শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
মানুষের জীবনে দুঃখের নানা কারণ থাকে। গদাইবাবুরও আছে। এই যেমন কাল রাতে হরেনবাবুর গোরু বাসন্তীর একটা বকনা বাছুর হয়েছে জেনে অবধি তাঁর মনে সুখ নেই। আহা, বকনা না হয়ে এঁড়ে হলেও তো পারত! হরেনবাবুর সবই যে কেন ভালো হয় তা ভেবেই পান না গদাই পাল। হরেনবাবুর যেন ভালোর আর শেষ নেই।
এই তো গত বার্ষিক পরীক্ষায় হরেনবাবুর ছেলে নব মেলা নম্বর পেয়ে ক্লাসে ফার্স্ট হল, আর গদাইবাবুর ছেলে ফটিক ওপরের ক্লাসে উঠতেই পারল না। তা না পাক, তাতে দুঃখ নেই! কারণ প্রতি ক্লাসেই ফটিকের ওপরের ক্লাসে উঠতে একটু সময় লাগে। তা বলে নবর অমন তাড়াহুড়ো করে ওপরে ওঠার দরকার কী? একটু রয়েসয়ে উঠলে কোনো মহাভারত অশুভ হয় রে বাবা!
সবাই জানে হরেনবাবুর টাকার লেখাজোখা নেই। তবু গেলবার ভুটান লটারির দশ লাখ টাকার প্রাইজ উঠল হরেনবাবুর নামেই। এর কোনো মানে হয়? ভূষণবাবুর যে সরেস সাড়ে তিন বিঘে জমি চার লাখে প্রায় বায়না করে ফেলেছিলেন গদাইবাবু, সেই জমি কোন মন্তরে মাত্র দু-লাখে কিনে ফেললেন হরেনবাবু তা আজ অবধি মাথায় ঢুকছে না গদাইবাবুর। ভুবনবাবুর কাছে কথাটা তুলতেই তিনি খ্যাঁক করে উঠে বললেন, আমার জমি আমি যাকে খুশি বেচব, তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে নাকি!
পরে কানাঘুসোয় শোনা গেল, হরেনবাবুর ভাইঝির সঙ্গে ভূষণবাবুর কোন শালির ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছে বলেই দু-তরফে এখন বেজায় খাতির। কপালটাই তাঁর খারাপ। নইলে কি গদাইবাবুরও বিয়ের যুগ্যি ভাইঝি ছিল না? ছিল, কিন্তু ভূষণবাবুর শালির যে একটি সরেস ছেলে আছে এ-খবরটাই জানা ছিল না গদাইবাবুর।
তা না হয় হল, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের ব্যবহারটাই বা কীরকম! সাহেব সেদিন গাঁয়ে রোঁদে এসেছিলেন, তাই গদাইবাবু তাঁকে একটু সেলাম জানানোর জন্য কাঁচি ধুতি আর গরদের পাঞ্জাবি পরে সেজেগুজে চণ্ডীমণ্ডপে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নমস্কারের জবাবে সাহেব না করলেন নমস্কার, না দিলেন কুশলপ্রশ্নের কোনো জবাব। ভ্রূক্ষেপই করলেন না। অথচ হরেনবাবু লুঙ্গি আর ফতুয়া পরে হাজির হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে কত কথাই-না কইলেন। তাও আবার হেসে হেসে। এতে দুঃখ না হওয়াটাই তো অস্বাভাবিক। তা এসব দুঃখ নিয়েই বেঁচে থাকতে হলে কার না রাগ হয়।

সকালবেলায় গদাইবাবু একটু প্রাতঃভ্রমণ করে থাকেন। আজও বেরিয়েছিলেন। মনটা খিঁচড়ে থাকায় হাঁটাটা তেমন উপভোগ করছেন না। বিরক্তই লাগছে। তাই আজ ইচ্ছে করেই চেনা রাস্তা ছেড়ে গাঁয়ের সীমানা ছাড়িয়ে একটা মেঠো পথ বললেন। মনটা যদি একটু চনমনে হয়। তা বলতে কী অচেনা রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে মনটা বেশ একটু ভালোই লাগছে। চারদিকে ঘন গাছপালা, বেশ নির্জন, চারদিকে পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। শরৎকাল বলে বেশ মোলায়েম আবহাওয়া। চমৎকার পরিবেশ। তাই আজ একটু বেশি হাঁটবেন বলে হন হন করে আগু হলেন। কোথায় গিয়ে ঠেকবেন সেটা তেমন খেয়াল রইল না।
বেখেয়ালে অনেকটা যাওয়ার পর হঠাৎ চৈতন্য হল যে, তিনি রাস্তা গুলিয়ে ফেলেছেন। চারদিকে জঙ্গলটাও যেন বেশ ঘন হয়ে উঠেছে। খেয়াল করেননি, অন্যমনস্ক ছিলেন বলে। তবে ভয়েরও তেমন কিছু নেই। দিনমানে ভয়ভীতির ব্যাপারও তেমন থাকে না কিনা। গদাইবাবু অকুতোভয়ে এগোতে লাগলেন। কিছুদূর এগোবার পর দেখলেন, একটা বেশ ঝুপসি বটগাছ। তার তলাটা বাঁধানো এবং এই জঙ্গলের মধ্যেও বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রেখেছে কে! আর বটগাছের চাতালে বসে একজন বুড়ো মানুষ থেলো হুঁকোয় তামাক খাচ্ছেন।
অনেকটা হাঁটা হয়েছে, তাই গদাইবাবুর একটু জিরোতে ইচ্ছে করছিল। তিনি গিয়ে বুড়োমানুষটির কাছাকাছি একটু তফাত হয়ে সাবধানে বসলেন। বুড়োমানুষের মেজাজ মর্জির কোনো ঠিক নেই। বেমক্কা রেগেটেগে যায়। তাই গলাখাঁকারি দিয়ে ভারী বিনয়ের সঙ্গেই বললেন, মশাইয়ের কি এই অঞ্চলে থাকা হয়?
বুড়োমানুষটি বললেন, তাও বলতে পারো। তবে কিনা, আমার থাকায় কোনো ঠিক নেই, যততত্রও থাকতে হয়।
আহা, এই বয়সে যেখানে-সেখানে থাকা কি ভালো? আপনার নিজের লোকেরা সব কোথায়?
তারও সর্বত্রই আছে। এই যে বাপু তুমি! তুমিও কি আমার আপনজন নও?
গদাইবাবু একটু ভড়কে গিয়ে বললেন, তা বটে! একদিক দিয়ে দেখতে গেলে হয়তো তাই। তবে কিনা আপনার তো একটা ঠিকানাও থাকবার কথা। যেখানে আপনার নিজের জনেরা থাকেন।
তা আর নেই! খুব আছে। কত ঠিকানা চাও? টুকে কূল করতে পারবে না। ধরো, একটা ঠিকানা হল, বিষ্টুপুর গাঁয়ে গদাধর পালের বাড়ি। ঠিকানাটা কি চেনা চেনা লাগছে?
কী যে বলেন! এ তো আমার ঠিকানা! আমার গাঁয়ের নাম আপনি জানালেন কী করে সেটাই বুঝতে পারছি না। আপনি তো আপনাকে চিনিই না।
কিন্তু আমি যে বাপু তোমাকে বিলক্ষণ চিনি! তোমার তিন ছেলে, দুই মেয়ে, তোমার বউয়ের বাতব্যাধি, তোমার মা হাঁপানিতে ভোগেন, তোমার বাবার সাতাশি বছর বয়স, তোমার টগর নামের গোরুটা এবছরও এঁড়ে বাছুর বিইয়েছে। প্রতিবেশী হরেনবাবুকে তুমি মোটেই পছন্দ করো না, তোমার কুষ্ঠিতে বাহান্ন বছর বয়সে একটা জলের ফাঁড়া আছে। মহেন্দ্র ঘোষ তোমার কাছে সাতশো টাকা পায়, কিন্তু সেটা শোধ দেওয়ার তোমার মোটে ইচ্ছে নেই।
গদাইবাবুর মুখে কথা সরছিল না। বড় বড় চোখ করে পলকহীন চেয়েছিলেন। এ তো তাজ্জব ব্যাপার। এ লোকটা যে তাঁর নাড়িনক্ষত্রের খবর রাখে! অন্তর্যামী নাকি রে বাবা!
লোকটা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, তা অন্তর্যামী মনে করলেও করতে পারো, তাতেও ভুল হবে না।
গদাইবাবু বেজায় ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, আপনি আসলে কে বলুন তো! আমার যে একটু ভয় ভয় করছে।
তা ভয়ের আর দোষ কী! অকাজ কুকাজ করলে ভয়ভীতি জেঁকে বসারই কথা কিনা! গত বুধবার যে বাজারের শাকউলি আধকানা বুড়ি শিবুর মাকে একখানা জালি নোট গছিয়ে শাক কিনলে, সেকথা আর কেউ না জানলেও আমি কিন্তু জানি।
গদাইবাবু এমনিতেই একটু ঘামছিলেন। একথায় ঘাম যেন ডবল হল। গলার স্বরও তেমন ফুটল না। ফিসফিসে গলায় বললেন, আজ্ঞে আমাকে ছলনা করবেন না। আপনি সামান্য মনিষ্যি নন, এটা আমি বেশ বুঝেছি।
বুঝে থাকলে ভালোই। তবে কিনা তুমি হলে জ্ঞানপ্রাণী।
আপনি ভগবান-টগবান নন তো!
তা হলে কি বাপু তোমার কিছু সুবিধে হবে?
তা যে হয় না তা কিন্তু নয়। অনেকদিন ধরে ভাবছিলুম ভগবানকে সামনে পেলে কয়েকটা দরকারি কথা করে রাখব। ডাকাডাকি কিছু কম করিনি মশাই, কিন্তু ভগবানের দোষ কী জানেন, তিনি বড্ড একচোখো । আমি ডাকাডাকি করলে না শোনার ভান করে আলগা থাকেন। কিন্তু হরেনবাবু ডাকলে পড়ি কি মরি করে জুটে আসেন। চাইবারও দরকার হয় না, না চাইতেই ঝাঁপি উপুড় করে ঢেলে দেন। এটা অবিচার কি না তা আপনিই বলুন।
তা বটে। এ তো অন্যায্যই হচ্ছে বলে মনে হয়। তা বাপু তোমার কথাটা কী? আমাকে বলা যায়?
তা বলা যায়, দুঃখের কথা শোনার লোকও তো বড্ড কমে গেছে মশাই।
তোমার কি বাপু খুব দুঃখ?
ঝুড়ি ভরা মশাই, ঝুড়িভরা। আমার দুঃখের কি শেষ আছে। আমার কপালেই এঁড়ে বাছুর, আমার ছেলেই ফেল মারে, কেষ্টবিষ্টুরা দূরছাই করে, লটারি লাগে না। অথচ হরেনবাবুকে দেখুন, পরেশবাবুকে দেখুন, নিতাই নাগকে দেখুন। ভগবান যে কীরকম একচোখো তা টের পাবেন।
তাই তো হে। তোমার দিকটাও তো ভাবতে হবে। তবে শুনেছিলুম যেন তুমি নাকি তোমার শ্বশুরবাড়ির প্রায় বিশ লাখ টাকার সম্পত্তি পেয়েছ, আর বীরকান্তপুরের রাজার পিসির মেলা গয়নাগাটি নাকি বিক্রি করতে নিয়ে আর ওমুখো হওনি। শুনেছিলুম সেই গয়নার দাম নাকি পঞ্চাশ লাখ টাকার ওপর।
আপনার দোষ কী জানেন, আপনি বড্ড উড়ো কথায় কান দেন। বিশ লাখ টাকার সম্পত্তি যেন ছেলের হাতের মোয়া! আর রাজার পিসির গয়না তো সব গিল্টি করা মাল। বিক্রি করে বোধহয় বিশ-ত্রিশ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তা দেব দেব করেছিলাম, কিন্তু পিসি টসকে গেল বলে আর দেওয়া হয়নি।
বটে! তা হলে বলছ যে লোকে খামোখা তোমার বদনাম করে বেড়াচ্ছে! এটা তো বাপু ভারি অন্যায়।
আজ্ঞে ওইজন্যই তো ভগবানের সঙ্গে একবার দেখা হওয়া খুব দরকার। এসব অন্যায়ের কি একটা বিহিত হওয়া উচিত নয়?
তা তো বটেই হে বাপু! তবে কিনা কানাঘুঁষো যেন শুনলুম রামকেষ্টপুরের নিধিরাম মারা গেলে তার বারো বিঘে জমি নাকি তুমি জাল দলিল করে গাপ করেছ। নিধিরামের নাবালক ছেলেমেয়েরা নাকি প্রায় উপোস করে মরবার জোগাড় হয়েছে। ভিক্ষেসিক্ষে করে কোনোরকমে তাদের গ্রাসাচ্ছাদন চলছে।
নিন্দুকদের কাজই তো আষাঢ়ে গল্প বানানো। বিশ্বাস করলেন নাকি ও কথা? আসলে ব্যাপারটা হল, নিধিরাম বছর পাঁচেক আগে মোটা টাকা ধার নিয়ে ফেঁসে যায়। তার বিপদের কথা শুনে আমি তাকে বাঁচানোর জন্যই চড়া দাম দিয়ে জমিটা কিনি। যাতে সে ধার শোধ দিয়ে হাজতবাস থেকে বাঁচতে পারে। পরের উপকার করতে নেই মশাই, কপালে দুর্নাম জোটে।
তাই তো হে। তোমার মতো মানুষের সঙ্গে তো এরকম করা মোটেই উচিত নয়। কিন্তু একথাও হাটে-বাজারে কান পাতলে শোনা যায় যে, তুমি নাকি ভারি চড়া সুদে গরিবদের টাকা ধার দাও। চক্রবৃদ্ধি হারে সেই টাকার সুদ নাকি আসলের চেয়েও অনেক বেড়ে যায়। সেই টাকা শোধ দিতে না পেরে অনেকে নাকি আত্মহত্যা করেছে, অনেকে পাগল হয়ে গেছে, কেউ কেউ বিবাগী হয়ে গেছে। আজ অবধি নাকি কেউ তোমার ধার শোধ করতে পারেনি! এও কি গুজব নাকি হে বাপু?
মোটেই ওসব নকড়া-ছকড়া কথায় কান দেবেন না। তবে একথা ঠিক যে, গরিবের দুঃখে আমার প্রাণ কাঁদে, তাই ঠকে যাওয়ার ভয় থাকলেও আমি গরিবদের সাহায্য না করে পারি না। আর ধার দিয়ে দিয়ে আমার প্রায় ফতুর হওয়ার জোগাড়। একজনও আজ অবধি ধার শোধ দেয়নি। এসব দুঃখের কথা কওয়ার জন্যেই তো আমি ভগবানকে খুঁজছি। দেখা হলে বলব, ভগবান, লাখ পঞ্চাশেক টাকা পাইয়ে দাও, জমিয়ে সুদের কারবারটা ফের শুরু করি।
বুড়ো লোকটা গদাইবাবুর দিকে মিটিমিটি চেয়ে মুচকি একটু হাসল। তারপর বেজায় ভালোমানুষের গলায় বলল, মোটে পঞ্চাশ লাখ। তার বেশি নয়?
প্রথমেই বেশি চেয়ে বসলে ভগবান বিগড়ে যেতে পারেন তো। তাই অল্প দিয়েই শুরু তো করি, তারপর তাঁর সঙ্গে বোঝাপড়াটা হয়ে গেলে মোটা দাঁও মারা যাবে। কী বলেন?
সে তো ভালো কথাই হে! ভগবান লোকটা বোধহয় তেমন চালাক চতুরও নয়, কী বলো? তা হলে ভগবানের সঙ্গে মোলাকাতটা হলেই হয়, তাই না?
যে আজ্ঞে। তা আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে, আপনি বোধহয় ভগবানের সুলুক-সন্ধান জানেন।
সে তুমিও জানো। সবাই জানে। ভগবান তো ধরা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন বলেই আমার মনে হয়। সপাটে ধরতে পারলেই হল।
বটে। তা ভদ্রলোকের সঙ্গে একটু ভিড়িয়ে দিন না। না হয় তার জন্য কিছু খরচাপাতিও দেব'খন। কত দিতে হবে বলুন তো?
ওরে বাবা, সে মেলা টাকার ধাক্কা হে বাপু। ও রাস্তায় তেমন সুবিধে হবে না।
তা হলে উপায়?
লোকটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, কাজটা কিন্তু কঠিন।
আহা, বলেই তো দেখুন।
নিধিরামের সব জমি ফিরিয়ে দাও, বুড়ো রাজামশাইয়ের কাছে গিয়ে তাঁর পিসির গয়নার দাম পুরো পঞ্চাশ লাখ টাকা মিটিয়ে দিয়ে আসতে হবে। গরিবদের যত ধার দিয়েছ, তার সবটুকু মাপ করে দিতে হবে। বলি, পারবে তো?
গদাইবাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, আপনি যে একজন ঘোড়েল লোক তা প্রথম থেকেই বুঝেছিলাম।
তা আছি একটু ঘোড়েল। বেশ করে ভেবে দেখো গে, যা বললুম তা পারবে কি না।
গদাইবাবু একটু ভাবলেন, তারপর বড়ো একটা শ্বাস ফেলে বললেন, কী কুক্ষণে যে আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল কে জানে!
তা হলে বরং মানে মানে কেটে পড়ো।
গদাইবাবু খিঁচিয়ে উঠে বললেন, তা হলেই কি আপনার হাত থেকে রেহাই পাব! আপনি কি আর তত ভালোমানুষ। সারা জীবন তো দগ্ধে দগ্ধে মারবেন।
তা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল?
আজ্ঞে ওই যা বললেন তাই হবে। এত ভ্যানতাড়া না করেই আগে তো বলে দিতে পারতেন যে আপনিই ভগবান!
কিশোর ভারতী, মে ২০১৮
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন