ত্রয়োদশ অধ্যায় : স্পেনের উত্তরাঞ্চলে খ্রীস্টান রাষ্ট্রসমূহের অভ্যুদয়

স্পেনের উত্তরাঞ্চলে খ্রীস্টান রাষ্ট্রসমূহের অভ্যুদয়

ত্রয়োদশ অধ্যায়

মুসলিম কর্তক স্পেন বিজিত হওয়ার পর খ্রীস্টানদের কতিপয় দল দেশের উত্তরাঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানকার পর্বত্য এলাকায় তাহারা নিজদিগকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বার বার পরাজিত হইয়াও সেখানে টিকিয়া থাকে এবং শক্তি সঞ্চয় করে। মুসলিম শাসনের প্রথম দিকে তাহাদিগকে জাতি হিসাবে চিহ্নিত করা কঠিন ছিল। প্রত্যেক নেতা তাহার নিজের দুর্গে স্বাধীন ভাবে জীবন যাপন করিত। তখনও তাহাদের মধ্যে জাতীয় চেতনার উদয় হয় নাই।

কতিপয় অভিজাত ব্যক্তি, বিশপ ও রডারিকের পলাতক সৈন্যরা আস্তুরিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে (ইউরোপের পর্বত চূড়া) সমবেত হয় এবং পিলাইওর (Pelayo) অন্তর্গত কানগাস ডে অনিসের পল্লীতে এক উপজাতীয় পরিষদের অনুষ্ঠানে রডারিকের দেহরক্ষী ও দেশের দক্ষিণাংশ হইতে পলাতক পিলাওর নামে জনৈক আরিয়ানকে রডারিকের স্থলাভিষিক্ত নেতা নির্বাচিত করে। পিলাইও এই সমস্ত বিশৃঙ্খল ভক্তদিগকে নেতৃত্ব দান করিয়া লেফটেনান্ট গভর্নর আল কামাহর নেতৃত্বাধীনে মুসলিম সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করে ৭১৮ খ্রীঃ কোভাডোঙ্গা উপত্যকায়। তাহাকে এই বিজয়ের জন্য অস্বাভাবিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। পিলাইও তাহার ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে (১৫ বর্গমাইল) পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত করেন সেই সময়, যখন ফ্রাঙ্কিশ সম্রাট চার্লস মার্টেল ও তাহার উত্তরাধিকারী কর্তৃক ফ্রান্সে মুসলিম স্থিতি অবস্থান টলটলায়মান হইয়া ওঠে। মুসলিমগণ নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ায় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বে-বিসকাইয়ান উপসাগরের বাঁকে অবস্থিত বাস্কেয় মালভূমি (heart land) অধিকারে রাখিবার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সেনা নিয়োগ করিতে অপারগ হন। ফলে উত্তর-পশ্চিমের শেষ প্রান্ত হইতে মুসলমানদের পিছনে হটিয়া আসিতে হয়। এই সুযোগে পিলাইও তাহার রাজ্যের সীমা বাড়াইতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে তাহার উত্তরাধিকারীগণ ও উচ্চাকাক্ষী খ্রীস্টান নেতাগণ তাহাদের সীমান্ত ডুরোর দক্ষিণে এবং কায়িম বারা, কোরিয়া, তালাভেরা, টলেডো ও গোয়াদালাজারার উত্তরে অবস্থিত এলাকায় তাহাদের রাজ্য সম্প্রসারণ করেন। যদিও তাহারা একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত দক্ষিণের মুসলমানদের বিরুদ্ধে সক্রিয় আক্রমণ চালাইতে পারে নাই। আবদুল্লাহর শাসন আমলে মুসলমানদের দুর্দিনে পর্যন্ত গোয়াদাররামার পর্বতসমূহ হইতে সীমান্ত বৃদ্ধি করিতে পারে নাই। অর্থাৎ ডুরোর সন্নিকটে সীমান্তকে পূর্বাবস্থায় রাখিতে ব্যর্থ হয়। মুসলমানের খেলাফতের চরম উন্নতির যুগে হাজীব আল-মনসুর উক্ত অঞ্চলের কতিপয় জায়গা ব্যতীত খ্রীস্টান স্পেনের সমস্ত এলাকা পদানত করেন।

৭৩৭ খ্রীস্টাব্দে পিলাইও মৃত্যবরণ করেন। আস্তুরিয়ানদের একশত বৎসরের শাসন আমলে তাহারা মাত্র দুইজন উপযুক্ত শাসক আলফন্সে প্রথম (৭৩৯-৭৫৭) ও দ্বিতীয় আলফন্সে (৭৯১-৮৪২) সৃষ্টি করিতে সমর্থ হন। কান্টাব্রিয়ার কাউন্ট অথবা স্বাধীন গভর্নরের পুত্র প্রথম আলফন্সে পিলাইওর কন্যা এমিসিন্দাকে বিবাহ করেন এবং দুইটি ক্ষুদ্র রাজ্যকে একত্রিত করিয়া আস্তুরিয়া নামে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। উমাইয়া গভর্নরদের শাসন আমলে ৭৪০-৪১ খ্রীঃ যখন বার্বারগণ উৎপাত সৃষ্টি করে আরব অবস্থান ডুরো উপত্যকা হাতছাড়া হইয়া যায় এবং নতুন রাষ্ট্র আরিয়া বিস্তৃতি লাভ করিতে শুরু করে। প্রথম আলফন্সে উত্তরাঞ্চলের পর্বতের অপর পার্শ্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের সুদূর দক্ষিণে সিগোভিয়া ও আভিলা এলাকার ক্ষতি সাধন করে। কিন্তু পূর্বে আরিয়া ও কান্টাব্রিয়া এবং পশ্চিমে গ্যালেসিয়ার মধ্যবর্তী এলাকা অধিকারে রাখিতে ব্যর্থ হয়। আলফন্সের শাসন আসলে খ্রীস্টান রাজ্য মুসলিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে এবং তাহার অভিযান কালে প্রথম আলফন্সে হাজার হাজার মুজারাবকে তাহার সীমান্ত পূর্ব স্থানে ফিরাইয়া আনেন। মুসলমান কর্তৃক পরিত্যক্ত আইবেরিয়ান উপদ্বীপের এক চতুর্থাংশ এলাকার কিছু অংশে সেনা চলাচলের জন্য মার্চ (মূল ঘাঁটি) নির্মাণ করেন। যেহেতু আস্তুরিয়ান সাম্রাজ্য মুসলিম মার্চ হইতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত ছিল এবং প্রথম হিশাম ও প্রথম হাকাম অভ্যন্তরীণ গোলযোেগ দমনে ব্যস্ত ছিলেন। এই অবস্থার পরিপূর্ণ সুযোগ লইয়া দ্বিতীয় আলফন্সে পশ্চিমে লিসবন আক্রমণ করিয়া দ্বিতীয় আলফন্সে এবং তাহার চাচা প্রথম বার্মুডো মুসলিম কমান্ডার আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে গ্যালেসিয়া ও আস্তুরিয়ায় সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করেন। প্রথম দিকে অসুবিধাজনক অবস্থার সম্মুখীন হইলেও শেষ অবধি ৭৯২ খ্রীস্টাব্দে কর্ডোভান সেনাবাহিনীকে চরমভাবে পরাজিত করেন। আস্তুরিয়ান শাসক ফ্রাঙ্কিশ সম্রাট চার্লেমান ও তাহার পুত্র আকিটেনের রাজা লুইসের সহিত দক্ষিণের উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হন। বিদেশী শক্তির সহিত এই সখ্যতায় খ্রীস্টান নেতাগণ সন্তুষ্ট হইলেন না। ইহার মধ্যে তাহারা নিজেদের ধ্বংসের পূর্বাভাস লক্ষ্য করিল, কারণ শক্তিশালী রাজতন্ত্র কখনও অভিজাত সম্প্রদায়কে সহ্য করিতে পারেনা। আস্তুরিয়ার উপজাতিগণ এবং গ্যালেসিয়া দীর্ঘদিন সংগ্রামের পর ভিজিগথিক জীবন ব্যবস্থাকে স্বীকার করিয়া লইতে বাধ্য হয়। এবং কান্টাব্রিয়গণ বিরোধিতা অব্যাহত রাখে। অপরদিকে বাস্কগণ তাহাদের আদিম স্বাধীনতা পরিত্যাগ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবরোর উচ্চ উপত্যকা সারাগোসা মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আরিয়ান, কান্টাব্রিয়ান এবং বাস্কগণ কান্টাব্রিয়ান পর্বতমালার সংকীর্ণ গিরিসংকটের মধ্য দিয়া মুসলীম সীমান্ত অতিক্রম করিয়া এবরোর উচ্চ উপত্যকায় নিজদিগকে পুনর্বাসিত করেন। যেহেতু এলাকাটি খ্রীস্টান সন্ন্যাসী ও খ্রীস্টান সর্দারদের

আধীন ছিল তাহারা ইহাকে পুরাতন পদ্ধতির দুর্গের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা করিত। এই এলাকায় উহারা ক্যাস্টাইল নামে পরিচিত ছিল। ৮০০ খ্রীস্টাব্দে প্রথম বারের মত তাহাদের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। এই সমস্ত অভিযান ও পুনর্বাসনের কার্য দ্বিতীয় আলফন্সে এবং অপরাপর আন্ডুরিয়ান শাসকদের আদেশে পরিচালিত হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই স্থানীয় সর্দারদের দ্বারা এই সমস্ত অভিযান পরিচালিত হইত এবং বিজয় লাভের পর শাসকদের আনুষ্ঠানিক অনুমতি লাভ করিত।

দ্বিতীয় আলফন্সে তাহার সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠিত করেন এবং রাজধানীকে ওভিয়েডোতে (ovetao) স্থানান্তরিত করেন। এইরূপে গথিক সাম্রাজ্য সুসংগঠিত হয় এবং ওভিয়েডো সমৃদ্ধশালী হইয়া ওঠে। প্রাসাদ, চার্চ এবং সুন্দর ব্যাসিলিকা এবং মুসলমানদের প্রথা অনুকরণে জনগণের জন্য নির্মিত হয় গোসলখানা। দ্বিতীয় আলফন্সের রাজতুকাল ৮১০-৮৩০ খ্রীস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে উত্তর-পূর্ব গ্যালেসিয়ায় মহামতি সন্ন্যাসী জেমসের মৃতদেহ ও সমাধি ক্ষেত্র আবিষ্কারের ফলে তিনি খ্রীস্টান জগতে বিশেষ ভাবে পরিচিতি লাভ করেন। ইহা তীর্থস্থানে পরিণত হয়। ইহা স্পেনের অভ্যন্তরে বৈদেশিক প্রভাব ও অনুপ্রবেশকে সাহায্য করে। সেখানে সান্টিয়াগো ডে কম্পোস্টিলা নামে একটি পল্লীর জন্ম হয়। যাহা ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক ও শিল্পসমৃদ্ধ নগরীতে রূপান্তরিত হয় এবং পবিত্রতায় রোমের প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিগণিত হয়।

পরবর্তী দুই শতাব্দী অর্থাৎ কর্ডোভার উমাইয়াদের পতনকাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ওভিয়েডডা ও লিওন খ্রীস্টান শাসকদের দ্বারা সামান্যতম উন্নতি সাধিত হয়। ইতিমধ্যে দশম শতব্দীর প্রথম পাদে লিওনকে রাজধানী করিয়া উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অপর একটি খ্রীস্টান রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়।

এই বৎসরগুলিতে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের উপর উত্তর দিক হইতে বাস্ক ও দক্ষিণ দিক হইত উমাইয়া সেনাবাহিনীর চাপ সৃষ্টি হয়। ইতিহাস খ্যাত তাহাদের নেতা ইনিগো আরিস্টার হস্তে রন্সেসভেলেসের গিরিপথে ফ্রাঙ্কিশ সৈনিকদের পরাজয়ের কয়েক বৎসর পর ৮০০ খ্রীস্টাব্দে পাম্পলোনাতে স্থায়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত তাহারা উমাইয়া ও ফ্রাঙ্কদের কবল হইতে কমবেশী অসংবদ্ধ স্বাধীনতা রক্ষা করে। নাভাররের এই নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন সাঞ্চোগর্সিয়া (৯০৫-৯২৫ খ্রীঃ) ফ্রাঙ্কিশ শাসনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে নাভাররে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়।

ফ্রাঙ্ক ও মুসলমানদের শত্রুতার সুযোগ লইয়া আরাগোনের অধিবাসীগণ তাহাদের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষা করে এবং সেই সময়েই জাকাতে তথাকথিত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে। অরিওলাস অথবা অরিওল আরাগোনে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবে আরিয়ান সাম্রাজ্য ও স্পেনিশ মার্চের মধ্যবর্তী স্থলে নাভাররে, ক্যাস্টাইল ও আরাগোন নামে তিনটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়। এবং ফ্রাঙ্ক ও নাভারেদের মধ্যে বাফার রাষ্ট্র হিসাবে

আরাগোন অবস্থান করে। দশম শতাব্দীর শেষ পাদে উত্তর আরাগোনাতে খ্রীস্টান নেতাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধে ও প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নাভারেগণ উহা অধিকার করিয়া নেয়।

পীরেনীজ পর্যন্ত বিস্তৃত বার্সিলোনা অঞ্চল মুসা অধিকার করেন কিন্তু পরবর্তীকালে দক্ষিণ স্পেনে মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সময় এবং কিছুটা ফ্রাঙ্কের চাপে পড়িয়া মুসলমানগণ সেপ্টিমানিয়া হইতে পশ্চাত অপসারণ করে এবং উত্তর-পূর্ব স্পেনে তাহাদের ক্ষমতা হ্রাস করে। ফলে ফ্রাঙ্ক শাসকগণ রাজনৈতিক অধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে তাহাদের রাজ্যের সীমা বর্ধিত করেন এবং ৭৮৫-৮১১ খ্রীস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাটালোন অঞ্চল দখল করিয়া ৭৯৮ খ্রীস্টাব্দে তাহাদের নেতৃত্বে এক আধা স্বাধীন কাউন্টরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, ইহাকে গথিক মার্চ (স্পেনিশ মার্চ) বলে। ফ্রাঙ্কিশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই রাজ্যটি পীরেনীজ হইতে এবরো ও পাম্পলোনা হইতে বার্সিলোনা পর্যন্ত ছিল। এবং ৮০১ খ্রীস্টাব্দে ফ্রাঙ্কগণ কর্তৃক অধিকৃত এই রাজ্যটির প্রথম লর্ড ছিল জনৈক সম্ভ্রান্ত ফ্রাঙ্কিশ। স্পেনের মুসলিম এলাকা হইতে লাঞ্ছিত খ্রীস্টানগণ এখানে। আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করিত। এবং স্পেনের মুসলিম অধ্যুসিত এলাকায় অভিযান ও ফ্রাঙ্ককে প্রতিরক্ষা করিবার জন্য সেনাদের ফাড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হইত। প্রথম হিশাম ও প্রথম হাকামের রাজত্বকালে ফ্রাঙ্ক ও উমাইয়াদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ৮১৬ খ্রীস্টাব্দে কর্ডোভা ও আইক্সলা চাপেল্পের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তিতে উমাইয়া আমীর প্রথম হাকাম বার্সিলোনা অঞ্চলে ফ্রাঙ্কের স্থায়ী অধিকার স্বীকার করিয়া নেন। এই ক্ষুদ্র রাজ্য কয়েকটি কাউন্টশীপে বিভক্ত হয় যথা—পিলার্স, সোবরার্বে ও রিবাগোরজা প্রত্যেকটি অঞ্চলই একে অপরের হইতে স্বাধীন ছিল কিন্তু ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্যের সাথে শিথিল বন্ধন ছিল। ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্য মাত্র আশি বৎসর তাহাদিগকে অধিকারে রাখিতে সমর্থ হয়। এই সমস্ত কাউন্টগণ আধিপত্য বিস্তারের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় ফলে বার্সিলোনার কাউন্ট উইফ্রেডো ক্ষমতা দখল করিয়া ৮৭৪ খ্রীস্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ক্যাটালান কাউন্টগণও উত্তর অঞ্চলের খ্রীস্টান সর্দারদের ন্যায় মুসলিম স্পেনের দুর্দিনে উহাকে আক্রমণ করিয়া নিজ রাজ্যের সীমা বৃদ্ধি করিতে চেষ্টা করে।

নবম শতাব্দীর ক্ষমতার লড়াই কেবল মাত্র দুইটি ধর্মের মধ্যকার লড়াই ছিলনা। আন্দালুসিয়ায় এই সময় পর্যন্ত ইসলামকে একমাত্র ঐক্যবিষয়ক শক্তি হিসাবে গণ্য করা হয় নাই। উমাইয়াগণ এই নীতি অনুসরণ করিলেও তাহাতে তেমন সুফল পাওয়া যায় নাই। কোন কোন লেখকের মতে, এই অবস্থার মূলে ছিল ফ্রাঙ্কিশ সামন্ত ব্যবস্থার প্রভাব। যাহার দরুন কৃষকগণ জমিদারদের সহিত ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। ধর্মীয় গোড়ামী এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করিত যদিও স্পেনে তখন অবধি ইউরোপীয় সামন্ত প্রথা চালু হয় নাই।

দুর্বল আমীর প্রথম মুহাম্মদ ও আবদুল্লার শাসন আমলে উত্তরের খ্রীস্টান সর্দার ও কাউন্টগণ তুলনামূলক ভাবে সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তার করিতে পারে নাই। কারণ তাহারা শুধু তাহাদের শত্রু মুসলমানদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে লিপ্ত ছিল না বরঞ্চ ক্ষমতা ও সম্পদের লোভে আত্মকলহে লিপ্ত হয়। আরিয়ান ও গ্যালেসিয়ানদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ ছিল। এবং গ্যালেসিয়ান অভিজাত সম্প্রদায় লিওনিজ সম্রাটের সহিত সর্বদা যুদ্ধে ব্যস্ত ছিল। খ্রীস্টানদের মধ্যে অনৈক্যের ফলে একজন সর্দার অথবা রাজা তাহার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপরের সহিত যোগদান করিত এবং কেহ কেহ কর্ডোভা হইতে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করিত। ফলে তাহাদের নতুন বিজিত এলাকার কিছু অংশ দিতে হইত। এমনকি তাহাদের দখল পর্যন্ত বিক্রি করিয়া দিত।

ইতিমধ্যে আরিয়ান রাজাদেরকে স্মরণ করাইয়া দেওয়া হয় তাহারা ভিজিগথদের উত্তরাধিকারী। এইরূপে তাহারা ভিজিগথিক রাজধানী টলেডো পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্চ আশা পোষণ করিতে শুরু করে। তৃতীয় আলফন্সে (৮৬৬-৯১০ খ্রীঃ) জিমেনা নামে জনৈকা বয়স্ক মহিলাকে বিবাহ করেন। তিনি মুসলিম রাজ্য আক্রমণ করেন এবং তাহার আস্তুর-লিওন সাম্রাজ্যকে সাধারণ জমিদারী ধরনের রাজ্যে রূপান্তরিত করেন। কথিত আছে তিনি কম্পোস্টিলার সেন্ট জেমসের আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ করিয়াছিলেন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় এ স্বর্গীয় শক্তি তাহার সহিত থাকিত। কিন্তু অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দরুন তিনি সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং শুধু জামোরা শহরকে লইয়া তিনি সন্তুষ্ট থাকেন। তাহার পুত্রগণ তাহাদের বাস্ক মাতা জিমেনার সহিত যোগদান করিয়া তৃতীয় আলফন্সের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রকৃতপক্ষে আলফন্সের সাম্রাজ্য লিওন গ্যালেসিয়া ও আরিয়া রাষ্ট্রে বিভক্ত হইয়া যায়। তাহার প্রথম পুত্র গার্সিয়া লিওন, দ্বিতীয় পুত্র অর্ডোননা গ্যালেসিয়া এবং তৃতীয় পুত্র ফুয়েলা আরিয়াস লাভ করেন। তৃতীয় আবদুর রহমান যখন ৯৩৯ খ্রীস্টাব্দে প্রায় একলক্ষ সৈন্যসহ লিওনে অভিযান পরিচালনা করেন সেই সময় লিওন ও আরিয়ার শাসক দ্বিতীয় রামিরো (৯৩২-৯৫০খ্রীঃ) কর্তৃক উত্তর দিকে অগ্রসরকালে বাধা প্রাপ্ত হন। রাজকীয় বাহিনী আধুনিক ভাল্লাডোলিদের দক্ষিণে অবস্থিত সিমানকাসে কয়েকদিনের যুদ্ধের পর পলায়ন করিতে বাধ্য হয় এবং পলায়ন কালে রামিরো কর্তৃক খননকৃত পরিখায় পতিত হইয়া তাহাদের অনেকে প্রাণ হারায়। খ্রীস্টানদিগকে সালামানকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় পুনর্বাসিত করেন এবং ক্যাস্টালিয়ানদের দমনে আত্মেনিয়োগ করেন। তাহার মৃত্যুর পর ৯৫০ খ্রীঃ তৃতীয় আবদুর রহমান উত্তরাঞ্চলে তাহার প্রভাব বৃদ্ধি করেন। গ্যালেসিয়া ব্যতীত সমস্ত খ্রীস্টান সাম্রাজ্য পদানত হয়। তিনি আশ্রিত রাজ্য হিসাবে তাহাদের উপর শাসন পরিচালনা করেন। অভ্যন্তরীণ দিক হইতে তাহারা স্বাধীনতা ভোগ করিত এবং বাৎসরিক কর প্রদান করিত। কিন্তু বাহ্যিক দিক হইতে তাহারা ১১শ শতাব্দীতে উমাইয়া শাসনের পতনকাল পর্যন্ত উমাইয়া খলিফার অধীনে ছিল।

আক্রমণ প্রতিআক্রমণ চলাকালে খ্রীস্টানগণ সীমান্ত বরাবর তাহাদের প্রতিরক্ষার জন্য বহু দুর্গ নির্মাণ করে। বুরগোসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী জনগণ লিওনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। লিওনের শাসক তৃতীয় আলফন্সে ক্যাস্টাইলকে বহু কাউন্টে বিভক্ত করিয়া তাহাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করিতে চেষ্টা করেন। কাউন্টগণ রাজার ইচ্ছানুযায়ী নিযুক্ত ও অপসারিত হইত। তাহারা দ্বিতীয় রামিরো (৯৩০-৯৫০) শাসনকালে কাউন্ট ফারনান গঞ্জালেজের নেতৃত্বে স্বাধীনতা ঘোষণা করিতে সফলকাম হয়।

এই সাম্রাজ্য ও এলাকাকে ক্যাস্টাইল বলা হইত। কারণ লিওন ও অভিয়েডোর রাজাগণ এবং খ্রীস্টান সর্দার মার্চের অধিনায়কগণ কর্তৃক এই এলাকার বহু খ্রীস্টান দুর্গ নির্মিত হইয়াছিল। সীমান্তরক্ষা এবং খ্রীস্টান সর্দার ও মঠের রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত সন্ন্যাসীগণ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখিবার উদ্দেশ্যে এই সমস্ত দুর্গ নির্মাণ করেন। স্কুলদেহী সাঞ্চো ৯৫৫ খ্রীঃ লিওনের রাজা নিযুক্ত হন। কিন্তু অভিজাত সম্প্রদায় কর্তৃক অপসারিত হন। তৃতীয় আবদুর রহমান ও নাভাররের খ্রীস্টান রাজার নিকট হইতে সাহায্য পাইয়া তিনি হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। তিনি উমাইয়া খলিফার সহিত অঙ্গীকারাবদ্ধ হন যে কিছু দুর্গ অপসারণ করিবেন এবং কিছু কিছু শহর খলিফার নিকট সমর্পণ করিবেন। কিন্তু তিনি তৃতীয় আবদুর রহমানের পুত্র ও পরবর্তী শাসকদের শাসনকালে চাপ প্রয়োগের পূর্বে অঙ্গীকার পূর্ণ করিতে অস্বীকার করেন।

সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও ষড়যন্ত্র এবং খ্রীস্টান অধ্যুসিত এলাকায় গৃহযুদ্ধ অব্যাহত থাকে এবং কিছু সংখ্যক খ্রীস্টান রাজা ও নেতা উমাইয়া খলিফা হাজীব আল-মনসুরের সহিত যোগদান করিয়া একে অপরের বিরদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ সম্পর্কে অন্যত্র বিস্তৃত আলোচনা করা হইয়াছে।

১০০২ খ্রীস্টাব্দে মনসুরের মৃত্যুর পর তাহার পুত্র ও উত্তরাধিকারী আবদুল মালিক আল মুজাফফর (১০০২-১০০৮) অল্পদিনের জন্য উমাইয়া শাসনের সুষমা রক্ষা করেন। মুজাফফরের পরবর্তীকালে কোন শক্তিশালী রাজা কিম্বা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না যিনি মুসলিম সাম্রাজ্যকে শাসন করিতে পারিতেন। সুতরাং উমাইয়া সাম্রাজ্য খণ্ড বিখণ্ড হইতে শুরু করে। রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশ দেশের সংহতি বিরোধী ছিল। লিওনের পঞ্চম আলফলো (৯৯৪-১০২৭ খ্রঃ) ও তাহার চাচা নাভাররের শাসক মহান সাঞ্চো (৯৭০-১০৬৫) উত্তর স্পেনের এই দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে দক্ষিণ দিকে তাহাদের সীমান্তকে সম্প্রসারিত করিতে শুরু করেন। লিওনীজগণ পর্তুগাল অঞ্চলে ডুরো অতিক্রম করে এবং ক্যাস্টিলিয়ানগণ তাহাদের স্বার্থের অনুকূলে মুসলিম প্রতিদ্বন্দ্বী

দলগুলির সহিত সাহায্যচুক্তি সম্পাদন করে। পঞ্চম আলফন্সের মৃত্যুর পর দ্রুত সাঞ্চো নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং লিওন অধিকার করেন। আরাগণ, নাভাররের, স্পেনের বাস্ক প্রদেশ ও ফ্রান্স পর্যন্ত তাহার অধিপত্য ঘটে। ক্যাটালোনিয়া ও গ্যালেসিয়া হইতে ফ্রাঙ্কিশ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর স্পেনে তিনি এক শক্তিশালী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দক্ষিণে অবস্থিত টলটলায়মান মুসলিম সাম্রাজ্যের বিরোধিতা করিতে পরিতেন কিন্তু খ্রীস্টানদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যবোধের অভাব থাকায় ইহা সম্ভব হয় না, এমন কি স্পেন সাম্রাজ্যের ধারণা পর্যন্ত সাঞ্চোর মনে উদয় হয় নাই। তিনি গতানুগতিক রাজার ন্যায় তাহার রাজ্যকে নাভাররে, ক্যাস্টাইল ও আরাগোন তিন ভাগে ভাগ করেন এবং ১০৩৫ খ্রীস্টাব্দে তাহার মৃত্যুর পর পুত্রগণ উত্তরাধিকার সূত্রে এইগুলি পায়। মুসলমান-স্পেনের দুর্বলতা না থাকিলে খ্রস্টানগণ একত্রিত হইবার সুযোগ পাইত না। এই সময়কে খেলাফতের পতনকাল (১০৩১ খ্রঃ হইতে ১২৪৮ খ্রীস্টাব্দের সেভিলে অধিকার পর্যন্ত) ধরা যাইতে পারে। আন্ত বিবাহ এবং পরিবারের অন্যান্য নীতির মাধ্যমে খ্রীস্টান সাম্রাজ্যকে একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করেন। খেলাফত পতনের ছয় বৎসর পর ক্যাস্টিলের প্রথম ফার্ডিনান্ড লিওন ও ক্যাস্টাইল রাজ্যকে একত্রিত করেন। ১২শ শতাব্দীতে বার্সিলোনা আরাগণ রাজ্যের সহিত একত্রিত হয়। এইরূপে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পূর্বদিকে আরাগণ, মধ্যভাগে ক্যাস্টাইল, পশ্চিমদিকে পর্তুগালে লিওনের অধিকর্তা চতুর্থ আলফলো। প্রথমদিকে তাহার পরাজিত প্রতিপক্ষের নিকট হইতে শুধু কর আদায় করিয়াই সন্তুষ্ট ছিল কিন্তু ১০৮৫ খ্রীঃ তিনি টলেডো অধিকার করেন। ইহা আন্দালুসীয়ার অবশিষ্টাংশে আক্রমণ পরিচালনার ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং জাল্লাকার যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই যুদ্ধের ফলে খ্রীস্টানগণ পরাজিত হয় এবং মুসলিম-স্পেন হইতে উত্তর আফ্রিকার আলমুরাভিদ ও আলমোহেদ হস্তগত হয়। গৃহযুদ্ধের দরুন খ্রীস্টান অধ্যুসিত এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়না। ১৩শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে আরাগণের প্রথম জেমস এবং ক্যাস্টিলের দ্বিতীয় ফার্ডিনান্ডের সম্মিলিত বাহিনী জয়লাভের পর মুসলিম সাম্রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করিতে শুরু করে। ১২২৩ খ্রীঃ আলমমাহেদ খলিফার মৃত্যুর পর আন্দালুসে রিকনকুইসটা প্রতিরোধে সাম্রাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটে। ১২৩০ খ্রীঃ নবম আলফন্সের মৃত্যুর পর তাহার সাম্রাজ্য তৃতীয় ফার্ডিনান্ডের নের্তৃত্বে ক্যাস্টিলের সহিত যোগদান করে। তৃতীয় ফার্ডিনান্ড বিশেষ ভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করেন। ১২৩১ খ্রীঃ হইতে তিনি বহু অভিযান পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আন্দালুসের প্রাণকেন্দ্র কর্ডোভা ১২৩৬ খ্রীঃ ও সেভিলে ১২৪৮ খ্রীঃ জয় করেন। ১৩শ শতাব্দীর শেষ ভাগে স্পেনের অধিকাংশ অঞ্চল খ্রীস্টানদের অধিকারে চলিয়া যায়। অবশিষ্ট থাকে শুধু গ্রানাডা যাহা ক্রমে ক্রমে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় উপনীত হয়। পরিশেষে ১৪৬৯ খ্রীঃ আরাগোনের ফার্ডিনান্ড ও ক্যাষ্টিলের

ইসাবেলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়া গ্রানাডা অধিকারের জন্য যুগ্ম প্রচেষ্টা চালান। অবশেষে ১৪৯২ খ্রীঃ জানুয়ারি মাসে গ্রানাডার পতন ঘটে। পিলাইও। রিকনকুইসটা আন্দোলন পরিপূর্ণতা লাভ করে।

তথ্য নির্দেশ

এস, এম, ইমামউদ্দিন, সাম মুরিশ ট্রাডিশন ইন স্পেনিশ লাইফ, JASP এপ্রিল, ১৯৬৭ পৃঃ ১১৬ ১৭। ওয়াট ডব্লিউ. এম, এ হিস্ট্রি অব ইসলামিক স্পেন, এডিনবার্গ, ১৯৬৫, পৃঃ ৩৪। এমিরিকো কাস্ট্রো, দি স্ট্রাকচার অব স্পেনিশ হিস্ট্রি, পৃঃ ১৩০-৭০; ওয়াট ডব্লিউ. এম, ইসলামিক স্পেন, ১৯৬৫, পৃঃ ৩৮। দ্যা এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৪৯৫।

সকল অধ্যায়
১.
উপক্রমণিকা (মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস)
২.
প্রথম অধ্যায় : মুসলমানদের স্পেন বিজয়
৩.
দ্বিতীয় অধ্যায় : দামেস্ক-খেলাফতের অধীন উমাইয়া আমীরদের শাসন
৪.
তৃতীয় অধ্যায় : স্বাধীন উমাইয়া আমীরদের রাজত্ব
৫.
চতুর্থ অধ্যায় : প্রথম হিশাম
৬.
পঞ্চম অধ্যায় : প্রথম হাকাম
৭.
ষষ্ঠ অধ্যায় : দ্বিতীয় আবদুর রহমান
৮.
সপ্তম অধ্যায় : প্রথম মুহাম্মদ
৯.
অষ্টম অধ্যায় : মুনজির ও আবদুল্লাহ
১০.
নবম অধ্যায় : উমাইয়া খিলাফত
১১.
দশম অধ্যায় : দ্বিতীয় হাকাম
১২.
একাদশ অধ্যায় : হাজীব আল-মনসুর
১৩.
দ্বাদশ অধ্যায় : স্পেনে উমাইয়া খিলাফতের পতন
১৪.
ত্রয়োদশ অধ্যায় : স্পেনের উত্তরাঞ্চলে খ্রীস্টান রাষ্ট্রসমূহের অভ্যুদয়
১৫.
চতুর্দশ অধ্যায় : প্রথম পর্যায় ক্ষুদ্র রাজ্যসমূহ
১৬.
পঞ্চদশ অধ্যায় : দ্বিতীয় পর্যায় – উত্তর আফ্রিকার শাসন
১৭.
ষষ্ঠদশ অধ্যায় : তৃতীয় পর্যায়ঃ নাসরী রাজবংশ
১৮.
সপ্তদশ অধ্যায় : মরিস্ক জাতি
১৯.
অষ্টাদশ অধ্যায় : স্পেনে মুসলিম শাসনের পতনের কারণসমূহ
২০.
উনবিংশ অধ্যায় : শাসনকার্য ও প্রশাসন
২১.
পরিশিষ্ট-ক : ইক্রিতিশে কর্ডোভান মুসলমানদের শাসন
২২.
পরিশিষ্ট-খ : স্পেনে মুসলিম শাসকদের বংশানুক্রমিক তালিকা
২৩.
পরিশিষ্ট-গ : উত্তর-স্পেনে খ্রিষ্টান শাসকদের কালানুক্রমিক তালিকা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%