আধুনিক গান – কুটি মনসুর

৪১.

এই মনটাকে বদলে দাও, ভালবাসবো না,
চোখ দুটি অন্ধ করে দাও,
এই তোমাকে দেখবো না।
কলিতে যে ফুল ফোটে, গন্ধ ছড়ায়
সুবাসিত ফুলেই এইতো ভ্রমর ছুটে যায়।
আঁধার রাত শুধু যে চায়
চাঁদের জোছনা।

আমার পৃথিবী দেখি এই তোমার চোখে,
এই তোমার প্রেমেতে মন মগ্ন থাকে,
ভালোবাসার মনটা কোথায়
রাখবো বলো না।

[রচনাকাল: ১২-০১-১৯৮৯; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রবি চৌধুরী]

৪২.

আগুন জানে শুধু পোড়াতে,
পোড়ার কি ব্যথা সে এইতো জানে না,
ঘূর্ণিবাতাসে পারে শুধু ঘোরাতে,
দোহাই দিলে কভু মানে না।

সান্ত্বনা চেয়ে শুধু লাঞ্ছিত হই,
সাধনার স্বাদ পেতে বঞ্চিত রই।
সঞ্চিত যা ছিলো জীবনে আমার,
কেড়ে নিয়ে দিয়ে গেল যন্ত্রণা।

ফাগুন এলো যে আগুন নিয়ে,
সে এইতো চলে যায়, শুধু ক্লান্তি দিয়ে।
আশার বাসনা যত পুড়ে হলো ছাই,
পুড়ে গেল কল্পিত কল্পনা।

[রচনাকাল: ১১-০৩-১৯৮১; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: হিমাদ্রী বিশ্বাস]

৪৩.

এই তোমাকে হারিয়ে পাথর হয়েছে এ মন,
চোখের কোণে নেই কোনো অশ্রু এখন।

জ্বালাগুলো মালা করে গলে রাখিনি,
পিছু টানে পিছু ফিরে স্মৃতি ঢাকিনি,
এইতো বেশ আছি, ভালোই আছি,
রাত জেগে দেখি না মিথ্যে স্বপন।

হাসি মুখে হৃদয়ে সব ব্যথা ভরে,
সুখে আছি কান্না বুকে আজ ধরে।
যে যাবার সে চলেই গেছে,
ধুকে ধুকে হয় না প্রেমের মরণ।

[রচনাকাল: ১৯-০৬-১৯৯৬]

৪৪.

আমি শুধু আছি কেবল তুমি আছো বলে,
আমার মরণ অনিবার্য এই তোমার মরণ হলে।

আমার জন্ম এই তোমার জন্য, ধন্য আমি হই,
তুমি ছাড়া মূল্যহীন আমি, আমার নই।
জীবন্ত প্রেম মধুর হয় ভালোবাসা পেলে।

জন্মে জন্মে এই তোমার হবো, তুমি আমার হবে,
অফুরন্ত এই প্রেম অনন্তকাল রবে।
প্রেমের মরণ হয় না জানি রং বদল হলে।

[রচনাকাল: ১৩-০৪-১৯৯৬; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: হায়দার আলী]

৪৫.

বিধিরে এই মানুষের ভিতর,
কেন বানাইলা অন্তর?
যে অন্তরে যন্ত্রণা দেয় সারা জীবন ভর।

অন্তর ছাড়া মানুষ হায়রে সৃষ্টি হইতো যদি,
প্রেমের স্বপন দেখতো না আর কেউ তো নিরবধি।
বুকে দিলা দুঃখের পালা,
চোখে দিলা রূপের জ্বালা,
চক্ষু দুটি নাও না তুইলা, বসাইয়া পাথর।

ভালোবাসার মনটা যদি এই দেহে না থাকতো,
মনসুর কয়, কেউ প্রেমরশিতে বাঁধিয়া না রাখতো।
সৃষ্টির সেরা মানুষ ভবে,
এত দুঃখ কেন তবে?
মানুষ না বানাইয়া বানাও কাঠেরই ভাস্কর।

[রচনাকাল: ১১-০১-১৯৮৭; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: শুভ্রদেব]

৪৬.

কে বলে প্রেম নেই মনের কাছে?
মন যদি থাকে তবে প্রেমও আছে।

মন যতই হোক না কঠিন,
কারো না কারো ছোঁয়ায় হবেই রঙিন।
অভিযোগ-অভিমান যতই থাক,
প্রেম তবু বেঁচে রয় মনের মাঝে।

হাজারো প্রেমের স্মৃতি, ব্যথা-বেদনা,
প্রেম না থাকলে তাজমহল হতো না।
এত ব্যথা বুকে নিয়ে তবু
প্রেম তো আজো রয়েই গেছে।

[রচনাকাল: ২৬-০৭-১৯৯২]

৪৭.

বৃষ্টি ঝরা মিষ্টি সুরে হৃদয়ের বীণায়,
সুর বেঁধে কেঁদেছিলাম
এই তোমারি আশায়।

মধুর প্রেম জেগেছিলো,
তাইতো প্রাণে দোলা দিলো,
চোখ মেলে চেয়ে রই
খোলা জানালায়।

সুখের প্রদীপ জ্বেলে মনে কিছুক্ষণের জন্য
তুমি এলে প্রেম বিনিময় করে হতাম ধন্য।

সুখপাখিটা অনুরাগী
শুধু কেবল এই তোমার লাগি,
পালংক ভাসিয়ে নিলো
চোখেরই বন্যায়।

[রচনাকাল: ০২-০৪-১৯৯৩]

৪৮.

রক্তে লেখা প্রেমের চিঠি দিলাম নয়ন প্রান্তে,
আমায় নিয়ে ভাবছো কিনা
ইচ্ছে করে জানতে।

ভাবছি আমি হবে তুমি জীবন-মরণ সাথী,
এই তোমার-আমার কেটে যাবে সুখে দিবস-রাতি।
কথা দিয়ে সেই কথা
পারবে কিনা মানতে।
ভালোবাসার অঙ্গীকার এই তোমার-আমার মাঝে,
কল্পনাতে হৃদয় বীণা মধুর সুরে বাজে।
মনের দুয়ার খোলার চাবি
ভুল কোরো না আনতে।

[রচনাকাল: ০৭-০১-১৯৯৩; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রবি চৌধুরী]

৪৯.

আমি কলির কৃষ্ণ হতে পারি
যদি তুমি রাধা হতে পারো,
আমি তাজমহল গড়তে পারি,
তুমি যদি মমতাজ হতে পারো।

রজকিনীর প্রেমে পাগল ঠাকুর চণ্ডীদাস,
পার্বতীর ভালোবাসা পাইলো দেবদাস।
তাদের মতো অমর প্রেম
তুমিও করতে পারো।

প্রেমের পরশ লাগলে মনে পায় প্রেমের স্বাদ,
আশিক হইয়া নামায় টাইনা আকাশের চাঁদ।
প্রেমের স্মৃতি লইয়া বুকে
মইরাও বাঁচতে পারো।

[রচনাকাল: ১৭-১২-১৯৯১]

৫০.

ইছামতি নদীর পাড়ে ছোট্ট একটি গ্রাম,
সেই নদীর ধারে আসতে যাইতে যারে দেখিতাম,
ছোট্টবেলার খেলার সাথী সোনালি তার নাম,
ওরে সোনালি তার নাম, তারে ভালোবাসিতাম,
কত ভালোবাসিতাম।

সে যে ছিল বুকের মানিক, আমার চোখের মণি,
অন্তর প্রদীপ জ্বেলে আমি খুঁজি দিন-রজনী।
শূন্য বুকে দুঃখের আগুন
জ্বলছে অবিরাম।

এক পলকের মানিক আমার গিয়েছে হারিয়ে,
নিঠুর জলোচ্ছ্বাসে তারে নিয়েছে ভাসিয়ে।
হারানো সেই মানিক ফিরে
আর কি রে পাইতাম।

[রচনাকাল: ২৭-১০-১৯৯৫; সুরকার: জাহিদ মনসুর]

৫১

দুটি চোখ ছুঁয়ে আমি শপথ নিয়েছি
এই তোমাকেই শুধু এ মন দিয়েছি।

তুমি কি জানো এই তোমায় কত ভালোবাসি?
লক্ষ বাঁধা পেরিয়ে তবু ছুটে আসি
আমার মাঝে নেই যে আমি, এই তোমার হয়েছি।

বুকের ভিতর এই তোমার প্রেমের প্রদীপ জ্বেলে রাখি
দুটি চোখের পাতায় শুধু এই তোমার ছবি আঁকি
দুঃখের জ্বালা বুকে নিয়ে সুখে রয়েছি।

[রচনাকাল: ১০-০৬-১৯৯৬ ইং]

৫২

সারা রাত জেগে থেকে
চোখের জলে চিঠি লিখে পাঠিয়ে দিয়েছি
ভাবছো কি আমায় নিয়ে জানতে চেয়েছি।

দুটি মনের একটি আশা, তারই নাম ভালোবাসা
সুখের স্বপ্ন দেখে দেখে আশায় রয়েছি।

জন্ম নিয়ে হলাম ধন্য তুমি শুধু আমার জন্য
আমিও এই তোমার হবো, শপথ নিয়েছি।

[রচনাকাল: ২০-০৯-১৯৯৬ ইং]

৫৩

বুকের মাঝে সুখের বাসা বাঁধলাম এই তোমার জন্য
সময়কালে এই তোমায় পেলে হতেম আমি ধন্য।

এই বুকেতে ফুলসজ্জাতে সাজিয়ে বাসর ঘর
মন ভরাবো বুক জুড়াবো হও যদি দোসর
এই তোমাকে এই মনটা দিয়ে বুকটা কেন শূন্য।

যতই দুঃখ দাও গো তাতে আমি সুখী হই
এই তোমার প্রেমের আশা নিয়ে প্রাণে বেঁচে রই
প্রেম কখনো ভয় করে না পাপ কিবা পুণ্য।

[রচনাকাল: ১১-০৮-১৯৯৫ ইং]

সকল অধ্যায়
১.
ভাষার গান – কুটি মনসুর
২.
দেশের গান – কুটি মনসুর
৩.
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গান – কুটি মনসুর
৪.
আধুনিক গান – কুটি মনসুর
৫.
ছড়াগান – কুটি মনসুর
৬.
পল্লীগীতি – কুটি মনসুর
৭.
ভাটিয়ালী গান – কুটি মনসুর
৮.
আধ্যাত্মিক গান – কুটি মনসুর
৯.
দেহতত্ত্ব – কুটি মনসুর
১০.
মুর্শিদি গান – কুটি মনসুর
১১.
মারফতি গান – কুটি মনসুর
১২.
ভান্ডারী গান – কুটি মনসুর
১৩.
জারিগান – কুটি মনসুর
১৪.
পালাগান – কুটি মনসুর
১৫.
বাংলা নববর্ষের গান – কুটি মনসুর
১৬.
বর্ষার গান – কুটি মনসুর
১৭.
ইসলামী গান – কুটি মনসুর
১৮.
হাম্‌দ্‌ – কুটি মনসুর
১৯.
নাত্‌ – কুটি মনসুর
২০.
শবে-বরাতের গান – কুটি মনসুর
২১.
শব-এ-ক্বদরের গান – কুটি মনসুর
২২.
রোজার গান – কুটি মনসুর
২৩.
ঈদের গান – কুটি মনসুর
২৪.
বিষয়ভিত্তিক উন্নয়নমূলক গান – কুটি মনসুর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%