পঞ্চম অধ্যায় : প্রথম হাকাম

প্রথম হাকাম
(৭৯৬-৮২২ খ্রীঃ)
পঞ্চম অধ্যায়

সিংহাসনে আরোহণ

হিশামের মৃত্যুর পর তাঁহার পুত্র হাকাম (আবুল আস নামে পরিচিত) ১৮০ হিঃ/৭৯৬ খ্রীস্টাব্দের সফর মাসে পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। সিংহাসনে আরোহণকালে তাঁহার বয়স ছিল বাইশ বৎসর। তিনি পূর্ববর্তী হাজীব (প্রধান মন্ত্রী) আবুল ওয়ালিদের পুত্র আবদুল করিমকে তাঁহার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।

ফুকাহাদের মধ্যে হাকামের অজনপ্রিয়তা

হাকাম ছিলেন বুদ্ধিমান ও চতুর। তিনিই সর্বপ্রথম আন্দালুসীয় যুবরাজ যিনি জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে থাকিতেন। মাসক্ত এই যুবরাজ ছিলেন উদার ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী। মদাসক্তির কারণে ধর্মীয় নেতাদের সহিত তাহার মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। এই সমস্ত ধর্মীয় নেতাগণ ছিলেন সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। হাকাম ইহাদের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা হ্রাস করেন। রাজ্যের মধ্যে মালিক ইবনে আনাসের শিষ্যগণ ছিল খুবই শক্তিশালী। তাহারা সীমাহীন সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা ভোগ করিয়া আসিতেছিল। হাকাম সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এবং ঘোষণা করেন যে, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে ধর্মগুরুদের অংশ গ্রহণ করা উচিৎ নহে। হিশামের মৃত্যুর পর রাজদরবারে পরিবর্তনের সূচনা হয়। নতুন আমীর ধর্মবিরোধী না হইলেও তিনি ছিলেন ভোগ বিলাসিতার প্রতি আকৃষ্ট। তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মোতাবেক জীবন যাপনের ব্যাপারে খুবই উদার মনোভাব গ্রহণ করেন। আমীরের এইরূপ কার্যকলাপ ও চরিত্র ধর্মবেত্তাদের নিকট ছিল আপত্তিজনক। দেশের শাসনব্যবস্থা ধর্মীয় ভাবাপন্ন শাসক কর্তৃক পরিচালিত হউক ইহাই ছিল তাহাদের কাম্য। ধর্মের ছদ্ম আবরণে ধর্মীয় নেতাদের আসল রূপটি লুক্কায়িত ছিল। তাহাদের স্বার্থের পরিপন্থী কোন কিছু ঘটিলেই তখন আসল চরিত্র প্রকাশ পাইত। ধর্মে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী এই বিপরীতমুখী শক্তি তাহাদের দ্বন্দ্বকে কোন সময়েই দূরীভূত করিতে পারে নাই। ফলে আমীর যখন তাহাদের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলেন তাহারা তখন নিরাশ হইয়া প্রকাশ্যে প্রথম হাকামকে অভিশাপ দিতে শুরু করিল। তাহাদের ধর্ম প্রচারের মঞ্চ হইতে প্রকাশ্যে আমীরকে বিধর্মী বলিয়া নিন্দা ও ভৎসনা করিতে লাগিলেন। তাহাদের প্রচারের বিষয়বস্তু ছিল আমীরের মাসক্ত চরিত্র এবং দেহরক্ষী হিসাবে নিগ্রোদের নিয়োগ। হাকাম নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠন করেন। এই সেনাবাহিনীতে ছিল কৃতদাস ও নিগ্রোগণ। বিশেষ করিয়া নিগ্রোদের সংখ্যাই ছিল বেশি। এই অবস্থায় আমীর যদিও ধর্মবেত্তাদের উপেক্ষা করিতে পারিতেন কিন্তু তাহাদের সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা ছিল কঠিন।

ধর্মবেত্তাদের এই আন্দোলনে সমর্থন প্রদান করেন নব মুসলিমগণ (মুয়াল্লাদুন) যাহাদের উপর তাহাদের বিরাট প্রভাব ছিল। ধর্মীয় ব্যাপারে এই সমস্ত নব মুসলিমগণ ইসলামী অনুশাসন মানিয়া চলিত কিন্তু সমাজে তাহারা ছিল অবহেলিত ও ঘৃণিত। ক্রীতদাস হিসাবে তাহারা বিবেচিত হইত এবং সরকারী চাকুরীতে উচ্চ পদ হইতে তাহাদিগকে বঞ্চিত করা হইত। ফুকাহাদের আহবানে নব মুসলিমরা সাড়া দেয়। সেই সময়ের সর্বাপেক্ষা নাম করা ধর্মবেত্তা ছিলেন বার্বার ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া লাইছ। তিনি ছিলেন আরব গোত্রীয় বাণী আল লাইছ আশ্রিত গোত্রীয় মাসমুদাহর অন্তর্গত। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া লাইছের দাদা তারিকের সহিত স্পেনে আসিয়াছিলেন। তিনি ছিলেন মালিক ইবনে আনাসের একান্ত অনুগত ছাত্র। ইসা ইবনে দিনার এবং অন্যান্য যাহারা হাকামের বিরোধী ছিল তাহারা ম্ভান্ত শ্রেণী ও অভিজাত সম্প্রদায়ের যোগসাজসে মুনজির বিন প্রথম আবদুর রহমানের বংশধর জনৈক মুহাম্মদ বিন কাসেম, ওরফে ইবনে ইলশমাশকে কর্ডোভার সিংহাসনে বসাইবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ইবনে ইলশমাস নিজে এই ষড়যন্ত্রের কথা আল হাকামের নিকট প্রকাশ করিয়া দেয়। ফলে কর্ডোভার ছয়জন বিশেষ প্রতিপত্তিশালী সম্ভ্রান্ত বংশীয় নেতাসহ প্রায় ৭২ জন ফিকাহ শাস্ত্রবিদ ও অভিজাত ব্যক্তি নিহত হইয়াছিল। ইয়াহিয়া এবং ইসা ইবনে দিনার টলেডোতে আত্মগোপন করেন সেখানে ইতিমধ্যে স্বাধীনতার জোর দাবী উত্থাপিত হয়। স্বাধীনতার দাবী উত্থাপকদের মধ্যে ছিলেন ইয়াহিয়া বিন নাসর ইয়াহসুবী, মুসা বিন সালিম খাওলানী, ইবনে আবিকাব, আবু ইয়াহিয়া জাকারিয়া মাতর গাসমানী। তাহারা ছিলেন স্পেনে ইসলামের স্তম্ভ স্বরূপ।

হাকামের চাচার বিদ্রোহ

হাকামের চাচা সুলায়মান ও আবদুল্লাহ তখনও জীবিত ছিলেন। হিশামের মৃত্যু ও হাকামের উত্তরাধিকার নির্বাচনের সংবাদ শুনিয়া তাহারা পুনরায় সিংহাসন অধিকারের চেষ্টা করেন। তাহাদের ইচ্ছা ছিল স্পেনকে তিন ভাগে ভাগ করা। তাহারা টলেডো, ভ্যালেন্সিয়া ও অন্যান্য জায়গায় জনগণকে হাকামের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে। সুলায়মান তাঞ্জিয়ারে বিপুল সংখ্যক সেনা সংগ্রহ করেন। আবদুল্লাহ তাহার টলেডোর জায়গীর হইতে পলায়ন করিয়া ভাইয়ের নিকট আগমন করেন। সেখান হইতে সুলায়মান ভ্যালেন্সিয়ায় গমন করেন। স্পেনে উমাইয়া ইমারতের প্রতিষ্ঠাতা আবদুর রহমানের জ্যৈষ্ঠ পুত্র হওয়ায় তিনি সিংহাসনের দাবী করেন। উচ্চপদ প্রদানের ওয়াদা করিয়া আবদুল্লাহ কিছু লোককে তাহার পক্ষে আনিতে সক্ষম হন এবং ১৮১ হিঃ/৭৯৭ খ্রীস্টাব্দে টলেডো অবরোধ করেন। তিনি ফ্রাঙ্ক সম্রাট শালমানের সাহায্য কামনা করেন। সুলায়মান তাগুস নদীর তীরে আবদুল্লাহর সহিত মিলিত হন এবং ফ্রাঙ্ক ও হাকামের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করিতে থাকেন। এই যুদ্ধের বিবরণ পরে বর্ণিত হইবে। হাকাম ছিলেন সুদক্ষ সেনাপতি ও তাহার সেনাবাহিনী ছিল অভিজ্ঞ ও সুশিক্ষিত। অপরদিকে সুলায়মান ও আবদুল্লাহর সমর্থকরা

ছিল সৌখিন। তাহাদের কোন সামরিক শিক্ষা ছিল না। কয়েক দফা যুদ্ধ হয় কিন্তু ফলাফল থাকে অমীমাংসিত। ১৮৫ হিঃ৮০১ খ্রীস্টাব্দে সুলায়মান (কর্ডোভা প্রদেশের এক গ্রাম) খারিশের নিকট তৃতীয় বার পরাজিত হন। মেরিদাতে পলায়নকালে তিনি ধৃত হইয়া নিহত হন। সুলায়মানের সমর্থকদেরও অধিকাংশ নিহত হয়। সুলায়মানের পরিবারের লোকজনকে সারাগোসা হইতে আনয়ন করিয়া জায়গীর প্রদান করা হয়। আবদুল্লাহ আশ্রয় গ্রহণ করে ভ্যালেন্সিয়ায়। কিছুদিন পর তাহাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা হয়। পরে তিনি তাঞ্জিয়ারে অবসর জীবন যাপন করেন এবং তাহার দুই পুত্র আসবাগ ও কাসিমকে জামিন হিসাবে কর্ডোভায় প্রেরণ করেন ১৮৬ হিঃ/৮০২ খ্রীস্টাব্দে। তাহাদিগকে জমি দেওয়া হয়। হাকাম তাহার ভগ্নিকে আসবাগের সহিত বিবাহ দেন এবং তাহাকে মেরিদার গভর্নর নিযুক্ত করেন।

ফ্রাঙ্কদের সহিত যুদ্ধ

হাকাম যখন তাহার চাচার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিলেন সেই সময় দক্ষিণ-ফ্রান্স হইতে মুসলমানদের উচ্ছেদের সংবাদ আসে। নারবোনের ও গেরোনার মুসলমানগণ চার্লমানের পুত্র লুইস কর্তৃক বিতাড়িত হয়। উত্তর স্পেনের লেরিদা ও হুয়েস্কার উমাইয়া গভর্নরগণ ফ্রাঙ্কদের সহিত যোগদান করেন। সুলায়মান ইতিমধ্যে ভ্যালেন্সিয়া অধিকার করিয়া নেন। যখন চার্লমানের কনিষ্ঠ পুত্র লুইস ও আকিটেনের রাজা তাহাদের পরামর্শ সভায় মিলিত হন, তখন আন্তুরীয়া ও গ্যালেসিয়ার রাজা আলফন্সের দূত খ্রীস্টানদের সাধারণ শত্রু কর্ডোভার উমাইয়া শাসকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আক্রমণের প্রস্তাব লইয়া তুলাসে (Toulouse) আগমন করেন। লুইস তাহার ভাতা চার্লসকে সঙ্গে লইয়া এবরো নদীর তীরে অগ্রসর হন। আমীর ভীষণ বিপদের সম্মুখীন হন। তিনি কয়েকজন অভিজ্ঞ সেনাপতিকে বিশেষ করিয়া আবদুল করিম বিন মুগিছের নেতৃত্বে ৭৯৭ খ্রীস্টাব্দে বিরাট এক সেনাবাহিনীকে সীমান্তে প্রেরণ করেন। এই অভিযানে অভাবিত সাফল্য লাভ হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে স্পেন ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত গেরোনা, হুয়েস্কা এবং লেরিদার মত হৃত শহরগুলিকে পুনরুদ্ধার করেন। অধিকাংশ যুদ্ধে খ্রীস্টানরা আত্মসমর্পণ করে। বার্সিলোনার গভর্নর জাইদ যিনি খ্রীস্টানদের হস্তে লাঞ্ছিত হইতেছিলেন এখন তিনি প্রয়োজনীয় সাহায্য লাভ করেন। পর্বতমালা অতিক্রম করিয়া আমীর সাময়িকভাবে দক্ষিণ-ফ্রান্স পুনরায় অধিকার করেন। এই বিজয়ের পর তাহাকে আল মুজাফফর নামে অভিহিত করা হয়।

গথিক সীমান্তে সেনানিবাসের ভিত্তি স্থাপন

দেশের সীমান্তের আপার মার্চ প্রতিরক্ষার জন্য সারাগোসা, মধ্য মার্চের জন্য টলেডো এবং নিম্ন মার্চের জন্য মেরিদাকে কেন্দ্র করিয়া উমাইয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়িয়া ওঠে। এই সমস্ত সীমান্ত নগর ব্যতীত কিছু মালিক বিহীন ভূমি ছিল। উত্তর সীমান্তের খ্রীস্টান ও মুসলমানরা এই ভূখণ্ড যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করিত। যেহেতু স্থায়ীভাবে স্পেনকে অধিকারে রাখা সম্ভব ছিল না।

সেই হেতু ফ্রাঙ্ক সম্রাট শার্লমান মুসলমানদেরকে উত্যক্ত ও বিরক্ত করার জন্য এবং ফ্রান্সকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করিবার উদ্দেশ্যে গথিক মার্চ নামে একটি সীমান্ত রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। গথিক মার্চে সেনানিবাস প্রতিষ্ঠিত হয় ৭৯৮ খ্রীস্টাব্দে। এই সীমান্ত রাজ্যটি প্রতিষ্ঠিত হয় আকিটেনের রাজা লুইস-এর তত্ত্বাবধানে স্পেনের অভ্যন্তরে অবস্থিত পর্বতশ্রেণীতে। পর্বত শ্রেণী হইতে এবরো পর্যন্ত ও পাম্পলোনা হইতে বার্সিলোনা পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাজ্যের প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন রুবেল নামে একজন

ভ্রান্ত বংশীয় ফ্রাঙ্ক। এই রাজ্যের প্রধান নগর ছিল কারডোনা ও গেরোনা। মুসলমানদের শাসনের প্রতি অসন্তুষ্ট খ্রীস্টানরা এখানে আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করিত। ১৮৫ হিঃ/৮০১ খ্রীস্টাব্দে অনুষ্ঠিত তাহাদের জাতীয় পরিষদে ফ্রাঙ্কগণ বার্সিলোনা দখলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফ্রাঙ্ক সেনাবাহিনী দুই ভাগে বিভক্ত হইয়া গেলোনার কাউন্টের অধীনে নগরের একাংশ অবরোধ করে অন্য অংশ তুলুসের কাউন্ট উইলিয়ামসের নেতৃত্বাধীনে কর্ডোভা হইতে আগত রসদ আগমনে বাধা সৃষ্টিতে নিয়োজিত হয়। বার্সিলোনাতে অবস্থিত সেনাদল অবরোধকারীদের প্রতিহত করিবার জন্য এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে। প্রতিটি নাগরিক শহরটিকে রক্ষা করিবার জন্য যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে কিন্তু খাদ্যের অভাবে তাহারা আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয়। মুসলমানগণ শহর পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া যায়। গভর্নর জাইদ (Fr. Zadon, Zadun or Zoton) সাহায্যের আশায় কর্ডোভা গমন করেন। সেখানে তিনি অপমানিত অপদস্থ ও লাঞ্ছিত হন। গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত শহরটি নব্বই বৎসর পর সুলায়মান ও আবদুল্লাহর বিদ্রোহের ফলে মুসলমানদের হাত ছাড়া হয়। ইহার পর ফ্রাঙ্কগণ স্পেনের উত্তরাংশে প্রবেশ করে এবং হুয়েস্কা, তারাগোনা ও অন্যান্য জায়গা দখল করিয়া নেয়। আমীর শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠিত করিয়া শত্রুর অগ্রাভিযান প্রতিহত করিবার জন্য অগ্রসর হন। এই সময় টলেডোতে আমীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দেয়। আমীর টলেডোে রক্ষার্থে সৈন্যদলের একাংশ রাখিয়া বাকী সেনাবাহিনীকে লইয়া ফ্রাঙ্কদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন।

তিনি প্রথমে সারাগোসা অধিকার করেন যাহার সামরিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বার্সিলোনা ব্যতীত অন্যান্য শহর তিনি উদ্ধার করেন এবং খ্রীস্টানদিগকে এবরোর অপর দিকে বিতাড়িত করেন। এই সমস্ত বিজয়ের পর তিনি কর্ডোভায় প্রত্যাবর্তন করেন। সেখানে তিনি বিপুলভাবে সম্বর্ধিত হন। ৮০৩ খ্রীস্টাব্দে খ্রীস্টানরা তুদেলা আক্রমণ করে এবং বহু মুসলমানকে বন্দী করিয়া লইয়া যায়। তন্মধ্যে গভর্নর ইউসুফ বিন আমরুসও ছিল। টলেডো হইতে তাহার পিতা আমরুস বিন ইউসুফ তাহার সাহায্যার্থে বিরাট সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। ফলে খ্রীস্টানগণ অনতিবিলম্বে শহর পরিত্যাগ করিতে ও গভর্নরকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

১৯২হিঃ ৮০৬ খ্রীস্টাব্দে ফ্রান্সের খ্রীস্টানগণ পুনরায় স্পেন আক্রমণ করে এবং তরতোসা (Tortosa) কে দুইবার অবরোধ করে। কিন্তু পরাজিত ও অপমানিত হইয়া ইহা পরিত্যাগ করে। প্রথম অবরোধের সময় খ্রীস্টানদের প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়। কিন্তু মুসলমানগণ শত্রুর দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হয়। যুবরাজ আবদুর রহমান ভ্যালেন্সিয়ার গভর্নরের প্রদত্ত অতিরিক্ত সৈন্যের সাহায্যে খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। লুইসের অধীনে খ্রীস্টানদিগকে পরাজিত করিয়া যুবারাজ আবদুর রহমান বিজয়ীর বেশে কর্ডোভাতে ফিরিয়া আসেন। পরবর্তী বৎসর খ্রীস্টানগণ পুনরায় স্পেনে আক্রমণ করিয়া লুসিতানিয়া অধিকার করিয়া নেয়। অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দমন করিয়া আমীর নিজে ১৯৭ হিঃ/ ৮১২ খ্রীস্টাব্দে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি খ্রীস্টানদিগকে স্পেনের সীমান্তে বিতাড়িত করিয়া দেশের উত্তরে বহু দুর্গ ও শহর পুনরায় অধিকার করিয়া নেন। মুসলমান ও খ্রীস্টানদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ফ্রাঙ্কদের এত সৈন্য নিহত হয় যে সারা যুদ্ধক্ষেত্রে তাহাদের মৃতদেহ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়িয়া থাকিতে দেখা যায়। খ্রীস্টানগণ যদিও পরাজিত হইয়াছিল কিন্তু সম্পূর্ণরূপে পরাভূত হয় নাই। তাহারা বারবার স্পেনের উত্তরাঞ্চল আক্রমণ করিতে থাকে। শার্লমান ও প্রথম হাকাম ৮১০ খ্রীস্টাব্দে প্রথম বারের মত সাময়িক যুদ্ধ বিরতির জন্য আলোচনায় মিলিত হন। দুই বৎসর পর জনৈক মুসলিম দূত সম্ভবতঃ নৌবাহিনী-প্রধান ইয়াহিয়া বিন হাকাম আইক্স-লা চ্যাপেল্লেতে তিন বৎসরের জন্য আর একটি যুদ্ধ বিরতি চুক্তি সম্পাদন করেন। কিন্তু উহা দীর্ঘস্থায়ী হয় নাই। শেষ পর্যন্ত ২০০হিঃ ৮১৬ খ্রীস্টাব্দে কর্ডোভা ও আইক্স-লা-চ্যাপেলের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয় এবং ফ্রাঙ্কগণ গোলযোগ সৃষ্টি হইতে বিরত থাকে ফলে ইহা হাকামের শাসনের শেষ সাত বছর অবধি স্থায়ী হয়।

খন্দক বা পরিখা দিবস

(Fosse) ভিজিগথ সাম্রাজ্যের প্রাচীন রাজধানী টলেডো মুসলিম স্পেনের এক গুরুত্বপূর্ণ নগর ছিল। যদিও ইহা পূর্ণ গৌরব হারাইয়া ফেলিয়াছিল। টলেডোর অধিবাসী ছিল প্রধানতঃ নব মুসলিম। খ্রীস্টানদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। আরব শাসনের অধীনে উভয় সম্প্রদায়ই ছিল অসন্তুষ্ট। নব মুসলিমরা আরব রক্তের অধিকারী না হওয়ায় ঘূণিত ও অবহেলিত ছিল। খ্রীস্টানগণ তাহাদের হৃত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে আত্মনিয়োগ করে। নগণ্য সংখ্যক আরব ও বার্বারগণ তথায় বসতি স্থাপন করে। যার ফলে বিদ্রোহী নব মুসলিম ও খ্রীস্টানগণের মধ্যে বিদ্রোহী মোর্চা গঠন করা সম্ভব হয়। উদাহরণ স্বরূপ উবায়দাহ বিন হামিদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে হাকামের বিরুদ্ধে এবং টলেডোতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আমরুস বিন ইউসুফ হুয়েস্কার একজন নব মুসলিম—যিনি তালাভেরার শাসনকর্তা ছিলেন, শান্তি স্থাপনের জন্য সেখানে প্রেরিত হন। শহর অবরুদ্ধ হয়। উবায়দাহকে হত্যা করিবার নিমিত্তে মাখশিসকে প্রলোভিত করিয়া উক্ত কার্যে প্রবৃত্ত করা হয়। টলেডোবাসীরা আত্মসমর্পণ

করে। আমরুস বিন ইউসুফকে শহরের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু টলেডোবাসীদিগকে শাসন করা ছিল খুবই কঠিন। ঘারবিব নামে জনৈক নব মুসলিম কবির নেতৃত্বে তাহারা পুনরায় গোলযোগ সৃষ্টি করিতে শুরু করে। ঘারবিবের জীবিতকালে হাকাম বিদ্রোহ দমন করিতে পারেন নাই। ঘারবিবের মৃত্যুর পর আমরুস বিন ইউসুফকে পুনরায় শহরে শান্তি স্থাপনের জন্য প্রেরণ করা হয়। একজন বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং দক্ষ প্রশাসক হিসাবে তিনি টলেডোবাসীদের আস্থা অর্জন করিতে সমর্থ হন। টলেডোবাসীদের সম্মতিক্রমে শহরের উত্তর-পূর্বে তাস নদীর উপর অবস্থিত পুলের সন্নিকটে সংরক্ষিত সেনাবাহিনী রাখিবার উদ্দেশ্যে তিনি একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। টলেডোবাসীরা আমরুসকে আমীরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন বলিয়া মনে করিত কারণ আমরুস তাহাদিগকে সন্তুষ্ট রাখিবার জন্য আমীরের বিরুদ্ধে কটুক্তি করিতেন। যখন ভবিষ্যৎ শাসক যুবরাজ আবদুর রহমান খ্রীস্টান-স্পেনে যাইবার পথে ১৮১ হিঃ/৭৯৭ খ্রস্টাব্দে নগর পরিদর্শনের জন্য আগমন করেন সেই সময় উক্ত দুর্গে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অনুষ্ঠানে যোগ দানের জন্য আমন্ত্রণ জানান হয়।

অনুষ্ঠানে যোগদানের পর গভর্নর তাহাদিগকে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া হত্যা করে এবং সমস্ত মৃতদেহকে একটি পরিখা বা দিঘীতে (Fosse) নিক্ষেপ করে। ইতিহাসে এই ঘটনা পরিখা দিবস “The Day of the Ditch” নামে খ্যাত। সঠিক মৃতের সংখ্যা জানা যায় না। এই সংখ্যা ৭০০ হইতে ৫,০০০ হাজার পর্যন্ত বলিয়া অনুমান করা হয়।১২ গভর্নর কর্তৃক এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় আমীরের এক গোপন নির্দেশক্রমে। টলেডোবাসীরা এইরূপে তাহাদের নেতাদিগকে হারায়। এবং পরবর্তী কিছুকালের জন্য টলেডোতে শান্তি ও শৃংখলা স্থাপিত হয়।১৩

বেজা (বাজাটল) ও মেরিদাতে বিদ্রোহ

আসবাগ বিন আবদুল্লাহ ছিলেন হাকামের চাচাত ভাই এবং ভগ্নিপতি। তিনি ছিলেন মেরিদার গভর্নর। আমীর এবং গভর্নরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হইয়াছিল। আসবাগ একজন উজিরকে বরখাস্ত করেন। উজির আমীরকে জানায় যে আসবাগ স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছেন। আমীর হাকাম তাহাকে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করেন। ইহাতে আসবাগ বিদ্রোহী হইয়া ওঠে। তাহাকে গ্রেফতার করিবার জন্য হাকাম সুদক্ষ সেনাপতিদিগকে প্রেরণ করেন।

কিন্তু তাহারা বিদ্রোহী আসবাগকে গ্রেফতার করিতে ব্যর্থ হন। ৮০৬ খ্রীস্টাব্দে আমীর নিজে মেরিদা রওয়ানা হন। আসবাগের স্ত্রী যিনি আমীরেরও ভগ্নি তিনি তাহার স্বামীর পক্ষ হইতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমীর তাহাকে ক্ষমা করিয়া পূর্বপদে পুনর্বহাল করেন। লিসবনের ৯৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বাজ্জাতে ৮০৭ ও ৮১৭ খ্রীস্টাব্দে হাজম বিন ওয়াহাব ও.ওয়ালিদ একাধিকবার বেজায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং পরাজিত হইয়া শাস্তি ভোগ করে।১৪৮০৭ খ্রীস্টাব্দে আলজেসিরায় খারিজী বিদ্রোহকেও দমন করা হয়।

কর্ডোভাবাসীদের বিদ্রোহ

পূর্ব বর্ণনা অনুযায়ী হাকাম ফিকাহ শাস্ত্রবিদদের নিকট প্রিয় ছিল না। হাকামের কঠোর ও কর্কশ ব্যবহারের জন্য গোয়াদালকুইভিরের দক্ষিণে অবস্থিত শহরগুলিতে বিদ্রোহের জন্য উস্কানী প্রদান করা হয়। ধর্মবেত্তাদিগকে তিনি তাহার পিতা হইতে কম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিয়াছিলেন যাহার ফলে একাধিক বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং ইহাতে নবমুসলিমগণের অসন্তুষ্টি বিশেষভাবে কাজ করে। আমীর কাহাকেও বিশ্বাস করিতেন না। তিনি তাঁহার দেহরক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। প্রায় ৬,০০০ হাজার দেহরক্ষীর অধিকাংশ ছিল নিগ্রো এবং খ্রীস্টান। আরবী জানিত না বলিয়া তাহাদিগকে বোরা বলা হইত। এই বিশেষ বাহিনীর জন্য আমীরকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করিতে হইত। ফলে কর্ডোভাবাসীদের উপর অতিরিক্ত নগর শুল্ক ও কর আরোপ করা হয়। নিগ্রোরা অধিকাংশ সময় বে-আইনী কাজসমূহে প্রশ্রয় দিত। ইহার ফলে কর্ডোভাবাসীরা ক্ষিপ্ত হইয়া ওঠে। টলেডোর সম্ভ্রান্ত বংশীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডের পর কিছুদিনের জন্য কর্ডোভাবাসীরা শান্ত থাকে। নগরের দক্ষিণাংশে আররাবাল দেলসুর (Arrabal Delsur) অঞ্চলে ফেকাশাস্ত্রবিদ ও ছাত্রদের মধ্যে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাইতে থাকে এবং ৮১৩ খ্রীস্টাব্দে মারাত্মক বিদ্রোহ দেখা দেয়। একদিন আমীর যখন নিয়ম মাফিক মসজিদে নামাজ আদায় করিতে যাইতেছিলেন তখন পথে এক ব্যক্তি তাহাকে সামনাসামনি পাইয়া জনসাধারণের আত্মতুষ্টির জন্য মুখে চপেটাঘাতপূর্বক অপদস্ত করে। এই অপমানে আমীর ক্ষিপ্ত হইয়া দশ ব্যক্তিকে শাস্তি হিসাবে প্রাণদণ্ড প্রদান করেন। ইহার ফলে কর্ডোভাবাসীরা আরও উত্তেজিত এবং ক্ষিপ্ত হইয়া ওঠে।

ধর্মবেত্তাগণ কর্ডোভাবাসীদের মধ্যে বিদ্রোহের ইন্ধন যোগাইতে থাকে। ইয়াহিয়া বিদ্রোহীদিগকে আন্দোলন করিবার জন্য উত্তেজিত করিতে শুরু করে। আবু মারওয়ান বিন হাইয়ানের মতে, আমীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে জনগণকে উত্তেজিত করিবার কার্যে ধর্মবেত্তাগণের মধ্যে যিনি সর্বাপেক্ষা বেশি সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন—তিনি ছিলেন তালুত।১৫ একদিন রমজান মাসে ১৯৮ হিঃ/মে ৮১৪ খ্রীস্টাব্দে আমীরের জনৈক দেহরক্ষী এক অস্ত্র নির্মাতাকে তাহার তরবারী পরিষ্কার করিয়া দিতে বলে। এই কাজে অস্ত্র নির্মাতার বিলম্ব ঘটায় দেহরক্ষী ক্ষিপ্ত হইয়া তাহাকে হত্যা করে। অতঃপর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক জনতা আমীরকে হত্যা করিবার জন্য প্রাসাদ ঘেরাও করে। আমীর নিজে প্রাসাদের মধ্যে আটকা পড়েন এবং বিদ্রোহীদিগকে দমনের জন্য সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন কিন্তু তাহারা পরাজিত হয়। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার জন্য ক্রোধে আমীর প্রাসাদ হইতে বাহিরে আগমন করেন এবং সেই সময়ের বিখ্যাত যোদ্ধা তাহার চাচা ওবায়দুল্লাহকে অশ্বারোহী সৈন্যের সহযোগিতায় বিদ্রোহী জনতার মধ্য দিয়া বাহিরে যাইবার রাস্তা করিয়া দিতে বলেন এবং গোয়াদালকুইভিরের দক্ষিণাংশে আররাবাল ডেলসুর-এ অগ্নিসংযোগের আদেশ প্রদান করেন। জনতা যখন অগ্নি নির্বাপণ, সন্তানদের

জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করিবার জন্য স্থান ত্যাগ করে সেই সময় আমীর এবং তাহার চাচা উভয় দিক হইতে এমন ক্ষিপ্রতার সহিত আক্রমণ করেন যে কর্ডোভাবাসীরা হতভম্ব হইয়া পড়ে। দিক-বেদিক জ্ঞানশূন্য নিগ্রো দেহরক্ষীরা তাহাদিগকে নির্দয় ভাবে হত্যা করে। সেই দিনই কয়েকজন ধর্মীয় নেতা কর্ডোভাবাসীদের পক্ষ হইতে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আমীরের নিকট গমন করিলে তাহাদিগকে জেলে পোড়া হয়। এবং তাহাদের হত্যা করিবার জন্য পাহারায় নিযুক্ত জুদাইরকে আদেশ করা হয়। জুদাইর এই আদেশ পালনে ইতস্ততঃ করাতে হাকাম তাহাকে বরখাস্ত করেন এবং তাহার স্থলে ইবনে নাদিরকে নিযুক্ত করেন।১৬

৩৬ জন নেতাসহ বিশ্বাসঘাতকের মোট সংখ্যা ছিল ৩০০ শত। বিরুদ্ধাচারণের বিশেষ চিহ্নস্বরূপ আলকাজারে বাব আল সুদ্দা নামক প্রাণদণ্ড প্রদানের ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানে তাহাদিগকে পা উপরের দিকে লটকাইয়া নিচের দিকে মাথা ঝুলাইয়া হত্যা করা হয়। আররাবাল দেল সুরের অধিবাসীদিগকে তিন দিনের মধ্যে কর্ডোভা ত্যাগ করিতে বলা হয়। যদিও ইয়াহিয়া, তালুত ও অন্যান্য বিখ্যাত ধর্মীয় নেতাদিগকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু তাহাদের বাড়িঘর ধূলিসাৎ করা হয়। প্রায় ৮০০০ হাজার পরিবার মরক্কোর ফেজ-এ আশ্রয় গ্রহণ করে। আলীর বংশধর দ্বিতীয় ইদ্রিস সেই সময় ফেজ-এ তাহার নতুন রাজধানী গড়িয়া তুলিতেছিলেন। যেহেতু কায়রোওয়ান ও কর্ডোভার আরবগণ একে অপরকে ঘৃণা করিত সেইহেতু দেওয়াল নির্মাণ করিয়া নগরের দুই পৃথক অঞ্চলে তাহাদের পুনর্বাসিত করা হয়। আরও ১৫,০০০ হাজার নির্বাসিত ব্যক্তি আলেকজান্দ্রিয়ার পথে দেশ ত্যাগ করেন এবং সেখান হইতে ক্রিটে (crete) গমন করিয়া সেখানে আবু হাফস ওমর আল বালুতির নেতৃত্বাধীনে এক স্বাধীন রাষ্ট্র স্থাপন করে। ৯৯১ খ্রীস্টাব্দে গ্রীকদের নিকট থেকে ক্রিট অধিকার পর্যন্ত এই সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল।১৭ কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে সেনাবাহিনী ব্যতীত অন্যকে সমর্থন করিতেন না। মুয়াল্লাদুনদের উত্থান উমাইয়াদের ধৈৰ্য্য ও সুবিচারের প্রমাণ বহন করে।

বেলেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের দখল

স্পেন এবং ফ্রান্সের শহরসমূহকে রক্ষার জন্য আরবরা তাহাদের নৌবাহিনীর উপর নির্ভর করিত। হাকামের রাজত্বকালে উমাইয়ারা তাহাদের নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করিতে চেষ্টা করেন। ৮০৮ খ্রীস্টাব্দে স্পেনীয় মুসলমানরা সার্দিয়ািয় এক নিষ্ফল আক্রমণ পরিচালনা করেন। অতঃপর তাহারা করসিকা আক্রমণ করেন। বার্বারগণ তেরটি যুদ্ধ জাহাজের ক্ষতি সাধন করিয়া এই অভিযান ব্যর্থ করিয়া দেয়।১৮৮১৩ খ্রীস্টাব্দে করসিকার অন্য এক অভিযানে (affray) তাহারা প্রায় ৫০০ শত যুদ্ধবন্দীকে আটক করে এবং প্রভেন্সের (Provence) নাইস (Nice) এলাকার চতুর্দিক এবং রোমকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে।১৯ ২০২ হিঃ৮১৮ খ্রীস্টাব্দে মুসলিম নৌবাহিনী ইভিজা (Iviza), মেজোরকা (Majorca) ও সার্দিনিয়া দ্বীপপুঞ্জে এক অভিযান পরিচালনা করেন এবং বেলেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ দখল করিয়া নেন। তাহারা ৮২০ খ্রীস্টাব্দে পুনরায় সার্দিনিয়া আক্রমণ করেন।

মৃত্যু ও বাবার বিদ্রোহে আমীর মানসিক অশান্তিতে থাকেন এবং তাঁহার স্বাস্থ্যের দারুণ ক্ষতি হয়। বিশেষ করিয়া কর্ডোভার ঘটনায় তিনি অত্যধিক পরিশ্রান্ত এবং দুর্বল হইয়া পড়েন। তিনি জ্বরে আক্রান্ত হইয়া ২৬শে জিলহজ্জ ২০৬ হিঃ/৮২২ খ্রীস্টাব্দে মে মাসে ৫২ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন। তিনি ২৬ বৎসর রাজ্য শাসন করেন। তাহার মৃত্যুর পর তাঁহার পুত্র দ্বিতীয় আবদুর রহমান রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন।

চরিত্র ও কৃতিত্ব

প্রথম হাকাম ছিলেন জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও কৃতসংকল্প। তিনি জাক জমকের সহিত দেশ শাসন করিয়াছেন। রাজ্যের সমস্ত বিষয় নিজেই দেখাশুনা করিতেন। তিনি গুপ্তচর ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। গুপ্তচরগণ তাহাকে রাজ্যের সমস্ত ব্যাপার অবগত করিত।২০ তিনি ছিলেন সুবিচারক ও ধৈৰ্যশীল। যাহারা আইন ভঙ্গ করিত ও অত্যাচারের দোষে দোষী সাব্যস্ত হইত মুসলমান অমুসলমান নির্বিশেষে তিনি তাহাদিগকে শাস্তি প্রদান করিতেন।২১ রাবি নামে এলভিয়ার একজন কর আদায়কারী জনৈক খ্রীস্টান প্রজাকে অত্যাচার করার জন্য ২০৬ হিঃ/৮০১-২ খ্রীস্টাব্দে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন। কর আদায়ে ইসলামী আদর্শের গুরুত্ব দেওয়া হইত না। কেবলমাত্র নিরপেক্ষ বিচার পরিচালনায় সক্ষম ব্যক্তিকেই বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করা হইত। জনৈক ক্রীতদাসীকে তাহার জায়েন প্রভু হস্তে অৰ্পণ করিবার জন্য প্রধান বিচারপতি মুশয়াব বিন ইমরান আমীরকে পর্যন্ত বাধ্য করেন।২২ মুসয়াবের স্থলাভিষিক্ত মুহাম্মদ বিন বশির (মৃঃ ৮১৩-১৪ খ্রঃ) তাহার পূর্ব প্রভু বেজার গভর্নর আব্বাস বিন আবদুল্লাহ আল কারশী যিনি হাকামের বিশেষ অনুগ্রহ পুষ্ট ছিলেন তাহার বিরুদ্ধে বিচার পরিচালনায় দ্বিধাবোধ করেন নাই।২২

প্রথম হাকাম ছিলেন স্পেনের প্রথম আমীর, যিনি সৈন্যদের নিয়মিত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সামন্ত প্রথাকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা হয় নাই। তাহার রাজ্যের কর আদায়ের দায়িত্ব ছিল টিউডালফোর (Teodulfo) পুত্র খ্রীস্টান রাবির উপর। দ্রব্যে আদায়কৃত জমির করের পরিমাণ ছিল ৪,৭০০ হাজার মুদ গম এবং ৭, ৭, ৪৭ মুদ যব। আল বাকরীর মতে, তাঁহার সময় আদায়কৃত করের বাৎসরিক পরিমাণ ছিল ৬০০,০০০ হাজার দিনার।২৩ এই সময় অস্ত্রাগার নির্মিত হয় এবং নতুন যুদ্ধাস্ত্রের উদ্ভাবন করা হয়। বেতনভুক্ত নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠিত হয় এবং রাজ প্রাসাদের প্রবেশদ্বারে রক্ষিবাহিনী নিযুক্ত করা হয়। তিনি সেনাবাহিনীতে খ্রীস্টান ও নিগ্রোদের সম্মিলিত মামলুকের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। তিনি রাজধানীতে ৫,০০০ হাজার এবং রাজ প্রাসাদের সম্মুখে ও গোয়াদালকুইভির নদীর উভয় তীরে দুই হাজার নিয়মিত সেনা মোতায়েন করেন। সেনাপতিদের মধ্যে ১,০০ শত সৈন্যের দায়িত্বে নিযুক্ত সেনাধ্যক্ষকে

আরিফ বলা হইত। সামরিক শক্তি ও সমর কৌশলের সাহায্যে আমীর দেশের অভ্যন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং শার্লমানকে তাহার সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে বাধ্য করেন। ফ্রাঙ্কদের আক্রমণ হইতে তাহার রাজ্যকে রক্ষার্থে তিনি মরক্কোর ইদ্রিসী শাসকদের সহিত ৮০৫ খ্রীস্টাব্দে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন করেন। তিনি কঠোর হস্তে রাজ্য শাসন করেন এবং বিদ্রোহীদের দমন করেন। দেশের উত্তরে বসবাসকারী খ্রীস্টানগণ যাহারা মুসলমানদের জন্য স্থায়ী অশান্তির কারণ ছিল তাহাদিগকেও সাফল্যের সাথে দমন করেন। কতিপয় ঐতিহাসিক তাহাকে ব্যর্থ বলিয়া মনে করেন। কিন্তু তিনি তাহার কাপ্রেরণা ও দৃঢ় সংকল্পের জন্য প্রশংসা পাইবার যোগ্য। ভারতবর্ষের মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সহিত তাহার তুলনা করা যাইতে পারে। উলামা বিরোধী আদর্শের ফলে তিনি মূলত ব্যর্থ হন। সেই সময়ে তাহার মত লৌহ-মানবের প্রয়োজন ছিল। ইবনে হাজমের ন্যায় আরব লেখকগণ তাহাকে অত্যাচারী বলিয়া আখ্যায়িত করেন। তাহার প্রজাদের তরফ হইতে আবুল আছি (Fr. Aboulaz) কুকর্মের পিতা বলিয়া আখ্যায়িত হন। তিনি ধর্মীয়নেতাদের মধ্যে বিদ্বান আবু বকর জাকারিয়াকে হত্যা করেন যিনি প্রাচ্যে সুফিয়ান আল-সুরি, ও মালিক ইবনে আনাস-এর বক্তৃতামালা শ্রবণের জন্য যোগদান করিয়াছিলেন।

ইহা ছাড়া তিনি অসংখ্য লোককে দেশ হইতে বিতাড়িত করেন। কর্ডোভা হইতে তাহাদিগকে তাড়াইয়া দিবার পর তিনি ধর্মীয় নেতাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেন। তাহাদের অধিকাংশ টলেডোতে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিলেন। তাহাদিগকে ফিরিয়া আসিবার আহ্বান জানানো হয়। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তাহাদিগকে কর্ডোভা ব্যতীত স্পেনের যেকোন অংশে বসবাসের অনুমতি প্রদান করা হয় এবং তাহাদের সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হয়। তালুত বিন আবদুল জব্বার মাফির উপজাতির অন্তর্ভুক্ত একজন আরব প্রথমে তাহার খুবই প্রিয় ও অনুগ্রহ ভাজন ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে সে আমীরের বিরুদ্ধে জনগণকে বিদ্রোহ করিবার জন্য উত্তেজিত করে। তাহাকে তিনি ক্ষমা করেন এবং পূর্ব অবস্থান অক্ষুন্ন রাখেন। অন্যদিকে উজির আবুল বাসসাম যিনি তাহার বন্ধু তালুতের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করিতে চাহিয়াছিলেন তিনি অপমানিত ও লাঞ্ছিত হন। জীবনের শেষদিকে আমীর ফুকাহাদের সাহচর্যে জীবন যাপন করেন। তাহারা কায়রোওয়ান ও দেশের অন্যান্য স্থান হইতে আগত আইনবিদদের সহিত গভীর সহযোগিতায় কাজ করেন। ধর্মীয় ব্যাপারে বুদ্ধিজীবীগণ বিশেষ অবদান রাখেন। আসাদ ইবনে আল ফুরাতের আসাদিয়া নামে মালিকী মাজহাবের দৃষ্টিতে রচিত সংকলনটি ৮০০ খ্রীস্টাব্দে ইসা বিন দিনার (মৃত ৮২৭ খ্রীঃ) স্পেনে প্রচার করেন। ইসা বিন দিনার নিজেও ১২ খণ্ডে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। আমীরের সবচেয়ে প্রিয় ফকিহ ছিলেন জাইয়াদ বিন আবদুর রহমান, যাহার অনুরোধে অনেককে আমীর ক্ষমা করেন। আমীর কর্ডোভাবাসী ও ধর্মীয়নেতাদেরকে কঠোর হস্তে

দমন করেন যখন তাহারা আমীরের পারিবারিক জীবন ও সম্মানের ব্যাপারে হুমকি প্রদর্শন করে। ইহা সত্য যে, কর্ডোভাবাসীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হইয়াছিল। কিন্তু তাহারা যে অপরাধ করিয়াছিল ইহার জন্য মধ্যযুগে কোন ক্রমেই কম শাস্তি হইত তাহারা আমীরের জীবন নাশের হুমকী দিত। এই অপরাধের জন্য সব সময় মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হইত। হাকাম ভোগ বিলাসিতার প্রশ্রয় দেন। এমন কি যখন তিনি জনগণ দ্বারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন তখনও তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করেন ও চিরুনী দ্বারা মাথা আঁচড়ান। কারণ যদি তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার হস্তে নিহত হন তবে যেন তাহার মাথা দেখিয়া পরিচয় পাওয়া যায়। সময় কাটাইবার জন্য শিকার করা ছিল তাহার অতীব প্রিয় অভ্যাস। তিনি ছিলেন একজন কবি এবং সঙ্গীত ভক্ত।

তিনি কবি ও গায়কদের দ্বারা পরিবৃত্ত হইয়া থাকিতে ভালবাসিতেন। তাহার প্রাসাদে গায়কদের মধ্যে ছিলেন আব্বাস বিন আল নাসারী, মনসুর, আলুন ও জারকুন। আব্বাস আল নাসারী ছিলেন প্রাসাদের প্রধান গায়ক ও বাদক। মুনসুর ছিলেন ইহুদী গায়ক ও বাদক যিনি পরবর্তীকালে দ্বিতীয় আবদুর রহমানের প্রাসাদে জিরইয়াব প্রবর্তনের জন্য প্রশংসা লাভ করেন। আলুন ও জারকুন তাহাদের গান বাজনার খ্যাতির জন্য প্রাচ্যে পর্যন্ত আমন্ত্রিত হইতেন। পণ্ডিত, কবি ও গায়কগণ ছিলেন সম্মানিত ব্যক্তি। তাহাদিগকে বিশেষ সম্মান ও আনুকূল্য প্রদান করা হইত। আমীর একজন উচ্চমানের কবি ছিলেন।

সাংস্কৃতিক কার্যের জন্য জনগণ তাহাকে পছন্দ করিত না। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে একজন সফল শাসক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি রাজ্যের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বিধান এবং শাসন ব্যবস্থাকে দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

তথ্য নির্দেশ

১। তাঁহার মাতার নাম ছিল জাখরাফ (ইবনুল খাতিব, দ্যা খেলাফত-ই-মুয়াহিদীন পৃঃ ১৩; রিয়াসত

আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৫৭ দেখুন) ইবনুল আছির, ৬ষ্ঠ খণ্ড পৃঃ ১২৮।

ইবনুল আছির, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ১০২, ১১০, ১১১, ১১৪। ৪। রিয়াসত আলী, পৃঃ ৩৬৯-আসবাগ; স্কট, হিস্ট্রি অব দ্যা মূরিশ ইম্পায়ার ইন ইউরোপ, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৪৪৪-ইসবাহ।

চার্লসের মৃত্যুর পর ৮০০ খ্রীঃ শালমান তাহার স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তী বছর তিনি জনৈক আব্বাসীয় দূতকে বহু মূল্যবান উপঢৌকন দ্বারা তাঁহার রাজপ্রাসাদ আইক-লা-চাপেল্লেতে অভ্যর্থনা জানান। এই সমস্ত মূল্যবান উপঢৌকনের মধ্যে ছিল দুর্লভ হস্তী এবং পানি-বিদ্যুৎ দ্বারা

পরিচালিত একটি পিতলের ঘড়ি। ৬। এইচ. কে. শেরওয়ানী, লিখিত জায়তুন নহে (মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১০১1)

আমরুস খ্রীস্টান মাতার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। এইচ, কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস্ পৃঃ ১০৫।

৮। ইবনুল আছির, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ১০৮-১০৯।

ই. জি. গোমেজ, হিস্টোরিয়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১০৪; ডজি বলেন যে, আমরুস হিঃ ১৯১/৮০৭ খ্রীঃ গভর্নর নিযুক্ত হন, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৪৬; রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৬২। রাফায়েল, আলতামিরা, দ্যা ওয়েস্টার্ন খেলাফত, কেন্দ্রীজ মেডিয়াভ্যাল হিস্ট্রি, ৩য় খণ্ড, ১৯২২,

পৃঃ ৪১৫। ১১। ইবনুল আছির, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৩৫-৩৭; ইবনুল কুতাইবা, পৃঃ ৪৫-৪৯; রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড,

পৃঃ ৩৬২-৬৭ এবং ই. জি. গোমেজ, হিস্টোরিয়া ডি ইস্পনা, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১০৩-১০৪।

ইবনুল খাতিব, দ্যা খেলাফত-ই-মুয়াহিদীন, পৃঃ ১৬ দেখুন। ১৩। জে, রিবেরা (ইবনুল কুতিয়া) হিস্টোরিয়া ডি-ল্যা কনকুইজটা ডি ইস্পনা, মাদ্রিদ, ১৯২৬, মূল পৃঃ

৫৫-৫৭ (অনুবাদ পৃঃ ৪৪-৪৬)। ১৪। এ. এ. ভেসিলেত, বাইজেন্স ইটলাস আরবস, ১ম খণ্ড, ১৯৩৫, পৃঃ ৪৯-৫৫, (কনকুয়েট ডি, লা

ক্রীট পার লেস আরস); লেখকের প্রবন্ধ, দ্যা রুল অব কর্ডোভান মুসলিম ইন ইকরিটিশ (ক্রীট), দ্যা জার্নাল অব পাকিস্তান হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি, করাচি, ১৯৬০; এই পুস্তকের

পরিশিষ্ট-ক দেখুন। ১৫। কালেকশনস অব দ্যা হিস্ট্রোরিয়ানস্ ডি ফ্রান্স, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৫৬, রেনাউদ কর্তৃক উদ্ধৃত (অনুবাদ

এইচ. কে. শেরওয়ানী) মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১৯৭। ১৬। বাকেটের সংগ্রহ, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৬২, রেউদ কর্তৃক উদ্ধৃত, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১০৮। ১৭।

ইবনুল আছির, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ১৭৬। ১৮। মাজমুয়া-আল-আখবার আন্দালুস, পৃঃ ১২৪, ১২৬। ১৯। ঐ, পৃঃ ১২৭, ১২৮। ২০। লেভি প্রভেঙ্কাল, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৬৪, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩২। ২১। গায়ানগোস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২১৩। ২২। হোল কর্তৃক-উদ্ধৃত, পৃঃ ৭০। ২৩। আখবার মাজমুয়া, পৃঃ ১২৯-৩০।

সকল অধ্যায়
১.
উপক্রমণিকা (মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস)
২.
প্রথম অধ্যায় : মুসলমানদের স্পেন বিজয়
৩.
দ্বিতীয় অধ্যায় : দামেস্ক-খেলাফতের অধীন উমাইয়া আমীরদের শাসন
৪.
তৃতীয় অধ্যায় : স্বাধীন উমাইয়া আমীরদের রাজত্ব
৫.
চতুর্থ অধ্যায় : প্রথম হিশাম
৬.
পঞ্চম অধ্যায় : প্রথম হাকাম
৭.
ষষ্ঠ অধ্যায় : দ্বিতীয় আবদুর রহমান
৮.
সপ্তম অধ্যায় : প্রথম মুহাম্মদ
৯.
অষ্টম অধ্যায় : মুনজির ও আবদুল্লাহ
১০.
নবম অধ্যায় : উমাইয়া খিলাফত
১১.
দশম অধ্যায় : দ্বিতীয় হাকাম
১২.
একাদশ অধ্যায় : হাজীব আল-মনসুর
১৩.
দ্বাদশ অধ্যায় : স্পেনে উমাইয়া খিলাফতের পতন
১৪.
ত্রয়োদশ অধ্যায় : স্পেনের উত্তরাঞ্চলে খ্রীস্টান রাষ্ট্রসমূহের অভ্যুদয়
১৫.
চতুর্দশ অধ্যায় : প্রথম পর্যায় ক্ষুদ্র রাজ্যসমূহ
১৬.
পঞ্চদশ অধ্যায় : দ্বিতীয় পর্যায় – উত্তর আফ্রিকার শাসন
১৭.
ষষ্ঠদশ অধ্যায় : তৃতীয় পর্যায়ঃ নাসরী রাজবংশ
১৮.
সপ্তদশ অধ্যায় : মরিস্ক জাতি
১৯.
অষ্টাদশ অধ্যায় : স্পেনে মুসলিম শাসনের পতনের কারণসমূহ
২০.
উনবিংশ অধ্যায় : শাসনকার্য ও প্রশাসন
২১.
পরিশিষ্ট-ক : ইক্রিতিশে কর্ডোভান মুসলমানদের শাসন
২২.
পরিশিষ্ট-খ : স্পেনে মুসলিম শাসকদের বংশানুক্রমিক তালিকা
২৩.
পরিশিষ্ট-গ : উত্তর-স্পেনে খ্রিষ্টান শাসকদের কালানুক্রমিক তালিকা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%