ন বৎসর নিম্ন মার্চ শাসন করেন।

নরম্যান আক্রমণ

৮৫৯ খ্রীস্টাব্দে নরম্যানগণ সাতটি জাহাজ লইয়া পুনরায় স্পেনের উপকূল ভাগ আক্রমণ করে এবং মালাগা ও অন্যান্য উপকূলীয় শহরের ক্ষতি সাধন করে। কিন্তু এবার তাহারা বিশেষ সুবিধা করিতে পারে না। দ্বিতীয় আবদুর রহমান প্রথম ও দ্বিতীয় আক্রমণের মধ্যবর্তী সময়ে উপকূলীয় শহরগুলিকে সুরক্ষিত করিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করিয়া গড়িয়া তোলেন। ফলে নরম্যান আক্রমণকে অতি সহজে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। গ্যালেসিয়া আক্রমণের জন্য কর্ডোভার জনগণের পক্ষে সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়। আটলান্টিকের উপকূল হইতে গ্যালেসিয়া আক্রমণের উদ্দেশ্যে গোয়াদালকুইভির নদীর নিম্নাংশে আবদুল হামিদ ইবনে মাগিসের পরিচালনায় একটি নৌবহর যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ইহা যখন আটলান্টিকের

তীরে পৌঁছে সেই সময় ঝড়ে পতিত হয় এবং সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়ে। দুইটির বেশি নৌযান একত্র হইতে অসমর্থ হয় এবং মহাবিপদের মধ্যে নৌঘাটিতে ফিরিয়া আসে। এই ব্যর্থতা পরবর্তীকালে দশম শতাব্দীতে সমুদ্র পথে গ্যালেসিয়া আক্রমণ হইতে মুসলমানদের বিরত করিতে পারে নাই।

ওমর ইবনে হাফসুনপ

মুহাম্মদের শাসন আমলে স্পেনের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে আন্দালুসিয়াতে ওমর ইবনে হাফসুন এক মারাত্মক বিদ্রোহ ঘোষণা করে। রোন্দা ও মালাগার মধ্যবর্তী পার্বত্য অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে তাহার দখলে ছিল। সামান্য সময়ের যুদ্ধ বিরতি ব্যতীত কর্ডোভার তিন জন আমীর ও একজন খলিফার সহিত তিনি যুদ্ধ চালাইয়া যান। ৮৬০ খ্রীস্টাব্দে তিনি রোন্দার নিকটবর্তী হিসন আনটে (iznate) জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পিতা হাফস বিন ওমর বিন জাফর আল ইসলামী ছিলেন ভিজিগথ জমিদার। মালগার উত্তর-পূর্বে তিনি বাস করিতেন। আল হাকামের রাজত্বকালে হাফস রোন্দা ত্যাগ করে এবং মালাগার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রোন্দার অন্তর্গত ইজটের নিকটবর্তী একটি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে তিনি খ্রীস্টান ধর্ম ত্যাগ করিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ব্যবসা করিয়া তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক। হন এবং হাফসুন নামে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত বংশীয় লোক কিন্তু তাহার পুত্র ওমর ছিলেন উগ্র মেজাজী ও দস্যু-প্রকৃতির। ওমর একবার জনৈক স্থানীয় সরকারি কর্মচারীকে হত্যা করিয়া তাহার পিতার সহিত বোষ্ট্র পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত সেরানীয়া ডে রোন্ডাতে পলায়ন করে। এবং তাহার ঘৃণ্য পথ পরিত্যাগ করিতে অস্বীকৃতি জানায়। অতঃপর তাহার পিতা প্রাদেশিক গভর্নরের জারীকৃত পরোয়ানার বিরুদ্ধে তাহাকে শতর্ক করিয়া দিলে ওমর উত্তর আফ্রিকায় পলায়ন করে এবং তাহিরাতের এক দজীর গৃহে আশ্রয় গ্রহণ করে। দর্জীর সহিত তাহার পিতার পরিচয় ছিল কিন্তু ওমরের চরিত্র সম্পর্কে তিনি কিছু জানিতেন না।

সেখানে জনৈক প্রতিবেশী তাহাকে চিনিতে পারে। সে তাহাকে আরবদের বিরুদ্ধে আন্দালুসীয়দের নেতৃত্ব দানের জন্য স্পেন যাত্রার পরামর্শ দেয়। উমাইয়া প্রতিনিধি তাহিরাতের যুবরাজ কর্তৃক ধৃত হইয়া প্রথম মুহাম্মদের হস্তে হস্তান্তরিত হইবার ভয়ে সে আফ্রিকা হইতে পলায়ন করিয়া ৮৮০ খ্রীস্টাব্দে স্পেনে উপস্থিত হয়। তাহার চাচা মুজাবিরের সহযোগিতায় চল্লিশ জন ডাকাতের একটি দল গঠন করিয়া বোবাষ্ট্র পর্বতে অবস্থিত পুরাতন রোমান দুর্গে বসবাস করিতে শুরু করে। বর্তমানে এই দুইটি এলাকা ক্যাস্টিললান (el Castillon) নামে পরিচিত। এলভিরার পর্বতবাসীদের সমর্থনে তিনি মুজারাব ও নবমুসলিমদের নেতৃত্ব দান করেন। তিনি মুজারাব ও নব মুসলিমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় আমীর প্রথম মুহাম্মদ, আল মুনজির ও আবদুল্লাহ এবং খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখেন। ইবনে হাফসুন তাহার স্বার্থ সিদ্ধির পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী কোন আদর্শের তোয়াক্কা করিতেন না।

তাহার বিরুদ্ধে প্রেরিত প্রথম মুহাম্মদের রাজকীয় বাহিনী দুইবার পরাজিত হয়। মুহাম্মদের প্রধান মন্ত্রী হাশিম তাহাকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ রূপে পরাজিত করেন। ওমরের বীরত্বে মুগ্ধ হইয়া প্রধানমন্ত্রী হাশিম তাহাকে ৮৮৩ খ্রীঃ সেনা বিভাগের চাকুরীতে নিয়োগ করেন। একাধিক যুদ্ধে বিশেষ করিয়া পোনছেরভো-এর যুদ্ধে সে কৃতিত্বের পরিচয় দান করে। বনু কাসি নেতা লোপ-পুত্র মুহাম্মদ এবং আরিয়ানদের বিরুদ্ধে ইবনে হাফসুন সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করেন। নগরীর ক্ষমতাশালী ব্যক্তি মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ ইবনে ঘানিম প্রধান মন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বীর নিকট অত্যন্ত বিরাগভাজন ছিলেন। ফলে ঘানিম সৈন্যদের জন্য নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করিয়া ওমরকে অপমানিত করেন। সে ইবনে ঘানিমের বিরুদ্ধে হাশিমের নিকট নালিশ করে কিন্তু কোন প্রতিকার

হওয়ায় রাগন্বিত হইয়া ৮৮৪ খ্রীঃ সে প্রথম মুহাম্মদের সেনাবাহিনী ত্যাগ করিয়া চলিয়া যায় এবং বোবাষ্ট্র পর্বতের দস্যুদলের সহিত তাহার ভাগ্যকে আবার বিজড়িত করে। সেখানে রাজধানী স্থাপন করিয়া মুহাম্মদের শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন এবং আরবদের গোলামী হইতে নবমুসলিমদের মুক্তি, দারিদ্র্য, শোষণ ও অবিচারের প্রতিকার বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। বিরাট সংখ্যক ভাগ্যান্বেষী অসিয়া তাহার সহিত যোগদান করে। এই পার্বত্য অঞ্চলে তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করিয়া শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জায়েন ও ইজনাজারের মুসলমান অমুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে হত্যা ও তাহাদের ধন সম্পদ লুণ্ঠন করে। জাইদ ইবনে কাসিমের নেতৃত্বে বিদ্রোহ দমনের জন্য আমীর সেনা বাহিনী প্রেরণ করেন। ওমর রাজকীয় বাহিনীর মোকাবেলা করিতে সাহস না পাওয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাহাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা হয় কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া জায়েদকে হত্যা করে এবং মুসলিম বাহিনীকে আক্রমণ করে। প্রথম মুহাম্মদ এই খবরে ক্রোধাৰিত ও ক্ষিপ্ত হইয়া ওঠে এবং ৮৮৬ খ্রীঃ জুন মাসে ওমরকে সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মুনজিরকে আদেশ করেন। তিনি কর্ডোভা ও সেভিলের গভর্নরদ্বয়কে বিদ্রোহ দমনে যুবরাজকে সাহায্য করিতে নির্দেশ দেন।

ওমরের মিত্র ও সহযোগী অপর বিদ্রোহী আলহামা দুর্গের প্রধান, আবদুল মালিক রাজকীয় বাহিনীর মোকাবেলা করিলেও যুদ্ধে নিহত হয়। কর্ডোভায় আমীরের নিকট তাহার মস্তক প্রেরিত হয়। ওমর তাহার সাহায্যার্থে আগমন করিলে গুরুতর ভাবে আহত হন ও পলায়ন করেন। ওমরের সৌভাগ্য যে পিতার মৃত্যু সংবাদ পাইয়া মুনজির অবরোধ প্রত্যাহার করিয়া রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন।

মৃত্যুঃ আমীর প্রথম মুহাম্মদ ৩৪ বৎসর রাজ্য শাসনের পর (২৭৩ হিঃ ২৯শে সফর /৪ঠা আগস্ট ৮৮৬ খ্রীঃ) ৬৫ বৎসর বয়সে দেহ ত্যাগ করেন। তিনি তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র মুনজিরকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।

চরিত্র ও কৃতিত্ব

প্রথম মুহাম্মদ ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও সাহসী কিন্তু সংকীর্ণমনা ও লোভী ছিলেন। তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করেন। রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাবে তাহার শাসন আমলে স্পেনের বিভিন্নাংশে স্বাধীন ও আধাস্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তিনি সরকারী কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর বেতন হ্রাস করেন এবং পুরাতন মন্ত্রীদের অপসারণ করিয়া তদস্থলে কম বেতনের অল্প বয়সী অনভিজ্ঞ লোকদিগকে নিযুক্ত করেন। তিনি বহু সংখ্যক খ্রীস্টান কর্মচারী ও সৈনিককে অপসারণ করেন। সুশিক্ষিত ও ধীরস্থির খ্রীস্টান গমেজকে ৮৫২ খ্রীঃ প্রধান সচিব হিসাবে নিযুক্ত করেন। অর্থনৈতিক ব্যাপারসমূহ আমীর স্বয়ং দেখাশুনা করিতেন। ইহাতে দুর্নীতি পরায়ণ কর্মচারীরা অসন্তুষ্ট ছিল। এই ব্যবস্থা অবলম্বনের ফলে তাহাদের জন্য দুর্নীতির সমস্ত দরজা বন্ধ হইয়া যায়।

একবার এক কোষাধ্যক্ষের হিসাবে ১৫ দীরহামের গরমিল হয়। আমীরের নজরে এই গরমিল ধরা পড়ে তিনি সংশোধনের জন্য হিসাবের খাতা সচিব ও কোষাধ্যক্ষের নিকট ফেরৎ পাঠান। তাহারা উভয়ে এই ভুল বাহির করিতে অসমর্থ হওয়ায় আমীর নিজে শেষ পর্যন্ত এই ভুল দেখাইয়া দেন। ইহার পরে কর্মচারীরা তাহাকে ঘৃণা করিত কিন্তু ফকিহগণ তাহার সুবিচার ও গোঁড়া খ্রীস্টানদের দমন করায় তাহাকে ভালবাসিতেন।

তিনি ছিলেন একধারে কবি, সাহিত্যিক ও বাগ্মী। তিনি পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা করিতেন। প্রথম মুহাম্মদ রাষ্ট্রপরিচালনায় কর্ডোভা মসজিদের কাজির পরামর্শ গ্রহণ করিতেন। মুক্ত বুদ্ধির অধিকারী আমীর প্রাচ্য-চিন্তাবিদ ও হাদিসবেত্তা বাকী ইবনে মাখলাদকে (মৃঃ ২৭৬ হিঃ/৮৮৯ খ্রীঃ) অনুপ্রাণিত করেন। আন্দালুসের শিয়া মতাবলম্বীদের মধ্যে বাকী ছিলেন সুপরিচিত। বিখ্যাত ধর্মীয়তত্ত্ব বিশারদ ইবনে আবী শায়বাহর মতবাদের উপর তিনি বক্তৃতা করেন। মালেকীদের এবং হাদীসের সমর্থক স্পেনের অন্যান্য ধর্মীয় আইনের প্রবক্তাদের বিরুদ্ধেও তিনি সমালোচনা করেন। আইন বিজ্ঞানের ব্যাপারে বাকী হাদিসের অন্তর্নিহিত আদর্শের অনুসরণে মুক্ত চিন্তার মাধ্যমে আইন প্রণয়নের সমর্থক ছিলেন। এই মতের সমর্থন করিয়া কর্ডোভায় তাহার ছাত্রদের শিক্ষা দান করিতেন। মুতাজিলা মতবাদের সমর্থক বিখ্যাত আল জাহিজের (মৃঃ ৮৬৯) গ্রন্থাবলী তাঁহার সময়ে উসমান ইবনে আল মুসান্না ও ফারাজ ইবনে সাল্লামা স্পেনে আনেন। আলজাহিজ কর্তৃক রচিত কিতাবুল হাইয়ান’ গ্রন্থখানিতে জীবতত্ত্বের তুলনায় ধর্মতত্ত্ব, লোক কাহিনী ও দার্শনিক মতবাদই প্রাধান্য পাইয়াছে বেশি। এই উদার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আকৃষ্ট হইয়া চিন্তাবিদগণ কর্ডোভায় ভীড় জমায় এবং মুক্ত চিন্তার চর্চায় উৎসাহ বোধ করে। মালেকী মতবাদের উপর একখানি সম্পূরক গ্রন্থ রচিত হয়। প্রথম মুহাম্মদের শাসন আমলে প্রাচ্যের একজন বিখ্যাত চিকিৎসাবিদ স্পেনে আগমন করেন

এবং সেখানে একটি চিকিৎসক পরিবারের সূচনা করেন। পরবর্তীকালে বিশেষ করিয়া খেলাফত আমলে এই সমস্ত চিকিৎসাবিদগণ প্রচুর যশ ও খ্যাতি অর্জন করেন … কর আদায়ের সুবিধার্থে তিনি বিশপ হোস্টেজেসিসকে খাজনা, জিজিয়া ও বাৎসরিক দর্শনী দাতাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করিবার নির্দেশ দেন। প্রথম মুহাম্মদ দুর্ভিক্ষ বিরাজমান অবস্থায় মুহতাসিব ইব্রাহিম বিন আসিমকে কর অনাদায়ে দোষী ব্যক্তির মস্তক ছেদন ও হস্তকর্তনের বিশেষ ক্ষমতা দান করেন। ২৬০ হিঃ/৮৭৩ খ্রীস্টাব্দের দুর্ভিক্ষে এবং ২৬০ হিঃ/৮৮০ খ্রীস্টাব্দের মারাত্মক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য রিলিফের ব্যবস্থা করা হয়।

পিতার ন্যায় মুহাম্মদও সৌন্দর্য ও আঁকজমক-প্রিয় ছিলেন। বৃহৎ অট্টালিকা ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করিয়া তিনি রাজধানীর শ্রীবৃদ্ধি সাধন করেন। তাঁহার সময় কর্ডোভা মসজিদ সম্প্রসারিত হয়। আমীরের নিজের জন্য মিম্বারের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি সুরক্ষিত কামরা (মাকসুরা) নির্মাণ সমাপ্ত করা হয়। দ্বিতীয় আবদুর রহমান ইহার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ইমাম ব্যতীত কোন মুসলমান অথবা শাসকের জন্য মসজিদের মিম্বরের দক্ষিণ পার্শ্বে পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের কামরা (মাকসুরা) নির্দিষ্ট করা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী।

৩০০ পাউণ্ড ওজনের একটি স্বর্ণমূর্তি নির্মাণ করিয়া উহাকে মণিমুক্তা ও মূল্যবান পাথরে সুসজ্জিত করা হয়। মূর্তির দ্বিগুণ মূল্যে একটি বেদী নির্মিত হয়। প্রথম মুহাম্মদের আদেশে মূর্তিটিকে খ্রীস্টানদের স্বর্ণগীর্জায় দান করা হয়।

তথ্য নির্দেশ

১। ই, জি, গমেজ, হিস্টোরিয়া ডি ইস্পনা, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৪২, ও টীকা-২৪।

পারেজা, ইসলামোলোজিয়া, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৬৭। ইবনে ইজারী, বেয়ান, পৃঃ ১১১-১১২। হোল, আন্দালুস, পৃঃ ১৬১। ইবনুল খাতিব, আমল, পৃঃ ২৪; ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৯৯। আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১২৮; ই. জি. গমেজ, হিস্টোরিয়া ডি-ইস্পনা, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৮৮। ইবনুল ফারাজী, টীকা-৮৮৯ ও ১০৩৬।

ইবনুল খাতিব, আমল পৃঃ ২৫। ৯। কন্ট্রিবিউশনস্, পৃঃ ৯৬, ১০৪। ১০। আল-জোকসানী মূল পৃঃ ১৭৮-৭৯, (অনুবাদ, পৃঃ ২২০-২২২)।

সকল অধ্যায়
১.
উপক্রমণিকা (মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস)
২.
প্রথম অধ্যায় : মুসলমানদের স্পেন বিজয়
৩.
দ্বিতীয় অধ্যায় : দামেস্ক-খেলাফতের অধীন উমাইয়া আমীরদের শাসন
৪.
তৃতীয় অধ্যায় : স্বাধীন উমাইয়া আমীরদের রাজত্ব
৫.
চতুর্থ অধ্যায় : প্রথম হিশাম
৬.
পঞ্চম অধ্যায় : প্রথম হাকাম
৭.
ষষ্ঠ অধ্যায় : দ্বিতীয় আবদুর রহমান
৮.
সপ্তম অধ্যায় : প্রথম মুহাম্মদ
৯.
অষ্টম অধ্যায় : মুনজির ও আবদুল্লাহ
১০.
নবম অধ্যায় : উমাইয়া খিলাফত
১১.
দশম অধ্যায় : দ্বিতীয় হাকাম
১২.
একাদশ অধ্যায় : হাজীব আল-মনসুর
১৩.
দ্বাদশ অধ্যায় : স্পেনে উমাইয়া খিলাফতের পতন
১৪.
ত্রয়োদশ অধ্যায় : স্পেনের উত্তরাঞ্চলে খ্রীস্টান রাষ্ট্রসমূহের অভ্যুদয়
১৫.
চতুর্দশ অধ্যায় : প্রথম পর্যায় ক্ষুদ্র রাজ্যসমূহ
১৬.
পঞ্চদশ অধ্যায় : দ্বিতীয় পর্যায় – উত্তর আফ্রিকার শাসন
১৭.
ষষ্ঠদশ অধ্যায় : তৃতীয় পর্যায়ঃ নাসরী রাজবংশ
১৮.
সপ্তদশ অধ্যায় : মরিস্ক জাতি
১৯.
অষ্টাদশ অধ্যায় : স্পেনে মুসলিম শাসনের পতনের কারণসমূহ
২০.
উনবিংশ অধ্যায় : শাসনকার্য ও প্রশাসন
২১.
পরিশিষ্ট-ক : ইক্রিতিশে কর্ডোভান মুসলমানদের শাসন
২২.
পরিশিষ্ট-খ : স্পেনে মুসলিম শাসকদের বংশানুক্রমিক তালিকা
২৩.
পরিশিষ্ট-গ : উত্তর-স্পেনে খ্রিষ্টান শাসকদের কালানুক্রমিক তালিকা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%