ওগো আল্লাহ্-আল্লাহ্ বলো রে ভাই, রাসুল বলো মুখে,
যে নামের বরকতে বান্দা বেহেস্তে যাইবা সুখে।
সালাম নিবেন, দোয়া করবেন, গাইতে যেন পারি,
মন দিয়া শোনেন এইবার দেশ গঠনের জারি।
ওরে ও বাংলাদেশি শ্রমিক, চাষী, পল্লীবাসী ভাই,
সবাই এসো দেশ গড়ার কাজে লেগে যাই।
কোটি কোটি মানুষ আমরা, কোটি কোটি হাতে,
যার যে কাজ সেই করবো, মরবোনা আর ভাতে।
ওরে ও দেশবাসী জনগণ, ভাই-বন্ধু সকলে,
ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই তোমরা এসো দলে দলে।
খাল কাটিয়া আনবো পানি, কোদাল ধরো হাতে,
অধিক ফসল ফলাও রে ভাই পানি দিয়া ক্ষেতে।
ওরে ও খাল কেটে পানি ধরে রাখবে বারমাস,
সেঁচেরও ব্যবস্থা নিয়ে করবে মাছের চাষ।
উন্নয়নের সকল কাজে করবো আন্দোলন,
কল-কারখানায় শ্রমিক ভাইরা বাড়াও উৎপাদন।
ওরে ও হাঁস-মুরগি লালন-পালন করবো মোরা সবে,
অর্থ সম্পদ বাড়বে তাতে আয়-উন্নতি হবে।
আর এক কথা মনে পড়ে, প্রকাশ করে যাই,
জনসংখ্যার বিস্ফোরণ রোধ করা চাই।
ওরে ও বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা হয়ে সচেতন,
পরিকল্পনা নিয়ে করো জন্ম নিয়ন্ত্রণ।
বাঁচার মত বাঁচতে হলে শোনেন ভাই সবে,
ছোট ছোট পরিবার গড়ে তুলতে হবে।
(ধুয়ার সুরে)
ও আমরা ভিডিপি আনসার (২)
দেশের স্বার্থে কাজ করি, শোনেন সমাচার।
আমরা আনসার গ্রামে-গঞ্জে আছি সর্বদাই,
জনগণকে গণ-শিক্ষায় জাগিয়ে তুলি ভাই।
উন্নয়নের কর্মসূচি জনগণের তরে,
আমরা যাইয়া বুঝাইয়া কই প্রতি ঘরে ঘরে।
গানের তালে সুরে সুরে করে যাই প্রচার,
ও আমরা ভিডিপি আনসার।
নারী-পুরুষ মিলেমিশে একসাথে কাজ করবো,
স্বনির্ভর করে মোরা বাংলাদেশটা গড়বো।
সুখ-সমৃদ্ধি আসবে দেশে, আল্লাহ্ মেহেরবান,
এই পর্যন্ত করি ক্ষান্ত মোদের জারি গান।
সালাম জানাই, দোয়া চাই হাজারে হাজার,
ও আমরা ভিডিপি আনসার।
[রচনাকাল: ১৬-১২-১৯৯৭]
ওগো আল্লাহ্-আল্লাহ্ বলো রে ভাই, রাসুল বলো মুখে,
যে নামের বরকতে বান্দা বেহেস্তে যাইবা সুখে।
বন্দনা বলিতে আমার হবে অনেক দেরী,
মন দিয়া শোনেন সবে
শহীদ নামার জারি।
ওরে ও শহীদ নামার জারির অনেক বড় গল্প আছে,
সংক্ষেপে কিছু কথা বলি সবার কাছে।
মহরমের চাঁদ উঠে যখন নীল আকাশের গায়,
এই শহীদ নামার কথা তখন মনে পইড়া যায়।
ওরে ও মহরমের চাঁদের পাঁচ তারিখ রবিবার দিনে,
ইমাম হোসেন পৌঁছায় গিয়া কারবালার ময়দানে।
নসিবের লিখন যাহা না যায় রে খন্ডন,
কেই বুঝে না বিধির লিলা, শোনেন বন্ধুগণ।
ওরে ও আলীর পুত্র ইমাম হোসেন, রাসুলেরই নাতি,
কারবালাতে শহীদ হইয়া রেখে গেলেন স্মৃতি।
তুমুল যুদ্ধ হয় কারবালায় হাদিসের বাণী,
রক্তে লাল হয়েছিলো ফোরাত নদীর পানি।
ওরে ও হোসেনের হাতে ছিলো আলীর জুলফক্কর,
হাজার হাজার কাটে হোসেন এজিদের লস্কর।
কলা গাছের মত কাটে হোসেন এজিদের লস্কর,
শেষে পানির পিপাসায় হোসেন হইয়া যায় কাতর।
ওরে ও আল্লাহর কুদরতের খেলা বোঝা বিষম দায়,
কাতর যখন হয় হোসেন পানির পিপাসায়।
ফোরাত নদীর পানি হোসেন দুই হাতে উঠাইয়া,
সে পানি খাইলো না, হোসন গেলেন শহীদ হইয়া।
[রচনাকাল: ১৫-০৭-১৯৭৭]
ওগো আল্লাহ্-আল্লাহ্ বলো রে ভাই, রাসুল বলো মুখে,
যে নামের বরকতে আমরা থাকবো শান্তি-সুখে।
বন্দনা বলিতে অনেক দেরী হবে ভাই,
মন দিয়া শোনেন একটি জারিগান শোনাই।
ওরে ও বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে বাংলায় কথা বলি,
আঁকাবাঁকা গ্রামগঞ্জের মেঠোপথে চলি।
আমরা শিশু অনেক কিছু আশা করি পাবো, তাই
লেখাপড়া, শিক্ষা নিতে স্কুলেতে যাবো।
ওরে ও শিক্ষা-দীক্ষায় বিদ্যা-বুদ্ধি অর্জন করতে হবে,
অনেক বড় হবো আমরা জেনে রেখো সবে।
ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার হয়ে দেশের কাজ করবো,
আধুনিক সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়বো।
(ধুয়ার সুরে)
আহা বেশ বেশ বেশ, আমাদের সবুজ বাংলাদেশ,
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সবুজের নাই শেষ।
আহা বেশ বেশ বেশ।
গাছের ডালে পাখি বসে করে ডাকাডাকি,
দোয়েল, কোয়েল, ঘুঘূ, আরো ডাকে কুটুম পাখি।
এই তোমার আমার এ দেশ, সবাই মিলেমিশে,
সুখী-সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলবো দেশে।
আহা বেশ বেশ বেশ।
ঘরে-বাইরে আবর্জনা, ময়লা থাকলে পরে,
পরিবেশ দূষিত হয়, রোগ-ব্যাধিতে ধরে।
স্বাস্থ্য অতি সুখের মূল জেনে রেখো সবে,
স্বাস্থ্যের জন্য পরিবেশটা গড়ে তুলতে হবে।
আহা বেশ বেশ বেশ।
[রচনাকাল: ২৭-০৭-২০০৫]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন