অমল চট্টোপাধ্যায়
বড় রাস্তা, আর গলিটা—
বড় রাস্তায় দশ হাত ছাড়া ছাড়া বিদ্যুৎ বাতির আলোর দ্যুতি মসৃণ রাস্তার ওপর পড়ে রূপসী কোলকাতার অঙ্গে অঙ্গে যেন ঢেউ খেলে যায়। আর গলিটা—
এখানে ছাইপাঁশ মাছের আঁশ যত্রতত্র ভাবে স্তূপাকার হয়ে জমে থাকে। কখনো মরা জীবজন্তুর গা হতে পচা দুর্গন্ধ ছড়ায় এক প্রান্ত হতে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত।
এদের জীবন এখনো আশা নিয়ে খুঁজে বেড়ায় একটু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আর বাঁচার পথ, আর চায় মুক্ত বাতাস।
এখানকার ভাঙা ল্যাম্পপোস্টগুলো পর্যন্ত আশায় আশায় দিন গোনে যেন হয়তো ওদেরও লাগে বুঝি ব্যথা। হয়তো এটাই রূপসী কোলকাতার কলঙ্কমাখা একটা হতাশাভরা যন্ত্রণা। শত শত যন্ত্রণা জমা হয়ে অশ্রু ঝরায় বারে বারে, যা প্রকাশ্যে আসে লজ্জা, আসে ঘৃণা।
বড় রাস্তার গর্ব। রাস্তার দুপাশে ফ্যাশন করা সব বাড়ি। আছেন সম্মানীয় সব ব্যক্তিরা। সদর দরজায় নেমপ্লেট। ডাঃ এস. এন. মিত্র, প্রফেসর কে. চৌধুরী, এ্যাডভোকেট টি. ব্যানার্জী, সরকারি অফিসার জি. বোস, বিশিষ্ট নেতা আর. চ্যাটার্জী ইত্যাদি ইত্যাদি।
রূপসী কোলকাতার অঙ্গে অঙ্গে অলংকার রূপে সজ্জিত হয়ে কোলকাতার রূপকে করে তুলেছেন আরো ঝলমলে। আরো সুন্দর, রূপসী হয়ে উঠলো আরো সুন্দরী। যা কিছু আছে সৌন্দর্যের ডালা তা আছে এনাদের ঘিরে। ব্যক্তিক্রম শুধু রূপসীর অন্তরে আর এক দুঃখ যন্ত্রণা ভরা রূপ। যা অতি দুঃখের, যা সইতে সইতে আর হয়তো পেরে ওঠে না। তাই যত কান্না, আড়ালে, কে জানে, আছে কিনা আরো কিছু ভয়! এখানকার মানুষ তাই আছে নিয়ে। স্যাঁতসেতে ঘর, জীবন আঁধারময়, নতুন সূর্যের কি মহিমা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। আশার পথ এখনও পাইনি সঠিক কোনটি।
অফিসার জি. বোসের সুন্দরী যৌবনা স্ত্রী মিসেস লিলি বোস। অল্প বয়স পুরো বসন্তই সারা অঙ্গে। তাই সাধটাকে চায় না একপাত্রে রেখে চটকানো। তাই সাতপাকের বাঁধনকে ডিঙিয়ে মনটাকে চাইলেন একটু খুশিমতো সাজানো। যাকে বলে যেমন ইচ্ছে।
মিসেস লিলি তাঁর বাড়ির বারান্দায় ইজিচেয়ারে বসে গাইছেন গুনগুন স্বরে, তার মনের মতো গান। গানের সাথে তালও দিচ্ছেন চেয়ারের হাতলে। আঙুলের টোকার মাধ্যমে। কখনো হাতলে চাঁটি মেরে মেরে।
সন্ধ্যা প্রায় শেষ। আলোর রোসনায় ভরা কোলকাতা। পেসেন্টকে যত্নসহকারে দেখাটাই যার জরুরি এবং দেখছিলেন সেই ডাঃ মিত্র, হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ পড়তে মুহূর্তে পেসেন্ট দেখা হয়ে গেলো একটা বোঝা। তাই পেসেন্ট দেখা এবং তাড়া এই দুটো ভাবতে গিয়ে নতুন করে আর কোনো ওষুধ না লিখে একটা ডেট বসিয়ে দিলেন আসার জন্যে।
এ্যাডভোকেট টি. ব্যানার্জী দেয়াল ঘড়ির দিকে চোখ রেখে মক্কেলকে মিষ্টি স্বরে বললেন, চিন্তা নেই, আপনার মেয়ে সুখী নয়, কারণ শুধু মাত্র সন্দেহবশত তবে যা শুনলাম তাতে এটুকু বোঝা গেল স্বামীর ছায়াটুকুই পেয়েছে। এর বেশি নয়। আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি যান, আমি দেখছি।
প্রফেসর কে. চৌধুরী যার ছাত্রী একদিন জীবনসঙ্গিনী হলো। এখন ঠিক এই সময় প্রফেসরের মন আনচান করে ওঠে আর এক নারীর সান্নিধ্য পাওয়ার আশায়। তাই এই মুহূর্তে স্ত্রী হল তাঁর কাছে ফেলে দেওয়া কিছুর মতো মূল্যহীন বস্তু। স্ত্রীর সযত্নে টেবিলের ওপর ফুলদানিতে রাখা টাটকা গোলাপের ঝাড় হতে ছিঁড়ে নিলেন একটি লাল গোলাপ। তাঁর স্ত্রীর মনে হলো তার অতি প্রিয়জন প্রসন্নমনে তুলে নেন হৃৎপিণ্ডসহ তার সব বাসনা।
ইনি হলেন সর্বহারার বিশিষ্ট নেতা আর. চ্যাটার্জী। ইনি অসহায় মানুষের ঘূণধরা পাঁজরের সাথে বজ্রের তুলনা করে নিজের আসনটি আরো সাজিয়ে রাখার জন্য থাকেন ব্যস্ত। এই মহান মানুষটি অবশ্য প্রয়োজনে মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা এসবও ভাবেন। কখনো বক্তৃতার মাধ্যমে শোনান মধুর বাণী। আশাহত মানুষের কান্নায় সান্ত্বনায় হাত বাড়ান, ব্যাস ওইটুকু।
সেই তিনি সর্বহারার নেতা মানুষটি তাঁর ঘড়ির দিকে চোখ পড়তে আপাতত সব কাজ স্থগিত রেখে কোনো এক ভালোবাসার গান গুনগুন স্বরে বেসুর গলায় গাইতে গাইতে চললেন আর এক মহৎ কাজে।
আকাশে শুক্লপক্ষ চাঁদ। পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দিয়েছে তার আলো। প্রকৃতি আরো সুন্দর হয়ে ওঠে সেই আলোয়। মিসেস লিলি বোসের সুন্দর সাজানো ঘর। ধূপের গন্ধে ঘরময় ভরপুর। খাটের এক পাশে চেয়ারে বসে পিয়ানো বাজিয়ে গান গাইছেন তিনি। হাসির প্রলেপটি তাঁর মুখের চারপাশে চাঁদের আলোর মতো ছড়ানো। মন ভোলানো হাসি। পাশে মাননীয়রা সব, ডা. মিত্র অ্যাডভোকেট ব্যানার্জী। গোলাপ হাতে প্রফেসর চৌধুরী এবং বিশিষ্ট নেতা মি. চ্যাটার্জী। তাঁদের লোলুপ দৃষ্টি আর বাহবা কণ্ঠে লিলি বোসের হাসিটি কখনো সরল আকারে কখনো উপচে পড়ে মাত্রা ছাড়িয়ে। কখনো বাঁকা হাসিতে বুঝিয়ে দিতে চান যেন, তোমরা সমাজের এক একটা—ছিঃ!
গানের সাথে তাল রেখে কখনো লিলি বোসের দেহের কোনো কোনো স্থানে হিল্লোল দিয়ে ওঠে কবির ভাষার মতো। কবি থাকলে হয়তো ভাবতেন।
মাননীয়দের ভাবে ভঙ্গিতে নেশা ধরার ছাপ। মদের নয়, কচি শাঁসের স্বাদ পাবার নেশা। মানুষ মানুষের জন্যে। এখানে সেবার মনোভাব, এই ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এমন একটি মধুর ভান্ডো সামনে পেয়ে সেবা এই কথাটি আপাতত বাদ দিয়ে শুধু পাবার ইচ্ছাটাকেই বেশি আকৃষ্ট করে মাননীয়দের। তাই গোলাপ ফুল হাতে ধরা নিজের হাতটি এগিয়ে দিলেন প্রফেসর চৌধুরী মিসেস বোসের দিকে, বললেন প্লিজ টেক ইট। এই লাল গোলাপের মধ্যে আমার মনের কথা ব্যক্ত করা আছে। এই গোলাপ আপনার ছোঁয়ায় প্রকাশ পাবে।
মিসেস লিলি গোলাপটি প্রফেসরের হাত হয়ে নিয়ে বিশেষ ভঙ্গি করে হাসলেন। মনমাতানো হাসি, নাকে শুঁকলেন গোলাপটি। বললেন কারো হৃদপিণ্ড হবে।
প্রফেসর অর্থাৎ সভ্য মানুষটি যার জ্ঞানেই মানুষকে চেতনা জাগায়। এখন সেই সভ্য মানুষটি পর—স্ত্রীর আঁচল ধরার জন্য আগ্রহী। তিনি এক হাতে আর এক হাতের চেটোর ওপর আঙ্গুলের চাপ দিতে দিতে বললেন রিয়েলি আপনার চোখ মুখ, এমন সুগঠিত দেহ এমনকি আপনার হাসিটি পর্যন্ত আমায় মুগ্ধ করে। মনে হয় শুধু আপনার চোখে চোখ রেখে কাটিয়ে দিই সারা রাত। আপনার চোখ আমার কাছে প্রভাত সূর্যের চেয়েও সুন্দর। মিসেস বোস হাসলেন দেহের বাঁধনকে জাগিয়ে। বললেন, কবি হলেই পারতেন। বাজারে কদর কম পেতেন না।
চোখে চোখ রেখে প্রফেসর হাসলেন, বললেন যা কিছু লেখা জমা হয়ে আছে আপনার মনের গভীরে। পারলে চোখ রাখবেন সেখানে। হাসলেন মিসেস বোস। বললেন, সেখানে এতো বোঝা হয়ে ওঠে না।
ডাক্তার মিত্র বলে উঠলেন, আপনার সব কিছুই আমাকে লেখায় কাগজে নয়। আপনার সর্বাঙ্গে। আপনার ইচ্ছে হলেই দেখতে পাবেন।
মিসেস বোস বললেন কি জানি রোগী দেখতে দেখতে এমন কাণ্ড করেন কিনা। ডাক্তার মিত্র বললেন তাহলে তো চেম্বার ছেড়ে পালাতে হয়।
নেতা মি. চ্যাটার্জী ঝানু লোক। তিনি সামান্য কেশে ডাক্তার মিত্রের পিঠে আলতো টোকা মেরে বললেন আপনার মনের যত বাসনা আকাশ বাতাস পূর্ণ চাঁদের নীচে দাঁড়িয়ে যত ইচ্ছে বলুন। কিন্তু মনে রাখবেন পরিবার নিয়ে থাকেন। শোবার সময় অন্তত স্বামীজি হয়ে থাকবেন। না হলে বিপদ ঘটতে পারে।
অ্যাডভোকেট মি. ব্যানার্জী হোঃ হোঃ করে হাসতে থাকেন। হাসতে হাসতে তাঁর পকেট থেকে সুগন্ধ মাখা রুমাল বার করে রুমালের এক কোণকে পাকিয়ে কানে সুড়সুড়ি দিতে দিতে বললেন, ঠিক বলেছেন কিন্তু রসে আর ডুবলাম কোথায়? রস দেখি বটে। কিন্তু ডুব আর দিলাম কৈ।
নেতা চ্যাটার্জী বললেন, রস দেখেই না হয় স্বাদ মিটিয়ে নিন। পুরো ডুবলে সমাজটাকেই নিয়ে শেষে ডুবতে হবে। রসের ছোঁয়া তবু ভালো। শত হলেও আমি তো সমাজ সেবক।
মিসেস বোস বললেন সত্যিই তো আপনাদের আমার উচিত ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা। সমাজের বিশিষ্ট সব আপনারা। আপনাদের পদার্পণ আমার কাছে অভাবনীয়।
এ্যাডভোকেট মি. ব্যানার্জী হাসলেন, বললেন, অভ্যর্থনা কি কুঁচো ফুল দিয়ে না মালা পরিয়ে। নেতা মি. চ্যাটার্জী হেসে বললেন তাহলে আবার রাজায় রাজায় যুদ্ধ বেধে যাবে। এ্যাডভোকেট মি. ব্যানার্জী নেতা মি. চ্যাটার্জীকে থামিয়ে দিয়ে বললেন খোলা রসের গামলায় শুধু একটু হাত ঠেকানো। মালা পরলে কার আর থাকবে আপত্তি।
মিসেস বোস মি. ব্যানার্জীর দিকে তাকালেন, বললেন, সুসজ্জিত ঘরে হাতে ঘি মেখেছেন। বাড়ি গিয়ে গন্ধ শুঁকুন আর অনুভব করুন। সময়টা রাতকে ডিঙিয়ে যাবে ঠিকই।
ডাক্তার মিত্র বললেন, মি. বোস ভেরি লাকি ম্যান।
প্রফেসর বললেন কেন?
ডাক্তার মিত্র বললেন, তাহলে আমাদের এতো আসা কেন?
এ্যাডভোকেট মি. ব্যানার্জী বাঁকা চোখে একবার সবাইকে দেখে নিলেন, তারপর মিসেস বোসের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমরা এক একজন ডাকাত হলেও আসল কাজে একটা ছিঁচকে চোরের চেয়েও নগণ্য।
প্রফেসর বললেন, হয়তো আপনার কথাই ঠিক। কিন্তু দুঃখ রয়ে গেল। যেমন হয়, দেখলো অথচ খেতে পায় না। তবু না এসে পারি না।
নেতা মি. চ্যাটার্জী বললেন, আপনি কি মিন করতে চাইছেন?
প্রফেসর হেসে বললেন আপনি আমার কথায় গায়ে মাখবেন না। এটা রসের কথা, তাই মজা করে বললাম। আসলে আমরা ব্যবহারে ভদ্র, আড়ালে বজ্জাৎ। কথাটা বলে প্রফেসর হোঃ হোঃ করে হেসে ওঠেন।
সাথে সবাই।
মিসেস বোস হাসতে গিয়েও থেমে গেলেন। মনে মনে শুধু বললেন আমি কি? ফলের নাচন, হতাশায় পাগল! উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন মিসেস বোস।
এদিকে রাত একটু একটু করে এগোলেও এখানে গলির ল্যাম্পপোস্টের মিটমিটে আলোয় রাত যেন আরো ঘন।
এই গলির কোনো এক বাড়ির তমস্বিনী চেয়েছিলো সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকতে, পরিবর্তে পেয়েছে দুঃখ যন্ত্রণা বেঁচে থাকার অধিকার নিতে গিয়ে পেয়েছে লাঞ্ছনা। অনাহারে হয় তাঁর বাবার মৃত্যু। মাকে সে ছোটোবেলাতেই হারিয়েছে। তবু সভ্যসমাজ পথটাকে অনুসরণ করে চেয়েছিলো এগিয়ে যেতে, কিন্তু পারেনি। এখন তাঁর নারীর ধর্মটাকেই সে ভুলে গেছে। চকচকে সমাজ যে এতো কাদামাখা ও এক অতি নিম্নমানের নারী বুঝবে কি করে। তাই মাননীয়র দয়ায় হয় বলি। এখন গান গায় সে, প্রয়োজনে চন্দনের ফোঁটাও দেয় কপালে। গান ছিল ভীষণ ভালো। গাইতেও পারতো মধুর স্বরে। বাবা তাঁর বলতেন তোর কণ্ঠে স্বয়ং সরস্বতী। একদিন সবাই তোকে জানবে। চিনবে।
এখন এই গান শুনতেই আসেন অফিসার জি. বোস। গান শোনেন, একটা নয় আরো, তমস্বিনীকে আদর করে বলেন সুন্দরী, তুমি আমার রাতের রানি। আমি চোখের পাতা এক করে তোমার মিষ্টি গলায় গান শুনবো। তোমার গান দাও ভোরের পাখির ঘুম ভাঙিয়ে।
তমস্বিনী গান ধরে। অফিসার বোস তমস্বিনীর গায়ে আলতোভাবে মাথা রেখে বলেন, তমস্বিনী এক এক সময় পূর্ণ চাঁদও এক চিলতে চাঁদের কাছে হার মানে। তোমায় পেয়ে আমার তাই মনে হয়। তমস্বিনী আমি তোমায় সত্যি ভালোবাসি। আই লাভ ইউ।
তমস্বিনী হাসে, জীবনকে নিংড়ে দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা সবটাই বার করে হাসির চেষ্টা। জীবনরেখায় হয়তো দুঃখের মধ্যেও সুখের রেখায় ছিলো একটু ফাঁকা, এখন সবটাই ঘোর অন্ধকার। লাঞ্ছিত এক নারীর আশা যে আশা করেছিলো একদিন একটি অক্ষরের ডাকে বাড়িয়ে দেবে তাঁর দুহাত। আজ সেই যন্ত্রেই তৈরি হচ্ছে তাঁর বাঁচার পথ।
অফিসার মি. বোস বললেন, তমস্বিনী আমি আসবো, তোমার গান শুনবো। পারো না শুধু তোমার আমার গান গাইতে!
তমস্বিনী তাঁর নীরস মনে সরস আনার চেষ্টা করে বললে রাতের শোভা এই আঁধারে দেখা যায় না তাঁর মনের ভেতরটা। তুমি বাড়ি যাও। আলোয় ফিরে যাও। দেখবে রাত হারিয়ে গেছে।
—তমস্বিনী আমি তোমায় ভালোবাসি। তোমার গান আমায় এখানে নিয়ে আসে। এক চিলতে চাঁদ সেও তো নেবে পূর্ণরূপ। সেই রূপ শুদ্ধ। তুমি হলে আমার সে। তোমার গান হারাবার নয়।
অফিসার বোস চলে যেতে তমস্বিনী ভাবে মন সে ভাবাবে। ভাবতে ভাবতেই গুমরে ওঠে মনের ভেতরটা। তারই মধ্যে মনে হলো তাঁর বাবা বলছে, আমাদের কাছে জীবন মানেই একটা রণক্ষেত্র। আমি হেরে গেছি। তুই পথ হারালেও অন্য পথে তোর বাঁচার অস্ত্র হতে পারে ঠিক। আমার আশীর্বাদ রইল। তুই জিতবি। তমস্বিনী কান্না জড়ানো গলায় বলে ওঠে বাবা কে আমায় এই অস্ত্র হাতে তুলে দেবে?
ঘন অন্ধকারে কে যেন আলো দেখিয়ে বললেন, আমি। তমস্বিনী সেই আলোয় যাবে দেখলো সে অফিসার মি. বোস।
তমস্বিনী জানলার রড ধরে কাঁপা স্বরে বললে, তুমি আমায় ভালোবাসো?... আমার জন্যে তুমি কিছু ভাবো!
আকাশে এক ফালি চাঁদ । যেন বললে হ্যাঁ।।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন