মারফতি গান – কুটি মনসুর

৩১১

এই তোমার ভাঙা ঘর কি ভালো ঘর,
কারো জানার কথা নয়,
ঘরের কথা পরের কাছে, কোন পাগলে কয়।

এই তোমার কামাই-রুজি কম,
ঘরের বেড়া হয় নরম,
গিন্নি ঘরে থাকলে পরে, কিসের করো ভয়
ঘরের গিন্নি শক্ত হলে,
শিয়াল-কুকুর দূরে রয়।

শিয়াল-কুকুর কারে কও,
আগে নিজে বুঝে লও।
ছয়টি শিয়াল, একটি কুকুর, দেহের মাঝে রয়,
ছয় ঋপু ছয় শিয়াল হলো,
মন শয়তানে কুকুর হয়।

মারফতি এই দেহের ভিতর,
আছে মন মানুষের ঘর,
পরম আত্মা দেহের কর্তা, জানিও নিশ্চয়।
কুটি মনসুর বলে, দম ফুরালে,
ঘরের কি আর মূল্য রয়?

[রচনাকাল: ২০-০১-১৯৯২]

৩১২

পরম দাতা সৃষ্টিকর্তা, চিনে লও তারে,
যার অসিলায় সৃষ্টি হইয়া,
আইলা এ সংসারে।

পরম শক্তি সিন্ধুনীরে, নীর হতে বিন্দু ঝরে,
সেই বিন্দু হতে সৃষ্টি করে,
পরম জীব রয় একাকারে।

পরম জীবের পরিচালক, মৃত্যু দেহে দেয় না পলক,
যেমন জল ছাড়া বাঁচে না চাতক,
পরম ছাড়া জীব বাঁচে না রে।

যেমন ঘুমন্ত জীব কথা কয় না, পরম ছাড়া জীব চেতন হয় না।
মনসুর কয়, সে পরম বীনা,
জীবের মূল্য নাই সংসারে।

[রচনাকাল: ১৪-০৯-১৯৭৭]

৩১৩

বিশ্বাস রাখি পরম, তুমি চোখে দেখি নাই,
মুমিন বান্দার জ্বলবেতে আছো, জানতে পাই
আছে এই তোমার ঠাঁই।

আমি আছি দিবানিশি, দেখ তুমি নয়নে,
তুমি আছো বলে আমি দেখলাম না এই জীবনে।
আমি হতে এ জগতে,
এই তোমার নামটি শুনতে পাই।

সৃষ্টিদাতা বলে আমার কর্তা হয়ে রয়েছো,
কিসের অভাবে তুমি আমায় সৃষ্টি করেছো?
আমার মাঝে থাইকা তুমি,
করতেছো ভবের বাদশাই।

এই তোমার ধর্ম, আমার কর্ম, সর্বশাস্ত্রে বলেছো,
চলার পথে তুমি আমার সঙ্গী হয়ে চলেছো।
আমি থাকলে তুমি আছো,
মনসুর কয়, ভাবিয়া তাই।

[রচনাকাল: ১১-০৯-১৯৯৭]

৩১৪

আক্কেল-বুদ্ধি হইলো না যার,
জ্ঞান মৌমাছিতে মধু চিনে,
খুইদা বল্লায় চিনবে ক্যান?

মৌমাছিতে মধু চিনে,
বল্লায় তাহা চিনবে ক্যানে?
বিচার করবেন দশজনে, যার আছে জ্ঞান।
লেবুর মর্ম মশায় জানে,
কাকে তাহা জানবে ক্যানে?

কুকুর কি আর ঘৃত চিনে,
খাইলে হজম হবে ক্যান?
অন্ধে কি আর কোরান চিনে?
বোবায় কি আর কথা মানে?
বয়রা লোকে গোপন কথা বুঝবে ক্যান?
হাদিস-দলিল-কোরান খানি সামনে যদি টাইনা আনি,
চোখে যাহার পড়ছে ছানি,
কোরান পড়তে পারবে ক্যান?

অধম কুটি মনসুর বলে,
জ্ঞানশক্তি না থাকিলে,
কে বা তারে মানুষ বলে? হয় পশুর সমান।
শোন বলি মুন্সি চাচা, শরিয়তি কলার ছোঁচা,
উচিত কথায় লাগবে খোঁচা,
না বললে চলে না গান।

[রচনাকাল: ০১-০৯-১৯৬৪]

[রচনাকাল: ০২-০৪-১৯৯১; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: লাল মিয়া]

৩১৫

ফকিরকে চিনে কয়জনে?
ফকিরি জানে কয়জনে?
তিন অক্ষরে হয় ফকিরি,
জাহেরে আর বাতুনে।

আল্লাহ আর মোহাম্মদ, আদম,
তিনে হয় ফকিরের জনম,
দিল কলবে হরদমে দম,
নাম জপে সে গোপনে।

গুরু-শিষ্য পিরিতি হয়
আত্মায় আত্মায় হয় পরিচয়,
আশেক ধ্যানে মাশুক রয়,
মুর্শিদ রূপ তার নয়নে।

মানুষ রূপের মানুষ পাই,
অমানুষ গায়ে লেখা নাই।
আসল-নকল ক্যামনে বুঝাই,
মনসুর কয়, ভাবিয়া মনে।

[রচনাকাল: ১৮-১০-১৯৮৮]

সকল অধ্যায়
১.
ভাষার গান – কুটি মনসুর
২.
দেশের গান – কুটি মনসুর
৩.
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গান – কুটি মনসুর
৪.
আধুনিক গান – কুটি মনসুর
৫.
ছড়াগান – কুটি মনসুর
৬.
পল্লীগীতি – কুটি মনসুর
৭.
ভাটিয়ালী গান – কুটি মনসুর
৮.
আধ্যাত্মিক গান – কুটি মনসুর
৯.
দেহতত্ত্ব – কুটি মনসুর
১০.
মুর্শিদি গান – কুটি মনসুর
১১.
মারফতি গান – কুটি মনসুর
১২.
ভান্ডারী গান – কুটি মনসুর
১৩.
জারিগান – কুটি মনসুর
১৪.
পালাগান – কুটি মনসুর
১৫.
বাংলা নববর্ষের গান – কুটি মনসুর
১৬.
বর্ষার গান – কুটি মনসুর
১৭.
ইসলামী গান – কুটি মনসুর
১৮.
হাম্‌দ্‌ – কুটি মনসুর
১৯.
নাত্‌ – কুটি মনসুর
২০.
শবে-বরাতের গান – কুটি মনসুর
২১.
শব-এ-ক্বদরের গান – কুটি মনসুর
২২.
রোজার গান – কুটি মনসুর
২৩.
ঈদের গান – কুটি মনসুর
২৪.
বিষয়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক গান – কুটি মনসুর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%