সুরে তালে গাইও গান সোনার চাঁন বয়াতি ভাই,
পালাগানের জ্বালা বোঝো নাই।
হায় রে বয়াতি ভাই, পালাগানের জ্বালা বুঝো নাই।
ভাবধারা জেনে শুনে মনে-প্রাণে দুইজনে,
গানে গানে প্রশ্ন-উত্তর করা চাই।
কইরো না ভাই টাল্টিবাল্টি,
গাইতে হবে পাল্টাপাল্টি,
গাইয়া যেন মজা পাই রে বয়াতি ভাই।
শরীয়ত আর মারফতি, দুই ধারায় দুই বয়াতি,
শ্রোতাগণের মতিগতি জানা চাই।
গুরু-শিষ্য দুই পুরুষ,
যে ধারায় শুনতে চায় মানুষ,
সেই ধারায় শুনাবো ভাই রে বয়াতি ভাই।
কুটি মনসুর ভেবে বলে, পাল্টাপাল্টি গান চলে,
উপস্থিত ভাই সকলে বলে দিবেন তাই।
জ্ঞানী-গুণী আছেন যারা, বলে দিবেন গানের ধারা,
সকলের মতামত চাই রে বয়াতি ভাই।
এই তোমার ভাঙা ঘর কি ভালো ঘর,
তা কারো জানার কথা নয়,
ঘরের কথা পরের কাছে,
কোন পাগলে কয়।
এই তোমার কামাই-রুজি কম, ঘরের বেড়া হয় নরম,
গিন্নি ঘরে থাকলে পরে, কিসের কর ভয়?
ঘরের গিন্নি থাকলে শক্ত, শিয়াল-কুকুর দূরে রয়।
শিয়াল-কুকুর কারে কও, আগে নিজে বুঝে লও।
ছয়টি শিয়াল, একটি কুকুর দেহের মাঝে রয়,
ছয়টি রিপু ছয় শিয়াল আর, মন শয়তানে কুকুর হয়।
মারফতি এই দেহের ভিতর, আছে মন মানুষের ঘর,
পরম আত্মা দেহের কর্তা, জানিও নিশ্চয়।
মনসুর বলে, দম ফুরাইলে, ঘরের কি আর মূল্য রয়?
[রচনাকাল: ২০-০১-১৯৯২]
মূলে ভুল থাকলে পরে,
ভুলের গোল এই তো সারে না,
শিকড় ছাড়া গাছের গোড়া,
শক্ত রাখতে পারে না।
শিকড় ছাড়া হয় না গাছ,
পানি ছাড়া বাঁচে না মাছ,
তরিকা ছাড়া হয় না কাজ,
ধ্যান ছাড়া জ্ঞান বাড়ে না।
মূল হতে হয় ডালের সৃষ্টি,
ডালেতে ফল ধরে মিষ্টি,
দেখলে সে ফল পড়ে দৃষ্টি,
মূলের খবর কেউ করে না।
মনসুর কয়, শোন রে বান্দা,
ধোকাবাজি ছাড়ো ধান্ধা,
অবশেষে হবি নান্দা,
তা কি এই তোর মনে পড়ে না?
[রচনাকাল: ০৪-০৯-১৯৯০]
শোনো মুন্সী ভাই,
মারেফতের দেশে চলো যাই,
মারফতি গোপনের তত্ত্ব,
গোপন করে রাখা চাই।
শরীয়তের দেহখাঁচায় মারফতে করে কাম,
মারফতি চইলা গেলে খাঁচার নাই রে দাম।
শরীয়তের খাঁচা ফেলে মন পাখিটা উইড়া গেলে,
পাখি ছাড়া শূন্য খাঁচার মূল্য কিছুই নাই।
মারফতের ইঞ্জিন ছাড়া গাড়ি চলে না,
দম ফুরাইয়া গেলে মানুষ কথা বলে না।
মারফতি হয় আদি শক্তি, রাখো মনে বিশ্বাস-ভক্তি,
মারফত ছাড়া শরীয়তের এক পয়শার দাম নাই।
দেহখাঁচা পইচা যাবে, খুঁইজা পাবে না,
শরীয়তের বড়াই কইরা লাভ হবে না।
মনসুর বলে, আত্মা খোঁজো, মানুষ হইয়া মানুষ ভজো,
মানুষের ভিতরে আসল মন মানুষকে চাই।
[রচনাকাল: ২০-০৬-১৯৯৭]
আমার ফকির বাবাজি, কথা শুনছনি?
অন্যরে বুঝাইতে আইছো,
নিজে বুঝনি?
শরীয়তের দেহ খাঁচায় তুমি আমি রই,
খাঁচা ছাড়া এই তোমার আমার থাকার জায়গা কই?
ঝোলা টানা ফকির হইয়া, বড়াই করছো মারফত লইয়া,
শরীয়তের দেহ খাঁচার যত্ন করা শিখছোনি?
শরীয়তের ধর্ম-কর্ম করো সঠিকভাবে,
আখেরাতে রাসুলুল্লার সাফায়াতি পাবে।
দেহ খাঁচার করবে যতন, রাখবে সেথা মারফতের ধন,
খাঁচা ছাড়া বৃথা জীবন, ভেবে দেখছোনি?
ফকির বাবা ছটকা কলে আটকা পইরাছো,
শরীয়তের খাঁচার ভিতর বন্দি হইয়াছো।
অন্যরে ঠকাইতে চাইয়া নিজেই গেলা ধরা খাইয়া,
মনসুর বলে, ফকির হইয়া ফিকির জানোনি?
[রচনাকাল: ১৮-০৩-১৯৯৭]
শোনো মুন্সী ভাই, মারেফতের দেশে চলো যাই,
মারফতি গোপনের তত্ত্ব,
গোপন করে রাখা চাই।
শরীয়তের দেহখাঁচায় মারফতে করে কাম,
মারফতি চইলা গেলে খাঁচার নাই রে দাম।
শরীয়তের খাঁচা ফেলে মন পাখিটা উইড়া গেলে,
পাখি ছাড়া শূন্য খাঁচার মূল্য কিছুই নাই।
মারফতের ইঞ্জিন ছাড়া গাড়ি চলে না,
দম ফুরাইয়া গেলে মানুষ কথা বলে না।
মারফতি হয় আদি শক্তি, রাখো মনে বিশ্বাস-ভক্তি,
মারফত ছাড়া শরীয়তের এক পয়শার দাম নাই।
দেহখাঁচা পইচা যাবে, খুঁইজা পাবে না,
শরীয়তের বড়াই কইরা লাভ হবে না।
মনসুর বলে, আত্মা খোঁজো, মানুষ হইয়া মানুষ ভজো,
মানুষের ভিতরে আসল মন মানুষকে চাই।
[রচনাকাল: ২০-০৬-১৯৯৭]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন