প্রলয় কুমার নাথ
সাল - ২০০৯
স্থান - তুরস্কের ব্যাদেমলি কোয়ু গ্রাম
—"সব্জী নেবে সব্জীইই…ফল নেবে ফঅঅল…তাজা সব্জী আর ফল…", সব্জী আর ফল বোঝাই ভ্যান গাড়িটা নিয়ে সক্কাল সক্কাল গাঁয়ের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে ছেলেটা। কিন্তু আজকে বোধহয় তাই ভাগ্যের বৃহস্পতির তেমন জোর নেই, তাই খুব একটা খরিদ্দার জোটাতে পারছিল না সে।
—"এলমা (আপেল), মারুল (লেটুস), কর্ণবাহার (ফুলকপি), ডোমাতেজ (টমেটো), কিরাজ (চেরি), তুর্প (মুলো)…যার যেটা লাগবে নিয়ে যাও এসো, সব আছে আমার গাড়িতে…", হাঁকতে হাঁকতে ধীর গতিতে গাড়ি চালিয়ে গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগল ছেলেটা। এখনো অবধি একটাও খরিদ্দার জুটলো না, এদিকে বাড়ি ফিরলেই তো ডুমান তার কাছ থেকে বিক্রি বাট্টার পয়সার হিসাব চাইবে। তখন কি বলবে ও? কি জানি কি শনি নাচছে আজ তার কপালে, ভাবতে ভাবতেই ভয়ে ঘামতে লাগল ছেলেটা। এমন সময় সে বুঝলো যে সে গাড়ি নিয়ে চলে এসেছে একেবারে গাঁয়ের পুব কোণে। এখানে রাস্তার পাশের একটা জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছে। প্রায় অর্ধেকেরও বেশি খনন কার্য ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। এই জমিটার দিকে তাকাতেই একটা অদ্ভুত হাহাকার মিশ্রিত উত্তেজনা গ্রাস করল ছেলেটার মনটাকে। ছেলেটা গাড়ি থামিয়ে নীচে নেমে এলো। ছুটে গেল জমিটার মাঝে, পুকুরের জন্য কাটা গর্তের একেবারে ধারে। নিচ থেকে কুড়িয়ে নেওয়া দুই হাতের মুঠো ভর্তি আলগা মাটি সে মেখে নিলো নিজের মুখে, তারপর জমিতে মাথা কুটে হাহাকার ভরা কণ্ঠে হাউহাউ করে কেঁদে উঠল ছেলেটা।
আজ যেই স্থানের মাটিতে পুকুর কেটে মাছের চাষ করে ফুলে ফেঁপে উঠতে চাইছে ডুমান, বছর খানেক আগেও এই স্থানেই ছিল তাদের ছোট্ট শ্যাওলা ধরা ফুটিফাটা পাথরের বাড়িটা। সেই বাড়িতেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিদারুন ব্যাথা বেদনা সহ্য করতে করতে মারা গিয়েছিল তার মা। মায়ের মৃত্যুর পর এই বাড়িতে তার একমাত্র অভিভাবক ছিল তার দিদিমা, আইলিন। সেই রাতের ঘটনাটা ভাবলে এখনো সর্ব শরীর ভয়ে কাঁটা হয়ে যায় ছেলেটার, যেদিন এই ডুমান আইলিনকে মিথ্যা ডাইনি সন্দেহ করে বুকে ছোরা বিধিয়ে মেরে ফেলে, তারপর সে আর অন্যান্য গ্রামবাসীরা তাদের বাড়িটাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
………………………………
সেই ভয়ঙ্কর রাতে নিজের বাসস্থান হারিয়ে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর ছেলেটা পালিয়ে গিয়েছিল এই স্থান থেকে অনেক দূরে। তার সম্বল ছিল শুধুমাত্র একটি বড় বাক্স, যার মধ্যে সে নিজের জামা কাপড় সহ আরো টুকটাক কিছু সামগ্রী রেখেছিল, যেগুলোকে সে জ্বলন্ত বাড়িটার ভেতর থেকে বাঁচিয়ে আনতে পেরেছিল। দেহের শেষ শক্তিটুকুও উবে যেতে কখন যে তার শরীরটা অসাড় হয়ে পড়ে গিয়েছিল একটি সব্জী ক্ষেতের মাঝে, সে বুঝতেই পারেনি।
যখন তার চৈতন্য এলো, তখন সকাল হয়েছে। সে চোখ কচলাতে কচলাতে মাটি থেকে উঠে উবু হয়ে বসে দেখল তার চারপাশে বেশ কিছু লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। এরা সকলেই এখানকার ক্ষেত মজুর। তারা সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ছেলেটার দিকে।
—"এই সরো সকলে…সরো দেখি…", একটা ভারী পুরুষকণ্ঠের পরিচিত আওয়াজ পেয়ে চমকে উঠল ছেলেটা। দামী বস্ত্র পরিহিত ডুমান জুতো মচমচিয়ে তার দিকেই এগিয়ে আসছে। সেই ডুমান, যে গত রাতেই তার দিদা আইলিনকে নৃশংস ভাবে খুন করেছে! তাকে দেখে পালাতে উদ্যত হল ছেলেটা।
—"নাহ…ছেড়ে দাও আমাকে…আমি কিছু করিনি…মেরো না আমাকে…"
ডুমান ছুটে গিয়ে ধরে ফেলল ছেলেটার একটা কাঁধ। তারপর তাকে শান্ত করে বলল,
—"আরে তুই ভয় পেয়ে পালাচ্ছিস কেন রে? তোর দিদিমা একটা ডাইনি ছিল, তাই তাকে মেরে তার ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছি আমরা। কিন্তু তুই তো কিছু করিসনি! তোকে কেন মারতে যাবো আমরা?", চওড়া হাসি খেলে গেল ডুমানের মুখে, এবার সে সেই স্থানে উপস্তিত বাকি সকলের উদ্দেশ্যে চড়া গলায় বলল,
—"এই তোমরা সবাই দাঁড়িয়ে দেখছ কি, হ্যাঁ? ও আমার ক্ষেতে পড়েছিল, তোমরা আমায় খবর দিয়েছো, এবার আমি বুঝে নেবো!…তোমরা সময় নষ্ট না করে কাজে যাও, নাহলে আজকের মাইনে কেটে নেবো আমি!"
মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গেল শ্রমিকদের ভিড়।
ভয়ে বিস্ময়ে ডুমানের দিকে অবাক চোখে চেয়েছিল ছেলেটা। তার কাঁধে হাত বুলিয়ে অমায়িক কণ্ঠস্বরে ডুমান বলে উঠল,
—"তা খোকা, কি যেন নাম তোর?…আচ্ছা, থাক তোর আগেকার নাম ভুলে যা, আজ থেকে তোকে আমি 'লেভেন্ত' বলে ডাকবো…'লেভেন্ত' মানে কি বলতো…যে ছেলেকে দেখতে খুব সুন্দর, ঠিক তোর মত!", ফর্সা নাদুস নুদুস ছেলেটার উস্কোখুস্কো চুলগুলো ঘেঁটে দিয়ে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বলল ডুমান,
—"শোন লেভেন্ত, আজ থেকে তুই আমার বাড়িতেই থাকবি, বুঝলি? থাকা খাওয়ার পরিবর্তে তোকে আমার এই চাষের কাজে মাঝে মাঝে সাহায্য করতে হবে, আর প্রতিদিন আমার ক্ষেতের শাক সব্জী গ্রামবাসীদের কাছে বিক্রি করতে হবে, আর…"
এই 'আর' শব্দটা বলেই আবার দাঁত বের করে হাসতে লাগল ডুমান, "আর কি করতে হবে সেটা না হয় পরেই বলব তোকে লেভেন্ত, এখন চল বাড়ি চল…"
লেভেন্ত জানে যে ডুমান এই স্থানের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। এই গ্রামের বেশ কিছু শস্যক্ষেত্র এবং পুকুরের মালিক সে। গ্রামের বেশ কিছু গরিব ঘরের ছেলেরা তার অধীনস্ত কর্মচারী। তাই তার প্রতিটা কথায় ওঠে বসে এই গ্রামের লোকেরা। পুলিশ এবং প্রশাসনকেও যেন হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে রেখেছে এই ডুমান। তাই তো গতকাল রাতে তার দিদিমাকে এত নৃশংস ভাবে ডুমান হত্যা করল, অথচ আজ সকালে সে দিব্যি হেসে খেলে বেড়াচ্ছে। শুধু ডুমানের পয়সার জোরেই নয়, স্থানীয় মানুষদের ভাবাবেগের সাথেও খেলতে চায়না প্রশাসন। কোন বিচার নেই এই গ্রামে, কোন বিচার নেই! এই সর্বহারা নিরাশ্রয় চোদ্দ বছর বয়সের ছেলেটার কাছে তখন আর কোন উপায়ও ছিল না তার দিদার হত্যাকারীর বাড়িতেই মাথা গোঁজা ছাড়া। তাই সে মেনে নিয়েছিল ডুমানের কথা, থাকতে শুরু করেছিল তার আশ্রয়ে। কিন্তু তার মনে ডুমানের প্রতি ঘৃণা যে একচুলও কমেছিল, তা নয়। প্রথম যেদিন ডুমানের বাড়িতে এসেছিল লেভেন্ত, সেদিন ডুমানের স্ত্রী এলিফ কেমন যেন সন্দেহ আর বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল ছেলেটার দিকে, তবে ছেলেটাকে এই বাড়িতে সে রাখতে চায়না এমন কথা সে স্পষ্ট ভাবে কখনো বলেনি।
ডুমানের প্রাসাদোপম বাড়ির সিঁড়ির নীচের একটি স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে ঠাঁই হয়েছিল লেভেন্তের। সেদিন রাতের এঁটো বাসনগুলো ধুতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল ছেলেটার, সব কাজ মিটিয়ে ঘুম চোখে পরিশ্রান্ত শরীরে সে হেঁটে যাচ্ছিল নিজের ঘরের দিকে। এমন সময় ডুমান আর এলিফের শোয়ার ঘরের বন্ধ দরজার বাইরে থেকে যাওয়ার সময় স্বামী স্ত্রীর ফিসফিসিয়ে বলা কিছু কথোপকথন কানে এসেছিল লেভেন্তের। এলিফ ডুমানকে বলছিল,
—"হ্যাঁ মানছি ছেলেটা কাজে কম্মে ঠিক ঠাক, কিন্ত এটা ভুললে চলবে না যে সে ওই ডাইনি বুড়ি আইলিনের নাতি…কে জানে ওই ছেলেটাও হয়তো ওর দিদার মত ব্ল্যাক ম্যাজিক জানে কি না…ওকে এই বাড়িতে এনে কি ঠিক করলে তুমি?"
প্রত্যুত্তরে হোহো করে হেসে উঠেছিল ডুমান,
—"তোমায় কে বলল যে ওই আইলিন বুড়ি ব্ল্যাক ম্যাজিক জানে?"
—"ম…মানে!! যদি সে ডাইনি নাই হয়ে থাকে, তাহলে তুমি ওকে মারলেই বা কেন আর ওর বাড়িটাকেই বা জ্বালিয়ে দিলে কেন?"
—"ওই বাচ্চাগুলো কলেরা হয়ে মারা গিয়েছিল, এলিফ! আমি গোপনে একবার শহরের হাসপাতালে গিয়ে এক ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেউ কোন কালা জাদু প্রয়োগ করেনি ওদের ওপর!"
—"কি বলছো কি তুমি!! তাহলে তুমি গ্রামের অশিক্ষিত মানুষগুলোকে বুড়ির বিরুদ্ধে মিথ্যা খেপিয়ে তুলেছিলে!! কিন্তু কেন?"
—"পথের কাঁটা সরাতে, এলিফ! মনে আছে যখন ওই বুড়ির মেয়ের ক্যানসার হয়েছিল, তার চিকিৎসার জন্য ওদের জমি বাড়ি আমার কাছে বাধা রেখেছিল আইলিন…আরে কত দিন ধরে আমি চাইছি কোন না কোন উপায়ে ওদের ওখান থেকে উচ্ছেদ করতে, ওদের বাড়িটা ভেঙে ওই জমিতে একটা পুকুর বানিয়ে মাছের চাষ করতে…কিন্তু ওই শয়তান বুড়ি আমার এই সাধ কিছুতেই পূরণ করতে দিচ্ছিল না। নিজে না খেয়েও মাসে মাসে পরিশোধ করে চলেছিল ওর ঋণ, এমন চলতে থাকলে জমিটাই হাতছাড়া হয়ে যেত আমার…তাই তো…", কথা শেষ না করেই খিলখিল করে হেসে উঠেছিল ডুমান।
সেদিন ডুমানের কথাগুলো শুনতে শুনতে লেভেন্তের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লেও, তার শরীরের শিরায় উপশিরায় থাকা সমস্ত রক্ত যেন লাভার মত ফুটে উঠেছিল। কিন্তু তবুও দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে নিজের অদৃষ্টের হাতে সমর্পণ করেও সে সহ্য করে চলেছিল ডুমানকে। কিন্তু বিধাতাপুরুষ লেভেন্তের ভাগ্যে যে আরো কত ব্যাথা বেদনা লিখে গিয়েছেন, সেটা কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিল সে। একদিন রাতে ডুমান আর লেভেন্ত একাই ছিল এই বাড়িতে। এলিফ গিয়েছিল কোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। গভীর রাতে ঘরের দরজায় কড়াঘাত শুনে দরজা খুলে লেভেন্ত দেখেছিল বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ডুমান। মদের অস্বস্তিকর গন্ধ ভেসে আসছে তার মুখ থেকে। লাল চোখে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে লেভেন্তের দিকে তাকিয়ে সে টলতে টলতে প্রবেশ করল লেভেন্তের ঘরে। ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল ঘরের দরজা। বিস্মিত লেভেন্তের চোখের সামনে এক এক করে পরনের পোশাক খুলতে লাগল ডুমান। তারপর ছুটে এসে এক ঝটকায় টান মেরে খুলে দিল লেভেন্তের পরনের জামা প্যান্ট। সুদর্শন কিশোরের নগ্ন শরীরটাকে কামার্ত দৃষ্টি দিয়ে জরিপ করতে করতে সে নেশার ঘোরে বলে উঠল,
—"তোকে বলেছিলাম না এখানে থাকতে গেলে ক্ষেতের কাজ আর সব্জী বিক্রি করার সাথে তোকে আরো কিছু করতে হবে আমার জন্য!…আজ সেই সময় এসেছে রে…সত্যি খুব সুন্দর দেখতে তোকে, তাই তো তোর নাম রেখেছিলাম 'লেভেন্ত'!…তাই আজ তোর এই সুন্দর শরীরটাকে ভোগ করবো আমি!.. তোকে মেটাতে হবে আমার সকল তৃষ্ণা!"
এই বলে লেভেন্তের কিছু বলার আগে তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে বিছানায় ওপর করে ফেলে তার শরীরটাকে আঁচড়ে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে তুলল ডুমান। ব্যর্থ হল লেভেন্তের সকল বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা। মদ্যপ উদ্ধত কামোত্তেজিত মধ্যবয়সী পুরুষটি মেতে উঠল তার ছেলের বয়সী এক কিশোরের সাথে বলপূর্বক পায়ু সঙ্গমের খেলায়। সারা ঘরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ছেলেটার যন্ত্রনাকাতর চিৎকার যা ধীরে ধীরে পরিণত হল চাপা গোঙানিতে!
এরপর থেকে মাঝে মাঝে মাঝেই লেভেন্তের সাথে ঘটতে লাগল এমন প্রকৃতি বিরুদ্ব যৌনাচার, এমন ভয়ানক পাশবিক অত্যাচার। নিজের আশ্রয়দাতা মালিকের বিরুদ্ধে কাকেই বা কিছু বলবে সে, তাই মুখ বুজে সে সহ্য করতে লাগল জীবনের এই নারকীয় মুহূর্তগুলো। এখন এলিফ বাড়িতে থাকা সত্বেও, সে ঘুমিয়ে গেলেই লেভেন্তের ঘরে হানা দেয় ডুমান। একদিন এমনই এক দুর্বিষহ মুহূর্তে যখন লেভেন্তের কচি দেহটাকে নিজের পাশবিক পুরুষত্বের যাঁতাকলে পিষছে ডুমান, তখন হঠাৎ করেই সেই ঘরের বন্ধ দরজার বাইরে কে যেন কড়াঘাত করে উঠল। শোনা গেল এলিফের ক্ষুব্ধ কণ্ঠস্বর,
—"দরজা খোল…দরজা খোল শয়তান কোথাকার!…আমি খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছি নিরীহ ছেলেটার সাথে তুই কি শুরু করেছিস কিছুদিন ধরে!"
এই কথা শুনেই ডুমানের হাত কেঁপে উঠল, শিথিল হল তার কামোত্তেজনা। লেভেন্ত নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো ওই শয়তানের হাত থেকে, তারপর কোন মতে নগ্ন শরীরটা পোশাকে ঢেকে সে ছুটে গিয়ে খুলে দিল ঘরের দরজা। তারপর এলিফের পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল লেভেন্ত,
—"কাকিমা…কাকিমা আমাকে বাঁচান কাকিমা…দেখুন আপনি ঘুমিয়ে পড়লেই কাকাবাবু আমার সাথে…"
—"আমি সব বুঝেছি বাবা…তাই আজ এই মুহূর্ত থেকে ওই জানোয়ারটার সাথে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করবো আমি। চল বাবা, চল আমার সাথে…আজ রাতটা আমার ঘরেই ঘুমোবি তুই, তারপর সকাল হলেই আমি তোকে নিয়ে আমার বাপের বাড়ি চলে যাবো!", স্নেহকাতর কণ্ঠে বলল এলিফ।
বিস্মিত ডুমান নগ্ন অবস্থাতেই ওদের দিকে চেয়ে রইল। এলিফ লেভেন্তকে নিজের শোয়ার ঘরে এনে সোফায় ওর শোয়ার ব্যবস্থা করে দিল। নিজেও শুয়ে পড়ল বিছানায়। সারা দিনের ধকলের পর শোয়া মাত্রই ঘুম এসে গিয়েছিল লেভেন্তের দুই চোখে। রাত আরো গভীর হলে শরীরের নিম্নাঙ্গে একটা অদ্ভুত ভিজে স্পর্শ পেয়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল লেভেন্তের। আর চোখ খুলতেই সে হতবাক হয়ে দেখল, এলিফ!!…হ্যাঁ, যে এলিফ তাকে একটু আগেই ডুমানের পাশবিক থাবা থেকে বাঁচিয়েছে...সেই এলিফই নিজে নিরাবরণ করে তার নিম্নাঙ্গ থেকে প্যান্ট খুলে, তার পুরুষাঙ্গটি মুখে পুরে চোষন করে চলেছে। সে জেগে উঠতেই কামার্ত কণ্ঠস্বরে এলিফ বলে উঠল,
—"শোন লেভেন্ত, তোকে তোর কাকাবাবুর কাছ থেকে বাঁচালাম কেন বল তো? যাতে এবার আমি তোকে ভোগ করতে পারি! মালিককে তো এতদিন খুশি করেছিস তুই, এবার মালকিনের জন্যও কিছু কর!…ওই বুড়ো ভামটা বিছানায় বড্ড ঠান্ডা, শুধু নিজের সুখটা মিটে গেলেই, ব্যাস!…তাই আজ থেকে তুই আমাকে সুখ দিবি, কেমন?"
এই বলে লেভেন্তকে চুলের মুঠি ধরে টেনে বিছানায় এনে নিজের নগ্ন শরীরের ওপর বলপূর্বক চেপে ধরে রইল এলিফ। নখের আঁচড়ে লেভেন্তেকে ক্ষতবিক্ষত করতে করতে চিৎকার করে উঠল তার মায়ের বয়সী মহিলাটি,
—"কি রে কথা কানে যাচ্ছে না তোর? জাগা, জাগা তোর পুরুষাঙ্গটাকে...এন্ড ফাক মি, ফাক মি হার্ড…আর যদি তুই আজকে সেটা না করতে পারিস, তাহলে কালকে লোহার সাঁড়াশি গরম করে সেটা দিয়ে ছিঁড়ে নেবো তোর শরীরের ওই অঙ্গটাকে!…হি হি হি হি!"
সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ল এলিফের উল্লাসে ভরা অট্টহাসি!
………………………………
কিছুদিনের জন্য বাপের বাড়ি গিয়েছিল এলিফ। সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় সে দেখল লেভেন্তের ঘরে একটা বড় তালা ঝুলছে। বেশ অবাক হল সে, তার মানে কি এখনো কাজ থেকে ফেরেনি ছেলেটা? রাতের খাওয়া শেষ হলে বিছানায় যাওয়া মাত্র ডুমান ঝাঁপিয়ে পড়ল এলিফের শরীরটার ওপর।
—"বাবা, আজকে লেভেন্তেকে ছেড়ে আমাকে!!..", মুচকি হেসে বলল এলিফ।
কিন্তু ডুমান তার কথায় কোন পাত্তা না দিয়ে কেমন যেন যন্ত্রের মত তার স্ত্রীর দেহটা অনাবৃত করে তাকে ভোগ করে যেতে লাগল। সুখ প্রাপ্তির শীৎকারে মুখরিত হয়ে উঠল তাদের শয়নকক্ষ। এমন সময় হঠাৎ ডুমানের মুখের দিকে নজর গেল এলিফের…ডুমানের মুখ ও নাক থেকে এক এক করে নেমে আসছে অজস্র নাম না জানা ছোট ছোট পোকা!
—"আহহহ…", ভয়ে তারস্বরে চিৎকার করে উঠল এলিফ। সে দেখল ডুমানের ফর্সা গায়ের চামড়া ধীরে ধীরে কুচকুচে কালো হতে শুরু করেছে। অদ্ভুত ভাবে পাল্টে যাচ্ছে তার শারীরিক গঠন…এলিফের শরীরের ওপর যেন এক হিংস্র ভয়ঙ্কর পিশাচ মূর্তি বিচরণ করছে। তার হাতে পায়ে তীক্ষ্ণ নখের সারি, লকলকে জিভ আর ঠোঁটের দুপাশ থেকে বেরিয়ে আসা শ্বদন্ত জোড়া কোন মানুষের হতেই পারে না! আর সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হল এই পিশাচমূর্তির কপাল জুড়ে আছে একটিই মাত্র লাল টকটকে চোখ। ভয়ার্ত এলিফকে জাপটে ধরে জান্তব ভঙ্গিতে ধর্ষণ করে চলল এই অপার্থিব জীবটি।
ঠিক সেই সময় একটা দমকা হাওয়ার ঝাপটায় খুলে গেল সেই ঘরের দরজা। একটি হাত পেছনে রেখে, ধীর পায়ে সেই ঘরে প্রবেশ করল লেভেন্ত।
—"কিরে শয়তানী, তোর নাকি বিছানায় তোর স্বামীকে বড্ড ঠান্ডা লাগে…তা এখন মজা পাচ্ছিস তো তুই?", খিলখিল করে হেসে বলে উঠল লেভেন্ত।
—"ভুল জেনেছিল তোর স্বামী যে আমার দিদা ব্ল্যাক ম্যাজিক জানতেন না…তিনি তা জানতেন, বিভিন্ন ডেমনিক সত্তাদের সম্বন্ধে অগাধ জ্ঞান ছিল তার। ধাইএর কাজ শুরু করার আগে তিনি ইস্তানবুলের এক সিহিরবাজ (কালো জাদুকর)-এর কাছ থেকে জেনেছিলেন এগুলো। কিন্তু এই সব জানলেও তিনি কখনই কোন মানুষের ক্ষতি করতে চাননি, বরং ধাইয়ের কাজ করার সময় এই সকল অপশক্তিদের হাত থেকে গর্ভবতী মা এবং তাদের সন্তানদের রক্ষা করতে তাদের হাতে বেঁধে দিতেন শয়তান বিনাশকারী তাবিজ। এই সব কথা তিনি লিখে গিয়েছিলেন তার একটি ডায়েরিতে, যেটা লুকোনো থাকত তার খাটের নিচে রাখা একটি বাক্সে। মৃত্যুর আগে এই কথাগুলোই তিনি আমাকে বলে গিয়েছিলেন, বলেছিলেন যেভাবেই হোক ওই বাক্স সমেত ডায়েরিটাকে আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে। আর সম্ভব হলে, এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের সাহায্যেই তার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে!", কথাগুলো বলতে গিয়ে দুইচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল লেভেন্তের। সে বলেই চলল,
—"সেটাই করেছি করেছি আমি আজকে। আমার দিদার সাথে যে অন্যায় আর আমার সাথে যে পাশবিক অত্যাচার তোরা করেছিস, তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দিদার লিখে যাওয়া ব্ল্যাক ম্যাজিকের মধ্যে থেকে একটা ছোট্ট টোটকা ব্যবহার করেছি মাত্র। আজ বাড়ি ফিরে আসার পর যখন ডুমান আমাকে ভোগ করতে এলো, তখন বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখা সব্জী কাটার ছোরাটা দিয়ে দিলাম ওর গলার নলি কেটে। তারপর ওর লাশটাকে নিয়ে গেলাম বেসমেন্টএর নিচে। দিদার লিখে যাওয়া তন্ত্রমতে ডাকলাম এই এক চক্ষু বিশিষ্ট ডেমনকে, যার নাম 'টেপেগজ' (Tepegoz)!…তোর বরের লাশটাকে টুকরো টুকরো করে তার পুরো শরীরটাকে ওই ডেমনকে খাওয়ালাম, আর তারপর ওকে সন্তুষ্ট করে জানালাম নিজের ইচ্ছার কথা…"
ততক্ষনে এলিফের চিৎকার থেমে গিয়ে শুধু শোনা যাচ্ছে তার গোঙানির শব্দ। সেই অতিপ্রাকৃত দানবিক সত্তা এখনো করে চলেছে লেভেন্তের ইচ্ছা পূরণ..সশব্দে ক্রমাগত দুলে উঠছে সেই ঘরের খাটটা।
—"এই যাহ, একটু ভুল হয়ে গেল বলতে…", জিভ কেটে বলে উঠল লেভেন্ত,
—"তোর বরের দেহের একটা অংশ কিন্তু এখনো ওই ডেমনকে খাওয়াইনি রে, ওটা বাঁচিয়ে রেখেছি তোকে দেখানোর জন্য…", এই বলে নিজের পেছনে ধরে থাকা হাতটা সামনে আনল লেভেন্ত। সেই হাতে সে ধরে রেখেছে ডুমানের কাটা মুন্ডুটা…এখনো টিপ টিপ করে রক্ত ছুঁইয়ে পড়ছে সেটার কাটা গলার নলি থেকে!
—"হাহাহাহা…", লেভেন্তের অট্টহাসিতে ভরে উঠল বাড়ির চতুর্দিক, আর তখনই সেই ভয়ালদর্শন পিশাচমূর্তিটি সঙ্গমের শেষে ক্লান্ত হয়ে নিজের তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত দিয়ে এক কামড়ে ছিঁড়ে নিল এলিফের গলার টুঁটি। রক্তের সাগরে ভাসতে ভাসতে ক্রমশ নিথর হয়ে যেতে লাগল এলিফের শরীর।
**********
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন