চতুর্থ অধ্যায়

প্রলয় কুমার নাথ

সাল - ২০১৯

স্থান - সল্ট লেক সেক্টর ফাইভ, কলকাতা

— "এগেন! এগেন ইউ আর লেট!", সীমন্তিনীর দিকে হাতে পরা ঘড়িটা এগিয়ে ধরে ভৎসনার সুরে বলে উঠল জয়দীপ। সেক্টর ফাইভের একটি সুদৃশ্য অ্যাপার্টমেন্ট জুড়ে এই আইটি কোম্পানির অফিসের মাঝে এই মুহূর্তে পিন ড্রপ সাইলেন্স। অফিসের টিম লিডার জয়দীপের সামনে গত বেশ কিছু দিনের মত আজকেও মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইল সীমন্তিনী।

—"লুক, এটা কিন্তু সরকারি চাকরি নয় যে যখন ইচ্ছা তখন অফিসে ঢুকবে!", আবার চিৎকার করে বলে উঠল জয়দীপ। জয়দীপের কেবিনের বাইরে থাকা কিউবিকলগুলোতে যে সকল এমপ্লয়ীরা কাজ করছিল তারা ভয়ে তটস্থ হয়ে শুনতে লাগল স্যারের ঘর থেকে ভেসে আসা এই উত্তপ্ত কথোপকথন। তারা জানে, যে কোন মুহূর্তে যে কোন কারণে এই বিদ্রুপ তাদের কপালেও জুটতে পারে। এরই নাম হল প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি!

—"সরি স্যার…আসলে আজকেও রাস্তায় এত ট্রাফিকের প্রবলেম যে…", নতমস্তকে অস্ফুট স্বরে বলে উঠল সীমন্তিনী।

—"সরি! হোয়াট সরি? তুমি জানো এইচ.আর থেকে প্রতিদিন আমার কাছে মেইল আসছে আমার টিমের লেট কামারসদের নিয়ে! ম্যানেজমেন্ট আমার কাছে জবাবদিহি চাইছে!", জয়দীপের কণ্ঠে বিতৃষ্ণার সুর।

—"সরি স্যার…এরকম আর হবে না! আই প্রমিস…", আস্তে আস্তে বলে উঠল সীমন্তিনী।

—"ওকে, লেটস সি! কিন্তু একটা কথা আমি বলে দিচ্ছি, যদি ক্লায়েন্টকে প্রজেক্টের ডেলিভারি টাইমে না করতে পারো, বা অন্য কোন টিম মেম্বার তোমার নামে কমপ্লেন করে যে তোমার জন্য তাদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে…দেন ইউ আর গন! সেদিনই রিজাইন করার জন্য তৈরি থেকো!"

আর কিছু বলতে পারল না সীমন্তিনী। বসের সামনেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে। এবার বড্ড অপ্রস্তুত বোধ করল জয়দীপ। তাহলে কি একটু বেশিই হয়ে গেল নাকি? মনে মনে নিজেই নিজেকে দুষতে লাগল এত বেশি মাথা গরম করে ফেলার জন্য।

—"ওকে…নাও লিভ, নিজের জায়গায় গিয়ে কাজে মন দাও..", নরম গলায় সে বলে উঠল। সীমন্তিনী ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো স্যারের কেবিন থেকে, এসে বসল নিজের কিউবিক্যালে। সে লক্ষ্য করল তার আশে পাশের অন্যান্য সহকর্মীরা কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

সীমন্তিনী…সদ্য এম.সি.এ পাশ করা খুব কেরিয়ারিস্টিক একটি মেয়ে। নদীয়ার কৃষ্ণগরের এক ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে সে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যৌথ পরিবারের অন্যান্য মেয়েদের মত স্কুল কলেজের গন্ডী পেরোলেই সং সেজে পাত্রপক্ষের সামনে গিয়ে বসার ইচ্ছা তার কোন দিন ছিল না। পেশাগত কোর্স করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তাই এম.সি.এ পাশ করে কলেজের ক্যাম্পাস ইন্টারভিউতেই যখন এই চাকরিটা জুটে গেল, তখন অনেকটা বাড়ির সকলের অমতেই সে কৃষ্ণনগর থেকে পাড়ি দিয়েছিল কলকাতায়। বেশ নামী আই.টি কোম্পানি হলেও ফ্রেশারদের মাইনে যৎসামান্যই। তাও বাড়ি থেকে কোন আর্থিক সাহায্য নিতে চাইত না সীমন্তিনী। তার অফিসের লোকেশন সেক্টর ফাইভে হলেও, সেই স্থানে বাসস্থান জোগাড় করা বেশ ব্যয়সাধ্য ব্যাপার। অগত্যা এয়ারপোর্টের কাছে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করল সে। এখান থেকে সরাসরি একটি বাসে করেই সল্ট লেকে যাওয়া যায়, কিন্তু এই রাস্তায় ট্রাফিকের বড্ড সমস্যা, আর সারা দিন খাটাখাটনি করার পর খুব ভোরেও ঘুম থেকে উঠতে পারে না সে, এটাই হল তার প্রতিনিয়ত দেরি করে অফিসে আসার কারণ।

চোখের জল মুছে ল্যাপটপটা অন করে দাঁতে দাঁত চেপে কাজ করতে আরম্ভ করল সীমন্তিনী। এই অফিসে বছর খানেক হল কাজ করছে সে, প্রথম কয়েক মাস তার টিম লিডার ছিলেন মি.জয়েসওয়াল নামক এক প্রৌঢ় ব্যক্তি। একদম মেয়ে চাটা পাবলিক, আর বিশেষ করে সীমন্তিনীর মত সুন্দরী মেয়ে দেখলে তো আর কথাই নেই। এই লোকটাকে তেমন পছন্দ না হলেও, একে নিয়ে একটা সুবিধা ছিল সীমন্তিনীর। লোকটা ছেলে কর্মচারীদের যেমন বকাঝকা করত, মেয়েদের কিন্তু তেমন করত না। কিন্তু কয়েক মাস আগে লোকটা ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে অফিসের ব্যাঙ্গালোর ব্রাঞ্চে। আর তার জায়গায় এসেছে এই জয়দীপ। লোকটার বয়স হয়তো তিরিশ হবে, আর চেহারা পত্র একেবারে নায়কের মত। এমন বসের সাথে কাজ করার জন্য মহিলা কর্মচারীদের লাইন লেগে যাওয়া উচিৎ…আদপে তা কিন্তু হচ্ছে না। লোকটাকে দেখতে সুন্দর হলেও সে যেন একেবারে নিরস প্রকৃতির, এবং অত্যন্ত কাজ পাগল। অল্প বয়সেই তার এই রাশভারী ব্যক্তিত্বই যেন তার প্রতি মেয়েদের আকর্ষণের মাঝে সুরক্ষা বলয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যি বলতে লোকটাকে মন্দ লাগে না সীমন্তিনীর, কিন্তু ভালো লাগার থেকে বেশি যেন ভয় করে তাকে দেখে।

কেবিনে বসে ক্রমাগত পেপার ওয়েটটাকে ঘুরিয়ে চলেছিল জয়দীপ। অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতাবোধ যেন ছেয়ে ছিল তার মনে। সীমন্তিনীর চোখের দুই ফোটা জল যেন তোলপাড় শুরু করেছিল তার বুকের ভেতর। আসলে সুন্দরী মেয়ে অনেক দেখেছে জয়দীপ, কিন্তু সীমন্তিনীর মধ্যে একটা আলাদা মাধুর্য বোধ আছে যা জয়দীপকে বরাবরই খুব টানে। আকারে ইঙ্গিতে এর আগেও তাকে অনেকবার নিজের ভালোলাগার কথা বোঝাতে চেয়েছে জয়দীপ, কিন্তু মেয়েটা যেন কেমন একটা ধরণের…বোঝেনি বা বুঝতে চায়নি। আর তাই তো এখন সীমন্তিনী সামনে থাকলেই আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে জয়দীপ। এর পেছনে আরেকটি কারণও আছে…সে যেন কিছুতেই চায়না সীমন্তিনীর নামে কেউ খারাপ কথা বলার সুযোগ পাক…এইচ.আর থেকে আসা মেইলগুলোতে লেট কামার বলে সীমন্তিনীর নাম থাকুক…বা অফিসের অন্য কেউ বলুক ও তো ঠিক সময়ে আসেনা, কাজ করে না ইত্যাদি!

—"মে আই কাম ইন স্যার?", রুচিকার কণ্ঠস্বর শুনে চিন্তার ঘোর কেটে গেল জয়দীপের। একটু আগেই সে যাদের কথা ভাবছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম এই রুচিকা। এই মেয়েটা ওদেরই টিমে কাজ করে, একটু সিনিয়র এবং ওর ট্র্যাক রেকর্ড বেশ ভালো…এই বিষয়গুলোকে ভাঙিয়ে সর্বদা জয়দীপের কাছে এসে সীমন্তিনীর সম্বন্ধে নালিশ করে যায় এই মেয়েটা। আসলে জয়দীপের প্রতি একটা চোরা টান আছে এই মেয়েটার সেটা বুঝতে পারে জয়দীপ, এবং জয়দীপের সীমন্তিনীর প্রতি একটা ভালোলাগা আছে সেটাও বোধহয় জানে এই মেয়েটা। তাই তো সবসময় জয়দীপের মনে সীমন্তিনীর সম্বন্ধে বিষ ঢালতে আসে সে।

—"ইয়েস প্লিজ", বিরক্তির স্বরে বলে উঠল জয়দীপ।

লাস্যময়ী ভঙ্গিতে রুচিকা জয়দীপের কেবিনে ঢুকল। এমন একটা টপ পরে এসেছে সে যাতে তার বুকের বেশিরভাগ অংশই উন্মুক্ত, আর জিন্সটার শতকরা ৯৯%ই ছেঁড়া। সীমন্তিনীর সম্বন্ধে কান ভাঙানোর সাথে সাথে জয়দীপকে সিডিউস করাও যে তার মূল লক্ষ্য সেটাও বোঝে জয়দীপ। কয়েকটা অত্যন্ত অদরকারি কাজের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা শুরু করল রুচিকা। তারপর কথায় কথায় বলে উঠল,

—"আগামী কাল তো প্রজেক্ট সাবমিশনের লাস্ট ডেট, আই গেস…"

—"হ্যাঁ, তো?"

—"আসলে স্যার, আমার মনে হয় না এই ক্লায়েন্টের রিকোয়ারমেন্ট আমরা কালকের মধ্যে ফুলফিল করতে পারব!"

—"কেন? হোয়াই ডু ইউ থিংক সো?"

—"আসলে স্যার, আমাদের টিমে আমরা বাকি সকলে তো নিজেদের কাজ কমপ্লিট করে ফেলেছি…বাট দা মেন প্রবলেম ইজ সীমন্তিনী…সি ইজ সো নেগলিজেন্ট ইন হার ওয়ার্ক!…রোজ তো দেরি করে আসে দেখি, কাজও প্রচুর পেন্ডিং রেখে কেটে পরে!…দেখুন স্যার, আমরা তো আমাদের পোর্শনের কাজটা করে ফেলেছি, নাও দা বল ইজ ইন হার কোর্ট!…তবে আমার মনে হয়না আজকের মধ্যে ও সব পেন্ডিং কাজগুলো করে উঠতে পারবে!"

—"ওকে, তোমার যা বলার ছিল বলেছো তো, নাও ইউ ক্যান লিভ", এই প্রথম বার কেন জানিনা সীমন্তিনীর সম্বন্ধে কোন নেগেটিভ কথা, সীমন্তিনীর হেরে যাওয়ার কথা ভালো লাগছিল না জয়দীপের। তাই কথাগুলো যথেষ্ট রূঢ় ভাবেই বলল জয়দীপ।

জয়দীপের এই প্রতিক্রিয়া দেখে কিছুক্ষন হা করে তার দিকে চেয়ে রইল রুচিকা। পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে জয়দীপের আরো বেশি কাছে এগিয়ে এলো রুচিকা, তারপর অত্যন্ত গায়ে পড়া ভঙ্গিতে জয়দীপের একটি হাত ধরে বলে উঠল,

—"আরে আপনি এভাবে রেগে যাচ্ছেন কেন স্যার? আমি তো আপনার ভালোর জন্যই ওই মেয়েটার সম্বন্ধে আপনাকে ওয়ার্ন করছিলাম…আফটার অল, টাইমে প্রজেক্ট ডেলিভার না করতে পারলে ম্যানেজমেন্ট আপনাকেই…"

এক ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিলো জয়দীপ। তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

—"মাইন্ড ইওর ওউন বিজনেজ, ওকে? তোমাকে এত কথা ভাবতে কে বলেছে, হ্যাঁ? কে কাজ করে আর কে অন্যের সম্বন্ধে কুৎসা রটিয়ে সময় কাটায় সেটা আমি খুব ভালো করে বুঝি!"

রুচিকার বিনয়ী মুখটা কেমন যেন কঠোর হয়ে গেল। সে নিজেকে সামলাতে না পেরে জয়দীপের বুকের জামা খামচে ধরে উন্মাদের ভঙ্গিতে বলল,

—"তার মানে আমি ঠিকই বুঝেছি, ইউ আর আনডিউলি পার্শিয়াল টুয়ার্ডস দ্যাট হোর!…কিন্তু আমিও আপনাকে ছাড়বো না স্যার, আপনাকে ওই মেয়েটার হতে কিছুতেই দেবো না, কিছুতেই না…"

এক ঝটকায় নিজেকে রুচিকার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে জয়দীপ ইঙ্গিত করল তার কেবিনের সিলিংয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাটার দিকে। সেদিকে তাকিয়ে ভয়ে জড়সড় হয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করতে উদ্যত হল রুচিকা। উত্তেজনার বশে জয়দীপ তার পেছনে থেকে বলে উঠল,

—"হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো তুমি, আই অ্যাম পার্শিয়াল টুয়ার্ডস সীমন্তিনী। সেটা কেন জানো, আই হ্যাভ ফুল ফেথ ইন হার! আমি জানি ও আমাদের টিমের নাম কখনো খারাপ হতে দেবে না! শুধু বিশ্বাস নয়, ওকে ভালোবাসি আমি! তাই কখনই চাই না কেউ ওর নামে খারাপ কথা বলুক, ওর কমপিটেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুলুক…তাই তো ওর সাথে একটু বেশিই রুডলি…"

পুরো কথাটা শোনার আগেই সশব্দে জয়দীপের কেবিনের দরজা খুলে বেরিয়ে গেল রুচিকা। আর তখনই জয়দীপ দেখল দরজার বাইরে হাতে একটা টাইপ করা কাগজ নিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সীমন্তিনী। তার মানে রুচিকার সাথে তার সমস্ত কথোপকথন সে শুনেছে! ওর হাতের কাগজটার দিকে নজর গেল জয়দীপের…সেটা একটি অফিসিয়াল লেটার, যার সাবজেক্ট লাইনে বড় বড় অক্ষরে লেখা 'Intimation for resignation'. আবারও অফিসে পিন ড্রপ সাইলেন্স চতুর্দিকে। একে ওপরের দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এই নারী পুরুষের জুটির পুরুষটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো নারীটির কাছে। তার হাত থেকে কাগজটি নিয়ে সে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে সেটাকে ঘরের কোণে রাখা গার্বেজ বিনে চালান করল। আশ্চর্যের বিষয় এই যে সীমন্তিনী এখনো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে চেয়ে রয়েছে জয়দীপের দিকে, তার রেসিগনেশন অ্যাকসেপ্ট না করার প্রতিবাদটুকু করারও যেন শক্তি নেই তার!

এরপর সেইদিন আর জয়দীপের সাথে কোন কথা বলেনি সীমন্তিনী। রুচিকার উদ্দেশ্যে জয়দীপের বলা কথাগুলো বার বার প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছিল তার কানে। যে মেয়েটা একটু আগেই বসের ভৎসনা সহ্য করতে পা পেরে চাকরি ছাড়ার কথা ভেবেছিল, কি অদ্ভুত ভাবে তার মনে নিজের প্রতি একটা অটুট আত্মবিশ্বাস তিলে তিলে গড়ে উঠছিল। কেন জানিনা তার মনে হচ্ছিল মানুষটার মনে তার প্রতি যে ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভরসা আছে সেটাকে কিছুতেই বিফলে যেতে দেওয়া যাবে না। তাই আর একটুও সময় নষ্ট না করে ল্যাপটপের মধ্যে মুখ গুঁজেছিল সে, কখন যে অফিস আওয়ার শেষ হয়ে গেল, একে একে তার সহকর্মীরা অফিস ছেড়ে বেরিয়ে গেল, এমনকি জয়দীপও বেরোনোর আগে তার দিকে কতক্ষন ভরসার দৃষ্টিতে চেয়েছিল, কখন যে রাতের অন্ধকারে নেমে এলো তা বুঝতেই পারল না সে।

পরদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ জয়দীপের মোবাইলে সীমন্তিনীর মেসেজ এলো:

"Finally project is ready sir, we can deliver it today."

সীমন্তিনী দেখল তার রিপ্লাইএ জয়দীপ লিখেছে: "I had full faith in your determination. I knew you will be able to do it. Go home at once and take rest. Take a compensatory leave for today."

ল্যাপটপ বন্ধ করে ব্যাগে ভরতে ভরতে সীমন্তিনী দেখল আবার একটা মেসেজ আসার শব্দ হল তার ফোনে। জয়দীপ এবার বাংলায় লিখেছে:

"তোমার ফ্ল্যাটটা অফিসের থেকে অনেক দূরে, তাই বোধহয় তোমার প্রতিদিন অফিসে আসতে তোমার দেরি হয়। তুমি অফিসের কাছে একটা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা ভাবতে পারো তো"

"আপনি নিশ্চয় জানেন আমার স্যালারি কত, স্যার…তাই এই জায়গায় থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়!"

"দেখো তোমার স্যালারি হয়তো এখনই আমি বাড়াতে পারবো না…তবে একটা প্রস্তাব দিতে পারি। আমি এই সল্ট লেকেই থাকি, নিজস্ব ফ্ল্যাটে…তুমিও কি আমার সাথে একসাথে এখানে থাকতে পারবে? ভাড়াটে হিসাবে কিন্তু নয়…আমার বেটার হাফ হিসাবে?"

মেসেজটা পড়েই চমকে উঠল সীমন্তিনী। একটা লাজুক মিষ্টি হাসি খেলে গেল তার ঠোঁটে। অবশেষে ওই নিরস রাশভারী মানুষটাও প্রণয় নিবেদন করার এমন অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছে। ওদিকে মেসেজটা ঝোঁকের মাথায় করে নিজের মনেই অদ্ভুত একটা চঞ্চলতা অনুভব করছিল জয়দীপ। গতকাল তার প্রতিটা কথা শুনেছে সীমন্তিনী, আর আজ আবার এই মেসেজ…কি জানি তার সম্বন্ধে খারাপ কিছু ভাবছে না তো মেয়েটা? না, বোধহয় এত তাড়াহুড়ো করে ঠিক হল না। মেসেজ পাঠানোর পরও যখন অনেক ক্ষণ ধরে সীমন্তিনীর কোন রিপ্লাই আসছিল না, তখন আবার ওই মেসেজের থ্রেডে 'সরি' টাইপ করতেই যাচ্ছিল জয়দীপ…এমন সময় টুং করে সীমন্তিনীর মেসেজ ঢুকলো জয়দীপের ফোনে:

"আমি রাজি, স্যার!"

**********

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%