একটি নিষিদ্ধ কবিতা

দাউদ হায়দার

গোল চাঁদের শেষ ঘণ্টাধ্বনি বেজে গেলে আমি পুনরায় বাড়ি থেকে
বেরুলাম

সকালের নিপুণ করতালিতে সুন্দর বনরাজি শিউরে উঠলো তুমুল
প্রেম-প্রেম খেলায় অন্ধকার নিবাসগুলো মেতেছিল বহুক্ষণ;-ভেঙে গেল
হঠাৎ

না আমাকে দেখে নয়; তাহলে কার অভিসম্পাতে? সঠিক জানিনা–
কিংবা এও হতে পারে আমারি বদৌলতে!

গোল চাঁদের শেষ ঘন্টাধ্বনি বেজে গেলে আমি দেখলুম; হৈহৈ করতে করতে
একদল রমণীও পুরুষ মিলিত রক্তের স্রোতের মধ্যে থেকে উঠে এল পরস্পর
বাতাস ছিলোনা তখন; সবেমাত্র আঁধার গিয়েছে ছিঁড়ে কিশোরীর
পাজামার গিঁটের মতোন

তারপর খুলে গেল সেই একল। কপাট!

যে রমণী ও পুরুষগুলো দেখলুম; আমাকে দেখেই তারা বলে উঠল—
‘তাহলে তুমিই সেই। প্রত্যহ ভোরে এসে দেখে যাও আমাদের লীলা-খেলা!
কেন সাথী হতে পারো না?
দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা; তোমার চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার করবো এই প্রাতে
ফেরেশতা সেজে এই ভুবনে?

শালা শুয়োরের বাচ্চা; কোথায় যাও হে?
আমরাই পাপীরে হারামজাদা?
তাহলে তুমি কি হে?

যখন শালা তুমি হেঁটে যাও ওই বিভিন্ন লোকালয় ধরে: আমরা বলি–
“দ্যখি ওই যে যায়; যায়, যায় মহেন্দুনিদ্রিতকান্তি; শুভ্রবসন
মাথায় পাগড়ি; অলৌকিক পোশাক-আশাক; আননে কি রাপের মায়া
দেখলেই শ্রদ্ধা হয়

আর এখন তুমি ঈশ্বর নামক বদমাসের একান্ত অনুচর হয়ে আমাদের কাছে?
দেখাচ্ছি দাঁড়াও; একদিনে কয় বৎসর পাওনি তো টের—
হাজার জলপানি খেয়ে আমরাও হয়েছি মানুষ; ইকড়ি-মিকড়ি খেলায়
আমরাই এতদিন ছিলেম বলে লোকে দুর্নাম দিতো—
তুমি কি শৈশবে একবারও এক্কাদোক্কায় হেরে গিয়ে টাননি বাসন্তীর
সূক্ষ্ম অন্তর্বাস?
ওই সবদিনে ঘুমের ভান করে রাত্রিকালে কি করেছিস ঠিক কোরে বল্‌;
নইলে—
নইলে এক্ষুণি প্রস্রাবে ভরে দেব তোর মুখ; জুয়োচ্চোর ফেরেশতা সেজে
এই ভুবনে?—বলে

লোকগুলো নিয়ে গেল বিশ বছরের রমণীদের কাছে
দেখলাম; সেই রমণীবৃন্দ সমস্ত পোশাক খুলে; উন্নত বক্ষে দাঁড়িয়ে
হা হা করে হাসছে
আমি তখন মৃতপ্রায় মানুষের মতো আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করলুম
“আল্লাহ; আমার প্রার্থনা কবলে করো; আমি যেন রোজ ভোর বেলা
এইভাবে আসি
আর এইভাবেই তোমার অপূর্ব হস্তের কারুকাজ দেখে যাই—
হে আমার দয়াময়
তোমার এমন শিল্পকর্ম এতো আমি দেখিনি আগে?”

২৮/৯/৭২

সকল অধ্যায়
১.
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
২.
জর্ণাল : স্মৃতিচিত্র
৩.
আন্দোলন; বারবার ফিরে আসে বাংলাদেশে যুদ্ধের বেশে
৪.
চলে এলুম
৫.
আলোর গভীরে
৬.
আমি তো প্রেমিক নই
৭.
নিজস্ব মানুষ
৮.
একটি বালক
৯.
কার জন্যে ভালবাসা
১০.
বাংলাদেশ
১১.
তুমিই আমার প্রেমিকা
১২.
স্বদেশ, তোমার মুখ
১৩.
প্রতিদিন দুঃখ আসে আমার নিবাসে
১৪.
মিছিলে তোমার মুখ
১৫.
মায়ের চোখে
১৬.
প্রেম
১৭.
তোমার ছায়া
১৮.
অলৌকিক বিকেল
১৯.
একটি নিষিদ্ধ কবিতা
২০.
তুমি আমার কবিতা পড়োনা
২১.
না পারলেও পুনর্বার ভেবে দ্যাখো তুমি
২২.
আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখী
২৩.
আমার ভালবাসা
২৪.
একটি ভালবাসার মুখ
২৫.
একদিন কেউ কাউকে চিনবে না
২৬.
নিরপরাধ বৃক্ষমূল
২৭.
অতন্দ্রিলা; তুই আমার কাছে থাক
২৮.
একলা হাতে
২৯.
হেলেনের মতো চুম্বন
৩০.
ভালোবাসার বাগান থেকে
৩১.
আমার পিতাকে
৩২.
আমিও শহীদ হয়ে যাবো
৩৩.
স্বগত কবিতাগুচ্ছ/১
৩৪.
অন্তর্গত উজ্জ্বল বিষাদ
৩৫.
আমার স্ত্রীর প্রতি
৩৬.
একটি যথার্থ ভালবাসা
৩৭.
জেব্রা ক্রসিং-এ
৩৮.
চাঁদের ভেতরে একজন
৩৯.
নগ্নতাই আমার সৌন্দৰ্য
৪০.
মধ্যরাতে রূপোলী চাঁদ
৪১.
খেলা
৪২.
আমি ভাল আছি, তোমরা?
৪৩.
ছন্দে, ভুল ছন্দে গদ্যপদ্য খেলা
৪৪.
একদিন আমারো প্রেমিকা ছিলো
৪৫.
আমাদের সফলতা, মৃত্যু
৪৬.
কবিতার এলোমেলো ভেলা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%