বিষয়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক গান
জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা,
দেশের প্রধান সমস্যা,
পরিকল্পিত পরিবার ছাড়া বাঁচার নাইরে ভরসা।
জনসংখ্যা বাড়ছে যত, খাদ্য তত বাড়ে নাই,
সারা দেশে অভাব-দুঃখ লেগে আছে, দেখতে পাই।
ছোট ছোট পরিবারে সুখী জীবন গড়তে পারে,
মানুষ যত বাড়বে তত অভাব, দুঃখ, দুর্দশা।
বুদ্ধিমানের পরিকল্পনা, শোনেন এবার বলে যাই,
জন্ম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই।
দুটি সন্তান হয় যথেষ্ট, অধিক হলে পাবে কষ্ট,
সুখ-শান্তি হবে নষ্ট, হারাবে মনের দিশা।
চলো সবাই পরামর্শ নেব পরিকল্পনার,
শিক্ষা নেবো, গড়ে তুলবো সুখী, সুন্দর পরিবার।
একটি সন্তান যখন হবে, কপার-টি বা ইনজেকশন নেবে,
দুটির পরে বন্ধাকরণ করলে পূরণ হবে আশা।
[রচনাকাল: ১০-০৩-১৯৮৪; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: নীনা হামিদ ]
সুখের আশায় ঘর বাঁধলাম, সুখ হইলো না আমার,
ঘরে জ্বালা, বাইরে জ্বালা,
ছেলে-মেয়ের যন্ত্ৰণা।
ঘর বাঁধিতে অতি সহজ, সুখ পাইতে কঠিন,
একটু ভুলে এই কপালে দুঃখ চিরদিন।
একজন ছিলাম, দুইজন হইলাম,
দুইয়ের পরে দশজনা।
ভাবিয়া কাজ করিও ভাই, করিয়া ভাবিও না,
সুখ যদি চাও, গ্রহণ কর পরিকল্পনা।
জনসংখ্যা বাড়লোরে যার,
তার দুঃখ আর সারলো না।
[রচনাকাল: ০১-০৭-১৯৮২ইং; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়]
ছেলে-মেয়ে জন্ম নিলে রাখবেন স্মরণ,
পাঁচ মাস বয়সে তার খাদ্যের প্রয়োজন, শিশুর খাদ্যের প্রয়োজন।
জন্ম নিয়ে শিশু প্রথম মায়ের দুগ্ধ খাবে,
এর মতো আর উত্তম খাদ্য খুঁজলেও না পাবে।
পাঁচ মাস বয়সের শিশু শাস্ত্রমতে বলে,
মিষ্টি কলা, দুধের সুজি খাইতে দেওয়া চলে।
এসব খাদ্য খাইলে শিশুর স্বাস্থ্য হয় গঠন,
ছোট মাছ, নরম ভাত, খিচুড়ি আর আলু, পেঁপে, ডিম আর লাল শাক খাইতে দেওয়া ভালো।
মা-বোনেরা শিশুদেরকে যত্ন নিলে অতি,
মৃত্যুহার কমে যাবে, রবে না দুর্গতি।
বৈজ্ঞানিক কৌশলে হবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ।
[রচনাকাল: ৩০-০৩-১৯৮৫ইং; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন ]
মানুষ বাড়ে বছর বছর, জমি তো আর বাড়ে না,
বাড়তি মুখের খাবার দিতে কষ্টের সীমা থাকবে না।
অধিক সন্তান হলে পরে, মায়ের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে,
অপুষ্টি আর অনাদরে শিশুর স্বাস্থ্য বাড়ে না।
হাত-পা চিকন, দেহের গঠন, রোগ-ব্যধিতে ছাড়ে না।
জন্ম শাসন পদ্ধতিতে সন্তান পাবে ইচ্ছামতো,
মা-বাবা রয় সুখ-শান্তিতে, খাদ্যের অভাব পড়ে না।
ছোট সংসার আছে রে যার, প্রাণে আনন্দ ধরে না তার,
যেই হারেতে মানুষ বাড়ে, জমি তো আর বাড়ে না।
[রচনাকাল: ৩০-০৩-১৯৮৫ইং; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন ]
আগের মাইনষে খাইছে কি, বাপ-চাচারা কইছে কি,
বর্তমানে হইছে কি তাই ভাইবা দেখ না,
এই দিন আর সেই দিনের নাইরে তুলনা।
চল্লিশ বছর আগের কথা, আমরা তো না জানি,
দুই আনা সের চাউল খাইছে, কইছে নানা-নানি।
গোলার ধান, পুকুরের মাছ, খাইছে তখন বারো মাস,
এত অভাব, দুঃখ-কষ্ট তখন ছিল না।
পাঁচ সিকার শাড়ি কিনা দাদীরে পরাইতো,
বারো আনার লুঙি পইরা শ্বশুরবাড়ি যাইতো।
কুড়ি টাকায় স্বর্ণের ভরি, গল্প করছে বুইড়া-বুড়ি,
কথা শুইনা দুঃখে মরি, উপায় বলো না।
মনসুর বলে, সেই আমলে শান্তি ছিল প্রাণে,
হাডুডু খেলছি কত আলানে-পালানে।
কী আলামত আইলো দেশে, সেদিন এখন কোথায় গেছে,
চিন্তা কইরা অবশেষে কূল পাইলাম না।
[রচনাকাল: ০৩, ০৫. ১৯৮৮ইং; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রুনা লায়লা ]
আপন দোষে দোষী হইয়ারে বন্ধু, কপালের দোষ দিওনারে,
যার যার কর্মগুণে শান্তি আনে গো বন্ধু, সেই কথা কেউ ভুইলোনারে।
সকল ধর্মে আর শাস্ত্রে বলে, সুখ পাওয়া যায় কর্মফলে,
ভবে দুঃখ রয় নারে।
যার যার নিজের কামাই নিজেই কর ভাই গো,
পরের আশায় কেউ থাইকোনারে।
দেশে জনসংখ্যা অধিক হলে, সুখ-শান্তি যায় রসাতলে,
সংসার সুখের হয় নারে।
চালাও কর্ম অভিযান, পাবে সুখের সন্ধান গো,
অধিক সন্তান কেউ বাড়াইয়োনারে।
[রচনাকাল: ০৭. ০১. ১৯৮১ইং; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়]
বলো, শান্তি আরাম কোথায় পাই
কলিকালে কী জঞ্জালে পইড়াছিরে ভাই।
হাট-বাজারে চলা যায় না মানুষের জ্বালায়,
রেলগাড়িতে উঠা যায় না, টিকিট পাওয়া দায়।
নদীপথে লঞ্চ কিংবা স্টিমারে যাইতে,
বইসা যাওয়া দূরের কথা, জায়গা নাই দাঁড়াইতে,
বড় কষ্ট হয় যাইতে,
আমি দেইখা মানুষ হইলাম বেহুশ গো,
শুনি চান্দের দেশে মানুষ গেছে ভাই।
গাঁয়ের মানুষ জায়গা পায় না শহরেতে যাইয়া,
কপালের দোষ কইয়া ফিরে সন্তান বাড়াইয়া।
যেদিক তাকাই সেদিক মানুষ, আছে লাইন ধরা,
রাস্তায় চলা অতি কষ্ট, বাসে যায় না চড়া,
মানুষ সব জায়গায় ভরা।
ঢাকা শহরেতে চলতে-ফিরতে গো,
বড় অসুবিধায় পইড়া যাই।
ভাইগ্না গেলে মামার বাড়ি শোনো বলি আমি,
খাওয়ার আগে বিদায় নিলে খুশি হয় মামি।
জামাই গেলে শ্বশুরবাড়ি, শালা-শালি খুশি,
পাকঘরে শাশুড়ি কান্দে হাতে লইয়া রশি,
ও তার মুখে নাই হাসি,
ও যার ছেইলা-মাইয়া খাইতে পায় না গো,
আবার জামাই আইলে তারে কি খাওয়াই?
এই পর্যন্ত করি খ্যান্ত শোনেন ভাই সকলে,
সুখী জীবন গড়তে হবে, কুটি মনসুর বলে।
ছোট পরিবার তবে গড়তে হবে ভাই,
তাছাড়া আর বাঁইচা থাকার কোনো উপায় নাই।
এখন ঘরে চলো যাই,
দেশে খাদ্য বাড়াও, মানুষ কমাও গো,
যদি শান্তি আরাম চাও সবাই,
কোনোকালে কোনো জঞ্জাল থাকবে না রে ভাই।
[রচনাকাল: ১৩-০৫-১৯৮৬]
প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ করেছে সরকার,
সুযোগ করে দিলো দেশের সকল জনতার।
জনপ্রতিনিধি হয়ে চেয়ারম্যান এলো
উপজেলায়, প্রশাসনের দায়িত্ব সে পেলো
গ্রামগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়নের তরে
কোর্ট-কাচারি, হাসপাতাল সবই তৈরি করে,
রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানি কাছে পাইবার,
সেচের ব্যবস্থা করেন ফসল ফলাইবার।
গ্রামভিত্তিক উন্নয়নের কাজ করতে হবে,
গ্রাম বাঁচলে শহর বাঁচবে, শোনেন ভাই সবে।
পরিকল্পিত পরিবার গড়তে হবে ভাই,
জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করা চাই।
বাড়ির কাছে ক্লিনিক আছে তথ্য জানিবার,
পরিকল্পনা নিলে গড়বে সুখী পরিবার।
চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গ্রামের জনগণ,
পরিবার পরিকল্পনা করিবেন গ্রহণ।
উপজেলার চেয়ারম্যান এ দায়িত্ব নিবেন,
পরিকল্পনার বিষয়বস্তু বুঝাইয়া দিবেন।
গরিব-দুঃখী সব মানুষের সেবা করিবার,
চেয়ারম্যান হলো দেশের আসল কর্ণধার।
দেশের মৎস চাষী বন্ধুগণ,
বাড়াও এই তোমরা মাছের উৎপাদন।
পুষ্টির অভাব দূর করিতে,
আমিষ খাদ্যের প্রয়োজন।
গ্রাম-গঞ্জে আছে যত অনাবাদি জলাশয়,
আবর্জনা সাফ করে যত্ন নিবে অতিশয়।
ছাড়ো সেথায় মাছের পোনা,
মাছ নয় ভাই, ফলবে সোনা,
আয়-উন্নতি বাড়বে দেশে,
ঘুচবে অভাব-অনটন।
পুকুরে মাছের চাষ আর পাড়ে লাগাও তরকারি,
তরকারি, মাছ দরকার হইলে সবাই খাইতে পারি।
কর্মহীন বেকার যারা,
বসে কেউ থাইকোনা তারা,
মনসুর বলে, করো এই তোমরা
মৎস চাষী সংগঠন।
ও ভাই, বাংলাদেশে মৎস চাষের চালাও অভিযান,
মৎস সম্পদ বাড়লে হবে
অভাব-দুঃখের অবসান,
চালাও অভিযান।
নদী-নালা, পুকুর, জলে
অভিযান চালাও সকলে,
মাছের বংশ বৃদ্ধি হলে
খাদ্যে পড়বে না টান।
চাষী ভাইরা মিলেমিশে
মৎস খামার বাড়াও দেশে,
পুকুর ভরাট হইবে মাছে,
খেয়ে-পরে বাঁচবে প্রাণ।
পতিত জলাশয় পাবে যথায়,
মৎস খামার করবে তথায়।
মনসুর কয়, মাছ ফলাও বেশি,
বাড়াও মোদের জাতির মান।
চাষী ভাই হও রে স্বনির্ভর,
ক্ষেত-খামারে অধিক ফসল ফলাইয়া বিস্তর।
ক্ষেতে ফলাও পাট, ধান, পুকুরে ফলাও মাছ,
মা-ভগ্নিরা লালন-পালন কর মুরগি, হাঁস।
বাড়িতে ফলাও তরিতরকারি, খাও সারা বছর।
ইরি, বোরো, রোয়া ধানে ভরাট করো গোলা,
রবি শস্য ফলাও ক্ষেতে মুগ, মুশুরি, ছোলা,
গম, যব আর তিল, সরিষা ফলাও সাথে গাজর।
নিজের খাটনি খাইটা নিজে অর্থ-সম্পদ বাড়াও,
যার যে খাদ্য সেই যোগাইয়া অভাব-দুঃখ তাড়াও।
মনসুর বলে, শ্রম করিলে সুখী হবে পরস্পর।
চাষী ভাই, জেলে ভাই,
কথা নাই, কাজ চাই,
কাজে দিও মন,
কাজ করিলে শান্তি মিলে,
সুখী হয় জীবন।
আলান-পালান বাড়ির পাশে,
তামাক লাগাও ভাদ্র মাসে,
শাক-সব্জি, ডাটা বুনো,
মূলা বুনো, কথা শোনো,
লাঙল ধরো, আবাদ করো,
চালাও কৃষি আন্দোলন।
বর্ষার পানি লাগলে ভাটা,
পুকুরেতে ফালাও কাটা,
পুকুরভরা মাছ পাবে,
বিক্রি করে টাকা পাবে,
মনসুর বলে, ঘুচে যাবে অভাব-অনটন।
ভাই রে, ভেবে দেখোন গাছের কত গুণ,
কাঁঠাল গাছের দোতারাটা
বাজাইলে বাজে টুনটুন,
গাছের কত গুণ।
গাছ হইতে ফলবে সোনা,
যতন করতে কেউ ভুইলো না,
সোনার দামে শাল-গজারি
বিক্রি হয়, জেনে রাখুন।
বড় গাছটির করলে মায়া,
রোদের সময় দেবে ছায়া,
অক্সিজেনে ভরবে কায়া,
একবার ভেবে দেখুন।
কড়ই গাছে নৌকা গড়ে,
তেঁতুল গাছে লাকড়ি করে,
মনসুর বলে, গাছের ডালে
পাখিরা কাটায় জীবন।
এই তোমরা জেনে রেখো ভাই রে ভাই,
বাংলাদেশে গাছে গাছে ফলের অভাব নাই।
ফলে-ফুলে ভরা এ দেশ,
ফল খাইয়া সাধ মিটাই।
ফলের দেশ বাংলাদেশ, শোনেন ফলের নাম,
বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে পাকে আম, কাঁঠাল আর জাম,
তরমুজ, বাঙি, লিচু আরো সাগর কলা অনেক পাই।
আষাঢ় মাসে খেঁজুর পাকে তখন বর্ষা কাল,
ভাদ্র মাসে বাংলাদেশে গাছে পাকে তাল।
আশ্বিন আর কার্তিক মাসে ফজলি আম, পেয়ারা খাই।
অগ্রহায়ণ, পৌষ-মাঘে অনেক ফল পাই,
নোনা ফল, সবেদা আরো জাম্বুরা ফল খাই,
আনারস আর কমলা লেবু খাইয়া কত মজা পাই।
ফাল্গুন আর চৈত্র মাসে বড়ই পাকে গাছে,
এসব ছাড়াও বাংলাদেশে অনেক ফল আছে।
মনসুর বলে, আরো বেশি
ফলের গাছ লাগাও ভাই।
রাস্তাঘাটে গাড়ি চালাবেন
শোনেন ড্রাইভার ভাই,
দেখেশুনে অতি সাবধানে
হুঁশিয়ার থাকা চাই।
আস্তে ধীরে চালাবেন গাড়ি,
করবেন না কেউ তাড়াতাড়ি,
দুর্ঘটনায় পড়লে তবে
আর রক্ষা নাই।
গাড়ির কলকব্জা আছে যত,
চেক করবেন অবিরত,
স্বাভাবিক ভাবে চলার মতো
ঠিক করে নেওয়া চাই।
বাস-ট্যাক্সির তলে পড়ে
শত শত মানুষ মরে,
রেডিও টেলিভিশনের খবরে
সবই জানতে পাই।
মানুষের জন্যই সৃষ্টি মানুষ,
সব সময়ে থাকবেন হুস,
যাতে আর না মরে মানুষ,
সেই ব্যবস্থা চাই।
শোনেন বলি মা-খালারা,
আরো শোনেন ভাই-বোনেরা,
রাস্তাঘাটে চলাফেরা
করবেন সাবধানে।
খোকা-খুকুর হাতে ধরবেন,
জেব্রাক্রসিং পার করবেন,
সদা সতর্ক থাকবেন,
বিপদ হবে না জীবনে।
বাসে-ট্রামে উঠা-নামায় করবেন না হুড়াহুড়ি,
উঠতে-বসতে সুযোগ যেন পায় বুড়াবুড়ি।
অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে
ঝুঁকি নিবেন না কোনোখানে।
দেশবাসী সকলের কাছে জানাই নিবেদন,
রাস্তায় চলতে মানতে হবে সব নিয়ম-কানুন,
সচেতন থেকে সুখ পাবেন,
সদা রাখবেন মনে।
বাংলাদেশের জনগণের ভয়ের নাই কারণ,
সন্ত্রাস আর দুর্নীতি সব হয়েছে দমন,
ভয়ের নাই কারণ।
বর্তমান সরকারের প্রশাসন খুব কড়া,
সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজি পড়ছে সব ধরা।
পরের জমি দখল কইরা,
খাইছে যারা পরান ভইরা,
নির্মূল হইয়া গেছে তারা,
শান্তির ধারা বয় এখন।
দুর্নীতি দমনে দেশের হইছে অগ্রগতি,
জনগণের আগের চাইতে বাড়ছে আয়-উন্নতি।
থাকবে সুন্দর পরিবেশ,
গড়ে তুলবো সোনার দেশ,
দেশপ্রেমিক হয়ে সবাই
করবো আমরা দেশ গঠন।
সাধের সোনার বাংলা এবার হবেরে গঠন,
সন্ত্রাস আর দুর্নীতিবাজ হচ্ছেরে দমন।
শান্তি সুখে থাকবে বাংলাদেশের জনগণ।
দুর্নীতি করে কোটি টাকা জমিয়েছিলো যারা,
বর্তমানে জেলহাজতে আটক রয়েছে তারা।
নেতানেত্রী দোষী রবে,
আইন মোতাবেক বিচার হবে,
পাপের জন্য শাস্তি পাবে, রাখিবে স্মরণ।
বাংলাদেশে দুর্নীতি আর সন্ত্রাসী থাকবে না,
চাঁদাবাজি দেখলে তারে জ্যান্ত কেউ ছাড়বে না।
হয় যদি কেউ দলীয় লোক,
এমপি, মন্ত্রী যেইবা হোক,
আইনের কাছে করতে হবে আত্মসমর্পণ।
[রচনাকাল: ২৭-০৭-২০১০]
ও ভাই, ফলের গাছ লাগাও,
বাড়ির গাছের পাকা ফল খাইয়া সাধ মিটাও।
ভাই রে ভাই
বাড়িঘরের আশেপাশে লাগাও ফলের গাছ,
হরেক রকম ফল খাইতে পারবে বারো মাস।
স্বাস্থ্যের জন্য ফল খাইতে হয়, তাইতো আমার বলা,
পুষ্টিকর পেয়ারা ফল খাও, সবরি কলা।
বৈশাখ মাসে আম আরো কাঁঠাল বেশি খাও।
ভাই রে ভাই।
আম, জাম, লিচু আরো কামরাঙা ফল আছে,
ইচ্ছামতো খাইতে পারো থাকলে নিজের গাছে।
বাংলাদেশের ভাই-বোনেরা মনে রাখবে জানি,
ফলের গাছ লাগাইয়া বাড়াও ফলের আমদানি।
আনারস, আঙুর, বেদানা, ডালিম গাছ লাগাও।
ভাই রে ভাই।
বাঙি, তরমুজ, পেঁপে, বেল আরো নারিকেল,
নোনা আতা ফল আরো কমলা, আপেল।
কুটি মনসুর বলে, বাংলাদেশে ফলের অভাব নাই,
নাশপাতি, খেজুর আরো পাকা তাল পাই,
তাই ভালো স্বাস্থ্যের জন্য আরো ফলের গাছ লাগাও।
পশুর সেরা বাঘ জানি,
সুন্দরবনে থাকে,
রয়েল বেঙ্গল টাইগার নাম তার,
ভয় লাগে তার ডাকে।
বাংলাদেশে এই বাঘ অনেক ছিলো আগে,
জাতীয় পশুর মর্যাদা তাইতো পেল বাঘে।
মনে-প্রাণে দেখেন ভাবি,
টাকার মধ্যেও বাঘের ছবি,
বিশ্ব ক্রিকেট খেলায় দেখি
বাঘের প্রতীক রাখে।
বাঘের জন্য বাংলাদেশের অনেক সুনাম আছে,
এক নামে পরিচিত সব মানুষের কাছে।
বাঘ দেখতে পাই বইয়ের পাতায়,
আছে বাঘ সার্কাস খেলায়,
সেইনা বাঘ চিড়িয়াখানার
খাঁচায় বন্দি থাকে।
শোনেন এবার বলে যাই,
দূষণমুক্ত পরিবেশ চাই,
দূষণমুক্ত পরিবেশে
কাছে আসে না রোগবালাই।
যেখানে যে বাস করেন তার সেখানে ঠিকানা,
বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করবেন স্যানিটারি পায়খানা।
বাংলাদেশের মা-বোনেরা থাকবেন হুঁশিয়ার,
ঘরবাড়ি ঝাড়ু দিয়ে রাখবেন পরিষ্কার।
হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন ঘষে-মেজে সাফা রাখুন,
দাঁতের ময়লাও পেটে গেলে
রোগে বলে ক্ষমা নাই।
দূষণমুক্ত আইন-কানুন করবেন না ভঙ্গ,
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ঈমানেরই অঙ্গ।
শহর, বন্দর, গ্রামে-গঞ্জে চলাফেরায় কষ্ট,
অতিরিক্ত জনসংখ্যায় পরিবেশ হয় নষ্ট।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিজ্ঞা করো মনে,
ছোট পরিবার যার ঘরে তার
সুখের সীমা নাই রে নাই।
খাল, নাল, পুকুর, ডোবা যার যেথায় রবে,
কচুরিপানা, আবর্জনা সাফা রাখতে হবে।
ঔষধি আর ফলমূলের গাছ লাগাও,
দূষিত বায়ু রোধ করে অক্সিজেন বাড়াও।
বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে গাছ লাগাও বেশি করে,
পরিবেশটা সুন্দর হলে
সবাই ভালো থাকবেন ভাই।
ওরা কিন্তু সবার বন্ধু,
অনেক কষ্ট করে,
জীবনভর অজানা খবর
পৌঁছায় ঘরে ঘরে।
ওদের মতো এমন মানুষ কোথাও না পাই,
পরের খবর পৌঁছায় তারা, নিজের খবর নাই।
মরণ কথাও স্মরণ হয় না,
চিঠির ধাধায় পড়ে।
চিঠির ঝোলা কাঁধে করে ঘোরে সারাদিন,
মানুষের ঠিকানা খোঁজে ক্লান্তিবিহীন।
ক্ষুধা পেটে চলছে হেঁটে,
বলে না কারো তরে।
বাঙালি জাতি মোরা শক্ত হয়ে
নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াবো,
এই তোমার আমার বাংলাদেশ
গড়বো, সুন্দর পরিবেশ,
শত্রুকে দেশ থেকে তাড়াবো।
ঐক্য হয়ে মোরা চলবো,
সত্য-ন্যায়ের কথা বলবো,
দেশবাসী জনগণ সব কাজে দিয়ে মন,
কারখানায় উৎপাদন বাড়াবো।
বাঙালি ভাই ভাই, হিংসা-বিদ্বেষ নাই,
দেশের কোটি কোটি জনতা,
ভাই-বোন এক হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে
রক্ষা করবো স্বাধীনতা।
অসীম সাহস নিয়ে বুকে,
এগিয়ে যাবো সম্মুখে,
নীতিতে অটল থেকে, দুর্নীতি দূরে রেখে,
অর্থ-সম্পদ বাড়াবো।
দেখিলাম জুটমিলের ভিতরে কলের ঘরে,
শোনেন বলি ভাই সকলে, চাবি দিলে মেশিন চলে।
কলে কল, মটরে ফিট করে কলের ঘরে,
দেখিলাম জুটমিলের ভিতরে।
কলের ভিতর কল বসাইছে, আজব কলে মিল চালাইছে,
পাওয়ার হাউজে পাওয়ার সাপ্লাই করে।
এক কলেতে পাট দিতেছে, আরেক কলে পাস্ করতেছে,
শাপনারে দেয়, কাষ্টিং মিক্সচার করে কলের ঘরে।
পানি কাষ্টিং মিক্সচার করে, টিচার নিয়া ফেইশা করে,
ব্রেকারে নিয়া রোলা তৈয়ার করে,
তারপরে যায় ফিনিশারে, দশটা ভেঙ্গে একটা করে,
ফাষ্টডোরিং কলে দিলো তারে, কলের ঘরে।
ফাষ্টডোরিংয়ে দিলো নিয়া, আটটা দিলো পিছন দিয়া,
সামনে দিয়া ডুংগার ভিতর পড়ে।
তারপরে ঐ ডুংগা নিয়া, ইস্পিরিংয়ের পিছন দিয়া,
সুতা হইয়া নালে পেঁচায় তারে, কলের ঘরে।
নাল দিয়া ডিম বানাইয়া, ভিম কলের গালি সাজাইয়া,
মাড় দিয়া ফর্মা পেঁচায় তারে।
মাড় দিয়া ফর্মা পেঁচায়, ভিম বানাইয়া তাতে পাঠায়,
খালি তাতে ভিমের নম্বর পড়ে, কলের ঘরে।
তেঁতুলের বীজ দিয়া মেশিনে ফাকি বানাইয়া,
স্টিম হতে গরম পানি ছাড়ে।
মাড় আগে তৈয়ার করে, সেই মাড় দেয় সুতার পরে,
ফিনিশার মেশিনে ফিনিশ করে, কলের ঘরে।
ভিম-গিরু দেয় তাতি যাইয়া, গুদাম হতে নলি নিয়া,
নলি ভরে মাক্কুর ভিতরে।
মাক্কু ভরে চাবি টানে, মেশিন চলে রাত্রদিনে,
মাক্কু ফসর-ফসর আসা-যাওয়া করে, কলের ঘরে।
খালি মাক্কু গেলে পরে, চাবি টাইনা বন্ধ করে,
হাবেজ করে আবার চালু করে।
নব্বই পাউন্ড কাপড় হলে, এক’শ দশ গজ মাইপা দিলে,
কাপড়/কাইটা দিবে নম্বর আইলে পরে, কলের ঘরে।
নম্বর ছাড়া কাটলে পরে, যাচাই ঘরে নিয়া তারে,
বড় সাহেব আইসা যাচাই করে।
নিয়মকানুন বড়ই কড়া, যাচাইতে কেউ পড়লে ধরা,
লাইন-সরদারকে ডাইকা জিঞ্জাস করে, কলের ঘরে।
তারপর বস্তার কোনা মেরে, পঁচিশ খানা বান্ডেল করে,
ঐ কাজটা ভাই মেয়েছেলে করে।
বাংলাদেশের জুটমিলে চাকরিও পায় মেয়েছেলে,
বেকারত্ব দূর করিবার তরে, কলের ঘরে।
কুটি মনসুর ভেবে বলে, কারখানায় উৎপাদন হলে,
অভাব-দুঃখ চলে যাবে দূরে।
বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা উৎপাদন বাড়াও এই তোমরা,
এই মিনতি জানাই সবার তরে, কলের ঘরে।
শোনেন ভাই রে ভাই,
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির আয়-উন্নতি নাই,
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, জানিবেন সবাই,
ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া, শিক্ষা দেওয়া চাই।
শোনেন ভাই রে ভাই,
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির আয়-উন্নতি নাই।
জ্ঞানী-গুণী, বুদ্ধিজীবী হইতে যদি চাও,
লেখাপড়া শিক্ষা নিতে স্কুলেতে যাও।
অমূল্য ধন লেখাপড়া জানতে হবে ভাই,
জুয়ান-বুড়া চলো মোরা নাইট স্কুলে যাই,
শোনেন ভাই রে ভাই,
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির আয়-উন্নতি নাই।
পাড়ায় পাড়ায় আছে মোদের প্রাইমারি স্কুল,
ছেলে-মেয়ে পড়াও সেথায়, কেউ কইরো না ভুল।
চোখ থাকিতে অন্ধ হইয়া বাঁচার দরকার নাই,
অশিক্ষা দূর করতে হবে মনসুর বলে ভাই,
শোনেন ভাই রে ভাই,
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির আয়-উন্নতি নাই।
বাংলাদেশের ভাই-বোনেরা,
জেনে রাখেন সবে,
শিশুদেরকে এ ভিটামিন
খাওয়াইতে হবে।
এ ভিটামিন শিশুদেরকে না খাওয়াইলে ভাই,
কী কী রোগে শিশু ভোগে শোনেন, বলে যাই।
অপুষ্টি সহ অন্ধত্ব আর রাতকানা রোগ হবে,
শিশুদেরকে এ ভিটামিন খাওয়াইতে হবে।
বহু শিশু মারা যায় হইয়া দুর্বল,
এ ভিটামিন খাইলে শিশুর বাড়বে শক্তি-বল।
শাক-সব্জি আর ছোট মাছ খাইতে দিতে হবে,
শিশুদেরকে এ ভিটামিন খাওয়াইতে হবে।
এ ভিটামিন কর্মসূচি অতি চমৎকার,
এক থেকে ছয় বছরে খাওয়ানো দরকার।
তাহলেই সকল শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রবে,
শিশুদেরকে এ ভিটামিন খাওয়াইতে হবে।
[রচনাকাল : ০৮-০৬-১৯৯৭]
(মে দিবসের গান)
বছর ঘুরে আবার এলো ঐতিহাসিক মে দিবস,
সারা বিশ্বে একই সাথে পালিত হয় যে দিবস।
প্রতিবাদের এই দিবসটির নাইতো কোনো তুলনা,
তাইতো এ দিনের কথা জীবনে কেউ ভুলবে না।
এক হয়ে শ্রমজীবী, বিপ্লবী সব জনগণ,
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে করেছিলো আন্দোলন।
৮ ঘণ্টা কাজের তরে শ্রমিক সব ধর্মঘট করে,
ন্যায্য দাবি আদায় করতে মরণের ভয় করে না।
শ্রমিকদেরকে নির্বিচারে গুলি যখন করিলো,
আহত হলো অনেক, কিছু শ্রমিক মরিলো।
সারা দুনিয়ার ভিতরে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে,
গুলি খেয়ে তবুও তারা ন্যায্য দাবি ছাড়লো না।
আঠারো শ’ ছিয়াশিতে দাবি আদায় করেছে,
শ্রমিকের সে আন্দোলনে মালিক পক্ষ হেরেছে।
মে দিবসের অঙ্গীকার শ্রমিকেরই অধিকার,
প্রতি বছর শোনাই যে তাই মে দিবসের বর্ণনা।
[রচনাকাল : ১৭-০৭-১৯৯৩]
দেশের ভবিষ্যৎ সম্বল মোদের
ছাত্র-ছাত্রী ভাই-বোনেরা,
শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে সবে
দেশের নেতা হবে এই তোমরা।
পুরনো যাবে, নতুন আসবে, এই দুনিয়ার রীতি,
লেখাপড়া শিখে এই তোমরা করবে আয়-উন্নতি।
নবীন-বরণ/উৎসবেতে আমি এলাম,
আসতে পেরে ধন্য হলাম,
শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিও এই তোমরা।
জ্ঞানী-গুণী হতে হলে শিক্ষাদীক্ষা করতে হয়,
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এই কথাটা মিথ্যা নয়।
বিদ্যা-বুদ্ধি অর্জন কর,
স্বাধীন বাংলাদেশটা গড়ো,
স্বনির্ভর হইলে তবে
এ দেশ হবে সবার সেরা।
[রচনাকাল : ১৮-০৬-১৯৯৩]
চোখে না দেখলে কেউ বুঝবে না,
জলোচ্ছ্বাসের করুণ ঘটনা,
বাংলাদেশের জলোচ্ছাসে
ঘরবাড়ি কিছুই রাখলো না।
এক নিমিষে জলোচ্ছাসে ঘটাইলো কী ঘটনা,
সহায়, সম্বল, ক্ষেতের ফসল,
কিছুইতো আর রইলো না।
হাজার হাজার মরা মানুষ জলে ভাইসা যায়,
কোলের শিশু বুকে ধইরা
মইরা রইছে মায়।
কত মরা ভাইসা গেল, দাফন-কাফন হইলো না,
ভাইয়ে কান্দে, বইনে কান্দে,
কারো খবর কেউ পাইলো না।
[রচনাকাল : ০৭-০৫-১৯৯১]
মায়ে কান্দে ব্যাটার শোকে,
বইনে কান্দে ভাইয়ের দুঃখে,
এই ঝড়েতে হারাইলো মায়
সোনা-মানিক চান্দেরে।
হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজারে,
চরফ্যাসন আর উড়িরচরে রে,
লক্ষ লক্ষ মানুষ মরে,
দেইখা বিশ্ব কান্দে রে।
হায়রে বিধি, একি হইলো,
বুঝলাম না এই তোর লীলা,
সৃষ্টির সেরা মানুষ লইয়া
কী খেলা খেলাইলা।
ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাসে
সোনার সংসার ভাইসা গেছে রে,
তবু দুঃখ ভুইলা দেশবাসী
নতুন সংসার বান্ধে রে।
[রচনাকাল : ০৭-০৫-১৯৯১]
ভবিষ্যতের সম্বল মোদের শিশু সন্তানেরা,
তাদের যত্ন নিবে দেশের
সকল মা-বোনেরা।
লালন-পালন করবে সন্তান অতি যতনেতে,
পুষ্টিকর নরম খাদ্য শিশুকে দাও খেতে।
শিশুর স্বাস্থ্য গড়ে তুলবে
শিশুদের মায়েরা।
সকল মায়ের সকল শিশু বিদ্যা অর্জণ করবে,
সোনার মানুষ হয়ে তারা সোনার বাংলা গড়বে।
সুখ-সমৃদ্ধি আসবে দেশে,
বলেছেন জ্ঞানীরা।
গুণীজনের সম্মানে হয় সংবর্ধনার আয়োজন,
কর্তব্য কাজ করতে সমাজ
হইলো রে আজ সচেতন।
সম্মানিত আছেন যত শ্রদ্ধার পাত্র সকলে,
সালাম নিবেন, দোয়া করবেন, রাখিবেন চরণ তলে।
শভেচ্ছা নিবেন উপস্থিত
আছেন যত ভাই-বোন।
ঢাকা সংস্কৃতি সংসদের সদস্য-সদস্যাগণ,
সকলকে একসাথে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
শুদ্ধ সমাজ গড়তে আবার
আইলো নতুন জাগরণ।
যে সব গুণী নানামুখী রাখলো বিশেষ অবদান,
তাঁদেরকে আজ দেয়া হবে স্মরণীয় সম্মান।
সম্মাননার এ অভিযান,
চালাও রে সারাজীবন।
[রচনাকাল : ১৭-১১-১৯৮৭]
পুষ্টিকর খাদ্য মানে দামি খাদ্য নয়,
এই বাংলাদেশে সেই খাদ্য পাবে অতিশয়।
ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হইতে যদি চাও,
সস্তা দামের ছোট মাছ, শাক-সব্জী খাও।
মূলা শাকে হজম বাড়ায়, স্বাস্থ্যের হয় উন্নতি,
পালং শাক আরো ভালো, পুষ্টিকর অতি।
ভালো স্বাস্থ্য গড়তে হলে
এসব খাদ্য খেতে হয়।
শহর, বন্দর, গ্রামের মানুষ সবার কাছে বলি,
সস্তা খাদ্যেও পুষ্টি আছে, শোনেন ভাই সকলি।
কম দামের লাউ শাক আর কচু শাক খাবে,
আমলকি, পেয়ারা, আমড়ায় অনেক পুষ্টি পাবে।
সুস্থ দেহের সন্তান হলে
জাতির উন্নতি হয়।
ওরে ও দেশের ভাই-বোন আমার,
স্যানিটারি ল্যাট্রিন সবাই কর ব্যবহার।
মাঠে-ঘাটে যথায় তথায় মলত্যাগ করিলে,
রোগ-ব্যাধির জীবাণু ছড়ায়, শোনেন ভাই সকলে।
রক্ত আমাশা, কৃমি আরো হবে যে ডায়রিয়া,
এ সব রোগে শত শত মানুষ যায় মরিয়া।
সে রোগ থেকে বাঁচতে হলে সকলের দরকার,
স্যানিটারি পায়খানা করে নাও তৈয়ার।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে ভুল করিওনা,
কম খরচে তৈয়ার কর স্যানিটারি পায়খানা।
মশা-মাছি, রোগ-জীবাণু ছড়ায় ঘরে ঘরে,
বাড়ি থেকে পায়খানা রাখো একটু দূরে।
স্যানিটারি পায়খানা দিলে হবে উপকার,
তাইতো নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান সরকার।
ভাই-বোনেরা শোনো এই তোমরা দেশের জনগণ,
বিশুদ্ধ পানি খাওয়া সবার প্রয়োজন।
আগুনে ফুটাইয়া পানি ঠাণ্ডা করে খাও,
রোগ-ব্যাধি হইতে নিজের জীবনটা বাঁচাও।
ফুটানো পানি পান করিলে
রোগ-ব্যাধিও হয় দমন।
টিউবওয়েলের চাপা কলে ভালো পানি পাবে,
সেই পানিও ফিটকিরি দিয়ে শুদ্ধ করে খাবে।
রোগ-জীবাণু নষ্ট হবে,
থাকবে না ভয়ের কারণ।
শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-জুয়ান বলি সবার তরে,
স্বাস্থ্য ভালো রয় বিশুদ্ধ পানি পান করে।
পেটের পীড়া, কৃমি রোগে
করবে না ভাই আক্রমণ।
আসল কথা যৌতুক প্রথা বন্ধ করতে হবে ভাই,
দেশের ভাই-বোনরা শোনেন, বলে যাই,
দেশবাসী শোনেন, বলে যাই।
ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতে
যৌতুক নিবেন না তাতে,
যৌতুক ব্যধি দূর করিতে
ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম চাই,
দেশবাসী শোনেন, বলে যাই।
দেশবাসী, বুদ্ধিজীবী,
শোনেন যত সমাজসেবী,
সমাজের কাজ করে দেশের
উন্নতি করবেন সবাই,
দেশবাসী শোনেন, বলে যাই।
ভবিষ্যতের সম্বল মোদের সোনামণি শিশুরা,
শিশুর যত্ন নিবেন মোদের
সকল মা ও বোনেরা।
শিশুর জন্মের পরে মায়ের বুকে শালদুগ্ধ রয়,
সেই দুগ্ধ শিশুদেরকে খেতে দিতে হয়।
উপকারী সেই দুগ্ধ ফেলে দিবেন না মায়েরা,
ভবিষ্যতের সম্বল মোদের সোনামণি শিশুরা।
দুই বছর মায়ের দুগ্ধ খায় যদি শিশু,
তার মতো উপকারী খাদ্য নাই যে আর কিছু।
স্বাস্থ্য সবল হবে শিশুর, বলেন জ্ঞানী-গুণীরা,
ভবিষ্যতের সম্বল মোদের সোনামণি শিশুরা।
আমরা দেশের নাগরিক সুন্দর স্বাস্থ্য চাই,
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল, জেনে রেখো ভাই।
এ, বি, সি ভিটামিন যেসব খাদ্যে রয়,
খাদ্যনীতি মেনে সেসব খাদ্য খেতে হয়।
শাক-সব্জী বেশি খেলেই ভিটামিন এ পাই,
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল, জেনে রেখো ভাই।
রুটি, ভাত, বুটের ডাল, সয়াবিন তেলে,
চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায় এসব খাবার খেলে।
মাংস, ডিম, ছোট মাছ, বি-ভিটামিন পাই,
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল, জেনে রেখো ভাই।
বাংলাদেশের ফল খেলে সি-ভিটামিন পাবে,
আম, জাম, কাঁঠাল, আমড়া, গাজর, পেয়ারা খাবে।
স্বাস্থ্য ভালো রবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই,
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল, জেনে রেখো ভাই।
দেশের ভাই-বোনেরা
শোনো এই তোমরা, ধূমপান কইরো না,
জুয়ান-বুড়া ধূমপান কইরা
হায়াত থাকতে মইরো না।
সোনার স্বাস্থ্য হবে নষ্ট সিগারেট ব্যবহারে,
শ্বাস-কাশ আর জটিল রোগ ক্যান্সার হতেও পারে।
স্বাস্থ্য রক্ষার বই-পুস্তকে জানা যায় খবর,
নেশাযুক্ত মাদকদ্রব্য বেশি ক্ষতিকর।
তাই ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়ো,
বাজে নেশায় পইরো না।
সমাজের মুরুব্বী হুঁশিয়ার থাকবেন,
বিড়ি-সিগারেট, জর্দা খাওয়া বন্ধ রাখিবেন।
টাকা-পয়সা অপচয়কারী শয়তানের ভাই,
কোরআন-হাদিসে প্রমাণ আছে শোনেন, বলে যাই।
সুস্থ সমাজ গঠন করো,
ইয়াবা খাইয়া মইরো না।
[রচনাকাল: ২১-০৪-১৯৯৮]
বাংলাদেশের ড্রাইভার সকল শোনেন আসল ঘটনা,
কাজের কথা করি বর্ণনা।
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি কেউ চালাবেন না,
কাজের কথা করি বর্ণনা।
শোনেন ড্রাইভার বন্ধুগণ, গাড়ি বের করবেন যখন,
ব্রেক-স্টিয়ারিং দেখে নিবেন ঠিক আছে কিনা।
গাড়ির ছাদের ওপর রাখবেন নজর, ভারি মাল উঠাবেন না,
কাজের কথা করি বর্ণনা।
মহাসড়কগুলিতে, শহর, অলিগলিতে,
অস্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাবেন না,
ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন, ওভারটেকিং করবেন না,
কাজের কথা করি বর্ণনা।
কুটি মনসুর বলে তাই শোনেন ড্রাইভার ভাই,
মাদকদ্রব্য সেবন করে গাড়ি চলবেন না।
ঘুমের ভাব থাকলে চোখে ড্রাইভিং করতে যাবেন না,
কাজের কথা করি বর্ণনা।
[রচনা কাল: ২৮-০২-২০০৬]
শোনেন মোদের বাংলাদেশের ড্রাইভার বন্ধুগণ,
সাবধানে চালাবেন গাড়ি, রাখিবেন স্মরণ।
বাস-ট্যাক্সি অনেক দেখছি, শোনেন যাই বলে,
কার আগে কে যাবে, হুড়াহুড়ি চলে।
এসব গাড়ি এক্সিডেন্ট করে শত শত মানুষ মরে,
গাড়ি চালান, জীবন বাঁচান, রাখবেন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ,
শোনেন মোদের বাংলাদেশের ড্রাইভার বন্ধুগণ।
নিয়ন্ত্রণে থাকলে গাড়ি বিপদে পড়বে না,
দুর্ঘটনায় শত শত মানুষ আর মরবে না।
কুটি মনসুর কয়, সতর্ক থাকলে, গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখলে,
দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা যাবে, অকালে হবে না মরণ,
শোনেন মোদের বাংলাদেশের ড্রাইভার বন্ধুগণ।
[রচনাকাল: ২৫-০২-২০০৬]
বাংলাদেশের জনগণ শোনেন বলি ভাই-বোন,
শহরেতে পথে-ঘাটে চলিবেন যখন,
চলার পথে সাবধান থাকতে ভুলবেন না কখন।
জেব্রা ক্রসিং, ওভারব্রিজ, রাস্তা পারাপারে,
আস্তে ধীরে পার হবেন, থাকবেন হুঁশিয়ারে।
দৌড়ে রাস্তা পার হবেন না, ফুটপাত ছাড়া চলিবেন না,
দুর্ঘটনামুক্ত হবেন, মানবেন নিয়ম-কানুন।
বাস টার্মিনাল ছাড়া বাসে উঠা-নামা করবেন না,
লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়িতে উঠুন, অসুবিধায় পড়বেন না।
কুটি মনসুর কয়, খেয়াল রাখবেন, মহিলাদের সুযোগ দিবেন,
শৃংখলা বজায় রাখবেন শোনেন দেশের বন্ধুগণ।
[রচনাকাল: ২৩-02-2006 ]
মোটরসাইকেল যাত্রী যারা থাকবেন হুঁশিয়ার,
চলার গতি স্বাভাবিক রেখে করবেন রাস্তা পারাপার,
থাকবেন হুঁশিয়ার, তারা থাকবেন হুঁশিয়ার।
চালক ভাইরা যথারীতি চেক করিবেন যন্ত্রপাতি,
ব্রেক-গিয়ারে থাকলে ত্রুটি, মেরামত দরকার।
দুজনের বেশি উঠলে পরে অপরাধী বলে তারে,
হেলমেট মাথায় পড়িবেন, করবেন ওভারটেকিং পরিহার,
থাকবেন হুঁশিয়ার, তারা থাকবেন হুঁশিয়ার।
বড় রাস্তার মোড়ে গিয়ে টার্নিং সিগনাল লাইট জ্বালিয়ে,
চলার পথে জীব-জন্তু আর বৃদ্ধ লোক দেখিলে,
কুটি মনসুর বলে ভাই সকলে,
নিরাপদে থাকা দরকার।
[রচনা : ১৫-০২-২০০৬]
হাঁস-মুরগি লালন-পালন সবাই করতে পারে,
যে করবে তার আয়-উন্নতি
বাড়বে রে সংসারে।
বাংলাদেশের মা-বোনেরা শোন বলে যাই,
ঘরে বসে টাকা কামাও, অসুবিধা নাই।
হাঁস-মুরগিতে ডিম দেবে,
নিত্য নতুন পয়সা পাবে,
দারিদ্রতা যাবে মুছে,
যদি অর্থ-সম্পদ বাড়ে।
ক্ষুদ্র ঋণ দিচ্ছে এবার বাংলাদেশ সরকার,
ঋণ নিয়েও করতে পারো হাঁস-মুরগির খামার।
গরু-ছাগল পালতে যদি পারো,
তাতে আয়-উন্নতি বাড়বে আরো,
তুমি আমি সবাই সুখী
হতে পারবো সংসারে।
[রচনাকাল: ২২-০২-২০০৬]
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল, ভেবে দেখ ভাই,
সুস্থ-সবল স্বাস্থ্য ছাড়া
সুখ-শান্তি নাই।
ছোট-বড় এই তোমার আমার সবার প্রয়োজন,
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে শোন রে ভাই-বোন।
ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে যদি চাও,
ছোট মাছ, শাক-সব্জী বেশি করে খাও।
গড়তে হলে ভালো স্বাস্থ্য,
এসব খাদ্য খাওয়া চাই।
মেধাবী ছাত্র-ছাত্র আমরা হতে পারবো তবে,
পুষ্টিকর খাদ্য খেয়ে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে।
মূলা শাক হজম বাড়ায়, স্বাস্থ্যের হয় উন্নতি,
পালং শাক আরো ভালো, পুষ্টিকর অতি।
লক্ষ রেখো স্বাস্থ্যের প্রতি,
সবার কাছে বলে যাই।
[রচনাকাল: ২৭-০২-২০০৬]
বন্ধ করতে হবে রে ভাই নারী নির্যাতন,
নারী-পুরুষ সমান অধিকার
করবো রে বাস্তবায়ন।
পরিবারে নারী নির্যাতন বন্ধ কর যদি,
ঘর-সংসারে সুখ-শান্তি পাবে নিরবধি।
সুখী সুন্দর পরিবারে আয়-উন্নতি হতে পারে,
দুঃখ-কষ্ট যাবে দূরে, গড়বে রে সোনার জীবন।
পুরুষ যদি নারীর গায়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে,
মৃত্যুদণ্ড হবে রে তার গেলে আইনের ঘরে।
নারী-পুরুষ মিলেমিশে গড়বে সমাজ ভালোবেসে,
মনসুর বলে বাংলাদেশে হও রে সবাই সচেতন।
[রচনাকাল: ২৪-০৫-২০০৭]
আবার দেশে সর্বনাশা বন্যা আইসাছে,
হাজার হাজার জমির ফসল নষ্ট কইরাছে,
লক্ষ লক্ষ মানুষকে কষ্ট দিয়াছে।
গরু-ছাগল, ভেড়া মরছে খবর শুনতে পাই,
হাঁস-মুরগি মইরাছে অনেক, হিসাব-নিকাশ নাই।
রাক্ষসী বন্যা অনেক ক্ষতি কইরাছে।
বর্তমান সরকার দেশে বন্যার খবর পাইয়া,
রিলিফ দিছে দূর্গত এলাকাতে যাইয়া।
রিলিফ পাইয়া কষ্ট অনেক লাঘব হয়েছে।
(রচনাকাল: ০৭-০৮-২০০৭)
বাল্যবিয়ে কেউ দিবেন না শোনেন, বলে যাই,
বাল্যকালে বিয়ে দিলে ক্ষতি হবে ভাই,
দেশের ক্ষতি হবে ভাই।
বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়ে সন্তান উপযুক্ত করে,
বিয়ে দিবেন কুড়ি, একুশ, বাইশ বছর পরে।
জ্ঞানী-গুণী সন্তানদের অভাব-দুঃখ-কষ্ট নাই,
শোনেন, বলে যাই।
স্বাস্থ্য ভালো, মানসম্মত ছেলে-মেয়ে যারা,
কাজে-কর্মে সুখী সংসার গড়ে তুলবে তারা।
দারিদ্রতা যাবে দূরে, দেশের উন্নতি হবে ভাই,
শোনেন, বলে যাই।
দেশবাসী জনগণ শোনেন, দিয়া মন,
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন,
ভাই রে শোনেন, দিয়া মন।
পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব নাই সোনার বাংলাদেশে,
পুঁই, হেলেঞ্চা, কলমী আরো কচুশাক আছে।
শাক-সব্জী, তরকারী কম দামে খাইতে পারি,
ছোট মাছ বেশি খাবেন, রাখিবেন স্মরণ,
ভাই রে শোনেন, দিয়া মন।
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল, মিথ্যা কথা নয়,
তাইতো এই স্বাস্থ্যটাকে ভালো রাখতে হয়।
দেশী ফল খান প্রতিদিন, পাবেন প্রচুর ভিটামিন,
আমলকি, আমড়া, পেয়ারা খাওয়া প্রয়োজন,
ভাই রে শোনেন, দিয়া মন।
বাংলাদেশের ভাই-বোনেরা শোন, দিয়া মন,
ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের করবো উন্নয়ন।
ক্ষেতে ফলাবো ধান, পাট, পানিতে ফলাবো মাছ,
বাড়িঘরের আশপাশে লাগাবো ফলের গাছ।
ঔষধি গাছ লাগাও সবে, রোগ-ব্যধিতে উপকার হবে,
এই কথাটা রাখবে মনে, ভুলবে না কখন,
ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের করবো উন্নয়ন।
ছোলা, মুশুরি, কলাই বুনবে, অভাব তো রবে না,
গম বুনবে বেশি করে, খাদ্যের অভাব হবে না।
হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে কাজ করে যাবে,
দেশে চলবে সুন্দর পরিবেশে দেশের জনগণ,
ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের করবো উন্নয়ন।
(খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর গান)
ভেজাল দ্রব্যের বেচাকেনায় দেশটা গেল ছাইয়া,
রোগ-ব্যাধিতে ভুগে মানুষ
ভেজাল জিনিস খাইয়া।
চাউল, গম, আটা, ময়দা সব খাদ্যের ভিতরে,
সুন্দর আর টেকসই করতে ঔষধ ব্যবহার করে।
খাদ্যে ভেজাল মিশায় যারা,
জনগণের শত্রু তারা,
সেসব শত্রু পড়বে ধরা, মরবে শাস্তি পাইয়া।
আম, জাম আর কাঁঠাল, কলা বিক্রি করতে নিয়া,
কাঁচা ফল পাকা করে ভেজাল ঔষধ দিয়া।
ঔষধ দেওয়া ফল খাইয়া,
ভুগে মানুষ রোগী হইয়া,
দেশ থেকে এই শত্রুকে দাও সবে তাড়াইয়া।
[রচনাকাল: ৩০-০৫-২০০৭ ]
বর্তমান সরকার দেশে ভোটার হতে ডাক দিয়েছে,
শহর, বন্দর, গ্রামের মানুষ সবাই জেনে নাও।
আঠারো বছর বয়স যার, ভোটাধিকার আছে তার,
নাম, ঠিকানা, ছবি দিয়ে ভোটার হয়ে যাও।
নির্বাচন, নিবন্ধন কাজে ব্যস্ত এখন সবে,
ভোটার তালিকায় নাম, ঠিকানা সঠিক হতে হবে।
পরিচয়পত্র সবাই পাবে, সুযোগ করে নাও
সবাই, ভোটার হয়ে যাও।
একজন মানুষ এক ঠিকানায় ভোটার হওয়া যাবে,
নিজের নাম, পিতার নামটা দিবে সঠিকভাবে।
নিয়ম-নীতি মেনে সবে নামের তালিকা দাও,
সবাই ভোটার হয়ে যাও।
[রচনাকাল: ২৭-১২-২০০৭]
আলু একটি ভালো খাদ্য, খুবই উপকারী,
তাইতো সবাই বেশি করে আলু খেতে পারি।
বাংলাদেশের সকল জেলা-উপজেলায় গেলে,
দেখা মেলে সেথায় কত আলুর ফলন ফলে।
ভাত কম খেয়ে আলু খাবে, ভাতের ওপর চাপ কমাবে,
আলু খেতে অভ্যাস করবে দেশের নর-নারী।
সকল মানুষ আলু খাওয়ার অভ্যাস কর ভাই,
আলু-ভাতে সমান পুষ্টি, অসুবিধা নাই।
বেশি করে আলু খাবো, অধিক ভিটামিন পাবো,
চাল উৎপাদন কম হলেও থাকবে না আহাজারি।
[রচনাকাল: ০৯-০৪-২০০৮]
ভালোভাবে বাঁচতে একটি ভালো পরিবেশ চাই,
পরিবেশ ছাড়া কাজে-কর্মে সুখ-শান্তি নাই।
পরিবেশ নষ্টের আসল কারণ শোনেন এইবার,
বনায়ন ধ্বংস করে হয় কাঠের অপব্যবহার।
কালো ধোঁয়া আর জমিতে কীটনাশকের ফলে,
পরিবেশটা হয় যে নষ্ট, বিজ্ঞানীরা বলে।
এসব দিকে লক্ষ্য রেখে চলতে হবে ভাই,
পরিবেশ ছাড়া কাজে-কর্মে সুখ-শান্তি নাই।
গ্রাম-গঞ্জের মা-বোনেরা রান্না যখন করে,
বেশি বেশি কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করে।
কেরোসিন আর গ্যাসের চুলায় পাক করতে নাই কষ্ট,
জ্বালানি খরচ কম হয় তাতে, পরিবেশ হয় না নষ্ট।
পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে থাকুন সতর্ক সবাই,
পরিবেশ ছাড়া কাজে-কর্মে সুখ-শান্তি নাই।
[রচনাকাল: ১৪-০৩-২০০৯]
শোনেন ভাই রে ভাই,
বাংলাদেশে পাখির অভাব নাই,
চিল, কাক, বুলবুলি আরো কত পাখি দেখতে পাই,
বাংলাদেশে পাখির অভাব নাই।
সকাল-বিকাল কোকিল পাখি মিষ্টি সুরে ডাকে,
তাল গাছেতে বাবুই পাখি বাসা বেঁধে থাকে।
খাঁচার ভিতর ঘুঘু পাখির ডাক শুনিয়া প্রাণ জুড়াই,
বাংলাদেশে পাখির অভাব নাই।
কিচির-মিচির ডাকে চড়ুই চলে ঝাঁকে ঝাঁকে,
কবুতরটা আদর করে খাঁচায় ভরে রাখে।
ময়না, এই তোতা কয় না কথা কে বলেছে, জানতে চাই,
বাংলাদেশে পাখির অভাব নাই।
[রচনাকাল: ১৯-০৭-২০০৯]
ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদ করেছিলেন যিনি,
তিনি ইতিহাস সৃষ্টিকারী মাওলানা ভাসানী।
ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিলেন,
এক ডাকে পুরো বিশ্ব কাঁপিয়ে তুলেছিলেন।
লক্ষ লক্ষ মানুষ ছোটে, ভারত সেদিন চমকে ওঠে,
দাবি তাদের ছিল শুধু চাই পানি, চাই পানি।
হাজার কোটি টাকার ফসল বছরে হয় নষ্ট,
পানি আটকে বাংলাদেশকে ভারতে দেয় কষ্ট।
মাওলানা ভাসানীর যুক্তি, বাংলাদেশকে করবো মুক্তি,
জীবন-মরণ সমস্যা এখন, না পাই যদি পানি।
[রচনাকাল: ০৮-০৪-৮৪]
তিন চক্কায় পায়ের ধাক্কায় রিকশা চলে রে,
দেহ ইঞ্জিন সারাটা দিন
রইদে জ্বলে রে।
অভাব-দুঃখে শুকনা মুখে পাঞ্জা লড়ে যায়,
অবিরাম মাথার ঘাম বেয়ে পড়ে পায়।
আবার কেউ কেউ মরে দুর্ঘটনায়,
ট্রাকের তলে রে।
রোজ আনে রোজ খায়, থাকে বস্তি বাড়ি,
জীবনটাকে বাজি রেখে চালায় রিকশা গাড়ি।
মাঝেমধ্যে পিটুনি খায়
ভাগ্যের ফলে রে।
জলে বসত করলে যেমন হয় না সর্দিকাশি,
তেমনি ওদের জীবন গড়া মুখেতে নাই হাসি।
তাদের হাসি ফুটবে কবে,
কুটি মনসুর বলে রে।
[রচনাকাল : ২৬-১০-১৯৮৬; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: শুভ্রদেব ]
ঢাকা শহর মহানগর, বড়লোকের বাস, তবু
পুরান কাপড় বেচাকেনা
চলে বারো মাস।
রেললাইন পাড়ে কান্দুইনার মা কান্দে, কুঁড়েঘরে
হাসির মা হাসে উইঠা পাঁচ তালার উপরে
চাচায় খায় পোলাও কোরমা, ভাতিজা রয় উপবাস।
গরিবুল্লা গরিব নয়, দশ তালা তার বাড়ি,
বাদশা মিয়া বাদশা হয় নাই, চালায় ঠেলাগাড়ি।
আবার, মানুষ-কুকুর একই সাথে ফুটপাতে করে বসবাস।
একটুখানি সর্দি হলে কেউ চলে যায় লন্ডন,
কঠিন রোগে বিনা চিকিৎসায় গরিবের হয় মরণ।
লন্ডন যাও আর মঙ্গলে যাও, একদিন হবে সর্বনাশ।
কুটি মনসুর বলে, ও ভোলামন, হিসাব রাখছোনি
কোনদিন আইলা, কোনদিন যাইবা, ভাইবা দেখছোনি?
অট্টালিকায় করছো শুধু কয়েকদিনের পরবাস।
[রচনাকাল: ০৬-০৭-১৯৯৯]
কী যুগ আইলো রে, কইতে পরান যায়,
চাকুইরা পুতে চিনে না তার গিরস্ত বাবায়।
স্বামী-স্ত্রী মিলে দুজন শহরেতে থাকে,
বাবা-মায়ের দুঃখের কথা মনে এইতো না রাখে।
স্ত্রীর কথায় উঠে বসে,
বেতন পাইলে মাসের শেষে,
টাকা দিয়া স্ত্রীর হাতে পিরিতি বাড়ায়।
হাজার তালির ছেঁড়া কাপড় দুঃখিনী মা পরে,
ব্যাটার বউয়ে তিনখান শাড়ি মাসে বদল করে।
মনসুর বলে, এই জামানা দেইখা চিন্তা করি,
শহর ভইরা ঘুইরা বেড়ায় একেলা সুন্দরী।
পায়ে আলতা পাউডার মুখে,
সাজলো বউয়ে মনের সুখে,
কলুর বলদ বানাইয়া স্ত্রী স্বামীরে ঘুরায়।
[রচনাকাল: ১৬-০৩-১৯৭৯]
ইঁদুর কয় বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
বড়ই দুর্বল ইঁদুরের দল,
সাহস নাই বুকে।
ইঁদুরেরা মিটিং করে চিটিংবাজকে ধরতে,
নেতা ইঁদুর আগে যায় না, চায় না সে যে মরতে।
বিড়াল যখন ম্যাও ম্যাও করে,
ইঁদুর তখন পালায় ডরে,
গর্তের ইঁদুর জীবন ভরে গর্তেই যায় থেকে।
ইঁদুর যখন মিছিল করে কিচিরমিচির শব্দে,
পাতি ইঁদুর ধরা পড়ে নেতা ইঁদুর গর্তে।
টুপি মাথায় বিড়াল আইসা,
পাতি ইঁদুর ধরে ঠাইসা,
নেতা ইঁদুর গর্তে বইসা রংতামাশা দেখে।
[রচনাকাল: ১৪-০৬-১৯৮৭; সুরকার: জাহিদ মনসুর]
এমন একটা বউ নিয়া কেউ করবেনি সংসার?
যে বউ আপন মানুষ দোষী বানায়
পরকে খুশি রাখিবার।
বউরে লাঠি দিয়া মারতে গেলে ঝাটা লইয়া ওঠে আবার,
ঝাটা থুইয়া চিল্লাইয়া বউ গাঁয়ের দিকে ছোটে।
মানইজ্জতের মাথা খাইয়া,
সাত গেরামের মানুষ লইয়া,
করতে চায় স্বামীর বিচার।
ঘাড়ে ধইরা কিলাইলে বউ চুলে ধইরা ঝোলে,
শাড়ির আঁচল মাজায় বাইন্ধা গোস্বাতে প্যাট ফুলে।
দাঁত কামড়াইয়া গোস্বা হইয়া,
জঙ্গলে যায় রশি লইয়া,
ফাঁসি লইটকা মরিবার।
[রচনাকাল: ০৮-০৩-১৯৮০; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়]
কুলি, মজুর, কামার, কুমার, হাইলা, জাইলা, তাঁতি,
তাদের কামাই খাইয়া বাঁচে দেশের সকল জাতি।
দেশের খাদ্য ফলায় যারা,
অনাহারে মরছে তারা,
ধনী লোকের শোসন ধারা চলছে দিবারাতি।
শ্রমিক পায় না শ্রমের মূল্য, মালিকে খায় চুইসা,
আশিজনে খাইটা মরে, পাচজনে খায় বইসা।
নেতা-নেত্রী ভালো তারা,
নষ্ট যত আমলা যারা,
হাতির পাড়ায় মানুষ মরে, মরে না রে হাতি।
ভক্কর চক্কর ফক্কর মক্কর,
চক্করে পইড়াছি ভাই, কোথায় যাই,
কোথায় যাইয়া শান্তি পাই শান্তি পাই
চক্করউল্লার চক্রান্তি, কাজেকর্মে নাই শান্তি,
রাজা-প্রজা অশান্তিতে ভুলভ্রান্তিতে দিন কাটাই।
কোথায় যাই, কোথায় যাইয়া শান্তি পাই।
কষ্টে পড়ি দুঃখে মরি আল্লা-হরি ডাকিয়া,
অভাব যায় না, ভাত জোটেনা বেঈমান থাকিয়া।
ঈমান আলীর ঈমান নাই, বেঈমানে পাইলো ঠাঁই,
ভেজাল মালের বেঁচাকেনা, আসল মাল বাজারে নাই।
কোথায় যাই, কোথায় যাইয়া শান্তি পাই।
কেউ পায় না ডাইল-খিচুড়ি, কেউ খাইতাছে বিরানি,
শ্রমিক-মজুর খাইটা মইলো, কর্তা হইলো কোম্পানী।
মানি লোকের নাই রে মান, চোরের নায় সাধুর নিশান,
কুটি মনসুর বলে, বিধির বিধান বুঝতে কারো সাধ্য নাই।
কোথায় যাই, কোথায় যাইয়া শান্তি পাই।
[রচনাকাল: ২০-০১-১৯৯০; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: কুটি মনসুর]
হায়রে হায়, মরি হায়রে হায়!
পান্তাভাত আর কাঁচামরিচ,
বড়লোকে খায় না শুধু গরিব লোকেই খায়।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাটে দিনে-রাইতে,
দেশের খাদ্য যোগায় যারা তারা পায় না খাইতে।
ওদের ভাগ্যে কচু-ঘেচু, কইছে পাচুর মা’য়।
পাকা বাড়ি গরিব লোকের হাতে তৈরী করে,
সেই বাড়িতে ধনী লোকে থাকে জীবন ভরে।
কেমন ব্যাপার, কি চমৎকার, চলছে দুনিয়ায়।
[রচনাকাল: ১১-০১-১৯৯৪]
খাট-পালং আর কাঁথা-কম্বল গয়নাগাটি দিয়া,
কইছিলো মোর শ্বশুর ব্যাটায় কইন্যা দিবে বিয়া।
হায় হায় করিয়া কান্দি কিছুই না তার পাইয়া,
শুধু পাইলাম একখান মাইয়া।
নতুন সময় আদর-যতন করছে অনেক ভালা,
এখন গেলে বিছাইয়া দেয় গোয়াল ঘরের ছালা।
শাশুড়ির চোখে বিষের নজর, শালির প্যাট-প্যাডানি,
আমারে পাইয়া বেক্কল মারলো রে জ্বালাইয়া।
ভুতুম প্যাঁচা বউডা আমার কেউনা পছন করে,
বাতি জ্বাইলা দেখি রে ভাই আন্ধার আমার ঘরে।
কালো বউয়ের মনটা ভাল, সবারে যাই কইয়া,
ঢাকা শহর চাকরি করি বউ বাড়িতে থুইয়া।
বাপ-মায়ের কথা শুইনা এইনা বিয়া করি,
সাইকেলও না দিবে শ্বশুর পইড়াও যদি মরি।
মেট্রিক পাস থাকিলে জামাই সকল দিতো দিয়া,
বিয়ার আগে সেই কথাটা কইলো না বুঝাইয়া।
[রচনাকাল: ০৯-০৯-১৯৮৩; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: কুটি মনসুর]
ঠকাইলে ঠকতে হবে, কাঁদাইলে কাঁদতে হবে,
যার যেমন কর্মফল ভোগ করতে হবে।
নীতিধর্মে কাজেকর্মে করবে যারা ভুল,
ভুলের জন্য দিতে হবে দ্বিগুন মাসুল।
পিছের কথা সামনে আসে, সাক্ষি দিবে ইতিহাসে,
সত্য-মিথ্যা সবার কাছে স্মৃতি হয়ে রবে।
পৃথিবীটা ঘোরে-ফেরে, জেনে রেখো তাই,
এই তোমার একদিন, আমার একদিন ছাড়াছাড়ি নাই।
তুমি একদিন সুখে ছিলে, আমাকে যে দুঃখ দিলে,
প্রতিদানে দুঃখ মিলে বুঝে নিও সবে।
[রচনাকাল: ১২-১১-২০০২]
নিচের তলার মানুষ যদি উপর তলায় যেতে চায়,
লম্ফ দিয়ে যেতে গিয়ে ঠ্যাং ভেঙে পড়ে যায়।
স্বপ্ন দেখে ভেবে যারা নৌকা ডুবায় খালে,
স্বপ্নে জীবন বাস্তবায়ন হয় না কোনে কালে।
কাজের বেলায় ঠনঠনাঠন,
বাজে কথায় ধরা খায়।
জ্ঞানী-গুণী হতে হলে জ্ঞানীর কাছে যাও,
ধ্যান-ধারনা জ্ঞান-সাধনা জেনে শুনে নাও।
সাধন ছাড়া চাঁদের দেশে,
যাওয়া বিষম দায়।
[রচনাকাল: ১৩-১০-১৯৯৫]
মরি হায়রে হায়! যদি বেশি মাছ পায়,
বিলাইতেও পুটি মাছের কাঁটা বাইছা খায়।
বাংলাদেশের বাঙ্গালী সবাই মাছের কাঙ্গালী,
মাছেভাতে বাঙ্গালী ছিলোরে বাংলায়।
পদ্মা-মেঘনার ইলিশ মাছে পাসপোর্ট আর ভিসা পাইছে,
তাইতো মাছ চইলা গেছে অভাব পইড়া যায়।
আমরা যত বাংলাদেশি মাছ-ভাত চাইনা বেশি,
ডাইল ভাত পাইলে খুশি যদি পাওয়া যায়।
ডাইলের কেজিও চল্লিশ টাকা, বড়ই কষ্ট বাঁইচা থাকা,
বন্ধ হবে গাড়ির চাকা, তেল যদি না পায়।
[রচনাকাল: ০৮-১২-১৯৯০]
কর্মদোষে এই মানুষের দুঃখ সারে না,
ভাগ্যের দোষ না কর্মদোষ কেউ বুঝতে পারে না।
কালা মিয়ার অন্তর সাদা, সুখে বসত করে,
শান্তি বাবু অশান্তিতে জইলা-পুইড়া মরে।
কর্ম ছাড়া নামের জোরে স্বর্গে যাইতে পারে না,
কর্মদোষে এই মানুষের দুঃখ সারে না।
সোনার বাংলায় কেউ সহজে পায় না সোনার খনি,
আশিজনে খাই খাই করে কুড়িজন হয় ধনী।
খেটে খাওয়ার জায়গাজমি কখনও বাড়ে না,
কর্মদোষে এই মানুষের দুঃখ সারে না।
জমিন নষ্ট বালুমাটি, ফসল নষ্ট ঘাসে,
চোরের নষ্ট ঘরে যাইয়া ধরে যদি কাশে।
মনসুর বলে, নষ্ট মানুষ অসৎ সংগ ছাড়ে না,
কর্মদোষে এই মানুষের দুঃখ সারে না।
[রচনাকাল: ০৩-১০-১৯৮৮]
ও রোজিনা, বুঝি না,
আমার কথা আছে কি এই তোর মনে?
তোরে থুইয়া গ্রাম ছাড়িয়া আইলাম ঢাকা টাউনে।
ঢাকায় এখন বেকার জীবন চাকরি-বাকরি নাই,
রাস্তায় রাস্তায় ঘুইরা চিনাবাদাম বেইচা খাই।
পুলিশের পিটানি খাইয়া,
বারেবারে যাই পালাইয়া,
রাত হলে থাকি শুইয়া কমলাপুর স্টেশনে।
রোজিনা, এই তোর প্রেম যন্ত্রণায় বুকটা ছটফট করে,
পকেটে নাই খাওয়ার টাকা, পরান কাইন্দা মরে।
গতকাল গাঁয়ের মাতবর,
তার কাছে পাই এই তোর খবর,
সে দেখেছে গতরে এই তোর ছেঁড়া কাপড় পিন্দনে।
[রচনাকাল: ১০-০৮-২০০৪]
দেখছি সাহেব টেক্সি চালায় ঢাকার শহরে,
আমি চালাই ঠেলাগাড়ি দুঃখ নাই অন্তরে।
বড়লোকের পাকা বাড়ি সাত তালা দালান,
ফুটপাতে ঘুমাই আমি লইয়া পোলাপান।
তবু আমরা থাকি খুশি
কেউরে করিনা দোষী,
ব্যাঙের হয় না সর্দিকাশি,
সাপের কামড়েই মরে।
একদিন ভাত খাইলে খাই তিন দিন খিচুড়ি,
পোলাও-কোরমা খাইয়া কেউ বাড়াইতেছে ভুঁড়ি।
ওদের বিদ্যা-বুদ্ধি পাকা,
কামায় লক্ষ লক্ষ টাকা,
কলমে চুরি বড়ই নিষ্ঠুর, জ্ঞানপাপীরা করে।
[রচনাকাল: ০২-০৬-১৯৯৪]
ভেবে দেখেন ভাই রে ভাই কথাটা মিথ্যা নয়,
আগের মাইনষে ‘বাজান’ কইছে,
এখন শুনি ‘আব্বা’ কয়।
নতুন যুগ আইসাছে বটে, বাঘের গাল ছাগলে চাটে,
আলতা ঠোঁটে দিয়া বানর লংকা যায়।
ওরে হাল-জামানার এমনি রীতি,
পথে-ঘাটে প্রেম-পিরিতি,
দু’এক ঘণ্টার পরিচয়।
কলিকাইলা পোলাপানে মুরুব্বি নাহি মানে,
বাপের সামনে কড়কড়াইয়া তামুক খায়।
ওরে বাপে কয় ইস্কুলে যাইতে,
ছেলে গেল তাস খেলাইতে,
এইভাবেতে নষ্ট হয়।
ছেলে ভালো মেজাজ নরম বউ ভালো থাকলে শরম,
শুইতে ভালো বিছনা নরম যদি হয়।
ওরে পুতার দোষে পাটা নষ্ট,
যাঁতা কলে ডাইলের নষ্ট,
দুগ্ধের নষ্ট গো-চোনায়।
বাঘ বন্ধ কলকৌশলে, ইঁদুর বন্ধ কেঁচিকলে,
পুরুষ লোকে মেয়ের জালে বন্ধ হয়।
ওরে নৌকা বন্ধ শুকনা বিলে,
শৃগাল বন্ধ বর্ষাকালে,
মুরগি নিতে লাগে ভয়।
চোর বেজার জোৎস্না রাইতে, বুইড়া বেজার চিড়া খাইতে,
বিলাই বেজার গরম ভাতে মুখ পোড়ায়।
ওরে কামে কইলে কামলা বেজার,
ক্ষমা চাইলে ফকির বেজার,
কুটি মনসুর ভেবে কয়।
[রচনাকাল: ০৭-১০-১৯৭১; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: কুটি মনসুর]
ও বাজান, ও বাজান রে,
দুনিয়ায় কেমনে চলুম কইয়া গেলা না।
ধান্দাবাজি চক্করে পাইলো দারুণ ফক্করে,
চিনির বস্তায় লবণ ভইরা,
বিক্রয় করে দেখলা না।
দিনের বেলায় ডাকাত ঘোরে, রাস্তায় চলা বিষম দায়,
রাইতের বেলায় তাজা মানুষ মশায় ধইরা খায়।
শহর বন্দর গেরামে থাকা যায় না আরামে,
মাদক নেশার ঐ বেরামে,
ধরলে একবার ছাড়ে না।
টাকা-পয়সা হাতের ময়লা কোন ব্যাটা পাগলে কয়?
টাকা ছাড়া বাড়ি-গাড়ি কেমন কইরা হয়?
টাকায় গড়লো তাজমহল, কারো নাই ছেঁড়া কম্বল,
মনসুর বলে, শীতের রাইতে,
গরিবের চক্ষেতে ঘুম আসে না।
[রচনাকাল: ০১-০৩-১৯৮১; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: কুটি মনসুর]
আগের মত বয় না নদী আর এই তো ছলছলাইয়া,
ভাইটালী গান গাইয়া মাঝি,
যায় না বৈঠা বাইয়া।
পদ্মা-মেঘনায় স্রোতের ধারায় বইতো উজান-ভাটি,
নদীর পাড়ে এখন তো আর নাই রে পলিমাটি।
পানি ছাড়া ফসল নষ্ট,
অগণিত মানুষের কষ্ট,
জীবন-মরণ সমস্যা এখন,
দেখলো না কেউ চাইয়া।
পানির উপর কল বসাইছে উজানি নগরে,
ফান্দে পইড়া কান্দে নদী ধুধু বালুচরে।
সুজন মাঝির চোখে পানি,
চলে না তার নৌকাখানি,
পেটের জ্বলায় রিক্সা চালায়,
শহরেতে যাইয়া।
[রচনাকাল: ২০-১২-১৯৭৯]
কী দিলাম কী পেলাম বড় কথা নয়,
শিল্পী আমি এই, এইতো আমার
আসল পরিচয়।
অফুরন্ত মায়ের স্নেহ, বাবার আদর পেয়ে,
তাদের দোয়া বুকে নিয়ে যাই গান গেয়ে।
সুরের মাঝে বাংলাদেশকে,
ভালবাসে এ হৃদয়।
সংগীতের মাধ্যমে কত দেশ-বিদেশে যাই,
অগণিত মানুষের ভালবাসা পাই।
কোটি কোটি জনগণ, বাংলার নর-নারী,
তাদের আপন হয়ে আমি মরতে যেন পারি।
জন্মভূমি ধন্য আমার,
আশা যেন পূর্ণ হয়।
[রচনাকাল: ২০-১০-১৯৮৮]
***
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন