যা আছে তা-ই দিয়ে করো সংগ্রাম

যা আছে তা-ই দিয়ে করো সংগ্রাম

আমাদের দেশটা গরিব। অধিক জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিক্ষার অভাব এবং ঔপনিবেশিকতার কারণে আমাদের অর্থনীতি ছিল তুলনামূলক দুর্বল। তবে আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ধীরগতিতে হলেও, প্রগতির চাকা ঘুরছে। তাছাড়া অনিয়ম, অনৈতিকতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা আমাদের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে আছে। সমাজের এসব নিয়ে অভিযোগ থাকবেই। অভিযোগ করতে হবে। সমাজের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দেখে চুপ থাকাটা বেইমানি। সমাজের সঙ্গে প্রতারণা। না বললে মানুষ সচেতন হয় না। মানুষ সচেতন না হলে দেশ জাগে না।

তবে তরুণ সমাজকে শুধু অভিযোগ করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলে না। অভিযোগ করা এক বিষয়, আর হতোদ্যম। হওয়া অন্য বিষয়। হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা হলো ভয়ংকর মূর্খতা। প্রজন্মের ত্যাগ ছাড়া কোনো সমাজ দাঁড়ায় না। সুতরাং নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টাটা থাকতেই হবে, সে যত সীমাবদ্ধতাই থাকুক! দেশের ৮০ ভাগ তরুণ-তরুণী আসেন গ্রাম থেকে। বিশ্বের মঞ্চে যারা বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, তাদের সিংহভাগ গ্রাম থেকে আসা। তাদের সংগ্রাম থাকে, অবর্ণনীয় কষ্ট থাকে। তারপরও থেমে থাকা চলে না।

আক্তার ভাইয়ের কথা পড়েছিলাম কাগজে। লজিং থেকে মাদ্রাসায় পড়েছেন। মাতৃস্নেহহীন বড় হয়েছেন। মাদ্রাসায় পড়া। একটি ছেলেকে সমাজে বাতিলের খাতায় মনে করেন সবাই। আক্তার হোসাইন গ্রামের মাদ্রাসা থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। আজ অস্ট্রেলিয়ার হাওয়ার্ড ফ্লোরি রিসার্চ সেন্টারে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের গবেষণা গ্রুপ আছে সেখানে। আমি যে হাইস্কুলে পড়তাম, সেখানে ছেলেরা লুঙ্গি পরে আসত। খালি পায়ে আসত। মাস্টার্স করার সময়, টিউশনির টাকা জমিয়ে একটি কম্পিউটার কিনেছিলাম। আইএলটিএসের এক্সাম ফি দিয়েছিলাম টিউশনির টাকা জমিয়ে। বাস্তবতাটা এমনই। আমাদের লাখ লাখ ছেলে-মেয়ের জীবনের গল্পগুলো কষ্টে গাঁথা। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। এটা মেনেই নিতে হবে। আমাদের জাগরণের কাল শুরু হয়েছে মোটে।

দেশের বহু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকা। যাবে না। তরুণদের বলছি, ঘর থেকে বের হও। নিজের পথটাকে খোঁজো। যে গাছ ঝড়-ঝাঁপটা সহ্য করে বড়ো হয়, সে গাছ টেকে। দাঁড়িয়ে থাকে নিজের গোড়ায়।(যে গাছ যত বড়, সে, গাছ ততই ঝাঁপটা সহ্য করে। স্বপ্ন দেখে দেখে ঘুমালে চলে না। কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়, তৃতীয় ভাষা শেখো। ইন্টারনেট এখন একটা দারুণ রিসোর্স। সেটাকে কাজে লাগাও। প্রচুর সুযোগ আছে। লুফে নিতে হবে। ভারতীয় ছেলেমেয়েরা লুফে নিচ্ছেন। চীনের তরুণেরা সেগুলো ধরছেন। আমরা কেন পারব না? মনে রাখতে হবে, শুধু মেধাই মানুষকে সফল করে না। মেধার চেয়ে। সাহসও অনেক জরুরি। সে সাহস হলো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার (সাহস। দাঁড়িয়ে থাকার সাহস। পরিবর্তনের সাহস। লেগে থাকার সাহস। ধিক্কার, অবহেলা সহ্য করার সাহস। মেধাবীর চেয়ে। সাহসীরাই সফল হয় বেশি। আর মেধার সঙ্গে সাহসের সমন্বয়। হলে হওয়া যায় বিশ্বজিৎ!

রাজনৈতিক নেতাদের নিতম্বের পিছু পিছু ঘুরঘুর বন্ধ করো। ব পেছনে পুচ্ছ নাচিয়ে কী লাভ? তুমিই তো তোমার কালের কেউ হবে। তুমিই দেবে নেতৃত্ব। তোমার ধারালো মেধার সব দাঁড়াবে দেশ, সমাজ, শিক্ষা, গবেষণা। যে নেতাকে আজ দরকার মনে হচ্ছে, তাকে কাল মনে হবে তুচ্ছ। যে সময়টুকু এদের পিছু পিছু নষ্ট করবে, সে সময় নিজেকে গড়ার কাজে ব্যয়। করো। যা আছে, তা-ই দিয়ে করো যুদ্ধ। যা নেই, তা নেই। সেটা জন্ম দেওয়ার জন্যই তো সংগ্রাম!

সকল অধ্যায়
১.
একটি সাবমেরিন বনাম পাঁচ হাজার জানালা
২.
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘশ্বাসটুকু শুনুন
৩.
চিত্ত যেথা ভয়যুক্ত, নিচু যেথা শির
৪.
একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়
৫.
কোটা নাকি মেধা? জন্ম নাকি কর্ম?
৬.
কর্মে হোক জন্ম জয়
৭.
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষ্পাপ প্রাণগুলো
৮.
দেশটা যেভাবে হেরে যায়
৯.
সজাগ হও, হে তারুণ্য!
১০.
সেশনজটে ক্ষয়ে যায় সমাজ
১১.
থেমে থেকো না
১২.
সম্ভাবনাকে জাগতে দিন
১৩.
উন্নত সমাজের মূলমন্ত্র
১৪.
লক্ষ্য হোক দক্ষতা অর্জন
১৫.
কোথায় ছুড়ছ তোমার সোনালি যৌবন?
১৬.
দয়া করে ওদের ঠকাবেন না
১৭.
বাংলাদেশ কি মেধাবীদের ফিরিয়ে নেবে?
১৮.
নেতায় নেতাচ্ছন্ন এক দেশ
১৯.
সহজাত মেধা যেন ক্ষয়ে না যায়
২০.
মগজের ধ্বংসযজ্ঞ
২১.
দাঁড়াতে হলে শিখতে হয়
২২.
প্যারালাইজড মাইন্ড!
২৩.
সম্ভাবনা খুন হয়ে যায়
২৪.
অন্তরে বাহিরে দাসত্বের রজ্জু
২৫.
মেধাবীদের কত দিন দূরে রাখবে সমাজ?
২৬.
ব্রেইন ড্রেইন নাকি ব্রেইন গেইন?
২৭.
শিক্ষার আলোয় জাগুক স্বদেশ
২৮.
সম্ভাবনার দুয়ারে আছ দাঁড়িয়ে
২৯.
আলোকিত সমাজের মূলমন্ত্র
৩০.
দ্য রাইট পারসন
৩১.
নিজেকে আবিষ্কার করো
৩২.
সত্যিকারের নায়ক
৩৩.
যা আছে তা-ই দিয়ে করো সংগ্রাম
৩৪.
চুরি বিদ্যা ও বিদ্যা চুরি
৩৫.
অনন্য, অপ্রতিরোধ্য দক্ষিণ কোরিয়া
৩৬.
একটা বিপ্লব হচ্ছে নীরবে
৩৭.
জাগরণের কাল
৩৮.
একজন ভিসি ও দীর্ঘশ্বাস
৩৯.
কিশোর-কিশোরীর জ্ঞানানন্দ
৪০.
ভারত কেন পারছে?
৪১.
জাপান থেকে শেখো
৪২.
অধিকারবঞ্চিত হতভাগ্য শিক্ষার্থীরা
৪৩.
স্ট্যানফোর্ডের আকাশ
৪৪.
প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ সময়
৪৫.
ডিজিটাল ইগনোরেন্স
৪৬.
প্রিয় অভিভাবকগণ, একটু শুনুন
৪৭.
মাত্র এক শ কোটি টাকা
৪৮.
ফড়িংয়ের চোখ তৈরি করো
৪৯.
ছোট দেশের বড় স্বপ্ন
৫০.
মনিরুল ইসলামেরা কেন ফিরতে পারেন না?
৫১.
ড্রাইভিং ফোর্স
৫২.
অন্তরালের নায়ক
৫৩.
উদ্ভাবনে আমরা কেন পিছিয়ে?
৫৪.
আত্মঘাতী নীতিমালা
৫৫.
এমন যদি হতো
৫৬.
চারিত্রিক সনদ
৫৭.
চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি
৫৮.
আত্মহনন কোরো না হে প্রাণ
৫৯.
আমাদের সম্ভাবনাময়ী মেয়েরা
৬০.
উপাচার্যদের উপাচার্য
৬১.
কেমন হয় একটা বিশ্ববিদ্যালয়?
৬২.
হৃত কৌতূহলী মগজ
৬৩.
জিনিয়াস মাইন্ড

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%