কে বলে মানুষ মরে
আমি বুঝলাম না ব্যাপার,
মানুষ মরিলে তবে বিচার হবে কার।
পঞ্চ আত্মা পঞ্চ রুহু, হিসাবে দেখতে পাই,
একেতে হয় দুইয়ের জনম, পরম আত্মার মরণ নাই।
পরম আত্মার কর্ম লইয়া
জীব-আত্মা যায় বিলীন হইয়া,
মিছে জন্ম-মৃত্যু নাম ধরিয়া চালাইছে কারবার।
পরম থাকে নিরাকারে, খেলছে খেলা নীরেতে,
জীব-আত্মা জীবিত থাকে পরম আত্মার জোরেতে।
আদি শক্তি পরম যিনি,
জীবদেহ চালাইছেন তিনি,
শক্তিবিহীন দেহখানি হইয়া যায় বেকার।
সাগর হতে পানি যেমন নদীতে ভেসে বেড়ায়,
যথায় হইতে আসে পানি তথায় আবার চইলা যায়।
জোয়ার-ভাটায় চলে ফিরে,
সাগর কিন্তু শুকায় নারে,
তেমনি মানুষ চলে ফিরে মনসুর কয় বারবার।
[রচনাকাল: ০৭-০৭-১৯৭৩; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়]
কোথায় নিরঞ্জন, ভাবিয়া দেখ মন,
খুঁজিলে পাবি আপন ঘরেতে,
ঘর ছাড়া বাহিরে পাবি না তাহারে,
স্বরূপ নিহারে পাবি দেখিতে।
ঘরের মানুষ ঘরে রয়,
খোঁজ কেন ডাইনে-বামে,
বিরাজ করে সদায় এই ঘরেতে।
আপনার আপন চিনেছে যেজন,
পেয়েছে সেজন আপন সুরতে।
বানাইয়া রংমহল, ভিতরে দমকল,
করে মানুষ চলাচল সেই দমেতে।
দমের ঘরে দাও তালিম,
জপো নাম রাত্রদিন,
পাবি অচিন মানুষ দেখিতে।
লাহুত, নাসুতে, মালকুত আর জবরুতে,
খবর করো রে মোকাম হাউতে।
মনসুর কয় ভাবিয়া,
জ্ঞান চক্ষু খুলিয়া
দ্যাখো চাহিয়া দেহভাণ্ডেতে।
[রচনাকাল: ২৯-১১-১৯৬৬; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়]
মন এই তোর আপন মানুষ,
গোপনে দেহভাণ্ডে রয়।
সে যে নিরাকারে চলে ফেরে রে,
বিনা তারে হাওয়ায় কথা কয়।
এই দেহভাণ্ড তৈয়ার করে
খোদা লুকাইয়া রয় তার ভিতরে,
কে করে নির্ণয়
ও সে দুগ্ধে যেমন ঘৃত-মাখন রে,
মানুষে তেমনি খোদা রয়।
নিশির শেষে ভোরেরই বেলায়,
যেমন সূর্যের আলো বিরাজ করে
সারা দুনিয়ায়,
সে বিরাজে দেহ মাঝে রে,
সহজে খুঁইজা পাবার নয়।
এই মানুষ হতে আত্মার পরিচয়,
খালাকাল অদম আলা ‘সুরা তেহি’ কয়।
আগে মানুষ ভজ, আল্লাহ্ খোঁজ রে,
কুটি মনসুর ভেবে কয়।
[রচনাকাল: ১০-১০-১৯৬১; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: কুটি মনসুর]
হিংসা আর নিন্দা ছাড়ো,
মনটা করো পরিষ্কার।
মনে ময়লা থাকে যদি,
সাধন সিদ্ধি হয় না তার।
মুর্শিদ নামের সাবান মাখো,
ধুইয়া অন্তর সাফা রাখো,
কাতর হইয়া সদায় ডাকো,
প্রেমে মইজা থাকো তার।
জ্ঞান পরীক্ষায় পাস করিলে,
ধ্যানযোগে তার দেখা মিলে,
নজরে ঠিক পড়িলে দেখবি সেরূপ চমৎকার।
মুর্শিদ ছবি দিলে আঁকো,
তার রূপসাগরে ডুইবা থাকো,
মনসুর বলে, খুঁইজা দ্যাখো,
যার মুর্শিদ তার হৃদমাঝার।
[রচনাকাল: ১৬-০২-১৯৭৭; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়]
একটা মন দিলা, বুঝতে জ্ঞান দিলা,
সে জ্ঞানের চাবি দিলা না,
কথা কইতে জবান দিলা,
পথের মাঝে চলতে দিলা,
পাপ-পূণ্য করতে দিলা,
পাপের ভাগী হইলা না।
চোখে যেমন দৃষ্টি দিলা,
দেখতে বহু রূপ দিলা,
বুকে প্রেমের ব্যাথা দিলা,
সে ব্যথার ঔষধ দিলা না।
মুখে যেমন ভাষা দিলা,
বুকে অনেক আশা দিলা,
মনের মাঝে নেশা দিলা,
ও নেশার দিশা দিলা না।
অভাব দিলা, স্বভাব দিলা,
ধর্ম দিলা, কর্ম দিলা,
মনসুর বলে, সখা হইলা,
তবে কেন দেখা দিলা না?
[রচনাকাল: ০৯-০১-১৯৮৭; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: তপন চৌধুরী]
সে দেশের ভাব জানবি যদি,
ভাবের দেশে ভাবের মানুষ
ভাবে মত্ত নিরবধি।
স্থূল, প্রবত্ত, সাধক, সিদ্ধি,
চার দেশে চার ভাব উৎপত্তি।
সাধকের দেশ ঠিক রাখিলে,
সাধিলে হয় সাধন সিদ্ধি।
সূক্ষ্ম, শান্ত, দাস্য, প্রেমে,
বাৎসল্য আর মধুর প্রেমে,
পঞ্চ প্রেমে পঞ্চ তত্ত্ব,
সূক্ষ্ম প্রেমে সাঁই দরদী।
ভাবেতে যার মন মজেছে,
হিংসা-বিদ্বেষ নাই তার কাছে,
মনসুর কয়, পাইয়াছে দিশে,
ভবে আছে রে যার আক্কেল-বুদ্ধি।
[রচনাকাল: ১২-০৩-১৯৭৩; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: ইন্দ্র মোহন রাজবংশী]
ভবে আমি এই তো আমারে চিনলাম না,
আমি আমায় চিনতাম যদি
পাপী হইয়া মরতাম না।
আল্লাহ্য় বলে, বান্দা আমার,
বান্দায় বলে, আল্লাহ্ আমার,
আমি আমায় খুঁজলাম কত, পাইলাম না।
রাসুলে কয়, উম্মত আমার,
উম্মতে কয়, রাসুল আমার,
সবাই বলি, ‘আমার আমার’,
আমি আমার হইলাম না।
আমি ‘আমি’ বলি যারে,
একদিন এই তো না দেখলাম তারে,
আমি যে কি এ সংসারে, বুঝলাম না।
কোথায় ছিলাম কোথায় আইলাম,
ভেবেচিন্তে ঠিক না পাইলাম,
কোন দিন আইলাম, কোন দিন যাব,
মনসুর কয়, তা জানলাম না।
[রচনাকাল: ২৬-০৬-১৯৭৬; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: নীনা হামিদ]
আল্লায় কি আজব এক রংমহল বানাইল,
রংমহল বানাইয়া রে সাঁই,
তার ভিতর লুকাইল।
দুইটি খুঁটির উপরে রংমহল খাঁড়া করে,
আঠারো মোকাম ঘরে কি সুন্দর বানাইল।
ইলেকটরি দুইটি বাতি দুই দিকে জ্বালাইল,
কত হীরা-কাঞ্চন রত্ন, সোনায় ঘরখানি সাজাইল।
ঘরেতে আছে চন্দ্র, বার বুরুজ, দশটি ইন্দ্র,
ছয় লতিফায় সাধনকেন্দ্র মুর্শিদে জানাইল।
আল্লাহু জিকিরে যাহার কলব জারি হইল,
মুর্শিদ যারে দয়া করে, সে অমূল্য ধন পাইলো।
চার কুতুব চার কোণে পাহারাদার ষোল জনে,
ঘরের মালিক কি সন্ধানে গোপন হইয়া রইল।
দমের ঘরে আসা-যাওয়া কেউ এই তো না বুঝিল,
মনসুর বলে, রংমহলে সাঁই কি খেলা খেলাইলো?
[রচনাকাল: ১৩-০৩-১৯৫৬; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: কুটি মনসুর]
দিন থাকতে গাট্টি-বোচকা বান্ধো,
সোনার চান্দো।
ঘাড়ের উপর দিয়া পাড়া,
আযরাইল রইয়াছে খাঁড়া,
ছাড়বে না হাজার যদি কান্দো,
সোনার চান্দো।
করবে যেদিন সমন জারি,
যাইতে হবে সকল ছাড়ি,
আদম গাড়ির চাক্কা হবে বন্ধ।
যতই করো তালবাহানা,
ছাড়তে হবে বালাখানা,
সেদিন রং-তামাশা থাকবে না, আনন্দ।
ভোগ-বিলাসের হিসাব-নিকাশ
আমলনামায় হবে প্রকাশ,
ধরা পড়বে ভাল আরও মন্দ।
কইরাছো কি আইসা ভবে,
নগদ হিসাব দিতে হবে,
মনসুর কয়, বাকি খাতা করবে না পছন্দ।
[রচনাকাল: ০৩-০২-১৯৯৪; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: জিন্নত আলী]
বন্ধু কাছে কাছে থাকে রে,
আমায় চোখে চোখে দেখে রে,
আমি তারে ধরতে পারিনা।
তারে আসতে দিলাম, বসতে দিলাম,
থাকিতে দিলাম ঘরখানা।
প্রাণবন্ধু সে পরশমণি,
আমার সঙ্গে থাকে দিন-রজনী,
ও সে কথা কইলে কানে শুনি,
কেমন সে জন চিনিনা।
বন্ধু আমার ময়না-তোতা, মিষ্টি কথা কয়,
শুইনা কথা প্রাণে ব্যথা বাড়ে অতিশয়।
তারে ধরবো বলে আশা করি,
ধরা দেয় না, কেমনে ধরি?
মোরা এক ঘরেতে বসত করি,
তবু সে রূপ দেখিনা।
[রচনাকাল: ১১-১১-১৯৬২; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: নুরুন্নাহার আউয়াল]
আমার মন-পাখিটা ইচ্ছামত
খাঁচায় আসে যায়।
তারে ধরতে চাইলে দেয় না ধরা,
করি কি উপায়।
দেহখাঁচায় থাকে পাখি, হাওয়ায় কথা কয়,
চোখে দেখা যায় না তারে, অচিন হইয়া রয়।
ও সে চলে ফিরে দমের ঘরে,
চেনা বড় দায়।
স্বরূপ রূপে রূপ মিশাইয়া বিরাজ করে পাখি,
মনসুর বলে, যাইবার কালে দিয়া যায় ফাঁকি।
হৃদয় মাঝে নিঠুর পাখি,
কি খেলা খেলায়?
[রচনাকাল: ০৪-০৫-১৯৮১; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: শাহাবুদ্দিন আহমদ দোলন]
নূর হতে নূর সৃষ্টি হয়ে
জাত-সেফাতে মিশে রয়,
আঁধার হতে আলোর পথে
পাবে নূরের পরিচয়।
নূরের জ্যোতি কি কুদরতি, শোন রে খোদার বান্দা,
দেখলে সে নূর থাকবে না ঘোর, যাবে মনের ধান্দা।
নূরে ফুটলো জ্ঞানের আলো,
সারা জগতময়।
আল্লাহ্পাক আলোকিত হইয়াছে জাতি নূরে,
আপনা হতে বাসনাতে সারা জাহান সৃষ্টি করে।
নীরে-নূরে সৃষ্টি করে,
কুটি মনসুর ভেবে কয়।
[রচনাকাল: ২৩-০৭-১৯৭৯]
আহাদকে জানতে হলে
মোহাম্মাদকে চিনতে হয়,
আহাদ নূরে মোহাম্মাদ
সে আপন রূপে পরিচয়।
তিন লক্ষ বৎসর গেলো গোপন রইলো আহম্মাদ,
একদিন গাছে ময়ূর বেশে সঙ্গী ছিলেন মোহাম্মাদ।
আহাদে আহম্মাদ যিনি, ময়ূর আর ময়ূরিণী,
খেলছে খেলা কাদের গনি, নীরে-নূরে মিলন হয়।
একদিন গাছের চারটি ডালে চার রঙ্গের ফল ধরিলো,
সেই ফল এই দুনিয়াতে ঝইরা ঝইরা পড়িলো।
কালেমা তৈয়বেতে জানা গেলো এ জগতে,
আল্লাহ্-নবী এক সূরতে, জাত-সেফাতে মিশে রয়।
আল্লাহ্-মোহাম্মাদ-আদম, হিসেবে এই তিনজনা,
জ্ঞানে, ধ্যানে, প্রাণে মিলে আসলে সেই একজনা।
একজনার অনন্ত ধারা বিরাজ করে আকার ছাড়া,
ভেদ খুঁজিলে দিশাহারা, কুটি মনসুর ভেবে কয়।
[রচনাকাল: ১৭-০৯-১৯৮২; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: আকছারুল ইসলাম]
আসল কোরান মানবদেহ,
খুঁইজা কেহ দেখলো না,
ত্রিশ অক্ষর দেহের ভিতর,
সেই খবর কেউ রাখলো না।
দেহ-কোরান আগে আইলো,
আয়াত-কোরান পরে পাইলো,
আদম যখন সৃষ্টি হইলো,
আয়াত-কোরান ছিলো না।
ত্রিশ অক্ষরে ত্রিশ পারা
দেহ-কোরান হইলো খাঁড়া,
আয়াত-কোরান দেহ ছাড়া
কোথায় পাবে বলো না।
ত্রিশ অক্ষর দেহভাণ্ড,
মিম হরফে মাথা-মুণ্ড,
মানব দেহে আজব কাণ্ড,
সেই কথা কেউ ভাবলো না।
হে’তে হাড্ডি, মগজ গঠন,
আইন-গাইন দুটি নয়ন,
বে’র নিচে নুকতা যেমন,
ঠোঁটে রয় তার নমুনা।
ছোয়াত-দোয়াত হৃদয় হইলো,
তই-জই তিল্লিতে রইলো,
জ্বিমেতে জিকির করিল,
জ্বলবে তার ঠিকানা।
দাল-জাল দুই জানুতে,
ছে-ওয়াক্ত দুই কাঁধেতে,
হিসেব করলে পাবে জানতে,
করতে হবে সাধনা।
ফে’তে ফ্যাফসা তৈরি করে,
ক্বাফে’তে কলিজা গড়ে,
বড় কাফ রয় নাভি জুড়ে,
যেথায় দমের ঠিকানা।
আলিফে আদম খাঁড়া
রূপ-চেহারা, অর্ধেক ফাঁড়া,
বাহির-ভিতর হিসাব করা,
জানে ভবে কয়জনা।
দেহ-কোরান আগে ছিলো,
আয়াত-কোরান পরে জানো,
মুর্শিদ ছাড়া কেউ কখনো
দেহ-কোরান চিনবে না।
আরও দশটি হরফ আছে,
জেনে নাও মুর্শিদের কাছে,
কুটি মনসুর ভাবছে বসে,
সাধন বিনে পাবে না।
[রচনাকাল: ২৫-১০-১৯৮৪]
আকাশে গাছের গোড়া,
ডাল মেলেছে জমিনে।
দুই ডালে এক ফল ধরেছে,
সে ফল কে চিনে।
দুইটি ডালে একটি ফল,
দেখছনি কুদরতি কল,
সে ফলের জন্য পাগল
এই না সারা ভুবনে।
পাকা ফল গাছে ধরে,
কাঁচা হইয়া ঝইরা পড়ে,
বোঁটা ছাড়া আছে সে ফল
প্রেম-পিরিতের বাঁধনে।
বাগানের মালি যেজন,
সে ফল করছে লালন-পালন,
মনসুর কয়, ফলের যতন
করতেছে রাত্র-দিনে।
[রচনাকাল: ০৫-০১-১৯৬৮]
আমার ঘরে বসত করে
আমি তারে চিনিনা রে,
আপন রূপে রয় লুকাইয়া,
ধরবো তারে কেমন করে।
দমে আসে দমেতে যায়,
ধরিবার নাই রে উপায়,
ধরতে পারলে রাখতাম বাইন্ধা,
নয়ন ভইরা দেখতাম তারে।
হইলে রে মন পথভ্রষ্ট,
মনসুর কয়, পাবি রে কষ্ট,
ভাইঙ্গা সন্ধি, নজরবন্দি,
রয় যে নিরাকারে।
[রচনাকাল: ২০-০১-১৯৭৯]
আপন ঘরে তালাশ করে দেখরে মন,
আল্লাহ্-নবি-আদম ছবি,
খুঁজলে পাবি পাঞ্জাতন।
আল্লাহ্-নবি-আদমতনে ভিন্ন নয় রে এ তিনজনে,
হিসাব করে দেখো মনে, কে করছে কারে চেতন।
পঞ্চ আত্মা দেহ মাঝে, পরম আত্মা লইও খুঁজে,
আত্মারূপে কর্তা সেজে
রয়েছে অতি গোপন।
গড়িয়াছে মানবদেহ, চার নফস, পঞ্চ রুহু,
ছয় লতিফায় আল্লাহু,
হরদমে কর জপন।
মুর্শিদের রূপ ধ্যানে, জিকির কর মনে-প্রাণে,
দেখবি সেরূপ লা-মোকামে,
ফুটবে যেদিন জ্ঞান-নয়ন।
সাধক কুটি মনসুর বলে, মুর্শিদ-প্রেমে মন মজিলে,
আত্মায়-আত্মা মিশিলে, পাবি সে আলেক রতন।
বাঁকা তনু করে ফানা, খুলে দে এই তোর দেহের আয়না,
দেখতে পাবি অচিন জনা,
বাসনা হবে পূরণ।
[রচনাকাল: ০৩-০৯-১৯৭৭]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন